প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৪০
আরাফাত আদনান সামি
নিশুতি রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘরের কোণে জ্বলতে থাকা মৃদু নীলচে আলোটা মায়ার চোখের কোণে জমে থাকা শ্রাবণের মেঘের মতো এক ফোঁটা অশ্রুকণাকে মুক্তোর মতো উজ্জ্বল করে তুলছিল। দুপুরের সেই বিধ্বংসী কামনার ঝড় আর বিকেলের দীর্ঘ, ক্লান্তিকর পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার পর, রাতের এই নিস্তেজ প্রহরে কৌশিকের এই পুনরুজ্জীবিত উগ্রতা মায়ার সমস্ত শারীরিক ও মানসিক প্রতিরোধকে এক নিমিষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছিল।
“তৃষ্ণার অজুহাত দেখিয়ে নিজের অসভ্যতার নতুন কোনো সংজ্ঞা তৈরি করবেন না, চৌধুরী সাহেব। আপনার এই অনন্ত তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে আমার অস্তিত্ব যে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়, সে খেয়াল কি আপনার আদৌ থাকে?”
কৌশিকের চওড়া, উন্মুক্ত বুকে নিজের কপালটা ঠেকিয়ে রেখে অত্যন্ত দুর্বল অথচ এক তীব্র অভিমানে জড়িয়ে থাকা কণ্ঠে কথাগুলো উচ্চারণ করল মায়া। ওর নিস্তেজ হাত দুটো তখনো কৌশিকের পেশিবহুল পিঠের চামড়াকে আলতো করে খামচে ধরেছিল। কৌশিক মায়ার এই অভিমানী প্রশ্ন শুনে অন্ধকারেই এক গভীর, আবেগঘন এবং তীব্র ভালোবাসাময় হাসি হাসল। ওর বুকের ভেতরের সেই চেনা স্পন্দনটা মায়ার কপালে এক মৃদু কম্পনের সৃষ্টি করল। ও মায়ার সুডৌল কোমরে চেপে থাকা নিজের লোহার মতো শক্ত হাতটার বাঁধন এক চুলও আলগা করল না; বরং মায়াকে নিজের শরীরের সাথে আরও নিবিড়ভাবে পিষে ধরে ওর কানের লতিতে নিজের তপ্ত ওষ্ঠাধর ছোঁয়ালো। ওর খসখসে দাড়িগুলোর মৃদু ঘর্ষণ মায়ার সংবেদনশীল চামড়ায় এক তীব্র রোমান্টিক সুড়সুড়ির সৃষ্টি করছিল।
“কৌশিক নীর চৌধুরীর ডিকশনারিতে তোর কাছ থেকে দূরে থাকার বা তোকে ‘ছাড়’ দেওয়ার কোনো শব্দ নেই, হার্টবিট। যা দেখছিস, যা অনুভব করিস, তা হলো তোর প্রতি আমার এই অন্ধকার জীবনের একমাত্র পবিত্রতম আসক্তি। তুই যদি চাস তোর অস্তিত্ব আমার মাঝে বিলীন হয়ে যাক, তবে তাই হোক। কারণ তোকে সম্পূর্ণ নিজের করে না পাওয়া পর্যন্ত আমার এই বুকের ভেতরের দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা ভালোবাসার আগুন কোনোদিন শান্ত হবে না।”
“যেভাবে বলছে মনে হয় আমি অন্য কারো হয়ে যা…”
“ভুলেও এইসব অশুভ কথা মুখে আনা তো দূর চিন্তাতেও আনবি না বুঝলি!”
