প্রিয় জারুলফুল পর্ব ২০
সাদিয়া সাদু
এডভোকেট এর সামনে বসে আছে দিগন্ত । চোখেমুখে গাম্ভীর্য বজায় রেখে হাঁটুর উপর দুই হাতের কনুই ভর দিয়ে সামনে বসে থাকা নুরুল হুদার দিকে তাকিয়ে আছে ।
লোকটা তাদের পারিবারিক জমিজমা, কোটকাচারীর সকল কাজ করে আসছেন সেই দিগন্তের দাদা আলী আহমেদ খানের আমল থেকে , বয়সে আলী আহমেদের বছর পাঁচেক ছোট হবেন তিনি , তার কাছেই ব্যবসার সকল কাগজ ,বাড়ির কাগজ , সকল স্থায়ী অস্থায়ী কার্যালয়ে কাগজপত্র সকল কিছুর রেখে গিয়েছেন নুরুল হুদার নীকট । জহুরা এতো বড় বড় কথা বললেও তার কাছে বাড়ির দলিল টা পর্যন্ত নেই সেইটা দিগন্ত খুব ভালো করেই জানে ।
_’ কি জন্যে ডেকেছেন ? ‘
গতকাল রাতেই দিগন্তকে জরুরী তলব করে নুরুল হুদা , আজকাল তার শরীরটাও ভালো থাকছে না । কখন পরলোকগমন করেন তার কোনো ঠিক নেই । তাই ম’রার আগে সকল দায় থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতেই আজ দিগন্তে কে জরুরি তলব করল । সামনে টি টেবিলে থাকা ফাইলের ভেতর থেকে কাগজ দৃঢ় হাতে বের করতে করতে গম্ভীর গলায় বলল ।
_’ তোমার দাদুর সাথেই দেখা করতাম কিন্তু তোমার আসার খবর পেয়ে ভাবলাম দেখাও হলো কাজও হলো । তা দিগন্ত কি খবর তোমার ? ‘
ভদ্রলোকের কথা শুনে দিগন্ত একটা ছোট নিঃশ্বাস ত্যাগ করল । গলা খাঁকারি দিয়ে বলল ।
_’ এই বয়সে এসেও মিসেসে জহুরা খানের কুটনামিতে কেমন থাকতে পারি মিস্টার নুরুল হুদা ? ‘
নুরুলহুদা কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে সামনে বসে থাকা গম্ভীর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে রইল , চোখমুখে ভর করল বিস্ময় । দিগন্তের বলা কথাটা যেনো তা মাথার উপর দিয়ে প্ল্যাইনের মতো উড়ে গেল ।
অবাক সুরে বলল ।
_’ কি বলছো বুঝিয়ে বলো দিগন্ত । দীর্ঘদিন যাবত তোমাদের পরিবারে হয়ে কাজ করে আসছি , সেই তোমার দাদার আমল থেকে । তোমার হঠাৎ এইভাবে কথা বলার কারণ কি ? ‘
দিগন্ত এইবার একটু ঝুঁকে বসল । একটা সন্দেহের বীজ গজাচ্ছে তার মনে । তার কাছে আসা দেখে খানিকটা ভরকে গেল নুরুল হুদা । দিগন্ত আগের ন্যায় মুখটা গম্ভীর করে বলল ।
_’ আচ্ছা একজনক মার্ডার আবার অপর জনকে মার্ডার করার চিন্তা করলে তার শাস্তি ঠিক কি দেওয়া যায় বলেন তো ? ‘
_’ অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড। । আচ্ছা শুনো দিগন্ত , তোমার কথা আমার কাজের পর শুনব । ‘
কথাটা শেষ করে নুরুল হুদা সামনে ফাইলের উপর দুই হাত গুজে দিগন্ত দিকে তাকায় । যে এই মুহূর্তে গম্ভীর মুখ গভীর নয়নে তাকিয়ে আছে নুরুলহুদার দিকে ।
নুরুলহুদা তার দিকে তাকিয়েই বলল
__”তোমার দাদার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা শুধু আইনজীবী-মক্কেলের ছিল না। তিনি আমাকে পরিবারের একজন বিশ্বস্ত মানুষ মনে করতেন। খান পরিবারের প্রথম ছোট ব্যবসার সময় থেকে আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। জমি কেনা, ব্যবসার কাগজ, উত্তরাধিকার, মামলা—সবকিছুতেই তিনি আমার পরামর্শ নিতেন।
নূরুল হুদা আরেকটা ফাইল বের করল ফাইলের উপরে লম্বা ফিতা টান দিয়ে ফাইলটা খুলতে খুলতে আবার বলল ।
__” তোমার দাদা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিলেন, “নূরুল, আমার নাতির সময় আসবে। তখন এই কাগজগুলো ওর হাতে দেবে।”
দিগন্ত চুপ করে আছে শুধু সামনের ব্যক্তির কথাটা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছে।
নূরুল হুদা একের পর এক কাগজ বের করতে লাগলেন।
— “প্রথমে একটা বিষয় তোমাকে বুঝতে হবে। তোমার দাদা জীবিত থাকতেই খান পরিবারের সম্পত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ”
দিগন্ত আগের মতোই তাকিয়ে প্রশ্ন করল ।
— ”কী সিদ্ধান্ত?”
নূরুল হুদা সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রথম কাগজটা তার সামনে রাখলেন।
এটা তোমার দাদার নিজের মালিকানাধীন জমির দলিল।দ্বিতীয় কাগজটা রাখলেন।এটা শহরের সম্পত্তির নথি।
তারপর আরেকটি। এটা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের কাগজ।
দিগন্ত এবার বিরক্ত হলো , বিরক্ত মেশানো গলায় বলল ।
— “মিস্টার নূরুল হুদা আসল কথাটা বলেন। এইভাবে একের পর এক কাগজ দেখানোর জন্য আমার টাইম ওয়েস্ট করে বসিয়ে রেখেছেন ?”
নূরুল হুদা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—” আসল কথাটা হলো, খান পরিবারের জমি, বাড়ি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি—তোমার দাদার মালিকানাধীন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে তোমার প্রাপ্য সম্পত্তিগুলো তিনি জীবিত থাকতেই তোমার নামে আইনিভাবে হস্তান্তর করে গেছেন। এবং কি গ্রামে থাকা বিস্তীর্ণ জমি, কয়েকটি বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং পারিবারিক ব্যবসার একটি উল্লেখযোগ্য সবকিছুর আইনি মালিকানা তোমার নামে নির্ধারিত করা হয়েছে।’
কথাটা কর্ণপাত হতেই দিগন্ত বিদ্যুতের গতিতে কাগজগুলোয় হাত রাখে । বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় দিগন্ত । বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে
_”আপনি শিওর দাদা ?”
_’ আরে দেখো না কাগজগুলো, তোমার দাদার সকল স্থাবর অস্থাবর, সম্পত্তি বাড়ি ঘর কোম্পানি তার একমাত্র নাতি দিগন্ত খানের নামে উইল করা । একদম সুস্পষ্ট করে লিখা আছে দেখো , এই সম্পত্তির মধ্যে অন্যকেউ ভাগ বসাতে পারবে না এবং কি তোমার বাবা তোমার দাদি জহুরা খান ও নয় সকল কিছু তোমার নামে । ‘
কাগজগুলো হাতে নিয়ে দিগন্ত কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। এবার তার বিস্ময়টা ধীরে ধীরে অন্য কিছুর রূপ নিচ্ছে।
এতদিন যে সম্পত্তির জন্য জহুরা খান তার জীবনটা তছনছ করে দিতে চেয়েছে, তাকে জারুলের কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছে, এমনকি জারুল আর দিয়াকেও মেরে ফেলতে চেয়েছে—আজ জানতে পারছে, সেই সম্পত্তির মালিকানা শেষ পর্যন্ত তার নিজের নামেই।
জারুলের পরিবারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো একে একে মনে পড়তে লাগল। ছয় বছর ধরে তাদের আলাদা করে রাখা, জারুলের ওপর চাপ, দিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র—সবকিছুর পেছনে যেন একই ছায়া দেখতে পাচ্ছে সে।
দিগন্তের চোখ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠল।
কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটা বিস্ময়ে নির্বাক ছিল, এখন তার মুখে আর সেই বিস্ময় নেই। কাগজগুলো শক্ত করে ধরে সে চেয়ারে হেলান দিল। বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা জন্ম নিল।
জহুরা এতদিন ভেবেছেন, ক্ষমতা তাঁর হাতে। সম্পত্তি তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
দিগন্তকে তিনি নিজের ইচ্ছামতো চালাবেন।
কিন্তু বাস্তবতা যে সম্পূর্ণ উল্টো—আজ সেটাই প্রথমবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
দিগন্তের ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।
মনে হলো, এতদিন জহুরা একাই দাবার বোর্ড সাজিয়েছেন। ঘুঁটি সাজিয়েছেন নিজের সুবিধামতো। আর দিগন্তকে ভাবছে সেই বোর্ডের একটা সাধারণ ঘুঁটি।
কিন্তু আজ খেলাটার নিয়মটাই বদলে গেছে। সে নিচু গলায় নিজেকেই বলল,
—” এতদিন আপনি খেলেছেন, দাদি। এবার আমার পালা। একদম টি টুয়েন্টি শুরু করার পালা । ”
চোখের সামনে জারুল আর দিয়ার মুখ ভেসে উঠল। দিগন্ত নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণে রেখে নুরুল হুদা র দিকে তাকায় সে এই মূহুর্তে কাগজ ভাজ করতে ব্যস্ত ।
দিগন্ত আগের ন্যায় গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে ।
_” দাদজান হঠাৎ আমার নামে সবকিছু লিখে দেওয়া মানে কি ছিলো দাদা ? তার তো দুই ছেলে মেয়ে , মেয়েকে ঠকিয়ে আমার নামে সব লিখে দিলো কেনো ? ”
দিগন্ত যেনো সর্ষে তে ভুত খুঁজতে নেমেছে।
দিগন্তের করা প্রশ্নে নূরুল হুদার ব্যস্ত হাত থেমে যায় , মাথা উঁচু করে তাকায় দিগন্ত দিকে । কোনো প্রকার শব্দ প্রয়োগ না করে করে উঠে কাগজ গুলো রেখে আগের জায়গাই বসে ছটফটিয়ে বলল ।
_”কারণ সে তোমার আপন ফুফু নয় , এই সকল কিছুর মালিক তোমার আব্বু ছিল । পিতৃ সূত্রে , কিন্তু তোমার দাদা তোমাকে দিয়ে গিয়েছে । ‘
দিগন্ত যেনো আকাশ থেকে টুপ করে জমিনে পড়ল । নাসিমা তার আপন ফুফু নয় ? তার সকল কিছু যেনো গুলিয়ে আসছে ।
__’ একটু বুঝিয়ে বলেন । আমি তো ছোট মানুষ এতো কিছু জানি না । আপনি তো আমার পূর্বপুরুষ থেকে সকল ইতিহাস জানেন ।’
নুরুল হুদা একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল।
_’ কাউকে বলবে না এমন কি তোমার আব্বুকে ও না ।’
_’গড প্রমিজ ।’
মনে মনে আওড়াল। ‘ ইতিহাস জানলে তো আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে । মাঠে নামার আগেই জিত আমার ।’
__” জহুরা খান তোমার আপন দাদি নয় ।তোমার বাবাকে জন্ম দিত গিয়ে , আইমিন ডেলিভারির সময় তোমার দাদি মারাযান । মেয়ের শোকে মাও দুইদিন পর মারা যায় । তোমার নানি । তোমার দাদা তো একটা ছেলে ছিলো তার মায়ের তাই খান বাড়িতেও কোনো মহিলা নেই যে তোমার বাবাকে দেখবে তোমার দাদা’তো তখন নতুন ব্যবসা দিয়েছে , দিনরাত পরিশ্রম করত , ব্যবসার পিছনে ছুটতো , আর তোমার বাবা পেটের খিদে অবিরাম কান্না করত , তোমার বাবার কষ্ট দেখতে না পেরে আমি দুইদিন আমার বাড়িতে আমার মায়ের কাছে রেখেছিলাম , কিন্তু দিন যত যাচ্ছে তোমার বাবার অবস্থা খারাপ হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে তোমার বাবাকে বিয়ের কথা বলি । তোমার দাদি মারা যাওয়ার ৯ দিন পর জহুরা কে বিয়ে করল তোমার দাদা । বিয়ে করে তোমার বাবার জ্বালাযন্ত্রণা যেনো আরো বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে , ছোট বাচ্চাটাকে মারত , চিমটি কাটত খাওয়াত না এমনকি মাঝে মাঝে ফ্লোরে রেখে দিত । আরেকদিন আমি তোমার আব্বু কে দেখতে গিয়ে দেখলাম ফ্লোরে শুয়ে আছে , আর জহুরা তার আগের পক্ষের মেয়ে নাসিমাকে সোফায় বসিয়ে খাওয়াচ্ছে ।এইটা দেখার পর আমি
আমি যা বোঝার বুঝে গেলাম , তোমার বাবার সাথে কথা বলে একটা নকল দলিল তৈরি করি যেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা তোমার বাবা সকল কিছুর মালিক , ১৮ বছরের আগে যদি তোমার বাবার কিছু হয় তাহলে এই সম্পত্তি সব সরকারি হয়ে যাবে । আমার এই বুদ্ধির কারণে তোমার বাবার দিন ফিরেছে একটুখানি সুখের আলো দেখতে পেয়েছে , না পুরোটাই । জহুরা একদম নিজের ছেলের মতো দেখে তোমার বাবাকে এখন পর্যন্ত তোমার বাবা জানতে পারেনি জহুরা তার সৎ মা ।জহুরার আগের পক্ষের মেয়ে নাসিমা । ”
দিগন্ত এখন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাল ।
এতো দিন সে ভেবে পাচ্ছে না জারুল এর সাথে শত্রুতা করার কারণ কি ছিলো ? জিসার সাথে বিয়ে দিতে চাওয়ার কারণটাও সে বুঝতে পারেনি এখন তার কাছে একদম পানির মতো পরিষ্কার। দিগন্ত কাগজগুলো হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল । নূরুল হুদা কে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল
_’ দেখা হবে খুব শিঘ্রই , আরো কিছু জানার বাকি রইয়ে গেল। দাদাজান । ‘
দিগন্তের বাহুতে হালকা থাপ্পড় দিল নূরুল হুদা হেসে বলল ।
__’ সী ইউ এগেইন ইয়াংম্যান । ‘
নূরুল হুদার বাসা থেকে বেরোতেই পকেটের ফোনটা বেজে উঠল । সে ভাবছে জহুরার ফোন তাই কান না দিয়ে গাড়িতে উঠল ।
ফোন কল হয়ে কয়েক কেটে গেলো , ফের আবারও বিকট শব্দে ফোন ভেজে উঠল । দিগন্ত এইবার বিরক্ত নিয়ে ফোন বের করে স্ক্রিনে চোখ পড়তেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসির রেখে টেনে ফোন কানে ধরতেই ও পাশ থেকে দিয়ার আদুরে কণ্ঠ ভেসে এল।
_’ পাপা কখন আসবে তুমি ? ‘
_’ কেনো মা ? ‘
ফোঁস বসে করতে করতে কেঁদে ফেলল দিয়া। কান্না করতে করতে বলল ।
_’ আম্মু মেরেছে । ‘
_’ কেনো মেরেছে আমার মাকে ? আমি আসি তারপর বুজাব তোমার মাকে । ‘
দিয়া কিছু বলার আগেই ফোন নিয়ে নেয় জারুল। কর্কশ গলায় বলল ।
__’ কোথায় তুমি ? কখন আসবে ? ‘
_’ তার আগে বলো তুমি মেয়েকে মেরেছ কেনো ?’
__’ খাইতে চাচ্ছিল না তাই মেরেছি , তুমি না আসলে খাবে না তাই । ”
দিগন্ত গাড়ির গিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে বলল
_’ খেয়েছে এখন ? আমার আসতে রাত হবে। শুনো ঘুমিয়ো না রাতে কথা আছে । ‘
_’ হে খেয়েছে , সাবধানে যাও রাখলাম । ‘
এতোক্ষণ বুকটা একটু শান্ত হলো তার ।
মেয়ের সাথে কথা বলে ঠোঁটের কোণে হাসি লেগে আছে হ পরমুহূর্তে জহুরার কথা মাথায় আস্তেই দিগন্ত চোখ দুইটা রক্তিম হয়ে উঠল
প্রিয় জারুলফুল পর্ব ১৯
__’ এখন তো দেখবে আমি দিগন্ত কি জিনিস । তোমাকে তো আমি কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো । এমন অবস্থা তোমার করব নিজেকে নিজে শেষ করে দিতে চাইবে কিন্তু করতে পারবে না জহুরা খান । কি টুয়েন্টি ম্যাচ আজ থেকে শুরু হবে । ‘
