প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৪
বন্যা সিকদার
আমার সেই কাঙ্ক্ষিত ‘প্রিয়দর্শিনী’কে নিজের করে পেতে উজান চৌধুরীকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। খুব সহজেই পিচ্চিকে পেয়ে গেলাম।
সঙ্গে সঙ্গে ইফাত এক ঝটকায় উজানে’র গলা চেপে ধরে চিৎকার দিয়ে উঠল‚ “শাউ*য়্যার নাতি তলে তলে টেম্পো চালাচ্ছিস আর আমাদের বলছিস বউ মানি না। তোর বউ না মানার গুষ্টি মেরে দেব আজ। আবার মুখে বড় বড় বুলি‚ নারী ছাড়া সারাজীবন একা কাটিয়ে দেখিয়ে দেবে যে উজান চৌধুরী নারী ছাড়া বাঁচতে পারে। ভণ্ডের ঘরের বড় ভণ্ড একটা।
উজান নিজেও দম আটকে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় চেঁচিয়ে উঠল‚ “আরে ভাই ছাড় আমাকে। এখনো বাসর করতে পারলাম না আমি। তোদের চাচ্চু ডাক না শুনিয়ে মরতে চাই না আমি‚ দয়া করে গলাটা ছাড়!
কিছু সময় ওভাবে ধস্তাধস্তি করার পর অবশেষে ইফাত উজান’কে ছাড়ল। ছাড়া পেয়ে উজান জোরে জোরে হাঁপাতে লাগল। কাশতে কাশতে সে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। এই ছেলেটা আজ তাকে নির্ঘাত মার্ডার করতে চেয়েছিল! নয়তো এভাবে কেউ বন্ধুর গলা চেপে ধরে? খানিকটা নিজেকে স্বাভাবিক করে সে আবারও দুজনের মাঝে এসে বসল। ওদিকে তন্ময় তখনো রাগে ফুঁসছে। উজান যে মনে মনে মৌ’কে এতটা ভালোবাসে‚ তার জন্য এত কিছু করেছে অথচ বন্ধুদেরকে টু শব্দটাও জানায়নি। তন্ময় আর ইফাতে’র অগ্নিদৃষ্টির দিকে তাকিয়ে উজান শুকনো ঢোক গিলতে শুরু করল। আজ সত্যি উজানে’র একটু ভয় হচ্ছে। সে তোঁতলাতে তোঁতলাতে উত্তর দিল।
“রিল্যাক্স ইয়ার এমন করে জ্যান্ত চিবিয়ে খাওয়ার মতো তাকিয়ে আছিস কেন তোরা? আমি এমন কিছু করিনি। জাস্ট আসার সময় বউটাকে বার কয়েক চুমু দিয়েছি‚ গড প্রমিজ! এর চেয়ে বেশি কিছু করিনি। আর আমি এখনো ওই পিচ্চিকে ‘বউ’ হিসেবে মানিও না‚ সত্যি বলছি।
”আবারও ভণ্ডামি করিস আমাদের সাথে। একই রুমে থাকিস‚ একই বিছানায় ঘুমাস‚ একই কমফোর্টার শেয়ার করিস‚ একই……
“থাক ভাই আর আগে বাড়িস না! মাফ চাই আমি তোদের কাছে।
উজান হাতজোড় করল। তন্ময় দাঁতে দাঁত পিষে কটমট করে তাকালো। সে ভাঙ্গবে তবুও মচকাবে না। “আর কী বললি‚ বউ মানিস না এখনো?
উজান এবার মিনমিন স্বরে আওড়াল‚ “সত্যি বলছি, আমি ওই পিচ্চিকে ‘বউ’ মানি না। ওকে জাস্ট আমার আম্মুর লক্ষ্মী বউমা আর আমার ফিউচার বেবিদের কিউট মাম্মা মানি‚ গড প্রমিজ!
উজানে’র মুখে এমন অদ্ভুত লজিক শুনে সঙ্গে সঙ্গে শব্দ করে হাসতে লাগল তিন জনই। ইফাত উজানে’র দিকে তাকিয়ে রইল কিছু সময়। মনে মনে সে এক চরম স্বস্তি পেল। অন্তত মৌ’কে তার মতো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে না‚ অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রহর গুনতে হবে না। মৌ তার প্রিয়তম’কে খুব দ্রুতই নিজের করে পাবে। তার প্রফেসর সাহেব তো শুধু তারই। কিন্তু ইফাত নিজে কি তার ফুলকন্যা’কে কখনো নিজের করে পাবে? নাকি বাকি জীবন তার কথা ভেবে ভেবেই কেটে যাবে? সে নিজেকে খানিকটা স্বাভাবিক করে জিজ্ঞেস করল‚
“তাহলে ভাবিকে এখন এত এভয়েড করছিস কেন? মেয়েটাকে সব সত্যি বলে দিলেই তো চুকেবুকে যায়?
