Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪২

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪২

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪২
রাত্রি মনি

দুপুরের কাঠ ফাটা রোদে একটা গাড়ির সাথে, হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাত্তেও, তার চোখে স্টাইলিশ সানগ্লাস। ভঙ্গিমাটা একদম সিনেমার নায়কের মতো। সামনে একটা বিরাট হাইস্কুল, যেখানে হাজারো ছাত্র-ছাত্রীর আনাগোনা। তার চোখ তীক্ষ্ণ ভাবে স্কু্লের গেটের সামনে একটু বেশি আগ্রহ নিয়েই বিচরণ করছে। অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, দেখতে দেখতে প্রায় বিকেল হয়ে এলো। কাঙ্ক্ষিত মানুষটির দেখা নেই।
হঠাৎ স্কুলের ঘন্টা বেজে উঠলো। শব্দে যেন মাত্তেও’র তন্দ্রা ভাঙলো। সজাগ হয়ে সে এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজে চলেছে কাউকে। কিন্তু না, সে এখনও অধরা। হতাশায় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল মাত্তেও।
ঠিক তখনই তার কানে এলো এক তীক্ষ্ণ, রাগে কাঁপতে থাকা কণ্ঠস্বর। দ্রুত সেদিকে তাকাতেই দেখল, এক ছেলের নাক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে। আর তার ঠিক পেছন থেকে বেরিয়ে এলো এক অগ্নিমূর্তি রূপ ধারণ করা কন্যা।
মুহূর্তেই মাত্তেও’র হতাশা মুছে গিয়ে ঠোঁটে ফুটে উঠলো এক ঝলমলে হাসি।

“রাহি! এটা কি করলি তুই? ওর নাক ফাটিয়ে দিলি কেন? এখন যদি ও প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ করে!”
পাশ থেকে একটি মেয়ে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলে উঠলো।
রাহি রাগে ফোঁস ফোঁস করে বলল,
“ওর সাহস কি করে হলো আমাকে প্রপোজ করার! ওকে আমি অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম। কিন্তু ও বার বার আমার বাড়ির সামনে চলে আসে। আমার মা যদি একবার দেখতে পায়, কি হবে বুঝতে পারছিস! এমনিতেই আপু চলে যাওয়ার পর থেকে মা সবসময় খিটখিটে মেজাজে থাকে। ওকে বলে দে আর কোনোদিন যেন আমার সামনে না আসে। এখন শুধু নাক ভেঙেছে, পরে এমন কিছু ভাঙব যে বাবা হওয়ার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলবে। শালা চেঙ্গুস!”
তারপর সে আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না, সোজা হাঁটা শুরু করলো। কয়েক পা গিয়ে হঠাৎ থেমে বলল

“এই আশি, যাবি না?”
“না রে। তুই যা। আমার আম্মু খালামনির বাসায় গেছে। একটু পর খালু নিতে আসবে।”
“ওহ্, ঠিক আছে। তাহলে আমি গেলাম।”
বলেই রাহি আবার দ্রুত হাঁটা শুরু করল।সে সবেমাত্র গেট পেরিয়েছে, এমন সময় মাত্তেও এসে তার সামনে দাঁড়ালো। হীরার মতো ঝলমলে হাসি দিয়ে বলল,
“হে, হাই।”
রাহি ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই তার চোখে যেন আগুন জ্বলে উঠলো।
“তুই আবার আমার সামনে এসেছিস!”
মাত্তেও তার দিকে এক ধাপ এগিয়ে এসে, ভ্রু কুঁচকে বলল
“এই, তুমি কি সবসময় এমন অ্যাংরি মুডে থাকো?”

“হ্যাঁ! এবার সর আমার সামনে থেকে, নয়তো তোরও নাক ফাটিয়ে দেব। এমনিতেই মাথা গরম আছে।”
রাহি আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। সোজা হাঁটা ধরলো। মাত্তেও তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে পড়লো। খুব স্লো মোশনে, রাহির হাঁটার গতি মিলিয়ে ড্রাইভ করতে করতে তাকে ছুঁড়ে দিল পরের বাক্যটি,
“তুমি চাইলে, আমি তোমাকে ড্রপ করে দিতে পারি।”
রাহি রাগে কপালে ভাঁজ ফেলে তার দিকে তাকাল। ফোঁস ফোঁস করে বলল,
“মানে! চিনি না জানি না, তোর গাড়িতে কেন উঠব আমি? এই তুই আমার পিছনে আসছিস কেন? মতলব কী বল তো? তুই আবার কোনো কিডন্যাপার চক্রের লোক না তো? আমাকে কিডন্যাপ করার প্ল্যান করেছিস? দেখ, যাই করিস না কেন, আমাকে কিডন্যাপ করে কোনো লাভ হবে না। আমার মা একটা ফুটি কড়িও দিতে পারবে না তোদের। বুঝেছিস? এবার যা!”
মাত্তেও ভ্রু কুঁচকে তাকায়। এই মেয়ে কি সবসময় এমন বেশি বেশি বোঝে আর এমন পটর পটর করে! তবে যাই হোক, মেয়েটিকে তার ভীষণ ভালো লাগছে। সে ধীরে ধীরে গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে চোখের রোদচশমা খুলে ফেলে। পাশে হেঁটে চলা স্কুল পড়ুয়া অগ্নিমূর্তি রাহির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে, সুর করে বলল,

“Aj ki Raat lagta hai
Bura na Mera Naseeb hai…
Aa tujhe mein Le chalun
Ke Ghar Mera thori qareed hai…”
তার হাস্কি কণ্ঠস্বর ভেসে আসে রাহির কানে। রাহি মুহূর্তে থেমে অগ্নিমূর্তি রূপ ধারণ করে। রাগে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে কটমট করে তাকায়। তার চোখ জন্য অগ্নিশিখার মতো দাউ দাউ করছে।
মাত্তেওর বুকের বাঁ পাশে অজান্তেই হঠাৎ একটা তীব্র ধাক্কা লাগে। সে বুক চেপে মৃদু হেসে বলে,
“Oops… those eyes! দিল প্যে চুভতি হ্যে ইয়ার, মার হি ডালা….
রাগে শরীর কাঁপতে কাঁপতে রনমূর্তি ধারণ করে রাহি। মুখ দিয়ে বিশ্রী গালি আসছে তার। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে ওঠে,
“বান্দির পোলাআআ! শালা ফার্মের মুরগীর বাচ্চা! আর একবার ওই চোখে চোখ রাখলে জানে মেরে দেবো তোকে।
মাত্তেও বাঁকা হাসে। ঠোঁট কামড়ে, একটু ঝুঁকে গাড়ির জানালা দিয়ে বলে,

“Mere kolo kolo langdi si,
Sanp wangu dangdi si…
Tabhi toh tujhi se dil laga liya.”
তার চোখে স্পষ্ট দুষ্টুমি আর পাগলামি। রাহি মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়, তবুও ঠোঁটের কোণে অজান্তে এক চিলতে হাসি লুকিয়ে রাখে—যা মাত্তেওর চোখ এড়ায় না।সে নিজের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে ফিসফিস করে বলে,
“Challenge accepted, Miss Fire Eyes…”

