প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৮
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
যে যার নিজের কাজে ব্যাস্ত আজ সারাদিন। ইসলাম বাড়ির চার দল গিয়েছে আজ ভার্সিটিতে। ইসলাম বাড়ি আজ বেশ শান্ত কারণ আজকে কেউ ই বাড়িতে নেই। কিছু দিন পরেই লামিয়া দের আবার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে। এই নিয়ে চারজনে পড়ার ধুম ছুটেছে।
দিন গড়িয়ে রাত, সময়টা রাত প্রায় আড়াইটা।
গভীর জঙ্গল, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। চারপাশে বইছে হালকা শীতল বাতাস। আবার হালকা কুয়াশা ও পড়েছে। অন্ধকারে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। জঙ্গলের মধ্যে একটা পুরাতন গোডাউন। গোডাউনের বাহিরে চারটে বড় বড় ট্রাক দাঁড় করানো।
গোডাউনের ভেতরে রয়েছে বেশ কিছু লোকজন। তাঁরা বেশ আয়েশ করে লাল পানি গিলছে আর কথা বলছে হেঁসে হেঁসে। তাঁদের সামনেই রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। যেগুলো লোকগুলো একটু পর ট্রাকে উঠাবে। সেই নিয়েই আলোচনা হচ্ছে তাদের মধ্যে।
” শুনলাম ফ্যালকনের নাকি একটা ফুটফুটে ফুল আছে..!” বলেই মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বিশ্রী হাসলো লোকটা।
” উহু শুধু ফ্যালকনের না তাঁর সাথে ফ্যালকনের টিমের বিশ্বস্ত তিনজনের ও ফুটফুটে ফুল আছে।”
লোকটার কথা শুনে সামনের থাকা লোকগুলোর চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। মুখ দেখে মনে হচ্ছে কোনো গুপ্ত জিনিসের সন্ধান পেয়েছে তারা।
তাঁদের কথার মাঝেই হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে উঠলো। লোকগুলো চমকে দ্রুত বসা থেকে উঠে কোমড়ে গুঁজে থাকা পিস্তল হাতে তুলে আশেপাশে চোখ বুলাতে লাগলো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
” উফফফ তোকে কে বলেছিলো পাকনামি করতে? এখন যদি ওরা আমাদের হাত ফস্কে যায় তাহলে তোর কপালে আমি দুঃখ আনবো লাবিব।” কথা গুলো রেগে বেশ চিবিয়ে চিবিয়ে বললো শুভ্র।
লাবিব শুভ্রর কথা শুনে ঠোঁট উল্টে বললো ” আমি কী করলাম রে ভাই?”
শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” তুই অনেক কিছু করেছিস।” তারপর একটু থেমে লাবিব এর কলার ধরে হাতে থাকা পিস্তল লাবিব এর কপালে চেপে দাঁতে দাঁত চেপে আবারো বললো ” হারামজাদা তোর সাহস কত তুই আমার শপিং ব্যাগে ওই নষ্ট মার্কা নাইটি ভরেছিস কেনো?”
শুভ্রর কথা শুনে লাবিব ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী যাতা বলছিস? আমি তোর ব্যাগে নাইটি দিতে যাবো কেনো? আমি তো…। একটু থেমে কিছু মনে পড়তেই চমকে চোখ বড়বড় করে বললো ” নাইটি কী লামিয়ার কাছে গিয়েছে?”
শুভ্র লাবিবের কলার ছেঁড়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো ” হ্যাঁ..! তুই জানিস ওও আমার উপর কী পরিমাণের রেগে আছে?”
” ভাই বিশ্বাস কর ওই রঙ – বেরঙয়ের নাইটি আমি আমার ছবির জন্য নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাগ যে চেঞ্জ হয়ে যাবে কে জানতো। থাক যেহেতু লামিয়ার কাছে চলে গেয়েছে তাই তুই ওইগুলো লামিয়া কে পরিয়ে রাখিস। নাইটি গুলো একদম ঝাক্কাস, দেখবি লামিয়া কে হট…..।” আর বলতে পারলো না তার আগেই শুভ্র লাবিব এর মুখে ঘুষি মেরে বসলো।
লাবিব নাকে হাত দিয়ে চোখ মুখ খিচে নিলো ব্যাথায়। শুভ্র লাবিব এক কলার চেপে রেগে হিসহিসিয়ে বললো
” ওকে নিয়ে আর একটা কথা বললে আমি তোকে মেরে ফেলবো লবিব। তাই মুখ সামলে কথা বলবি। আর ওর আশেপাশে যদি তোকে দেখে আমি তোর ঠ্যাং ভেঙে রেখে দিবো। আর যদি দেখি তোর চোখ ওর উপর দৃষ্টি ফেলেছে তাহলে তোর চোখ আমি উঠিয়ে নিবো,রাস্কেল।”
” এই এই ছাড় ছাড় আমার গলা। তোর ওই কাইল্লার উপর নজর দিতে আমার বয়েই গিয়েছে। ওর চেয়ে দ্বিগুণ সুন্দরী আমার ছবি। ছাড় ছাড় আমাকে।” বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো লাবিব।
লাবিব এর কথায় শুভ্র আরো রেগে গেলো। রেগে শার্টের কলার আরো শক্ত করে চেপে দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” তোর সাহস কী করে হয় ওকে কালো বলার..? হাউ ডেয়ার ইউ ..? ওও কালো হক বা সুন্দর সেটা আমি দেখবো। তোকে কে বলেছে ওর গাঁয়ের রং নিয়ে কথা বলার?”
