Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৮৫

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৮৫

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৮৫
সাইদা মুন

—মেকআপ নষ্ট হলেও সমস্যা নেই আপনি ন্যাচারাল সুন্দরি….
—বলিহারি আমরা সেই কখন থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, সেদিকে খেয়াল আছে? ঘেমে যদি সব মেকআপ নষ্ট হয়ে যায়, ভিডিওতে পেত্নির মতো লাগবে। তাড়াতাড়ি আসো তো তোমরা।
তাহিয়ার কথা শুনে তালহা আর মেহরীন দুজনেই ফিক করে হেসে ফেলল। তালহা পরপরই ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল। মেহরীন নিঃসংকোচে তার হাতে নিজের হাত রাখতেই তালহা শক্ত করে মুঠোয় বন্দি করল সেই হাত। তারপর বেশ সাবধানে তাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। বাইরে ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে তাহিয়া, তনিমা আর ফারিহা। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার সময়টুকুও ভিডিওতে ধারণ করা হবে। সবাই সিঁড়ির ধারে এসে দাঁড়াল। পুরো রেলিংজুড়ে কৃত্রিম ফুল আর রঙিন কাপড় দিয়ে করা হয়েছে দারুণ সাজসজ্জা।

ক্যামেরাম্যান ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত হতেই তাহিয়ারা মেহরীনের গায়ে আরও একটি বড় দোপাট্টা জড়িয়ে দিল তার মাথায়। নেটের সেই দোপাট্টাটা সামনে গলা পর্যন্ত এসে পড়লেও পাতলা কাপড়ের আড়াল দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার মুখ। বাম হাতে তালহার হাত শক্ত করে ধরে, ডান হাতে লেহেঙ্গার ভারী ঘেরটা সামলে দাঁড়াল মেহরীন। পেছনে তাহিয়া, তনিমা আর ফারিন ধরে আছে দোপাট্টার তিনটি কোণা। বান্ধুবি বলে কথা বান্ধুবির এমন মুহুর্তে তারাই তো থাকবে পিছে। ক্যামেরাম্যানের ইশারা পেতেই ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল তারা। তালহার মুখে প্রশস্ত হাসি। মেহরীনের মুখেও লেগে আছে লাজুক মিষ্টি হাসি। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো মুগ্ধ চোখে দেখছে তাদের। শেষ সিঁড়িটুকু পেরোতেই থামল ক্যামেরা। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হলো বাড়ির বাইরে। পুরো সিকদার বাড়ির সীমানা যেন নতুন করে সেজেছে। চারপাশে নানা সাজসজ্জায় উৎসবের আমেজ। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ফটোস্যুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর-বউকে সেখান সেখানেই নিয়ে গিয়ে একের পর এক ছবি তোলতে লাগল। কখনো পাশাপাশি, কখনো মুখোমুখি, কখনো তালহার চোখ মেহরীনের দিকে, আবার কখনো মেহরীনের লাজুক দৃষ্টি তালহার ওপর।
বর-বউয়ের ছবি তোলা শেষ হতেই শুরু হলো ফ্রেন্ডসার্কেলের ছবি। প্রথমে মেহরীনদের দল, তারপর তালহাদের দল। নানা ভঙ্গিতে ছবি তোলা আর হাসিঠাট্টার মধ্যেই আচমকা তালহা মেহরীনকে কোলে তুলে নিল। সবার উদ্দেশ্যে বলল,

—অনেক হয়েছে ছবি তোলা। এবার আমার বউটাকে একটু রেহাই দাও, ক্লান্ত হয়ে গেছে।
বলতে বলতেই তাকে নিয়ে স্টেজের দিকে এগিয়ে গেল। মেহরীনের পরনে প্রায় পঁচিশ কেজি ওজনের ভারী লেহেঙ্গা। তা সামলাতেই শরীরও ক্লান্ত। তালহা হয়তো বুঝে গেছে তার ক্লান্তি। মেহরীন মুচকি হেসে তার গলা জড়িয়ে ধরল। ক্যামেরাম্যান সেই মুহূর্তটাও বাদ দিল না। দূর থেকেই বন্দি করে ফেলল তাদের সেই স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তটা। সাবধানে স্টেজে বসিয়ে তালহা একজনকে ইশারা করতেই কিছুক্ষণের মধ্যে তার হাতে একটা স্পিডের বোতল তুলে দেওয়া হলো। তালহাকে বোতলের মুখ খুলতে দেখে মেহরীন তড়িঘড়ি করে বলল,
—আমি খাব না। লিপস্টিক উঠে যাবে।
তালহা তার থুতনিটা আলতো করে ধরে মুখটা একটু উঁচু করে বলল,
—চুপচাপ মুখ খোলো। লিপস্টিকে লাগাব না, উপর থেকে অল্প অল্প করে ঢেলে দেব।
মেহরীন চোখমুখ কুঁচকে তার দিকে তাকাল। এত সাধের বিয়ের সাজ, এভাবে নষ্ট হতে দেবে নাকি। সে খাবেনা মাথা নাড়তেই তালহা শান্ত গলায় বলল,

