Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫১

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫১

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫১
সাইদা মুন

—আমি বিবাহিত।
তাহসান যেন হঠাৎ করেই পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল। শরীরের সমস্ত শক্তি মুহূর্তের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। বুকের গভীরে কেমন এক ফাঁকা অনুভূতি জমে উঠছে, যেন ভেতরের সবকিছু শূন্য হয়ে গেছে। যাকে পাওয়ার যুদ্ধে নেমেছিল সে, সেই মানুষটিই যে দাঁড়িয়ে আছে তার শত্রু পক্ষে। অসহায় দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে আছে মেহরীনের দিকে। চারপাশের সকলেই মায়াভরা চোখে তাকিয়ে আছে তাহসানের দিকে। ছেলেটার কষ্ট তার চোখেমুখেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কাঁপা গলায় সে অস্ফুটস্বরে বলল,

—মেহরীন মজা করছ?
নিজের পাঞ্জাবি আঁকড়ে ধরা মেহরীনের হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে নিল তালহা। ঠাট্টার স্বরে বলল,
—তুই ওর ভাসুর লাগিস। ভাসুরের সঙ্গে ভাইয়ের বউ মজা করে বুঝি? তোর ও না মাথা পুরাই গেছে ব্রো।
তাহসান আর কোনো কথা বলল না। ধীরে ধীরে পিছিয়ে গিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে সোফায় বসে পড়ল। তার চোখে তখন বিস্তীর্ণ শূন্যতা। বলার মতো কিছু খুঁজেই পাচ্ছে না। তালহার বড় মামি অসহায় চোখে তাকিয়ে আছেন। নিজেকে কেমন অসহায় মা লাগছে। একদিকে তার ছেলের ভাঙা মন, অন্যদিকে মেয়েটারও একই অবস্থা। মেনে নিতে পারছেন না এসব। পরক্ষণেই তার চোখে আগুন জ্বলে উঠল। ক্ষোভে ভরা দৃষ্টিতে তাকালেন মেহরীনের দিকে। এই মেয়েটাকে এই মুহূর্তে শেষ করে দিতে পারলে যেন তার শান্তি লাগত একটু। তার হাসিখুশি পরিবারটা ধ্বংস করে দিয়েছে এই মেয়েটাই। তার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল যেন মেহরীনের উপর।

ফারাহ আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। দ্রুত পায়ে ছুটল রিতুর ঘরের দিকে। মেহরীনের উপস্থিতিই তার সহ্য হচ্ছে না। মেয়েটার মন ভালো নেই বুঝেই রিতুও তার পিছু নিল। মেয়েটা তো সবসময় তার পাশে থাকে, আজ তারও থাকা উচিত। তাহসানের মা জোর করে উঠিয়ে ছেলেকে সেখান থেকে নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন। এখানে থাকলে আরও কষ্ট পাবে। তালহার নানা-নানু ছাড়া আহমেদ বাড়ির আর কেউই খুশি নয়। সবাই নীরবে জায়গাটা ছেড়ে চলে গেল।
এই নিস্তব্ধতার মাঝেই তালহার দাদি খুশিতে ভরা কণ্ঠে ডাকলেন,

—মেহরীন দিদিভাই, এদিকে আয় তো।
মেহরীন তালহার দিকে তাকাতেই তালহা হাত ছেড়ে দিল। সে শান্ত পায়ে এগিয়ে গেল। তাকে নিজের পাশে বসাতেই দাদি সঙ্গে সঙ্গে নিজের গলার মোটা সোনার চেইন খুলে ফেললেন। মেহরীনের গলায় পড়াতে পড়াতে বলতে লাগলেন,
—আমি খুব খুশি হয়েছি। আমার তোকে খুব পছন্দ, চাইছিলাম এ বাড়িতেই রাখতে। দেখ আল্লাহ কী সুন্দর পরিকল্পনা করলেন, আমার দোয়া কবুল হয়ে গেল। নে, এইটা তোর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে প্রথম সালামি।
চেইনটা পরিয়ে দিয়েই মেহরীনের কপালে স্নেহভরা চুমু এঁকে দিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বিল্লাল সাহেব বলে উঠলেন,
—আম্মা, এটা শ্বশুরবাড়ির দ্বিতীয় সালামি হবে আমাদের পক্ষ থেকে। প্রথম সালামি তো আমরা দুই ভাই আগেই দিয়েছি।
বলেই দুই ভাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে অর্থপূর্ণ হাসিতে ভেসে উঠলেন। কথাটা শুনতেই দাদি রাগী চোখে ছেলেদের দিকে তাকালেন,