ক্যালাব্রিয়া, পেন্টহাউজ
আড়মোড়া ভেঙে বিছানায় উঠে বসলো রিম, তখনও তার চোখে লেগে আছে ঘুম ঘুম ভাব। মাথাটা ভার-ভার লাগছে, সারা শরীরে যেন এক মৃদু আলস্য, মনে হচ্ছে ঝিম ধরা এক মিষ্টি ক্লান্তি তাকে জাপটে ধরেছে।
রুমে একবার ভালো করে চোখ বুলালো সে, কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটি—যার উষ্ণ সান্নিধ্য তার ঘুম ভাঙার প্রথম চাহিদা—তাকে পেল না। সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে মেঝেতে পা নামিয়ে দাঁড়ালো। ওয়াশ রুমেও কাউকে না পেয়ে তার মুখটা সামান্য শুকিয়ে গেল। মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে নিজেকে সতেজ করে নিল।
তারপর, মন খারাপের আলতো পায়ে সে বারান্দায় চলে এলো। কেন জানি মনটা ভালো লাগছে না। লোকটা তাকে না জানিয়ে কোথায় চলে গেল? তার মনের গভীরে একরাশ অভিমান তখন গুটিসুটি মেরে বসেছে। চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো, উদাস হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল সে।

ঠিক তখনই, তার চোখ দুটি বড় হয়ে গেল, দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল এক বিন্দুতে। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠলো, যেন এক উন্মত্ত ড্রাম বাজছে। গাল দুটো মুহূর্তেই লজ্জায় লাল, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে এলো।
লনে! জেইন তখন লনে—ঘোড়ার পিঠে রাইড করছে। লাগামহীন, বন্য উল্লাসে সে ছুটে চলেছে। তার শরীর ঘামে চুবচুব করছে, পরনের সাদা শার্টটা ভেজা থাকার কারণে বুকের সাথে লেপ্টে আছে। শার্টের তলা দিয়ে শরীরের সমস্ত পেশী আর শিরা-উপশিরাগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সেই দৃশ্য থেকে চোখ ফেরাতে পারলো না রিম। বেশিরভাগ সময়ই জেইনকে কালো শার্ট পড়তে দেখেছে রিম। কিন্তু আজ শুভ্রা রঙা শার্টে তাকে যেন একটু বেশিই আকর্ষণীয় লাগছে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সে।

এই মানুষটা এতো পরিপূর্ণ, এতো নিখুঁত কেন? কোথাও এতটুকু খাদ নেই। এই মুহূর্তে রিম ভাবতেই পারলো না যে এই অসাধারণ পুরুষটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি, সম্পূর্ণভাবে তার নিজের।
হঠাৎ করেই জেইন উপরের দিকে তাকালো। রিম আগেই তার দিকে তাকিয়ে ছিল, বিধায় চোখাচোখি হয়ে গেল দুজনের। জেইনের ঠোঁটে তখন এক বাঁকা, জাদুকরী হাসি। লজ্জায় রিম ঠোঁট কামড়ে দ্রুত চোখ নামিয়ে ফেলল।
পরের মুহূর্তেই জেইন এক লাফে ঘোড়া থেকে নেমে পড়লো। তার চাপা কণ্ঠস্বর বারান্দা পর্যন্ত ভেসে এলো,
“ডু ইউ ওয়ান্না রাইড ইট?”
রিম দ্রুত মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বোঝালো। জেইন হালকাভাবে বাঁকা হাসলো—সেই হাসি, যা রিমের হৃদয়ের বাঁধ ভেঙে দেয়।

“ওকে দেন কাম।”
রিম আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলো না। দ্রুত বারান্দা থেকে রুমে ফিরে এলো। দরজায় হাত দিতেই তার মনে পড়লো, গায়ে শুধু একটা সাদা শার্ট জড়ানো, নিচে কিছু নেই। দ্রুত কাভার্ড থেকে একটা স্কার্ট নিয়ে পরে নিল সে। তারপর রুদ্ধশ্বাসে সোজা ছুটলো নিচে, তার অশ্বারোহী পুরুষের কাছে।
তখন বাইরে সন্ধ্যার এক লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের আলো ম্লান হয়ে প্রকৃতি ধারণ করেছে এক শান্ত, স্নিগ্ধ অথচ রহস্যময় রূপ। সেই আবছা আলোয় রিম ধীরে ধীরে লনে জেইনের দিকে এগিয়ে এলো। তার বুকে তখন এক অদ্ভুত ধুকপুকানি। গত রাতের উন্মত্ততা মনে পড়তেই লজ্জায় রিমের গাল দুটি আবার রাঙা হয়ে গেল।
জেইন সেখানে ঘোড়ার কালো রঙের পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখজোড়া ছিল একদৃষ্টিতে রিমের দিকে নিবদ্ধ। সে আগেই সমস্ত গার্ডকে সরিয়ে দিয়ে এই স্থানটি দুজনের জন্য এক ব্যক্তিগত স্বর্গে পরিণত করেছিল।

রিম তার একদম কাছাকাছি আসতেই জেইন বিদ্যুৎগতিতে তার কোমর আঁকড়ে ধরলো এবং রিমকে টেনে নিজের উষ্ণ, বলিষ্ঠ বুকে মিশিয়ে নিল। রিম এক ঝলক বাতাস নেওয়ার জন্য হাঁসফাঁস করে উঠলো। জেইনের চোখ ছিল তখন রিমের উন্মুক্ত ঘাড় ও গলার প্রতিটা অংশে—যেখানে তার আগ্রাসী অধিকারের চিহ্নগুলি স্পষ্ট। সে এক শুষ্ক, উত্তপ্ত ঢোক গিলে আলতোভাবে সেই কামড়ের দাগগুলিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
রিম যেন মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো।জেইনের প্রতিটা স্পর্শে রিমের শরীরে যেন নতুন করে পুলক জাগে। মনে হয়, এটাই তার প্রথম স্পর্শ। জেইনের ঠোঁটের স্পর্শ গাঢ় হতেই রিম সাপের মতো পেঁচিয়ে উঠলো। কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, যেন এক রেশমি ফিসফিসানি,

“কী করছো…?”
জেইন তার কণ্ঠস্বরকে আরও নিচু ও মাদকতাভরা করে রিমের কানে ফিসফিসিয়ে বলল,
“Shhh… আদর করছি তো। আদর করতে দাও। My marks on your body are shining like newly blossomed flowers. It’s so fu**ing beautiful.”
“উম্মহ্ ছাড়ুন না!…..”
আচমকা জেইন রিমের ঘাড়ে এক তীক্ষ্ণ কামড় বসিয়ে দিল। রিম শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো।
“আহহ্! কামড়ে দিলে কেন?”
জেইন চোখ কঠোর করে বলল,

“আগে তুমি করে বলো। তোমাকে বলেছি না ‘আপনি’ করে বলবে না! আমার কথা কানে যায় না তোমার?”
রিম ছলছল চোখে তাকিয়ে রইল। সে নিজেও জানে না, মুখ ফসকে কখন ‘আপনি’ বলে ফেলে! সামান্য এই কারণে লোকটা তার সাথে এমন ব্যবহার করবে? তার মনে ভীষণ অভিমান হলো। সে মুখ ফুলিয়ে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু জেইন তাকে আরও শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল।
“হেই, চলে যাচ্ছো কেন? রাগ করেছো আমার ওপর?”
রিম মুখ ফুলিয়ে বলল, “নাআ্।”
জেইন এক ভ্রু তুলে, যেন কিছু ভাবছে এমন ভান করে বলল,
“ওহ্, ভালোই হলো! আমি তো ভাবছিলাম এখন আবার অযথা সময় নষ্ট করে তোমাকে ‘বিশেষ আদর’ দিয়ে রাগ ভাঙাতে হবে! যাক বাবা, বাঁচা গেল।”

রিমের অভিমান যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। তার রাগ ভাঙানো এই লোকটার কাছে ‘সময় নষ্ট’ মনে হয়! সে ক্রোধে ফুঁসে উঠলো। এখানে আর এক মুহূর্ত থাকবে না! রিম ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে শুরু করলো। কিন্তু জেইন আচমকা তাকে কোলে তুলে নিল।
মুহূর্তেই রিম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। তার বুক অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে লাগলো। মনে হচ্ছে, একদিন এই লোকটার জন্য তার হার্টটাই ব্লাস্ট হয়ে যাবে! সে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে শুরু করলে জেইনের রাগ বাড়ে। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলল,
“হেই angry bird! এতো রাগ কেন তোমার বলতো , হ্যাঁ? এইটুকু শরীরে এতো তেজ কোথা থেকে আসে? আমিও একটু দেখি…”

“ছাড়ো, আমায়! পঁচা লোক!”
জেইনের হাসির শব্দে এক গভীর রহস্য।
“ছাড়ার জন্য তো ধরিনি, বার্বিডল! রাগ করে না সোনা, রাতে অনেক আদর করব। তোমার সব রাগ কমে যাবে।”
রিম লজ্জায় লাল হয়ে গেল। এই লোকের মুখে কী কিছুই আটকায় না! রিম মুখ ঘুরিয়ে নিল, তার নজর পড়লো সামনে থাকা দুটো ঘোড়ার দিকে—একটা কুচকুচে কালো আর অন্যটা ধবধবে সাদা।
“আমি ঘোড়ার ওপর উঠবো।”
জেইন রিমের ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেয়ে বলল,
“আমি থাকতে ঘোড়ার উপর উঠার কী দরকার! তুমি চাইলে আমার ওপরেই উঠতে পারো। বিলিভ মি স্বর্গের সফর করাবো তোমায়।”

রিমের কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হতে লাগলো! জেইন তার কানে ফিসফিস করে বলল,
“আসো, তোমাকে রাইড করাই। আই মিন, ঘোড়ার!”
জেইন তাকে কালো ঘোড়া সামনে যেতেই রিম আর্তনাদ করে উঠলো,
“আআআ্! আমি সাদা ঘোড়ায় উঠবো।”
“কেন, তোমার কালো ঘোড়া পছন্দ না? আমারটাও সাদা দেখবে?”
‘কী’ বলতে গিয়ে থেমে গেল রিম, কথাটার অর্থ বুঝতে পেরে তার গাল রক্তিম হয়ে গেল। জেইন ঠোঁট কামড়ে হেসে তাকে নিয়ে উঠে পড়লো সাদা ঘোড়ার পিঠে।
আকাশে তখন মেঘ ঘনাতে থাকে, বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দিচ্ছে—হয়তো বৃষ্টি আসার পূর্বাভাস। জেইন ধীরে ধীরে ঘোড়ার লাগাম টানতে শুরু করলো। রিমের পিঠ ঘেঁষে আছে তার চওড়া বুক।
রিম ঘোড়ার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করল,

“ওর নাম কী?”
“সিলভার।”
“আর ওই কালোটার নাম?”
“শ্যাডো।”
“তুমি এই সন্ধ্যায় ঘোড়া নিয়ে রাইড করছিলে কেন?”
জেইন রিমের কানে উষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“শরীরের আগুন নেভানোর জন্য। যা তোমার জ…”
রিম চোখ বড় বড় করে তার দিকে ঘুরে তাকালো, “মানে…?”
“মানেটা না বুঝলেও চলবে।”

হঠাৎ জেইন রিমের ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিল। একদিকে তার ঘাড়ে নেশাগ্রস্তের মতো গভীর চুমু দিতে থাকলো, অন্যদিকে তার হাত শার্ট ভেদ করে আক্রমণাত্মকভাবে ঢুকে গেল রিমের তুলতুলে ব*ক্ষের ওপর। রিম শিরশির করে কেঁপে উঠলো। জেইনের হাতের উষ্ণ চাপ যেন আগুন ও বরফের এক অদ্ভুত খেলা। রিমের শরীরটা কাঁপতে কাঁপতে তার দিকে হেলে পড়লো। চোখে জল চিকচিক করে উঠলো, কোনোমতে কাঁপা কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বললো,
“ক-কী করছো? পাগল হয়ে গেছো নাকি?”
জেইন যেন গভীর নেশায় ডুবে গেছে। রিমের ঘাড় থেকে কাপড় নামিয়ে তার শরীরের ঘ্রাণ শুষে নিতে থাকে।গা শিরশির করা মাতাল কন্ঠে ফিসফিস করে উঠলো,

“হ্যাঁ, পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি। তোমার ঘ্রাণ নেশার মতো ঢুকে পড়ছে আমার শিরায় শিরায়। মাথার ভেতর সমস্ত ভারসাম্য এলোমেলো করে দিচ্ছে। ভেতরে টালমাটাল ঝড় বইছে, সামলাতে পারছি না কিছুতেই। ভেবেছিলাম তোমাকে একবার কাছে পেলে এই অস্থিরতা থেমে যাবে… But, I was wrong… তোমাকে এতো কাছে পেয়ে এখন আমার তৃষ্ণা আগের চেয়েও হাজার গুণ বেড়ে গেছে। Now I need you… Every time, every moment, every second… not just beside me, but inside my every heartbeat. তুমি আমার রক্তের স্রোতে মিশে গেছো, আমার প্রতিটা নিশ্বাসে, প্রতিটা ভাবনায় তুমি, শুধু তুমি। তুমি আমার মানসিক শান্তি, আবার আমার পাগলামিরও একমাত্র কারণ।”
সেই মুহূর্তে আকাশ গর্জে উঠলো, আর ঝুম বৃষ্টি নামতে শুরু করলো। বৃষ্টির শীতলতা তাদের ভিজিয়ে দিলেও, ভেতরের উত্তাপ ছিল অনেক বেশি। জেইন হাত দিয়ে আলতোভাবে রিমের বুকের ওপর বুলাতে থাকলো। রিম যেন স্বর্গের এক নিষিদ্ধ সুখে ভেসে যাচ্ছে। তার এক হাত চলে গেল পিছনে জেইনের চুল শক্ত করে খামচে ধরলো। জেইনের বেপরোয়া ভাব আরও বাড়লো। রিমের ঠোঁট থেকে অস্ফুটে বেরিয়ে এলো,

“উফফ্…”
অপ্রত্যাশিতভাবে রিমের মুখ থেকে বের হওয়া ছোট্ট শব্দটা জেইনকে যেন আরও অস্থির করে তুললো। সে রিমকে এক ঝটকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল। ভয়ে রিম তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
“কী করছো তুমি? আমি পড়ে যাবো তো!”
জেইন ঠোঁট কামড়ে রহস্যময়ী হাসলো। সে এক ঝটকায় রিমকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তার হাত স্কার্ট ভেদ করে ঢুকে গেল নিচের দিকে। রিম চোখ বড় বড় করে তাকালো।
“আমি থাকতে এমনটা কোনোদিন হবে না।”
জেইন তার হাত দিয়ে সেখানে আশ্লেষে আলতো বুলাতে লাগল। রিম থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে চোখ বন্ধ করে ফেলল। নিজেকে সামলাতে আষ্টেপৃষ্ঠে জেইনের গলা জড়িয়ে দু’হাতে খামচে ধরলো জেইনের সিল্কি চুলে। কাঁপা কাঁপা ভারী নিঃশ্বাস ফেলে অস্ফুটে বললো,

“ছাড়োহ্! মরে যাচ্ছি আমি!”
জেইন তাকে ছেড়ে দিল। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো। তার চোখ দুটো অসম্ভব লাল হয়ে গেছে। রিম বুঝতে পারছিল জেইন কখন এমন করে। সে জেইনকে ডাইভার্ট করার জন্য বলে উঠলো,
“শোনো না… আমার এভাবে আর ঘরের আটকে থাকতে ভালো লাগছে না। চলো না আমরা কোথাও ঘুরতে যাই।”
জেইন ঠোঁট কামড়ে ক্রুর হাসে,
“তাই সোজাসুজি বলো যে তুমি হানিমুনে যেতে চাইছো। তার জন্য অন্য কোথাও যাওয়ার কী দরকার! রুমেই দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা হানিমুন করতে পারবো আমরা।”
রিম রাগে ফোঁস করে উঠলো। এই লোকের মাথায় কি এসব ছাড়া আর কিছু আসে না নাকি! সে মুখে ‘চ্য’ জাতীয় উচ্চারণ করে বলল,

