Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৬ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৬ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৬ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

গাছের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখেছে তোয়া কে। গা থেকে টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। তাঁর নিচেই বিছিয়ে রেখেছে বরই কাঁটা। তা দেখে তোয়া কান্না করছে ভয়ে । কিছুক্ষণ আগেই তাঁকে পুকুরে নিয়ে চুবিয়ে এনেছে। পাঁচবার চুবাতেই মেয়েটার চোখ মুখ লাল টুকটুকে হয়ে গেছে। তাই আর না চুবিয়ে গাছের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখেছে চারজন।
তাঁর সামনেই পায়ের উপর পা তুলে চেয়ারে আড়াম করে বসে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে পেয়ারা খাচ্ছে চারজন। তোয়া ভয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছে।
কারোর ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ শুনে শুভ্র ভ্রু কুঁচকে হাঁটা থামিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কোথা থেকে আসছে কান্নার শব্দ। পুকুর থেকে শব্দ আসছে দেখে শুভ্র সেদিকে এগিয়ে যেতেই হা হয়ে গেলো।

” তোদের কি আক্কেল নেই কোনো? ছোট্ট বাচ্চা ভুল করতেই পারে তাঁর জন্য তাকে এইভাবে শাস্তি দিবি?” পিছন থেকে বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো শুভ্র।
পেয়ারা চিবোতে চিবোতে চারজন ঘাড় ঘুরিয়ে চারজন পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো শুভ্র রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
শুভ্র এগিয়ে গিয়ে কাঁটা সরিয়ে তোয়ার পায়ের বাঁধন খুলে কোলে তুলে নিলো। তারপর রাগ দেখিয়ে চারজনের উদ্দেশ্যে বলল ” তোদের মনে কি মনে কী মায়া দয়া কিছু নেই? বাচ্চার সাথে এমন করতে পারিস তোরা?”
লামিয়া পেয়ারায় কামর বসিয়ে চিবুতে চিবুতে বললো

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” আপনার মায়া দয়া আছে তো?”
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র কপাল কুঁচকে এগিয়ে গিয়ে লামিয়ার সামনে দাঁড়ালো। তারপর খপ করে চুলের মুঠি শক্ত করে ধরতেই লামিয়া চোখ মুখ কুঁচকে বন্ধ করে ফেললো।
” বড্ডো বেশি পটর পটর করিস তুই। তুই যেই কাহিনী করিস সেই কাহিনীর জন্য তোকে যদি এর চেয়ে বেশি শাস্তি দেই সহ্য করতে পারবি তো?”
লামিয়া চোখ খুলে শুভ্রর দিকে তাকালো। তারপর তাচ্ছিল্য হেঁসে বললো ” আপনি আমাকে শাস্তি দেওয়ার আগে, নিজের দিকটা দেখুন। ”

শুভ্র লামিয়ার চুল ছেড়ে লামিয়ার গাল শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তোয়া বলে উঠলো ” না না হ্যান্ডসাম বয় শুনো মেরো না বস কে।”
বস কথাটা শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকালো তোয়ার দিকে। লামিয়া কপাল কুঁচকে তাকালো তোয়ার দিকে। শুভ্র তোয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” বস মানে?”
তোয়া লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বললো ” হুমম বস, আমার কাজে ওদের চারজন কে বেশ ভালো লেগেছে। আজ থেকে ওরা আমার বস।”
শুভ্র তা শুনে চিন্তিত হয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে বললো
” এসব কি বলো তুমি? ওরা তো পঁচা ছেলে মেয়ে, তোমাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিলো না তাহলে কেনো এসব বলছো? তুমি তো গুড গার্ল তাই না।”

শুভ্রর কথা শুনে তোয়া লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দু হাত মেলে দিলো। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে অন্য দিকে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলো। তোয়া লামিয়ার কোলে যাওয়ার জন্য হাত মেলেই আছে। তা দেখে শুভ্র লামিয়া কে ধমকে বললো ” দেখছিস না তোর কোলে যাবে কোলে নে ওকে..!”
শুভ্রর ধমক খেয়ে লামিয়া ভোঁতা মুখ করে তোয়া কে কোলে তুলে নিলো। তোয়া লামিয়ার কোলে গিয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ” আমি গুড গার্ল হতে চাই না। আমি সবসময় ভিলেন হতে চাই। ঠিক বস দের মতো। আজ থেকে ওরা আমার গুরু আর আমি তোমাদের শিষ্য ঠিক আছে। আমি যতোদিন এখানে থাকবো ততদিন তোমাদের হয়ে কাজ করবো।”

তোয়ার কথা শুনে সবাই আশ্চর্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে তাকিয়ে। এইটুকু মেয়ের পেটে এতো কথা কোথা থেকে আসে ভেবে পাচ্ছে না তারা।
তোয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আবার বললো ” শুনো হ্যান্ডসাম বয় তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি বড় হয়ে তোমাকে বিয়ে করতে চাই, করবে আমাকে বিয়ে?”
তোয়ার কথা শুনে লামিয়া মুখ চুপসে ফেললো। ওইদিকে লামিয়ার চেহারা দেখে তায়েব, মাহির, তায়েবা মুখ টিপে হাসছে। শুভ্র লামিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে তোয়াকে বললো ” তাই তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও?”
” হুমম সত্যি খুব করে চাই। তোমাকে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তুমি দেখতে সুন্দর পুরো হিন্দি মুভির নায়কদের মতো। আর দেখো তোমার গাঁয়ের রং আর আমার গাঁয়ের রং সেম সেম।”
” তা তো বুঝলাম কিন্তু তুমি বড় হতে হতে তখন আমি বুড়ো হয়ে যাবো। তখন কি তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাইবে?”

” হ্যাঁ কেনো চাইবো না..! তুমি বুড়ো হয়ে গেলেও আমি তোমাকে বিয়ে করবো। আমার জন্য কী তুমি অপেক্ষা করতে পারবে?”
শুভ্র গালে হাত দিয়ে ভাবুক কন্ঠে বলল ” এতো সুন্দর বউ যদি বুড়ো বয়সে পাই তাহলে কিন্তু মন্দ হয় না..! ঠিক আছে করবো তোমার জন্য অপেক্ষা কেমন?”
শুভ্রর কথা শুনে তোয়া খুশিতে লামিয়ার কোলে লাফিয়ে উঠলো। এদিকে লামিয়া মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে তায়েব, মাহির, তায়েবা মুখ চেপে হাসছে।
তোয়ার খুশিতে গদগদ করে বললো ” তাহলে এখন একটা চুমু দাও আমার গালে।”
কথাটা শুনে লামিয়ার চোখ আরো বড় বড় হয়ে গেলো।
শুভ্র তা দেখে ঠোঁট কামড়ে হাঁসি কন্ট্রোল করে বললো
” চুমুও খেতে হবে?”
” হুমমম আমার গালে চুমু দিতে হবে।”

শুভ্র মাথা নাড়িয়ে পা ফেলে একদম লামিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। তা দেখে লামিয়া এক পা পিছিয়ে গেলো। শুভ্র তা দেখে আবার পা এগিয়ে সামনে গেলো, লামিয়া এবার পিছাতেই শুভ্র লামিয়ার কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে একদম নিজের কাছে টেনে দাঁড় করালো।
তা দেখে তায়েব, মাহির, তায়েবা পেয়ারা খেতে খেতে উল্টো দিকে ঘুরে হাঁটা ধরলো। তাঁদের এখানে এখন আর কাজ নেই। পিছনে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা তাঁরা ঘুরেও তাকাবে না।
লামিয়া শুভ্রর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য নড়াচড়া করে উঠতেই শুভ্র এবার খামচে ধরলো। লামিয়া এবার আর নড়াচড়া না করে ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
তোয়া ছটফট করে বলে উঠলো। ” কি হলো? দাও চুমু।”
শুভ্র তা শুনে একটু ঝুঁকে বললো ” দিবো তো প্রিন্সেস তবে তুমি চোখ বন্ধ করো।”

” কেনো চোখ বন্ধ করতে হবে কেনো?”
” বড়রা চুমু খেলে চোখ বন্ধ করতে হয় তাই তুমি ও করো।”
” সত্যি?”
” ইয়েস প্রিন্সেস।”
তোয়া আর কথা না বলে ঝটপট চোখ বন্ধ করে নিলো।

তোয়া চোখ বন্ধ করতেই শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো লামিয়া বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে লামিয়ার কপালে চুমু খেলো। লামিয়া চমকে উঠে শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র আরো একটা চুমু খেলো গালে। লামিয়া হা করে শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র হালকা হেঁসে তোয়ার গালে চুমু দিলো।
চুমু পেয়ে তোয়া ভীষণ খুশি। চোখ খুলে শুভ্রর দিকে তাকাতেই লজ্জায় লাল টুকটুকে হয়ে উঠে দু হাত দিয়ে
মুখ ঢেকে নিলো। তা দেখে শুভ্র শব্দ করে হেঁসে উঠলো। তারপর একটু ঝুঁকে লামিয়ার কানে ফিসফিস করে বললো ” দেখ এইটুকু মেয়ে লজ্জা পাচ্ছে। কিন্তু দেখ তুই কেমন নির্লজ্জের মতো চোখ দিয়ে গিয়ে খাচ্ছিস আমাকে। একটু তো লজ্জা পা নতুন বউয়ের মতো। তোকে লজ্জা পেতে দেখার আমার এক আকাশ সমান ইচ্ছে। কিন্তু তোর মধ্যে তো কোনো লজ্জার ল ও নেই নির্লজ্জ মহিলা। একটু তো ভান ও করতে পারিস লজ্জা পাওয়ার।”

বলেই ঠোঁট উল্টালো। লামিয়া তা দেখে চোখ রাঙিয়ে উল্টো পথে হাটা ধরলো। তোয়া এক হাত দিয়ে লামিয়ার গলা পেঁচিয়ে অন্য হাত দিয়ে শুভ্র কে টাটা দিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলো ” আই লাব ইউ হ্যান্ডসাম বয়। আবার দেখা হবে।”
শুভ্র তা দেখে সেও টাটা দিয়ে বললো ” লাভ ইউ টু প্রিন্সেস বায়।”
লামিয়া চোখের আড়াল হতেই শুভ্র হেঁসে উঠলো। তোয়ার মাঝে আজ লামিয়ার ছোট্ট বেলার পাগলামি দেখেছে। হাঁসি মুখেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হাঁটা ধরলো বাড়ির উদ্দেশ্যে।

সময়টা সন্ধ্যা ছয়টা।
নভেম্বর মাস শুরু হতে না হতেই হালকা শীত শীত ভাব চারদিকে। এই শীতের মধ্যে তাঁর উপর আজ সবাই বাইক নিয়ে বের হবে। আজ রাত টা বেশ জমিয়ে ঘুরা ঘুরি করবে সবাই।
যে যার যার বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির বাহিরে। খান ও ইসলাম বাড়ির ছেলের গ্রুপ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে মেয়েদের জন্য। কিন্তু কারোর আসার নাম গন্ধ নেই। তা দেখে লাবিব বিরক্ত হয়ে বললো ” এতো কী সাজা সাজি করছে ওরা ভিতরে? এতক্ষণ লাগে আসতে?”

তায়েব মোবাইলে গেম খেলতে খেলতে বললো ” সব মেয়েদের খবর জানি না তবে লামিয়া আর তায়েবা অনেক আগেই রেডি হয়ে গিয়েছে। ওরা বসে আছে তোমাদের বউদের জন্য।”
মাহির হুডির ফিতা দিয়ে খেলতে খেলতে বললো ” হুমম লামিয়া আর তায়েবা সবসময়ই আগে রেডি হয়ে যায়। ওদের আবার মুখে আটা ময়দা ঘষতে হয় না। এর জন বেশি ভালো লাগে ওদের। কোথায়ও গেলে ঝটপট রেডি হয়ে যায়।”
মাহিরের কথায় তায়েব মাথা নেড়ে সাই দিলো।
কথার মাঝেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো মেয়েদের গ্রুপ। আবির সামনে তাকাতেই তাদের দেখে বললো

” ওইতো এসে গিয়েছে তাঁরা।”
আবির বলতেই সবাই চোখ ঘুরিয়ে মেয়েদের দিকে তাকালো। শুভ্র ফোন পকেটে রেখে পিছনে ঘুরে শ্যামবর্ণের রমণীর দিকে আগে দৃষ্টি ফেললো। লামিয়ার দিকে তাকাতেই চোখ ছানা বড় করে ফেললো ।
লামিয়ার পরনে আজ ভিন্ন পোষাক। গাঁয়ে তাঁর কালো হুডি, বেইজ কালারের কার্গো প্যান্ট, লম্বা চুল গুলো আগের মতোই বেণী করা সামনে দিয়ে কপালে ছড়িয়ে আছে বেবি হেয়ার গুলো, পায়ে কালো কেডস জুতো।
তা দেখে শুভ্র ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে পাশে থাকা তায়েব আর মাহিরের দিকে তাকালো। তাঁদের গাঁয়ে ও সেম হুডি। তারমানে চারজন আজ জুট্টি করে এক সাজ দিয়েছে। দেখেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আবার লামিয়ার হুডির দিকে তাকালো হুডির গাঁয়ে নারুতো এনিমি সব ক্যারেক্টার কে একসাথে করে প্রিন্ট করা। এরা চারজন তো আবার এনিমি দেখে সে ভুলেই গিয়েছিলো। ভাবনার মাঝেই হঠাৎ তোয়ার ডাক শুনতে লাগলো।
” হ্যান্ডসাম বয়, এইইই হ্যান্ডসাম বয়।” বলতে বলতে দৌড়ে আসছে তাঁর কাছে।
শুভ্র তা দেখে হালকা হেসে ধরে কোলে তুলে নিলো তোয়া কে। সবাই এগিয়ে আসতেই সাফওয়ান বলে উঠলো। ” এতোক্ষণ লাগে তোদের? সেই কখন থেকে ওয়েট করছি তোদের জন্য।”
হামিদা হালকা হেঁসে জবাব দিলো ” একটু ওয়েট করলে কিছু হয় না স্বামী।”
হামিদার কথায় সাফওয়ান মুচকি হেসে বলল ” আপনার জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করতেও আমার সমস্যা নেই বউ।”
বলেই দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসলো।

” তোদের প্রেম পিরিতি শেষ হলে এখন আমরা কোথায় যাবো জানতে পারি??” বলে উঠলো লামিয়া।
” আজকে আমরা প্রথমে শপিংয়ে যাবো, তারপর প্রচুর শপিং করে ঘুরা ঘুরি করে, খাওয়া দাওয়া করে তারপর বাসায় আসবো।” বেশ খুশি হয়ে বললো ছবি।
ছবির কথা শেষ হতেই রাশেদ তাঁরা দিলো সবাইকে বের হবার জন্য।
এখন কে কার সাথে যাবে সেটা ঠিক করা হলো
আবির – লামহা, সাফওয়ান – হামিদা, আরিফ – আয়না, রাশেদ – শারমিন, জাহিদ – তায়েবা, শুভ্র – লামিয়া, তায়েব- ফারিয়া, মাহির – হাফসা আর লাবিব ছবি এক সাথে যাবে।
তবে এই নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে তায়েবা আর লামিয়া। তাঁরা শুভ্র আর জাহিদের সাথে যাবে না। তাঁরা মাহির আর তায়েব এর সাথে যাবে। সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এই দিকে মাহির আর তায়েব ও তাদের নিবে না তারাও সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
এই নিয়ে চারজনে মধ্যে ভীষণ তর্কাতর্কি হয়ে গেলো। রাশেদ এক ধমক দিয়ে বলল ” সে যেভাবে বলেছে ঠিক সেইভাবেই যেতে হবে।”
তা শুনে লামিয়া আর তায়েবা মুখ গোমড়া করে দুজন দুজনের বাইকে উঠে বসলো। শুভ্র আর জাহিদ মুখ টিপে হাসলো।

” ধরে বসুন মেডাম পড়ে টরে কোমড় ভাঙলে আমি ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।”
” কোমড় ভাঙলে ঘরে বসে থাকবো। রাস্তায় বসে ভিক্ষা করবো, সারাজীবন কুমারী থাকবো তবুও আপনার মতো কাউকে বিয়ে করবো না।” বলেই মুখ ফোলালো তায়েবা।
তায়েবার কথায় জাহিদ মাথা নাড়িয়ে বললো ” তা দেখে যাবে। এমন এক দিন আসবে , যেদিন আপনি নিজে থেকে আপনাকে আমার কাছে সঁপে দিবেন। সেদিন কিন্তু বেশি দেরি নেই মেডাম।”
জাহিদের কথা শুনে তায়েবা রেগে জাহিদের কাঁধ খামচে ধরে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো ” দেখা যাবে।”
” আআআ তুই একটা জংলি বিড়াল।”
” ভালো হয়েছি আমি জংলি বিড়াল। কোনো সমস্যা আপনার?”
” কোনো সমস্যা নেই বরং আমার সুবিধা । আমার আবার বিড়াল মারতে ভালো লাগে। ”
জাহিদের কথায় তায়েবা বিরক্ত মুখ করে বিরবির করে বললো ” বিরক্তিকর লোক।”
তা শুনে জাহিদ হাসলো।

” ইয়েএএ হ্যান্ডসাম বয় এর সাথে বাইক ডেটে যাবো।”
খুশিতে লাফিয়ে বললো তোয়া।
তার কথা শুনে লামিয়া আর শুভ্র অবাক হলো না এবার। কারণ তাঁরা আগেই বুঝে গিয়েছে এই মেয়ে পেকে গিয়েছে। তোয়া কে দেখে দুজন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। লামিয়া ভ্রু নাচিয়ে বললো ” কী সমস্যা?”

” ওকে কোথায় বসাবো?”
” আমার ঘাড়ে বসান..! এমনেই আশার পর থেকে ঘাড়ে উঠে বসে আছে।”
” যদি ঘাড়ে নিয়ে সারা রাস্তা পারি দিতে পারিস তাহলে নে তোর ঘাড়ে।”
” আপনি কী মজা করছেন?”
” একদম না। তোর কথায় আমি জবাব দিলাম।”
” বড্ড উপকার করেছেন জাবাব দিয়ে। আপনার জবাব শুনে আমি ধন্য হয়ে গেলাম।”
” এতো সুন্দর জবাব শুনে যেহেতু ধন্য হয়ে গিয়েছিস তাহলে এই খুশিতে তো কিছু দিতেই পারিস তাই না?”
” ঘাড়ত্যাড়া দেখেছি কিন্তু আপনার মতো ঘাড়ত্যাড়া কোথাও দেখিনি।”
” তুই যেমন আমিও তেমন। যেমন বউ তাঁর তেমন জামাই না হলে কী চলে?”
লামিয়া এইবার বেশ বিরক্ত হয়ে ” চ ” শব্দ করলো।
শুভ্র তা দেখে বললো ” ওকে মাঝে বসা তাহলেই হবে।”

বলেই বাইকে উঠে বসলো। লামিয়া তোয়া কে কোলে করে তুলে বাইকে বসিয়ে নিজেও উঠে বসলো।
শুভ্র বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বললো ” ধরে বস, আর তোয়া কে ও সাবধানে রাখিস। ”
লামিয়া ভেংচি কেটে তোয়া কে ধরলো। ওইদিকে তোয়া ভীষণ খুশি বাইকে ঘুরতে যাবে। তাও তাঁর হ্যান্ডসাম বয় এর সাথে।
একে একে সবাই বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেলো শপিংয়ের উদ্দেশ্য।

” আমি আর তুই মিলে যদি এক সাথে কাজ করি তাহলে কিন্তু আমরা আমাদের কাজ খুব সহজেই করতে পারবো।”
মার্কাস এর কথায় কায়সার তাকালো তাঁর দিকে। তারপর ঘাড়ে হাত বুলিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল
” ফ্যালকনের সাথে লাগতে যাবি আবার?”
” তা ছাড়া উপায় নেই। দেখ তোর আমার উদ্দেশ্য এক। তুই তোর পাখি কে চাস আর আমি আমার পাখিকে চাই। কিন্তু ভেজাল হচ্ছে দুটোই দেখতে একরকম।”
” উহু একরকম তবে এক নয়। ওদের গাঁয়ের রং আলাদা। তুই যাকে চাস সে ফর্সা আর আমি যাকে চাই সে শ্যামবর্ণে। ”

” ওই একই তো হলো তাই না? এখন বল এক সাথে কাজ করবি নাকি?”
কায়সার কিছু একটা ভেবে বাঁকা হেঁসে বললো ” ওকে। তবে আমার প্লান মতো কাজ হবে। রাজি থাকলে তোর সাথে আমি আছি। তবে এটায় ভীষণ রিস্ক হয়ে যাবে। ওই ফুল দুটো কে ছুঁতে গেলে কিন্তু আগে মালিকে মারতে হবে। আর মালি কিন্তু আর কেউ না শাহরিয়ার শুভ্র আর লাবিব খান। ওদের আসল চেহারা অবশ্য তুই জানিস? ওরা উপরে যতোটা ভালো মানুষ দেখায় ভিতরে ভিতরে ততোটাই কিন্তু খারাপ। তুই শুধু একবার ফুলকে ছুঁয়ে দিয়েছিস বলে তোর হাতের এই অবস্থা দ্বিতীয় বার ওই ফুলের দিকে দৃষ্টি দিলে তোর চোক থাকবে কি না সন্দেহ। তাই যা করতে হবে সাবধানে , ভুল করা যাবে না।”
কায়সারের কথা শুনে মার্কাস এর চোখ জ্বলে উঠলো। সে ভুলে নি সেদিনের কথা। এর প্রতিশোধ সে নিবে, যে মেয়ের জন্য তাঁর হাতের আজ এই অবস্থা সেই মেয়ের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ছুঁয়ে দিবে। তবে এখন কিছু করা যাবে না, কারণ ওই মেয়ের কিছু হলে কায়সার তাঁকে ছেঁড়ে দিবে না। এই গেমে কায়সার কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে সে। ভেবেই মনে মনে হাসলো মার্কাস।
তারপর মাথা নাড়িয়ে বললো ” ওকে ডিল ডান।”
বলেই টেবিল থেকে হুইস্কির গ্লাস নিয়ে পান কররো।
কায়সার তা দেখে বাঁকা হেঁসে হাতে থাকা অর্ধেক সিগারেট ঠোঁটে গুঁজে টান নিয়ে ধোঁয়া গুলো উড়িয়ে দিলো।

একে একে বাইক থামলো শপিং মলের সামনে। ছেলেরা বাইক পার্ক করে আসতেই শপিং মলের ভিতরে প্রবেশ করলো সবাই। শপিং মলের ভিতরে যেতেই এক এক জন এক এক ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলে গেলো এক এক দোকানে। যে যা কিনবে তা সব ই নিচ্ছে।
লামিয়া,তায়েবা, মাহির,তায়েব আর তোয়া ছেলেদের দোকানে প্রবেশ করতেই দেখলো ছবি আর লাবিবকে। ছবি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাবিবের গাঁয়ে একের পর এক জামা ধরে দেখছে কোনটায় তাঁর প্রিয় কে ভালো লাগে।
তা দেখে চারজন একজন আরেকজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে তায়েব আর মাহির নিজেদের জন্য কাপড় দেখতে লাগলো।
লামিয়া আর তায়েবা এগিয়ে গিয়ে ছবি আর লাবিব এর সামনে দাড়াতেই লাবিব কপালে ভাঁজ ফেলে বললো ” তোরা এখানে কী করছিস?”

” বয়ফ্রেন্ডের আন্ডার প্যান্ট কিনতে এসেছি লাবিব ভাই।”
তায়েবার কথা শুনে লাবিব বিরক্ত হলো। এদের মুখে কিছু আটকায় না। ওদিকে তায়েবার কথা শুনে তোয়া লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ” বিগ বস আন্ডার প্যান্ট কাকে বলে?”
লামিয়া আশেপাশে তাকাতে তাকাতে বলে উঠলো
” যেটা ছেলেরা আন্ডারে পড়ে তাঁকে আন্ডার প্যান্ট বলে।”
” আমি দেখতে চাই বিগ বস।”
তোয়ার কথা শুনে লামিয়া লাবিব এর দিকে তাকাতেই দেখলো লাবিব বিকট মুখ করে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। লামিয়া তোয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” ছেলেদের আন্ডারের জিনিস কীভাবে দেখাবো তোকে?”

” যেভাবে দেখায় সেই ভাবেই দেখাও।”
লামিয়া মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো ” শুন যখন সুযোগ পাবি তখনই ছেলে হোক বা বেডা হোক তাঁরা লুঙ্গি পরা থাকুক বা প্যান্ট পড়া থাকুক , সুযোগ পেলেই টেনে খুলে দিবি তাহলেই দেখতে পাবি তাদের আন্ডার এর প্যান্ট মানে আন্ডার প্যান্ট। ”
তোয়া লামিয়ার কথা শুনে খুশিতে গদগদ হয়ে লাফিয়ে উঠলো।
লাবিব বিরক্ত হয়ে বললো ” এইটুকু মেয়েকে এসব শেখাতে লজ্জা করে তা তোর?”
” জ্বি না…! করে না লজ্জা। আর কাকে এইটুকু বলছেন এই মেয়ে কে? হাহ এই মেয়ে আপনাকে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে খেয়ে দিবে আপনি টের ও পাবেন না।”
লামিয়ার কথা শুনে লাবিব আরো বিরক্ত হলো। ছবি তা দেখে বললো ” হয়েছে চুপ থাকুন এখন। চলুন ওই সাইটে যাই।”
লাবিব বিরক্ত চোখে লামিয়া আর তায়েবার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো ছবির পিছু।
শুভ্র হাতে বেশ কিছু শপিং নিয়ে খুঁজতে লাগলো লামিয়া কে। খুঁজতে খুঁজতে জাহিদের সাথে দেখা হতেই বুঝলো সে ও তায়েবা কে খুঁজছে।

” এইভাবে খুঁজে কাজ হবে না। মাহির কে কল দে দেখ চার সয়তান এক সাথেই আছে।”
জাহিদের কথায় শুভ্র ফোন বের করে মাহির কে কল করতেই জানালো তাঁরা এক সাথেই আছে ছেলেদের সাইডে। শুভ্র ফোন কেটে জাহিদ কে বলতেই হাঁটতে লাগলো সেদিকে।
এইদিকে ছবি লাবিবের সব কেনা কাটা শেষ করে লাবিব কে বললো ” দেখুন আর কিছু বাকি নেই তো?”
লাবিব দুষ্টু হেঁসে বললো ” আমার আন্ডারের প্যান্ট কেনা খুব দরকার।”
ছবি বিরক্ত হয়ে বললো ” আপনার ওইসব জিনিস নিজে কিনুন আমাকে কেনো কিনতে বলছেন?”
” সব কিছুই নিজের পছন্দে কিনলি, এটা কিনে দিতে পারবি না?”