—ওহ আচ্ছা। তারমানে তোরা আগে থেকেই জানতিস? পাজির দল, আগে বললি না কেন আমায়?
তানিয়া বেগমও রেগে গিয়ে বললেন,
—হ্যাঁ গো, আমাকেও তো একবার বলতে পারতে। ইশ, আমাদের তালহার বউ কিনা এতদিন আমাদের সাথেই ছিল, আমরা জানতামই না।
তিতলি বেগমও বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বললেন,
—ভাই, এই কাজটা কিন্তু ঠিক করলে না।

তাহিয়াও চাচাদের সঙ্গে গলা মিলাল। সেও আগে থেকেই জানত, তা শুনতেই তিতলি বেগম কান মলে দিলেন তাকে। শুরু হলো খুনসুটি। কেন বলেনি আগে কেন লুকিয়েছে এসব নিয়েই চলছে তাদের মধ্যে হালকা পাতলা মিষ্টি ঝগড়া। সাথে সবাই মেহরীনকে নিয়ে নানা কথায় মেতে উঠলেন। সিকদার বাড়ির মহল যেন ভীষণ আনন্দে ভরে উঠেছে। তাকে এমনভাবে আদর করছে, এত সহজে মেনে নিয়েছে, যে মেহরীন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না। এই ভালোবাসাগুলো ক সত্যিই তার জন্য।
বারবার যখন তার নামের বদলে “তালহার বউ” বলে ডাকা হচ্ছে, মেহরীনের চোখ ছলছল করে উঠছে। মনে হচ্ছে সে যেন কোনো স্বপ্নের ভেতর আছে। এত সহজে তাকে আপন করে নিল ওরা, এতটাই সহজে? শৈশবেই মা-বাবা হারানো মেয়েটা এতদিন ধরে ভেবে এসেছে তার ভাগ্য বুঝি সত্যিই খারাপ। চাচা-চাচির অবহেলা, কষ্ট আর অপমান তাকে বিশ্বাস করিয়েছিল, তার কপালে সুখ লেখা নেই, ভালোবাসাও নয়, আছে কেবল দুঃখ।
তাহলে আজ?

আজ এতগুলো ভালোবাসা সে পেল কীভাবে? চোখ ভরে উঠতেই সে হাত দিয়ে জল মুছে নিল। তৃপ্তির একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে বহুদিন পর সে আপন মানুষদের মাঝে আছে, নিজের আপনজনদের মাঝেই আছে। এখন তারও পরিবার আছে, তার আপনজন। মনে মনে বার বার আওড়াচ্ছে কথাগুলো।
মুচকি হেসে মেহরীন যখন তালহার দিকে তাকাল, ঠিক তখনই তালহা একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিল তার দিকে। কান্নার ভাব মুহূর্তেই উবে গেল। ড্যাবড্যাব চোখে সে তাকিয়ে আছে তালহার দিকে। এইমাত্র কী করল সে, ঠিক বুঝে উঠতে পারার আগেই তালহা আরেকটা ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিতেই মেহরীনের গাল জ্বলে উঠল লজ্জায়। সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিল। অস্বস্তিতে পড়ে চারপাশে তাকাল, কেউ দেখল কি না সেই উৎকণ্ঠায়। না, কেউই এদিকে মন দেয়নি, সকলে নিজেদের মতো কথা বলায় ব্যস্ত। দ্রুত মাথা নিচু করে ফেলল। তার এই লাজুক দশা দেখে তালহা ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখল। বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলার পর সবাই মিলেই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাল।
তিতলি বেগম স্নেহভরে মেহরীনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,

—আমার বোনটা থাকলে নিশ্চয়ই তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে ধুমধাম করে দিতে চাইত। সে নেই বলে কী হয়েছে? আমি আছি। মেহরীনের আরেকটা মা আছে। আমি আমার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে জাঁকজমক করেই দেব। বড় করে অনুষ্ঠান করব।
মায়ের কথা শুনতেই তালহা সোজা হয়ে বসল। চোখে মুখে উত্তেজনা, বিয়ের তারিখ শোনার জন্য যেন আর ধৈর্য নেই। তিতলি বেগম একটু ভেবে বললেন,
—আমি ঠিক করেছি, মেহরীন আর তাহিয়াদের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলেই বিয়ের আয়োজন শুরু হবে। তার আগ অব্দি দুজনেই আলাদা থাকবে।
উনার কথায় সবাই-ই মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেও তালহার মুখে সন্তুষ্টির ছাপ ফুটল না। কপালে ভাঁজ পড়ে গেল।
মুখ ফসকে বলে ফেলল,

