প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৭
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
কিছুদিন ধরেই ডা*কাতের উৎপাত বেড়েছে। জায়গায় জায়গায় ডা*কাতি হচ্ছে। এই নিয়ে প্রতিটি মহল্লায় বেশ আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে সবাই বেশ ভয়ে ভয়ে আছে।
হল রুমের সোফায় চিন্তিত হয়ে বসে আছে আনিসুল সাহেব। তাঁর পাশেই বসে আছে হামিদ, হাশিম, আজমির সাহেব।
রান্নাঘর থেকে রাশেদা বেগম ট্রেতে করে চা নিয়ে এলো চার ভাইয়ের জন্য। রাশেদা বেগম চায়ের কাপ সবার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে স্বামীর দিকে তাকালো। আনিসুল সাহেব কে চিন্তিত দেখে রাশেদা বেগম চিন্তিত কন্ঠে বললো ” কি হয়েছে আপনার? আপনার কী শরীর খারাপ করছে? এমন চিন্তিত লাগছে কেনো আপনাকে?”
রাশেদা বেগম এর কথায় আনিসুল সাহেব স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মলিন হাসলো। ভাগ্য ক্রমে এমন একটা বউ
পেয়েছে। তার মুখ দেখলেই তাঁর স্ত্রী বুঝে যায় সব কিছু। তাঁর কখন কি লাগবে না লাগবে, তাঁর ভালো মন্দ, তার পছন্দ অপছন্দের সব কিছু দেখে শুনে রাখে তিনি। এমন স্ত্রী পেতে ভাগ্য লাগে। ভেবেই স্বস্তি বোধ করলো।
আনিসুল সাহেব কে চুপ দেখে রাশেদা বেগম আবারো প্রশ্ন করতেই আনিসুল সাহেব চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললো
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
” আমার কিছু হয়নি রাশেদা।”
” তাহলে মুখ এইরকম লাগছে কেনো আপনার?” সত্যি করে বলুন।”
আনিসুল সাহেব স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো ” আশেপাশের অবস্থা ভালো নেই। দেখছো না কিছুদিন ধরে ডা*কাতের উৎপাত বেরেই চলছে।”
” আপনি এসব নিয়ে কেনো ভাবছেন? কিছু হবে না আল্লাহ ভরসা। আপনি শুধু শুধু এসব নিয়ে চিন্তা করে নিজের শরীর খারাপ করবেন না। আপনি ভুলে যাবেন না এই সংসারের মাথা আপনি। আল্লাহ না করুক আপনার যদি কিছু হয়ে যায় তখন আমাদের সবার কি হবে? আর আপনি নিজের কথা না ভাবলে অন্তত আমাদের কথা ভাবুন। আপনাকে ছাড়া আমরা থাকতে পারবো না। বিশেষ করে আমি। তাই বলছি অযথা চিন্তা করে নিজের ক্ষতি করবেন না। ”
বলেই ট্রে নিয়ে চলে গেলো রান্নাঘরে। আনিসুল সাহেব স্ত্রীর যাওয়ার পানে চেয়ে ভাইদের দিকে তাকিয়ে বললো। ” দেখলি কি বলে গেলো?”
আজমির সাহেব চায়ের কাপ চুমুক দিয়ে বললো ” বড় ভাবি কিন্তু ভুল কিছু বলে নি বড় ভাই।”
আজমির সাহেব এর কথায় হামিদ আর হাশিম সাহেব ও মাথা নাড়িয়ে বললো ” হুমম ভাবির সাথে আমরা ও এক মত।”
ভাইদের কথা শুনে আনিসুল সাহেব হেঁসে বললো
” সবাই কে তো একদিন যেতেই হবে। কেউ আগে কেউ পরে। তবে আমাকে ছাড়া তো তোদের বাঁচা শিখতে হবে তো নাকি?”