—এখন যদি লিপস্টিক উঠে যাওয়ার ভয়ে গলা না ভেজাও, তাহলে পুরো মেকআপটাই তুলে ফেলব।
শান্ত স্বরের সেই হুমকি শুনে মেহরীন সঙ্গে সঙ্গেই মুখ হাঁ করল। তালহা মুচকি হেসে বোতলটা ঠোঁটে না লাগিয়েই সাবধানে অল্প অল্প করে খাওয়াতে লাগল। অর্ধেকটা খাওয়ার পরই মেহরীন আর খাবে না বলে মাথা নাড়ল। তালহা আর জোর করল না। বোতলটা সরিয়ে পকেট থেকে ছোট্ট একটা চার্জার ফ্যান বের করে অন করল। তারপর তা মেহরীনের দিকে ধরে রাখল। এর মধ্যেই একের পর এক আত্মীয়স্বজন আর পরিচিত মেহমান এসে তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর ক্যামেরাম্যান তাড়া দিল,

—ফ্যামিলি ফটো হবে। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আসুন।
তাহিয়া আর মেহেদি ছুটে গেল। একে একে সবাইকে ডেকে আনল। সিকদার বাড়ির সবাই স্টেজে একত্রিত হতেই ক্যামেরাম্যান ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত হলো। কিন্তু ঠিক তখনই বিল্লাল সাহেব হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিলেন। তারপর তাহসানকে ইশারা করলেন কিছু একটা। তাহসান কিছুক্ষণ পর কাগজে মোড়ানো বড়সড় একটি ফ্রেম নিয়ে এসে হাজির হলো।

কৌতূহলী চোখে সবাই তাকিয়ে আছে সেদিকে। বিল্লাল সাহেব ফ্রেমের ওপরের কাগজটা টেনে ছিঁড়ে ফেলতেই বেরিয়ে এলো একটি বড় ছবি। ছবিতে কালো কোট-স্যুট পরা এক মাঝারি বয়সী মানুষ। মুখজুড়ে প্রশান্ত হাসি। দেখতে যেন তালহারই আরেকটি প্রতিচ্ছবি। তিনি আর কেউ নন, তালহার আব্বু। বিল্লাল সাহেব দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ছবিটা তালহার হাতে তুলে দিতেই তালহা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইল। তারপর খুব আস্তে করে ছবিটার ওপর হাত বুলিয়ে দিল। ছবির মানুষটা কী সুন্দর করেই না হাসছেন। যেন ভেতর থেকেই নিজের পরিবারটাকে দেখছেন। মুহূর্তেই চারপাশের অনেকগুলো চোখ চিকচিক করে উঠল। তালহা চোয়াল শক্ত করে বাবার ছবিটা নিজের আর মেহরীনের মাঝখানে ধরল। মেহরীনও নীরবে ছবিটার অন্য কোণটা আগলে ধরে রাখল। তার পাশে তিতলি বেগম, তারপর তাহিয়া মেহেদি ফাইজা রিতু ও তাদের হাসব্যান্ডরা। অন্যদিকে তালহার পাশে দাদি, চাচি, চাচারা, একে একে সবাই দাঁড়িয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের জন্য পুরো জায়গাটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কারও মুখে হাসি নেই, অথচ এই ছবিটা তো হওয়ার কথা ছিল আনন্দের।
ক্যামেরাম্যানও পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরে কিছুটা ইতস্তত করল। তারপর আস্তে করে বলল,
—স্মাইল প্লিজ।
কেউ চোখের পানি মুছে নিল। কেউ মুখটা একটু উঁচু করল। সবাই নিজেদের ভেতরের কষ্টটুকু আড়াল করে জোর করে হাসল। আর ঠিক সেই মুহূর্তটাকেই ক্যামেরা বন্দি করে নিল। একটি ছবিতে পূর্ণতা, আনন্দ, ভালোবাসা, শূন্যতা আর একসঙ্গে থাকা একটি পরিবারের সম্পূর্ণ গল্প ফুঁটে উঠল মুহুর্তেই।

