Home প্রেমের বাজিমাত প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১০

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১০

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১০
রোজ ও রুশা

মাঠে দাঁড়িয়ে আছে হেরা,রোজ রুশা।সামনে চেয়ার টেনে বসে আছে, নাভান,অধীর আর সৃজন।অধীর আর সৃজন তখন রোজ আর রুশাকে ধরে এনেছে,তখন কুকুর টার সামনে চোরের মতো দৌড় দেয়ার কারনে ।কুকুর গুল্টে আর বেচারা পুলিশ ফুলমিয়ার এমন হাল করেছে তারা! আগে থেকে ফলো করছিলো রোজ ও রুশাকে অধীর সৃজন ।হটাৎ এমন কাহিনি করতে দেখে দুজনের চোখ কপালে ।তখন টেনে নিয়ে এসেছে হেরার কাছে।এসে দেখে হেরার সাথে নাভান ও উপস্থিত ।বিষয় টা একটু অন্য রকম লাগলো দুই বন্ধুর ।অধীর ভালো করে তাকিয়ে পরখ করে নিলো কারো হাত পা কাটে নি তো!! সব ঠিক ঠাক দেখে মনে মনে বলে!যাক আল্লাহ বাচাইছে ।তখন ফুলমিয়া কমেডি শো শুরু হয়ে গেলো। ফুলমিয়া চলে যেতে ঘঠনা খুলে বলে ,ব্যাস এখন যদি তাদের কথা না শুনে তাহলে মাঠের মাঝখানে কান ধরে উঠবস করতে হবে।কিন্তু হেরা তো কোনোদিন করবে না।রোজ আর রুশাকে বলেছে প্রেম করতে তাও অধীর আর সৃজন এর সাথে।তারাও নাকুচ করেছে সাথে সাথে।
রোজ তো বলেই ফেলেছিলো-

“বেটা আস্ত চুমুর সাপ্লাইম্যান এর সাথে জীবনেও প্রেম করবে না।বেটা তার ঠোঁটের ভার্জিনিটি ধর্ষন করেছে।না জানি কতো জনের টা করেছে আল্লাহ জানে।(রোজ)
“”-আমি ও না বেটা লাইভ টেলিকাস্ট কতোজন কে লাইভ শো করিয়েছে কে জানে। (রুশা)
নাভান আর হেরার চোখে চোখে যুদ্ধ হচ্ছে,নাভান মুচকি হাসি দিয়ে বলে-
” ওকে তাহলে আমার নামে স্লোগান দিয়ে যাবা,যখন আমাদের দেখবা তখন দিবা।আর মিস হেরা আপনিও যখন আমার সাথে দেখা হবে তখন আমার নামে স্লোগান দিবেন।তা না হলে ভিডিও টা।
নাভান মুচকি হেসে হেরার দিকে তাকায়, রনচন্ডি রুপ ধারন করে আছে হেরা!নাভান পাত্তা না দিয়ে আবার বলে-
“তা মিস হেরা ফটাফট একটা স্লোগান বলে ফেলেন।আপনি অনেক ব্লিলিয়েন্ট,আমি জানি আপনি পারবেন।
হেরা দাতে দাত চেপে সব সহ্য করে, মনে মনে কতো গালি দিচ্ছে তা কেবল হেরা জানে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” কি ব্যাপার মিস হেরা বলুন ফাস্ট।(নাভান)
হেরা রোজ ও রুশার দিকে তাকিয়ে বলে-
“ভোটের লাইনে হাসির ঢেউ”
শেহতাজ খান নাভান ভাই এলে থামে না কেউ!
নামটা শুনে সবার মনে বাজে গান””
সে যে আর কেউ না আমাদের গিটার ওয়ালা হিরো শেহতাজ খান নাভান!(হেরা)
স্লোগান টা বলে মনে মনে বির বির করে হেরা-
” শালা তোর খবর যদি আমি খারাপ না করে ছাড়ি তো আমার নাম হেরা না!!