লাবিব শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ” ওকে ফাইন আমার ভুল হয়েছে। আর কখনো বলবো না ছাড় এখন। আমরা একটা মিশনে নেমেছি। ভুলে গিয়েছিস তুই?”
লাবিব এর কথায় শুভ্র লাবিবের কলার ছেঁড়ে দিয়ে সামনে তাকালো।
পাশ থেকে রাশেদ, আরজুন, জাহিদ এবং তাদের টিমের আরো দুজন সদস্য নূর আর সাকিল এতোক্ষণ বেশ বিরক্ত চোখে তাকিয়ে ছিলো তাদের দিকে।
তাঁরা অবাক হয়নি বরং বিরক্ত হয়েছে বেশ। এটা নতুন দেখছে না তাঁরা। প্রতিবার বা কাজের জন্য কোথাও তারা বাহিরে গেলে এদের দুজনের কথা কাটাকাটি হবেই। যেকোনো বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে তাঁরা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে শেষ করবে সেই তাদের বউদের নিয়েই।
তা ভেবেই তাঁরা পাঁচজন দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।
হঠাৎ একটা গাছের আড়াল থেকে কেউ তাদের উপর গুলি চালালো। ভাগ্যক্রমে গুলিটা পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই সাতজন ছিটকে দূরে সরে দাঁড়ালো। হাতে পিস্তল নিয়ে আশেপাশে চোখ বোলাতেই তাদের উপর গুলি চালাতে লাগলো আড়াল থেকে। শুভ্র রা গুলি থেকে বাঁচতে গাছের আড়ালে চলে গেলো। আড়াল থেকেই তারা শত্রু পক্ষের মানুষদের সুট করতে লাগলো।
অসাবধানতায় হঠাৎ করেই একটা গুলি এসে শুভ্রর কাঁধে এসে লাগতেই শুভ্রর হাত থেকে পিস্তল পরে গেলো। লাবিব শুভ্রর সাথেই ছিলো। শুভ্রর হাতে গুলি লেগেছে দেখে দৌড়ে শুভ্র কে ধরতে যেতেই হঠাৎ তাঁর মাথার পিছনে কেউ বারি বসিয়ে দিতেই লাবিব মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে লাবিব এর দিকে। পাশে তাকাতেই দেখলো আহত অবস্থায় সাকিল, জাহিদ, রাশেদ,আরজুন পরে আছে। হঠাৎ কী হলো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না সে। কখনো তো তাদের সাথে এমন হয়নি, তাহলে আজকে কেনো হচ্ছে?
হঠাৎ করে কারোর অট্টহাঁসির শব্দ শুনে শুভ্র পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো পাঁচজন লোক তাদের দিকেই আসছে। অন্ধকারে থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছে না। লোকগুলো তাদের কাছে আসতেই হঠাৎ আলো জ্বলে উঠলো। আলো এসে মুখে পড়তেই চোখ মুখ খিচে নিলো শুভ্র। পিটপিট করে চোখ খুলে সামনে তাকাতেই লোকগুলোর মুখ দেখতে পেলো। লোকগুলোর পিছনে বেশ কিছু কালো পোশাক পড়া লোক দাঁড়িয়ে আছে।
পাঁচজনের লোকগুলোর মধ্যে যে লিডার সে এগিয়ে এসে শুভ্রর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাঁকা হেঁসে বললো
” ওয়েল কাম,ওয়েল কাম ফ্যালকন ওও সরি সরি শাহরিয়ার শুভ্র। কতোদিন পর আবার দেখা হলো বলো তো। বলেছিলাম না সেদিন আমাদের আবার দেখা হবে। দেখেছো মিলেছে তো আমার কথা?”
শুভ্র লোকটার কথা শুনে বাঁকা হেঁসে বললো ” হুম তা তো দেখতেই পারছি । তবে এই দেখা হয়তো আমাদের শেষ দেখা হবে।”
শুভ্রর কথা শুনে লোকটা আবারো অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। তারপর হাঁসি থামিয়ে বললো ” এতো জোড় গলায় কীভাবে বলছো এই কথাটা ভাগ্নে? যাক যাক জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছো ভালো কথা । ছোট্ট মানুষ স্বপ্ন দেখতেই পারে তবে ভাগ্নে আজ পারবে না। কারণ কী জানো? আজ এই ফাঁদ টা আমি পেয়েছি। আর তোমরা আমার ফাঁদে পা দিয়েছো। সেদিন আমাকে বাঁচিয়ে রেখে তোমরা অনেক বড় ভুল করে ফেলেছো।”
শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল ” তবে আজ আর সেই ভুল দ্বিতীয় বার করবো না।” বলেই কোমড় থেকে আরো একটা পিস্তল বের করে সামনে থাকা লোকটিকে সুট করতেই লোকটা পা দিয়ে শুভ্রর হাতে লাথি মেরে পিস্তল ফেলে শুভ্রর গুলি লাগা হাত পা দিয়ে চেপে ধরে। শুভ্র চোখ মুখ খিচে লোকটার পা সরাতে গেলেই
আরেক পা দিয়ে শুভ্রর অন্য হাত চেপে ধরে হেঁসে হেঁসে বলল ” আমার বয়স তো অনেক হয়েছে জানিসই তো।
শুনেছি তোর নাকি একটা ফুল আছে? দেখতে বেশ ভালো । আমার না ভীষণ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে হয়েছে তোর ফুলকে।”
” স্বপ্ন দেখা বাদ দে। ওকে নিয়ে আর একটা কথা উচ্চারণ করলে তোর জিভ আমি কেটে দিবো।”
” জিভ কাঁটার জন্য তুই আজ থাকবি না রে শুভ্র তাঁর আগেই তোকে আর তোর এই টিমকে আমি সারাজীবনের জন্য উপরে পাঠিয়ে দিবো।” বলেই কোমড় থেকে পিস্তল বের করে শুভ্রর কপালে ঠেকিয়ে বাঁকা হেঁসে বলে উঠলো ” গুড বায় ভাগ্নে। ” বলেই সুট করতেই হঠাৎ লোকটার কাঁধে গুলো চালালো কেউ।
লোকটা হাত চেপে ছিটকে দূরে সরে দাঁড়াতে ই আরো একটা গুলি তাঁর দিকে তেড়ে আসতেই লোকটা সরে দাঁড়ালো। তাঁর সাথে লোক গুলো পিস্তল হাতে এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো কে,কোথা থেকে গুলি ছুড়ছে। হঠাৎ করেই কালো পোশাক পড়া লোকগুলোর মধ্যে থেকে একটা লোক চিৎকার করে উঠে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। সবাই চিৎকার শুনে পিছনে তাকাতেই দেখলো লোকটার বুকে কেউ তীর ছুড়েছে। তীর দেখে সবার ভ্রু কুচকালো। আজকাল কার দিনে কেউ তীর ব্যবহার করে ভাবেই আরো একটা তীর এসে লাগলো আরেকজন লোকের। এইবার লোকগুলো সবাই সাবধান হলো। আশেপাশে কড়া চোখ বোলাতে লাগলো। জাহিদ, রাশেদ,লাবিব, শুভ্র, আরজুন, সাকিল আর নূর সবাই অবাক হলো। তাঁদেরকে কে বা কারা আড়াল থেকে প্রটেক্ট করছে, তাঁরা এখানে আসার পরেই পুলিশদের জানিয়েছে। তারা আসছে তবে এখানে আসতে সময় লাগবে। আর যদিও আসে তাহলে গুলি ছুঁড়তে পারে আড়াল থেকে কিন্তু তীর না। তাহলে কে বা কারা তাদের বাঁচাতে চাইছে। ভেবেই একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। শুভ্রর হাত থেকে রক্ত পরছে। সাদা শার্ট রক্তে মাখামাখি, লাবিব তা দেখে নিজের ব্যাথা ভুলে দ্রুত পকেট থেকে রুমাল বের করে শুভ্রর হাত ভালোভাবে বেঁধে দিলো।
লিডার লোকটা হঠাৎ রেগে চেঁচিয়ে উঠলো ” কে? কে আড়াল থেকে হামলা করছিস সাহস থাকলে সামনে আয়।” বলে থামতেই হঠাৎ কেউ শিস বাজিয়ে উঠলো।
গভীর রাতে এমন ভয়ঙ্কর জঙ্গলে শিসের শব্দে যেনো আরো ভয়ংকর হয়ে উঠলো চারপাশ। সবাই আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো কোথা থেকে শব্দ টা আসছে। হঠাৎ শিস এর শব্দ থেমে গেলো। কিছুক্ষণ পর আবার আবার শিস বেজে উঠলো।
~ Gumnaam hai..koi
Badnam hai…koi
Kisko khabar, kaun hai woh
Anjaan hai..koi
গানের শিস বাজতেই লোকগুলোর শরীর জারকাটা দিয়ে উঠলো। এই গানের শিস টা যেনো আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে চারপাশ। আবারো জঙ্গল থেকে কেউ গুলি ছুড়লো তবে এবার কারোর উপর গুলি লাগলো না, গুলি ছুড়লো জ্বলন্ত লাইট গুলোর উপর। লাইট গুলোর উপর গুলি ছুঁড়তেই চারপাশ আবারো অন্ধকারে ঢেকে গেলো।
শুভ্ররা বেশ আশ্চর্য হচ্ছে, আজ কী হচ্ছে তাঁরা কিছু বুঝতে পারছে না। এতো বছর কাজ করে আসলো কই কখনো তো এইরকম হয় নি তাহলে আজ কেনো এইরকম হচ্ছে ভেবে পাচ্ছে না তারা।
পাঁচজন লোক গুলোর মধ্যে একজন লোক লিডার লোকটাকে বলে উঠলো ” ম্যাক্স মেরে মেরে ফেলে এদের দ্রুত। তারপর চলো এখন থেকে পরিস্থিতি সুবিধার ঠেকছে না।”
লোকটার কথা শুনে ম্যাক্স এর ধ্যান ফিরলো। আর আর কিছু না ভেবে মাটি হাতরে পিস্তল খুঁজতে লাগলো। রাশেদ তা দেখে কোমড়ের পিছন থেকে পিস্তল বের করতেই আচমকা বিকট শব্দ হলো। বিটক শব্দে আশেপাশে গাছের থাকা বাঁদুড় গুলো ভয়ে উড়া উড়ি করতে লাগলো। লোকগুলো ভয়ে শিউরে উঠলো।
হঠাৎ কারোর হারেরেরে উচ্চ স্বরের শব্দ আর ঘোড়ার পায়ের টগবগ টগবগ শব্দ ভেসে আসলো জঙ্গল থেকে। সবাই শব্দ শুনে সেদিকে তাকাতেই দেখলো বেশ কিছু ঘোড়া তাদের দিকে দৌড়ে আসছে। আবছা আলোয় বোঝা যাচ্ছে ঘোড়ার উপর মানুষ ও আছে। তাঁদের দেখে সবাই বেশ আশ্চর্য হলো।
লাবিব তা দেখে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো ” এতো দেখছি ডাকাত। এরা আমাদের বাঁচাতে না উল্টো মা*রতে আসছে। ভাই ভাগ এখান থেকে নয়তো গলা কেঁ*টে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। আমি এখনো বাসর করিনি তোদের বোনের সাথে।”
এই পরিস্থিতিতে লাবিব এর এমন কথা শুনে শুভ্র, জাহিদ, রাশেদ,আরজুন,নূর আর সাকিলের বেশ রাগ হলো। এই ছেলে এই পরিস্থিতিতে বাসর করে নি সেই কথা ভাবছে।
রাশেদ রেগে বললো ” তোকে কী লামিয়া দের গায়ের বাতাস লেগেছে? এই পরিস্থিতিতে কী যাতা বলছিস?”
” দেখ আমি সত্যি বলছি। ভাই এরা ডাকাত দেখছিস না? ”
লাবিব এর কথার উত্তর না দিয়ে শুভ্র চিন্তিত গলায় বললো ” যদি ডাকাত হয়, তাহলে এরা আমাদের ও তো তীর ছুঁড়তে পারতো। আমাদের না মেরে ওদেরকে মারলো কেনো? আর আমাদের ই বা বাঁচাতে আসবে কেনো এরা?”
শুভ্রর কথায় সবাই এবার কিছু ভেবে চিন্তিত হলো। লাবিব বলে উঠলো ” আমার মনে হচ্ছে ওরা আগে ওদের মারবে তারপর আমাদের।তাই এতো আপ্যায়ন করছে আমাদের।”
শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে লাবিব এর দিকে তাকিয়ে বললো ” চুপচাপ থাক দেখি কী হয়।”
লাবিব হালকা চেঁচিয়ে উঠলো ” না না ভাই আমি রিস্ক নিতে পারবো না। আমি ছবির কাছে যাবো। ছবি তুই কোথায় জান বাচ্চা। দেখ শুভ্র আমি এখন মরতে চাই না। আমার ছবির সাথে কিছু হয়নি আমি এখনো ভার্জিন। প্লিজ চল তাড়াতাড়ি আমার ছবি অপেক্ষা করছে।”
বলতে বলতেই হঠাৎ একটা তীর এসে পড়লো তাঁর পায়ের কাছে। লাবিব চোখ বড় বড় করে দ্রুত সরে দাঁড়ালো। আর একটুর জন্য তাঁর পায়ে এসে লাগে নি।
শুভ্র নিচে পরে থাকা তীরের দিকে তাকিয়ে চোখ তুলে তাকালো। বেশ কিছু কালো ঘোড়া, তাদের গলায় ঘন্টার বদলে ছোট্ট হলুদ লাইট লাগালো। তা দেখে বেশ অবাক হলো শুভ্র। ঘোড়ার উপর মানুষ, তবে তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো কালো কাপড়ে ঢাকা। শুধু চোখ গুলো দেখা যাচ্ছে। শুভ্র তা দেখে বেশ অবাক হলো। আর সবচেয়ে আশ্চর্য হলো ঘোড়ার গলায় লাইট দেখে।
পাশ থেকে লাবিব তাদের বলে উঠলো ” ওও ভাই ডাকাত গুলো তো ভেরি ব্রিলিয়ান্ট। দেখ দেখ ঘোড়ার গলায় ঘন্টার বদলে লাইট লাগিয়েছে। আগে দেখতাম মশাল হাতে নিয়ে ডাকাত দল দৌড়ে আসে কিন্তু আজ নিজ চোখে দেখলাম, ঘোড়ার গলায় লাইট লাগিয়ে আসে। মানতে হবে ডাকাতরা ও মডার্ন হয়ে গিয়েছে যাক ভালো ভালো। ”
লাবিব এর কথায় সবাই বেশ বিরক্ত চোখে তাকালো তাঁর দিকে। এই ছেলে কবে থেকে সিরিয়াস পরিস্থিতিতে এমন মজা করার স্বভাব হলো বুঝতে পারছে না। তবে এইটুকু বুঝতে পারছে বাড়ির চার বিচ্ছুদের হাওয়া তাঁর গাঁয়ে লেগেছে।
লোকগুলো পিস্তল হাতে নিয়ে ডাকাত দের দিকে সুট করতেই, ডাকাত গুলো তাদেরকে সুট করার সময় না দিয়েই কাঁধ থেকে ধনুক নামিয়ে তীর ছুঁড়তে লাগলো এক এক করে। শুরু হলো তীরে বর্ষণ। তীরের আঘাতে লোক গুলো বেশ আঘাত পেয়েছে। ঘোড়া এসে থামলো লোকগুলোর সামনে। ঘোড়া এসে থামতেই ঘোড়ার পিঠ থেকে লাফ দিয়ে প্রথম নেমে এলো ডাকাতের সর্দার। যার হাতে একটা ইয়া বড় রাম দা। লাবিব তা দেখে ভয়ে ঢোক গিললো। সর্দার নেমে আসতেই তাঁর দলের সবাই এঁকে এঁকে নেমে পড়লো ঘোড়ার থেকে। ঘিরে ধরলো ম্যাক্স আর তার দলের লোক গুলো কে। মাক্স আর তাঁর লোক গুলো ভয় পেলো। কারণ তাদের সব লোক গুলোর হাতে পায়ে বুকে আবার কয়েক জনের গলা, মাথা চোখে তীর গেঁথে গিয়েছে। কিছু লোক তীরের বর্ষণে আহত আর কিছু লোক নিহত হয়েছে। তা দেখে এবার ম্যাক্স আর তার দলের চারজন ভয় পেতে শুরু করলো।
হঠাৎ ডাকাতের সর্দার শিস বাজিয়ে ঘাড় কাত করে ভয়ংকর দৃষ্টিতে শুভ্র দের দিকে তাকালো। লাবিব তা দেখে ভয়ে শ্বাস নিতেই ভুলে গেলো। শুভ্র ভয় হীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাকাত গুলোর দিকে। শুভ্র ভালো করে খেয়াল করলো সর্দারের চোখ গুলো লাল টুকটুকে হয়ে আছে। মাথায় কালো পাগরীর মতো পেঁচানো। পুরো মুখ ঢাকা। সর্দার চোখ ঘুরিয়ে ম্যাক্স এর দিকে তাকালো। ম্যাক্স ভয় পেলেও নিজেকে সমলে নিয়ে ক্ষুব্ধ চোখে তাকালো ডাকত সর্দার এর দিকে। তারপর শক্ত গলায় বলে উঠলো ” কী চাস? আমাদের কাজে বাগরা দিয়েছিস কেনো? তবে তুই যা চাস তাঁর তিন ডাবল আমি তোকে দিবো ।”
সর্দার ম্যাক্স এর দিকে তাকালো শীতল দৃষ্টিতে। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে শুভ্র দের দিকে তাকালো। তাঁরা তাঁদের চেয়ে বেশ দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের থেকে চোখ সরিয়ে নিজের দলের দিকে তাকালো। তাঁরা চোখ দিয়ে কিছু ইশারা দিতেই সর্দার ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।
তারপর ম্যাক্স এর দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে শক্ত গলায় বললো ” হুমমম লাগবে, তবে তোকে।” বলেই ঘুরে মাক্স এর পেট বরাবর লাত্থি বসিয়ে দিলো। আচমকা এমন হওয়াতে ম্যাক্স কিছু বুঝে উঠার আগেই পিছিয়ে গেলো। তা দেখে পাশ থেকে ম্যাক্স এর একটি লোক সর্দার এর দিকে এগিয়ে আসতেই সর্দারের একটি লোক লোকটার কাঁধ বরাবর কোপ মেরে বসতেই লোকটি ছটফট করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
তা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেলো। লাবিব বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে।
ম্যাক্স তা দেখে রেগে সর্দার এর দিকে এগিয়ে আসতেই, সর্দার তাঁর হাতে রাম দা দিয়ে ম্যাক্স এর আঘাত পাওয়া হাত বরাবর কো*প মেরে বসতেই ম্যাক্স এর হাত কে*টে নিচে পরে গেলো। ম্যাক্স প্রথম কিছু না বুঝলেও যখন নিজের হাতের দিকে তাকালো তা দেখে চিৎকার করে উঠলো। সবাই তা দেখে এবার আরো ভয় পেলো ভয়ে কাঁপতে লাগলো লোকগুলো। ওদিকে লাবিব শুভ্রর হাত ঝাপটে ধরে আছে। তাঁদের মুখে ও ভয়ের ছাপ দেখা দিচ্ছে।
সর্দার পাশ ফিরে তার দলের দিকে কিছু ইশারা করতেই, তার দলের লোকগুলোর মুখে পৈশাচিক হাঁসি ফুটে উঠলো। তাঁরা দৌড়া গিয়ে ম্যাক্স এর লোকগুলো কে একাধারে কো*পাতে লাগলো।
শুভ্র রা সবাই বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে সেদিকে। ম্যাক্স তা দেখে পেশ ভয় পাচ্ছে। ডাকাতের সর্দার শিস বাজতে বাজারে রাম দা নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে ম্যাক্স এর দিকে। ম্যাক্স বসে বসে পিছতে লাগলো। সর্দার তা দেখে বাঁকা হেঁসে একটু নিচু হয়ে ম্যাক্স এর ডান পা ধরে উঠালো। ম্যাক্স ভয়ে মাথা নাড়াচ্ছে।
” না না না আমাকে মেরো না, মেরো না আমাকে।”
