Home প্রেমের বাজিমাত প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৯

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৯

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৯
রোজ ও রুশা

কেন্টিনে বসে আছে হেরা রোজ এর সাথে।মূলত তারা আড্ডা দিচ্ছে, রুশা লাইব্রেরির ভিতর সে উপন্যাস এর বই খুজতে বেস্ত ,কার কাছে জানি শুনেছে এখানে ফ্রিতে উপন্যাস এর বই নিয়ে পড়া যায়, সেই থেকে মেয়েটা ঘেন ঘেন করছে কখন লাইব্রেরিতে যাবে,এদিকে রোজ এর প্রচুর ঠান্ডা লেগেছে যার জন্য সে গরম কিছু খেতে এসেছে কেন্টিনে সাথে হেরা ও ।কালকের কাহিনি বলছে হেরা আর হাসছে দুই বান্ধবী।নাভান তাদের সামনে বসেছিলো কেউ কাওকে খেয়াল করেনি ।নাভান পেপার পরতে এসেছে এটা তার নিত্যকারের অভ্যাস,আহামরি কেন্টিনে কেউ নেই, সকাল হওয়াতে,

“বেটাকে শাস্তি দিয়ে আমার মন টা শান্তি লেগেছে তা মনে হয় কোটি টাকা দিয়ে কিনা যাবে না।
আবার লাগতে আসলে খবর খারাপ করে ছাড়বো দেখিস। এই হেরাকে তো চিনে না। সবার সামনে একেবারে নাকানি চুবানি খাইয়ে ছেড়েছি,আমার গায়ে পানি ছুড়া,আমি সুপ ঢেলে দিয়েছি একেবারে মাথায়।
বলে দুইজন হেসে লুটুপুটি খাচ্ছে, নাভান হটাৎ নিজের নামে এতো কিছু শুনে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে,কন্ঠটা যে হেরার তা খুব ভালো করেই বোঝতে পেরেছে সে,তাইতো চুপ করে এতোক্ষন সব শুনছিলো,তাকে মজার পাত্র করায় মুহুর্তে চোয়াল শক্ত করে উঠে দাঁড়ায়, পেপার টা রেখে রাগি পায়ে হেরার কাছে যায়।চোখ মুখ শক্ত করে তেজি গলায় বলে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” ও আচ্ছা তাই তা কি খারাপ করবেন আমার…?
নিজেদের অতি নিকটে নাভান কে দেখে একটু হকচকালো দুজন, যদিও রোজ বেশি হকচকিয়ে গেছে কিন্তু হেরার মুখ নির্লিপ্ত, নাভান হেরার হাত চেপে ধরে উঠে দাড় করিয়ে দাতে দাত পিষে বলে।
“আমাকে হেনস্তা করা এতো সহজ না।
-,একজনের চোখে আগুন তো আরেকজনের কথায় বজ্রপাত।এখানে হার জিত নেই কারন দু’জন নিজের জায়গায় ভয়ংকর, দেখা যাক কে কথার পিষ্টে জিতে যায়।
” মি:নাভান আগুনে হাত দিলে হাত পুরে যায়,আমি আপনার জন্য আগুন তাও ধরছেন বার বার ।একই ভুল করছেন না.?অইদিন এর ক্ষত টা কি শুখায় নি।
নাভান হাসলো নাকি বোঝা গেলো না।
“তুমি যদি আগুন হও আমি পানি হবো,কিভাবে আগুন দমাতে হয় তা ভালো করে জানা আমার।
“হাত ছেড়ে কথা বলুন। কথায় কথায় হাত টানাটানি করেন কেনো .?এমন চরিত্রের অধীকারি শেহতাজ খান নাভান.?কথায় কথায় মেয়েদের হাত টানাটানি করে।
না এই মেয়ে কথা বলে ঠিকি। কিন্তু কথার মধ্যে মানুষ কে জ্বালিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে, হেসে হেসে কলিজা ছিদ্র যাকে বলে, নাভান আরো শক্ত করে চেপে ধরে রক্তচক্ষু নিয়ে গর্জে উঠে।
” তুমি কি ভাবছো ..?তোমার মতো লো ক্লাস মেয়ের হাত ধরার জন্য এই শেহতাজ খান নাভান আগ্রহ নিয়ে বসে আছে…?