ক্যাম্পাস থেকে এসেই গোসলে ঢুকেছে হেরা।রাগে গাল কান লাল হয়ে গেছে।আজ কিছুক্ষন পর পর নাভান আর রামছাগল গ্রুপ তাদের সামনে এসেছে ,আর ফোন হাতে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছে।১০০ বার তাদের মুখে মিছিল শুনেছে” যা এখন ক্যাম্পাসের সবার মুখস্থ্য,তার জন্য হেরার রাগ বেড়ে দিগুণ হয়ে গেছে।গোসল সেরে রুমে আসতেই দেখে দুই ভন্ড গাল ফোটকা মাছের মতো ফুলিয়ে রেখেছে।রাগ তো তারো কম হচ্ছে না।রোজ হেরার দিকে তাকিয়ে বলে-

“শালা রামছাগল এর দল কে যদি শিক্ষা না দেই তো আমার নাম রোজ না।প্রেম করার সখ না মিটিয়ে ছাড়ি তো আমি গাজীপুর এর মেয়ে না।কত্তো বড় সাহস প্রেম করার হুমকি দেয় বেটা রামছাগল।
“জাস্ট কাল ভার্সিটিতে যেতে দে,দেখ কি করি।(হেরা)
এরি মধ্যে ফোন আসে হেরার,রোজ বলে ফেলে-
” অই যে তোর মজনু ফোন দিয়েছে,যা কথা বল।
“হেরা মুচকি হাসে,ফোন নিয়ে বেলকনিতে যায়।
” আসসালামু আলাইকুম”(হেরা)
উফফফফ কি শান্তি নিলয় বুকে হাত দিয়ে মুচকি হাসে,চোখ বন্ধ করে সালামের উত্তর দেয় নিলয়-
“উলাইকুমুসসালাম, কারো ভয়েস শুনলে বুঝি মন এতো ঠান্ডা শিতল হয় হেরা ফুল.?

-লাইফে সত্যিকারের ভালোবাসা আসলে তখন চারপাশের যতো সুন্দরী মেয়ে ঘুরঘুর করুক না কেনো” অই মানুষ টা ছাড়া কারো উপস্থি ও ভালো লাগে না!নিলয় এর ক্ষেত্রে ও তাই হয়েছে,এই যে ক্লাবে কতো সুন্দরী মেয়েরা মৌমাছির মতো ঘুরঘুর করে কিন্তু নিলয় এখন তাদের দিকে ফিরে ও তাকায় না”যে ছেলে সারাক্ষন মেয়ে নিয়ে ঘুরতো ডেটিংএ যেতো সেই ছেলে এক দেখায় ভালোবেসে ফেলেছে হেরাকে।হ্যাঁ সে ভালোবাসে হেরাকে,এখন আর কোনো মেয়ের সংস্পর্শে যেতে ভালো লাগে না,এই মেয়ের ভয়েস শুনলেই কেমন মাতাল লাগে। চোখ বন্ধ করতে হেরার মায়াবি মুখ টা ভেসে উঠে চোখের পর্দায়!!হেরা অপ্রস্তুত হয়ে পরে নিলয় এর কথায়,তারো ভালো লাগে নিলয় কে কিন্তু ভালোবাসে নাকি তা ভুজতে পারে না।ছোট করে বলে উঠে হেরা!!

” কি সব বলছেন নিলয়.?(হেরা)
চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় নিলয় উচ্চারন করে!
“হেরা তুমি অতোটা অবুঝ না ,যে আমার মনের কথা আমার ফিলিংস তুমি বোঝো না।আমি যে তোমায় ভিষণ পছন্দ করি তা কিন্তু তুমি খুব ভালো করে বোঝো!
হেরা আমতা আমতা করে বলে-
‘দ’দেখুন নিলয়,আমি এখন অইসবে যেতে চাই না,আমি পড়ালেখায় মন দিতে চাই।
” আমি কি তোমায় বলছি পড়ালেখা ছেড়ে আমায় সারাদিন সময় দিতে..?আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো ,যতোদিন তুমি চাও।সে দিন না হয় আমার ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাড়াবো তোমার সামনে।কিন্তু সে দিন তোমায় আমায় গ্রহন করতে হবে বলে রাখলাম আমার হেরা ফুল।
হেরা কি বলবে কিছু বোঝতে পারছে না,ছেলেটা যে তাকে ভালোবাসে তা সে ভালো বোঝতে পারে ।কিন্তু সে এসবে জরাতে চায় না,তার মনে এখন একটাই জেদ,যেভাবে হোক সে অই নাভান কে সব জায়গা থেকে নিচে নামাবে।
“হেরা ফুল” (নিলয়)
“””নিলয় এর কথায় ধ্যান ভাঙে হেরার।