আনিসুল সাহেব এর কথায় তিন ভাই চা খাওয়া রেখে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালো বড় ভাইয়ের দিকে।
হামিদ সাহেব মুখ গম্ভীর করে বললো ” খবরদার বড় ভাই এসব কথা কখনো বলবেন না। কখনো যেনো আপনার মুখে এসব কথা না শুনি। আপনার আগে আমার মৃত্যু হোক।”
হামিদ সাহেব এর কথা শুনে হাশিম সাহেব এইবার গম্ভীর গলায় বলে উঠলো ” এটা কি বললেন মেজ ভাই? আপনারা এসব কেনো বলছেন? আপনাদের কথা কিন্তু ভালো লাগছে না। এসব কথা বলবেন না। আপনাদের আগে আমার মরণ আসুক।”
হাশিম সাহেব এর কথা শুনে আজমির সাহেব বললো
” বড় ভাই, মেজ ভাই, সেজ ভাই আপনারা কি শুরু করেছেন এসব সকাল সকাল? আল্লাহ জানি আমার আয়ু আপনাদের দিয়ে দেয় আমি সবসময় এই দোয়াই করি। আর যদি মৃত্যু আসতেই হয় তাহলে সবার আগে আমার মৃত্যু আসুক তবুও যেনো আমার পরিবারের কারোর কিছু না হয়।”
তিন ভাইদের কথা শুনে আনিসুল সাহেব তাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। ছোট্ট থেকেই চার ভাই গলায় গলায়। কখনো ঝগড়া, বিচ্ছেদ হয় নি। ভাইয়েরা ভাইয়েরা একে উপরের জান তাঁরা। এক ভাই আরেক ভাই কে বাঁচাতে জান পর্যন্ত কোরবান করে দিতে পারে। তাঁদের ভাইদের সম্পর্কের মতোই মজবুত তাদের ছেলে – মেয়েদের সম্পর্ক। আর তাদের গিন্নিদের কথা তো বাদই দিলাম। চার জা হলো বেস্ট ফ্রেন্ড। কখনো ঝগড়া – বিবাদ করে নি কোনোদিন। কেউ কাউকে কোনোদিন হিংসে করে নি। সবসময় বোনদের মতো মিলেমিশে থাকে তাঁরা।
হামিদ, হাশিম, আজমির সাহেব এক কথা দু কথা নিয়ে তর্কাতর্কি করছে বাচ্চাদের মতো। আনিসুল সাহেব তা দেখে হেঁসে উঠলো।
” কী শুরু করেছিস তোরা ? থাম বলছি। বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করছিস কেনো?”
বড় ভাইয়ের কথায় ঝগড়া থামিয়ে দিলো তিনজন। একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচে কেটে অন্য দিকে তাকালো। আনিসুল সাহেব তা দেখে হো হো করে হেঁসে উঠলো। ভাইদের এই ঝগড়া যদি আজ ডাকাত দলের চারজন দেখতো তাহলে আজ তিনজন কেই পঁচাতো। তবে আজ এতো বেলা হয়ে গেলো কাউকে দেখছে না কেনো ভেবেই ভাইদের দিকে তাকালো।
প্লেটে একটা বিস্কুট পরে আছে। তার দিকে তাকিয়ে আছে হামিদ, হাশিম, আজমির সাহেব। এই একটা বিস্কুট কার আগে কে নিবে সেটা নিয়েই যুদ্ধ করছে তাঁরা। হঠাৎ করেই আজমির সাহেব চিৎকার করে উঠলো। তা শুনে আনিসুল, হামিদ, হাশিম ভরকে গেলো। তাঁরা কিছু বুঝে উঠার আগেই আজমির সাহেব
প্লেট থেকে ছু মেরে বিস্কুট নিয়ে দৌড় দিলো। তা দেখে হামিদ আর হাশিম সাহেব ও ছুটে গেলো তাঁর পিছু।
” আজমির এটা ঠিক না, তুই চিটিং করেছিস।” দৌড়াতে দৌড়াতে বললো হাশিম সাহেব।
” করলে করেছি, কিন্তু আমি আগে নিয়েছি তাই এই বিস্কুট আমার।” হাসতে হাসতে বলে উঠলো আজমির সাহেব।
” তোকে শুধু হাতের কাছে পাই আজমির তারপর তোর চিটিং আমি বের করবো।” দৌড়াতে দৌড়াতে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো হামিদ সাহেব।
” মেজ ভাই আগে ধরে দেখান তারপর দেখা যাবে।” বলেই পুরো বিস্কুট মুখে পুরে নিলো।
তা দেখে হাশিম আর হামিদ সাহেব রেগে গিয়ে দৌড়াতে লাগলো আজমির সাহেব এর পিছু। আজকে তাঁকে ধরতে পারলে ইচ্ছে মতো দিবো এতে কোনো ভুল নেই ।
ওইদিকে আনিসুল সাহেব উচ্চ স্বরে হাসছে ভাইদের দেখে। চার জা রান্না ঘর থেকে উঁকি দিয়ে দেখছে আর হাসছে ভাইদের খুনসুটি ঝগড়া।
বেলা গড়িয়ে দুপুর আজ বাড়িতে কোনো হট্টগোল নেই। সব কেমন স্তব্ধ হয়ে আছে চারদিক। কারণ আজকে বাড়ির সব হট্টগোল করার মানুষ যার যার নিজেদের রুমে ঘুমিয়ে আছে। আর ঘুমাবে নাই বা কেনো? কাল সবাই রাত তিনটায় বাড়িতে এসেছে। সারা রাস্তা ছেলেরা সবাই বাইক চালিয়ে ক্লান্ত। তাই আজকে সব মরার মতো পরে আছে বিছানায়।
” শুভ্র ভাই…!”
