দহনসুধা পর্ব ১
১৫ জন রাইটার
-‘শেহরাজ পাটোয়ারী, দ্রুতই আমাদের এই জায়গাটা ছাড়তে হবে। খবর ভালো নয়। ওরা ওঁত পেতে আছে। সম্ভবত প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের লোকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।’
ফিসফিস করে বক্তব্যটি কানে কানে বলেই শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেল জাওয়াদ-এর। শ্বাসরুদ্ধতা সম্পূর্ণরূপে থামল না। ঠিক এই মুহূর্তের পূর্বে শেহরাজ পাটোয়ারী এতক্ষণ একটি বিশাল মঞ্চের উপরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। দীর্ঘ আকৃতির দেহ। পরিধানে ধবধবে শুভ্র পাঞ্জাবি। কপাল বেয়ে স্বেদের ধারা নামছে। রাজনীতি তার ক্ষেত্র নয়! তবে নামটা এখন বেশ যশস্বী। খুলনার বাগেরহাট অঞ্চলের এমপি শাহেদ পাটোয়ারীর সন্তান ডক্টর শেহরাজ পাটোয়ারী। তবে আজ পিতার অনুপস্থিতিতে শেহরাজকে এই জনসমাবেশে উপস্থিত হতে হয়েছে। শেহরাজ সাধারণত এই ধরনের আখড়ায় আসে না। আজ শুধু বাবার শূন্যতাটুকু পূরণ করে দিতে আসা। আর ঠিক তখনই! শেহরাজের ব্যক্তিগত সহকারী জাওয়াদ। সেই অশুভ সংবাদ নিয়ে উপস্থিত।
সময়কাল ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ।
পাটোয়ারী পরিবারের খ্যাতি তখন সমগ্র বাগেরহাট মহলে বিরাজমান। কিন্তু রাজনীতি এমনই এক বিষয়। এখানে প্রতিপক্ষ অবশ্যই থাকবে। পাটোয়ারীদের জন্মগত শত্রু হলো ওয়াজেদ বংশ। পৃথিবীতে এমন কিছু বিষয় আছে যার হিসেব মেলে না, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তাই। শেহরাজ এক মুহূর্তও আর দণ্ডায়মান রইল না। সংক্ষিপ্ত দু-চারটি কথা বলেই বিদায়ের ঘোষণা করলেন। মঞ্চ থেকে অবতরণ করে জনসাধারণের ভিড় অপসারণ করে যখন গাড়ির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তখনই শ্রবণগোচর হলো বিভৎস হট্টগোলের শব্দ। মনে হলো, সমাবেশের মধ্যখানে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শেহরাজকে তাড়াতাড়ি করে বুলেট প্রুফ গাড়িতে বসিয়ে দেওয়া হলো। একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করল সে। হয়তো আর সামান্য বিলম্বে হলেই এই অশান্তির পাঁকে সেও জড়িয়ে পড়ত।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
বিস্ময়কর কাণ্ড! শেহরাজ চলে যেতে না যেতেই জনতার ভিড়ে শুরু হলো এক এলাহি গণ্ডগোল। বিষয়টা এত দ্রুত ঘটল যে কেউ যেন কিছু অনুধাবন করতে পারল না। দেখতে দেখতেই জনসাধারণ পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে দিল। অনেকেই ধাক্কাধাক্কির কারণে পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে গেল। আহত হলেন বেশ কয়েকজন। র-ক্তপাত শুরু হয়ে গেল। সংবাদ পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হলো। তারা লাঠি উত্তোলন করে ধাবিত হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। এক বিশাল দাঙ্গা। এই জনসমাবেশ নিমেষে যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। আহত মানুষগুলোকে তাড়াতাড়ি করে রিকশা আর ভ্যানে তোলা হচ্ছে। হাসপাতালে নিতে হবে। যত শীঘ্র সম্ভব। মানুষগুলো বেদনায় আর্তনাদ করছে! আর এই দৃশ্য দেখতে দেখতে বাকিদের বুক শুকিয়ে আসছে।
এদিকে, এই গোলযোগের বার্তা দ্রুত পৌঁছে গেল পাটোয়ারী বাড়িতে। শাহেদ পাটোয়ারী তাঁর সুবিশাল ক্ষেত্রের মাঝখানে বেত নির্মিত আসনে নিশ্চুপ বসে আছেন। তাঁর মুখমণ্ডলে গভীর উদ্বেগের ছাপ। তিনি সামান্য অসুস্থ! দেহ ভালো যাচ্ছিল না। এই অসুস্থতার জন্যই আজ তিনি জনসভায় গমন করতে পারেননি। তাঁর একমাত্র তনয়, স্নেহের ধন, শেহরাজ গিয়েছিল। আর ওয়াজেদ পরিবার ঠিক সেই সুযোগটাই লুটে নিল। সুবিধাবাদী মানুষ সব।
আকাশে সূর্য এখন পুরো তেজ নিয়ে দীপ্ত হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতির এই উষ্ণতা ভেতরের উত্তেজনারই প্রতিবিম্ব। হঠাৎই শাহেদ পাটোয়ারীর সহধর্মিণী, সালমা পাটোয়ারী এসে উপস্থিত হলেন। একটা বেতের আসন টেনে নিলেন স্বামীজির পাশে। চারপাশে নিরাপত্তাকর্মীরা সতর্ক দৃষ্টিতে পাহারা দিচ্ছে। এই বিশাল বাড়িতেও শান্তি নেই। সালমা পাটোয়ারী শাড়ির আঁচল খুব যত্নের সঙ্গে কাঁধের ওপর তুলে নিলেন। তারপর এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে, সরাসরি প্রশ্ন নিক্ষেপ করলেন।
-‘শেহরাজ ঠিক আছে? ওর কোনো ক্ষতি হয়নি তো?’
শাহেদ পাটোয়ারী গগণমণ্ডলের দিকে একবার তাকালেন। তারপর স্ত্রীর দিকে প্রশান্ত চোখে তাকিয়ে শুধালেন।
-‘হ্যাঁ। কোনো চিন্তা করো না। ঝামেলা শুরু হওয়ার আগেই সে গাড়িতে ওঠে পড়েছিল। ড্রাইভার জানালো! সে রাস্তার মাঝপথে আছে। এই মুহূর্তে এসে পৌঁছাবে।’
বচনটি তিনি উচ্চারণ করলেন বটে, কিন্তু তার নিজের মনের ভয় তাতেও কমলো না। তার ললাটে উদ্বেগের রেখাগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠলো যেন। মানুষটার মন বলছে! কিছু একটা অমঙ্গল হবেই। এমন একটা আশঙ্কা তাকে অভ্যন্তরীণ দিক থেকে নিরন্তর কষ্ট দিচ্ছে। সমষ্টিগতভাবে একটা অস্বস্তিকর আবহাওয়া।
অর্ধ প্রহর গত হতেই পাটোয়ারী বাড়ির ফটকে শেহরাজের গাড়ি বহর প্রবেশ করলো। তার ব্যক্তিগত সহকারী, জাওয়াদ, সে-ই আগে নেমে গাড়ির দ্বার উন্মোচন করে দিল। শেহরাজ নামলো। কোনো বিকার নেই তার চালচলনে। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলেন বাবা শাহেদ পাটোয়ারীর সম্মুখে। ছেলের সুস্বাস্থ্য দর্শনে শাহেদ পাটোয়ারীর মন থেকে যেন একটা গাঢ় মেঘের আবরণ সরে গেল, ঘোর নাশ হলো বৈকি!
