Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৬ (২)

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৬ (২)

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৬ (২)
রাত্রি মনি

বিছানায় শুয়ে বসে ভীষণ বোর ফিল করছে রিম। এতক্ষণ কি একা একটা ঘরে বসে থাকা যায় কখনো? যদিও এখানে তার বিনোদনের জন্য অনেক কিছুই আছে। এতক্ষণ সে বসে বসে একবার ডোরেমন তো একবার শিনচ্যান কার্টুন দেখছিল। কিন্তু এখন আর তার ভালো লাগছে না। হঠাৎ তার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। সে একটু দুষ্টু হেসে, জেইনে দেখানো বোতাম টা চেপে দিল।
কিছুক্ষণ পরেই মাত্তেও হন্তদন্ত পায়ে প্রবেশ করলো কক্ষে। দেখেই মনে হচ্ছে বেচারা ভীষণ হাপিয়ে উঠেছে। সে হাপাতে হাপাতে ব্যাকুল কণ্ঠে বলে,

“ভাবি আপনার কি কোনো কিছু প্রয়োজন? আমাকে শুধু একবার বলুন আমি এক্ষুনি এনে দেবো আপনাকে।”
রিম বিরক্ত হয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। তারপর ঝাঁঝালো গলায় বলে,
“কে তোমার ভাবি হয়? এসব ভাবীটাবি একদম বলবে না আমাকে।”
মাত্তেও হা করে অবাক হয়ে বলে,
“ভাইয়ের বউকে ভাবি বলবো না তো কি? অন্য কিছু বললে তো ভাই আমাকে জানে মেরে দেবে। এতো তাড়াতাড়ি আমি মরতে চাই না।”
রিম যেন আরো বিরক্ত হয়ে যায়। তারপরে মুখটা একটু কুঁচকে মাছি তাড়ানোর মতো করে বলে,

“আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে, বুঝেছি।”
“আপনার কি লাগবে ভাবী, আমাকে ডেকেছেন কেন?”
“আমার কিছু লাগবে না। আমি এখন বাইরে যাব।”
মারতেও যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে কন্ঠ কেঁপে কেঁপে ভয়ে ভয়ে বলল,
“না না ভাবি এসব খারাপ কথা একদম বলবেন না। তাহলে ভাই আমাকে জ্যান্ত চিবিয়ে খাবে।”
রিম কটমট করে বলে,
“কি এতো সারাদিন ভাই ভাই করো! তোমার ভাইকে যদি বলি না, যে তুমি আমার কথা শোনোনি, তাহলে দেখবে এসে তোমার কি অবস্থা করে।”
মাত্তেও এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
“আমার সাথে আপনার কি শত্রুতা ভাবি? কেন আমার সাথে এমন করছেন? ভাই যদি জানতে পারে তাহলে আর আমার রক্ষে…”
রিম চোখ মুখ কুঁচকে বলে,

“এই চুপ করো তো! একদম ভাই ভাই করবে না। আর তোমার ভাই কিচ্ছু জানতে পারবে না। তোমার ভাই আসার আগেই আমি আবার রুমে চলে আসব। কোথাও যাবো না শুধু একটু বাইরে হাউজের মধ্যেই ঘুরাঘুরি করব।”
মাত্তেও সন্দেহ ভরা কন্ঠে এক ভ্রু উঁচু করে বলে,
“আপনি সত্যি বলছেন তো ভাবি?”
রিম সাথে সাথে মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,
“হ্যাঁ.. হ্যাঁ.. একদম সত্যি বলছি।”
মাত্তেও কিছুক্ষণ মনে মনে ভাবে। রিম এখন চাইলেও আর পালাতে পারবে না। কারণ সেই ব্যবস্থা জেইন নিজের হাতে করে গেছে। বাইরেও গার্ডসরা কড়া পাহারা আছে। এবার সকলেই পুরোপুরি সতর্ক। কোনো ভুল হওয়ার চান্স নেই। আর মাত্তেওর মনের মধ্যে রিমের জন্য একটা অলস মায়াও জাগে। একটা মানুষ কতদিনই বা এক রুমে আটকা থাকতে পারে? অতএব সে বেশি না ভেবে রাজি হল।
রিম মনে মনে ভীষণ খুশি হয়। কিন্তু সেটা মুখে প্রকাশ করে না। সে চঞ্চল পায়ে রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে পড়ে।

রিম করিডরের এক পাশ ধরে হাঁটছে। প্রতিটা রুম দেখে যাচ্ছে নিখুঁত কৌতূহলে। তার পেছনে নিঃশব্দে হাঁটছে মাত্তেও।রিম মাঝে মাঝে বিরক্তির ছলে মাথা ঘুরিয়ে তাকায়। তার তাকানোর সাথে সাথে মাত্তেও ধরা পড়া চোরের মতো এদিক ওদিক তাকিয়ে মাথা চুলকায়। এবার রিম একটা বিরক্তির শ্বাস ফেলে, কোমরে হাত রেখে, তার দিকে ঘুরে তাকায়।
“কি সমস্যা আমার পেছন পেছন আসছো কেন?”
মাত্তেও হাবলার মতো হেসে বলে,
“আপনার পেছনে আসছিলাম না তো। আমি তো এদিকে একটা কাজে যাচ্ছিলাম।”

রিম তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আর কিছু না বলে, আবারো হাঁটা শুরু করে। সিঁড়ি দিয়ে নেমে সে, না জেনেই “বাররুমে” ঢুকে পড়ে। ক্লান্ত ভঙ্গিতে বার কাউন্টারের একটা উঁচু চেয়ারে বসে পড়ে। সে হাপিয়ে উঠেছে। তার গলা শুকিয়ে গেছে। সে কাঁচের বড় টপ টায় ভর দিতেই চোখ আকৃষ্ট করে একটা ডিজাইনার কাঁচের বোতল। সেখানে জুসের মতো কিছু তরল ঝলমল করছে। তৃষ্ণার্ত সে কোন কিছু না ভেবেই, বোতলটা হাতে নিয়ে ঢক ঢক করে মুখ লাগিয়ে খেতে থাকে।