” হুম.!”
” ভালোবাসি, অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি আপনাকে।”
শুভ্র মুচকি হেঁসে লামিয়ার দিকে তাকালো। নাক টা লাল টুকটুকে হয়ে আছে, নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। শুভ্র ধীর কন্ঠে বললো ” আমিও।”
” আপনি যাবেন না তো আমাকে ছেঁড়ে?”
” উহু কোনো দিন ও না।”
” সত্যি..?”
” তিন সত্যি।”
” আর যদি চলে যান তখন?”
” যাবো না।”
” আপনি কি আমাকে ভালো বাসেন না?”
” নিজের চেয়ে ও বেশি।”
” তাহলে ওই মিলি…”
লামিয়ার মুখের কথা শুভ্র টেনে বললো ” কেউ না।”
” তাহলে বারবার আপনাকে কেনো ওও আপনার সাথে
এমন করে? আমার ভালো লাগে না এসব।”
” তুই ব্যাতীত অন্য কেউ নেই আমার মনে।”
” ওই মিলি কে ইচ্ছে করে চুল টেনে ছিঁড়ে দিতে।”
” ছিঁড়ে দে সমস্যা নেই।”
” সত্যি?”
” হুম..!”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়ার মুখে হাঁসি ফুটলো। শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরে বললো ” আপনাকে অনেক ভালোবাসি শুভ্র ভাই।”
শুভ্র লামিয়ার কোমড় জড়িয়ে গলায় মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বললো ” আমিও, আমিও তোকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি ভ্রমর।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া খিলখিল করে হেঁসে উঠলো। শুভ্র কে হালকা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললো ” দেখি কেমন ভালোবাসেন প্রমাণ দেখান।”
শুভ্র না শুনে ভ্রু কুঁচকে বললো ” কি প্রমাণ চাস?”
লামিয়া হেলেদুলে এক পা – দু পা পিছিয়ে যেতে যেতে বললো ” পারলে ধরে দেখান।”
বলেই দৌড় দিলো। এলোমেলো পায়ে হেলেদুলে দৌড়াচ্ছে লামিয়া। শুভ্র লামিয়ার বাচ্চামি দেখে হেঁসে বললো ” যদি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করতে হয় তোকে ভালবাসি। তাহলে আমি হাসতে হাসতে নিজের জীবন দিতেও রাজি আছি ভ্রমর।” বলেই লামিয়ার পিছু দৌড়াতে লাগলো। লামিয়া তা দেখে খিলখিল করে হাসছে। দৌড়াতে দৌড়াতে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখলো শুভ্র তার বেশ পিছনে পরে আছে, তা দেখে লামিয়া হেঁসে সামনের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে যাবে তার আগেই হঠাৎ করে একটা বুলেট লামিয়ার মাথায় এসে লাগতেই লামিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
শুভ্র তা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলো। রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে লামিয়া। মাথা থেকে ঝড় ঝড় করে রক্ত বের হচ্ছে। শুভ্র আর কিছু না ভেবে চিৎকার করে উঠলো।
চোখ খুলে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো চারপাশে দিনের আলো। শুভ্র শোয়া থেকে উঠে বসলো, জোরে জোরে হাপাচ্ছে সে। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। দ্রুত পাশ থেকে পানির গ্লাস তুলে ডগডগ করে খেলো। ভীষণ ভয় পেয়েছে সে, ভয়ে শরীর কাঁপছে তার। এই শীতের মধ্যেও শরীর ঘেমে উঠেছে। এটা একটা দুঃস্বপ্ন ছিলো তাহলে , স্বপ্নের কথা মনে পড়তেই শিউরে উঠলো শুভ্র। হাত বাড়িয়ে পাশ থেকে মোবাইল হাতে তুলে দেখলো চারটা বেজে গিয়েছে। তা দেখে শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে জামা কাপড় নিয়ে বাথরুমে চলে গেলো।
ঘুমের ঘোরে আষ্টেপৃষ্ঠে কেউ জড়িয়ে ধরে আছে অনুভব করতেই বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে ফেললো। পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখলো তোয়া লামিয়ার বুকে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে আছে। আশেপাশে তাকিয়ে ঘড়ির দিকে চোখ রাখতেই দেখলো চারটা বেজে ত্রিশ মিনিট। সময় দেখে লামিয়া শোয়া থেকে উঠে বসতে চাইলো কিন্তু পারলো না তোয়া তাকে বেশ ভালো করেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে। লামিয়া এইবার ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তোয়ার দিকে দৃষ্টি ফেললো। মেয়েটা দেখতে মাশাআল্লাহ বেশ সুন্দর, গাল দুটো টমেটোর মতো গোল গোল লাল টুকটুকে, গোল গোল চোখ, ফর্সা নাদুসনুদুস মিষ্টি একটা মেয়ে। ঘুমন্ত তোয়া কে কী সুন্দর লাগছে। কী সুন্দর করে ঘুমোচ্ছে কে বলবে এই মেয়ে পাকা বুড়ি। এখন দেখে মনে হচ্ছে এই মেয়ে ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে জানে না। ভেবেই লামিয়া হালকা হেঁসে তোয়া কে সরিয়ে দিয়ে তাঁর গাঁয়ে চাদর টেনে দিয়ে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।
নামাজ শেষ করে দু হাত পিছনে রেখে কিছু ভাবতে ভাবতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে শফিকুল সাহেব। হঠাৎ অসাবধানতায় কারোর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে নিলেই নিজেকে সামলে দাঁড়ালেন তিনি। ভ্রু কুঁচকে সামনে তাকাতেই দেখলো তাঁর সমান বয়সী একজন ভদ্রমহিলা রাস্তায় পরে আছে। গাঁয়ে তার অফ হোয়াইট রঙের শাড়ি। ঘোমটার কারণে ভদ্রমহিলার মুখ দেখ যাচ্ছে না। তবে ভদ্রমহিলা পরে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে তা বুঝতে বাকি নেই তাঁর। শফিকুল সাহেব চিন্তিত গলায় বললো ” আপনার বেশি লাগে নি তো?”
শফিকুল সাহেব এর কথা শুনে ভদ্রমহিলা টি রেগে গিয়ে বললো ” কানা নাকি চোখে দেখতে পারেন না? বুইড়া বয়সে যদি চোখেই না দেখেন তাহলে রাস্তায় বাইর হইছেন ক্যান?”
বলতে বলতে মাথা তুলে তাকালো ভদ্রমহিলাটি। শফিকুল খান ভদ্রমহিলার কথা শুনে রেগে কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হতেই ভদ্রমহিলার মুখ থেকে বিস্ফোরিত চোখে তাকালো ভদ্রমহিলার দিকে। ওপর দিকে ভদ্র মহিলাটি ও সেম ভাবেই তাকিয়ে আছে শফিকুল সাহেব এর দিকে।
সময়টা সন্ধ্যা ছয়টা।
“বড় চাচি, মেজ চাচি,সেজ চাচি, ছোট্ট চাচি কোথায় তোমরা?”
রাশেদা বেগম রান্নাঘর থেকে জবাব দিলো ” এইতো এখানে আমরা এখানে আয়।”
রাশেদা বেগমের কথা শুনে শারমিন রান্নাঘরে গেলো।
” বড় চাচি তোমরা কি করছো?”
” রাতের রান্না করছি আম্মা।” মিষ্টি হেঁসে শারমিনের প্রশ্নের রাশেদা বেগম।
তা দেখে শারমিন ও হেঁসে বলল ” দেখো মা তোমাদের সবার জন্য কি পাঠিয়েছে।”
লতিফা বেগম রান্না করতে করতে বললো ” কি পাঠিয়েছে?”