“শেহরাজ,” শাহেদ পাটোয়ারীর কণ্ঠে উদ্বেগের স্বর, -‘এইসব অপ্রয়োজনীয় ঝঞ্ঝাটে তোমার কোনো প্রকার সমস্যা হয়নি তো? উপরমহল থেকে বারেবারে আমার কাছে ফোন আসছে, কেবল তোমার খোঁজ জানার জন্য।’
শেহরাজ তার হাতে থাকা দৈনিক পত্রিকার পাতাগুলো হাতে তুলে নিল। পায়ের উপর পা তুলে বসল। তার মুখাবয়বে গাম্ভীর্যের প্রলেপ। শীতল স্বরে শুধাল।
-‘শেহরাজ পাটোয়ারী এই ধরনের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কদাচ ভীত হন না, আব্বাজান। শুধুমাত্র আপনার মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আমি পিছু হটেছি। নইলে এহেন কাপুুরুষকে স্বয়ং পরীক্ষা করে দেখতাম, কে সাহস দেখায় সামনে দাঁড়াবার।’
শাহেদ পাটোয়ারী একটা ঢোঁক গিললেন। ছেলের এই কঠোর দৃঢ়তা তাকে সবসময়ই অত্যন্ত ভাবিয়ে তোলে। একমাত্র ছেলে বলে কথা! রাজনীতির প্রাঙ্গণে দাবার চালের রাজা কোন দিক দিয়ে তার পদক্ষেপ ফেলবে, সেটা অনুধাবন করা বড়ই কষ্টসাধ্য।
মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন চলছিল পাটোয়ারী বাড়ির ভোজনালয়ে। এখন বেলা প্রায় তিনটে। শেহরাজের বিলম্বিত প্রত্যাবর্তনের কারণেই দুপুরের খাবার খেতে অপ্রত্যাশিতভাবে দেরি। খাওয়ার মাঝেও নানা জনের মুখে নানা আলোচনা উঠে এলো।
-‘এই ওয়াজেদ পরিবার ইদানিং বেশি বাড়াবাড়ি করছে। আজকের ঘটনা তো তাদের নিকৃষ্টতম কাজ। এর জন্য তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার।’
-‘ঐ ওয়াজেদ পরিবারে আমাদের শেহরাজ কর্তার ক্ষতির চেষ্টা করেছে। আমরা তাদের এত সহজে ছাড় দিব না। বড়ো কর্তা, আপনি শুধু একবার আদেশ করুন। আমরা তাদের কুরবানী করে ফেলব।’
এ ধরনের বহুবিধ বাক্যালাপ চলছে ভোজনালয়ে। কিন্তু শেহরাজ এর একটা কথারও জবাব দিলেন না। সে নিজের মতো করে মোরগ পোলাও খেতে ব্যস্ত। এদিকে শাহেদ পাটোয়ারীর ছোটো ভাই, শোহেব পাটোয়ারী, হাসপাতাল ভর্তি হওয়া আহত মানুষগুলোর সংবাদ নিতে ব্যস্ত। তাদের বর্তমান অবস্থা কেমন, পরিস্থিতি আরও অশুভ রূপ ধারণ করেছে কিনা! সেই তথ্যানুসন্ধানই চলছে।
সন্ধ্যার আঁধার গাঢ় হয়ে নেমেছে। দিন শেষের ফিকে রোশনাইটুকুও বুঝি বিদায় নিয়েছে ধরণী থেকে। ওয়াজেদ পরিবারদের সুবিশাল বাড়ি। এটিকে ‘বাড়ি’ না বলে প্রাসাদোপম অট্টালিকা বলাই শ্রেয়। দুই তলা। কিন্তু প্রতি ইঞ্চি জুড়ে বিলাসিতার প্রাচুর্য। সহসা, এই বিশালত্বের কর্তা ওমর ওয়াজেদ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। মানুষটা শাহেদ পাটোয়ারীর চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বী। বয়সের কাঁটা পঞ্চাশের ঘর পার হলেও তার মেজাজে যেন এখনো যৌবনের তীক্ষ্ণতা। কিন্তু আজ সেই তীক্ষ্ণতা ঢাকা পড়েছে এক গভীর উদ্বেগে। তিনি ড্রয়িংরুমে একটা দামি সোফায় গা এলিয়ে বসে আছেন। পাশে তিন-চারজন অনুচর অমাত দাঁড়িয়ে। তাদের চোখেও এক প্রকারের অস্থিরতা। ওমর ওয়াজেদ ঘন ঘন ডাবা ফুঁকছেন। ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কক্ষের সিলিং-এ। ওমর ওয়াজেদের বড়ো ছেলে শুদ্ধ ওয়াজেদ বাবার এই ভাবলেশহীন মুখটি দেখছিলেন। একসময় কপালে আঙ্গুল ঘষতে ঘষতে তিনি প্রশ্ন করলেন।
-‘উমেরা কোথায়, মামা?’