“সত্যি এখনই বলব? নো নো‚ ইম্পসিবল! এত ধমকিয়ে-শাসন করেই মেয়েটাকে পড়াশোনা করাতে পারি না‚ আর এখন যদি বলি ভালোবাসি। তাহলে তো সে মাথায় উঠে নাচবে। সেদিন আমায় বলছে‚ আমি যেহেতু কলেজের প্রফেসর‚ সেহেতু তার পড়াশোনার নাকি আর কোনো দরকারই নেই। আচ্ছা তোরাই বল‚ ওকে মিনিমাম মাস্টার্স পাস তো করতে হবে নাকি? আচ্ছা মাস্টার্স বাদই দিলাম‚ অন্তত ভালো রেজাল্ট নিয়ে এইচএসসি তো পাস করতে হবে।
যদি লোকে শোনে প্রফেসর উজান চৌধুরীর ওয়াইফি একটা ‘ফেলটু স্টুডেন্ট’, তখন কেমন দেখাবে? লোকে আমার ওয়াইফিকে ইনসাল্ট করবে‚ এটা অন্তত আমার দ্বারা মেনে নেওয়া ইম্পসিবল। তাছাড়া আমি চাই‚ আমার পিচ্চিটা পড়াশোনা করে এমন এক যোগ্য পর্যায়ে যাক‚ যেখানে আমি বিহীন সে একাই দুনিয়া কাঁপিয়ে চলতে পারে। আমি ছাড়াও তাকে যেন কারো ওপর ডিপেন্ডেবল হয়ে বাঁচতে না হয়।
“সে না হয় বুঝলাম ভাই‚ কিন্তু তুই সামনে রসগোল্লা রেখে নিজেকে কীভাবে কন্ট্রোলে রাখিস? না মানে তুই আদৌ পুরুষ তো?
কথাটা বলেই তন্ময় আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। ওখান থেকে এক দৌড়ে পালালো। তার এমন আজব প্রশ্ন শুনে ইফাত মুচকি মুচকি হাসছে। উজান তার দিকে তাকাতেই ইফাত মুখে কুলুপ আঁটলেও তন্ময় দূর থেকে হাসতেই আছে। সে হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার উপক্রম। এমন সিরিয়াস মুহূর্তেও তার ফালতু রসিকতা থামে না। পরক্ষণেই উজান’কে স্বাভাবিক দেখে তন্ময় যেই না একটু এগিয়ে এসেছে‚ অমনি উজান বিদ্যুৎ গতিতে দাঁড়িয়ে নিজের পায়ের জুতোটা খুলে তন্ময়ে’র মাঝ বরাবর ছুঁড়ে মারল। জুতোটা ঠিক জায়গায় লাগায় তন্ময় খানিকটা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে মুখ খিঁচিয়ে নিলো। এবং তার সাথে উজান ক্ষিপ্ত গলায় আওরায়‚
“শাউ*য়্যার তুই আমার পুরুষত্বের দিকে আঙুল তুলছিস? জানিস‚ ওই পিচ্চির থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য রোজ কতটা স্ট্রাগল করতে হচ্ছে আমায়? চোখের সামনে আমার সবচেয়ে ফেভারিট ডিশ সাজানো অথচ এই উজান চৌধুরী চাইলেও তা টেস্ট করতে পারছে না। আর ও আমাকে পুরুষত্বের কথা শেখাচ্ছে।
”তোর বা**লের পুরুষত্বের গুল্লি মারি। তুই আমাকে ওভাবে অ্যাটাক করলি কেন? যদি তোর এই আকামের জন্য আমাকে রেখে আমার বউটা চলে যায়। তবে তোর বউকে…
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই তন্ময় দ্রুত নিজের মুখ চেপে ধরল। কারণ ওদিকে উজান হিংস্র বাঘের মতো ধীরপায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তন্ময় শুকনো ঢোক গিলল। উজান একদম কাছাকাছি চলে আসতেই সে তোঁতলাতে তোঁতলাতে বলে উঠল‚ “আরে ইয়ার আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে…তোর বউয়ের পায়ে ধরে আমাকে অন্য একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করিয়ে দিতে বলবো। বউ ছাড়া অন্তত এই তন্ময় বেশিদিন টিকতে পারবে না।
এতক্ষণে উজানে’র রাগটা একটু শান্ত হলো। তা দেখে তন্ময় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। যাক‚ একটুর জন্য প্রাণটা খাঁচাছাড়া হওয়া থেকে বেঁচে গেল। এর মাঝেই উজান আবার নিজের শীতল কণ্ঠে আওড়াল‚ “এবার ফাজলামো রেখে আমার একটা সিরিয়াস কথা শোন।