ছবি বিরক্ত মুখ নিয়ে বললো ” আসুন, কিনে দিচ্ছি। ”
বলেই হাঁটতে লাগলো লাবিব ও তাঁর পিছন পিছন।
এইদিকে শুভ্র আর জাহিদ এসে উপস্থিত হলো সেখানে। চোখ ঘুরিয়ে দেখলো চার বান্দর এক সাথেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি যেনো কিনছে। শুভ্র আর জাহিদ তাদের কাছে যেতেই দেখলো লাবিব আর ছবি ও সেখানে গিয়ে দাঁড়ালো।
এদিকে লাবিব চার গ্যাং দের দেখে আবারো বিকট মুখ করলো। এই চার সয়তানের জন্য শান্তি তে শপিং করেও শান্তি নেই দূর। ভেবেই দুঃখি মুখ করে পিছন ঘুরতেই দেখলো শুভ্র আর জাহিদ দাঁড়িয়ে আছে।
লাবিব এর মুখ দেখে শুভ্র আর জাহিদ ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে গিয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই লাবিব সব খুলে বলতেই তাঁরা হেঁসে উঠলো।
ওইদিকে ছবি সাইজ মতো লাবিবের জন্য প্যান্ট কিনলো। তায়েব, মাহির ও নিয়েছে তাদের আন্ডারের জিনিস। ছবি সব গুলো প্যান্ট এক সাথে করে দোকানদার কে বললো ” ভাইয়া কতো হয়েছে সব মিলিয়ে?”

” জ্বি ম্যাম আপনি চারটা প্যান্ট নিয়েছেন সব মিলিয়ে দু হাজার হয়েছে।”
ছবি আর কিছু না বলে টাকা বের করতেই লামিয়া খপ করে ছবির হাত ধরে চোখ রাঙিয়ে বললো ” তোর টাকা কী বেশি হয়ে গিয়েছে?” বলেই চোখ ঘুরিয়ে দোকানদার এর দিকে তাকিয়ে বললো ” এই চারটা প্যান্ট দু হাজার টাকা?”
দোকানদার হালকা হেঁসে বলল ” জ্বি ম্যাম দু হাজার টাকা।”
তায়েবা চোখ বড় বড় করে হালকা চেঁচিয়ে বললো ” দু হাজার? এই চারটা প্যান্টের দাম দু হাজার টাকা?”
দোকানদার তায়েবার কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো
” জ্বি ম্যাম।”

পাশ থেকে লামিয়া বললো ” আরে ভাই মাথা খারাপ নাকি? এই আন্ডার প্যান্ট তো আমার ভাইরা ভিতরেই পরবে । ভিতরের প্যান্টের দাম এক এক টা পাঁচশত টাকা রাখছেন আপনি? না না না পঞ্চাশ করে রাখুন।”
লামিয়ার কথায় দোকানদার জোর করে ঠোঁট টেনে বললো ” এটাতে হবে না ম্যাম। ”
” কেনো হবে না? আপনি জানেন গুলিস্তানে এই প্যান্ট পঞ্চাশ টাকায় এক সাথে তিনটা করে বিক্রি করছে।”
” আরে ম্যাম পঞ্চাশ টাকায় গুলিস্তানে যেগুলো বিক্রি করছে সেগুলো তাঁরা দশবার পরে তারপর বিক্রি করে। ওইগুলো ব্যাবহার করা মাল।” লামিয়ার কথায় বলে উঠলো দোকানদার।
” ব্যাবহার করে দেয়? তবুও তো পাঁচ বছর টিকে তাদের টা। কয়েকদিন আগেই এখান থেকে নিয়ে গিয়েছিলো আপনি জানেন দু দিন না পড়তে পড়তে সেটায় ফুটা হয়ে গেছে। তবুও আমার ভাইরা সেই ফুটা প্যান্ট পরতাছে। কেনো জানেন আপনাদের দোকান কে আপন ভাবে তাই। আর আপনি কি না এতো দাম রাখছেন?”
” আরে ম্যাম আমাদের মাল একদম টেঁকসই। আমি পড়ে আছি যেটা সেটার পাঁচ বছর হলো কোথায় এখনো তো ফুটো হয় নি।”

লোকটার বলতে দেরি তোয়া দৌড়ে লোকটার প্যান্ট টানতে দেরি হলো না।
তোয়া লোকটার প্যান্ট টানতে টানতে বললো ” দেখান দেখান, আমিও দেখুম আপনার আন্ডার প্যান্ট কেমন। বিগ বস আমি এই বেডার আন্ডার প্যান্ট দেখতে চাই। খুলতাছে না তো। ” বলেই টানতে লাগলো।
ওইদিকে ছবি,লাবিব, শুভ্র, জাহিদ হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে হচ্ছে টা কি এখানে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। লজ্জায় তাঁরা মুখ লুকালো।
এইদিকে তোয়ার কাহিনী দেখে তায়েব, মাহির, লামিয়া, তায়েবা হাসছে। লোকটা তোয়া কে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।

” হে হে হে এখন দেখান দেখি আপনার হোগায় কয়টা ফুটা হইছে?” হেঁসে হেঁসে বলে উঠলো তায়েব।
বেশ কসরত করেও তোয়া কে ছাড়ানো যাচ্ছে না দেখে শুভ্র এগিয়ে গিয়ে তোয়া কে কোলে তুলে নিলো।
তোয়া শুভ্র কে দেখে বললো ” হ্যান্ডসাম বয় ঝি লোকটা কে বলো না আন্ডারের প্যান্ট দেখাতে।”
শুভ্র শান্ত স্বরে বললো ” এগুলো পঁচা কথা বুঝলে চলো তুমি আমার সাথে।” বলেই আস্তে করে কেটে পড়লো সেখান থেকে।