ঠোঁটে ছোঁয়াতেই বাবলস ফেটে অদ্ভুত টক-মিষ্টি-তেতো স্বাদ ঢুকে গেল ভেতরে। হঠাৎ গলা জ্বালায় কপাল কুঁচকে গেল তার, চোখ বড় হয়ে উঠলো। রিম বোতলটা নামিয়ে গলা চেপে কাশি দিলো, তারপর এক হাত দিয়ে ঠোঁট মুছে ফেললো। আস্তে আস্তে তেতোভাবটা কমে গিয়ে মুখে মিষ্টি স্বাদ মিশে যেতে শুরু করে।
তার শরীরের ভেতর অন্যরকম এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। গাল টকটকে লাল হয়ে উঠলো, মাথা যেন হালকা ঝিমঝিম করছে। বুকের ভেতর ধকধকানি দ্রুত হয়ে গেল।
সেই দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠে যায় মাত্তেয়োর। সে সাথে সাথে দৌড়ে আসে এবং রিমের হাত থেকে বোতলটা ছিনিয়ে নেয়। রিম তার দিকে রাগী চোখে তাকায়। বোতলটা নিয়ে দুজনেই টানাটানি করছে। শেষে রিম না পেরে, মাত্তেয়োর হাতে একটা জোড়ালো কামড় বসিয়ে দেয়।

“আআআআআ…….”
চিৎকার করে বোতলটা হাত থেকে ছেড়ে দেয় মাত্তেও। তাকিয়ে দেখে রিম খুব মজা করে, হুইস্কির বোতলের শেষ ফোটাও চেটেপুটে খাচ্ছে। রিমের মাথা ঝিমঝিম করছে। চোখ পিটপিট করছে। গায়ে একরকম অলস অলস ভাব। সে গালে হাত রেখে উপরের ঝাড়বাতির দিকে বুঁদ হয়ে তাকিয়ে আছে।
ভয়ে মাত্তেয়োর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ভাই যদি জানতে পারে আজ আর তাকে আস্ত রাখবে না। এখন কি করবে সে। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিম আরও একটা বোতল হাতে তুলে নেয়। এবারেও মাত্তেও তার থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে সেটা। কিন্তু এবার আর রিম ছাড়ে না। বিরক্ত হয়ে বলে,

“আরে দাও বলছি। আমি খাবো। মজা লাগছে খুব।”
মাত্তেও হতভম্ব হয়ে বলল,
“এসব খাবেন না ভাবি। এসব ভালো মানুষ খায় না। ভাই আপনার জন্য অনেক গুলো জুস এনে রেখেছেন। আমি সেগুলো এনে দিচ্ছি। আপনি যত ইচ্ছে খান।”
রিম চোখ পিটপিট করে মুখে আঙুল দিয়ে বলে,
“চুপ কর, বলদ! আমি বাচ্চা নাকি যে জুস খাব? আমি এটাই খাব। আমার এটাই মজা লাগছে। তুই যদি আমাকে আটকাস। তাহলে তোর ভাইকে বলে তোকে মার খাওয়াবো। তখন বুঝবি কেমন লাগে!”
রিমের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ছড়িয়ে পড়ে।মাত্তেও মনে মনে বলে, ‘এই মহিলা তো ভারী ডেঞ্জারাস। এখন কি করি আমি?’
রিম এক এক করে পরপর চারটে বোতল খালি করে ফেলে। প্রতিটি বোতল খাওয়ার সাথে সাথে তার গলায় খুচরো হাসি জমে ওঠে।
মাত্তেও মাথায় হাত দিয়ে ফ্লোরে বসে আছে। সে শুধু ভাবছে একটু পর কি তান্ডব টাই না হবে এখানে। আজকে মরার জন্য প্রস্তুত সে।

‘রাত ঠিক আটটা কি নয়টা।’
জেইনের কালো চকচকে অডি কার এসে থামল পেন্টহাউজের সামনে। পুরো বাড়িটাই তখন অন্ধকারে ডুবে, নীরবতা যেন শ্বাসরোধ করে আছে।
অলস ভঙ্গিতে গাড়ি থেকে নামল সে। ভারী পদক্ষেপে বেজমেন্ট পেরিয়ে সরাসরি লিফটে উঠে গেল। লিফটের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কালো স্যুটটা খুলে বা-হাতে ঝুলিয়ে নিল—চোখে-মুখে সেই অদম্য ক্লান্তি আর অস্থিরতা।
এই মুহূর্তে তার রিমকে প্রয়োজন। খুব কাছে। তার নিষ্পাপ মুখটা দেখলেই জেইনের সমস্ত ক্লান্তি ভাব চলে যাবে। কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা চলে গেল রিমের কক্ষে। কিন্তু দরজার লক খুলতেই ভ্রু কুঁচকে গেল তার। ভেতরে গিয়ে একবার চোখ বোলাতেই বুঝল রিম কোথাও নেই। প্রথমে মনে হলো হয়তো ওয়াশরুমে। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করেও যখন কোনো শব্দ পেল না, তখন বুকের ভেতর অজানা এক শঙ্কা নেমে এলো।
তার গলা ফেটে চিৎকার করে মাত্তেওকে ডাকল

“Matteo!”
কিন্তু চারদিক থেকে কোনো উত্তর আসল না। হঠাৎ অস্থির হয়ে পড়ল জেইন। রুম থেকে বেরিয়ে সারা পেন্টহাউজ তন্নতন্ন করে খুঁজতে শুরু করল। প্রতিটি করিডর, প্রতিটি রুম, এমনকি টেরেস সব জায়গায় খুঁজেও রিমের কোনো চিহ্ন নেই। বুকের ধড়ফড় বাড়তেই থাকল, চোখে ক্রোধ আর আতঙ্ক একসাথে ভেসে উঠল। তবুও নিজেকে জোর করে সান্তনা দিল।
“না… রিম বাইরে যায়নি। যদি যেতো, তাহলে সবার আগে নোটিফিকেশন আসত তার কাছে।”
কিন্তু অদৃশ্য ভয়ের এক কালো চাদর যেন তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছিল। খুঁজতে খুঁজতে জেইন একসময় এসে দাঁড়াল প্রাইভেট বারের রুদ্ধদ্বারের সামনে। দরজাটা সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। ভেতরে পা রাখতেই জেইনের চোখের মণি স্থির হয়ে গেল।