শোনো মেয়ে তুমি আমার টাইপ না, আগেও বলছি এখন ও বলছি।তাই হাত ধরাতে অন্য কিছু মনে করবে না।তোমার কপাল ভালো তুমি এই শেহতাজ খান নাভান এর হাতের স্পর্শ পেয়েছো,নিজেকে ধন্য মনে করো মেয়ে।
—হেরা বিদ্রুপাত্মক হাসি দেয়,যেন এই হাসি কাওকে জ্বালিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।হ্যাঁ জ্বালিয়ে দিচ্ছে নাভান কে।
“আমি আপনার টাইপ হতেও চাই না কোনোদিন,আর আমার ধন্য হওয়া লাগবে না। আপনি কি এমন ভাবেন নিজেকে, যে আপনার ছোয়া পেলে ধন্য হয়ে যাবো আমি? অহংকারী লোক।
—নাভান রাগে হেরার সামনে গ্লাসে পানি ছুড়ে মারে হেরার মুখে।হেরা ঘুড়ে যাওয়াতে সম্পুর্ন পানি তার গলায় পরে, কিছুটা চেচিয়ে উঠে হেরা,রোজ এবার চেচিয়ে বলে।
“এ এটা কি করলেন এতে গরম পানি ছিলো!!

–মুহুর্তে নাভান এর হাত আগলা হয়,সেই রক্ত চক্ষু জলের নেত্রচক্ষুর মায়াবি আখিপল্লব এর দিকে তাকাতে নাভান হাত ছেড়ে দেয়,গলার দিকে নজর পরতে চোখ বন্ধ করে ফেলে। ফর্সা গলায় মুহূর্তে লাল দাগ পরে গেছে,রোজ এর গলা ব্যথার কারনে গরম পানি নিয়েছে খাওয়ার জন্য, কিন্তু পানি বেশি গরম হওয়াতে একচুমুক খেয়ে রেখেছে ঠান্ডা হওয়ার জন্য। নাভান হেরার ধৈর্য দেখে অবাক এতো হার্ড মেয়েটার মন ,চোখ থেকে পানি পরছেনা অন্য মেয়ে থাকলে কান্না করে দিতো।
নাভান হেরার হটাৎ চুপ থাকাটা মেনে নিতে পারছে না,যে মেয়ে সারাক্ষন তার সাথে গলা উচিয়ে কথা বলে সেই মেয়ে হটাৎ চুপ হয়ে যাওয়াতে কেমন এক বিভ্রান্তকর পরিস্থিতির মধ্যে পরে গেলো। হেরা মুচকি হাসি দিয়ে বলে।
” এবার হেপি .?জিততে পেরেছেন মি:শেহতাজ খান নাভান,আঘাত করে শান্তি লাগছে.?ও লাগবেই তো আপনি তো পালটা শাস্তি দিতেই এসেছে।

—নাভান গলার স্বর কিছুটা নরম করে বলে।
“দোষ তোমার তুমি এটা ইচ্ছে করে করেছো।যাতে আমায় অপরাধী করতে পারো।
কথার সুযোগ যেনো খুজছিলো হেরা,তাকে হার্ড করতে এবার কয়েকটা কড়া কথা শুনাতে চায়।
” জি ভালো বলছেন আমি জানতাম MLA কাজল আপনার মা,আপনার ধারনা আছে আমি কাল কতোটুকু জায়গা ঘুরেছি..?
না খেয়ে ঘুরেছি, ধারনা আছে আপনার…?না ” না” থাকবে কি করে!! আপনি তো ইচ্ছে করে করেছেন!!আরে ক্ষমতার জন্য এতো কিছু,ছি!এই ক্ষমতা কতোদিন থাকবে মি:শেহতাজ খান নাভান..?
আজ আমার জায়গায় আরেকজন ছেলে হলে এমন করতে পারতেন?
আমি মেয়ে হয়ে কি দোষ করেছি নাকি অন্য কিছু?