দেখতে দেখতে চলে এলো সেই মোক্ষম সময়, যেই সময়ের অপেক্ষায় ছিল সকলেই। সাদা ফুলে সাজানো বিশাল আর্চটি মাঝে রেখে দুপাশে বসে আছে তালহা মেহরীন। তাদের মাঝখানে সাদা ঝালরের আড়াল। আর্চের চারপাশে থোকা থোকা সাদা ফুল, মাঝখান থেকে নেমে আসা সাদা ঝালর আর নিচে ছড়িয়ে থাকা ফুলের সাজ। তাদের আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে বাকি আপনজনেরা। তালহার পাশে বসে থাকা কাজি সাহেব প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে শেষ করে তালহার দিকে তাকালেন। শান্ত গলায় বললেন,
—বলুন, কবুল।
তালহার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
—দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, এমনকি আজীবনের মতো কবুল, কবুল, কবুল আমার প্রিয় মেহরীনকে।
সাদা ঝালরের ওপাশে কথাগুলো পৌঁছাতেই মেহরীনের বুকের ভেতরটা কেমন যেন আনন্দে মোচড় দিয়ে উঠল। চোখের কোণে জমে থাকা জল গড়িয়ে পড়ল। কাজি সাহেব এবার তার উদ্দেশ্যে বললেন,

—আপনিও বলুন, কবুল।
মেহরীন মাথা সামান্য নিচু করল। ছলছলে চোখে ঠোঁট কাঁপল। আজ প্রকাশ্যে সে আর তালহা আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে, যেটা একসময়ের স্বপ্ন ছিল তা এখন পূরণ হচ্ছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে খুব নরম স্পষ্ট কণ্ঠে বলল,
—কবুল.. কবুল.. আমার সিকদার সাহেবকে কবুল…।
এক মুহূর্তের জন্য চারপাশটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। পরমুহূর্তেই আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল চারিদিক। বিল্লাল সাহেব ও আফতাব সাহেন কোলাকুলি করলেম ভাইয়ে ভাইয়ে অতঃপর তালহার মামাদের সঙ্গেও কোলাকুলি করলেন। এদিকে তালহার দাদি নানি একে অপরের সঙ্গে গলা মেলালেল খুশিতে। বাড়ির বউরাও যে যার সঙ্গে খুশিতে গলা মিলাচ্ছেন। এরপর কাজি সাহেব কাবিননামার কাগজপত্র তাদের সামনে এগিয়ে দিলেন। একে একে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে স্বাক্ষর করল তালহা ও মেহরীন।

স্বাক্ষর করা শেষ হতেই কাজি সাহেব দুহাত তুলে দোয়া ধরলেন। মুহূর্তেই চারপাশের হাসি-আনন্দ স্তব্ধ হয়ে গেল। যে যার জায়গা থেকে মাথা নত করে দোয়ায় সামিল হলো। জমজমাট জায়গাটায় এখন কেবল কাজি সাহেবের মোনাজাতের মৃদু স্বর আর সবার নীরব “আমিন” ধ্বনি ভেসে বেড়াচ্ছে। দোয়া শেষ হতেই তালহা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। এরপর আর এক মুহূর্তও দেরি না করে এগিয়ে গেল মাঝখানের সাদা ঝালরের দিকে। দুহাত দিয়ে আলতো করে ঝালরগুলো সরিয়ে সে এগিয়ে গেল মেহরীনের কাছে। মেহরীনের মাথা থেকে নামানো লম্বা ঘোমটাটা তখন প্রায় হাত পর্যন্ত নেমে এসেছে। তালহার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটল। খুব যত্ন করে দুহাতে ঘোমটাটা তুলে দিল সে। ঘোমটার আড়াল থেকে মেহরীনের মুখটা স্পষ্ট হতেই সে ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাল। দৃষ্টিটা মিলতেই দুজনের মাঝের এতক্ষণকার সমস্ত আড়াল যেন এক নিমিষেই সরে গেল।
তালহা আর বিলম্ব করল না। দুহাতে আদুরে ভঙ্গিতে মেহরীনের মুখটা আগলে নিয়ে কপালে গভীর দীর্ঘ এক ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। আশপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে চাপা হাসির শব্দ ভেসে এলো। মুরুব্বিরা কেউ মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসছেন, কেউ আবার স্নেহভরা চোখে নবদম্পতির দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রায় মিনিট খানেক পর তালহা ধীরে মুখ সরিয়ে আনল। চোখে চোখ রেখে মৃদু হেসে বলল,