ঘরের ভেতরটা এক মায়াবী কুয়াশায় আচ্ছন্ন। লাল আর বেগুনি আলোর এক বিষণ্ণ সংমিশ্রণ কক্ষের আবহাওয়াকে ভারি করে তুলেছে। টেবিলের ওপর অর্ধশায়িত এক ওয়াইনের বোতল থেকে শেষ কয়েক ফোঁটা চুইয়ে পড়ছে, আর মেঝেতে ছড়িয়ে আছে কাঁচের অশ্রুবিন্দু—ভাঙা গ্লাসের টুকরো। বাতাসের প্রতিটি অণুতে অ্যালকোহলের কড়া ঘ্রাণ।
সেই বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে, বার টপের ওপর আসীন এক মানবী—রিম। পা দুটো ভাঁজ করে পরম নিশ্চিন্তে বসে আছে সে। ঠোঁট দুটো অবুঝ শিশুদের মতো উল্টানো, অথচ চোখেমুখে এক দার্শনিক গাম্ভীর্য—যেন জগতের সমস্ত গূঢ় রহস্য আজ তারই করায়ত্ত।
রিমকে অক্ষত দেখে জেইনের বুকের ভেতর জমে থাকা শঙ্কা মুহূর্তেই গলে জল হয়ে গেল। তার ওষ্ঠাধরে ছড়িয়ে পড়ল স্বস্তির নিঃশ্বাস।

সে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে আসছিল। প্রতিটি পদক্ষেপ যত এগোচ্ছে, তার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ যেন আরও জোরে বাজতে লাগল। হার্টবিট এতটা তীব্র হয়ে উঠল যে নিজেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল।
হঠাৎ তার দৃষ্টি আটকে গেল ফ্লোরে। মাথায় হাত দিয়ে ভেঙে পড়ে বসে আছে মাত্তেও। মুহূর্তেই জেইনের চোখ দুটো রাগে জ্বলে উঠল, চোয়াল শক্ত হয়ে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল তার চেহারা।
একটা ভারী শ্বাস টেনে নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ করল হাত। তারপর হঠাৎ ঝাঁকিয়ে ঝুঁকে পড়ল মাত্তেওর ওপর, শার্টের কলার চেপে ধরে টেনে হিঁচড়ে দাঁড় করাল তাকে।
মাত্তেও ভয়ে দমবন্ধ হয়ে হাঁসফাঁস করতে লাগল। তবুও জেইনের হাতের মুঠো আরও শক্ত হলো, দুহাতে তার কলার পেঁচিয়ে ধরে দাঁত চেপে গর্জে উঠল

“এই জানোয়ারের বাচ্চা!! এই…!!! ও এখানে কিভাবে এলো? তোকে বলেছিলাম না, ও যেন বাইরে বের হতে না পারে!! আমার কথা মাথায় ঢোকেনি তোর? হারামির বাচ্চা!!!”
মাত্তেওর বুক ধকধক করছে, চোখে মুখে আতঙ্ক জমে গেছে। কোনো রকমে গলা শুকিয়ে কাঁপতে কাঁপতে থেমে থেমে বলল,
“ভাই আমার কি দোষ বলুন? আমি কি করে জানবো ভাবীর হাড়ে হাড়ে এতো শয়তানি বুদ্ধি! আপনার বউ না! একদম আপনার মতোই!”
জেইন চোখের দিকে তাকাতেই মাত্তেয়োর কন্ঠ রোধ হয়ে আসে। জেইন রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। মাত্তেও বুঝতে পারছে, মুখ ফসকে ভুল ব্যক্তির সামনে ভুল কথা বলে ফেলেছে। হঠাৎ জেইনের শক্ত হাতটা আরও আঁকড়ে ধরে, কণ্ঠে খোঁচা,

“এই জানোয়ারের বাচ্চা!!, আমার বউকে কি বললি তুই!”
মাত্তেয়োর কপাল থেকে ঘাম ঝড়ছে বুক ধরফর করছে।সে খুক খুক করে কেশে ওঠে।‌ চোখে জীবনের শেষ শ্বাস দেখা যায়।
ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ এক জাদু মন্ত্রের মতো জেইনের সমস্ত পেশি শিথিল হয়ে এল। হাতের বাঁধন ঢিলে হয়ে এলো।পেছন থেকে এক জোড়া কোমল বাহু জেইনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। রিমের উষ্ণ শরীরটা মিশে আছে জেইনের পিঠের সাথে।তার মুখ গুজে আছে জেইনের পিঠের শার্টে। রিম ঠোঁট ফুলিয়ে জেইনের পিঠে নাক ঘষে অভিমান নিয়ে বলে,

“তুমি এসেছো…. আমি কখওন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। এতো দেরি করলে কেন? আমার তোমাকে ছাড়া একা থাকতে একদম ভালো লাগে না।”
জেইন স্তব্ধ। কপাল চওড়া হয়ে যায়। রিমের শরীরের উষ্ণতা তার রক্তে বিদ্যুতের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে—এতটাই জোরে লাফাচ্ছে। এক ঝটকায় রিমের হাত ছাড়িয়ে তাকে নিজের সামনে ঘুরিয়ে আনে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার শরীরটা ওপর-নিচ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। আঙুলের ডগায় এলোমেলোভাবে হাত রেখে খুঁজে দেখে কোথাও কোনো আঘাত আছে কিনা। কিছু না পেয়ে অবশেষে এক দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
তারপর দৃষ্টি গিয়ে থামে রিমের মুখে। নিষ্পাপ বাচ্চাদের মতো একরকম সরল ভাব ফুটে উঠেছে সেখানে। ঠোঁটে রক্তিম আভা, নাকের ডগা আর গাল টকটকে লাল টমেটোর মতো হয়ে আছে। চোখ আধখোলা, দৃষ্টি ঝাপসা, শরীর ঢুলছে। জেইন গম্ভীর চোখে তাকিয়ে তার গালে হাত রাখে, কণ্ঠস্বরে দমবন্ধ চিন্তার ছায়া মিশে যায়
“এমন দেখাচ্ছে কেন তোমাকে? জ্বরটা কি আবার বেড়েছে?”
সে কপাল, গাল, ঘাড়—সব জায়গায় হাত রাখে। না, শরীরের তাপমাত্রা একদম স্বাভাবিক। চোখে তীক্ষ্ণ সন্দেহ ঝিলিক দেয়। আবার বলে

“এই… কি খেয়েছো বলোতো তুমি? এমন করছো কেন?”
রিম চোখ পিটপিট করে, ঠোঁট ফুলিয়ে শিশুসুলভ ভঙ্গিতে উত্তর দেয়
“আমি কিছু খাইনি তো।”
তারপর আঙুল তুলে মাত্তেয়োর দিকে ইশারা করে।
“ও’ই আমাকে খেতে বলেছে। বলেছে ঐ বোতল গুলোতে অনেক মজার মজার জুস আছে। তাই তো আমি একটু খানি খেয়েছি। বেশি খাইনি তো.. বিশ্বাস করুন।”
দু’আঙুলে উল্টো “ইউ”-এর মতো ভঙ্গি করে দেখায় রিম, চোখ ছোট ছোট করে বলে,
“এই যে একটুওওও… খানি।”
মাত্তেও তড়াক করে পেছন থেকে সামনে এসে দাঁড়াল। কণ্ঠে মিশ্রিত বিষ্ময়, চোখ ভরা হতবাক ভাব
“কি মিথ্যুক রে বাবা! আমি কখন খেতে বললাম! আমি তো আরও মানা করছিলাম উনাকে। কিন্তু উনিই আমার কোনো কথা শোনেন নি। ভাই বিশ্বাস করুন ভাবি মিথ্যে কথা বলছে।”
শেষের কথাগুলো সে প্রায় কাঁদো কাঁদো গলায় উচ্চারণ করল, কণ্ঠে আতঙ্ক আর দুঃখের ঢেউ।
জেইন দাঁতে দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,

“তুই ওকে খেতে বলিসনি ঠিক আছে। কিন্তু তুই তো আটকানোর চেষ্টাও করিসনি। F*king bit**
মাত্তেও কাঁদো কাঁদো গলায় মুখ ছোট ছোট করে বলে,
“ভাই…..আমি আটকে ছিলাম তো কিন্তু ভাবি আমার কোনো কথাই শোনেনি। উল্টো বলে, আপনাকে বলে নাকি আমাকে মার খাওয়াবে। আমি কি করতাম বলুন? ভাবির কথা না শুনলেও আপনার কাছে মার খেতে হতো, শুনলেও খেতে হতো। আপনি তো জানেন ভাবী কতো জেদি! আপনি ছাড়া কেউ হ্যান্ডেল করতে পারে না।”
জেইন এবার বিরক্ত হয়ে ধমকে ওঠে, চোখ ঝলসানো তীক্ষ্ণ
“চুপ কর ইডিয়ট! তুই যদি ওকে আটকাতিস তাহলে কি ও এসব খেতে পারতো! তুই ওকে রুম থেকে বের করলি কেন? তোকে তো আমি পরে দেখে নেব। আজকে রাত্রে ডিনার করবি না তুই। এবার যা এখান থেকে। আমার চোখের সামনে দেখতে চাই না তোকে।”

মাত্তেও মাথা নামিয়ে ফেলে। মুখ ফুলিয়ে চোখ কুঁচকে মিনমিন করে নিচু গলায় বলে,
“এত টাকা থাকতে শুধু শুধু আমার একবেলার খাবার কেন বন্ধ করে দিচ্ছেন? জামাই বউ দুজনেই এক। নিজেরা দোষ করে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়।”
জেইনের চোখ সরু হয়ে যায়, কণ্ঠে হুঁশিয়ারি
“কি বললি তুই?”
মাত্তেও মুখ কুঁচকে ফিসফিস করে,
“কিছু না।”
“তাহলে এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? যা এখান থেকে!”
“যাচ্ছি তো।…..”
মাত্তেও মুখ ফুলিয়ে চলে যায়। জেইন রিমের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে ধমকের স্বরে বলল ,
“এসব খেয়েছো কেন তুমি? জানো, এসব কি???”
রিম জোড় গলায় ন্যাকা স্বরে কেঁদে ওঠে,
“এএ্যএ্য্যএ্য্য্য্য্য… আপনি আমাকে বকছেন কেন?”

তার কান্নার স্বর ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকে। জেইনের মুখ কুঁচকে যায়। কান ঝাঝিয়ে ওঠে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিমকে শান্ত ভাবে বুঝিয়ে বলে,
“আরেএ্ বকছি না তো তোমাকে। ঠিক আছে এখন আর বকবো না। কান্না করে না লক্ষ্মী সোনা।”
জেইন রিমকে কোমল হাতে কোলে তুলে নিল।
“চলো রুমে যাই।”
কিন্তু রিম হাত-পা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিল, গলার স্বর ভর দিয়ে
“না! না! না! আমি রুমে যাবো না!”
তারপর আহ্লাদী গলায় বলল,
“আমি এখানেই থাকবো।”
জেইন বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,
“এখানে কি করবে তুমি?”
রিম তার গলা জরিয়ে মিষ্টি করে বলল,
“নাচবো।”
জেইনের মাথায় যেন বাজ পড়লো। সে চোখ কপালে তুলে বলে,

“হোয়াট! কি বললে তুমি?”
রিম মুখ ফুলিয়ে হেসে ওঠে। ছোট ছোট আঙুলে জেইনের বুকের কাছের বোতাম দুটো খুলে সেখানে মুখ গুজে দেয়। নিঃশ্বাস টেনে বলে,
“তোমার শরীরে এই ঘ্রাণটা!…. কি লাগিয়েছো? আমাকে একটু বলো না।”
জেইন নেশা ভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। হাস্কি ভয়েসে বলে,
“কেন তোমার ভালো লাগে না?”
রিম বুকে মুখ গুজে গভীরভাবে নিঃশ্বাস টেনে নেয়। তারপর অস্পষ্ট গলায় বলে,
“খুউব ভালো লাগে। সবসময় এটাই লাগাবে।”
জেইন ছোট্ট করে আঠালো গলায় বলে,

“আচ-ছা।”
রিম এবার ছটফট করে বলে ওঠে,
“আমাকে নামাও।”
সে হাত পা ছুড়ে বলে,
“আরে নামাও বলছি। নামাও না।”
“আরে বাবা কি হয়েছে বলবে তো।”
“তুমি আগে নামাও তো।”
জেইন আর উপায় না পেয়ে তাকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়। রিম এক ছুটে ডেস্কের কাছে চলে যায়। উচু টুলের উপর উঠে, বার টপের উপর উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। জেইন ভয়ে তার সামনে চলে আসে। অস্থির হয়ে বলে,
“আরে কি করছো পড়ে যাবে তো।”
রিম বিরক্তিতে মুখে “চ্য” জাতীয় উচ্চারণ করে।

“ব্যাঙ। আমি পড়বো না।”
বার টপের সামনে দেয়ালের সাথে মিলে আছে উঁচু, চকচকে বোটল র‍্যাক, যা একধরনের আর্ট পিসের মতো লালচে আলোয় ঝলসছে। প্রতিটি শেলফে সাজানো আছে ওয়াইন, শ্যাম্পেইন, ভদকা, জিন, হুইস্কি—সবই উজ্জ্বল বোতলের আকারে চোখে পড়ছে।
রিম সেখান থেকে একটা বোতল তুলে গালের সাথে মিশিয়ে চোখ বুজে ঠান্ডা অনুভব নিল। তারপর পিটপিট করে তাকিয়ে তারপর কৌতূহলভরা গলায় বলল
“এটাতে কিসের জুস আছে? খুউব মজা। আমি আরেকটু খাই?”
জেইন দ্রুত তার থেকে বোতলটা কেড়ে নিয়ে বলল
“এই না! একদম না। এমনিতেই যতটা খেয়েছো তার জ্বালা সইতে পারছি না আমি। আর খেতে হবে না।”
সে রিমের হাত ধরে বলে ওঠে।
“চলো এখান থেকে।”