কৌশিক মায়ার চোঁটে আঙুল রেখে কথাটা বলল। কৌশিকের এই গম্ভীর, মাদকতায় ভরা কণ্ঠস্বর মায়ার শিরায় শিরায় এক অলৌকিক শিহরণের জন্ম দিল। মায়া চোখ দুটো বন্ধ করে এক দীর্ঘ, তপ্ত নিশ্বাস ত্যাগ করল। ও ভালো করেই জানে, এই পুরুষটি সাধারণ কোনো প্রেমিক নয়। সে অন্ধকার জগতের এক মুকুটহীন সম্রাট হতে পারে, কিন্তু এই চার দেয়ালের ভেতরে সে শুধুই ওর এক সমর্পিত, উগ্র প্রেমিক স্বামী। মায়া আলতো করে নিজের মুখটা তুলল। চাঁদের আলো জানালার সিল্কের পর্দা গলে ওর ফর্সা, লাবণ্যময় মুখের ওপর এক মায়াবী মায়াজাল তৈরি করেছিল। ও কৌশিকের নেশাতুর চোখের দিকে তাকিয়ে বড্ড গম্ভীর ভাষায় বলল,
“আপনার এই আসক্তি বড্ড ভয়ানক। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আপনি আমাকে ভালোবেসে আগলে রাখছেন না, বরং নিজের একাধিপত্যের খাঁচায় বন্দি করে ধীরে ধীরে মেরে ফেলছেন। চৌধুরী বংশের বড় বউয়ের সম্মান আর এই চার দেয়ালের ভেতরের বন্দিত্ব, দুটোর মাঝে তফাৎ কোথায়, তা কি আপনি আমাকে বুঝিয়ে বলবেন? নাকি জোর খাটিয়ে মুখ বন্ধ রাখাই আপনার ভালোবাসা?”
কৌশিকের চোখের মনিতে এক পলকের জন্য যেন সেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ক্রুরতা ভেসে উঠল, কিন্তু পরক্ষণেই তা মায়ার প্রতি থাকা এক নিঃশর্ত, অবাধ্য প্রেমের ব্যাকুলতায় রূপান্তরিত হলো। ও মায়ার চিবুকটা নিজের শক্ত বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মাঝখানে সামান্য চেপে ধরে মুখটা আরও উঁচিয়ে ধরল। ওর চোখের দৃষ্টি তখন মায়ার রাঙা, কাঁপতে থাকা ওষ্ঠাধরের ওপর নিবদ্ধ।
“বন্দিত্ব? তুই একে বন্দিত্ব বলছিস, হার্টবিট?”
কৌশিকের কণ্ঠস্বর এবার যেন আরও নরম, আরও বেশি মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো শোনাল। ও মায়ার চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল।
“সারা দুনিয়া যেখানে আমার পায়ের নিচে পিষ্ট হতে রাজী, সেখানে আমি নিজেকে তোর এই নরম হাত দুটোর শিকলে সারাজীবনের জন্য বন্দি করে নিয়েছি। কৌশিক নীর চৌধুরীকে তুই প্রতি রাতে নিজের বুকের ওপর সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় আবিষ্কার করিস, এর পরেও তোর মনে হয় তুই বন্দি? এই হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দন শুধু তোর নাম জপ করে, মায়া। যদি তোকে নিজের বুকের ভেতর সারাজীবন এভাবে আগলে রাখাটা অপরাধ হয়, তবে আমি এই অপরাধ বারবার করব। তোর এই শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি, তোর এই আত্মার প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস, সব কিছুর ওপর শুধু আমার নাম লেখা আছে। আমার অনুমতি ছাড়া কোনো খারাপ বাতাসও যদি তোকে স্পর্শ করতে চায়, আমি পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে ছারখার করে দেব। তুই বন্দি নোস মায়া, তুই আমার এই অন্ধকার জীবনের একমাত্র আলো, আমার রানি।”