” গরম গরম সিঙ্গাড়া পাঠিয়েছে মেজ চাচি।”
রাশেদা বেগম কিছু বলার আগেই উপর রুম থেকে রাশেদের গলা ভেসে আসলো ” মা চা দিয়ে যাও।”
ছেলের কথা শুনে রাশেদা বেগম কপাল কুঁচকে বললো
” জমিদারের বাচ্চারা। এখন উঠার সময় হয়েছে তাদের।”
” আহা এমন করছেন কেনো বড় ভাবি? একটা দিন ই তো ঘুমিয়েছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।” রাশেদা বেগম এর কথায় বলে উঠলো তাহমিনা।
” হুমম..! আজকে সব গুলো এতোক্ষণ ঘুমিয়েছে দেখেই তো, আজকে মনে হচ্ছে এই বাড়িতে একটা মানুষ নেই। কেমন স্তব্ধ হয়ে আছে চারপাশ।”
” ঠিক বলেছিস তবে কেমন জানি ভালো লাগছে না এই শান্ত নিরিবিলি।”
মনিরা আর রাশেদা বেগম এর কথায় শারমিন ফিক করে হেসে বললো ” ঠিক বলছো বড় চাচি ওদের হট্টগোল ছাড়া একটুও ভালো লাগে না।”
টুকটাক কথা বলতে বলতে হাসতে লাগলো তাঁরা। তখনই আবারো রাশেদ ডেকে উঠলো ” মা এতোক্ষণ লাগে তোমার চা দিতে?”
রাশেদা বেগম রাগ দেখিয়ে বললো ” এখন এতো কাজের মধ্যে কীভাবে দিয়ে আসবো ওকে চা! সবসময় কাজের মধ্যে এটা ওটা আবদার করে বসে।”
রাশেদা বেগম এর কথা শুনে শারমিন বললো ” বড় চাচি তোমার কষ্ট করতে হবে না, তুমি চা করে দাও আমি দিয়ে আসছি।”
শারমিনের কথায় রাশেদা বেগম মাথা নাড়িয়ে চা বানাতে লাগলো।
লামিয়া গোসল শেষ হয়ে বের হতেই দেখলো তোয়া উঠে বসে আছে। লামিয়া চুল মুছতে মুছতে বললো
” উঠে পরেছিস?”
তোয়া চোখ ডলতে ডলতে বললো ” ইয়েস বিগ বস।”
” উঠে পরেছিস ভালো কথা। এখন দ্রুত আমার রুম থেকে বিদায় হ। তোর দাদী তোকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।”
” উফফ এই বুড়ি টা আমার জীবন টা হেল করে দিলো।”
” এই তোর বয়স ই বা কতো যে তোর জীবন হেল করে দিয়েছে? আর এতো পাকা পাকা কথা কোথা থেকে শিখেছিস তুই?”
” আমার বয়স আট। কতো বড় হয়েছি জানো তুমি? আর পাকা কথা ওইগুলো আবার কারোর থেকে শিখতে হয় নাকি? এই দেখে আমার পেট দেখেছো না? এখান থেকে বের হয় এমন পাকা পাকা কথা।”
” মাফ চাই বাপ আর কিছু বলিস না।তুই এখন যা তোর দাদী তোর জন্য অপেক্ষা করছে।”
তোয়া আর কিছু না বলে দৌড়ে চলে গেলো দাদীর কাছে।
লামিয়া তা দেখে রুমের দরজা লক করে আলমারি খুলতেই ঝপ্পর করে বেশ কিছু শপিং ব্যাগ লামিয়ার মুখে এসে পরলো। লামিয়া বিরক্ত হয়ে তাকালো ফ্লোরের দিকে। এতো গুলো ব্যাগ এখানে কেনো? কে রেখেছে এখান, ভাবতে ভাবতে ফ্লোর থেকে ব্যাগ গুলো তুলে নিয়ে বিছানায় রেখে আবার আলমারির দিকে এগোতেই দেখলো একটা রঙিন চিরকুট। লামিয়া তা দেখে ঝুঁকে ফ্লোর থেকে চিরকুট তুলে নিয়ে তাঁতে চোখ বোলাতেই লেখা দেখে ভ্রু নাচালো। চিরকুটে লেখা ছিলো ” এইগুলো শুধু তোমার জন্য প্রিয়তমা। কেমন হয়েছে পরে দেখবেন। আর পারলে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পিক পাঠিয়ে দিয়েন। এই ড্রেসে আমার জানু কে কেমন লাগে সেটা তো আমাকেও দেখতে হবে না কী? আমি আপনার পিক এর অপেক্ষা করবো। ইতি আপনার স্বামী। ”
লামিয়া ঠোঁট কামড়ে এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে।
সে অবশ্যই বুঝতে পেরেছে কে দিয়েছে এই গিফট। তা ভেবে হালকা হাসলো লামিয়া। বিছানায় পা তুলে বসে বেশ আগ্রহ নিয়ে শপিং ব্যাগ খুলতেই থ হয়ে গেলো।
বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দেখলো হাতের জামাটার দিকে। তারপর কিছু ভেবে দ্রুত সব গুলো শপিং ব্যাগ চেক দিতেই ভ্যাবলার মতো বসে তাকিয়ে রইল ড্রেস গুলো দিকে। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর দ্রুত উঠে দাঁড়ালো তারপর ভেজা চুল গুলো খোঁপা বেঁধে সব গুলো ড্রেস আবার ব্যাগে ভরে গাঁয়ে শাল জড়িয়ে বেরিয়ে গেলো শুভ্রা নিবাস এর দিকে।
দরজায় কড়া নড়তেই রাশেদ ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে দরজার দিকে দৃষ্টি ফেলতেই দেখলো শারমিন চায়ের কাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রাশেদ তা দেখে আস্তে করে বললো ” আসুন।”
শারমিন ধীর পায়ে এগিয়ে এসে টেবিলের উপর চায়ের কাপ রেখে কোনো কথা না বলে চলে আসতে চাইলেই রাশেদ পিছন থেকে বলে উঠলো ” চলে যেতে বলি নি..! তাহলে চলে যাচ্ছেন কেনো?”
রাশেদ এর কথায় শারমিন পা থামিয়ে পিছনে ঘুরে তাকালো। রাশেদ কোল থেকে ল্যাপটপ পাশে রেখে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে শারমিনের সামনে দাঁড়িয়ে বললো ” এখন থেকে কোথাও একা একা বের হবি না। কোনো কিছু প্রয়োজন হলে তোর বাবা – ভাইদের বলবি, আর যদি কোনো কিছু বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে বলবি আমি এনে দিবো। ”
শারমিন রাশেদের কথায় মাথা নাড়ালো। রাশেদ তা দেখে দরজার দিকে তাকালো তারপর মাথা নিচু করে শারমিনের কপালে চুমু খেতে দ্রুত সরে দাঁড়িয়ে বললো
” যা এখন।”
শারমিন মাথা নিচু করে লাজুক হেঁসে চলে গেলো রুম থেকে।
” মিষ্টার ডিটেকটিভ সাহেব কোথায় আপনি? বেরিয়ে আসুন এক্ষুনি।” বেশ চেঁচাতে চেঁচাতে বাড়িতে প্রবেশ করলো লামিয়া। তবে শুভ্রর কোনো সারা শব্দ নেই।
লামিয়া তা দেখে আবারো চেঁচিয়ে বললো ” মিষ্টার ফ্যালকন আমি ডাকছি আপনি কী শুনতে পাচ্ছেন?কোথায় আপনি?”
তবুও সারা শব্দ দিচ্ছে না শুভ্র। লামিয়া রেগে এইবার বেশ চেঁচিয়ে বললো ” শুভ্র ভাই কোথায় আপনি? আমি জানি আপনি বাড়িতে আছেন। তাই বলছি বেরিয়ে আসুন এক্ষুনি। ”
নিজের কক্ষে বসে শুভ্র ল্যাপটপে কাজ করতে করতে মুচকি হাসলো। সে এই ডাকের অপেক্ষায় ছিলঝ এতোক্ষণ। শুভ্র ল্যাপটপে চোখ রেখে হালকা জোরে বলে উঠলো ” আমি রুমে কাজ করছি। প্রয়োজন হলে আপনি উপরে আসতে পারেন।”
লামিয়া শুভ্রর কথা শুনে রেগে ধাম ধাম পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরের রুমে গিয়ে রেগে হুংকার দিয়ে বললো
” আপনার…..”
শেষ আর বলতে পারলো না তাঁর আগেই থমকে গেলো শুভ্র কে দেখে। একদফা প্রেমে ক্রাশ খেলো তাঁকে দেখে। লামিয়া মুগ্ধ নয়নে তাকালো শুভ্রর দিকে। গাঁয়ের সাদা শার্ট কালো প্যান্ট, চুলগুলো এলোমেলো, চোখে সাদা চিকন ফ্রেমের চশমা। চশমা পড়লে এই ছেলে কে এতো সুন্দর লাগে তা তো তাঁর জানা ছিলো না।
লামিয়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। শুভ্র তা দেখে হালকা হেসে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে বললো
“চোখ দিয়ে না গিলে কাছে এসেও গিলে খেতে পারিস। আমার কোনো আপত্তি নেই কিন্তু।”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার হুঁশ ফিরে। থতমত মুখ করে আমতা আমতা করে বলল ” খবরদার ফালতু কথা বলবেন না।”
” ফালতু কথা আমি বলেছি?”