রিম ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে ওঠে। জেইন এবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। এতো জ্বালা কি সহ্য করা যায়। মেয়েটা রোজ রোজ নতুন একটা ঝামেলা পাকায়। তবুও জেইন শান্তভাবে তাকে বোঝাতে থাকে।
“এসব ভালো না সোনা। এগুলো বাজে জিনিস। আমি তোমাকে এর থেকে আরও অনেক বেশি টেস্টি জুস এনে দেবো, ওকে? এবার চলো।”
রিম এবার ছোট্ট বাচ্চার মতো নিষ্পাপ মুখ বানিয়ে বলে,
“না আমি এটাই খাবো। প্লিজ একটু খাই। এএকটু বেশি না তো। খাই না প্লিজ। তুমি খুব ভালো। আমাকে একটু দাও না খেতে।”

জেইন নিজের হাসি সংবরন করে রাখে। তারপর রিমের দিকে নেশাক্ত চোখে তাকায়, যেন সম্পূর্ণ রিমের বশীভূত হয়ে গেছে। এভাবে এত্তো কিউট করে বললে কি মানা করা যায়! সে হালকা মুচকি হেসে বলে,
“আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু এটাই লাস্ট বুঝতে পেরেছো?”
রিম একগাল হেসে, মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়। তারপর বোতলে মুখ লাগিয়ে চুক চুক করে খেতে থাকে। ট্রান্সপারেন্ট কাচের বোতলের বাইরে থেকে রিমের ঠোঁটের প্রতিটা নড়াচড়া স্পষ্ট বোঝা যায়।
জেইন একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে, গলা শুকিয়ে আসে। ফাঁকা ঢোক গিলে নিজের গলা ভিজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তৃষ্ণা যেন কমছেই না—বাড়ছেই। নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসে। আঙুল দিয়ে নাকের নিচে হালকা ঘষে।
রিম খেয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে নেয় মজাদার ভঙ্গিতে। জেইন হাঁসফাঁস করে ওঠে, বুক শুকিয়ে যায়। ঠোঁট ফাঁক করে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে থাকে।

রিম তার দিকে ঝাপসা চোখে তাকায়। তারপর ঢুলতে ঢুলতে বার টপে ধপ করে বসে পড়ে। জেইন খিচে চোখ বন্ধ করে নেয়। চোখ খুলে রিমের চুল কানে গুজে দিয়ে আদুরে গলায় বলে,
“ব্যথা পেয়েছো সোনা?”
রিম ছোট্ট করে গলায় আহ্লাদ মিশিয়ে বলে,
“নাআ্”
তারপর বোতল টা জেইনের দিকে দিয়ে বলে,
“নাও তুমিও একটু খাও। এটা খুব ইয়াম্মি।”
জেইন রিমের দু ঊরুতে হাত রেখে তাকে টেনে আরও নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। রিমের দুপায়ের ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছে জেইন। জেইনের চোখে এক গভীর তৃষ্ণা, তার নিঃশ্বাসে মিশে আছে সামান্য ধোঁয়া-মাখা উত্তেজনা। সে নেশাক্ত গলায় ফিসফিস করে বলে,

“হ্যা খাবো তো। কিন্তু একটু অন্য ভাবে।”
রিম অবুঝের মতো তার দিকে তাকিয়ে,গলা দিয়ে অস্পষ্ট স্বর বের করে
“কিভা…”
কিন্তু সেই প্রশ্ন পূর্ণতা পেল না। তার আগেই জেইন ক্ষুধার্তের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল রিমের ওষ্ঠাধরে।জিভ দিয়ে লোভনীয় ভাবে চেটে ফেলে রিমের ঠোঁটে লেগে থাকা শ্যাম্পেনের শেষ বিন্দুটি। রিমের শরীরে যেন সহস্র ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল; সে কেঁপে উঠল জেইনের বলিষ্ঠ বাহুর বেষ্টনীতে।রিমের তপ্ত নিঃশ্বাস জেইনের মুখে আছড়ে পড়ছে। সে অনুভব করল, তার বাহুবন্ধনীতে রিমের শরীরটা এক অবাধ্য লতার মতো কাঁপছে। এক অদ্ভুত শিহরণ রিমের মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল, তার আঙুলগুলো অজান্তেই জেইনের শার্টের কলার খামচে ধরল। জেইন আলতো করে রিমের নিচের ঠোঁটে নিজের দাঁতের মৃদু চাপ দিতেই, রিমের বুক চিরে এক অস্ফুট গোঙানি বেরিয়ে এল। সেই শব্দ জেইনের ভেতরের তৃষ্ণাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
কিছুক্ষণ পর জেইন সামান্য দূরত্ব তৈরি করে দাঁড়াল।কিন্তু তার চোখ তখনো রিমের চোখের ওপর স্থির। তার নিজের নিঃশ্বাস তখন ঝোড়ো হাওয়ার মতো উত্তপ্ত।সে এক দীর্ঘ বিরক্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে,

“উফ্ শুধু শ্যাম্পেইন এর টেস্ট পাচ্ছি। আমি তোমার ঐ সিক্ত ঠোঁটের নিজস্ব স্বাদ পেতে চাই। যেটাতে শুধু তুমি আছো।”
রিম এবার মুখ কুঁচকে ,একটু ঝঞ্ঝাটভাবে বলে
“ধুর আপনার সাথে আর খেলবো না। আপনি পঁচা। খালি মুখে মুখ লাগিয়ে দেয়!”
তারপর তার নজর পড়ে জেইনের সিল্কের কালো শার্টের ওপর। সে ঠোঁট কামড়ে দুষ্টু হেসে বলে,
“আপনার শার্টটা না খুব সুন্দর। এটা আমি পড়বো। আমাকে এটা দিন। খুলুন বলছি।”
বলেই সে নিজের চেষ্টায় জেইনের বুকের কাছে থাকা বোতামগুলো খুলতে শুরু করে। জেইন তার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে। ধীর শ্বাস ফেলে, ঠোঁট ফাঁক করে বলে

“হেই… কি করছো এসব?”
রিম অধৈর্য হয়ে বলে,
“আপনি তো খুলছেন না। খুলুন না। আমি পড়বো এটা। ”
জেইন শ্বাস কাঁপিয়ে, গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলে,
“তুমি এখন হুশে নেই। তুমি জানোই না, তুমি ঠিক কি করছো?”
রিম বিরক্ত হয়ে বলে,
“উফ্ আপনি এতো কথা বলেন কেন?”
রিম বাচ্চাদের মতো চেঁচিয়ে ওঠে।
“আমি এটা পড়বোওওও….। খুলুওওওওন….। এএএ্য্য্য্য্য এ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য তাড়াতাড়ি খুলুওওওওওওন।”
জেইন ঝটপট নিজের শার্ট খুলতে শুরু করে। অস্থির হয়ে বলে,

“এইতো এইতো খুলে দিচ্ছি। একটু সহ্য করো সোনা।”
রিম অধৈর্যের মতো হাত পা নাচাতে শুরু করে,
“তাড়াতাড়ি খুলুন। তাড়াতাড়িইইইইই….”
জেইন তাড়াহুড়ো করে শার্ট খুলে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর বিদ্যুৎতের মতো শার্টটা রিমের কাছে দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
“এইতো… এই নাও খুলে ফেলেছি।”

রিম ছোট্ট বাচ্চার মতো খুশি হয়ে শার্টটি হাতে নেয়। ঘাড়ের পেছনে হাত নিয়ে দ্রুত নিজের জামার ফিতা খুলতে শুরু করে। জেইন তার দিকে ঘোলা, মাদকতা মিশিয়ে চোখ রাখে, মনে হচ্ছে সে পুরো মুহূর্তে মগ্ন।
হঠাৎ রিম থমকে যায়। চোখ সরু করে জেইনের দিকে তাকায়, ভ্রু কুঁচকে বলে ,
“আপনি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আমি এখন চেঞ্জ করবো। জানেন না মেয়েরা চেন্জ করলে দেখতে নেই? ব্যড ম্যানার্স!”

বলেই রিম জেইনের ন*গ্ন বুকে হাত রেখে ঠেলে ঠুলে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়। জেইন অসলভাবে উল্টো দিকে ফিরে দাঁড়ায়। এবার রিম মিষ্টি হেসে বার টপে বসেই চেঞ্জ করতে থাকে। মাঝে আবার জেইনকে উদ্দেশ্য করে মাতাল গলায় অস্পষ্ট ভাবে বলে,
“দেখুন আপনি কিন্তু একদম পেছনে ঘুরে তাকাবেন না। যতক্ষণ না আমার চেন্জ করা শেষ হবে। ওক্কে।”
জেইন হালকা মুচকি হেসে বলে,
“ওক্কেই।”
রিম আরও দৃঢ় হয়ে বলে,

“একদম কোনো চিটিং করবেন না। নোও চিটিং। উমম একদম তাকাবেন না কিন্তু।”
জেইন ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলে। মেয়েটা এতো সরল কেন? মেয়েটা যে তাকে ট্রান্সপারেন্ট কাচের দেয়ালের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে এটা কি মেয়েটা জানে?
রিম নিজের জামা টেনেটুনে খুলে ফেলে। ফর্সা শরীরের ওপর মেরুন রঙের ইনার ঝলমল করছে, বারের বেগুনি আলোতে যেন আরও আকর্ষিত হয়ে উঠছে। জেইনের নিঃশ্বাস আটকে যায়, হৃদয় যেন বুকের ভেতর ধপধপ করে ফেটে বেরোতে চায়। শরীরের রক্ত দ্রুত ছুটে চলছে। হাত অজান্তেই কাঁপছে। শরীরের প্রতিটি অংশ তীব্রভাবে উত্তেজিত।

রিম যখনই ইনারের স্লাপ খুলতে শুরু করে জেইন অসহ্য যন্ত্রণায় চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করে নিল। কিন্তু অবাধ্য মন আর নির্লজ্জ চোখ দুটো যেন কোনো এক অদৃশ্য মায়ায় আবার খুলে গেল। তার তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি রিমের মেয়েলী শরীরটা শুষে নিতে থাকে। প্রতিটি ভাঁজে, প্রতিটি রেখায় যেন আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছে জেইনের। মাথা ঘুরছে দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। বুকে ব্যথা হচ্ছে তীব্র ভাবে। সে সহ্য করতে পারছে না। এই মেয়েটা আর কতোভাবে জ্বালাবে তাকে? তার সহ্যের সীমা ইতোমধ্যেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
শার্ট পড়ে রিমের ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে ওঠে। জেইনের শার্ট তার হাঁটু ছাড়িয়ে গেছে। হাতা দুটো ঝুলে আছে। সে শার্টের কলারটা উঁচু করে নাকের সামনে ধরে গভীরভাবে নিঃশ্বাস টেনে নেয়। জেইন রিমের এসব কার্যক্রম দেখে ঠোঁট কামড়ে মুচকি হাসে। রিম জেইনকে বলে,

“আপনি এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। আমার চেঞ্জ করা হয়ে গেছে।”
জেইন বুক ফুলিয়ে শ্বাস টেনে ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। রিমের শরীরে এখন কাপড় বলতে শুরুমাত্র জেইনের কালো শার্টটা। ফর্সা রূপটি কালো শার্টের সঙ্গে মিলেমিশে যেন আরও চকচক করছে। রিম শার্টে হাত বুলিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে। চঞ্চল হেসে বলে,
“কত্তো কমফোর্টেবল এটা। কত্তো আরাম লাগছে। ওসব ভারী জামা আমার একদম ভালো লাগে না।”
জেইন তার দুপায়ের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে। রিমের নাক টেনে গলায় আদর মিশিয়ে বলে,
“তাই এটা পড়ে আরাম লাগছে তোমার? ঠিক আছে এখন থেকে এসবই পড়বে তুমি। চাইলে কিছু না পড়েও থাকতে পারো তুমি। আমি মাইন্ড করবো না একটুও।”
রিম জেইনের কথার মানে পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। তার দৃষ্টি পড়ে জেইনের বুকের বাঁ পাশে থাকা কালো তিলে। আঙুল দিয়ে হালকা বুলিয়ে, ঠোঁট কামড়ে সে মিষ্টি হাসে।

“এটা খুব সুন্দর। এখানে একটা চুমু খাই?”
জেইন শুষ্ক ঢোক গিলে ফেলে। গলায় বাষ্প জমে ওঠে। অস্পষ্ট স্বরে বলে,
“উমমম্…”
রিম আগের মতোই কৌতুহলময় স্বরে জিজ্ঞেস করে,
“খাই?….”
“হ্য… হ্যাঁ”
মুহূর্তেই রিমের নরম ঠোঁট আছড়ে পড়ে জেইনের বুকে। কোমল অধরের, শিশুসুলভ স্পর্শে জেইনের শরীর কেঁপে ওঠে। কণ্ঠ কেঁপে বলে
“হেই কিক্.. কি করছো?”
রিম অলস ভাবে তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলে,

“চুমু খাচ্ছি। কেন আপনার ভালো লাগছে না?”
জেইন ধীরে ধীরে শ্বাস নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“হ্যা…. খুব ভালো লাগছে। একটু বেশিই….”
রিম চোখ পিটপিট করে বলে,
“তাহলে আরও দেই?”
জেইনের শরীরে যেন আগুন দপদপ করে জ্বলছে। সে রিমকে থামিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“এ..এই একদম না। তোমার সব কথা শুনেছি, এবার রুমে চলো।”
রিম বাঁক নিয়ে চঞ্চলভাবে বলে,
“এখনি না। আজকে এখানেই থাকি না আমরা? ভালো লাগছে তো।”
বলেই রিম আরও একটা বোতল নিজের হাতে তুলে নেয়। জেইন এবার তাকে চোখ রাঙিয়ে বলে ওঠে,
“এটা রাখো বলছি। আমি কিন্তু তোমাকেহ্…. বোকবো।”
রিম মুখ ভেঙচিয়ে বলে,

“এ্যএ্য্যহহ্ আসছে আমাকে বকতে, পঁচা লোক। মনস্টার একটা। আমি জানি… আপনি শুধু বলতেই পারবেন , কিন্তু কিছু করতে পারবেন না। হুমহ্.. যত্তোসব আজাইরা পাবলিক।”
জেইন আর কিছুই বলে না। কেন জানি রিমের এই ছোট্ট ছোট্ট পাগলামি গুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে তার। করুক না একটু পাগলামি। মেয়েটার জ্ঞান থাকলে তো আর সেই সৌভাগ্য হবে না তার। রিম বসে বসে বোতলের সবটুকু তরল শেষ করে, একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। অ্যালকোহলের বিকট গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
রিম হঠাৎ দাঁড়িয়ে, বোতল ছুড়ে ফেলে মেঝেতে। তারপর শরীর মুচড়িয়ে গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠে,

“ইতনা মাজা কিউ আ রাহা হে…
তুনে হাওয়া মে ভাঙ মিলায়া…
তার পর মুহূর্তেই জেইনের গলা জড়িয়ে কপাল থেকে মুখে, গলায়, আঙুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে গেয়ে ওঠে,
“দুগনা ন্যাশা কিউ হো রাহা হ্যা…
আখোছে মিঠা দুধ খিলায়া….
সে কখনো গান গেয়ে কখনো হাত পা ছড়িয়ে টপে বসে পড়ে। আবার জেইনের গলা জড়িয়ে তার গায়ে ঢলে পড়ে। তারপর সে আবার উঠে দাঁড়িয়ে জেইনকে টপের ওপরে টেনে আনে। জেইন এক লাফে টপের ওপরে উঠে দাঁড়ায়। রিমের কোমড়ে হেঁচকা টান দিয়ে তাকে পুরোপুরি নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। কানে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে আঠালো গলায় বলে,
“এই তুমি কি আমাকে পাগল বানিয়ে দিতে চাইছো? আমি কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছি।”
রিম তার কথার তোয়াক্কা না করেই বলে,
“আমাকে কোলে নিয়ে ঘোরান। আমি হাওয়ায় ভাসতে চাই। পাখির মতো ডানা মেলে।”
জেইন একটুও দেরি করে না। এক ঝটকায় রিমকে কোলে তুলে নেয়। তার শক্ত বাহুতে রিমের নরম শরীরটা যেন পুরোপুরি হারিয়ে যায়। ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে। রিম দুহাত দুপাশে মেলে, মিষ্টি সুরে প্রাণ ঢেলে গান গায়

“আকাশে বাতাসে চল সাথি
উড়ে যাই চল ডানা মেলে রেএএ…..🎶
আকাশে ভেসে চল রুপকথার দেশে চল
ঐ দেশে বাঁধবো ঘর পার হয়ে তেপান্তর
সাত সাগর তেরো নদী পেছনে ফেলে রে…
আকাশে বাতাসে চল সাথি
উড়ে যাই চল ডানা মেলে রে…..

জেইন চমকে তার দিকে তাকায়। এই গান… এখনো মনে রেখেছে মেয়েটা! রিম টুপ করে তার গালে একটা চুমু বসিয়ে দেয়। জেইন ঝট করে রিমকে কোল থেকে নামিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। মনে হচ্ছে বুকের মধ্যে ভারী পাথর চাপা পড়ে আছে। তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সে রিমের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায়। সেই দৃষ্টিতে মিশে আছে কামনা। কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ভারী শ্বাসের সাথে তার বুক ওঠানামা করছে তীব্র ভাবে। সে হাঁসফাঁস করতে থাকে। চোখ দুটোও অসম্ভব লাল হয়ে আছে। রিম তার বাহু ঝাঁকিয়ে বলে,
“কি হলো নামালেন কেন? আমি মজা পাচ্ছিলাম তো। আমাকে আবার কোলে নিইন।”
বলেই জেইনের দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠে রিম। নিঃশ্বাস ক্ষীণ জেইনের সেই রক্তাভ নেশালো দৃষ্টি যেন রিমের শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। রিম চিন্তিত হয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলে,

“আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? আপনার কি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে?”
জেইন কোনো উত্তর দিল না। সে ধীর পায়ে রিমের দিকে আরও কিছুটা ঝুঁকে এল। দীর্ঘকায় জেইনের সামনে রিমকে খুব ছোট দেখাচ্ছিল, ঠিক জেইনের হৃৎপিণ্ড বরাবর তার উচ্চতা। জেইন তার শিকারি দৃষ্টি দিয়ে রিমের আপাদমস্তক মেপে নিতে লাগল। সিল্কের বড় শার্টটি রিমের ক্ষুদ্র শরীরে বেমানানভাবে ঝুলে আছে; কাঁধের একপাশ থেকে তা খানিকটা স্লাইড করে নেমে গেছে। উপরের খোলা বোতামের ফাঁক দিয়ে রিমের বুকের চড়াই-উতরাই উত্তেজনায় কাঁপছে—যা জেইনের মস্তিষ্কে অগ্নুৎপাত ঘটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
জেইনের গলার ভেতরটা কাঠ হয়ে আসছে। বারবার শুষ্ক ঢোক গিলে সে নিজের ভেতরে দাবদাহ নেভানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। তার গায়ের উত্তাপ তখন মরুভূমির বাতাসের মতো প্রখর। সে ভেতর থেকে ঠান্ডা হতে চায়, একটু শান্তি চায়।
রিম ডাগর চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে ছিল। জেইন তার মুখের একেবারে সন্নিকটে নিজের মুখ নিয়ে এল। তার তপ্ত নিশ্বাস রিমের ঠোঁটে আছড়ে পড়ছে। সে ফিসফিসিয়ে বলল,