কৌশিকের এই মন ছোঁয়া, গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ মায়াকে আর কথা বলার সুযোগ দিল না। মায়ার চোখের কোণে আবার অশ্রু জমল, তবে এবার তা অপমানের নয়, এক অদ্ভুত ভালোলাগার। মায়া কিছু বলার জন্য ওষ্ঠাধর উন্মুক্ত করতেই কৌশিক এক ঝটকায় মায়ার হাত দুটো ওর মাথার ওপর খাটের চাদরের সাথে শক্ত করে লক করে ধরল। ও মায়ার ওপর নিজের শরীরের সিংহভাগ ভর ছেড়ে দিয়ে ঝুঁকে এল।
“প্লিজ… দরজা কিন্তু…”
মায়া এক শেষ দুর্বল চেষ্টা করল।
“মিথ্যে বলিস না, মায়া। দরজা আমি নিজের হাতে লক করে এসেছি। আর এখন এত রাতে কেউ এসে আমাদের বিরক্ত করার সাহস দেখাবে না। বাহানা বানাস না, মায়াবতী। আজ শুধু তুই আর আমি। আজ পুরোটা রাত শুধু আমাদের।”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া এবার একটু রাগী চোখে তাকাল তার দিকে। সাথে সাথে কৌশিক তা দেখে ঘোর লাগা কণ্ঠস্বরে বলল,
“উফ্ হার্টবিট, এমন করে তাকাস না। আমার সিস্টেম এ বাড়ি দিচ্ছে। তোকে আরো আপন করে নিজের কাছে টেনে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে।”
কৌশিকের কথাটা শেষ হওয়া মাত্রই মায়া যখন কিছু বলতে যাবে এমনি কৌশিক মায়ার ঠোঁটের ওপর নিজের তপ্ত ওষ্ঠাধর অত্যন্ত জোরালোভাবে স্থাপন করল। এবারের চুম্বনে কোনো জোর জবরদস্তি ছিল না, ছিল এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর ভালোবাসার গভীর ব্যাকুলতা। মায়া প্রথমে চমকে উঠে নিজের শরীরটাকে কিছুটা বাঁকানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কৌশিকের ভালোবাসার আবেগের সামনে ওর এই প্রতিরোধ ছিল বড্ড বালখিল্য। কৌশিক মায়ার নিচের ঠোঁটটা নিজের ঠোঁটের মাঝখানে নিয়ে আলতো এক কামড় দিল। মায়ার মুখ থেকে এক মৃদু আর্দ্র আর্তনাদ বেরিয়ে আসতেই ও মায়ার মুখের ভেতরের সমস্ত উষ্ণতা নিজের জিভ দিয়ে শুষে নিতে লাগল। ও মায়ার ওষ্ঠাধরের প্রতিটা কোণকে নিজের করে নিচ্ছিল, যেন সে ওখানে নিজের চিরস্থায়ী ভালোবাসার সিলমোহর এঁকে দিচ্ছে। মায়ার ছটফটানি ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত, মাতাল করা শান্তিতে রূপ নিল। ও নিজের চোখ দুটো সম্পূর্ণ বন্ধ করে কৌশিকের এই তীব্র ভালোবাসার সাগরে নিজেকে পুরোপুরি ভাসিয়ে দিল। ওর মাথার ওপরে লক হয়ে থাকা হাত দুটোর নখগুলো অবচেতনভাবেই কৌশিকের চওড়া পিঠের চামড়ায় বসে যেতে লাগল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই ওষ্ঠ-যুদ্ধের পর কৌশিক যখন মায়ার ঠোঁট থেকে নিজের মুখটা সামান্য সরাল, তখন দুই জোড়া ঠোঁটের মাঝখানে এক সূক্ষ্ম লালার রেখা আবছা আলোয় চকচক করে উঠছিল। মায়া তখন জোরে জোরে গভীর শ্বাস নিচ্ছিল, ওর বুকটা কামনার চড়া উত্তেজনায় দ্রুত ওঠানামা করছিল। ওর ফর্সা, মসৃণ মুখটা তখন লজ্জায় আর কামনার চড়া রঙে একদম টমেটোর মতো লাল হয়ে উঠেছে।
“আপনি আসলেই সয়তান, অসভ্য বাজে লোক একটা… এমন করে কে কাঁমড়ায় হ্যাঁ? আমার শরীরের সমস্ত ক্ষমতা আপনি এভাবে শুষে নিলে আমি কাল সকালে সবার সামনে যাব কী করে?”