তন্ময় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে‚ “বল মামা শুনছি।
“মেয়র সাহেবের ওয়াইফকে কে খুন করল এবং কেন? এই কেসের কোনো প্রুফ পেয়েছিস? —উজানের চোখ দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল।
”তেমন জোরালো কোনো প্রুফ এখনো পাইনি‚ তবে মেয়র সাহেবকে আমার শুরু থেকেই বড্ড সন্দেহ হচ্ছে।
“রাইট‚ শুধু ডাউট নয়। আমি হানড্রেড পারসেন্ট শিওর যে এই মার্ডারটা মেয়র সাহেব নিজে করিয়েছেন। নয়তো তার ওমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বাসায়‚ একটা বন্ধ রুমে ঢুকে তার ওয়াইফকে খুন করার সাহস কার হবে?
”কিন্তু তিনি তো নিজের স্ত্রীকে ভীষণ ভালোবাসতেন। এমনকি মিডিয়ার সামনে প্রমানও করেন। তাছাড়া যখন খুনটা হয়েছে‚ তখন তো মেয়র সাহেব স্বয়ং প্রেস মিডিয়ার সামনে লাইভ ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন।
“ভুলে যাচ্ছিস কেন যে তারা কতটা ধুরন্ধর রাজনীতিক। মেয়র খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিল যে খুনটা হলে সবাই প্রথমে তাকেই সন্দেহ করবে। তাই নিজের একটা নিখুঁত অ্যালিবাই তৈরি করার জন্য সবার সামনে থেকেও‚ পেছন দিয়ে নিখুঁতভাবে ছুরি চালিয়েছে। এমনকি সবাইকে এখন এটা বোঝাচ্ছে যে আসল খুনি নাকি অন্য কেউ।
”কিন্তু আমরা এটা প্রমাণ করব কীভাবে? তাছাড়া তিনি নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন ওনার স্ত্রীর কেসটা কোন টিম হ্যান্ডেল করছে।
“দ্যাটস গুড। চোর যখন নিজেই গর্ত থেকে মুখ বের করছে‚ তখন বাকিটা আমি নিজেই দেখে নিচ্ছি। চল‚ এবার বাসায় ফিরি। আর এই যে আমাদের দেবদাস প্রেমিক পুরুষ ইফাত চৌধুরী আপনিও চলুন। আপনার ফুলকন্যা’কে অলরেডি আমাদের চৌধুরী ভিলায় নিয়ে আসা হয়েছে। এবার তাকে নিজের ঘরে তোলার দায়িত্ব আপনার চলুন।
শেষের কথাটা উজান ইফাত’কে উদ্দেশ্য করে বলল। মেহেরে’র আসার খবরটা শোনামাত্রই ইফাতে’র বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত শীতলতায় ভরে গেল। অতি দ্রুত সবাই সেখান থেকে যার যার গাড়িতে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আসলে উজান আর তন্ময় দুজনেই দেশের অন্যতম সেরা ‘সিক্রেট সিআইডি এজেন্ট’। তাদের এই বিশেষ টিমটা সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে বড় বড় রহস্যময় কেস সলভ করে। তবে পুরো টিম আড়ালে থাকে না‚ জাস্ট এই টিমের মূল মাস্টারমাইন্ড এবং লিডার উজান চৌধুরী নিজেকে আড়ালে রাখে।
তার এই আসল সত্যটা তন্ময়‚ ইফাত আর উজানে’র নিজের চাচ্চু ছাড়া আর কেউ জানে না। উজান নিজেই কাউকে বলেনি; কারণ তার মা ছেলেকে নিয়ে প্রচণ্ড ভয় পান। পরিবারের কেউ কখনো চায়নি উজান এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় আসুক। সেই কারণেই তাকে ছোটবেলা থেকে প্রফেসর হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু তারা নিজেরাও জানে না‚ তাদের সেই শান্ত-শিষ্ট প্রফেসরের আড়ালে থাকা ছেলেটিই আসলে পুরো দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও অপরাধীদের ত্রাস‚ সিক্রেট সিআইডি এজেন্টের সুপ্রিম লিডার—ওরফে উজান চৌধুরী!
রাত তখন প্রায় সাড়ে বারোটা। উজান অত্যন্ত ধীরপায়ে রুমে ঢুকল। রুমে এসেই বিছানার দিকে তাকিয়ে এক পলক মৌ’কে দেখে নিয়ে সে সোজা শাওয়ার নিতে চলে গেল। শাওয়ার শেষ করে সে আবারও বিছানার দিকে এগিয়ে গেল। ঘুমন্ত মৌ’য়ের নিষ্পাপ মুখের দিকে কিছুটা ঝুঁকে দাঁড়াল উজান। অবাধ্য মেয়েটাকে দেখামাত্রই মুহূর্তের মধ্যে আপনা-আপনি তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সে নিজের শরীরের সমস্ত ভর মৌ’য়ের ওপর ছেড়ে দিল। আচমকা এই ভারী চাপে ঘুমের ঘোরেই একটু গুঙিয়ে উঠল মৌ। উজান তড়িৎ গতিতে নিজেকে খানিকটা সরিয়ে নিয়ে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। আপনমনেই ফিসফিসিয়ে আওরাল‚
“কী ম্যাডাম? মুখে তো বড় বড় কথা‚ মিসেস চৌধুরী নাকি আমাকে ভীষণ ভালোবাসে! অথচ আমার শরীরের এই সামান্য ভরটুকু সামলাতেই আপনার হিমশিম খেতে হচ্ছে? এখনই এভাবে গুঙিয়ে উঠলে ভবিষ্যতে আমার কী হবে বলুন তো? আপনি কি আদৌ জানেন‚ আপনার এই মায়ার জালে কতটা গভীরভাবে আসক্ত হয়ে গিয়েছি আমি? আপনাকে চোখের আড়াল করে আমার একটা মুহূর্তও ভালো লাগে না‚ অথচ আপনি আমায় একটুও বোঝেন না!
আচ্ছা বলুন তো‚ মুখেই কেন ‘ভালোবাসি’ শব্দটা শুনতে চান এত? আমার প্রতিদিনের ব্যবহারে কি আপনি ভালোবাসার কোনো প্রমাণ পান না? আপনি কি সত্যিই বোঝেন না যে‚ আপনাকে এক পলক না দেখলে এই উজান চৌধুরী ঠিক থাকতে পারে না? চারদিক অন্ধকার দেখে দিশেহারা হয়ে যায়। অথচ আপনি ভাবেন উজান চৌধুরীর কাছে আপনার কোনো মূল্যই নেই। আপনি কবে বুঝবেন বলুন তো‚ মুখে ‘ভালোবাসি’ না বলেও অন্তহীন ভালোবাসা যায়? আমি আপনাকে কোনোদিন মুক্তি দেব না মিসেস চৌধুরী‚ এমনকি কিয়ামতের দিনও আমি আপনার পিছু ছাড়ব না!
কথাগুলো বলতে বলতে উজান মৌ’য়ের গলার ভাঁজে নিজের মুখ গুঁজে দিল। নিজের নাক দিয়ে আলতো করে স্পর্শ করতে লাগল প্রিয়তমা’র নরম ত্বক। তার এই হালকা‚ উত্তপ্ত স্পর্শে ঘুমের মাঝেই মৌ’য়ের শরীরটা বারবার শিউরে শিউরে উঠছিল। আর উজান পরম তৃপ্তিতে তা উপভোগ করছিল। আচমকা উজান মৌ’য়ের গলার নরম ভাঁজে আলতো করে একটু কামড় বসিয়ে দিল। মৌ আবারও ব্যথায় মৃদু গুঙিয়ে উঠল। মেয়েটাকে কোনোভাবেই শান্তিতে ঘুমাতে দিচ্ছে না সে। উজান একটা গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করল। তারপর মৌ’য়ের সারা মুখমণ্ডলে নিজের ওষ্ঠাধরের মৃদু ছোঁয়া দিয়ে তৃপ্তির হাসি ঝুলিয়ে আওরাল।
“আপনি এত মিষ্টি কেন বলেন তো? আপনার এই ইনোসেন্ট ফেস দেখলে উজান চৌধুরী নিজের ওপর একদম কন্ট্রোল রাখতে পারে না। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে তাকে বড্ড বেগ পোহাতে হয়। আচ্ছা বলুন তো‚ আমাকে কবে আপনি পুরোপুরিভাবে সামলাতে পারবেন? আপনার ওই মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বারবার ঘায়েল হয়ে যাচ্ছি। আর সম্ভব হচ্ছে না আমার পক্ষে‚ এবার অন্তত আমাকে বুঝুন।
হঠাৎই মৌ বিছানায় একটু নড়েচড়ে উঠল। উজান ভয় পেয়ে তৎক্ষণাৎ মৌ’কে নিজের শক্ত বুকে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ করে চোখ বুজে ঘুমের ভান করল। তবে আড়চোখে চেয়ে দেখল‚ না মৌ এখনো জেগেনি‚ গভীর ঘুমেই আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো‚ ঘুমের মাঝেই মৌ আধো-আধো কণ্ঠে বিড়বিড় করে প্রতিধ্বনিত করল।
”আই লাভ ইউ‚ প্রফেসর সাহেব!
মূহুর্তেই উজানে’র ঠোঁটের কোণে চওড়া হাসি ফুটে উঠল। মেয়েটার মুখে এই ‘ভালোবাসি’ শব্দটা শুনলে তার সারা শরীরে এক অদ্ভুত‚ মাদকতাময় শিহরণ বয়ে যায়; অথচ একসময় এই একটি শব্দকে সে প্রচণ্ড ঘৃণা করত! মৌ তখনো উজানে’র শার্ট শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। উজান নিজের অজান্তেই ভালোলাগার আতিশয্যে গভীর ঘুমে মগ্ন মেয়েটার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠল।
“লাভ ইউ টু‚ মাই ওয়াইফি!
আধো ঘুমের ঘোরেও খুব স্পষ্ট করে কথা দুটো শুনতে পেল মৌ। উজান তাকে নিজের বুকের সাথে এত শক্ত করে জড়িয়ে রাখার পরেও‚ মৌ আচমকা হকচকিয়ে ধড়ফড় করে বিছানার ওপর উঠে বসল। সে অবাক হয়ে দেখল‚ উজান তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন! অথচ সে একদম স্পষ্ট করে উজানে’র মুখ থেকে ‘ভালোবাসি’ কথাটা শুনতে পেয়েছে। সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজের দু-হাত দিয়ে ঠেলে ঠেলে উজান’কে সজাগ করার চেষ্টা করতে লাগল। উজান ঘুমের ঘোরে বিরক্ত হওয়ার ভান করে চোখ পিটপিট করে তাকাল এবং অত্যন্ত মৃদু ও ভারী স্বরে জিজ্ঞেস করল‚
“পিচ্চি! মাঝরাতে ঘুম বাদ দিয়ে আমাকে ওভাবে ডাকছো কেন‚ হ্যাঁ?
মৌ নিভু নিভু দৃষ্টিতে উজানে’র দিকে তাকিয়ে জেদি গলায় আওড়াল‚ “আপনি একটু আগে আমাকে ‘ভালোবাসি’ বললেন তাই না? আমি কিন্তু নিজের কানে একদম স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি।
উজান নিজের ঘুম-কাতুরে গলায় চোখ বুজেই আবার বিড়বিড় করে উঠল‚ “ধুর! ডিস্টার্ব কোরো না তো‚ ফিল নিতে দাও।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৩
কথাটা বলেই উজান আবার এক ঝটকায় মৌ’য়ের কোমর আঁকড়ে ধরে তাকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে তার গলার ভাঁজে মুখ গুঁজে দিল। মৌ তার বুকের ভেতর ছটফট করতে করতে আবারও জেরা করলো। “তার আগে বলেন‚ আপনি নিজের মুখে ‘ভালোবাসি’ বলেছেন তো? আমি কিন্তু পরিষ্কার শুনেছি‚ এবার আর লুকাতে পারবেন না।
ঠিক তখনই……..