“উফ্! ব্যাঙ! আমি স্কেটিং, হাইকিং, সার্ফিং, স্কাইডাইভিং, বোটিং এসব করতে চাই। বলো না, নিয়ে যাবে…”
জেইন তার উদরে শক্তভাবে চাপ প্রয়োগ করলো। বৃষ্টির পানির শীতলতা আর জেইনের হাতের উষ্ণ চাপে রিম পাগলপ্রায়। জেইন যেন রিমকে এখনি গিলে খাবে। তার চোখে মুখে প্রচন্ড রকমের নেশা। সে ঠোঁট কামড়ে বলল,
“এসব তো স্রেফ বাচ্চাদের খেলা। তুমি চাইলে আমরা রুমে বসেই ‘এডাল্টস গেম’ খেলতে পারি। I promise, you will enjoy every second of it.”
রিমের চোখ বড় হয়ে গেল, অবুঝদের মতো বলল,
“এডাল্টস্ গেইম! সেটা আবার কী?”
জেইন তাকে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরলো। ঘোড়া থেকে নামতে নামতে তাকে কোলে নিয়ে কানের মধ্যে হিসহিসিয়ে বলল,

“হাগিং হাগিং, টাচিং টাচিং, কিসিং কিসিং, ফা…কিং ফা…কি…”
রিম চোখ মুখ কুঁচকে শক্ত করে জেইনের মুখ চেপে ধরলো।
“ছিহ্! মানে কী এসবের?”
জেইন তাকে কোলে নিয়েই লনের একপাশে থাকা ছোট্ট কটেজে যেতে যেতে বলল,
“রুমে চলো… তারপর তোমার শরীর দিয়ে এর প্রতিটি গভীর অর্থ বোঝাচ্ছি..”

লনের ছোট কটেজটি তখন নিষিদ্ধ বাসনার এক গোপন কক্ষ। বাইরের ঝোড়ো বৃষ্টি আর বিদ্যুতের ঝলকানি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি, কেবল কয়েকটি মোমবাতির মৃদু, কম্পমান আলোয় ঘরটি মায়াবী হয়ে আছে। চারিদিকে শুভ্রতার সমাহার—সাদা রঙের ভারী পর্দাগুলো ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়ায় মৃদুগতি দোল খাচ্ছে। ঘরের মাঝখানে, ঠিক কেন্দ্রে, অপেক্ষমাণ একটি ছোট্ট সাদা রঙের বিছানা।
জেইন এক মুহূর্তও দেরি করলো না। সে অদম্য কামনায় রিমকে ছুড়ে ফেলল বিছানায় । তারপর নিজের ভেজা শার্টটিকেও খুলে ছুঁড়ে ফেললো দূরে।

রিম আতঙ্কে সামান্য পিছিয়ে গেল। জেইনের চোখে তখন গভীর নেশা, লালচে আভা। তার পেশীবহুল, উন্মুক্ত বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। প্রতিটি নড়াচড়ায় তার শরীরের বলিষ্ঠতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই মূর্তিময় কামুকতাকে দেখে রিমের মুখে বলার আর কোনো বাক্য অবশিষ্ট রইল না। কন্ঠস্বর যেন রোধ হয়ে গেছে।
জেইন ধীরে ধীরে রিমের দিকে এগোতে লাগলো। রিম তখন কেবল ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছে। নিঃশ্বাসের তালে বুক ওঠানামা করছে দ্রুত গতিতে। বৃষ্টির জলে ভিজে যাওয়া তার পাতলা, সাদা শার্টটি শরীরের সাথে পুরোপুরি মিশে গেছে। মোমবাতির কম্পিত আলোয় শার্টের ভেতরের সৌন্দর্য জেইনের চোখে যেন আগুন জ্বালিয়ে দিল। সে নেশাক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রিমের একদম কাছে চলে এলো। রিম তখন বিছানার চাদর খামচে ধরে আছে। তার কণ্ঠস্বর শ্বাসরুদ্ধকর, যেন ফিসফিস করে বেরিয়ে এলো,

“এ… এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?”
জেইন তার শরীরের উত্তাপ নিয়ে রিমের আরও কাছে সরে এলো। তার কণ্ঠস্বর গাঢ় হুইস্কির মতো নেশাতুর। সে রিমের কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“ভাবছি, সাথে ঠিক কী টাইপ রোমান্স করব। Dark, অর Erotic?”
রিম নীরবে ঢোক গিলে ফেলল। মনে মনে ভাবতে লাগলো, ‘এই লোক কি এর চেয়ে কম কিছু করে? সবসময় তো আরও এক কাঠি ওপরেই থাকে।’
জেইন আর কোনো কথা নয়, সরাসরি রিমের ভেজা শার্টটিকে টেনে ধরে তার উষ্ম বুকে মুখ ডুবিয়ে দিলো। রিম থরথর করে কেঁপে উঠলো, এই এলোমেলো, আক্রমণাত্মক স্পর্শ তার সহ্য হচ্ছিল না। সে জেইনের গালে খামচে ধরে প্রতিরোধের শেষ চেষ্টা করলো। কিন্তু জেইন একচুলও পরোয়া করলো না, উল্টো আরও বেশামাল হয়ে উঠলো।রিম হাঁসফাঁস করে উঠলো,

“শোনো না..! বলো না, কালকে আমরা ঘুরতে যাবো, আমি অ্যাডভেঞ্চার করতে চাই!”
জেইন তখন রিমের শরীরে মগ্ন। সে বড় করে নিঃশ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করলো, যেন এক তুমুল ঝড়কে সামলালো। তারপর রিমকে বুকের সাথে পিষিয়ে নিয়ে বলল,
“তুমি কেন বুঝতে পারছো না, সোনা? আমি অকারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। এই মুহূর্তে বাইরে কোথাও যাওয়া আমাদের জন্য একদমই সেইফ না। একটু বোঝার চেষ্টা করো, প্লিজ।”
রিম ছলছল চোখে তাকালো। অভিমান আর হতাশা তার স্বরে,
“আই হেইট ইউ।”
জেইন গা ছাড়া ভাব নিয়ে হাসলো।
“হু কেয়ার্স!”
তারপর গভীর চোখে তাকিয়ে বললো,
“আমি চাই’ই তুমি আমাকে ঘৃণা করো… কারণ তোমার ঘৃণাটাও আমারই।”

রিমের চোখে তখন অশ্রু যেন মুক্তোর মতো ঝলমল করছে। ‘এই লোকটার মনে কি একটুও অনুভূতি নেই? সবটাই কি কেবল শারীরিক চাহিদা?’ মনে মনে বললো, তুমি চাও আমি তোমাকে ঘৃণা করি! ‘আর আমি চাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমাকে ভালোবেসে যেতে। এমনকি মৃত্যুর পরেও!’ কিন্তু তার মনের কথা মনেই রয়ে গেল। মুখে প্রকাশ করতে পারলো না।
রিমের এই ভাবনার মাঝেই জেইন আবারো হাত রাখলো তার উদরে। সেই হাত ধীরে ধীরে, কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরের দিকে উঠতে লাগলো।আর তখনই হঠাৎ যেন রিমের ভেতরে কি হয়ে গেল। সে এক অজানা ঘোরের মাঝে চলে গেল। তারপরই করে বসলো এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