সর্দার ম্যাক্স এর দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাঁসি দিয়ে ডান পায়ের রান বরাবর রাম দা বসিয়ে দিতেই ম্যাক্স এর পা অর্ধেক হয়ে গেলো। ম্যাক্স তা দেখে ভয়ংকর চিৎকার করে উঠলো। তা দেখে সর্দার আবার শিস বাজতে বাজাতে ম্যাক্স এর বাম পা তুলে উঠিয়ে আরো একটা কো*প বসিয়ে দিতেই বাম পা অর্ধেক হয়ে গেলো। এবার এগিয়ে এসে ঘাড় কাত করে গলা বরাবর
রাম দা বসিয়ে দিতেই পিছন থেকে শুভ্র বলে উঠলো
” থামুন, আমি জানি না আপনি কে? তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। অনুরোধ করছি।”
সর্দার মাথা কাত করে শুভ্রর দিকে তাকালো। শুভ্র সর্দার এর দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠলো। ভয়ংকর রকমের লাল টুকটুকে হয়ে আছে চোখ গুলো।
সর্দার শুভ্র দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলে উঠলো
~ কারোর আদেশ মানি না ,আমি চির স্বাধীন
আমি না মানি আইন, আমি না কারো অধীন ।।
বলেই গলায় রাম দা দিয়ে কো*প দিতেই পুলিশের শব্দ শোনা গেলো। তা শুনে সর্দার বাঁকা হেঁসে বললো ” ল্যাকি ম্যান।”
বলেই শিস বাজিয়ে উঠলো। শিস এর শব্দ শুনেই তাঁর দলের লোকগুলো দৌড়ে ঘোড়ার পিঠে উঠলো। ডাকাত সর্দার শুভ্র দের দিকে তাকিয়ে নিজের হাতের রাম দা তাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে ঘোড়ার পিঠে উঠে টগবগ টগবগ করে ছুঁড়তে লাগলো নিজের গন্তব্যে।
শুভ্র, লাবিব, জাহিদ, রাশেদ, আরজুন, নূর আর সাকিল আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে রইলো ডাকাতদের যাওয়ার পাণে। শুধু ম্যাক্স আর তার দলের সবাইকে আঘাত করলো কিন্তু তাদের কেনো আঘাত করলো না। তাহলে কী এদের সাথে ম্যাক্স এর কোনো শত্রুতা আছে? ভেবে পাচ্ছে না তাঁরা। তাঁরা এগিয়ে গিয়ে ক্ষত বিক্ষত লোকগুলো কে দেখলো। বেশ বিশ্রী ভাবে মেরেছে লোক গুলোকে। যে কেউ দেখলেই ভয় পাবে। কিন্তু এইটুকু বোঝা যাচ্ছে যে ডাকাত গুলো সাইকো ।
ভাবনার মাঝেই পুলিশ এসে উপস্থিত হলো সেখানে। শুভ্র তাদের বুঝি বলতেই লাশ গুলো কে নিয়ে যাওয়া হলো তাদের সাথে। তবে ম্যাক্স এখনঝ বেঁচে আছে তাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। তার সাথে নিয়ে যাওয়া হলো শুভ্র ও তাঁর টিম কে। তারাও আহত হয়েছে বেশ।
ফজরের আযানের শব্দ কানে আসতেই পিটপিট করে চোখ খুললো লামিয়া। ডান হাত অবশ হয়ে গিয়েছে বুঝতে পেরে বিরক্ত চোখে পাশে তাকালো। তোয়া গুটি সুটি মেরে হাত ডান হাত বালিশ বানিয়ে নিশ্চিত হয়ে ঘুমাচ্ছে। তা দেখে লামিয়া বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকালো। এই মেয়ে আশার পর থেকে তাঁকে জ্বালিয়ে খাচ্ছে। পড়তে পড়তে কালকছ কখন ঘুমিয়ে গিয়েছে তা তাঁর মনে পড়ছে না। বিরক্ত মুখ নিয়ে তোয়া কে বালিশে শুইয়ে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। ফ্রেশ হয়ে দ্রুত নামাজ শেষ করে বেলকনির চেয়ারে বসে ফজরের আবহাওয়া গাঁয়ে মাখতে লাগলো। তাঁর যে এসব টা ভীষণ প্রিয়। চেয়ারে হেলান দিয়ে আস্তে করে চোখ বুঝতেই ভেসে উঠলো শুভ্রর হাসি উজ্জ্বল মুখ খানি। লামিয়া ধরফর করে উঠলো। এই লোকটা তাকে শান্তিই দিচ্ছে না। কালকে রাতে ঝগড়া করে এসেছিলো তারপর আর দেখা হয়নি। কালণ গতকাল সে ভীষণ ব্যস্ত ছিলো। ভেবেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শুভ্রর বাড়ির দিকে তাকাতেই ভ্রু জোড়া কুঁচকে ফেললো। আর কিছু না ভেবে গাঁয়ে হুডি জড়িয়ে বেরিয়ে গেলো শুভ্রর বাড়ি।
হাতে ব্যান্ডেজ অবস্থা নিয়েই গোসল করেছে শুভ্র। সবেই গোসল করে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছছিলো, মাথা ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই মাথা মোছা থামিয়ে দিয়ে তাকালো দরজার দিকে। লামিয়া দরজায় হেলান দিয়ে বুকে হাত ভাঁজ করে তাঁর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে শুভ্র ভ্রু নাচিয়ে বললো ” কী সমস্যা? এখানে কী নিজের বাড়ি রেখে?”