মায়া অত্যন্ত দুর্বল, কাঁপতে থাকা গলায় অনুনয় মিশ্রিত কণ্ঠে বলল। কৌশিক এক বাঁকা, নেশাতুর হাসি হাসল। সে মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে, ওর গলার সেই গাঢ় লালচে দাগটার ওপর নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল,
“তোকে নিচে যেতে হবে না, সুইটহার্ট। চৌধুরী ভিলার রানিকে কাল পুরো দিন বিছানায় বন্দি করে রাখার দায়িত্ব এই কৌশিকের। আজ রাতে তোকে এমন এক ভালোবাসার সাগরে ডুবিয়ে দেব, যেখান থেকে তুই কোনোদিন তীরে ফিরতে চাইবি না। এটা তো মাত্র শুরু হলো, মায়াবতী। এখনো তো পুরো রাত বাকি।”
কথাটা বলেই মায়াকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই কৌশিক মায়ার আরামদায়ক সুতির থ্রি-পিসের ওপরের অংশটা এক টানে কিছুটা সরিয়ে দিল। চাঁদের রুপালী আলোয় মায়ার ফর্সা, মসৃণ বুকের উন্মুক্ত অংশটা এক জাদুকরী ক্যানভাস, উন্মুক্ত উপত্যকার মতো ভেসে উঠল। সেখানে দুপুরের দেওয়া কৌশিকের ভালোবাসার দাগগুলো তখনো জ্বলজ্বল করছিল। কৌশিক নিজের ঠোঁট জোড়া মায়ার চিবুক বেয়ে নিচে নামাতে লাগল। ও মায়ার ফর্সা, মসৃণ গলার ওপর নিজের মুখটা রাখল। ওর তপ্ত ঠোঁট আর দাঁতের মৃদু কামড় ও চোষণে মায়ার গলার নরম চামড়ায় এক নতুন গাঢ় লালচে দাগের সৃষ্টি হলো। মায়া এক তীব্র শিহরণে নিজের মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে দিল, ওর মুখ দিয়ে এক দীর্ঘ, দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত আওয়াজ বেরিয়ে এল,
“আহ্… কৌশিক…”
মায়ার মুখ থেকে শুধু মাত্র নিজের নাম উচ্চারণ শুনে কৌশিক আরো বেপরোয়া ছন্নছাড়া হয়ে উঠল। কৌশিক মায়ার গলার প্রতিটা ইঞ্চি নিজের ঠোঁট দিয়ে ধুয়ে দিতে দিতে আরও নিচে নামল। ওর মুখটা মায়ার বুকের সুডৌল ভাঁজের ওপর স্থাপন করতেই মায়া বিছানার চাদরটা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরল। কৌশিকের চিবুকের হালকা দাড়িগুলোর ঘষায় মায়ার বুকের সংবেদনশীল চামড়ায় এক তীব্র কামুক যন্ত্রণার সৃষ্টি হচ্ছিল, যা একই সাথে বড্ড মধুর। কৌশিক মায়ার বুকের গভীর খাঁজে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে ওর দ্রুতগতির হৃদস্পন্দনকে নিজের ঠোঁট দিয়ে অনুভব করছিল। ওর প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস মায়ার বুককে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলছিল। মায়া ক্রমাগত শিউরে উঠছিল। কৌশিক মায়ার এই কাঁপন ভীষণ উপভোগ করছিল। সে ওর পোশাকের বাকি অংশটুকুও যত্নে সরিয়ে দিল।
মায়ার পেটের মসৃণ চামড়া বেয়ে কৌশিকের ঠোঁট আস্তে আস্তে ওর নাভিতে এসে পৌঁছাল। ওর নাভির গভীর গোলকে কৌশিক নিজের জিভ আর ওষ্ঠের উষ্ণ ছোঁয়া দিতেই মায়া এক তীব্র মরণকামড় দেওয়ার মতো শিউরে উঠল। মায়া তার ঠোঁট কাঁমড়ে ধরল। ওর পুরো শরীর এবার সত্যি সত্যিই বেসামাল হয়ে ছটফট করতে লাগল, সে নিজের কোমরটা বিছানা থেকে ওপরে তোলার চেষ্টা করল এক তীব্র অলৌকিক সুখানুভূতি আর কামনার ঘোরে।