তীব্র বিদ্যুৎ-তরঙ্গের মতো সে ঝুঁকে এলো জেইনের দিকে। ধীরে তার বুকের ওপর হাত রেখে অপ্রত্যাশিত এক ধাক্কা দিল—অপ্রস্তুত জেইন মুহূর্তেই ছিটকে পড়লো বিছানায়। রিম ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো, জেইন স্তব্ধ। তার নিঃশ্বাস আটকে গেল। নিঃশ্বাসের সাথে সমান তালে ওঠানামা করছে বুক। রিম আর এক চুলও দেরি করলো না, সে এগিয়ে এলো, তাদের মাঝে তখন আণবিক স্তরেরও কম ব্যবধান, যেন দুটি চুম্বক মেরু প্রবল আকর্ষণে মিলে যাওয়ার শেষ ন্যানো-সেকেন্ড।

রিমের চোখে তখন এক ধরনের নেশা, এক শীতল, প্রলয়ংকরী আকাঙ্ক্ষা। সে নিজের মাংসল ঠোঁট কামড়ে ধরে, আঙুল দিয়ে জেইনের কপাল থেকে ধীরে ধীরে স্লাইড করতে শুরু করলো। এই ধীরগতির স্পর্শে জেইনের নিঃশ্বাস আটকে এলো, যেন ফুসফুস তার কাজ করতে ভুলে গেছে। রিমের আঙুল যখন তার গলার অ্যাডামস অ্যাপেলে এসে থামলো, জেইন তখন এক শুকনো, ফাঁকা ঢোক গিললো। তার বুক এতটাই দ্রুত ছন্দে ওঠানামা করছে, যেন ভেতরে কোনো বন্য প্রাণী বন্দি। রিমের এমন আচরণ তার কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তার গলার স্বর ফ্যাসফ্যাসে হয়ে এলো। শুধুমাত্র উষ্ণ নিশ্বাস ফেলে জিভ দিয়ে হালকা ঠোঁট ভিজিয়ে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বললো,
“ক..কি করছো? আই’ম অলরেডি লুজিং মাই কন্ট্রোল। মাই হার্ট ইজ বিটিং সো ফাস্ট… ইট উইল এক্সপ্লোড!”
রিম কোনো সাড়া দিলো না। সে শুধু তার ঠোঁটে এক রহস্যময়ী, ভুবনমোহিনী হাসি ফুটিয়ে তুললো। তার হাত আরও ধীর, আরও নিষ্ঠুরভাবে নিচের দিকে নামতে থাকলো। প্যান্টের কাপড়ের ওপর দিয়েই শরীরের সবচেয়ে সংবে/দনশীল অংশে আঙুলের ঠান্ডা স্পর্শ পেতেই জেইন তীব্র মোচড়ে খিচে চোখ বন্ধ করে নিলো, খামচে ধরলো বিছানার চাদর। ঠোঁটের ফাঁক হতে বের হতে লাগলো উষ্ণ শ্বাস। এসির শীতলতাও তার শরীরের ভেতরের আগুন নেভাতে পারলো না, সে ঘামে ভিজে গেল। তার নিঃশ্বাসের আওয়াজ এখন রুমের একমাত্র শব্দ—মনে হচ্ছে তার হৃৎপিণ্ড বুকের খাঁচা চূর্ণ করে বেরিয়ে আসবে।

রিম তখন আরও এক ধাপ এগিয়ে জেইনের প্যান্টের বেল্টের উপর হাত রাখলো। বিস্ময় আর উত্তেজনায় জেইনের চোখ বড় হয়ে গেল। রিমের এই অজানা, ভয়ংকর রূপ তাকে পাগলের মতো টানছে। জেইন আবেশে চোখ বুজে তার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলো। গভীরতম স্বর টেনে ফিসফিস করলো,
“হেই সোনা… তাড়াতাড়ি করো প্লিজ! আর এই স্লো কিলিং সহ্য হচ্ছে না। আই অ্যাম বার্নিং! আই নীড ইউ সো ব্যাড… কিল মি রাইট নাউ!”
রিমের যেন এই উত্তেজনার চরমে পৌঁছানোর জন্যই অপেক্ষা করছিল। এক ঝাঁকুনিতে বেল্টটা খুলে ফেলল। জেইন অস্থিরতায় কাতরে উঠলো। সে রিমকে এক হেঁচকায় নিজের বুকের উন্মুক্ত ওপর ফেলে দিলো।রিমের মুখের সামনে এলোমেলো পড়ে থাকা চুলগুলো ধীরে ধীরে হাত দিয়ে সরিয়ে কানের পেছনে গুঁজে দিলো। রিমের নরম গোলাপি ঠোঁট দুটো সদ্য ফোঁটা ফুলের মতো কাঁপছে। সেই উষ্ণতা জেইনের বুকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। এইটুকুতেই তার দম বন্ধ হয়ে আসছে! তার চোখ তখন শুধুমাত্র রিমের নরম, নেশালো ঠোঁট খুঁজছে। সে যখনই ঝুঁকে যাচ্ছে—রিম সঙ্গে সঙ্গে মুখ সরিয়ে নিলো!

জেইন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না। রিম জেইনের গালে হাত রাখলো, তারপর তার নাকের ছোট্ট লালচে তিলটা ঠোঁট দিয়ে টিপে ধরলো। এই অপ্রত্যাশিত আচরণে জেইনের সমস্ত ধৈর্য ভেঙে গেল। অধৈর্য, ক্ষুধার্ত এক পশু যেন জেগে উঠেছে তার ভেতরে। এই মেয়েকে এই মুহূর্তে চাই তার। যতক্ষণ না তাকে গভীর স্পর্শে নিজের শরীরের নিচে পি*ষে দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার বুকের জ্বালা মিটবে না। সে কাতর, অধৈর্য গলায় ফিসফিস করে বললো,
“My body craves you so badly, সোনা! কান্ট ওয়েট এনি মোর। আমাকে গভীরে নাও। ধ্বংস করে দাও! আর পারছি না”
রিম ঠোঁট কামড়ে মৃদু হাসলো। চোখে দুষ্টুমি ভরা উন্মাদনা। সে ঠিক এই প্রতিক্রিয়াটাই চেয়েছিল। সে জেইনের আরও কাছে এলো, শরীরের ওপর উঠে কোমরের ওপর ভর করে ঝুঁকে পড়লো। ফর্সা, শক্ত হয়ে ওঠা এবসের ওপর ধীরে ধীরে কাঁপানো ঠোঁটে পর পর নরম, আদুরে চুমু আঁকতে শুরু করলো। চুমু দিতে দিতে উপরের দিকে উঠতে লাগলো রিম। জেইনের ঠোঁট সামান্য ফাঁক হয়ে গেল, কণ্ঠনালী থেকে তীব্র শিহরণে অদ্ভুত অব্যক্ত শব্দ বেরিয়ে আসছে।
রিম এক মুহূর্ত থামলো। ধীরে ধীরে জেইনের হাত দুটো একত্র করে ফেললো, পাশে পড়ে থাকা বেল্ট টা তুলে অত্যন্ত ধীর গতিতে বিছানার হেড বোর্ডের সাথে বাঁধতে শুরু করলো তার হাত দুটো। প্রতিটা মোচড়ে জেইনের শরীরে যেন বিদ্যুতের ঝলক বইছে। রিম তার কানের কাছে ঝুঁকে এসে, নিজের নিঃশ্বাসের উষ্ণতা দিয়ে ফিসফিস করে,