—ভালোবসা খুব সুন্দর যদি সেটা সত্যি হয়,আমি খুব করে উপলব্ধি করতে পারছি তোমার ভালোবাসা আমায় উন্মাদ করছে দিন কে দিন। তোমার সামনে হয়তো এই কথাগুলো বললে, আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতাম না ।তাই ফোনে বলছি,সমস্যা নেই যেদিন তোমার মনে আমার ভালোবাসার জায়গা হবে সেদিন সবার সামনে তোমায় ভালোবাসা কথা বলবো।(নিলয়)
হেরা কিছু বলে না ফোন কেটে দেয়,নিলয় কে তার ভালো লাগে বাট তাকে ভালোবাসে না সে।
নাভান একটা পিক হাতে নিয়ে বসে আছে।চোখ লাল টকটকে হয়ে আছে।সেই মুহুর্তে কাজল খান নাভান এর রুমে আসে।সে বাসায় থাকলে বাসার কাজ নিজে করে।এমন না কাজের লোক নেই তিন জন সার্ভেন্ট রয়েছে।কিন্তু কাজল খান ফাক পেলে ছেলের ঘড় গুছানো,রান্নাবান্না,কাপড়চোপড় নিজ হাতে ঘুছিয়ে দেন।দুই ছেলের কি পছন্দ সেই অনুযায়ী রান্না করে।রুমে ঢুকতে কাজল খান নাভানের হাতে ছবি দেখে টান দিয়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে।কর্কশ গলায় বলে-

” তোমায় কতোদিন বলেছি ,অই মানুষটার ছবি এই বাড়িতে রাখবে না।আমার কসম এর কথা ভুলে গেছ নাভান..?
মায়ের কথায় চোখ তুলে তাকায় মায়ের দিকে,সেও কম জেদি না।একেবারে বাবা মার ফুল কপি হয়ে জন্মেছে।মায়ে রাগ আর বাবার রাগ মিলে বোম ব্লাস্ট হয়ে জন্মেছে ।তাই তো রাগ সবসময় নাকের ঢগায় থাকে!
নাভান মায়ের চোখে চোখ রেখে বলে-
“কি চাও তুমি ,আমি বের হয়ে যাই এই বাড়ি থেকে..?আমি কি মাইক নিয়ে বলছি এই লোক টা আমার বাবা..?তোমাদের জন্য আমার জীবন এর সুখ শেষ করে ফেলছি ।তোমায় যেমন আমি ভালোবাসি তেমনি এই লোকটাকেও আমি ভালোবাসি।(নাভান)

নাভান এর কথায় কাজল খান ছলছল চোখে তাকায় নাভান এর দিকে। ছেলেকে একা মানুষ করেছে ১০ বছর বয়স থেকে।এখন ছেলে বাবার কথা বলাতে তার কষ্ট হয় ।তার ধারনা সে মা বাবা দুইজন এর ভালোবাসা দিয়েছে ।কিন্তু সেটা কি হয়..?নাভান এর কথায় কাজল খান বোঝতে পারে,
নাভান এর ভেতরে খুব গভীর কষ্ট আর দায়িত্বের ওজন আছে।কাজল খানের ভালোবাসা তো কম না, সে ১০ বছর বয়স থেকে ছেলেকে একা মানুষ করছে ।সে শুধু “মা” নয়—সে ছিল মা,বাবা,বন্ধু,আশ্রয়,শিক্ষক সব এটা কোনো ছোট ব্যাপার না।কিন্তু বাস্তবতা যে অন্য রকম, তার বাবাকে মিসকরে এখনো”ভালোওবাসে।
অনেক মানুষ আছে যারা বাবাকে না পেয়েও খুব ভালো মানুষ হয়েছে, আত্মবিশ্বাসী হয়েছে, সফল হয়েছে।মায়ের কারনে” হুম নাভান ও সেই কাতারে পরে।নাভান যখন বাবার কথা মনে করে কষ্ট পায়, সেটা এই কারণে না যে মা কম দিয়েছে!
বরং এই কারণে যে সমাজ, চারপাশ, গল্প—সব জায়গায় “বাবা” নামটা একটা জায়গা নিয়ে আছে।এই খালি ঘর টা পূর্ণ হবে কবে..?