পাশের অনুচরদের একজন বিনীতভাবে জবাব দিল।
-‘উমেরা মামুনি তো এখনো মেডিকেল কলেজ আছেন। তিনি এখনো ফেরেন নি।’
উমেরা ওয়াজেদ হলো ওমর ওয়াজেদের একমাত্র মেয়ে। এই পরিবারের ওপরই বর্তেছে শেহরাজ পাটোয়ারীর ওপর হামলার গুরুতর সন্দেহ। পাটোয়ারী পরিবারের ধারণা, কাজটা ওয়াজেদ পরিবারই করিয়েছে। কিন্তু ওয়াজেদ পরিবারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের স্থির বিশ্বাস, এই অপকর্মটি তারা করেনি। বরং পাটোয়ারী পরিবারেই এক নির্দয় কৌশল ফেঁদেছে! মিথ্যা অপবাদ আরোপের জন্য নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা করেছে। যেন লোকচক্ষে সহানুভূতি আদায় করা যায়।
ডাবার নলটি নামিয়ে রেখে ওমর ওয়াজেদ হঠাৎই বলে উঠলেন।
-‘আমাদের পার্টির কোনো ছেলে এসবের সঙ্গে জড়িত নয়। এ হলো তাদেরই কুচক্র। আমাদের ফাঁসানোর জন্য। যাতে জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন পাওয়া যায়।’
শুদ্ধ সায় দিয়ে মাথা নাড়লেন।
-‘ঠিক বলেছেন, আব্বাজান। এই বিষয় নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। নয়তো কখন যে আমরা বিপদের মুখে পড়ি। আর ঐ শেহরাজকে তো আমি অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষা দেবোই।’
ড্রয়িংরুমের গুমোট ভাব আরও ঘনীভূত হলো আলোচনায়।
রাত তখন ঠিক আটটা। ঘড়ির কাঁটা দুটো যেন শ্লথ আছে এই নির্দিষ্ট সময়ে। শেহরাজ পাটোয়ারী এসে পৌঁছালেন এস.পি.জে. হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। হাসপাতালটি কেবল ইট-কাঠের দালান নয়। এটি পাটোয়ারী পরিবারের প্রধান, শাহেদ পাটোয়ারীর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। জনগণের কল্যাণার্থে এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি। অল্প ব্যয়ে এখানে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা মেলে। তাই খুলনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এর নামধাম আকাশছোঁয়া। এখানে সব নামজাদা ডাক্তার রয়েছেন। আর স্বয়ং কার্ডিয়াক সার্জন ডক্টর শেহরাজ পাটোয়ারীও তাঁদের একজন।
দুপুরের মিছিলে ঘটে যাওয়া দাঙ্গা-হাঙ্গামায় বহুমানুষ আহত হয়েছেন। নিয়তির নির্মম পরিহাসে, আহতদের স্থান হয়েছে এই এস.পি.জে. হাসপাতালেই। তাই সবকিছু পর্যবেক্ষণ করার জন্যই শেহরাজের আগমন।
তার বলিষ্ঠ দেহে আবৃত সাদা ডক্টরের অ্যাপ্রন। চোখে চিকন সাদা ফ্রেমের চশমা। গায়ের রঙ শ্যামলা হলেও তাতে একটা উজ্জ্বলতা রয়েছে। ক্লিন শেভ দেওয়া। হাতে একটা মেডিকেল রেজিস্ট্রার খাতা।
অর্ধেক ঘণ্টা ধরে শেহরাজ প্রতিটা ওয়ার্ডে গেলেন। প্রতিটি রোগীর খবর নিলেন। চিকিৎসার খোঁজখবর নিলেন। এরপর মনটা যেন কীসের টানে অস্থির হয়ে উঠল। তিনি তিন তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে সোজা নামলেন নিচতলায়। হাসপাতালের দক্ষিণ দিকে সেই চিরন্তন গভীর নিস্তব্ধতার কক্ষ–মর্গ।
ঠোঁটে মাস্কটি এঁটে তিনি মর্গের ভেতরে প্রবেশ করলেন। চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলেন। সদ্য প্রয়াত কিছু রোগীর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিছুদূর হাঁটতেই একটি নির্দিষ্ট লাশের শবাধারের সামনে এসে তার পা যেনো শ্লথ গেল। তিনি আস্তে আস্তে লাশের ওপর বিছানো সাদা চাদরটি ওপরে তুললেন। ভেতরে একটা নিথর দেহ। পেটের বাম পাশে! ঠিক কিডনির সাইডে! একটা অপারেশনের সুদীর্ঘ দাগ। দৃশ্যটা দেখামাত্রই শেহরাজের মুহূর্তেই মুখমণ্ডল রক্তিমাভ হয়ে উঠল।