“Today, I will do everything. তুমি শুধু দেখবে আর অনুভব করবে। My sweetest Golden hubby.”
“ওহ্ সিউর ওয়াইফি….”
জেইনের বুক তীব্রভাবে ওঠানামা করছে, সে শ্বাস বন্ধ করে ফেললো, তীব্র আবেগে চোখ বন্ধ হয়ে গেল। সেই চুড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষায়। রিম উঠে বসলো, কন্ঠ নালীতে একটা চুমু খেয়ে ধীরে ধীরে সরে এলো তার কাছ থেকে। নিঃশ্বাসের সাথে সাথে জেইনের বুক ওঠানামা করছে ধীর, অস্থির গতিতে। রিম মিটমিটে হেসে তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে জেইন শ্বাস টেনে কাঁপতে কাঁপতে চোখ খুললো।
রিমের ভেজা শার্ট তখনো তার গায়ের সাথে লেপ্টে আছে, পাতলা সাদা শার্টটি শরীরের সাথে মিশে গিয়ে ভেতরের নারী সৌন্দর্যকে পুরোপুরি উন্মোচন করে তুলেছে। জেইনের চোখে তখন কামনার লাল আগুন, বুকে মৃত্যুসম কষ্ট। সে ঠোঁট ভিজিয়ে, শুষ্ক গলায় ফিসফিস করলো,
“আর সহ্য হচ্ছে না সোনা… তুমি আমাকে শেষ করে দিচ্ছো। আই নীড ইউ! প্লিজ!”
রিম ঠোঁট কামড়ে ধরে খিলখিল করে হেসে উঠলো, সেই হাসি যেন জেইনের বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করলো, কাছে পাওয়ার তীব্র দহন।
“তোমার এই ছটফটানি, এই পাগলামি দেখতেই তো মজা!”
মুহূর্তে জেইন চোখ লাল করে আর্তনাদ করলো,
“হোয়াট!!”

রিম তখন নিজের পরনের শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে ফেললো।এবার আর সামান্য নয়, উপরিভাগের পূর্ণ সৌন্দর্য উন্মুক্ত হলো। ডিম লাইটের মৃদু আলোতে সেই সৌন্দর্য যেন আরও ঝলমল করে উঠল। জেইনের নিঃশ্বাস যেন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। কপালের শিরাগুলো ফুলে উঠলো, হাত-পা খিঁচুনি দিয়ে অস্থির হয়ে উঠলো। ঠোঁট কামড়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না,তার শরীর থেকে উষ্ণ ঘাম ঝরছে, চোখ দুটো ইতোমধ্যে টক টকে লাল হয়ে গেছে। যেন তাকে নেশার চূড়ায় তুলে নিচে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সে হাত ঝাঁকাতে লাগলো, ছোটার জন্য অস্থির হয়ে উঠলো। কাঁপতে কাঁপতে, প্রায় আর্তনাদ করে বললো,
“এটা খুলে দাও সোনা… আর থাকতে পারছি না। আই’ম ডাইয়িং… তোমার এই হটনেসে আমার নিচ দিয়ে প্যান্ট ভিজে যাচ্ছে।”

এমন কথায় যেন ভীষণ মজা পেল রিম। তার খিলখিল হাসির শব্দ জেইনকে আরও অস্থির করে তুলছে। রিম এবার ঝুঁকে এলো। জেইনের বুকের ‘R’ লেখা ক্ষতটায় আলতোভাবে ঠোঁট ছুঁইয়ে স্পর্শ করলো। মুখ উঠিয়ে ঠোঁটের কাছে ঠোঁট নিয়ে চোখে চোখ রাখলো। কপাল থেকে স্লাইড করতে করতে গলার কাছে নামল। নিচে ফেলে দিয়ে আবেদনময়ী গলায় বললো,
“দিবানে রুক যা তে-রা হামসে সামনা হ্যে…
আখোসে ছুলে ছু-না হাতোসে মানা হ্যে….”🎶
জেইন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,
“আমার সাথে গেইম খেললে তো! একবার শুধু ছাড়া পাই! তারপর সেকেন্ডে সেকেন্ডে পিষ্ট করবো তোমায়। আজ রাতে আমার হাত থেকে মুক্তি নেই তোমার।”
আবারো খিলখিল করে হেসে উঠলো রিম।
“আগে নিজে তো মুক্ত হও dear hubby…”
জেইন হিংস্র হাসিতে ঠোঁট বাঁকালো,
“তোমার কি মনে হয়, বাঘের সামনে যখন হরিণীকে লোভনীয় ভাবে উপস্থাপন করা হয়, তখন তাকে খাঁচায় আটকে রাখা যায়! তুমি আমার ভেতরের হিংস্র বাঘটাকে জাগিয়ে তুলেছো। শিকার না করা অবধি থামাতে পারবে না।”

হিংস্র পশুর মতো জেইন নিজের হাতদুটো ঝাঁকাতে শুরু করলো। বেল্টের স্টিলের তীক্ষ্ণ ঘর্ষণে হাতের নরম চামড়ায় গভীর আঁচড় বসলো। রক্তের উষ্ণ স্রোত ফিনকি দিয়ে ছিঁটকে পড়লো বিছানার শুভ্র চাদরে। কিন্তু জেইন থামলো না। তার চোখে তখন উন্মাদনার চূড়ান্ত ঝলক। সামনে কেবল একটাই লক্ষ্য রিমের সমস্ত অস্তিত্বকে নিজের গভীরে টেনে নেওয়া। সে রিমের দিকে নেশাক্ত চোখে তাকাল। বাঁকা হেসে হাস্কি ভয়েসে ফিসফিস করলো,
“Baby you drive me crazy. I wanna do so many naughty things to you. I wanna f**k you so rough. I wanna grab your hair and pull you close and make you scream. I wanna hear you moan and tell me how good it feels. I wanna make you forget your own name. Damn, you better stop or you’re going to make me say some really dirty things.”

জেইনের গলার এমন গভীর স্বরে ভয়ে রিমের বুক কাঁপতে লাগলো। রক্ত দেখে মাথা ঘুরে উঠলো। সে প্রায় কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বললো,
“কি করছো তুমি! তোমার হাতে রক্ত ঝরছে… প্লিজ থামো!”
“হু কেয়ারস্? এই রক্ত তোমার শরীরের উত্তাপের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ।”
রিম আতঙ্কিত গলায় বলল,
“প্লিজ থামো তুমি, আ-আমি খুলে দিচ্ছি….”
“নো নিড, আমার হয়ে গেছে।”

জেইন শেষ কয়েকটা প্রচণ্ড, উন্মত্ত ঝটকা দিলো—স্টিল লুপ থেকে বেল্টটা আলগা হয়ে গেল। জেইনের মুখে তখন ফুটে উঠলো এক বিস্ফোরক বাঁকা হাসি, যেন সে অপেক্ষার প্রহর ভেঙে মুক্তি পেল। রিম ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে পিছু হটতে চাইলো। কিন্তু জেইন হাতের বাঁধন খোলার মুহূর্তেই বিদ্যুতের গতিতে রিমকে খপ করে নিজের দিকে টেনে নিলো। রিমের বুক অস্থির ভাবে কাঁপতে লাগলো। জেইন তাকে একটুও সময় না দিয়ে সজোরে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার উপরে উঠে এলো। নিজের পেশীময় শরীরের সমস্ত ভার রিমের ওপর ছেড়ে দিলো। তার শরীরের ভাড়ে রিম ছটফট করে উঠলো।

“পাগলামি কোরো না, তোমার হাতে রক্ত… ব্যান্ডেজ না করলে যন্ত্রণা হবে।”
জেইন তার কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে গাঢ় কন্ঠে ফিসফিস করলো,
“এই সামান্য আঘাত তো কিছুই না, এর চেয়েও হাজার গুণ বেশি যন্ত্রণা হচ্ছে এই বুকে। এই কি আগুনে জ্বালিয়ে দিলে তুমি আমায়? এখন যে নিজেই জ্বলে যাবে, আমার আগুনে!”
আর এক মুহূর্ত দেরি না করে, জেইন তার উষ্ণ, ক্ষুধার্ত ঠোঁট দিয়ে রিমের ঠোঁটজোড়া শক্ত করে টেনে নিলো। রিম প্রথম স্পর্শেই শিরশির করে কেঁপে উঠলো। সে নিজের অজান্তেই জেইনের চুলে হাত ঢুকিয়ে খামচে ধরলো। ব্যস, এই ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়াতেই জেইন আরও বেপরোয়া। চুম্বনের মাঝেই সে রিমের জিভ নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো। রিম শিরশির করে উঠলো। শরীর সাপের মতো অস্বাভাবিকভাবে পেঁচিয়ে গেল। হাত-পায়ে শিহরণ, চোখের কোণে জলের চিকচিক। জেইন তার জিভ ধীরে ধীরে শুষে স্বাদ গ্রহণ করতে লাগলো। কণ্ঠে এক তৃপ্ত, চাপা গোঙানি,
“উমম… ইট’স ড্যামন সো সুইট, টেস্টস লাইক হানি, মাই ডেস্টিনি।”

রিম তখন যন্ত্রণা আর সুখানুভূতির এক অদ্ভুত মিশ্রণে অস্ফুটে গোঙিয়ে উঠলো। জেইন তার ঠোঁট ছেড়ে গলার খাঁজে মুখ গুঁজে দিলো। গলায় চুম্বন করে ছোট ছোট ক্ষুধার্ত কামড় বসাতে লাগলো, যা রিমের শরীরকে বারবার শিউরে তুলছিল, যেন তার প্রতিটি লোমকূপ জেগে উঠছে। যন্ত্রণায় বারবার গোঙানির আওয়াজ দিতে লাগল। জেইন গাঢ় কন্ঠে ফিসফিস করলো,
“You know what? You look so h*ot when you scream all this f**king time. It fuels my desire.**”
জেইন ধীরে ধীরে নিচে নেমে রিমের ব*ক্ষের কাছে ঠোঁট রাখতেই রিম স্বাভাবিক লাজুকতায় দু’হাতে বুক চেপে ধরলো। জেইন বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেললো, ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস নিল,

“টেক ইওর হ্যান্ডস অফ। আই ওয়ান্ট টু সি ইওর পারফেক্ট টেম্পল।”
রিম অসহায় চোখে তাকায়, জোরে জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে না বোঝাল। জেইন ঠোঁট কামড়ে ক্রুর হাসলো।
“ওকে দেন। একটু পর তুমি নিজেই হাত সরিয়ে নিবে। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি, বেইবি।”
রিমের এবার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। একদিনে আর কত সহ্য করবে সে? কিন্তু তার কোনো উপায় নেই। এই এক রাতে সে এতটুকু খুব ভালো করে বুঝে গেছে—জেইন একবার উন্মাদ হয়ে গেলে তাকে আর কোনোভাবেই থামানো যায় না। জেইন আবার ঝুঁকে গেল। বুকে চুমু দিয়ে ধীরে ধীরে দাঁত দিয়ে একটা একটা করে রিমের শার্টের বোতাম খুলে নিচের দিকে নামতে লাগল। দাঁতের ঘর্ষণে রিম কেঁপে কেঁপে উঠছিল। উপায় না পেয়ে সে শ্বাস আটকে পড়ে রইলো। বুকের কাঁপুনি থামছে না কিছুতেই। জেইন নাভির কাছে থেমে ছোট্ট করে একটা চুমু দিয়ে ভিভ ছুঁয়ে দিল। রিম থরথর করে কেঁপে বিছানা থেকে সামান্য উঁচু হয়ে গেল।

জেইন তার প্রতিক্রিয়া বুঝতে পেরে ক্রুর হাসলো। দাঁত দিয়ে আলতো ভাবে কামড় বসাতেই রিম বিছানার চাদর খামচে “আহহ্” করে যন্ত্রণাময় শব্দে কেঁপে উঠলো। জেইন এবার বিজয়ী হাসলো। বিছানা থেকে নিচে নেমে রিমের পায়ের পাতায় ছোট ছোট চুম্বনে ভরিয়ে দিল। ধীরে ধীরে চুমুর রেখা উপরের দিকে উঠতে লাগলো। রিম নিরুপায় হয়ে চোখ বন্ধ করে হাত-পা খিচে পড়ে রইলো। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছে। জেইন উরুর কাছে এসে স্থির হয়ে গেল। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো, গলা শুকনো। কন্ঠমনি ওঠানামা করছে বারবার। অনবরত ঢোক গিলছে হয়তো! জিভ দ্বারা নিজের শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। ফিসফিস করে অস্পষ্ট স্বরে বলল,

“এখানেও তিল আছে!”
অজানা এক ঘোরের মাঝে তার হাত আপনা আপনি উঠে গেল সেই সংবে/দনশীল অংশে,
“It shines like a pearl. I have never seen anything more forbiddenly beautiful in the world!”
সে সেখানে ছোট্ট করে একটা চুমু খেয়ে নিল। রিম চোখ বন্ধ করে বিছানার চাদর খামচে, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রাখলো, প্রতিক্রিয়া দেখাতে চায় না। কিন্তু পারল না। মুখ ফসকে অস্ফুটে মৃদু স্বরে বেরিয়ে এলো,
“উফফ্…”
জেইন মুখ তুলে ঠোঁট কামড়ে মৃদু হাসলো।

“উফফ্! দিস সাউন্ড বেইবি… It drives me crazy. Keep making that sound।”
রিম বুঝতে পারছে জেইন তাকে লজ্জায় ফেলতে চাইছে। হলোও ঠিক তাই, লজ্জায় রিমের মুখ লাল হয়ে গেল। জেইন আবারো মুখ ডুবিয়ে দিতে রিম তার চুল খামচে ধরলো। নিজের কাজে বারবার বাঁধা পেয়ে জেইন বিরক্ত হয়। পাশ থেকে সেই বেল্টটা নিয়ে রিমের হাত দুটো শক্ত করে বেঁধে ফেলে। রিম হাঁসফাঁস করতে থাকে। তার বুকের ওঠানামা জেইনকে মাদকদ্রব্যের মতো টানছে। মাথায় ঝটকা লাগছে বারবার। সে রিমকে বিছানায় ফেলে দেয়।

রিম বুঝতে পারছে তার সাথে কি হতে যাচ্ছে। ভয়ে বুক দুরুদুরু কাঁপছে তার। জেইন পকেট থেকে একটা কালো-গোল্ডেন রঙের প্যাকেট বের করে। প্যান্টের জিপারে হাত রাখলে, রিমের চোখ বড়বড় হয়ে যায়। সে দ্রুত অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। কিছুক্ষণ পর জেইন তার উপরে উঠে আসে। নিজের পেশিবহুল শরীর দ্বারা রিমের ছোট্ট শরীরটা আড়াল করে ফেলে। রিমের শ্বাস-প্রশ্বাস এতটাই দ্রুত যে মনে হচ্ছে তার ভেতরে বোমা ব্লাস্ট হবে। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস জেইনের বুকে আছড়ে পড়ছে। জেইন তার উষ্ণ বুকে একের পর এক ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছিল। রিম সামলে ওঠার আগেই সে বুকের একপাশ থেকে অন্য পাশে ঠোঁট ছুঁয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে রিমের হাত দুটো খুলে দিল।ধীরে ধীরে তাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করলো, কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“সোনা, আজকে একটু ব্যাথা দেই? প্লিইজ…”