“নাভান চোখ বন্ধ করে সব শুনে, তার রাগ হচ্ছে খুব, কিন্তু তা প্রকাশ করতে চাচ্ছে না সে।
নাভান ঠান্ডা মাথায় বোঝাতে চায় হেরাকে।
” তুমি পড়ালেখা করতে এসেছো,করো বাট আমার সাথে পাংগা নিলে কেনো? (নাভান)
আসলে কি হেরা তার সাথে লাগতে এসেছে!! হুম ” এটা তো সত্যি,কিন্তু নিয়ম-রুলস এর বাহিরে তো সে কিছু করছে না,তাছাড়া এই লোকটার ও বোঝতে হবে ক্ষমতা দিয়ে সব সময় সব কিছু হয় না।ক্ষমতার জন্য মানুষ কে মানুষ মনে করে না,এই লোকটার জন্য তার প্রিয় একজন মানুষ আজ তাদের কাছ থেকে দূরে ।শুধু মাত্র এই লোক এর ক্ষমতা,এটিটিউড এর জন্য,,।
আসলে মানুষকে মানুষ মনে করার চেয়ে আমরা আজকাল ক্ষমতার দাস হয়ে যাই । পদবী, স্বার্থ আর স্বীকৃতির লোভে আমরা নিজেরা নিজের চোখে কালো চশমা বসাই। সত্যিকারের বন্ধুত্ব, মানবিকতা, ভালোবাসা,সবই তখন পিছনের সারিতে চলে যায়।

যখন সামনে আসে সুবিধা আর ক্ষমতা। আমরা ভুলে যাই, মানুষের মর্যাদা কোনো পদবী দিয়ে কেনা যায় না। আর যারা নিজের চোখে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখেনি, তারা অন্যকে কখনো সত্যিকারের বন্ধু বা সহকর্মী হিসেবে দেখতেই পারে না।মানবতা আজকাল শোকের মতো, যেখানে কেউ মূল্য দেয় না ,যতক্ষণ না তার নিজের স্বার্থে প্রয়োজন হয়। আমরা ভুলে যাই, ক্ষমতা অর্জন করার পথে হারানো মানুষের মন, হারানো বিশ্বাস, হারানো স্নেহ সেগুলো আর ফিরে আসে না। আর যারা নিজের চোখে অন্যকে মানুষ মনে করে না, তারা নিজেও কখনো সত্যিকারের স্বাধীনতা, শান্তি আর পূর্ণতার স্বাদ পায় না। এই লোকটা যে তাদের কাতারে পরে,কিন্তু হেরা নিয়ম এর বাহিরে না গিয়ে তার জবাব দিবে,তখনি হবে তার জয় আর শেহতাজ খান নাভন এর পরাজয়।হেরা রক্তচক্ষু কিন্তু ঠান্ডা স্বরে বলে।

“আমি কারো সাথে লাগতে আসিনি,আমি আমার যোগ্যতায় সব ছিনিয়ে নিবো সব!!আপনি তো যোগ্যতারর বিচার সবার আগে করেন,যার জন্য মানুষ কে মানুষ মনে করেন না,এতো দেমাগ আপনার..?আমি সেই দেমাগ ভাঙতে চাই আমার যোগ্যতায়।(হেরা)
বেশ আত্নবিশ্বাস নিয়ে বলে কথাখানা,
” তোমার কি যোগ্যতা আছে যে তুমি এই শেহতাজ খান নাভান এর সাথে পাংগা নিচ্ছো..?(নাভান)
“সেটা এই এক মাসে সবাই দেখেছে,যোগ্যতা আছে বলেই আমি আর আপনি মুখমুখি।(হেরা)
” ওয়েল ,তুমি তোমার যোগ্যতা প্রমান করো,বাট আমার সাথে তোমাকে মিলাবে না,বি *ক*জ আমি যা করতে পারবো তুমি তা কখনো পারবে না।(নাভান)
“ওকে আমি আমার যোগ্যতা প্রমান করে ছাড়বো।(হেরা)
হাত ঝাড়ি মেরে চলে যায়,নাভান মুহুর্তে চোখ অফ করে ফেলে,মনে হচ্ছে এই ঝাড়িটা তার দাম্ভিকতার উপর মেরে গিয়েছে হেরা।নিজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে সেই গ্লাসে,মুহূর্তে কাচের গ্লাসটা ভেংগে হাত ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়।

” ভাই এটা কি করে হলো?
অধীর ছুটে এসে নাভান এর হাত ধরে,ঝিনুক বলে।
“জলিদি ফাস্টএইড বক্স নিয়ে আয় অধীর,হাত অনেক কেটে গেছে জলদি নিয়ে আয়।
অধীর ছুট লাগায়। ঝিনুক তিক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলে-
” আবার তুই হেরার সাথে ঝামেলা করছিস..?ভাই ও মেয়ে মানুষ তার সাথে তোর কেন এতো খোভ।বাদ দে ভাই,
নাভান চুপ করে থাকে একটা কথাও বলে না,ঝিনুক বকবক করছে।
রোজ ক্যাম্পাসের বাহিরে এসে একটা ফার্মেসি থেকে মলম নিয়ে তা লাগিয়ে দেয় হেরার গলায়,ভাগ্য ভালো যে চামড়া পুড়ে যায় নি,রোজ আইস্ক্রিম লাগিয়ে দেয়াতে অনেক জ্বালা পোড়া কমে গেছে।১ঘন্টা যাবত এগুলো করেছে দুই জন রুশা হেরার গলায় মলম দিচ্ছে আর গালি ছুড়ে দিচ্ছে নাভান কে উদেশ্য করে। আজ একটা ইম্পোরটেন্ট ক্লাস আছে তাই কেউ যায় নি ভার্সিটি থেকে ,তা না হলে আজ যা ঘটেছে চলে যেতো সবাই….
নাভান উঠে চলে যায়, নাভান চলে যেতে
ঝিনুক এক মনে বলছে অধীর আর সৃজন কে,কালকের সব ঘঠনা , অধীর শুনে আইসক্রিম এই নিয়ে খেয়ে ফেললো ৫ টা।

“ভাই সৃজন এবার কি হবে? কি তান্ডব দেখতে হয় এখন থেকে প্রতিদিন আল্লাহ জানে!!
অধীর চিন্তিত ভঙিতে বলে সৃজনকে!
” ভাই আমার হাই প্রেসার উঠে যাচ্ছে, কে কার মাথা ফাটায় কখন কে জানে!দুইটাই আগুন! কখন জানি চারিদিক ছরিয়ে পরে আর আমরাও সেই আগুনে ঝলসে যাই।ভাই এখনো প্রেম হয় নি বিয়ে হয় নি বাসর হয় নি।(অধীর)
“ভাই তুই বাসর এর চিন্তা করছিস,আর আমি ভাবি,বাসর করতে গেলেও এই শালা নাভান এর জন্য অইটাও হবে না।(সৃজন)
থেমে আবার বলে সৃজন

“শালার জীবন, জীবনে এতো টেনশন যে কোন সময় কোন টেনশন করমু সেই টেনশনে টেনশন হচ্ছে। এই টেনশনেই টেনশন হইয়া টেনশন বাড়ে।(সৃজন)
” ভাই একটা জীনিস আজ বোঝলাম,লাল পানি,নারী আর কম্বল এর ভিতরে একবার ঢুকলে আর বের হইতে ইচ্ছে করে না,বা কোনো ভাবে বের হতে চাইলেও বের হওয়া যায় না,প্রমান স্বরুপ আমরা!!(অধীর)
কথাটা খুব আফসোস করে বলে অধীর,
আসলে সত্যি যে ছেলেরা মেয়েদের থেকে দূরে থাকে তাদের সাথে মেয়ে জনিত বিষয় এক বার না বার বার হচ্ছে ।কেউ ঝগড়া ঝামেলা আবার কেউ ইজ্জত হারা আবার কেউ ভার্রজিনিটি।এটা কি নিয়তি নাকি? অধীর এর ধারনা লাল পানি মানে নেশা,নাড়ী,আর শিতকালে কম্বল এর ভিতরে ঢুকলে আর বের হতে মন চায় না,এখন নিয়তি তাদের বের হতে দিচ্ছে না।কি কপাল মাইরি।

-কেন্টিনে হেরা, রুশা ও রোজ বসে আড্ডা দিচ্ছে।ঝিনুক তাদের সাথে বসে কালকের বিষয়ে কথা বলছে। মূলত তার কথা বলার মূল কারন হলো নাভান !
“নাভান তোমার সিনিয়র তার সাথে আর ঝামেলা করো না হেরা,তুমি আমার বোনের মতো,প্লিজ হেরা সব ভুলে যাও।তুমি তোমার মতো চলো আর নাভান কে আমি বোঝিয়ে বলবো।
-এর মধ্যে হেরা কিছু একটা দেখে উঠে যায়,এতোক্ষন যে ঝিনুক কি বলেছে তা কি হেরা শুনেছে নাকি .?তার মনোযোগ ছিলো অন্য কোথাও।
হেরা যেতে সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকে ঝিনুক ফুস করে নিশ্বাস নেয়।মেয়েটার ভিতরে বাচ্চাভাব আছে, এমনি কঠিন দেখালে কি হবে কিন্তু এখনো বাচ্চাদের মতো আচরণ করে,তা না হলে কাল রেস্টুরেন্টে এমন করতো.?আর নাভান টাও কি ফাজিল। আজ এটাকে পেলে আচ্ছা মতো ধোলাই দিবে।
হেরা গুটি গুটি পায়ে বাগানবিলাশ গাছটার দিকে যায় ,যা ক্যাম্পাসের মাঠের এক সাইডে রয়েছে,সাথে একটা চায়ের দোকান।
সেই দিনের পুলিশ আর অসভ্য কুত্তা ওহ সরি ডগ। লোকটা অইদিন এর মতো বসে বসে চা খাচ্ছে,হেরা মনে মনে বলে!

“শালা পুলিশ মামু তোমার অবস্থা আজ কি করি জাস্ট দেখো,
হেরা দোকান এর পিছনে গিয়ে, নিচু হয়ে খুব সাবধানের সহিত কুকুরের রশি টা পুলিশ এর কোমরের বেল্টের সাথে বেধে দেয়। যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবে চলে যায় হামাগুড়ি দিয়ে ।যেই হাত মুছতে যাবে তখন নাভান তার সামনে সন্দিহান চোখে তাকায়।হেরা একটা শুকনো ঢুগ গিলে আমতা আমতা করে-
“আ আ” আপনি, এ ” এ এখানে”
-হেরাকে আমতা আমতা করতে দেখে নাভান বলে উঠে।
“এখানে গান এর সুর তোলা হচ্ছে না যে আপনি আ,আ করবেন মিস হেরা!
” না মানে!

নাভান আবার হেরার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
“তা সাহস এর সাথে কুটনামিও তো ভালো জানেন দেখি!
হেরা না বোঝার ভান ধরে বলে।
” কি,কি কি বলছেন..?
“এতো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট আপনি তা এর সহজ কথা বোঝতে পারছেন না..?(নাভান)
” হেরা বোঝে ফেলে এই অসভ্য গিটার ওয়ালা দেখে ফেলেছে,কিন্তু সে তো আসার সময় কাওকে দেখে নি ।এই বেটা কখন আসলো এখানে.?হেরাকে চুপ থাকতে দেখে বলে নাভান-
“তা মিস হেরা বলে দেই পুলিশ টাকে আপনি কি করেছেন?
হেরা এবার কিছুটা ভয় পায় মনে মনে নাভান কে ইচ্ছে মতো গালি দেয়।তাও দ্বাম্ভিকতার সহিত বলে।
” কি বলবেন?

“এই যে কুকুরের রশিটা যে পুলিশ এর পেন্টের বেল্ট এর সাথে বেধে দিলেন!
এই রে বেটা যদি সত্যি বলে দেয় তো জেলে যাবে নিশ্চিত, হেরা আমতা আমতা করে বলে।
” কি ” কি জা তা বলছেন ..?আমি কেনো এসব করতে যাবো,কি প্রমান আছে। আপনার মতো মিথ্যাবাদীর কথা কে বিশ্বাস করবে..?
– হেরার কথায় নাভান রাগ দেখায় কিছুটা,মিথ্যা কথা বলছে সে আর তাকে দোষ দিচ্ছে সে মিথ্যাবাদী। এবার পকেট থেকে নিজের আইফোন টা বের করে ভিডিও অন করে ,যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে হেরা কিভাবে গিট্টু লাগাচ্ছে।হেরা ভিডিও দেখে কোমায় যাওয়ার উপক্রম, এবার এই অসভ্য গিটার ওয়ালার হাত থেকে কে বাচাবে.?সে তো নদীতে নামতে পারছে না কুমিরের ভয়ে আর উপরে উঠতে পারছে না বাঘের ভয়ে, ব্যাপার টা এমন হলো না..?
নাভান মুখে দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে-