—Congratulations, Now you are officially Mrs. Talha Sikder.
মেহরীনের চোখজোড়া আবারও ছলছল করে উঠল। সে কিছু বলল না, শুধু চুড়িভর্তি দুহাত দিগে তালহার দুহাত শক্ত করে চেপে ধরল। চিকচিক করতে থাকা চোখের জলে তখন আনন্দ, স্বস্তি আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার এক অদ্ভুত মিশেল। মেহরীন নীরবে হাসল। তালহা এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। পকেট থেকে বের করল ছোট্ট একটি লাল রঙের রিংবক্স। বক্সটা চোখে পড়তেই আশপাশের ছেলে-মেয়েরা হইহুল্লোড়ে মেতে উঠল। হাসি-ঠাট্টায় চারপাশ জমে উঠলেও তালহার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে ধীরে ধীরে বক্সটা খুলে ভেতর থেকে ঝকঝকে একটি ডায়মন্ডের আংটি বের করল। পরপর মেহরীনের দিকে নিজের বাম হাতটা বাড়িয়ে দিল। মেহরীনও মুচকি হেসে বিনা দ্বিধায় নিজের হাতটা তার হাতে তুলে দিতেই তালহা অত্যন্ত যত্নে মেহরীনের অনামিকায় আংটিটা পরিয়ে দিল। তারপর তার হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে পরপর দুটো আদুরে চুমু এঁকে দিল হাতের পিঠে।

সেই যে হাতটা ধরেছিল, এরপর আর ছাড়ার নামই নিচ্ছে না ছেলে। এরপর শুরু হলো বড়দের সালাম করার পালা। তালহা আর মেহরীন একে একে সবার কাছে গিয়ে সালাম করতে লাগল। কেউ মেহরীনের মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, কেউ তালহাকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করছেন, কেউ আবার নবদম্পতিকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কিন্তু এতসবের মাঝেও তালহার হাত থেকে মেহরীনের হাতটা আর আলাদা হচ্ছে না। বিষয়টা সবারই চোখে পড়েছে। কেউ মুচকি হেসে একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছে, কেউ আবার মুখ টিপে হাসছে। একপর্যায়ে কয়েকজন দাদির বয়সি মহিলারা তো মজার ছলেই তালহাকে নতুন উপাধি দিয়ে ফেলল,
—বউপাগল।
কথাটা শুনে চারপাশে হাসির রোল উঠল। সকলেই এ নিয়ে মজা করছেন। কিন্তু তালহার তাতে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে মেহরীনের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় আরও শক্ত করে ধরে পরের মুরুব্বির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বউপাগল বলুক আর যা-ই বলুক, এই হাতটা আজ সে কিছুতেই ছাড়বে না।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এলো। বিয়ে নিয়ে সারাদিনের ব্যস্ততা আর ঝামেলা সামলে সবাই বাড়িতে এসেছে সন্ধ্যার দিকেই। এর মধ্যেই তালহা মেহরীনকে ভারী লেহেঙ্গাটা বদলে ফেলার আদেশ দিয়ে দিয়েছে। শেষমেশ তাহিয়া, তনিমা আর ফারিন মিলে তাকে পরিয়ে দিল সুন্দর একটা লাল বেনারসি শাড়ি। ভারী মেকআপও তুলে ফেলে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে সে। এখন গলায় সোনার হার, কানে দুল আর নাকে তালহার দেওয়া ডায়মন্ডের নাকফুলটা। দুহাত অবশ্য এখনো ভর্তি হয়ে আছে বিয়ের লাল চুড়িতে।
রাত প্রায় নয়টার দিকে মেহরীন নিচে নেমে এলো। ওদিকে তালহার ঘরে তখনও ব্যস্ততা। রিশাদ, তাহসানরা মিলে বাসরঘর সাজানোর কাজে ব্যস্ত। আর নিচে চলছে সবার রাতের খাবার। বাড়ির মেহমানদের জন্য বাইরে পাতা চেয়ার-টেবিলেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাল ওলিমা, তাই সাজসজ্জা পুরোপুরি সরানো হবে না, শুধু স্টেজের সাজটুকু বদলানো হবে। এত মানুষ একসঙ্গে ঘরের ভেতর খেতে বসলে কয়েক দফায় খাবার পরিবেশন করতে হতো, তাই বাইরে সবাইকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে বাড়ির ছেলে-মেয়েরা আর নতুন বর-বউ বসেছে ড্রয়িংরুমে। তালহা আর মেহরীন পাশাপাশি বসেছে। খাবার সামনে আসার পর থেকেই তালহার ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেল। একের পর এক খাবার মেহরীনের পাতে তুলে দিচ্ছে। কখনো মাছের কাঁটা ছাড়িয়ে দিচ্ছে, কখনো গরম আলু ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে ভেঙে দিচ্ছে, কখনো গরুর হার থেকে গোস্ত ছাড়িয়ে তার প্লেটে দিচ্ছে, বউয়ের যেন খেতে কোনো অসুবিধা না হয়।
আর মেহরীন? সে তো মহা আনন্দে। নিজে খাওয়ায় বেগই দিতে হচ্ছে না। শুধু মাখাচ্ছে আর খাচ্ছে বাকি সব তো তালহাই করে দিচ্ছে। তাই খাওয়া ফাঁকে ফাঁকে বান্ধবীদের সঙ্গে টুকটাক গল্পও করছে। একপর্যায়ে ভাত মাখাতে গিয়ে মেহরীনের চুড়িগুলো বারবার প্লেটে ঠোকাঠুকি করে শব্দ করতে দেখে সে কিছুটা বিরক্ত হলো। বাম হাতে বারবার চুড়িগুলো উপরের দিকে তুলছে তো একটু পর তা আবার নেমে আসছে। তা লক্ষ্য করল তালহা কিছু না বলে তার বাম হাতটা দিয়ে চুড়িগুলো আলতো করে হাতের ওপরের দিকে তুলে ধরে বলল,
—এবার খাও।
মেহরীন নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেলল। তারপর তালহার কথা মেনে বেশ আরাম করেই খেতে লাগল। এভাবেই হাসিঠাট্টা আর গল্পের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাদের রাতের খাবার।
ওদিকে উপরে ততক্ষণে তাহসান, রিশাদরা মিলে বাসরঘর সাজানোর কাজও শেষ করে ফেলেছে। পুরো বিছানার চারপাশে রজনীগন্ধা, লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ দিয়ে সাজানো হয়েছে। চারপাশটাও ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজিয়েছে। সবাই আরও একবার চারপাশটা দেখে নিচ্ছে, কোথাও কিছু বাকি রইল কি না।
এর মধ্যেই রিশাদ এসে তাহসানের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়াল। মুখে দুষ্টু হাসি টেনে বলল,
—শালা, তোর ভাগ্য দেখছি এক্কেরে ইউনিক। যাকে পছন্দ করিস, তারই বিয়ে খাচ্ছিস। শুধু খাচ্ছিসই না, নাচছিস ও, আবার তার বাসরঘরও সাজাচ্ছিস। ব্রো, ইউ আর সো কুল!
তাহসান আর কিছু বলতে না দিয়ে রিশাদের পেটে কনুই দিয়ে জোরে এক গুঁতো মারল। রিশাদ সরে যেতেই রাগী চোখে তাকাল তাহসান গম্ভীর গলায় বলল,
—ফালতু কথা বলবি না। চল, এবার নিচে যেতে হবে।

কিছুক্ষণ আগে তাহিয়ারা হালকা সাজগোজ করিয়ে তাকে বসিয়ে দিয়ে গেছে বাসরঘরে। আপাতত সে অপেক্ষায় আছে তালহার। শরীরটা অদ্ভুত চিন্তায় কাপছে। কেমন যেন লজ্জা লজ্জা লাগছে এই ঘরে বসে থাকতে। কই আগে তো এমন লাগেনি তার, কত বারই তো আসা যাওয়া করতো এমন অনুভূতি তো হয়নি। চিন্তাভাবনার মাঝেই দরজার সামনের ক্যাচাল কানে এল। তারমানে তালহা এসেছে। আরও শক্ত হয়ে বসল সে। দুহাত দিয়ে হাটুর কাছের শাড়িটা খামচে ধরে মাথাটা নিচু করে রাখল। লাল দোপাট্টা দিয়ে ঢাকা তার মুখ।
বাহির থেকে শোনা গেল তাহিয়ারা তালহাকে ধরেছে টাকা দিতে নয়তো ঢুকতে দিবে না এই বলে। তবে তাদের বেশিক্ষণ তর্ক করতে হলোনা তালহা পকেট থেকে দশহাজার টাকা বের করে তাদের হাতে ধরিয়ে দিল বলল,
—এবার রাস্তা থেকে দূর হো।
তারা টাকা পেয়ে খুশিমনে সরে যেতেই তালহা দরজায় হাত দিতেই পেছন থেকে ভেসে এল রিশাদদের কন্ঠ,
—এল দ্য বেস্ট মামা…
—মামা কাল কিন্তু ওলিমা অনুষ্ঠান এটেন্ড করতে হবে বুঝে শুনে…
—মামা সাব…

তালহা রাগী চোখে চাইতেই থেমে গেল দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়ল তারাও। এবার আর দেরি না করে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো সে। আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে ফিরল খাটের দিকে। ফুলে সাজানো খাটের ঠিক মাঝখানে ফুলের পাপড়ি দিয়ে লাভ বানানো তারই একপাশে বসে আছে তার মেহরীন, লাল বেনারসির সঙ্গে মাথায় লাল দোপাট্টাটা দিয়ে। ধীরে ধীরে এগোল সে খাটের দিকে। মুখে রাজ্য জয়ের হাসি। মনভরে দেখছে সামনের দৃশ্যটা এসে থামল মেহরীনের সামনে আস্তে ধীরে বসতে বসতে বলল,
—ফুলের রানী এতদিনে তার সঠিক জায়গায় অবস্থান করছে।
মেহরীন লজ্জামিশ্রিত হেসে মাথাটা আরও নিচু করল। তারপর আস্তে করে সালাম দিল। তালহা সালামের জবাব দিতে দিতে নেটের লাল ওড়নার অপাশ থেকেই তার হাসিটা দেখল। বুকে যেন এসে তীরের মতো বিঁধল তা। বুক ঘষতে ঘষতে উঠে দাঁড়াল। ড্রয়ার থেকে সে কি যেন বের করে নিয়ে ফিরে এল আবার। এর পর মুখোমুখি বসল মেহরীনের। এবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাত বাড়িয়ে ধীরে ধীরে দোপাট্টাটা তুলতে লাগল সে। মেহরীন নিচের দিকে চেয়ে আছে। শ্বাস প্রশ্বাস ঘন তার। খামচে ধরল শাড়িটা। তালহা দোপাট্টা পুরোটা তুলতেই সবার আগে উচ্চারণ করল,

—মাশাল্লাহ।
অতঃপর দোপাট্টাটা সাইডে ফেলে দিয়ে এবার তার থুতনি ধরল, ধীরে ধীরে মুখটা উঁচু করল। নজরে এল তার লজ্জায় রাঙা মুখখানা। মুচকি হেসে বলল,
—লজ্জা পাচ্ছেন ম্যাম?
মেহরীন ঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে মাথা নেড়ে বোঝাল “না”। তালহা ফের বলল,
—তাহলে গালগুলো এমন টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে কেন।
মেহরীন স্রোতা খুঁজতে খুঁজতে বলল,
—গ..গরম লাগছে তাই।
তালহার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল দুষ্টুমির হাসি। সে ঈষৎ ঝুকে বলল,
—তাহলে তো শাড়িটা খুলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমার ধারণা, এই ভারি শাড়ির জন্যই গরমটা একটু বেশি লাগছে।
মেহরীন চোখ দুটো বড় বড় করে তাকাতেই তালহা ফিক করে হেসে ফেলল। আলতো করে তার মুখটা কাছে টেনে নিয়ে কপালে শব্দ করে একটা চুমু বসিয়ে দিল,
—লজ্জা পেলে আপনাকে যে কী ভীষণ আকর্ষণীয় লাগে, ম্যাম।
মেহরীনের মনে হলো লজ্জায় তার নাক-কান দিয়ে যেন গরম বাষ্প বের হচ্ছে। তালহার দিকে সরাসরি চোখ তুলে তাকানোর মতো সাহসটুকুও যেন সে হারিয়ে ফেলেছে। তালহা তার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে আর বেশি জ্বালাতন না করে সরে এল। এবার একটি ক্রেডিট কার্ড মেহরীনের হাতের তালুতে গুঁজে দিল। মেহরীন অবাক চোখে কার্ডটির দিকে তাকাতেই তালহা ধীরগলায় বলল,

—এখানে তোমার দেনমোহরের পুরো টাকাটা আছে।
মেহরীন তড়িঘড়ি করে কার্ডটি তালহার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
—আমার টাকা লাগবে না।
তালহা মৃদু হেসে জোর করেই তার হাতটা মুড়ে কার্ডটি ধরে রেখে বলল,
—এই টাকাটা এখন সম্পূর্ণ তোমার, মেহরীন। তোমার যেকোনো প্রয়োজনে তুমি এটা ব্যবহার করবে। এতে আর আমার হক নেই।
মেহরীন নাছোড়বান্দার মতো কার্ডটি আবার তালহার পকেটে গুঁজে দিয়ে বলল,
—আমার নিজস্ব ক্রেডিট কার্ড তো আছেই, নতুন আর কোনো কার্ডের আমার একদম দরকার নেই।
তালহা ভুরু কুঁচকে একটু বিস্ময় নিয়ে শুধালো,
—তোমার নিজস্ব ক্রেডিট কার্ড আছে মানে?
মেহরীন মিষ্টি করে মাথা নেড়ে বলল,

—হুম, এই তো আপনিই তো আমার সবচেয়ে বড় ক্রেডিট কার্ড।
কথাটা শেষ হতেই সে একটু এগিয়ে গিয়ে সব লজ্জা ভেঙে দুহাতে তালহার গলা জড়িয়ে ধরল। তালহার পুরো মুখে তখন এক পরম তৃপ্তির প্রশান্ত হাসি ছড়িয়ে পড়েছে। সে-ও কোনো দেরি না করে মেহরীনকে নিজের বাহুডোরে আগলে নিয়ে এক গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ করল।
দীর্ঘ ক্ষণের সেই উষ্ণ আলিঙ্গন শেষে তালহা মেহরীনকে সঙ্গে নিয়ে উঠে দাঁড়াল,
—চলো, নামাজ আদায় করে আমাদের এই নতুন জীবনের শুভসূচনা করা যাক।
মেহরীন হাসিমুখে সায় দিতেই দুজনে একসঙ্গে ওজুর উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। ওজু সেরে ঘরে ফিরে এল তারা। মেঝের ওপর পাশাপাশি দুটি জায়নামাজ বিছানো হলো, তালহা একটু সামনে, আর মেহরীন তার অনুগামী হয়ে ঠিক সামান্য পেছনে দাঁড়াল। দুজনেই দাঁড়িয়ে গেল সৃষ্টিকর্তার দরবারে। প্রথমে এশার সালাত আদায় করল, তারপর দু-রাকাত নফল সালাত আদায় করে মোনাজাতে বসল। শরীর বয়ে যেন শীতল মিষ্টি হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। একসঙ্গে সালাত আদায়ের এটাই তাদের প্রথম অনুভূতি। একসঙ্গে দোয়া শেষ হতেই তালহা মেহরীনের মুখমণ্ডলে ফুঁ দিয়ে দিল। মেহরীনও মিষ্টি হেসে পাল্টা দোয়া পড়ে ফুঁ দিল তার প্রিয় মানুষটির গায়ে। দুজনেই মিষ্টি হাসল।
জায়নামাজ গুটিয়ে তুলে রাখার পর মেহরীন নিচু হয়ে তালহার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে যেই গেল, অমনি তালহা ব্যস্ত হয়ে মুহূর্তেই তার দু-বাহু ধরে তাকে সোজা করে দাঁড় করাল। অবাকসুরে বলল,

—বাকিটা জীবন তোমাকে বুকে আগলে রাখব নাকি মাথায় তুলে রাখব, তা ভেবেই আমি কূল পাচ্ছি না। আর তুমি কিনা আমার পায়ে পড়তে যাচ্ছ?
মেহরীন খিলখিল করে হেসে উঠল। তালহা আর এক মুহূর্তও তাকে দূরে না রেখে টেনে নিল বুকের ভেতর। মেহরীনের মাথাটা নিজের বুকের ওপর চেপে ধরে রইল বেশ কিছুক্ষণ। হৃদস্পন্দনের সেই মিষ্টি সুর অনুভব করছে মেহরীন। কি শান্তিময় একটা সময়। একে অপরের বাহুডোরে থেকেও এত শান্তি পাওয়া যায় বুঝি। একজন আরেকজনকে অনুভব করতে
করতেই ধীরে ধীরে মেহরীনের কানের কাছে মুখ আনল তালহ। অতঃপর ফিসফিস করে বলল,
—অনেক রাত হলো, চলো এবার ঘুমাই…
মেহরীন চট করে মাথা তুলে ফ্যালফ্যাল করে তালহার মুখের দিকে তাকাল। অবাক গলায় প্রশ্ন করল,
—আজ রাতে আপনি ঘুমাবেন?
তালহা মুখের হাসি চেপে রেখেই গম্ভীর মুখভঙ্গি বজায় রেখে শুধালো,
—কেন, আজ রাতে বুঝি মানুষের ঘুমায় না?
মেহরীন এক বাক্যে উত্তর দিল,
—না।
তালহা ভুরু কুঁচকে কৌতুহল দেখালো,
—কেন?
মেহরীন বলতে গেল,

—কারণ আজ রাতে তো…
বলতে গিয়েও সে থমকে গেল। তালহার মুখের দুষ্টু আর হাসিটা দেখে তার কথা যেন আটকে এল। আমতা আমতা করে কোনোমতে শুধাল,
—আজ রাতে মানুষ গ…গল্প করে কাটায়…
মেহরীন বাক্যটি শেষ করার আর সুযোগ পেল না। তালহা তার ব্যাকুল অধরে নিজের অধিকার বসাল, মেটাতে লাগল দীর্ঘ দিনের জমানো তৃষ্ণা। হাতের স্পর্শে মেহরীনকে ভালোবাসার এক মায়াবী আবেগে মাতাল করে তুলল। ব্যাকুল মেহরীন খামচে ধরল তালহার চুল।

একপর্যায়ে তালহা তাকে কোলে তুলে নিল। মেহরীন ঘন ঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে মুখ গুঁজে রইল তালহার শক্ত ঘাড়ে। তাকে কোলে নিয়েই তালহা সুইচবোর্ডের কাছে গিয়ে ঘরের বাতিটি নিভিয়ে দিল। তবে ঘরের এক কোণে জ্বলতে থাকা ল্যাম্পের মৃদু আলো তখনো ঘরজুড়ে এক স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে রেখেছে। সেই আলোতেই ঘোরলাগা মাতাল দৃষ্টিতে প্রেয়সীকে দেখতে দেখতে তালহা ধীরপায়ে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। বিছানায় বসতেই মেহরীন আরো একটু ঘেঁষে এল তালহার শরীরে। তালহা মৃদু হেসে মুহূর্তেই উষ্ণ চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগল মেহরীনের সারা মুখ। ভালোবাসার পরশ যখন আস্তে আস্তে নেমে এল গলার ভাঁজ ছেড়ে অনেকটা নিচে, হাত বাড়িয়ে শাড়ির আঁচলটা এক টান সরিয়ে ফেলল সে। অন্য হাতটি বাড়িয়ে নিভিয়ে দিল কোণের ল্যাম্পটিও।

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৮৪

সঙ্গে সঙ্গে ঘরজুড়ে নেমে এল এক গাঢ় ও নিবিড় অন্ধকার। সেই নিস্তব্ধতায় কেবল বেজে চলল দুটি মাতাল হৃদয়ের দ্রুতলয়ের শ্বাসপ্রশ্বাস। বহুদিনের দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে দুজন যে আজ লীন হয়ে যাচ্ছে একে অপরের মাঝে…

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৮৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here