প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৬
নওরিন কবির তিশা
গভীর-নির্জীব-নিস্তব্ধ এক নিশিথ। চারদিক দিক ঢেকে আছে নিকষ কালো আঁধারে। আকাশে অর্ধ চন্দ্রটাও আজ লুক্কায়িত মেঘের দস্যিপনায়। থমথমে অন্তরীক্ষ আজ শুধুই তিমিরাবৃত, সেথায় শুধু কৃষ্ণকালো মেঘের ঘনঘটা।তখন থেকে রুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে তিহু।
মা,কাকিমনি,ফুপুরা সকলে ডেকে গেলেও দরজা খোলেনি সে।ফোনটাও তার থেকে কেড়ে নিয়েছেন নিহাল হক। এদিকে রুমের সব তছনছ করে ফেলেছে তিহু,তবুও ক্রোধ নিবারণের চেষ্টায় ব্যর্থ সে। হঠাৎ দরজায় এসে কড়া নাড়লো কেউ। আফরোজা খানম খাবার এনে বললেন,,
—’আমার সোনা পুতুল দরজাটা খোল।
ভেতর থেকে ভেসে এলো তিহুর ক্রোধিত কন্ঠস্বর,,—’তুমি চলে যাও দাদু।চলে যাও।
ঠিক তক্ষুনি আরেকটা গভীর পৌরুষ কন্ঠস্বর কর্নগত হলো তিহুর,,—’দরজা খোলো তিহু।আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই।
আরহামের কন্ঠে প্রথমে তিহু ক্ষুব্ধ হলেও; সুদূরপ্রসারী চিন্তা তাকে থামালো। যথাসাধ্য শান্ত হয়ে দরজা খুললো সে। আরহাম মৃদু হেসে ভেতরে প্রবেশ করতে যেতেই তিহু তাকে সাবধানতার সঙ্গে বলল,,
—’যা বলার এখান থেকেই বলুন।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
দুকদম বাড়িয়েছে কেবল আরহাম।তিহুর এমন কথায় থমকালো সে,,—’আচ্ছা থাক। সমস্যা নাই।তো বলো তোমার কি হয়েছে? এমন করছ কেন?
‘আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।’——অকপটে কথাটা বলেই দৃষ্টি সরালো তিহু।
আরহাম খানিক হেসে বলল,,—’হুম,তারপর।
আরহামের হাসিতে যেন গা জ্বলে উঠলো তিহুর। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সে বলল,,—’দেখুন মশাই, আপনি আমার বিয়াই লাগেন না।তো মশকরা করবেন না।
আরহাম জিভ কেটে বলল,,—’এমা ছিঃ ছিঃ বিয়াই কেন হতে যাবো।আমি তো তোমার হাজ..!
এ কথাটা শেষ করতে দিল না তিহু, ক্ষিপ্ত বাঘিনীর ন্যায় তার কলারে আঁছড়ে পড়ে চিৎকার করে বলল,,—’নিজের মুখ সামলান,আমার হাজব্যান্ড একমাত্র নীল।ওয়াহাজ খান নীল,আমার স্বামী আমার ভালোবাসা আমার পৃথিবী। বুঝলেন?তার জায়গা অন্য কেউ নেওয়া কি চেষ্টা করলেও এই নুরাইন ওয়াহাজ খান তাকে কা’ফন ছাড়াই দা’ফন করে দেবে।আই রিপিট কা’ফন ছাড়াই দা’ফন করে দেবে।
তিহুর উগ্রতায় চমকিত সকলে।তার চিৎকারে জড়ো হয়েছে সবাই।এদিকে তার এমন কথায় আরহাম বিস্ময়ের সীমা চূর্ণ করে তাজ্জব বনে গেছে।তার মানে দশ-দশটা বছর যাবৎ যাকে আরহাম উন্মাদের ন্যায় ভালো বেসেছে সে,সে অন্য কাউকে ভালোবাসে।তাহলে আরহামের কি হবে।না,না এটা কক্ষনো হতেই পারে না।আরহাম পাগলের মত হাসতে হাসতে সরে গিয়ে বলল,,
—’ইয়ার্কির স্বভাবটা তোমার আর গেল না।তাই না?
—’ইয়ার্কি মাই ফুট।আমি ম্যারিড,মানে ম্যাডিরই,আমার স্বামী ওয়াহাজ খান নীল আর আমি তার সহধর্মিণী নুরাইন ওয়াহাজ খান।বুঝতে…!
কথা শেষ হলো না তার, সপাটে চড় পড়ল তার বাঁ চোয়ালে।তিহু বাকরুদ্ধ হয়ে চেয়ে রইল শুধু, যখন দেখলো চড় প্রদানকারী ব্যাক্তিটি তারই ছোট চাচ্চু।যিনি কখনো তিহুর গাঁয়ে ফুলের টোকা টাও দেন নি।তবে দমলো না তিহু। মুহূর্ত কয়েকের বিস্ময়তা ছাপিয়ে গর্জে উঠল সে,,,
—’বিয়ে তো আপনারাও দিতে চাচ্ছেন; তবে আমি বিয়ে করলে ক্ষতি কি?
পরমুহূর্তেই নরম কন্ঠে সে বলল,,—’বিশ্বাস করুন চাচ্চু, নীল আমাকে খুব ভালোবাসে,আর আমিও। বিশ্বাস করুন ও ছাড়া আর কেউ কখনো আমাকে সুখি করতে পারবেনা চাচ্চু।আপনি শুধু আপনি শুধু একবার ওকে ফোন দিন, ওর সাথে কথা বলুন দেখবেন সবটা বুঝতে পারবেন। প্লিজ চাচ্চু,প্লিজ।
তার এমন কথায় মন এক ফোঁটাও গলল না নিহাল হকের, বরং তিনি আগের থেকেও দ্বিগুণ ক্রোধিত কন্ঠে বললেন,,
—’নিশাত?
নিশাত মজুমদার তানহাকে খাওয়াচ্ছিলেন, এঁটো হাতে দৌড়ে এসে তিনি বললেন,,—’জ্বী?
—’তুমি আজকে তিহুর আছি ঘুমাবা। আর যদি কোনো ঝামেলা হয়, তোমাকে কিন্তু…!
নিশাত মজুমদার বাধ্য মেয়ের মত মাথা নাড়লো শুধু, নিহাল হক পাশ থেকে নওশাদ হকের উদ্দেশ্যে বললেন,,
—’ভাইজান কাল সকালের ভিতরে আমরা বিয়ের ব্যবস্থা করব। যতদ্রুত সম্ভব! আপনি কি রাজি?
মেয়ের মায়াবী মুখশ্রীতে তাকিয়ে বুকের ভেতর কেমন করে উঠল নওশাদ হকের, তবুও নিজেকে যথেষ্ট গম্ভীর রেখে রাশভারী কণ্ঠে সে বলল,,—’হ্যাঁ।
তিহু বদ্ধ দরজার ওপাশ থেকে বলল,,—’যতই চেষ্টা করো তোমরা, কিচ্ছু করতে পারবে না। ভালোভাবে বলেছি বোঝার চেষ্টা করো নি, তাহলে নিজেদের শখের হক ম্যানশন কে র’ক্তে র’ঞ্জিত দেখার জন্য প্রস্তুত থাকো। জেনে রাখো, নীল আসবে। আসবেই।
দীর্ঘ এক সমাবেশের হাঙ্গামা শেষে, মাত্র বাড়ি ফিরল নীল। তিহু না থাকায় বাড়ি ফেরার তাড়াও কমেছে তার । আজকে তো কেউ আর চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকবে না, অপেক্ষমান রইবে না ব্যালকনিতে। ফোঁস করে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসলো নীলের বুক চিরে।
রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে, সবে রাতের খাওয়াটা সেরেছে নীল। ছাদখোলা ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র। হঠাৎ সে বলল,,
—’নুর? ফোনটা দিয়ে যাও তো।
অনেকক্ষন হয়ে গেলেও অপর পাশ থেকে কোন জবাব না আসায় ফের সে ডেকে বলল,—’নুর?
পরক্ষণেই মনে পড়লো তার নূর এখানে নেই। মলিন হাসলো নীল। কি অদ্ভুত? একদিনের এই শূন্যতাও জনম জনমের ন্যায় লাগছে। মনে হচ্ছে মাঝে কেটেছে কতশত যুগ-যুগান্তর। আনমনে মুচকি হেসে নীল বলে উঠলো,,
—’তুমি আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছো নূর।তবে ভালো অভ্যাস নয় বদ অভ্যাসে।আর তার তীব্রতা এতটাই যে আমি চাইলেও বদলাতে পারবো না।
‘কাকিমনি?’——ক্ষিপ্ত বাঘিনীর ন্যায় তিহু এমন ব্যাকুল সুরে তার দিকে ঘুরে তাকালো নিশাত মজুমদার।
—’জ্বী?
—’তোমার কি মনে হয় আমি কি খুব বড় পাপ করে ফেলেছি? বিশ্বাস করো ও যদি ঐদিন আমাকে না বিয়ে করতো পরবর্তীতে আমার আরো অনেক সমস্যা হতো। একটিবার আমাকে বোঝার চেষ্টা করো তোমরা।
—’আমি জানি মা কিন্তু আমার তো হাত-পা বাঁধা।
—’আমায় একটা সাহায্য করবে কাকিমণি?
—’কি সাহায্য?
—’তোমার ফোনটা একবার আমাকে দেবে?
—’বিশ্বাস কর মা আমার ফোন আমার কাছে নেই। তোর চাচ্চু সেটা সকালেই নিয়ে নিয়েছে আমার কাছ থেকে।
তিহু ফের হতাশ হলো।কিছুক্ষণের মাঝে দরজায় এসে কড়া নাড়লো কেউ। নিশাত মজুমদার দ্রুত উঠে দরজা খুলতেই দৃশ্যমান হলো সাজ্জাদের বিচলিত মুখশ্রী। দ্রুত কণ্ঠে সে বলল,,
—’তিহু কোথায় মামনি?
নিশাত মজুমদার রুমে ইশারা করতেই চটজলদি পায়ে সাজ্জাদ প্রবেশ করলো কক্ষে। ব্যাগ্র কন্ঠে বলল,,
—’বনু?
ভাইয়ের কন্ঠে ঘুরে তাকালো তিহু, সাজ্জাদকে দেখেন দ্রুত দৌড়ে এসে বলল,,—’ভাইয়া?
সাজ্জাদ হাত বাড়িয়ে আগলে নিল তাকে। সাজ্জাদ তিহুর বড় ফুফুর বড় ছেলে। বাসা ফরিদপুর হওয়ায় আসতে এতটা বিলম্ব হল তার। এদিকে তার বক্ষেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো তিহু। সাজ্জাদ দ্রুত তাকে সামলিয়ে বললো,,
—’এই পাগলী কাঁদছিস কেন?
—’বিশ্বাস কর ভাইয়া, আমি ইচ্ছা করে কিছু…!
—’আই ট্রাস্ট ইউ তিহু। আমি তো জানি আমাদের তিহুরানী আমাদের সম্মান ক্ষুন্ন হয় এমন কিছু করতেই পারে না।
—’তুই কিছু একটা কর ভাইয়া।
—’তুই ফাস্টে আমাকে নীলের নাম্বার দে।
—’হুম ০১।
বাকি কথা শেষ হলো না তার, তার আগেই নিহাল হক পক্ষে প্রবেশ করেই বললেন,,
—’সাজ্জাদ? তিহুকে আর কোন সাহায্য করলে ফল কিন্তু ভালো হবে না।
অতঃপর তিনি নিশাত মজুমদারের দিকে তেড়ে গিয়ে বললেন,,—’তুমি থাকতে রুমে সব হয় কি করে?
নিশাত মজুমদারের ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তিহু থামলো। সাজ্জাদের উদ্দেশ্যে বলল,,
—’তুই যা ভাইয়া। কারো সাহায্য লাগবে না আমার, উনি যদি আমাকে সত্যি ভালোবেসে থাকে তাহলে কেউ তাকে আটকাতে পারবে না।
তাদের বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই নিহাল হকের তাড়ায় বেরিয়ে গেল তারা।তিহু নিষ্প্রাণ-নির্জীব দৃষ্টিতে চেয়ে রইল আকাশের পানে।
নীশিথের কালো ছায়া কাটিয়ে আজও ধরণী আলোকিত হয়েছে প্রভাতের রঙিন আলোয়। তবে প্রকৃতি আজ বড্ড অদ্ভুত, কোন আনন্দের খবর না এনে তা এনেছে একরাশ ব্যাথা আর বিষণ্ণতার ছোঁয়া । আকাশের মুখ আজ ভার, নিদারুণ মেঘের গুরুগুরু গর্জনে যেন আসন্ন অমঙ্গলের পূর্বাভাস। সূর্য্যিমামাও আজ লুক্কায়িত, তাই চারিদিকে এক ফ্যাকাসে, ম্লান আলো। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া এসে কাঁপিয়ে দিচ্ছে গাছের নব কিশোলয়গুলোকে, আর সেই সঙ্গে দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি জানান দিচ্ছে তার অদম্য উপস্থিতি। এই থমথমে, তিক্ত আবহাওয়াটাই হক ম্যানশনের প্রতিটি কোণে যেন এক অব্যক্ত যন্ত্রণার সুর তুলেছে।
এই গুমোট আবহাওয়ার মাঝেও ম্যানশনের ভেতরে চলছে তোড়জোড়। কিন্তু সেই তোড়জোড়ে নেই কোনো উল্লাস। শুধু কৃত্তিম আলোর ঝলকানি,আর দামি শাড়ি আর গয়নার চাকচিক্য ব্যাতিত—সবই আজ যেন মৃত্যুপুরীর মতো নিরানন্দ, অর্থহীন।
একদিকে কনের সাজের আয়োজন, অন্যদিকে পরিবারের মুখগুলো থমথমে পাথরের মতো। নিহাল হক আর নওশাদ হকের গাম্ভীর্যপূর্ণ চাহনি যেন বাতাসে বিদ্যুৎ সঞ্চার করছে। চাপা ফিসফিসানি, সতর্ক চলাফেরা আর গুমোট নীরবতা—এটাই যেন আজকের বিয়ের আসরের প্রধান সুর। সকলের চোখে ভয় আর অনিশ্চয়তা, কখন কোন দিকে কী ঘটে যায়!
ফুলের মালাগুলোও যেন আজ প্রাণহীন। কেবল মাঝে মাঝে বাইরের দমকা বাতাসের শনশন শব্দ আর নিস্তব্ধতার ভীতি—এই নিয়েই তৈরি হয়েছে এক অনিবার্য পরিণতির মঞ্চ।সকাল থেকে তেজস্বী তিহু চুপচাপ। কোনো কথা বলছে না,কলের পুতুলের ন্যায় যান্ত্রিকতা গ্রাস করেছে তাকে।
তার মনের দৃঢ় বিশ্বাস নীল আসবে,আসবেই। কেননা নীলই তো একদিন তাকে বলেছিল, সে যেখানেই যাক নীলের দৃষ্টির অন্তরালে কখনো যেতে পারবে না। তবে আজ কেন টের পাবে না নীল।তাই যত যাই হোক তিহু জানে আজ নীল আসবে, তার মানে নীল আসবেই।
এদিকে পিচ ঢালা ধু-ধু পথের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে চলছে একখানা কালো এসইউভি। গতি যেন বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে; গাড়ির কাঁচ ভেদ করে তার গন্তব্যের দিকে ছুটে যাওয়ার উন্মত্ততা স্পষ্ট বোঝা যায়। খুলনার কাছাকাছি এখন তাদের অবস্থান। স্টিয়ারিং ঢাকা হাতখানা শক্ত, চোয়াল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঝড়ে পড়ছে আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা। কপালের শুভ্র ব্যান্ডেজ র’ক্তে র’ঞ্জিত। তাজা র’ক্তকনাগুলো চুঁইয়ে পরছে সেখান থেকে।
একটা নির্ঘুম রাত একটা বিশাল রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, একটা অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ পেরিয়ে সে এগিয়ে চলেছে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। এতক্ষণে তার পৌঁছে যাওয়ার কথা।কিন্তু পথেই তাহার জন্য পাতা ছিল এক ঘৃণ্য ফাঁদ। রাতে যখন নিজের কাছে কাঙ্খিত নাম্বারটি থেকে ফোন আসে আর সে রওনা দেয় গন্তব্যের দিকে ঠিক তখনই মাঝে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।দিবা ঘটিত রাজনৈতিক হাঙ্গামা জের ধরে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জাভেদ জালাল ও আর তার ছেলে জাভেদ করিম পথের মাঝে আকস্মিক আক্রমণ করে।
সেই আকস্মিক আঘাতের ফলেই নীলের এই ক্ষতবিক্ষত অবস্থা। খানিক বিলম্ব হলেও অবশেষে সেটি এসে পৌঁছালো কাঙ্খিত গন্তব্যে,গাড়ি তীব্র গতিতে ম্যানশনের দিকে মোড় নিল। দূর হইতে লৌহদ্বার দৃশ্যমান। এই রুদ্ধদ্বার ভেদিয়ে প্রবেশ করতে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করার প্রয়োজন বোধ করল না নীল।
তার পেছন পেছন আরও পাঁচ-ছয়টি গাড়ি যেন অন্ধের মতো অনুসরণ করছে তাকে। দীর্ঘ সেই বাহিনীতে থাকা প্রতিটি লোক নীলের বিশ্বস্ত অনুচর, যারা র’ক্ত দিয়ে হলেও স্বীয় নেতার পথ পরিষ্কার করতে সদা প্রস্তুত।
নীলের এসইউভি বিদ্যুৎ-গতিতে ফটকের দিকে এগিয়ে গেল। গাড়ির টায়ার পিচঢালা পথে চাকার দাগ আঁকলো।
‘ধড়মমমমমম!’
এসইউভি’র প্রবল, উন্মত্ত ধাক্কায় হক ম্যানশনের সেই সুরক্ষাপূর্ণ লৌহদ্বার বিকট শব্দে খুলে গেলো।জমে থাকা ধূলিকণা আর ধোঁয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। লৌহ শৃঙ্খলগুলি উন্মুক্ত হতেই গার্ডরা এগিয়ে আসলো। তবে তাদেরকে পাত্তা না দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে নীল ম্যানশনের সীমানার মধ্যে প্রবেশ করল।
ভিতরের পরিবেশটা ততক্ষণে থমথমে। কাজীর গম্ভীর কণ্ঠস্বর শ্রবনগোচর হচ্ছে শুধু। তিহুর দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, অপেক্ষমান কারো জন্য। নিশ্চয়তা চোখে মুখে তার, শত চেষ্টা করেও তাকে শাড়িটাও পড়াতে পারেনি কেউ।
আরহাম সবেমাত্র তিহুর দিকে ঝুঁকে কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই সেই ভয়ানক শব্দে সে চমকে উঠলো। নিহাল হক এবং নওশাদ হকের মুখ পাথরের মতো কঠিন হলেও, এবার তাদের ভ্রু কুঁচকে গেল।
নিশাত মজুমদার, তিহুর পাশে বসে ছিলেন, ভয়ে একপ্রকার আর্তনাদ করে উঠলেন। চারপাশের লোকজনের চাপা ফিসফাস, তাদের চোখের বিস্ময় যেন এক আসন্ন বিপর্যয়ের জানান দিচ্ছে।অন্ধকার, জমাট মেঘের মতো কালো এসইউভি’র দরজাটা সপাটে খুলে গেলো।গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো দীর্ঘ এক পুরুষ।
নীলের সেই রুদ্রমূর্তি দেখে উপস্থিত সকলে যেন মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেলো। তার পরনে থাকা দামি পাঞ্জাবিটা স্থানে স্থানে ছিঁড়ে গিয়েছে, কপালের ক্ষত থেকে রক্ত চুঁইয়ে এসে চোখ বরাবর একটা শুকনো রেখা এঁকে দিয়েছে, আর হাতে এখনো লেগে আছে রাজনৈতিক দাঙ্গার ধুলো ও রক্তের আভাস। তার চোখ দুটো যেন জ্বলন্ত অগ্নিগোলক—সেই চোখে ক্রোধ, যন্ত্রণা আর এক দুর্নিবার অধিকারের দম্ভ।
প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৫
তাকে এভাবে দেখার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। যেন এক আহত বাঘ তার শিকারকে ছিনিয়ে নিতে এসেছে।নীলের আসার ঠিক পরেই তার বিশ্বস্ত অনুচররা ম্যানশনের গেটে দ্রুত মোতায়েন হলো—তাদের চেহারাতেও স্পষ্ট প্রতিজ্ঞার ছাপ।ম্যানশনের ভেতরে এক পিন-পতন নীরবতা। যেন সময় স্থির হয়ে আছে। শুধু বাইরে ঝোড়ো বাতাসের শনশন আর গাছের কাঁপন শোনা যাচ্ছে।
গার্ডরা তাকে আটকাতে আসলেও, থেমে গেল তার বজ্রকন্ঠে। বাতাসে ধ্বনিত হল তার কন্ঠস্বর, বিপর্যস্ত কন্ঠে সে বলল,,
—’নুর?

Vaii golpo ta taratari daoo.. Plzz vaiii taratari