শুভ্রর কথার উত্তর না দিয়ে লামিয়া বললো ” এতো ভোরে গোসল করেছেন কেনো?”
শুভ্র লামিয়ার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে মনে মনে সয়তানি হাঁসি দিয়ে সিরিয়াস কন্ঠে বললো ” কিছুক্ষণ আগেই খোলা ধুলো বাড়িতে ফিরেছি। তাই গোসল করাটা দরকার ছিলো। তাই করেছি।”
” খোলা মানে বুঝলাম না। আর আপনি এখন বাড়ি এসেছেন মানে? সারা রাত কোথায় ছিলেন?”
” বউয়ের কাছে।”
” কার বউ..?” বেশ গম্ভীর কন্ঠে বললো লামিয়া।
” আমার।”
লামিয়া দরজায় থেকে এবার বড় বড় পা ফেলে শুভ্রর কাছে এসে দাঁড়িয়ে বললো ” আপনার বউ মানি? মজা করছেন আমার সাথে?”
” তোর সাথে কী আমার মজার সম্পর্ক ?”
” দেখুন ভালোয় ভালোয় বলছি বলুন কোথায় ছিলেন?”
” বললাম তো বউয়ের কাছে। বয়রা নাকি শুনতে পাস না?”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার রাগ লাগছে। তবুও রাগ কন্ট্রোল করে বললো ” বিয়ে করেছেন কবে?”
” লন্ডন থাকতে।”
” লন্ডনের মেয়ে..?”
” হুম..!”
” তাহলে তো দেখতে ভীষণ সুন্দরী হবে তাই না?”
শুভ্র আলমারি থেকে গাঁয়ে টিশার্ট জড়িয়ে লামিয়ার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো ” ভীষণ।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়ার ঠোঁট ভেঙে কান্না আসছে কেন জানি। তবুও নিজেকে সামলে ঠোঁট ভিজিয়ে সুক্ষ্ম হেঁসে বললো ” ওওহহ ভালোই তো। যাক নিশ্চিত হলাম। একদিন নিয়ে আসুন আমরাও দেখতে চাই আপনার বউ কে।”
” অবশ্য আনবো।”
লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে আর কিছু না বলে রুম থেকে বের হতেই শুভ্র পিছন থেকে লামিয়া কে জড়িয়ে ধরলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় লামিয়া শিউরে উঠলো। যখন বুঝলো শুভ্র জড়িয়ে ধরেছে তখন রাগ রাগলো। রেগে ছটফট করতে করতে বললো
” ছাড়ুন ফালতু লোক। বউ রেখে অন্য মেয়েদের মেয়ে দেখলেই শুধু ছুঁতে মন চায়। ছাড়ুন আমাকে মেজাজ খারাপ লাগছে।”
শুভ্র পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেই লামিয়ার গলায় মুখ গুঁজে লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে ফিসফিস করে বললো
” ভ্রমর, আমার ভ্রমর একটু জড়িয়ে ধরবি ভ্রমর। শুধু একটু বেশি না।”
শুভ্রর কথায় লামিয়া কেঁপে উঠলো।
” ছ… ছাড়ুন আ…আমাকে।” কাঁপা কাঁপা গলায় বললো লামিয়া। শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে ছাড়লো বরং আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। লামিয়া ছটফট করতে লাগলো। এই লোকটার সামনে আসলেই তার জবান বন্ধ হয়ে যায়। বিরক্ত লাগছে লামিয়ার । নিজেকে ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করতে লাগলো।
হঠাৎ শুভ্র লামিয়ার গলায় নাক ঘষতে লাগলো। লামিয়া এবার পুরোপুরি জমে গেলো বরফের মতো। শুভ্র ছোট্ট ছোট্ট চুমু এঁকে দিচ্ছে লামিয়ার গলায়। গলায় শুভ্রর ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই লামিয়া বারবার কেঁপে উঠছে। শুভ্র হঠাৎ লামিয়ার উড়না টান দিতেই লামিয়া চেঁচিয়ে উঠলো। শুভ্র তা পাত্তা দিলো না। উড়না গলা থেকে টেনে ফ্লোরে ফেলে দিতেই চোখ গেলো লামিয়ার গলার বাম পাশেরকালো কুচকুচে তিলটার দিকে।
সবসময় ছোট্ট গলা আর উড়না নেওয়ার কারণে তিলটা সবসময় ঢেকে থাকে যার কারণে তিলটা দেখা যায় না। শুভ্র তিলটার দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে কাঁধ থেকে হুডি টেনে নামিয়ে নিতেই লামিয়া সরে যেতে চাইলো কিন্তু শুভ্র তার পেট আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরতেই লামিয়া ছটফট করে উঠলো।
” প্লিজ ছাড়ুন।”
” নো।”
” প্লিজ।”
” উহু..! একটু ও না।”
” ফালতু লোক রাগ লাগছে কিন্তু ছাড়ুন বলছি।”
লামিয়ার কথায় শুভ্র বিরক্ত হলো বেশ তাই কিছু না বলে লামিয়ার গলার তিলটায় শক্ত করে কোমড়ে ধরতেই লামিয়া চোখ মুখ খিচে নিলো। কিন্তু মুখ ফুটে কোনো শব্দ করলো না।
বেশ কিছুক্ষণ পর শুভ্র কামড় ছেঁড়ে কামড়ের জায়গায় ছোট্ট ছোট্ট চুমু একে দিলো।
লামিয়ার কেমন অস্বস্তি লাগছে। এরকম অবস্থায় কোনোদিন আগে পরে নি সে। শুভ্র লামিয়ার অস্বস্তি দেখে গলা থেকে মুখ তুলে লামিয়া কে ছেড়ে দিলো। লামিয়া ছাড়া পেয়ে স্বস্তির শ্বাস পেয়ে ঘুরে শুভ্র কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই চোখ গেলো শুভ্রর হাতের দিকে। বেশ অস্থির কন্ঠে বললো
” আপনার হাতে কী হয়েছে?”
শুভ্র ছোট্ট করে উত্তর দিলো ” কিছু না..!”
লামিয়া দ্রুত পায়ে শুভ্রর হাত ধরে দেখতে লাগলো।
” কী হয়েছে বলুন না..! কিভাবে ব্যাথা পেয়েছেন এখানে?”
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র লামিয়াকে কাছে টেনে কপালে চুমু এঁকে দিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো ” গুলি লেগেছে।”
” কীভাবে..?”
” সে অনেক কাহিনী পরে বলবো। আমার ভালো লাগছে না একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দিবি?”
ছোট্ট বাচ্চাদের মতো বায়না করে উঠলো শুভ্র।
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া শুভ্রর চোখের দিকে তাকালো। লোকটাকে বেশ অসুস্থ মনে হলো তাই আর না করলো না। মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলতেই শুভ্রর ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে উঠলো। দ্রুত লামিয়া কে কোলে তুলে নিয়ে খাটে বসিয়ে দিয়ে শুভ্র লামিয়ার পেটে মুখ গুঁজে কোমড় জড়িয়ে শুয়ে পড়লো। লামিয়া কেঁপে উঠলো তবে কিছু বললো না। কেনো জানি আজকে ঝগড়া করতে ভালো লাগছে না। লামিয়া আর কিছু না ভেবে শুভ্রর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। এভাবেই কেটে গেলো ত্রিশ মিনিট। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ঘুমানোর কথা ছিলো শুভ্রর আর ঘুমিয়ে গিয়েছে লামিয়া। তা দেখে শুভ্র হাসলো।
লামিয়ার পেট থেকে মুখ তুলে শুভ্র লামিয়া কে আলতো হাতে বসা থেকে শুইয়ে দিলো। তারপর নিজের দিকে ফিরিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে গাঁয়ে চাদর টেনে দিলো গলা পর্যন্ত। লামিয়া গরম উষ্ণ পেয়ে চাদর আরো একটু উপরে তুলে শুভ্র কে কোলবালিশ ভেবে জড়িয়ে ধরে শুভ্রর বুকে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে গেলো।
তা দেখে শুভ্র হাসলো। মাথা নিচু করে লামিয়ার কপালে চুমু খেলো। তারপর আরো একটু নিচু হয়ে লামিয়ার শুকনো ঠোঁটে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বললো ” আমার ভ্রমর, শুধু আমার। আমার ছন্নছাড়া পাখি তুই। তুই শুধু আমার শুধু আমার আর কারোর না। আমি তোকে আর কারোর হতে দিবো না। দরকার পরলে তোকে মে*রে নদীতে ভাসিয়ে দিবো তবুও কারোর হতে দিবো না। আর কেউ যদি তোকে আমার থেকে দুরে সরাতে চায় তাহলে তাকে আমি জ্যান্ত পুঁতে দিবো। তুই শুধু আমার হক আর কারোর না। তোর হাঁসি,কান্না,সুখ দুঃখ সব আমার। এমন কি তুই ও।” ভীষণ ভালোবাসি তোকে, নিজের চেয়েও বেশি। আমার ভ্রমর আবারো বলছি অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি আমার ভ্রমর কে।
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৭
বলে ঘুমন্ত লামিয়ার দিকে তাকালো। তাঁর বাঁকা হেঁসে আবারো ঠোঁটে চুমু খেয়ে লামিয়া কে বুকে শক্ত করে চেপে ধরে চোখ বুঝলো। তারপর আস্তে ধীরে ঘুমিয়ে গেলো।