“কৌশিক… আমি আর পারছি না… আপনার বেসামাল ভালোবাসা দিয়ে মোরে ফেলুন আমাকে।
মায়ার চোখ দিয়ে দু-ফোটা আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। কৌশিক মায়ার নাভি থেকে নিজের মুখটা তুলে ওর চোখের দিকে তাকাল। ওর ফর্সা কপালে তখন ঘামের ছোট ছোট বিন্দু জমছে। মায়ার মুখ থেকে কথাগুলো শুনে কৌশিক নিজেকে আর দমাতে পারল না, আস্তে আস্তে মায়ার সামনেও ও পুরোপুরি উন্মুক্ত গেলো।তা দেখে মায়ার পুরো শরীরে কাটা দিয়ে উঠল মায়া সাথে সাথে খিচে চোখ বন্ধ করে নিল। মায়া কোন কথা বলার সাহস পেলো না। কৌশিক মুচকি হাসল। কৌশিক মায়ার সেই অশ্রুবিন্দু নিজের ঠোঁট দিয়ে শুষে নিয়ে বড্ড গম্ভীর অথচ এক অলৌকিক ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,
“এই তো সবে শুরু, হার্টবিট। রেডি হো।”
কথাটা বলেই কৌশিক মায়ার উপত্যকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করল। মায়া চিৎকার দিয়েও দিতে পারল না খামচে ধরল বিছানার চাদর। ঘরের ডিম লাইটের নীলচে আলো আর চাঁদের রুপালী রশ্মির মায়াবী অন্ধকারের চাদরে মায়া আর কৌশিকের পরম তীব্র, উগ্র এবং অন্তহীন প্রণয়ের ঘোরে বিলীন হয়ে গেল। মায়া কৌশিকের গলা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ও নিজের পুরো অস্তিত্বকে সমর্পণ করে দিল ওর এই উগ্র, হিংস্র কিন্তু অন্ধভাবে ভালোবাসার মানুষটার কাছে। পুরো ঘর জুড়ে তখন শুধু দুই জোড়া তপ্ত শরীরের সংঘর্ষ, ভারী দীর্ঘশ্বাস আর শয্যার মৃদু আওয়াজ এক আদিম উপাখ্যানের জন্ম দিচ্ছিল। রাত বাড়ার সাথে সাথে তাদের ভালোবাসার গভীরতাও যেন সমস্ত সীমানা পেরিয়ে এক নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করল।
পরদিন সকাল ৮ টা। কৌশিক আর মায়া দু’জনে উন্মুক্ত শরীরে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। তাদের ওপরে শুধুমাত্র পাতলা সাদা একটা চাদরে ঢাকা তাদের উন্মুক্ত দেহগুলো। মায়া ঠিক কৌশিকের বুক বরাবর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে আর কৌশিক তার শক্ত হাতগুলো দিয়ে মায়াকে জড়িয়ে ধরে সেও ঘুমাচ্ছে। হালকা বাতাসে যখন জানালার পর্দা কিছুটা সরে গেল, তখন সূর্যের কিছুটা কিরণ কৌশিকের মুখে এসে পড়ল। সাথে সাথে কৌশিকের গভীর ঘুম এক নিমিষেই ভেঙে গেল। চোখ মেলতেই দেখতে পেল এলোমেলো চুলে অগোছালো মায়াকে। এই এলোমেলো অবস্থায় ঘুমন্ত মায়াবী মুখটা কতই না সুন্দর লাগছে দেখতে! মায়ার মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে কৌশিক মুচকি হাসল। কৌশিক আলতো করে মায়ার মুখের ওপর পড়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিল।
ওর এই মিষ্টি স্পর্শে মায়ারও ঘুমটা হালকা ভেঙে গেল। চোখ কেঁচকিয়ে পিটপিট করে তাকিয়ে কৌশিককে দেখে ও চমকে উঠল সাথে সাথে চাদরটা আরও ভালো করে বুকের ওপর টেনে নেওয়ার চেষ্টা করল।
“কী হলো কী করছিস? সকাল সকাল চাদর টানাটানি করছিস কেন? রাতে তো বেশ দেখাচ্ছিলি, এখন এত লজ্জা কিসের হু?”
কৌশিক মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে দুষ্টুমিভরা কণ্ঠে বলল। মায়া মুখটা কৌশিকের বুকে আরও লুকিয়ে ফেলে অভিমানী সুরে বলল,
“ইশ অসভ্য চুপ করুন আপনি। আপনি আর একটা কথাও বলবেন না প্লিজ!”
“কেনো বললে কী সমস্যা?”
মায়া কোন উত্তর দিল না। যেই ও একটু ঘুরতে নিবে ওমনি শরীরের উপরে থাকা সাদা চাদরে সাথে ওর পিঠ ঘষা খাওয়া মাত্রই ও মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠল,
“ও মাগো,আহ্,জ্বলে গেলো রে…”
“ক-কী হয়েছে মায়া দেখি।”
কথাটা বলে যেই কৌশিক মায়াকে চুতে যাবে ওমনি মায়া সাথে সাথে বলে উঠল,
“ছোবেন না আমাকে। আপনি আসলেই আস্ত একটা রাক্ষস। আমার পুরো পিঠ আর গলায় কামড়ে দাগ করে ব্যথা ধরিয়ে দিয়েছেন। একে তো এই দাগ তার উপর ব্যাথা, এখন আমি নিচে যাব কী করে? সবাই দেখলে কী ভাববেন?”
মায়ার কথা শুনে কৌশিক একগাল হেসে মায়ার চিবুকটা ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল,
“কী ভাববে? সবাই এটাই ভাববে যে এই অসভ্য ছেলেটা ওর এই চিপকালি বউকে আসলেই অনেক ভালোবাসে! সেটা তারই প্রতিচিহ্ন! আর তাছাড়া, আমি তো রাতেই বলেছিলাম, চৌধুরী ভিলার রানিকে আজ পুরো দিন বিছানা থেকে উঠতে দেওয়া হবে না। সো, নিচে যাওয়ার চিন্তা বাদ দে, সুইটহার্ট। যা দরকার আমাকে বলবি আমি এনে দিব।”
সাথে সাথে মায়া বলল,
“উফ্! ছাড়ুন তো, খুব জ্বলছে। আর হ্যাঁ এখন একদম দুষ্টুমি করবেন না আমার সাথে। আমার সারা শরীর ব্যাথা করছে আপনার ওই ‘অসভ্য’ ভালোবাসার চোটে। একটুও দয়া-মায়া নেই আপনার মনে?”
কথাটা বলে মায়া কপট রাগ দেখিয়ে কৌশিকের বুকে একটা মৃদু কিল মারল। কৌশিক মায়ার হাতটা খপ করে ধরে নিজের ঠোঁটের সাথে ছুঁইয়ে দিল। অতঃপর মজা করে বলল,
“রাতে দয়া-মায়া আমার ডিকশনারি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। তবে হ্যাঁ, এখন যদি আমার এই এলোমেলো বউটা তার আদুরে নরম হাত দিয়ে আমার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে আনে, তবে একটু বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।”
“এই শরীর নিয়ে আমি নিচে যাবো? আপনার মাথা ঠিক আছে? বিবেচনা করতে হবে না! যান, নিজে গিয়ে চা বানিয়ে খেয়ে আসুন, আমি আর নড়তে পারছি না।”
মায়া চোখ রাঙিয়ে বলল। কৌশিক মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
“আরে আরে রাগছিস কেনো মজা করে বললাম।”
“আপনার মজার নিকুচি করি।”
মায়া আবারও চোখ রাঙিয়ে কথাটা বলল কিন্তু ওর মুখের কোণের মিষ্টি হাসিটা ওর ভেতরের সমস্ত সুখ আর তৃপ্তির কথাই প্রকাশ করে দিচ্ছে। কৌশিক মায়াকে আবার নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে টেনে নিল,
“চা পরে হবে, আগে আমার সকালের গুড মর্নিং কিস-টা দিয়ে যা।”
মায়ার আপত্তি অগ্রাহ্য করেই কৌশিক আবারও মেতে উঠল এক মিষ্টি, দুষ্টু-মিষ্টি প্রেমের খুনসুটিতে।
“আরে কী করছেন ছাড়ুন তো! সকাল সকাল আবার শুরু করলেন? আপনার কি কোনদিন এই তৃষ্ণা মিটবে না?”