চোখে নিচের দিকে ইশারা করে,
“It’s out of control.”
রিমের চোখ ছলছল করছে। সে জানে জেইন একবার উন্মাদ হলে তাকে আর থামানো যাবে না। তবুও সে দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বোঝাল। কিন্তু জেইন সেদিকে একবারও তাকালো না। সে নিজের মতো করে রিমের গলায় বুকে একের পর এক চুমু দিতে লাগল। চুমুতে চুমুতে অস্থির করে তুলল রিমকে। রিমের শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। জেইন আবারো তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করলো।
“সোনা…. I’m going to put it in now. You just hold me tight.”
রিম দুদিকে অনবরত মাথা নাড়িয়ে না বোঝার।মুখ খুলে কিছু বলতে নিল কিন্তু তার আগেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হলো। যন্ত্রণায় সে ছটফট করে উঠলো, ইচ্ছে মতো জেইনের পিঠে জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলো। তার মনে হচ্ছে ভেতর থেকে আত্মা ছিঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। চোখের কোনে অশ্রু জমে উঠলো। দু-পা শক্ত করে জড়িয়ে গেল জেইনের কোমড়ে। জেইন তার ব্যথা কমানোর জন্য ঠেসে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরল, শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে হাস্কি ভয়েসে বলল,

“রিলেক্স, রিলেক্স… Just relax, Barbie Doll. Take a deep breath. একটু পর সব ঠিক হয়ে যাবে। শুধু আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে রাখো।”
রিম ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল। তার চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে। সে শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো। কিন্তু জেইন থামলো না। সে যেন পুরোপুরি উন্মাদ, এক গভীর ঘোরের মাঝে। বেশ কয়েক ঘন্টা হয়ে গেল তবুও তার থামার নাম নেই। রিম আর সহ্য করতে পারছে না। শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়েছে। তার নখ জেইনের পিঠে গভীর আঁচড় কেটে চলেছে। আর সেই সাথে বেড়ে চলেছে জেইনের উন্মাদনা। এভাবেই প্রায় মাঝ রাত হয়ে এলো। রিমের চোখ বুজে আসছে । শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে আসছে। একসময় জেইন কাঁপতে কাঁপতে থেমে গেল। শরীরের ভর ছেড়ে দিয়ে মুখ গুজে দিল রিমের বুকে। রিমের শরীরে যেন প্রাণ ফিরে এলো। সে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল। ঠিক তখনই জেইন আবারো তার কানের কাছে মুখ নিয়ে গাঢ় কন্ঠে ফিসফিস করলো,

“সোনা… আর একবার হ্যাঁ…. এটাই লাস্ট। এইবার একটু সহ্য করে নাও… দেখো, আমি কেমন পাগল হয়ে যাচ্ছি।”
তার গলার স্বর ভীষণ কাতর শোনাল রিমের কাছে। রিম তার দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠলো—চোখ দুটো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে সদ্য নেশা করেছে। মুখটা ছোট্ট বাচ্চার মতো অসহায়, রিমের হঠাৎ কেন জানি ভীষণ মায়া হলো। সে জেইনের গালে হাত রেখে ঠোঁটে শব্দ করে একটা গাঢ় চুমু খেলো। এতেই যেন রিমের নীরব সম্মতি বুঝে গেল জেইন। সে রিমের কোমরের নিচে একটা নরম বালিশ দিয়ে নিল।
আরও একবার আরও গভীরে ডুবে গেল রিমের মাঝে।

রিমের চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো, সুখ-যন্ত্রণার অদ্ভুত মিশ্রনে। কষ্ট হলেও সে সহ্য করে নিল। কি করবে সে? এই মানুষটাকে যে প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসে, নিজের জীবনের চেয়েও বেশি। এই মানুষটার জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিতে পারে সে। আর সে এটাও জানে, মুখে যতই না বলুক, এই মানুষটাও তাকে প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসে। এই উন্মাদনা, এই পাগলামি—এটাই জেইনের গভীরতম, অব্যক্ত ভালোবাসার প্রমাণ। কিছু অনুভূতি শুধু মুখে বলা লাগে না, আত্মার ভাষাও তা বুঝতে পারে।

সেই রাতে, দুটি দেহ কেবল মিশে যায়নি, তারা গভীর থেকে গভীরতম স্তরে একাকার হয়ে গেল, যেখানে আত্মার ভাষা কেবল নীরবতা। জেইন, রিমের অস্তিত্বকে এমন উন্মত্ত আবেগে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলেন যে, তাদের মাঝে আর কোনো সীমারেখা রইল না—রিম নিজেই টের পেল না, শরীরের কোন অংশটুকু তার আর কোনটুকু জেইনের। তারা যেন জন্ম-জন্মান্তরের তৃষ্ণা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে এক অখণ্ড সত্তা হয়ে উঠলো।রিমের মনে হলো, সে যেন এক অনন্ত সমুদ্রে ভাসছে, যেখানে জেইন তার একমাত্র আশ্রয় ও তীর। তার শরীরে যে যন্ত্রণা ছিল, তা এখন সুখের এক তীব্র প্রবাহে বিলীন। প্রতিটা স্পর্শের উষ্ণতায় যেন জেইন তার আত্মার ভেতরের গোপন কথাগুলো রিমের কাছে উজাড় করে দিচ্ছে।

বাইরে তখন প্রহর গুণছে নিস্তব্ধতা, সময় যেন স্থবির। কিন্তু ঘরের ভেতরে, সেই দুই প্রাণের সংযোগে চলছিল এক নিঃশব্দ, অথচ প্রলয়ঙ্করী ঝড়। এক প্রবল, ধ্বংসাত্মক ভালোবাসার। দুটি হৃদয়ের উন্মত্ত স্পন্দন সেই নিস্তব্ধতাকে বারবার ভেঙে দিচ্ছিল, আর সেই ভাঙনের সুরে মাঝে মাঝে ভেসে আসছিল চাপা গোঙানির শব্দ—যা ছিল চরম সুখ ও অসহনীয় যন্ত্রণার এক অদ্ভুত, নেশা ধরানো মিশ্রণ। তারা যেন এক পবিত্র, নিষিদ্ধ অভিসারে একে অপরের ভেতরে লীন হয়ে যাচ্ছিল চিরতরে।

ভোরের নিদারুণ স্নিগ্ধ আলো জেইনের চোখে এসে পড়তেই তার ভ্রু কুঁচকে উঠলো। ঘুমের ঘোর কাটছিল না সহজে। তার শরীরে তখনো লেপ্টে আছে সেই নেশাক্ত, তীব্র চেনা ঘ্রাণ।
সে বিছানায় নাকটা হালকা ঘষতেই এক তুলতুলে উষ্ণতা অনুভব করলো, যা তার মুখমণ্ডলকে আলতো করে ধরে রেখেছে। প্রাণভরে সে সেই ঘ্রাণ টেনে নিল, যা মুহূর্তেই তার ভেতরের সমস্ত ক্লান্তি মুছে দিল। আজকের সকালটা তার কাছে অবিশ্বাস্যরকম হালকা ও প্রশান্তিময় মনে হচ্ছে। চোখে-মুখে এক অদ্ভুত শান্তি, যা জেইন সচরাচর অনুভব করে না।

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪১

ধীরে ধীরে চোখ খুলে সে দেখতে পেল—সে যেখানে শুয়ে আছে, সেটা কোনো সাধারণ বালিশ বা বিছানা নয়। সেটি হলো রিমের মসৃণ, ন*গ্ন ব*ক্ষ।
সকালের এমন মিষ্টি, নিবিড় দৃশ্য তার মনটাকে যেন আরও ফুরফুরে করে দিল। সে আবারো সেই উষ্ণ কোমল বুকে মুখ গুঁজে বেশ কয়েকটি গভীর চুম্বন এঁকে দিল।
তারপর ধীরে ধীরে রিমের মুখের দিকে তাকাতেই – চোখ দুটো জ্বলে উঠলো উত্তেজনা এবং অনুশোচনার এক মিশ্রণে। সে বিছানার নরম তোষকে সজোরে ঘুষি বসাল,
“শিট… শিট… শিট! এটা কী করলাম আমি!

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৩