—তো তার আগে আমার বউ আমার সাথে থাকবে না?
সঙ্গে সঙ্গে তিতলি বেগম রাগী চোখে তাকালেন। দাদি মিটিমিটি হেসে ফেললেন। মেহরীন সরম পেয়ে চোখ নামাল। বিল্লাল সাহেব ঠোঁট চেপে হাসতে হাসতে বললেন,
—ভাতিজা, কন্ট্রোল।
চাচার কথায় তালহা সোজাসাপটা বলে উঠল,
—তুমি করতে পেরেছিলে কন্ট্রোল? তোমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার আগেই তো চাচির সঙ্গে ছিলে।
এমন কথা যে সে বলে বসবে, বিল্লাল সাহেব বুঝতেই পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে কাশিতে দম আটকে যাওয়ার অবস্থা হলো তার। তাহিয়া দৌড়ে পানি আনতে গেল। পেছন থেকে তানিয়া বেগম পিঠ চাপড়াতে চাপড়াতে কটমট করে বললেন,

—ভাতিজার সামনে কিভাবে কথা বলতে হয় তা শিখেনি যেন। লজ্জাশরমহীন লোক।
চারদিকে চাপা হাসির রোল পড়ে গেল। তিতলি বেগম আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। তার ইঙ্গিতে বোঝা গেল তার কথাতেই কথা, আর নড়েচড় হবে না ডিসিশন। একে একে বাকি গিন্নিরাও উঠলেন। রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে। দাদি-নানিরা চলে গেলেন নিজেদের ঘরে।
ড্রয়িংরুমে তখন শুধু তালহা, মেহরীন, তাহিয়া, ফাইজা আর মেহেদি। তাহিয়া হঠাৎ মেহরীনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। খুশিতে একেবারে আত্মহারা সে। এক্সাইটেড হয়ে বলল,
—ফাইনালি! ফাইনালিইইই! তুই আমার ভাবি হয়েই গেলি। আমার যে কী খুশি লাগছে রে। এখন সবার সামনে তোকে ভাবি ডাকতে পারব, ভাবিইইইইই!
বলেই চিৎকার করে উঠল। মেহরীন হেসে ফেলল। তালহাও বোনের কাণ্ড দেখে মৃদু হাসল। ফাইজা পিটপিট করে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বলল,

—ইশ, মেহরীন আরেকটু বড় হলে না কেন। একমাত্র বড় ভাইয়ের বউকে ভাবি ডাকার কত শখ ছিল আমার। সব মাটি করে দিলে।
সঙ্গে সঙ্গে তালহা গম্ভীর স্বরে বলল,
—আমার বউকে ভাবি ছাড়া নাম ধরে ডাকলে কিন্তু খবর আছে। সম্মান দিয়ে কথা বলবি ভাবি হয় তোদের।
ফাইজা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
—এহ! বিয়ে সামনে আসতে না আসতেই বউ বউ শুরু হয়ে গেছে।
তালহা মেহরীনের দিকে তাকিয়ে নরম হাসিতে বলল,

—দশটা না, পাঁচটা না, একটা মাত্র বউ আমার। বউ বউ আমি করব না তো কে করবে শুনি?
মেহরীন সকলের কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনছে। বুকের ভেতর যেন অদ্ভুত এক উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে, লজ্জা, ভালোবাসা সবমিছুর মিশ্রণে মনটা ভরে উঠেছে আপন সুখে। ভাই-বোনের কিছুক্ষণ আড্ডা চলল। এর মাঝেই উঠে গেল ফাইজা। মেহেদিও উঠে গেছে নিজের ঘরে। তালহাও উঠেছে উপরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তবে কিছুটা এগিয়ে ফের দাঁড়িয়ে গেল। মেহরীনের দিকে ফিরে ডেকে বলল,
—মেহরীন একটু কথা ছিল, ঘরে আসবে?
মেহরীন লজ্জা পেয়ে তাহিয়ার দিকে তাকাল। এমনিতে আগে তো তালহা ডাকলে এমন লজ্জা লাগত না, তবে আজ এত লাগছে কেন? সবকিছু সামনে আসার পর থেকে যেন অকারণ লাজুকতারা ভর করেছে তার উপর। শরীর জুড়ে গায়েবি লজ্জারা এসে হাজির হয়েছে যেন। কিছু বলার আগেই তাহিয়া হেসে উঠল রাফাকে নিয়ে যেতে যেতে বলে উঠল,

—ভাই, আর লজ্জা পেতে হবে না, যা যা, আমরা যাই দাদির ঘরে একটু আড্ডা মেরে আসি।
এই বলে সে সরে গেল দুজন। তালহা আর মেহরীন পাশাপাশি হাঁটছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে দুজন। আজ তালহা প্রকাশ্যেই মেহরীনের হাত ধরে রেখেছে, শক্ত করে, যেন ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। তার উষ্ণ মুঠোর ভেতরে মেহরীনের নরম আঙুলগুলো বন্দি। হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে তারা। সিঁড়ি শেষ করে করিডোরে পা দিতেই তালহার চলা থেমে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে তাহসান। ছেলেটার চোখ দুটো রক্তিম হয়ে উঠেছে, যেন ভেতরের ক্ষোভ জ্বলে জ্বলে চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
তালহাকে দেখতেই তাহসান হিসহিসিয়ে উঠল,