” তা নয়তো কী। সবসময় ফালতু কথা বলা ছাড়া আপনার কী আর কোনো কাজ নেই নাকি?”
” আছে তো…! ”
” তাহলে ওই কাজ গুলোই করুন।”
শুভ্র কিছু না বলে লামিয়ার হাতের শপিং ব্যাগের দিকে তাকিয়ে হালকা হেঁসে বলল ” পেয়ে গিয়েছেন তাহলে গিফট? আমি জানি আপনি ধন্যবাদ দিতে এসেছেন। তবে ধন্যবাদ লাগবে না। শুধু একটু জড়িয়ে ধরলেই হবে।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া রেগে ব্যাগ গুলো শুভ্রর দিকে ছুঁড়ে দিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো ” অসভ্য লোক, ফালতু লোক। এসব কী ড্রেস দিয়েছেন আপনি? ছিঃ ছিঃ ছিঃ, লজ্জা করলো না এসব দিতে আমাকে? বুদ্ধি কী গোবর দিয়ে গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছেন নাকি?”
লামিয়ার কথায় আশ্চর্য হয়ে শুভ্রর বললো ” এসব কী বলছিস, আমি বুঝতে পারছি না তো। আর লজ্জা কেনো করবে?”
” ওও কচি খোকা তো আপনি তাই না। তাই আপনি কিছু বুঝতে পারছেন না। দেখুন ভালো করে ড্রেস গুলো দেখুন। আর আপনার বেশি পছন্দ হলে গাঁয়ে দিয়ে আশিক বানায়া গানে নেচে ভিডিও করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে দিয়েন কেমন??”
বলেই বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো। শুভ্র লামিয়ার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারলো না। জামাতে কোনো ভেজাল আছে নাকি ভেবেই ব্যাগ থেকে ড্রেস গুলো বের করতেই চোখ বড়বড় হয়ে গেলো মনে হচ্ছে চোখ গুলো বেরিয়ে আসবে। এসব ড্রেস তো সে দেয়নি তাঁকে। হঠাৎ চোখ পড়লো চিরকুট এর দিকে। চিরকুট হাতে নিয়ে পড়তেই শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” লাবিব এর বাচ্চা তোকে শুধু একবার পেয়ে নেই হাতের কাছে।”
বলেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে লাবিব কে ফোন করতে লাগলো।
গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে আছে যে যার রুমে।
শুধু ঘুম নেই ইসলাম বাড়ির ডাকাত দলের। তাঁরা কেনো যেনো আজ ভীষণ বিরক্তিকর মুডে আছে। লামিয়ার রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারজন। কারোর মুখেই কথা নেই। কপাল টা বেশ কুঁচকে রেখেছে চারজন। আজকে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। তাই কারোর চোখ খানাতে একটুও ঘুম নেই।
না লাগছে কোনো কিছু ভালো আর না আসছে চোখে ঘুম।
হঠাৎ তায়েব বিরক্ত হয়ে ‘চ’ শব্দ করে বললো ” বা”লের মাথা কিছুই ভালো লাগছে না।”
” আমারো না।” কপালটা কুঁচকে ই বলে উঠলো মাহির।
বলেই কিছুক্ষণ নীরবতা বিরাজ করলো রুম জুড়ে।
হঠাৎ তায়েবা লাফিয়ে বললো ” আয় কোনো কমেডি মুভি দেখি। কী বলিস??”
” আইডিয়াটা মন্দ নয়।” বলে উঠলো মাহির।
লামিয়া হাই তুলে মাথা নাড়িয়ে বললো ” ওকে! এই যা তায়েব বেশ কিছু খাবার নিয়ে আয়।”
লামিয়ার কথায় তায়েব চলে গেলো খাবার আনতে। লামিয়া বিছানা থেকে উঠে টেবিল থেকে ল্যাপটপ এনে বিছানায় বসলো।
ততক্ষণে তায়েব ও খাবার নিয়ে আসতেই সবাই গোল হয়ে বসলো সামনে ল্যাপটপ নিয়ে।
তায়েবা একটা হিন্দি কমেডি মুভি প্লে করলো।
কিছুক্ষণ মুভি দেখতে দেখতে হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের উপর পড়ছে। তবে আস্তে ধীরে হাঁসি হাসছে না কেউ রুম কাঁপিয়ে হাসছে চারজন।
এদিকে হাঁসি শুনে ঘুম ভেঙে গেলো মিলির বেশ বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে উঠে বসে কান পেতে শুনতে লাগলো এতো রাতে কোথা থেকে এতো উচ্চ স্বরে হাঁসির শব্দ আসছে।
ভালো করে কান পেতে শুনতেই বুঝলো লামিয়ার রুম থেকে হাঁসির শব্দ আসছে। মিলি বেশ বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে উঠে হাঁটা ধরলো লামিয়ার রুমের দিকে।
এদিকে গলা ফাটিয়ে হাসছে চারজন। মিলি লামিয়ার রুমের দরজা হালকা ধাক্কা দিতেই খুলে গেলো। তা দেখে মিলি রুমের ভিতর ঢুকতেই বিরক্ত হয়ে বললো
” এতো রাতে এইভাবে পাগলের মতো হাসছো কেনো তোমরা?”
মিলির কথা শুনে চারজন হাঁসি বন্ধ করে দরজার দিকে তাকাতেই দেখলো মিলি দাঁড়িয়ে আছে। সাথে সাথে চারজন ভ্রু উঁচিয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। তারপর আবার মিলির দিকে তাকালো।
” এখন হাসি আসলে কী হাসবো না?” মিলির কথার উত্তর দিলো মাহির।
” হাঁসি আসলে,হাসো মানা করেছে কে? তবে এতো রাতে এইভাবে গলা ফাটিয়ে হাসার মানে কী?”
” এটা কে গলা ফাটিয়ে হাসা বলে না। এটা কে মন খুলে হাসা বলে। যাঁরা মন খুলে হাসতে পারে তারাই প্রকৃত সুখী মানুষ। ” তায়েব বলে উঠলো।
” তোমরা প্রকৃত সুখী মানুষ ? এতো রাতে গলা ফাটিয়ে হেসে অন্যের ঘুম নষ্ট করে তোমরা প্রকৃত সুখী মানুষ তাই না??”
” জ্বি হ্যাঁ! আমরা ভীষণ, খাঁটি, ভেজালমুক্ত প্রকৃত সুখী মানুষ।” মিলির কথায় তায়েবা বলে উঠলো।
এদের কথা শুনে মিলির বেশ রাগ লাগছে। তাই দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” তোমরা প্রকৃত সুখী মানুষ নয় তোমরা হচ্ছো রাবিশ বুঝতে পেরেছো?”
এতোক্ষণ লামিয়া বেশ শান্ত ভাবেই সবার কথা শুনছিলো তবে মিলির কথা শুনে লামিয়া বাঁকা হেঁসে বললো ” প্রকৃত সুখী মানুষ আপনি চিনবেন কেমন করে? আপনি তো মানুষের সুখ দেখতে পারেন না দেখা যায়।আর দেখতে পারবেন কীভাবে, আপনার জীবন তো কোনো সুখ নেই মনে হয়।”
” এই মেয়ে তোমাকে কে বলেছে আমি সুখী না? আমি অবশ্য সুখী একজন মানুষ বুঝতে পেরেছো?” বেশ রেগে বললো মিলি।
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৬ (২)
মিলির কথায় লামিয়া বাঁকা হেঁসে নিজের ঘাড়ে হাত বোলাতে বোলাতে বললো ” বুঝলি তায়েব, তায়েবা, মাহির সুখ হচ্ছে পাদে র মতো , নিজের টা সহ্য হয় কিন্তু অন্যের টা না।”
লামিয়ার কথা শুনে মিলি দাঁতে দাঁত চেপে লামিয়ার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকালো। লামিয়া হাই তুলে অন্য দিকে তাকিয়ে আবার মিলির দিকে তাকিয়ে বললো
” কোনো কাজ না থাকলে এখন আসতে পারেন। আমার রুমে আমি আবার বেশি ভালো মানুষদের এলাউ করিনা। ”
মিলি লামিয়ার কথা শুনে আরো রেগে চোখ দিয়ে শাসিয়ে চলে গেলো। তা দেখে চারজন মুখ বাঁকিয়ে আবার বসে পরলো মুভি দেখতে।