“হ্যাঁ… প্রচুর কষ্ট হচ্ছে আমার। I need some oxygen. তোমার থেকে একটু দেবে আমায়?”
রিম কিছু বলার জন্য ওষ্ঠাধর ফাঁক করলো কিন্তু গলার স্বর বেরোনোর আগেই জেইন নিজের ওষ্ঠ দিয়ে রিমের অধরের সমস্ত কম্পন শুষে নিতে নিতে সে বিড়বিড় করল,
“দেখো কেমন শ্বাস কষ্ট হচ্ছে আমার! একটু… কোঅপারেট করো। নইলে সত্যিই মরে যাবো!”
রিম অপ্রস্তুত হয়ে দু-হাতে জেইনকে ঠেলে সরাতে চাইল। কিন্তু জেইন সেই নরম হাত দুটো এক হাতে পিঠের পেছনে শক্ত করে চেপে ধরল। ঠোঁটের কাজ চালিয়ে ফিসফিসানো নেশাতুর কন্ঠে বলে,

“যাস্ট কোঅপারেট। আজকে বাঁধা দিও না প্লিজ।”
রিম কাঁপতে কাঁপতে তোতলানো স্বরে বলে,
“কি… কিভাবে কোহ্..অপারেট করাবো?”
জেইনের এক হাত রিমের চুলে অন্য হাত বিচরন করছে শরীরের নরম স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে। শার্ট ভেদ করে বুকের মোলায়েম অংশে নিজের হাতের তালু দিয়ে ধীরে চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো।জেইনের গলার স্বর তখন গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে,

“যাস্ট ওপেন ইয়োর লিপস্ এন্ড ফলো মি।”
বুকের সেই তীব্র চাপে রিমের ভেতর থেকে এক অস্ফুট গোঙানি বেরিয়ে এল। জেইন তার অধরে আরও তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠল, হাতের চাপ আরও তীব্রতা বাড়াতে লাগলো। রিম যন্ত্রণায় আর সুখে মিশিয়ে শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠল,
“আহহ্! ব্যথা পাচ্ছি।”
জেইন ধীরে ধীরে সেখানে ঠান্ডা হাত বুলিয়ে আলতো করে স্লাইড করতে লাগলো। রিমের কানের লতিতে দাঁত দিয়ে মৃদু কামড় বসিয়ে বলে,
“আমিও পাচ্ছি….কোঅপারেট…..”
রিম এবার জেইনের কথা মতো তার ঠোঁটে ঠোঁট মেলাতে থাকে। রিমের আস্কারা পেয়ে জেইনের তীব্রতা, তার পাগলামী যেন আরও দ্বিগুন বেড়ে ওঠে। সে ঠোঁট ঠোঁট মিশিয়ে মুখ ফাঁক করে রিমের শ্বাস টেনে নেয় নিজের ফুসফুসে। চুম্বনরত অবস্থাতেই রিমকে কোলে তুলে নেয়। রিমের দু পা তার কোমড়ে জড়িয়ে ধরে। দুই হাত গলায়। সে রিমকে আরেকটু উঁচু করে নিজের সুবিধা মতো কাজ চালিয়ে যায়। ঠোঁটে অমৃত সুধা পান করতে করতে ফিসফিস করে হুইস্কির কন্ঠে বলে,

“শোনো এরপর থেকে আমি যখন চুমু খাবো, তখন এসব হেবী ফ্লেভারের কিছু খাবে না বলে দিলাম। এগুলোর জন্য তোমার ঠোঁটের আসল টেস্ট পাচ্ছি না আমি।”
রিমের ঠোঁট ছেড়ে জেইন হাঁপাতে হাঁপাতে পকেট থেকে একটা চুইংগামের প্যাকেট বের করে। ছিঁড়ে রিমের মুখে দিয়ে বলে,
“এটা খাও অ্যালকোহলের ঝাঁঝ চলে যাবে।”
রিমকে কোলে নিয়েই ধীরে বার টপ থেকে নেমে পড়ে‌ জেইন। আস্তে আস্তে বার থেকে বেরিয়ে পড়ে। রিম চুইংগাম চাবাতে চাবাতে বলে,
“এটা খুব মজা। আমি আরও একটা খাবো।”
জেইন তার দিকে তাকিয়ে বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়িয়ে বলে,

“আচ্ছা।”
রিম তার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
জেইন ঠান্ডা গলায় বলে ওঠে,
“রুমে।”
রিম কৌতূহলী গলায় প্রশ্ন করে,
“সেখানে কি হবে?”
জেইন তার কানে ফিসফিস করে বলে,
“ক্রিকেট ম্যাচ…..”
তার গাঢ় মাদকতা ভরা কন্ঠে কেঁপে ওঠে রিমের ছোট্ট দেহ। রিম আবার কিছু বলতে নিলে জেইন তার ঠোঁটে আঙুল রেখে থামিয়ে দেয়,
“চুপ আর কোনো কথা নয়। এবার যা হবে সব রুমে।”
রিম ভ্রু কুঁচকে তাকায়, কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে,
“আমার একটা প্রশ্ন আছে তো।”
জেইন ধীর, গভীর গলায় ফিসফিস করে,

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৬

“পরে শুনবো।”
কিন্তু রিম তার কথা শুনে না। সে বকবক করতেই থাকে। সে জেইনের নাকের লালচে তিলে আঙুল বুলিয়ে বলে,
“এটা কি?”
“তিল।”
“তিলের বার্গার?”
“হ্যাঁ….”
“আমি খাবো।”
“আচ্ছা রুমে গিয়ে তারপর খেয়ো।”
“আচ্ছা।”
অন্ধকার করিডোরে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় তার পায়ের শব্দ। দুজনের গলার শব্দ হারিয়ে যায় নিস্তব্ধতার মাঝে।

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৭