“আমি মা-বাবা দুইজনের ভালোবাসাই দিয়েছি”তাহলে কি আমার ভালোবাসায় কমতি ছিলো নাভান।তুমি এখন অই মানুষটার কথা বলছো?(কাজল খাঁন)
কাজল খাঁনের ধারনা নাভান কে সে যথেষ্ট ভালোবাসা দিতে পারছে না।
মা যতই চেষ্টা করুক, সে বাবার জায়গাটা পুরন করতে পারে না।
ঠিক যেমন বাবা কখনো মায়ের জায়গা নিতে পারে না।এটা বের্থতা না এটা বাস্তবতা।নাভান চোখ বন্ধ করে ফেলে।স্বাস টেনে বলে-
“তুমি আমায় বলছো? তাহলে তুমি কেনো আজও অই নামের পদবি নিয়ে ঘুড়ো।(নাভান)
কাজল খান আর কথা বলতে পারে না,সাথে সাথে প্রস্থান করে নাভান এর রুম থেকে।নাভান মনে মনে বলে-
” এই দুইটা মানুষই বলতে পারবে কি এমন হয়েছে তাদের মাঝে ।তার জন্য আমায় যা করার দরকার তাই করবো।

এই শালি আমি আগে ঢুকবো (রুশা)
“তুই পরে আমি আগে,মানে আমি,আমি আমিইই!(রোজ)
রুশা আর রোজ দুইজন ওয়াশরুমে ঢুকার জন্য ঝগড়া লেগেছে দুই ভন্ড! চুল টানাটানি করছে।হেরা রুমে এসে দেখে ফট করে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকিয়ে বলে উঠে-
” তরা চুল টানাটানি কর আমি ফ্রেস হয়ে আসি!(হেরা)
-রোজ রুশা দুইজন একে পরেরে দিকে চেয়ে চিল্লিয়ে উঠে ।
“হেরা কি বাচ্চিইইইই(রুশা)
“হেরা কি বাচ্চিইইই(রোজ)
রোজ রুশার দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে ফুসফুস করছে!
” শালি তোর জন্য আমি যেতে পারলাম না।(রোজ)

-বেচারি রুশার তো ভুল,রোজ আগে উঠেছে দাত মেজেছে ফ্রেস হবে কিন্তু রোজ যেই ওয়াশরুমে ঢুকতে যাবে তখনি রুশা বাধা দেয়,এটার কারন হলো ওয়াশরুমে ডুকলে রোজ এর বেরুতে ৩০ মিনিট লাগে!এতো সময় ধরে বসে থাকতে পারবে না বলেই তো সে আগে যেতে চেয়েছে কিন্তু তাদের ঝগড়ার জন্য ফট করে হেরা ফায়দা লুটে নিলো!রুশা বাচ্চা বাচ্চা ফেস করে রোজ এর উদেশ্য বলে!!
“থাক বইন মন খারাপ করিস না আমরা আমরাই তো।(রুশা)
রাগে বেচারির মেজাজ চড়ে আছে” আবার বলতে এসেছে আমরা আমরাই তো!
” সর শালি, তোর লগে ব্রেকাপ,তুই আমার থেকে দূরে থাকবি।
-রুশা রোজ এর রাগ ভাঙাতে গেয়ে উঠে-

“বান্ধবী তরা পাশে থাকলে মনে থাকে সুখ”” তোদের ছাড়া চাইনা দেখতে অন্য কারো মুখ””বান্ধবীরেএএ বান্ধবী তরা প্রথম তরাই আমার শেষ”তোদের আমি ভালোবাসি যানে সারাদেশ””(রুশা)
তিন বান্ধবি রেডি হয়ে ক্যাম্পাসের উদেশ্য যায়।এদিকে আজ এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার ডেট নাভানদের ডিপার্টমেন্ট এর।স্যার তা হাতে নিয়ে অফিস রুমে যায় ।হেরা এসেছে পিন্সিপাল স্যার এর সাথে দেখা করতে।সাথে রোজ ও রুশা।স্যার কে রুম থেকে বের হতে দেখে তিন জন পেট মোটা টাকলা স্যার তোফাজ্জল এর কেবিনে ঢুকে।তিনজন তিন টা খাতা বদল করে সবার নিচে রেখে দেয়,আর উপরের গাড়ো কালি দিয়ে শেহতাজ খান নাভান এর নামের খাতাটা রেখে আসে!!কাজ শেষে রুম থেকে বের হয় তিন জন ।এদিকে নাভান সহ সকল স্টুডেন্ট রা ক্লাসে উপস্তিত।এই একটা ক্লাস নাভান এর উপস্থিত থাকতে হয়।যদিও সে টপার স্টুডেন্ট ক্লাস করে না।