লামিয়া ভ্রু কুঁচকে দোকানদারকে বললো ” দরকার নেই এতো দামি প্যান্ট। আপনার প্যান্ট আপনি রাখুন। তায়েব, মাহির তোদের কে তোর এই বোন গুলিস্তানের ব্যান্ডের প্যান্ট কিনে দিবো। চলে আয় এই দোকান থেকে। ” বলেই দোকানদার কে ভেংচি কেটে চলে গেলো লামিয়া আর তায়েবা।
তাঁর পিছন পিছন মাহির আর তায়েব ও ।
এইদিকে হাবার মতো দাঁড়িয়ে আছে ছবি, লাবিব, জাহিদ। লজ্জায় মরি মরি অবস্থা তাদের। দোকানদার কেমন চোখে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
লাবিব তা দেখে ঠোঁট টেনে হেঁসে বললো ” হে হে ওরা আমার দূর সম্পর্কে শালি – শালা তাছাড়া ওদের আমি চিনি না। ” বলেই ছবির হাত ধরে দৌড় বেরি এলো দোকান থেকে। জাহিদ ও দ্রুত নিজের ইজ্জত বাঁচাতে আস্তে করে চলে গেলো।

দোকান থেকে বের হতেই জানে যেনো পানি আসলো তাদের। শুভ্র, জাহিদ,লাবিব,ছবি বিরক্ত চোখে তাকিয়ে আছে চারজনের দিকে। কি কান্ডটাই না বাধালো চারজনে। তাঁদের এ চাহনি দেখে চারজন এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে চলে গেলো অন্যদিকে।
সবার শপিং শেষ হতেই বাহিরে এসে দাঁড়ালো সবাই। বাড়ির ড্রাইভার কে বলে দিয়েছে গাড়ি নিয়ে এখানে এসে ব্যাগ গুলো নিয়ে যাওয়া হয়। তাই গাড়ি অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে সবাই। লাবিব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবাই কে
তখনের ঘটনা সব খুলে বলতেই সবাই হাসছে।
লামিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তোয়া। তাঁর সাথেই আছে আয়েব,তায়েবা, মাহির। তোয়ার মনে শুধু আন্ডার প্যান্ট দেখার জন্য ছটফট ছটফট করছে।

এইদিকে এক লোক পুরো ফুল ফ্যামিলি নিয়ে এসেছে শপিংয়ে। সেখানে মাঝ বয়সী একটা লোক ও আছে। পরনে তাঁর লুঙ্গি, আর গাঁয়ে সাদা শার্ট, হাতের আঙুল ভর্তি স্বর্ণের আংটি। লোকটা কে দেখেই মনে হচ্ছে বেশ বড়লোক। তোয়া লোকটার দিকে তাকাতেই চোখ জ্বলে উঠলো। খুশিতে লাফিয়ে বললো ” বিগ বস, বিগ বস দেখো দেখো লুঙ্গি পড়া একটা বেডা। উনি নিশ্চয়ই আন্ডারের প্যান্ট পরছে। আমি ওই বেডার আন্ডারের প্যান্ট দেখতে চাই।”
তোয়ার কথা শুনে চারজন চারজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো। তারপর মাহির বাঁকা হেঁসে বললো
” দেখতে চাইলে দেখে আয় আমরা এখানেই আছি।”
মাহিরের বলতে দেরি তোয়ার দৌড়াতে দেরি হলো না।
তোয়া সেদিন দৌড়া যেতেই চারজন হুডির টুপি মাথায় দিয়ে পকেটে হাত রেখে মুখ দিয়ে শিশ বাজাতে লাগলো।
এদিকে তোয়া কে দৌড়াতে দেখে সবার দৃষ্টি তোয়ার দিকে পরলো। আবির বলে উঠলো ” এই কচি মরিচ আবার এভাবে দৌড়াচ্ছে কেনো?”
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালো তোয়ার দিকে। কিছু আন্দাজ করতে পেরে চোখ বড়বড় করে তোয়ার পিছনে দৌড়া দিতে চাইলো কিন্তু তা আর হলো না। তার আগেই দৌড়ে গিয়ে লোকটার লুঙ্গি টেনে খুলে ফেললো।
ওইদিকে হঠাৎ কেউ লুঙ্গি টেনে খুলতেই লোকটি চমকে নিচের দিকে তাকাতেই চিৎকার করে উঠলো।
খান আর ইসলাম বাড়ির ছেলেরা সবাই চোখ বড় বড় করে মুখে হাত দিয়েছে। মেয়েরা সব হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলছে।

আশেপাশে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে সেদিকে। তোয়া লুঙ্গি খুলে লোকটার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো ” ওমাই গড বিগ বসস এই বেডা তো আন্ডারের প্যান্ট পরে নি। এই লোকটার স্টান গান দেখা যাচ্ছে।”
তোয়ার কথা শুনে সবাই ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। শুভ্র দৌড়ে গিয়ে তোয়া কে কোলে তুলে নিয়ে দৌড় লাগালো। শুভ্রর দৌড় দেখে লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির ও দৌড় লাগালো। তাঁরা ভাবতে পারে নি এই লোক লুঙ্গির নিচে আন্ডার প্যান্ট পরে নি। তাঁরা তো ভেবেছিলো পরেছিলো কিন্তু যা দেখলো তা তে তাদের শিক্ষা হয়ে গিয়েছে।
ওইদিকে তাদের দৌড় দেখে যে যার যার বউয়ের হাত ধরে দৌড়াতে লাগলো তাদের পিছু।
দৌড়াতে দৌড়াতে আবির গেয়ে উঠলো

~ আর আসবো না এই মলে
এদের নিয়ে শপিং করিতে।।।
এই গলিতে, আর আসবো না শপিং করিতে।।
সন্ধ্যা বেলা শপিং মলে কিনতে এলাম জামা
জামার বদলে দেখিয়ে দিলো, ওই বেডার কালো….।
আর বলতে পারলো না তার আগেই লামহা আবিরের পিঠে কিল দিয়ে বসলো। এইদিকে সবাই হাসতে হাসতে দৌড়াচ্ছে। আবিরের গান শুনে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা হাসতে হাসতে রাস্তায় বসে পরেছে।
শুভ্র লামিয়ার হাঁসি শুনে পিছন ফিরে লামিয়ার দিকে তাকাতেই নিজেও ফিক করে হেসে উঠলো।
এর মধ্যেই গাড়ি এসে থামলো তাদের সামনে। রাশেদ সব গুলো ব্যাগ ড্রাইভার কে ধরিয়ে দিতেই ড্রাইভার চলে গেলো গাড়ি নিয়ে।

লাবিব লামিয়া দের দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে বলে উঠলো ” তোরা এসব এর মূল মাথা তাই না?”
লামিয়া হাঁসি থামিয়ে বললো ” দেখুন লাবিব ভাই আমাদের কী দোষ আমরা কী জানতাম নাকি যে ওই ভদ্রলোক লুঙ্গির নিচে প্যান্ট পরে নি। ”
পাশ থেকে তায়েবা বলে উঠলো ” হুমম আমরা কী জানতাম নাকি? আর তোয়ার প্যান্ট দেখার ইচ্ছে ছিলো তাই গিয়ে লুঙ্গি টান দিয়েছে।”
তায়েবার কথা শেষ হতেই তোয়া মন খারাপ করে বললো ” হুমম কিন্তু আন্ডারের প্যান্ট না দেখিয়ে লোকটার স্টান গান দেখে ফেলেছি।”
তোয়ার কথা শুনে চারজন আবারো হাসি শুরু করলো। তা দেখে এইবার সবাই হেঁসে উঠলো।
সাফওয়ান হাসতে হাসতে বললো ” তোদের মতো শালা – শালি আর ভাই বোন থাকলে শত্রুর প্রয়োজন নেই।”
বেশ কিছুক্ষণ হাসাহাসি করে ছেলেরা সব যার যার বাইক আনতেই সবাই উঠে পড়লো বাইকে। হাসাহাসি করে মাইন্ড ফ্রেশ হয়েছে সবার।

একটু ঘুরা ঘুরি করে সবার খিদে লেগে গেলো। লামিয়া চোখ বুজে নিঃশ্বাস নিতেই পোলাও মাংসের ঘ্রাণ পেলো। পাশে ফিরে তাকাতেই দেখলো একটা বিয়ে বাড়ি। তা দেখে দ্রুত সবাইকে বাইক থামাতে বললঝ। সবাই বাইক থামিয়ে জিগ্যেস করতেই , লামিয়া বলে উঠলো ” সবার ভীষণ খুদা লেগছে তাই না?”
সবাই মাথা নাড়ালো। লামিয়া দিকে তাকিয়ে মাহির বলে উঠলো ” তো এখন কী হয়েছে?”
লামিয়া চোখ দিয়ে বিয়ে বাড়ির দিকে চোখ দিয়ে ইশারা করতেই তিনজন লামিয়ার ইশারা বুঝে গেলো। দ্রুত বাইক থেকে নেমে পরতেই শুভ্র বললো ” কি হয়েছে কোথায় যাচ্ছিস?”
লামিয়া দাঁত কেলিয়ে বললো ” অনেকদিন হয়েছে বিয়ে বাড়ির রোস্ট পোলাও খাই না। যাই একটু পেট পুরে আসি। ”
” কিন্তু আমাদের তো দাওয়াত দেয় নি।”

” সো হোয়াট? আপনাদের আসতে ইচ্ছে করলে আসুন নয়তো দাঁড়িয়ে থাকুন আমরা আসছি।” বলেই চলে গেলো গেটের ভিতরে।
এইদিকে সবাই একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। আরিফ হয়ে ঢোঁক গিলে বললো ” আবার কোন আকাম করতে যাচ্ছে কে জানে।”
শুভ্র কিছু ভেবে বললো ” চল দেখে আসি।”
লাবিব বললো ” ক্ষেমা চাই ভাই। এমনেই শপিং মলে যেই ইজ্জত দিয়েছে এখন আবার ভিতরে গেলে কী করে কে জানে?”
লাবিব এর কথা শুনে সাফওয়ান বললো ” আরে কিছু করবে না এবার চল যাই।”

” দেখো ভাই আমি জানি পাগল আমাকে কামড়াবে তবুও আমি পাগলকে বিশ্বাস করবো কিন্তু এই চার সয়তান কে মরে গেলেও বিশ্বাস করি না আর করবোও না।” বলে উঠলো লাবিব।
আবির বললো ” ঠিক আছে তুই তাহলে এখানেই থাক আমরা যাই। এই চল তোরা, একটু পেট পুরে আমরাও খেয়ে আসি। ” বলেই হাঁটা ধরলো। তার পিছন পিছন সবাই। ছবি লাবিব এর দিকে তাকিয়ে সেও সবার সাথে হাঁটতে লাগলো। তা দেখে লাবিব মুখ ফুলিয়ে ছবির পিছন পিছন গেলো।
একটা বড় টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে চারজন। আশেপাশে অনেক মানুষ খাচ্ছে। শুভ্র রা যেতেই তাদের দেখতে পেলো। তায়েব হাত উঁচিয়ে তাদের দিকে ডাক দিতেই তাঁরা সেদিকে গিয়ে বসে পরলো টেবিলে। লামিয়া লেগ পিছ খাচ্ছে। তা দেখে আবির ও নিজেকে সামলাতে না পেরে খাওয়া শুরু করলো। এই পাঁচজন ছাড়া আর কেউ ই খাচ্ছে না। বেশ কব্জি ডুবিয়ে খাচ্ছে তাঁরা। আর সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ করেই তাদের টেবিলে একটা নাদুসনুদুস লোক এসে দাঁড়াতেই সবাই তাঁর দিকে তাকালো। লোকটা চোখ কুঁচকে বললো ” আপনারা কোন বাড়ির লোক? আগে তো দেহি নাই আপনাগো। ”
লামিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই তায়েব বলে উঠলো ” ভাই আমি মাইয়ার এক্স লাগি। আর এরা হইলো আমার ভাই বোন।” বলেই খাওয়া শুরু করলো।

তায়েব এর কথা শুনতেই লোকটার চোখ রক্তিম হয়ে উঠলো। লাবিব তা বেশ ভালো করেই খেয়াল করলো। সুবিধার লাগছে না এই লোক কে। লাবিব সবাই কে ইশারা দিতেই সবাই তাকালো সেদিকে। লোকটা চোখ বড় বড় করে ফুসফুস করছে। তায়েব রোস্টে কামড় দিয়ে বললো ” কি ভাই ফুস ফুস করছেন কেনো? হাগা কি ক্লিয়ার হয় নি?”
লোকটা রেগে চিৎকার করে উঠলো ” ওইইই কালুয়া আমার রাম দা নিয়া আয়। আমার বোইন রে যে পোলা ছ্যাঁকা দিয়া গেছে হেই পোলারে পাই ছি। হতো গুষ্টি লইয়া খাইবার আইছে। আইজকো ওগোরে কো*বামু”
লোকটার কথা শুনে তায়েবের গলায় খাবার আটকে গেলো। লাবিব ছবির হাত ধরে বললো ” বাঁচতে চাইলে পালা নয়তো বাচ্চা কাচ্চার মুখ দেখতে হবেনা ভবিষ্যতে।” বলেই দৌড় লাগালো।
এদিকে সবাই ভয়ে দৌড়াতে লাগলো। ওইদিকে দৌড় রেখে মাহির , তায়েবা আর লামিয়া তায়েব কে ইচ্ছে মতো মারতে লাগলো।