—তুই এত সেলফিশ কেন রে? আমার সব কেড়ে নিস। আমার সব প্রিয় জিনিস আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিস।
তালহা কপালে ভাঁজ ফেলে বিস্মিত সুরে বলল,
—লাইক সিরিয়াসলি? তোর প্রিয় কী নিয়েছি আমি?
তাহসান মেহরীনের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলল,
—আমার মেহরী…
সঙ্গে সঙ্গে তালহা তাকে থামিয়ে দিল,

—হুশ হুশ ব্রো কন্ট্রোল, সি ইজ নট ইউর…
এই বলেই সে মেহরীনকে এক টানে সামনে নিয়ে এল। সামনে আনতেই এক ঝটকায় কোলে তুলে নিল মেহরীনকে,
—শি ইজ মাই রেড চেরি, অ্যান্ড ইউ নো হাউ মাচ আই লাভ রেড চেরিজ। মাই ফেভারিট ফ্রুট…
শেষের লাইনটা সে মেহরীনের দিকে ঘোরলাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল। তারপর তাহসানকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে শুনিয়ে বলে উঠল,
—অ্যান্ড নাউ আই অ্যাম গোয়িং টু টেস্ট ইট..
মেহরীন যেন স্তম্ভিত হয়ে গেছে। সে তালহার গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। ঘরে ঢুকেই তালহা বিছানায় বসাল মেহরীনকে। তাকে রেখে পাশে যেতে গিয়েও সে থেমে গেল। এখান থেকে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তাহসানকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ছেলেটা চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে আছে এদিকেই। তালহাও একইভাবে কঠিন চোখে তাকিয়ে আছে তাহসানের দিকে। দুজনের চোখে চোখে যেন নিঃশব্দ যুদ্ধ চলছে।

তালহাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মেহরীন মাথা তুলে তাকাল তার দিকে। তালহার এমন কঠোর চেহারা দেখে সে কিছুটা চমকে উঠল। সে বুঝে উঠতে পারছে না হঠাৎ রাগল কেন। কাকে দেখেই বা রেগেছে? ওদিকে কে আছে। তা দেখতেই মাথা পেছনে ঘোরাতে নিতেই তালহা আচমকা মেহরীনের চুলের মাঝে এক হাত ডুবিয়ে দিল এবং অন্য হাতে তার থুতনি ধরে মুখটা উপরে তুলল। কোনো রকম আগাম বার্তা না দিয়েই অধরে অধর ডুবিয়ে দিল সে।
মেহরীন বিস্ময়ে বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে। কী ঘটে গেল বুঝে উঠতেই ধড়ফড় করে উঠল হৃদপিণ্ড। ভেতর দিয়ে শীতল এক ভয়ংকর হাওয়া বয়ে যেতেই সে সঙ্গে সঙ্গে চোখ শক্ত করে বন্ধ করে নিল। দু’হাতে তালহার কলার শক্ত করে চেপে ধরল, অজান্তেই যেন নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা। এতে যেন তালহা আরও গভীরভাবে তাকে টেনে নিল।
হঠাৎ কোথাও কিছু ভাঙার তীক্ষ্ণ শব্দে তালহার মনোযোগ ছিন্ন হলো। ঠোঁটে ঠোঁট রেখেই সে চোখ তুলে দরজার দিকে তাকাল। সেখানে তাহসানের কোনো অস্তিত্ব নেই, শুধু পাশের ফুলদানিটা ভেঙে চুরমার হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। তা দেখতেই তালহার ঠোঁটে সন্তুষ্টির একফোঁটা প্রশান্ত হাসি ফুটে উঠল। ধীরে ধীরে সে নিজের খিদে মেটাতে লাগল, যেন বহুদিনের অভুক্ত কোনো মানুষ অবশেষে খাদ্যের স্বাদ পেয়েছে। একসময় মেহরীনের শ্বাস ভারী হয়ে উঠতে দেখে আস্তে আস্তে তাকে ছেড়ে দিল।

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫০

মেহরীন বিছানার চাদর খাঁমচে ধরে হাঁপাচ্ছে। চোখ এখনো খিচে বন্ধ করে রেখেছে। সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না, একদমই প্রস্তুত ছিল না এমন কিছুর জন্য। ঠোঁট তিরতিরিয়ে কাঁপছে। সাথে কাঁপছে শরীর। এমতাবস্থায় হঠাৎ ঠোঁটের ওপর তালহার আঙুলের নরম স্পর্শ অনুভব করল সে। আঙুল বুলাতে বুলাতে তালহা গভীর, মৃদু কণ্ঠে বলল,
—নাইস টেস্ট…

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫২