Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪১+৪২

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪১+৪২

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪১+৪২
Afnan Lara

কেন?কারণ জানতে চান আপনি??
আপনি জানেন আপনার কারণে আজ আমায় এত কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে,কি দরকার ছিল আমার বাসায় কারণে অকারণে আসার?
আপনার এত আমার বাসায় আসা যাওয়া তারেক আঙ্কেল ঠিকভাবে নেয়নি,আমাকে বাসা ছাড়তে বলছিলো একদিনের ভিতরে
তাই আমি একটা নতুন বাসা নিয়েছি
শান্ত চুপ করে থেকে আহানার দিকে চেয়ে আছে
ঐ তারেক বলদরে পিটাইয়া পিঠের ছাল তুলে সেটা দিয়ে চামড়ার দোকান একটা খুলে ব্যবসা লাটে উঠাবো আমি নাহলে আমি আহানার মিঃ অশান্ত নাহ!!!
শুনুন আপনাকে আমি সাফ সাফ একটা কথা বলে দিচ্ছি আর কখনও আমার আশেপাশে আসবেন না দূরে থাকুন বলতেসি!
😒তোমার নতুন বাসার এড্রেস দাও

দিব না,আপনার লজ্জা করে না?এত কিছুর পরও আমার বাসার ঠিকানা চাচ্ছেন?এবার আমাকে রাস্তায় নামাবেন নাকি?
তুমি বলতে হবে না,তোমার বাসার ঠিকানা বের করা আমার কাছে ২মিনিটের ব্যাপার বুঝছো?আর রইলো কথা তোমার এই বাসাও যাবে না আমার কারণে,দেখে নিও
দেখার দরকার নাই আমার,আপনি প্লিস আমাকে আমার মত চলতে দিন,প্লিস!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

শান্ত কম্পিউটারে মনোযোগ দিলো
আহানা কিছুক্ষন চুপ করে বসে থেকে এখন ফাইলগুলো বের করতেসে
সারাদিনে দুজনে দুজনের সাথে একটা কথাও বলেনি
সন্ধ্যায় অফিস ছুটি হতেই আহানা হাঁটা ধরলো,আজ আর শান্তর বাইকের জন্য দাঁড়ায় নিই
শান্তকে আগেই থামিয়ে দিলে তারেক আঙ্কেলের বাসা ছাড়তে হতো না আমাকে!
শান্ত বাইক নিয়ে এসে দেখলো আহানা অনেকদূর চলে গেছে তাও ওকে দেখা যাচ্ছে,কারন ফাঁকা রোড বলে
আহানা বারবার পিছনে তাকাচ্ছে,শুধু মনে হচ্ছে কেউ ওকে ফলো করছে কিন্তু কাউকে তো সে দেখছে না,শেষে হাঁটার গতি বাড়িয়ে রাত হওয়ার আগেই সন্ধ্যা থাকতে থাকতে বাসার সামনে এসে পড়লো সে
উফ বাঁচলাম,পা মনে হয় ভেঙ্গে যাবে,এতদূর কি আর হেঁটে আসা যায়!
বাসায় দরজার তালা খুলে ভিতরে পা রাখতেই গলা শুকিয়ে গেলো আহানার
পুরো রুম অন্ধকার,একা একটা বাসা,ভয় লাগারই কথা,কাঁপা কাঁপা হাতে লাইটের সুইচ টিপ দিয়ে বাতি জ্বালালো সে
নিচে বিছানো চাদরটার উপর ব্যাগ রেখে রান্নাঘরের দিকে গেলো আহানা
চাল ধোয়ার জন্য নিতেই দরজায় কে যেন নক করলো,কলিংবেল নেই,যারা আসবে তারা দরজায় টোকা দিবে
আহানা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে দরজা খুললো,একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে
সে আহানার দিকে চেয়ে হেসে দিয়ে বললো নানুমণি তোমাকে ডাকে

তুমি কে?
আমি অলি,অলি আহমেদ,ঐ যে পাশের বাসা আছে না
নীল রঙের টিনের বাড়ি ওটাতে আমি থাকি,আমি আমার আম্মু আমার আব্বু, আমার ছোট ভাই
আর তার পাশে যে সবুজ রঙের টিনের ঘরটা আছে ওটাতে আমার চাচ্চু আর চাচি,আমার চাচাতো বোন থাকে
আর তার পাশে যে ছাই রঙের টিনের ঘর আছে না ওটাতে আমার দাদা দাদি থাকে
আর আমার চাচাতো বোনের নাম তন্নি
আর আমার ভাইয়ের নাম অমি,আমার মায়ের নাম সায়মা খাতুন,বাবার নাম তকির আহমেদ
আমি ক্লাস ২তে পড়ি,আর….
ওকে ওকে ওকে বুঝছি সব,আসো ভিতরে আসো
নাহ,নানুমণি বলসে তোমাকে নিয়ে যেতে,আর আমি এখন থেকে তোমার খানাপিনাপিয়ন
ডাকপিয়ন শুনছি,খানাপিনাপিয়ন শুনি নাই কোনোদিন

মানে নানুমণি তোমাকে খেতে ডাকলে আমাকে দিয়ে ডাকাবে
ওহ,আচ্ছা চলো!
আহানা নিচতলায় এসে মেয়েটার সাথে ভেতরে গেলো বাসার
সালমা বেগম ডাইনিং এ খাবার সাজাচ্ছেন,আহানার দিকে চেয়ে মুচকি হেসে বললেন প্রথমদিন তো তাই তোমাকে আর রাঁধতে দিব না
আমি খাওয়াবো
তা দুপুরবেলায় কই ছিলে?আমি অলিকে দিয়ে ডাকাইসি তুমি নাকি ছিলে না
দাদি আমি অফিসে ছিলাম

ওহ,অফিসে খেয়েছো তো,আচ্ছা কথা না বাড়িয়ে এখন খেতে বসো
দাদি আমি রান্না করে খেতে পারবো,কি দরকার ছিল এত কষ্ট করার
আরে বোকা মেয়ে এতসব তোমাকে ভাবতে হবে না,আসো বসো
আহানা চেয়ার টেনে বসলো,অলি টিভি চালু করে মটু পাতলু দেখতেসে আর খিলখিল করে হাসতেসে
আমার পায়ের ব্যাথার জন্য সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারি না,তাই অলিকে দিয়ে তোমাকে ডাকালাম,ও তো এতক্ষণে ওর ১৪গুষ্টির পরিচয় তোমাকে দিয়ে দিছে নিশ্চয়?
আহানা হেসে বললো হুমমম!

শান্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট মুখে দিলো,তারপর গ্রিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আহানার নতুন বাসার দিকে চেয়ে রইলো
আহানা ম্যাডাম বললাম না আমার কাছে ২মিনিটের ব্যাপার আপনার নতুন বাসার ঠিকানা বের করার,আর তোমার নতুন বাসা তো একদম আমার বাসার পাশেই
ডেইলি জ্বালানোটার ধরন এবার জোস হবে!তোমার বাসার বারান্দা না দেখা গেলেও রান্নাঘরটা দেখা যায়,স্পষ্ট না তাও হালকা পাতলা দেখা যায়
শান্ত হেসে পকেট থেকে দূরবীন বের করলো আর বললো এটা দিয়ে তোমাকে স্পষ্ট দেখা যাবে ম্যাডাম আহানা!
হাহা,মজা হবে শুধু মজা
কিরে কিসের মজা হবে?

তোর বিয়ে তো তাই,জবের কি খবর?প্রেগন্যান্ট বউরে কতদিন বাপের বাড়ি রাখবি?
আরে ধুর, রুপা তো প্রেগন্যান্ট নাহ,বাট একটা বাসাও তো নিতে হবে,রিয়াজ সূর্য তুই সব দামড়া ছেলে
তোদের মাঝে তো এখানে সে uncomportable ফিল করবে
হ্যাঁ সেটা অবশ্যই,আচ্ছা এক কাজ করলেই হয়,তোদের বাসা তো গ্রামে,সেখানে নিয়ে যা
রুপা আমাকে কাঁচা গিলে খাবে,ওর গ্রাম ভালো লাগে না
বাপরে বাপ,এখন থেকে বউকে ভয় পাস তুই
তুই পাস না?তোরে তো প্রথমদিনেই চড় মাইরা দিসিলো
হুর!আহানা কি আমার বউ নাকি,নাকি হবু?কিছুই না,তাহলে ওর সাথে মিলাস কেন?
তো কার সাথে মিলাবো?যেখানে তাকাই তোদের দুজনকে একসাথে দেখি,তবে প্রেমপিরিতি করস না এটা ঠিক বাট সারাদিন ঝগড়া করস
এলিনা,বেবি ছিল ওদের সাথে মিলাই নাই কারণ ওদের প্রতি তোর কোনোদিনই ইন্টারেস্ট ছিল না,বাট আহানার প্রতি তোর ইন্টারেস্টের অভাব হয় না

তো?এখন কি একসাথে দেখছিস আমাকে আর আহানাকে?
নাহ তবে তোর হাতে দূরবীন কেন?অফিস,ভার্সিটি ছেড়ে এখন কি ডিটেক্টিভ হয়েছিস নাকি?
আরে না,ঐ যে ইমামের বাড়ি আছে না?
হুম তো?ওখানে কি ফলো করবি তুই যে দূরবীনই আনতে হলো,উনি তো উনার বউরে নিয়ে একা থাকেন
না একা না,দোতলা ভাড়া দিয়েছে
আহানাকে ছেড়ে এবার আরেকটা ধরছোস?বিশ্বাস কর যত মেয়েই লাইফে আনোস না কেন,আহানার মত পার্টনার পাবি না,সে তোকে মেরে আবার মলম লাগিয়ে দেওয়ার মত মেয়ে
আরে আমাকে বলতে তো দিবি,দোতলা আহানা ভাড়া নিসে

হোয়াট??
তোদের দূরত্ব কি কম ছিল যে এবার এত কাছে চলে আসলো?
আমি শেষ,সাম বডি সেভ মি,এবার ঝগড়ার আকার টাইটানিকের চেয়েও বিরাট আকার ধারণ করবে
চুপ!
যা এখান থেকে,বেয়াদব!
শান্ত দূরবীন দিয়ে আহানার রান্নাঘরের দিকে তাকালো,জানালা বন্ধ,ঘুমাতে গেছে মনে হয়
আহানা তার রুমে এসে দরজা লাগিয়ে নিচে শুয়ে পড়েছে,পিঠে ব্যাথা করতেসে,ফ্লোরে শোয়ার অভ্যাস নেই,বেতনটা কবে পাবো,কত কিছু কেনা বাকি!
তোষক,খাট,আলমারি!
অনেক কষ্টে এপাশ ওপাশ করে ঘুমিয়ে গেলো সে,সকাল সকাল উঠে নামাজ সেরে বসে রইলো,দু কদম হাঁটলেই মিষ্টিদের বাসা,আগে তো কতদূর থেকে হেঁটে আসতে হতো
আসলেই আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে
আহানা ওড়নাটা পরে ব্যাগ নিয়ে বের হলো,শান্তদের বাসার সামনে এসে থেমে গেলো সে,মুখ তুলে উপরে তাকিয়ে দেখলো শান্ত সিগারেট খাচ্ছে আর ওর দিকে চেয়ে আছে এক দৃষ্টিতে
আল্লাহ জানে আমাকে ওদিক থেকে আসার সময় দেখছে কিনা
আহানা ভয়ে ভয়ে লিফটে উঠলো,লিফট থেকে বেরিয়ে বড় একটা দম নিয়ে হাঁটা ধরেছে সে
শান্ত ওর বাসার দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে

আহানা না তাকিয়েই মিষ্টিদের বাসার কলিংবেলে চাপ দিতে যাওয়ার আগেই শান্ত একটান দিয়ে ওকে নিজের কাছে নিয়ে আসলো
দাঁতে দাঁত চেপে বললো আমার দিকে তাকালে কি হয় তোমার?

বললাম না দূরে থাকুন,আপনার কারণে এ কদিন ধরে কত কষ্ট করতেসি আমি আর কত কষ্ট দিবেন?বাকি রাখছেন কিছু?
আমি চাই তুমি আমার আশেপাশে থাকো,আমি তোমাকে.!
কি?আপনার আশেপাশে কেন থাকবো আমি?
আহানা শান্তর বুকে হাত দিয়ে ওকে সরাতে যেতেই শান্ত আরও খিঁচিয়ে চেপে ধরলো ওকে
তুমি আমার সাথে এমন করতে পারো না আহানা!
আর আপনি পারেন?আপনার কারণে একবার এক ঝামেলায় পড়তে হয় আমাকে,আপনি প্লিস আমার থেকে দূরে থাকুন,নিন আপনার নোটস
আহানা শান্তর হাত ছাড়িয়ে চলে গেলো
শান্তর মেজাজ বিগড়ে আছে,সোফা থেকে জ্যাকেটটা নিয়ে সোজা গেলো তারেক রহমানের বাসার দিকে

ওগো শুনছো??
কি?
দেখো না এএএএএরররররা ককককাররা
তারেক রহমান দরজার সামনে গিয়ে ভয়ে চোখ বড় করে ১মিনিট চেয়ে রইলেন
দরজার ওপাশে ১০/১২টা ছেলে দাঁত কেলিয়ে চেয়ে আছে
আর সবার পিছনে পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে দেখা যাচ্ছে,আর সে হলো শান্ত
শান্ত চুইংগাম চিবাতে চিবাতে কাছে এসে তারেক রহমানের গাল টিপে বললো কি ব্যাপার গলুমলু আঙ্কেল?
আপনাকে তো আমি ভালো মনে করেছিলাম কিন্তু আপনি এটা কি করলেন?আপনি আহানাকে বাসা থেকে বেরই করে দিলেন,আপনার এত বড় সাহস??
আমাকে কি ভয় লাগে না?
লোকে কি বললো না বললো তা ধরে আপনি আহানাকে বের করে দিলেন?আমাকে আর আহানাকে এক বিছানায় দেখেছেন?নাকি আহানার সাথে আপনার অন্য কোনো শত্রুতামি আছে?
আহানাকে আমি অফিস থেকে বাসায় বাইকে করে পৌঁছায় দি বলে আপনার এত জ্বলে?
আহানাকে তো আমি মানবতার খাতিরে হেল্প করসি আর আপনি কিনা মানবাধিকার লঙ্গনই করে দিসেন!
হেসে দিয়ে বাসার ভিতরে ঢুকে সোফায় বসে শান্ত বললো

রিসাদ!তুই টিভি ভাঙ্গবি,আর অর্ক তুই ডাইনিং ভাঙ্গবি
আর বাকিরা বাসার অন্যসব ভাঙ্গো
আর আমি তারেক আঙ্কেলের হাড্ডি ভাঙ্গবো
ফতুয়া দিয়ে ঘাম মুছে তারেক রহমান বললেন আমি পুলিশে ফোন দিবো,তোমরা এসব কি বলতেসো
আরে দেন দেন,আমরাও বলবো আপনি আপনার ভাড়াটিয়াদের অত্যাচার করে বের করে দেন টাকার লোভে
তাদের টাকার জন্য কথা শুনান,ব্যস এই দুলাইনেই আপনার জেলে থাকা হয়ে যাবে

আমি এখনই পুলিশে ফোন করতেসি
শান্ত টিভি অন করে টম এন্ড জেরি দেখতেসে
পুলিশের গাড়ীর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে
তারেক রহমান দাঁত কেলিয়ে শান্তর দিকে তাকালো,শান্ত দাঁত কেলিয়ে ছেলেগুলোর দিকে তাকালো
ছেলেগুলো পকেট থেকে ভাঁজ করা বড় কাগজ বের করে ভাঁজ খুলে নিলো
কাগজে লেখা-ভাড়াটিয়ার অধিকার দিতেই হবে,দিতেই হবে!!!!
তারপর কাগজ উপরে তুলে সবাই বলা শুরু করলো
মানি না মানবো না!!নারী অত্যাচার মারবো না!মানি না মানবো না!!ভাড়াটিয়াদের অত্যাচার মানবো না

ওদের মূহুর্তেই এমন বদল দেখে তারেক রহমানের চোখ কপালে উঠে গেছে,আসলো মারধর করতে আর এখন কিনা আন্দোলন শুরু করছে
পুলিশ এসে বললেন কই কারা আপনার বাসার জিনিসপত্র ভাঙ্গতে এসেছে?
তারেক রহমান ঢোক গিলে বললেন এরা
কিন্তু এরা তো দেখি আন্দোলন করতেসে,কি সমস্যা?
শান্ত সোফা থেকে উঠে এসে বললো এই আঙ্কেলটা ভাড়াটিয়াদের অত্যাচার করে বের করে দেয়,টাকার জন্য যা তা বলে,তাই আমরা অধিকার চাইতে এসেছি
পুলিশ এবার মুখ ঘুরিয়ে উনার দিকে তাকিয়ে বললেন ফাজলামি করেন?আমি তো ভাঙ্গচুরের কোনো নিশানায় পেলাম না,সামান্য একটা ঘটনার জন্য আপনি আমাদের সময় নষ্ট করলেন,আর এখন নিজেকে বাঁচাতে আপনি মিথ্যা বলতেসেন?এরা আপনাকে মারতে এসেছিল?কই?
কথাগুলো বলে পুলিশ চলে গেলো

শান্ত টেবিল থেকে একটা আপেল নিয়ে যেতে যেতে বললো- গিয়ে আহানাকে বলেন ফেরত আসতে
বহুত কষ্ট দিসেন ওকে,আর সহ্য করতে দিব না আমি!মাইন্ড ইট
আমাকে চেনেন না আপনি??অলিগলির কয়েকটা ছেলে মেয়েকে বলিয়েন শান্ত ভাই কে?কি তার পরিচয়?
তাইলে বায়োডাটা পেয়ে যাবেন,আর কোনোদিন আমার সাথে লাগতে আসার সাহস আসবে না আপনার
আপনার বয়সের কদর করি বলে ফুলের টোকাও দিলাম না আমি,এই নিন কাগজ,এটাতে আহানার নতুন বাসার ঠিকানা আছে
সম্মান দিয়া কথা বলছি,সো যা বলছি তাই করেন নাহলে সত্যি সত্যি আপনার ঐ শখের ডাইনিং আর টিভি ভাঙ্গবো আপনার ফতুয়ার কসম!
বাই
সবাই বাইকে বসে চলে গেলো,বাইক ১০টার মতন,হইচই লেগে গেছে পুরো কলোনিতে
তারেক রহমানের কলিজা এখনও কাঁপতেসে
ফতুয়া পাল্টিয়ে একটা পাঞ্জাবি পরে বউকে নিয়ে বের হলেন আহানার বাসার দিকে

আহানা ভাত বসিয়ে দিয়ে হাঁড়ি পাতিল সব এক এক করে তাকের উপর সাজিয়ে রাখছে,দরজায় নক হতেই ওড়না পরতে পরতে গেলো সে দরজা খুলতে
দরজা খুলে দেখলো তারেক রহমান আর তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছেন,চোখে মুখে তাদের অসহায়ত্বের ছাপ
আহানা সালাম দিয়ে ব্যস্ত হয়ে উনাদের ভেতরে আসতে বললো
কিছু নেই যে বসতে দিবে এই ভেবে সে মাফ চাইলো
না মা,চেয়ার লাগবে না আমরা ঠিক আছি,তুমি ফেরত চলো
আহানা উনার কথা শুনে চুপ করে থেকে বললো কিন্তু কেন?

এমনি, তোমাকে ছাড়া আমাদের একা একা লাগে,তোমাকে তো ভালোবাসতাম অনেক,তাই
আহানা হেসে দিয়ে বললো না আঙ্কেল আমি আর যাব না,,সরি,আমি এখানে আমার দাদা দাদি পেয়েছি,তারা আমাকে অনেক ভালোবাসে,আপনারাও বাসেন,তবে এনাদের একা ছেড়ে যেতে পারবো না
তারেক রহমান ঢোক গিলে বললেন তাহলে কথাটা শান্তকে বুঝিয়ে বলিও কেমন?সে নাহয় আবার আমাকে ধরবে
আহানা ব্রু নাচিয়ে বললো উনি কি করেছেন?
নাহহহহহ কিছু করে নাই,এমনি বললাম,আসি কেমন
দুজনে তড়িগড়ি করে চলে গেলেন
আহানা নিচে ধপ করে বসে চেয়ে আছে দরজার দিকে
এই ছেলেটাকে নিয়ে আমি আর পারবো না,ওকে বাসা পাল্টানোর কথা শুনানোই ঠিক হয়নি!
আহানা তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বের হলো,শান্তদের বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলো শান্ত বাইক নিয়ে বের হচ্ছে
ওকে দেখে তড়িগড়ি করে একটা পিলারের পিছনে লুকিয়ে পড়লো আহানা

শান্ত হেলমেট পরে হেসে দিয়ে বললো একটা পিলার কি আর মোটা হাতিকে লুকাতে পারে?
আহানা রেগে তাকিয়ে বললো কি বললেন আমি হাতি?আপনার কথাবার্তার কোনো লাগাম নেই না?
শান্ত বাইক স্টার্ট দিয়ে যেতে যেতে বললো
“”””আমার এই বাজে স্বভাব কোনোদিন যাবে না””””
আহানা স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলে ভাবলো যাক বাবা সন্দেহ করে নাই যে আমি এই রোড দিয়ে যাচ্ছি কেন,বাঁচলাম!
তারপর সে ভার্সিটিতে এসে সোজা বটতলায় গেলো
তমাল ভাইয়া?শান্ত ভাইয়া কোথায়?

শান্ত তো একটা কাজে বাজারে গেছে,কেন কি হইসে?
কিছু না
আহানা ক্লাসে ফিরে এসে বসলো,রুপা তার বিয়ের খুশিতে আত্নহারা হয়ে গুনগুন করে গান গাইছে
আহানা এক ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলো ওকে
কিরে?কি হইসে তোর?

কিছু না
তাহলে আমার উপর দিয়ে রাগ ঝাড়স কেন?
বলসি না কিছু না?👿
ভার্সিটির ছুটি হয়ে গেছে কিন্তু শান্তর খবর নাই,আহানা ওকে বকতে বকতে অফিসের দিকে হেঁটে যাচ্ছে
এভাবে আর কত পালাবেন আমার থেকে?
অফিসে আসতেই দেখলো শান্ত রাফি স্যারের সাথে কথা বলতেছে

আহানা শান্তর সামনে গিয়ে রাগে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে
হাই??কি খবর
আপনি!!
আপনি তারেক আঙ্কেলকে কি বলেছেন?আপনাকে বলসি আমি আমার হয়ে তদারকি করেন?
না বলো নি,আর আমি কি করবো না করবো সেটাও তোমার এত ভাবতে হবে না
তোমাকে জিজ্ঞেস করিনি আমি,আর কেনইবা এতসব তোমাকে কৈফিয়ত দিচ্ছি আমি?
চোখ রাঙিয়ে শান্ত মুখে সেন্টার ফ্রেশ ঢুকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো
আহানা ওর দিকে চেয়ে রেগে সামনে পা রাখতেই নিহাল এসে দাঁড়ালো
কি?আবার কি?

দেখো আহানা আমি অনেক ভেবেছি,আমার মনে হয় আমি ভুল ছিলাম,সেদিন তোমার অনাথ হওয়ার কথা শুনেও আমার বিয়েতে হ্যাঁ করা উচিত ছিল বাট আমি করিনি,তুমি প্লিস আমাকে ক্ষমা করে কাছে টেনে নাও
আপনি এসব কি বলতেসেন,দেখুন আমি আপনাকে ভালোবাসি না,ওকে?বাই,আমাকে এত ডিস্টার্ব করবেন না
আহানা গিয়ে তার কেবিনে বসলো
নিহাল আহানার দিকে চেয়ে বললো তোমাকে তো আমিও লাভ করি না,কিন্তু কথা হলো গিয়ে শান্তর সাথের বাজির
ওর ধারনা তোমাকে আমি পটাতে পারবো না,কিন্তু এই বাজি তো আমিই জিতব,তুমি যে অনাথ,তোমাকে বিয়ে করে পরেরদিনই লাথি মেরে বের করা আমার বাঁ হাতের খেল!
সবকিছুতে ছাড় দিতে পারি কিন্তু বাজিতে না
শান্ত জাস্ট ওয়েট এন্ড সি
আহানা রাফি স্যারকে ফাইল দেখিয়ে কেবিনে এসে দেখলো একটা ছোট্ট বক্স,ঝকমকে কাগজে মোড়ানো আর উপর দিয়ে লাল ফিতা বাঁধা
সে বক্সটা খুলে দেখলো একটা রিং
আহানা রেগে বক্সটা শান্তর গায়ে মেরে দিলো
কি সমস্যা আপনার,এটা কি দিসেন?মজা করার ও একটা লিমিট থাকে

মানে?আমি কেন দিতে যাব আজব!
আপনি দেননি?
এটা আমি দিয়েছি আহানা!
নিহাল কাছে এসে আহানার হাত ধরে টেনে নিজের দিকে ফিরিয়ে বললো will you marry me?
শান্তর চোখ লাল টুকটুকে হয়ে গেছে,বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেছে সে
আহানা হাত ছাড়াতে নিতেই নিহাল আরও শক্ত করে ধরে আকুতি মিনতি করতে লাগলো
নিহাল ছাড়ুন,আমার লাগতেসে!
শান্ত এক ধাক্কা দিয়ে নিহালকে সরিয়ে দিলো
ও বলছে না ওর লাগছে?কথা কানে যায় না তোর??
মাইন্ড ইউর language শান্ত!!
ইউ জাস্ট শাট আপ!!আহানার গায়ে একটাও টোকা দিবি তো তোর হাত ভেঙে তোর মাথায় হ্যান্ড ক্রাউন বানিয়ে সাজিয়ে দিব!

নিহাল শার্টের কলার ঠিক করে চলে গেলো
আহানা চুপ করে চেয়ারে গিয়ে বসেছে
শান্ত ঢকঢক করে পানি খেয়েই যাচ্ছে
তারপর সিগারেট একটা ধরিয়ে নিচের দিকে গেলো,বাইরে দাঁড়িয়ে অফিসের দিকে চেয়ে দেখতেসে আর সিগারেটে টান দিচ্ছে
নিহাল কোথা থেকে এসে শান্তর সিগারেটটা নিয়ে নিলো
তারপর হেসে দিয়ে বললো এত কষ্ট এই টুকুতেই?
আরে সামনে তো আরও কত কিছু দেখতে হবে তোমাকে!
আমি যখন আহানাকে বিয়ে করে নিয়ে যাব তোমার সামনে রোমান্স করবো!
চুপ!!এসব করার যোগ্যতা তোমার নাই

তাই তো আমি আহানাকে বিয়ে করে সেটা প্রুভ করে দিব শান্ত,আমার সাথে বাজি ধরতে আসিও না,আমি বাজিগর!তুমি তোমার ওভার একটিং নিয়ে থাকো আমি আহানাকে বিয়ে করে হানিমুনেও চলে যাব ততদিনে
শান্ত নিহালের কলার টেনে বললো আমি তোরে ছাড়বো না,আহানার থেকে দূরে থাকবি,গট ইট?
কথাটা বলে শান্ত চলে গেলো

আজ বিকালেই সব কাজ শেষ করে আহানা বাসায় ফিরেছে,শান্তর যে কি হলো,আমার সাথে একটা কথাও বলেনি সে
বাসায় ফিরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে যেতেই দাদি ডাক দিলেন
আহানা সবে একটা সিঁড়িতে পা রেখেছে,নিচে নেমে সেদিকে গেলো দাদির ডাকে
দাদি মুচকি হেসে আহানার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে আসলেন
সোফায় দাদা আর কে যেন বসে আছে
আহানার বুকের ভিতর কেমন যেন করছে,না এটা হতে পারে না, এটা শান্ত হতে পারে না, শান্ত যেন টের না পায় সেজন্য তো আমি অন্য রোড দিয়ে এসেছি তাহলে ও এখানে কেন আসবে,কিন্তু নাহহহ এটাই শান্ত
আহানা ঢোক গিলে তাকিয়ে আছে ওর দিকে,আর সে দাদার সাথে দাবা খেলায় মগ্ন
দাদা এমনভাবে ওর সাথে কথা বলতেসে যেন দূর দুরান্তের সম্পর্ক তাদের

কিরে চিনোস তো এরে?
আহানা থতমত খেয়ে বললো হুম চিনি
তুই আমাদের শান্তকে চিনস আগে বলবি না??তাহলেই তো হতো
আপনি এখানে কেন?
শান্ত দাবায় চাল দিয়ে আহানার দিকে চেয়ে মুচকি হেসে বললো এই প্রশ্ন তো আমার করা উচিত,তুমি এখানে কেন?কারণ তোমার আগে আমি উনাদের চিনি
আহানা ব্রু কুঁচকে বললো দাদি আমি আসি
আরে থাক থাক এত লজ্জা পাওয়ার কি আছে?চা খাওয়ার জন্য ডাকছি তোরে
লজ্জা,?কিসের লজ্জা!
হইসে না জানার ভান করতে হবে না,আমরা সব জানি
আহানা মনে মনে ভাবতেসে এরা কি জানে,বেয়াদবটা কি বলেছে এদের!

দাদি হেসে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন
দাদা চাল দিতে দিতে বললো শান্ত আমার নাতির মত,এমন কোনো দিন বাকি নেই ও আমার খবর নেয় না,বড্ড ভালো ছেলে
কেমন ভালো সেটা আমার থেকে ভালো কেউ জানে না
চা না খেয়েই আহানা বাসা থেকে বেরিয়ে দোতলার দিকে গেলো
দরজা লাগাতে যেতেই শান্ত হাত দিয়ে দরজা ধরে ফেলে ভিতরে ঢুকে গেলো
এই আপনি এখানে কি করেন?এখন কি আমাকে এই বাসা থেকেও বের করে দিবেন?কি সমস্যা আপনার? যান বলতেসি!
এটা আমারও বাসা
বললেই হলো আর কি,বের হোন বলতেসি আমি চিৎকার করবো,দাদা!!!! দাদি!!
শান্ত আহানার মুখ চেপে ধরে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে ধরলো
শুনো একটা কথা বলি..মন দিয়ে শুনবা ওকে?

না
তাহলে কামড়ে দিব,চুপচাপ আমার কথা শুনো
আমি এই বাসা আমার ও বাসা বানিয়ে নিব
কালকের জন্য তৈরি থেকো,ওকে?
কথাগুলো বলে শান্ত মুচকি হেসে চলে গেলো
আহানা থ হয়ে ওর চলে যাওয়া দেখছে,এটা কি বলে গেলো শান্ত?কালকের জন্য তৈরি থাকবো মানে?
আমাকে কি এই বাসা থেকেও তাড়াবে নাকি?আজব তো!
আর কি বললো উনার বাসা বানাবে?নিজের বাপের এত বড় ফ্ল্যাট রেখে কিনা এবার আমার এই বাসায় থাকবে?থাকাচ্ছি আমি!!
কাল খবর করে দিব আমাকে এই বাসা থেকে বের করতে চাইলে!
আহানা ঠাস করে দরজা লাগিয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখলো দুটো প্যাকেট ফ্লোরে
আহানা গিয়ে প্যাকেটগুলো হাতে নিয়ে ভাবলো এগুলা কে রাখলো আমি তো দরজা লক করে গেসিলাম,তাহলে চাবি পেলো কই?
আহানা প্যাকেটটা না খুলেই হনহনিয়ে নিচ তলায় আসলো দাদি গাছে পানি দিচ্ছেন আর সূরা ফাতিহা পড়তেসেন
আহানা গিয়ে বললো দাদি আমি যাওয়ার পর কি কেউ আমার বাসায় এসেছিল?

সূরা পড়া শেষ করে উনি বললেন হ্যাঁ,একটা মেয়ে,নাম রুপা বললো তোমার বান্ধুবী
আমি বারতি চাবি দিতাম না কিন্তু সে বললো সে তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চায়,আর বললো প্যাকেটটা রেখেই চলে যাবে
তাই চাবি দিলাম,অলিকেও সাথে দিসিলাম কারণ আবার কি করে না করে আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না
অলি বললো শুধু ব্যাগ রেখে চলে এসেছে
ওহ!
আহানা দোতলায় উঠতে উঠতে ভাবলো রুপা আমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলো?
তাহলে এখনও কল করেনি কেন?
ভাবতে ভাবতে আহানা প্যাকেট খুলে দেখলো একটা লাল শাড়ী,সুতোর শাড়ী
নীল ব্লাউজ,লাল শাড়ীর সাথে নীল ব্লাউজ কেন?রুপা কি গাঁজা খাইয়া শপিং করসে নাকি
আরেকটা প্যাকেটে একটা হালকা পাতলা গলার হার, কানের দুল,টিকলি আর এক মুঠো চুড়ি
রুপা এসব কেন কিনলো,আর চয়েস এত সুন্দর!রুপার চয়েস তো এত ভালো না,আমার কেন জানি মনে হচ্ছে শান্ত কিনেছে এসব!
আহানা ফোন নিয়ে সোজা রুপাকে কল করলো

রুপা গন্ডারের মত ঘুমাচ্ছে পড়ে পড়ে,ফোন বাজতেই লাফ দিয়ে উঠে রিসিভ করে আহানা কিছু বলার আগেই বললো ঐ প্যাকেটের সব আমি কিনছি
তোকে তো এখনও জিজ্ঞেসই করিনি তাহলে?
না তুই হয়ত ভাববি অন্য কেউ দিসে কিন্তু না আমি দিয়েছি,সত্যি বিশ্বাস কর,সত্যি আমার পিগি ব্যাংকের কসম
হইসে চুপ কর,বিশ্বাস করসি,কিন্তু একটা কথা,লাল শাড়ীর সাথে নীল ব্লাউজ দিছস কেন?মদ আবার খেয়েছিস?
ওটাতে শাড়ী ছিল?
কিহহহহ?তুই কি বললি?
না মানে ইয়ে মানে ওটাতে নীল ব্লাউজ ছিল?আমি তো লাল কিনেছিলাম,ওরা ভুলে নীল দিয়া দিসে
ওহ,আচ্ছা থ্যাংক ইউ সো মাচ!!
রুপা ততক্ষণে লাইন কেটে ২গ্লাস পানি খেয়ে শান্তকে কল করতেসে

হ্যাঁ রুপা বলো
ভাইয়া ঐ প্যাকেটে শাড়ী ছিল আমাকে বলেননি কেন,আর একটুর জন্য ধরা খাইতাম আমি
আহানার সাথে আমি মিথ্যা বলতে পারি না বলেই তোমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম,সরি ফর দ্যাট,মনে ছিল না শাড়ীর কথা তোমাকে যে বলিনি
হুম!
আহানা প্যাকেট গুলো রেখে চুপচাপ রান্নাঘরে গেলো,ভাত বসিয়ে ভাবলো রুপা কি সত্যিই এগুলো কিনেছে?আচ্ছা কাল টেস্ট করবো,কে কিনেছে
পরেরদিন আহানা মিষ্টিকে পড়িয়ে শান্তর বাসার দিকে তাকাতে তাকাতে চলে যাচ্ছে,কি ব্যাপার!এই শান্তর কি হলো!আমাকে জ্বালাতে আসলে না!
আজ শুক্রবার বলে ভার্সিটি নেই,মিষ্টিকে পড়িয়ে আহানা বাসায় ফিরে বাসার সব কাজ সেরে ভাত বসাতে যেতেই দরজায় নক হলো,অলির কথা শুনা যাচ্ছে
আহানা গিয়ে দরজা খুলতেই অলি বললো আজ রান্না করতে হবে না,দাদির বাসায় দাওয়াত
হঠাৎ কেন?

সেটা তো জানি না!
আহানা গিয়ে চালের বাটি থেকে চাল বালতিতে ঢেলে ছাদে গেলো
আজ সকাল থেকে এত বাতাস,আহানার ভালোই লাগছে,এই প্রথম সে এই বাসার ছাদে এসেছে
অলি একটা দড়ি নিয়ে এসে বললো তার সাথে দড়ি লাফ খেলতে
আহানা মানা করেছে কিন্তু সে শুনছে না
আহানা বললো সে বেশি লাফাতে পারে না
কম লাফ দিবে,তাতেই অলি রাজি হলো
অলি ৫০বার লাফ দিয়ে এবার আহানার হাতে দড়িটা দিলো
আহানা দড়ি নিয়ে ৩/৪বার লাফ মারতেই দেখলো দূরের ছাদে কাউকে দেখা যাচ্ছে,এটা তো শান্ত
এতক্ষণ এদিকেই চেয়ে ছিলো,আহানা থেমে গিয়ে ওড়না ঠিক করতে যেতেই শান্ত আরেকদিকে মুখ করে চলে গেলো

হুহ!ঢং দেখায় আমাকে,আরে আমি তো ভুলেই গেসিলাম আমাকে বলছে না আজ এই বাড়ি থেকে আমাকে তাড়াবে,আমিও যাব না হুহ😎
আহানা শাড়ীটা পরে গলার সেটটা,চুড়ি,টিকলিও পরে নিলো,আয়নায় নিজেকে দেখে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লো অফিসের উদ্দেশ্যে
শান্ত যদি মুচকি হাসে এর মানে দাঁড়াবে সে দিসে এগুলো,হুমমমমম,ওর মুখের দিকে খেয়াল রাখতে হবে
অফিসে পা রাখতেই আহানা দেখলো শান্ত ফোনে কথা বলতেসে
আহানার দিকে একবার তাকিয়ে কম্পিউটারে একটা ফাইল কমপ্লিট করায় ব্যস্ত হয়ে গেলো
আহানা ব্রু কুঁচকে ভাবলো কি ব্যাপার কোনো রিয়েকশান নাই কেন উনার,আজিব তো!
শান্তর পাশে বসে আহানা কিছুক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বললো আমাকে কেমন লাগছে?

ভালো
শুধু ভালো?
হুম,তোমাকে তো শুধু ভালোই লাগে
হ্যাঁ আমাকে তো শুধু ভালোটায় লাগে,আর বেশি ভালো লাগে না
ওয়াও আহানা,তোমাকে কি জোস লাগতেসে,বাই দ্যা হয়ে লাল শাড়ীর সাথে নীল ব্লাউজ পড়সো কেন?
আহানা ইতস্তত বোধ নিয়ে লিজার কথায় হেসে বললো লাল ব্লাউজ খুঁজে পাচ্ছিলাম না
শান্ত আজ রাফি স্যারকে বলে তাড়াতাড়ি চলে গেছে অফিস থেকে,আহানার তো কলিজা কাঁপতেসে,না জানি দাদা দাদিকে কি আজব সাজব বানিয়ে বলতেসে,আমাকে যদি ওরা বের করে দেয় আমি কোথায় যাব!!
আহানা অনেক কষ্টে কাজ সারতে সারতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো তার
ভয়ে ভয়ে হেঁটেই বাসায় ফিরলো গতি বাড়িয়ে,সব দেখি চুপচাপ!
আহানা পা টিপে টিপে বাসার ভেতর ঢুকলো,দাদা দাদির বাসা থেকে সোরগোল শোনা যাচ্ছে,কি হচ্ছে কে জানে
আহানা দোতলায় উঠতে যেতেই দাদার ডাক শুনতে পেলো
থেমে গিয়ে জ্বী বলে বাসার ভেতর ঢুকলো সে
দাদা বললেন ভিতরের রুমে যেতে,সেখানে দাদি আছেন
আহানা ভিতরের রুমে যেতে যেতে সোফার দিকে তাকালো
২জন হুজুুর বসে আছেন,তার মধ্যে একজন চশমা পড়া হুজুরের মতন লম্বা দাঁড়ি আলা তিনি কাগজ কলম নিয়ে কিসব লিখে যাচ্ছেন আর দাদার সাথে কথা বলতেসেন
শান্তকে তো দেখা যাচ্ছে না

আহানা ভিতরের রুমে এসে যা দেখলো তা দেখে তার চোখ কপালে,রুম ভর্তি সব মহিলা
সবাই আহানার দিকে চেয়ে মুচকি হেসে আছে
দাদি আহানাকে ধরে খাটে বসিয়ে ওর থুতনি ধরে টেনে উনার হাত মুখে নিয়ে চুমু খেলেন আর বললেন সোনার টুকরো মেয়ে
আহানা কিছু বুঝতেসে না
শেষে হা করলো কথা বলার জন্য তার আগেই পিছন থেকে একজন মহিলা ধাক্কা দিয়ে বললেন
তা মেয়ে এতদিন ধরে প্রেম করছো বিয়ের কথা মুখে আনলেই এমন করো কেন?সম্পর্ককে বৈধ রুপ দিয়ে থাকাটা হালাল কাজ,মুসলিম মেয়ে হয়ে এসব জানো না?
মানেহহহহ!কি?
শান্ত এসে গেছে গো,তোমরা আহানাকে রেডি করো
একজনের মুখে কথাটা শুনে আহানা বলতেসে কি হয়েছে,কি হবে,কেন হবে??
কেউ তার কথায় কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না,একজন তো আহানার শাড়ীর আঁচল টেনে ওর মাথার উপর দিয়ে দিলো
আরেকজন আহানার হাত ধরে ওকে দাঁড়ই করিয়ে দিলো

এক মিনিট কি হচ্ছে এসব?
আরে মেয়ে না জানার ভান করো কেন,তুমি নিজেই লাল শাড়ী পরে তৈরি হয়ে এসেছো আর বলতেসো কি হচ্ছে?তোমার বিয়ে হচ্ছে,বিয়ে!!!
আহানা চোখ তুলে বললো কি বললেন?কার সাথে?
রুমের সবাই হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে
আহানা বিরক্ত হয়ে সোফার রুমের দিকে চলে গেলো
সোফার রুমে আসতেই দেখলো যিনি চশমা পরে ছিলেন তিনি শান্তকে কিসব জিজ্ঞেস করতেসেন,সম্ভবত নাম জিজ্ঞেস করেছেন
শান্ত নাম বললো-শাহরিয়ার শান্ত!
তারপর আহানার দিকে তাকালো
আহানা ওর দিকে তাকিয়ে চুপ করে আছে,ও নীল পাঞ্জাবি পরে এসেছে এখানে
সোফায় ভদ্রভাবে বসে আছে,মাথায় সাদা টুপি,নিজের নাম বলে আহানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো সে
আহানা ঘোমটা খুলে শান্তর হাত ধরে টেনে বাসার বাইরে নিয়ে গেলো
কি সমস্যা আপনার?এসব কি হচ্ছে?

আমার আর তোমার বিয়ে হচ্ছে
আমি আপনাকে বিয়ে করবো না,ওকে?এরকম ফাইজলামো করার আগের আমার সাথে কথা বলা উচিত ছিল আপনার
ওহহহ তাহলে শাড়ীর প্যাকেট আপনিই দিসিলেন
হ্যাঁ আমি দিয়েছি,আর আজ এই মূহুর্তে আমি তোমাকে বিয়ে করবো
বললেই হয় না,আমি আপনাকে বিয়ে করবো না,এখন গিয়ে বলেন উনাদের চলে যেতে
কাজী সাহেব আমার সব নাম পরিচয় সব লিখে নিসে এবার তোমার পালা,তুমি তোমার পরিচয় নাম দিয়ে বসো কবুল বলতে বললে কবুল বলবা

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৩৯+৪০

সম্ভব না!
আমি এই বিয়ে কিছুতেই করবো না
বলা নেই কওয়া নেই আপনি এত বড় একটা ডিসিশান আমাকে না জানিয়েই নিয়ে নিলেন?

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪৩+৪৪