পরিক্ষার আগের দিন রাতে পড়লেই তার রেজাল্ট এমনিতে ভালো হয় টপার স্টুডেন্ট এর মতো তাহলে সারা বছর পরে সময় লস করার মানে হয় না।এ “নিয়ে অবশ্য অধীর আর সৃজন এর খুব সমস্যা,কিভাবে নাভান এতো পড়া পরে আর মনে রাখে একদিনে.?প্রথম বেঞ্চে বসে আছে নাভান,অধীর সৃজন!নাভান খুব সুন্দর গুছিয়ে এ্যাসাইনমেন্ট করে তাই তো স্যার তাকে খুব পছন্দ করে।স্যার সব খাতা নিয়ে এসে টেবিলে রাখে।প্রথমে নাভান এর খাতা খুলতে খুলতে বলে-
“আজ অব্দি কেউ নাভান এর থেকে ভালো অ্যাসাইনমেন্ট করতে পারো নি।তার টা সবার থেকে বেস্ট এবার ও হবে আমি সিউর।নাভান নির্বিকার,তিতির ভাব নিয়ে বসে,মনে হচ্ছে তাকে কেউ প্রসংশা করছে নিলয় নাভান এর বরাবর।সে চুপ তার এসবে এতো ইন্টারেস্ট নেই,পড়ালেখা যা করে তাই চলবে তার জন্য।কি হবে পড়ালেখা করে ?

টাকা পয়সা তো কম কামায় না সে।স্যার খাতা খুলে পড়তেই হাসি মুখ টা চুপসে যায়।সবাই স্যার এর হটাৎ চেঞ্জ হয়ে যাওয়া মুখ দেখে একটু অবাক হয়,নাভান ও খেয়াল করে,হটাৎ স্যারকে জিজ্ঞেস করে-
” স্যার এনি প্রবলেম.?
‘স্যার চিল্লিয়ে উঠে।
“তোমার থেকে এটা আশা করি নি নাভান।তুমি আমার প্রিয় ছাত্র,তুমি এসব কি করে বলতে পারলে আমার নামে.?
এবার নিলয় যেনো সুযোগ পায় ,স্যার এর সামনে গিয়ে বলে-
” স্যার কি এমন লিখেছে যে আপনি এতো হাইপার হচ্ছেন.?
-স্যার নিলয় এর দিকে বাড়িয়ে দেয় খাতাটা,নিলয় একটু জোরে পরতে থাকে।

“আরে আবাল স্যার,আমার অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে কতো আর নিজের নামে চালাবেন..?আপনি যে আদু ভাই ছিলেন তা আমরা জানি।হলে দেখে দেখে যে অংক মিলান তা কিন্তু আমরা সবাই বুঝি ।স্যার একটা কথা বলি এই পেশা ছেড়ে আপনি ম্যাম মানে আপনার সুন্দরী বউ কে পাঠাইয়েন।আপনার বউ অনেক সুন্দর,আমায় কিন্তু খুব পছন্দ করে।যতই হোক আমি ভার্সিটির সবার ক্রাস,আইডল।স্যার আপনার টাক মাথায় কলব দিয়েন চুল গুলো পেকে গেছে।ও আর একটা কথা আপনি একটা ফেলটুস স্যার,গম্বির পেট মোটা কুম্ভ,তার পরো আপনাকে আমি খুব ভালোবাসি,খুব,,।আমার প্রিয় স্যার আপনি আমার ঘুস খেয়ে আমার নামে কতো সুনাম করেন।
সবাই এসব শুনে অবাক, কেউ হাসছে কেউ নাভান এর দিকে চেয়ে আছে।নিলয় হেসে কুপকাত,অধীর আর সৃজন এবার নিজেদের খাতা খুজে ।নিলয় তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে পরতে থাকে প্রথমে অধীর এর টা-
” স্যার পড়ালেখা আর ভালোলাগে না,এবার প্রেম করা দরকার।আচ্ছা স্যার আপনি কি আপনার বউ কে লাইন মেরে বিয়ে করছেন নাকি..?আচ্ছা স্যার আপনি কি বউ এর আচলের নিচে থাকেন নাকি..?স্যার এই পেট নিয়ে কিভাবে যান খুব জানতে ইচ্ছে করে।

স্যার আমার না প্রেম না ডিরেক্ট বিয়ে করতে ইচ্ছে করে।আমি আপনার মতো হবো ।বউ এর জন্য থালাবাসন মাজবো,আপনি যেমন মাজেন,হাত পা ও টিপে দিবো,রাগ করলে কান ধরে উঠবস করবো,ঠিক আপনার মতো।
“স্টপ নিলয় ”
স্যার এর ধমকে সব চুপ,স্যার নিজেই বলে-
“আমি সিউর এগুলো তারা ইচ্ছে করে করে নি অবশ্যই এদের পিছনে কেউ লেগেছে ,তাদের নাম খারাপ করতে।একজনের না তিনজনের একি রকম হয় কি করে.?
” স্যার এখানে তো তাদের নাম দেয়া আছে।(নিলয়)
“ওয়েট আমি চেক করছি আবার।

স্যার সব খাতা ওল্টিয়ে সবার শেষে তিন টা খাতা পায় যেটা আসল। স্যার এর মুখে হাসি বলে-
” আমি জানতাম নাভান এমন ছেলে না,প্রথমে আমিও বিশ্বাস করতে পারি নি।তারপর অধীর আর সৃজন এর টা শুনে বোঝতে পারি তাদের ফাসানো হচ্ছে,যাই হোক সরি নাভান।
নাভান কিছু বলে না ।রাগে তার চোখ লাল ।নিলয় পাশ থেকে বলে উঠে-
“সেই মজা পেয়েছি নাভান এর জন্য ।ধন্যবাদ তোদের।বেস্ট একটা কাহিনি ভার্সিটি লাইফে।
ব্যাস আগুনে ঘি পরেছে,নাভান উঠে চলে যায় স্যার কিছু বলবে তার আগে অধীর সৃজন ও বের হয়ে যায়।

অন্ধকার রুমে মুখ চেপে ধরে নিয়ে আসে নাভান হেরাকে।
বাকানো কোমর টা নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়,কোমড় এতো শক্ত করে ধরেছে যে হাত মনে হয় ঢুকে যাবে।
” কে কে কে?(হেরা)
“ভয়ে হেরা বলে উঠে।
-নাভান শক্ত করে চেপে ধরে বলে-
“তোর সাহস হয় কি করে আমাকে সবার সামনে জোকার বানানোর.?
কন্ঠ শুনে হেরার বোঝতে বাকি নেই এটা অই অসভ্য গিটার ওয়ালা। হেরার কিছুটা ভয় লাগছে কিন্তু এখন ভয় পেলে চলবে না।
” আপনি পাথর ছুরবেন আমার দিকে আর আমি কাগজ ছুড়লে দোষ.?(হেরা)
“তোর আর আমার মধ্যে বিচার করছিস,আমি যা পারবো তুই তা পারবি.?(নাভান)
” কেন পারবো না, আপনি আমায় কিছু করবেন আর আমি করলে দোষ.?আমিও ছেড়ে দেবার পাত্রি নই,ছাড়ুন অসভ্য লোক।(হেরা)

“কেন আমি ধরেছি তুমিও ধরো।(নাভান)
” আপনার মতো অসভ্য লোক কে ধরার ইন্টারেস্ট নেই আমার।(হেরা)
“কেন আমি যা করবো তোমার ও তাই করতে হবে ।এটাই তো তুমি করছো ।এখন আমি যা যা করবো তোমায় ও তাই তাই করতে হবে।আমি তোমার শরীরের প্রতিটি ভাজে স্পর্শ করবো,তোমার শরীরে প্রতিটি জায়গায় ঠোঁটের স্পর্শ দিবো,শার্ট খুলে বডি শো করাবো তোমার সামনে।তুমি ও তাই করো! নাও আমি শুরু করছি!
-এই বলে লাইট জ্বালিয়ে দেয় আর শার্ট খুলে ছুড়ে মারে নাভান ।
নাভান এর কথা শুনে হেরার নাক মুখ দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে,লজ্জা আর ঘৃণায় মুখ থেকে থু থু দেয় নাভান এর গায়ে।সেটা গিয়ে নাভান এর গলায় লাগে।চোখ বন্ধ করে ফেলেছে হেরা যখন নাভান কে শার্ট খুলতে দেখেছে,তাইতো “থুতু” টা কই গেলেছে তাও জানে না!

” সবার সামনে এক আপনি আর সবার আড়ালে আপনি অসভ্য,কেরেক্টারলেস।(হেরা)
-চুপ একদম চুপ তোর মতো মেয়েকে টাস করার কোন ইচ্ছা নেই তুই তো আমার টাইপি নস! না আছে তোর প্রতি আমার কোনো কিউরিসিটি!
“তাহলে কথায় কথায় হাত আর কোমর চেপে ধরেন কেন.?(হেরা)
এতোক্ষন ধরে অনেক কথা শুনেছে এই মেয়ের, সে ভয় দেখাতে চেয়েছিলো।কিন্তু এই মেয়ের যা তেজ, শার্ট খুলতে দেখে চোখ যে অফ করেছে আর খুলে নি মেয়েটা।নাভান হিস হিসিয়ে হেরার কাছে গিয়ে আবারো কোমর চেপে কাছে টানে,এবার জোরে টান দেয়ায় অনেকটা মিশে যায় হেরা নাভান এর বুকের সাথে।হেরা চোখ খুলে নাভান কে খালি গায়ে দেখে কয়েকটা ঢুক গিলে ।এই প্রথম হেরা নাভান কে খালি গায়ে দেখছে।বলতে হবে চোখ ধাধানো সৌন্দর্যের অধীকারি এই অহংকারী পুরুষ। ফর্সা শরীরে বুকে কালো কুচকুচে পশম, এডামস এপেল এর তিল টা মনে হচ্ছে চাদের মতো উকি দিচ্ছে।সিক্স পেক বডি!বুক থেকে নাভি অব্দি চিকন পসম যা আরো চোখ ধাদানো সুন্দর! ঘামের কারনে শরীর চকচক করছে মুক্তর মতো!মন মাতানো পারফিউম আর ঘামের গন্ধে অদ্ভুদ সুভাষ নাকে লাগছে হেরার, ছেলেদের বডি এতো সুন্দর হয় তা অজানা ছিলো হেরার!ডেব ডেব করে তাকিয়ে আছে হেরা সব ভুলে।নাভান আরো কাছে টেনে নিয়ে হিসহিসিয়ে বলে-

“আমি আমার বডি দেখিয়েছি তুই ও দেখা!
এখন আমি সব কিছু করবো তোর সাথে!তুই কর আমার সাথে!!আমি ছেলে মানুষ দশ টা মেয়েকে ছুতে পারবো তুই কি পারবি স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষের ছোয়া নিতে..?তাহলে আমায় ছুয়ে দে,দেখি কেমন পারিস তুই!” (নাভান)
এসব কথা শুনে হেরার মন মস্তিষ্ক ঘুরপাক খাচ্ছে!

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৯

হটাৎ হেরা চারিদিক অন্ধকার দেখে নাভান এর বুকেই ঢলে পরে! নাভান বুকে আগলে নেয় হেরাকে! কিন্তু পরোক্ষনেই ” কি মনে করে বুক থেকে ধাক্কা দিয়ে ছুরে মারে ফ্লোরে। হেরার ছোট তুলোর মতো শরীর টা মুহুর্তে পরে যায় ফ্লোরে,টেবিলের এক কোনা লেগে অচেতন হেরার মাথা কেটে যায়, নাভান রক্তের দিকে এক পলক তাকিয়ে নিজের শার্ট পরে বের হয়ে যায় রুম থেকে।এখানে থাকলে সে ভুল কিছু করে ফেলবে, যা হেরার জন্য খুব খারাপ কিছু হবে,তাই তাকে এখন একা সময় কাটাতে হবে,একেবারে একা!

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১১