” হারামজাদা রে মার। নাটকির নাতিন রে। শালার নাতি সবসময় ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে। মার মাংঙ্গের নাতিন রে।” মরতে মারতে বলে উঠলো লামিয়া।
এইদিকে জাহিদ দৌড় রেখে পিছনে ঘুরে তায়েবার হাত ধরে দৌড়ে লাগালো। ওইদিকে হাফসা দৌড়ে এসে মাহিরের হুডির টুপি ধরে টেনে দৌড়াতে লাল তাঁকে নিয়ে। ফারিয়া দৌড়ে তায়েব এর ঘাড়ে দুটো থাপ্পর লাগিয়ে হাত ধরে দৌড়াতে লাগলো।
লামিয়া তা দেখে প্লেটের থেকে রোস্ট তুলে এক কামড় বসিয়ে পিছন ফিরে দেখলো একটা লোক তার দিকেই এগিয়ে আসছে।
লামিয়া টেবিল থেকে তরকারির বাটি হাতে নিয়ে ছুঁড়ে দিলো লোকটার মুখে। তারপর আরেকটা লেগ পিছ তুলতেই কেউ তাঁর হাত ধরে ফেললো। পাশে তাকিয়ে দেখলো শুভ্র। শুভ্র লামিয়ার হাত টেনে দৌড়াতে চাইলে লামিয়া চেঁচিয়ে উঠলো ” আরে আরে লেগ পিছ নিতে দিন আমাকে।”
শুভ্র লামিয়ার হাত ধরে দৌড়াতে দৌড়াতে বললো ” এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারলে হাজার টা লেগ পিছ খাওয়াবো। ”

বলেই দৌড়াতে লাগলো। গেটের বাইরে এসে দেখলো সবাই বাইক স্টার্ট দিয়ে বসে আছে। শুভ্র দ্রুত লামিয়া কে সিটে বসিয়ে দিয়ে নিজে বসে বাইক স্টার্ট দিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলো দা, বঁটি, ঝাড়ু জুতা যা আছে সব নিয়ে বিয়ে বাড়ির মানুষ তেড়ে আসছে তাদের দিকে। তা দেখে সবাই ঝড়ের গতিতে বাইক টান দিয়ে চলে গেলো।
সবাই হাসতে হাসতে পারছে না রাস্তায় গড়াগড়ি খেতে।
আজকের রাত টা মনে রাখার মতো একটা রাত সবার। জীবনেও ভুলবে না আজকে রাতের কথা কেউ ।
গাড়ি চলছে আপন গতিতে। শান্ত নিরিবিলি রাস্তায় চলছে তাদের বাইক। ব্যাস্ত ঢাকা নবাবগঞ্জ শহরের শীত কালের ঠান্ডা বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে তাদের শরীরে।
হঠাৎ তায়েব ফাঁকা রাস্তায় বাইক চালাতে চালাতে মজা করে গেয়ে উঠলো

~ আজব শহর ঢাকা ঘুরেনা প্রেমের চাকা
যদি না থাকে পকেটে টাকা।।
তায়েব এর গান শুনে মাহির ও তালে তাল মেলালো
~ আজব শহর ঢাকা ঘুরে না প্রেমের চাকা
যদি না থাকে পকেটে টাকা।।
মাহিরের বলা শেষ হতেই আবির গেয়ে উঠলো
~ আজ আমি নই একা পেয়েছি তোর দেখা
শশুরের মন মজাইয়া,
তারপর সাফওয়ান গেয়ে উঠলো
~ দুজনে মিলে চল যাই পালাইয়া
পিরিতের খেতায় আগুন দিছি জালাইয়া
তারপর আবার লাবিব গেয়ে উঠলো
~ আরে দুজনে মিলে চল যাই পালাইয়া
পিরিতের খেতায় আগুন দিছি জালাইয়া
লাবিব এর শেষ হতেই ফারিয়া গেয়ে উঠলো

~ আজব শহর ঢাকা গুরে না প্রেমের চাকা
যদি না থাকে পকেটে টাকা
ফারিয়ার শেষ হতেই হাফসা গেয়ে উঠলো
~ আজ আমি নই একা পেয়েছি তোমার দেখা
যাবোনা তোমায় ছাড়িয়া,,
হাফসার শেষ হতেই লামহা গেয়ে উঠলো
~ দুজনে মিলে চলো যাই পালাইয়া
পিরিতের খেতায় আগুন দিছি জালাইয়া
লামহার শেষ হতেই হামিদা বলে উঠলো
~ দুজনে মিলে চলো যাই পালাইয়া
হামিদার শেষ হতেই ছবি গেয়ে উঠলো
~ পিরিতের খেতায় আগুন দিছি জালাইয়া,,
এবার আরিফ গেয়ে উঠলো
~ পিরিতের খেতায় জলছে প্রেমের আগুন
তোরে কাছে পাইয়া বেড়েছে দিগুন
আরিফের শেষ হতেই আয়না গেয়ে উঠলো
~ জরিয়ে রাখো তোমার বুকে ধরে
কখনো যাবোনা আর বাবার ঘরে
আয়নার শেষ হতেই আবারো আরিফ গেয়ে উঠলো
~বলিসনা বুড়ার কথা এ জীবন তেজপাতা
হইছে ওই বুড়ার লাগিয়া,,,
এবার শুভ্র হালকা হেঁসে গেয়ে উঠলো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৬

~ আজব শহর ঢাকা ঘুরেনা প্রেমের চাকা
যদি না থাকে পকেটে টাকা
শুভ্রর শেষ হতেই লামিয়া তোয়াকে ধরে গেয়ে উঠলো
~ আজ আমি নই একা পেয়েছি তোর দেখা
শশুরের মন মজাইয়া,,,
তারপর সবাই এক সাথে মিলিয়ে গেয়ে উঠলো
দুজনে মিলে চলো যাই পালাইয়া
পিরিতের খেতায় আগুন দিছি জালাইয়া
আরে দুজনে মিলে চল যাই পালাইয়া
পিরিতের খেতায় আগুন দিছি জালাইয়া,,,
বেশ আনন্দ উল্লাস করে বাড়ি ফিরলো সবাই।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৭