মায়া মুখ লুকিয়ে মুচকি হেসে কৌশিকের বুক থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল।
“নাহ্, এই তৃষ্ণা মেটার নয়। বিশেষ করে যখন আমার সামনে আমার রূপসী বউ থাকে।”
কৌশিক মায়ার গালে হালকা একটা কামড় দিয়ে কথাটা বলল।
“আহ্! কী করছেন! এমনিতেই রাতে যা করেছেন… আর এখন আমার সুন্দর গালে আবার দাগ বসাচ্ছেন?”
মায়া গালটা হাত দিয়ে চেপে ধরে কথাটা বলল।
“এটা তো জাস্ট শুরু। আজ সারা দিন তোকে এই ঘরেই কাটাতে হবে। কোনো ওজর-আপত্তি শুনব না।”
কৌশিক মায়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে বলল। মায়া হাসি পাচ্ছে কিন্তু হাসিটা দমিয়ে রেখে সে কৌশিকের বুকে নিজের মুখটা লুকিয়ে বলল, “আপনি আসলেই একটা পাগল। আপনার এই পাগলামির হাত থেকে আমার মনে হয় আর কোনোদিনও রেহাই মিলবে না।”
“মিলতে দিবোও না আর তুই রেহাই পাওয়ার চেষ্টাও করিস না, কারণ কৌশিক নীর চৌধুরী যাকে একবার নিজের করে নেয়, তাকে আর এতসহজে কোনোদিন মুক্তি দেয় না। এখান থেকে কখনো ছুটার চেষ্টাও যদি করিস একদম জানে মেরে দিব পরে নিজেও টপকে যাবো, বুঝলি পাগলী?”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া মুখটিপে মৃদু স্বরে বলল,
“পাগল একটা।”
কৌশিক ভ্রু-কুচকে বলল,
“কিছু বললি?”
“কই না তো কিছু না।”
“তোমার ওই টুকটুকে লাল গাল, অভিমানে ঘুরিয়ে রাখা চোখ, আর জিজ্ঞেস করলেই ‘কিছু না’ বলে এড়িয়ে যাওয়া, এসব আমি খুব ভালো করেই বুঝি, হার্টবিট। সবটাই আমার কাছ থেকে বাড়তি আদর পাওয়ার লোভ। উফ্, দিনকে দিন তুই বড্ড বেশিই লোভী হয়ে যাচ্ছিস, একদম আমার মতো। তবে কি এই কৌশিক নীর চৌধুরী তার হার্টবিটকে নিজের ভালোবাসার কাঙাল বানাতে সক্ষম হয়েছে?”
কৌশের কথা শুনে মায়া বেশ লজ্জা পেলো। হাসিও পাচ্ছে কিন্তু সে হাসল না। একটু চেহারার মধ্যে ভাব নিয়ে মায়া ভেংচি কেটে বলল,
“হুশ…”
কৌশিক ভ্রু-কুচকে বলল,
“কী হুশ? বল?”
মায়া আবারও ভেংচি কেটে বলল,
“হুশ…বলবো না।”
“বলবি না?”
“না বলবো না।”
“সত্যি তো?”
“তিন সত্যি?”
“সত্যিই বলবি না?”
“কচু।”
প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৩৯
বলেই মায়া চাদর পেচানো ব্যাথা শরীর নিয়ে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে সাথে সাথে দরজা লক করে দিল। মায়ার এমন কান্ড দেখে কৌশিক এক চোখের ভ্রুটা উচু করে বুকের মাঝে দুহাত গুঁজে পেছন থেকে ‘থ’ মেরে মুচকি হেঁসে উঠল। অতঃপর বলল,
“কিউট স্টুপিড গার্ল!”