“এখন আমার কথা না শুনলে আমি ভিডিও টা দেখিয়ে দিবো!!
-হেরার অবস্থা খারাপ সে মুচকি হাসি দিয়ে বলতে থাকে।
” আমি মিথ্যাবাদী ভাইয়া,আপনি অনেক সত্তিবাদি না সত্যবাদা লোক,আপনার শরীরে অনেক দয়া মায়া,আপনি পরউপকারী মানুষ, পরহেজগার লোক আপনি কি এসব কুটনামি করতে পারেন নাকি? আপনি যা বলবেন তাই করবো।
নাভান ভ্রু কুচকায় ,মেয়েটা ভালই উদ্ভব কথা বলতে পারে। এদিক সেদিক তাকিয়ে, নাভান হেরার উদ্দেশ্য বলে।
“তা মিস হেরা,এখন মাঠের মধ্যে, কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তাও পাক্কা ৩০ মিনিট,
কানে ধরার কথা শুনে হেরা চেচিয়ে উঠে।
” কি! কি জা তা বলছেন.?আমি একজন সেলিব্রিটি মানুষ, আমি ধরবো কানে.?
হেরার কথায় নাভান বলে।

“আপনি সেলিব্রেটি.?
হুম আমি সেলিব্রেটি,
” তা মিস হেরা , দলের লিডার হলে আর ভালো পড়াশোনা করতে পারলেই সেলিব্রেটি হওয়া যায় নাকি?
“আবার জিগায় .?আমি সেলিব্রেটি না হলে ঢাকার কিং, সবার আইডল,সেলিব্রেটি শেহতাজ খান নাভান আমার পিছনে পরে থাকে .?আমি তো শুনেছি শেহতাজ খান নাভান সমানে সমানে টক্কর নেয়,আমি সেলিব্রিটি বলেই না সে আমার সাথে টক্কর নিচ্ছে।

—-ব্যাস নাভান এর রাগ মুহূর্তে বেড়ে যায়,হেড়ার কোমড় টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে, পকেট থেকে দামি একটা মলম নিয়ে হেরার গলায় লাগিয়ে দেয়।মূলত সে এসেছে মলম দেয়ার জন্য, ভুল টা যেহেতু তার ছিলো তাই সে এতোটুকু করতেই পারে।আর যাই হোক সে মিথ্যা কথা বলার জন্য কাল এমন একটা কাহিনি হয়েছে।আর কোনো মেয়ে তাকে অপমান করবে নিরবে তা সে সহ্য করবে না নিশ্চই ।হেরাকে আঘাত করাতে সে কিন্তু একটা কথাও বলে নি একটা বার ও বলে নি ব্যথা পেয়েছি।আপনি এই কাজ টা ঠিক করেন নি বা তাকে কথা শুনায় নি।তার জন্য বেশি বিরক্ত লাগছে নাভান এর কাছে,হেরা তাকে তার ভুল না ধরিয়ে অনুশচনায় ফেলে দিয়েছে।কথায় আছে না অনেক সময় কথা বলার প্রোয়োজন হয় না সামনে মানুষ পরিস্থিতি দেখে এমনি চুপসে যাবে বিপরিতে আর কথা বলতে পারবে না ।নাভান এর ক্ষেত্রের তাই হয়েছে।হেরাও পারতো তাকে গরম পানি ছুড়ে মারায় কথা শুনাতে বা তাকেও শাস্তি দিতে ।কিন্তু সে তা কিরে নি ,সে নাভান কে অনুশচনায় রেখেছে।কিন্তু নাভান তো নাভান! সে অনুশোচনা করতে মোটেও ইচ্ছুক না ।তাই তো মলম কিনে হেরাকে খুজে বের করেছে ,কিন্তু এখানে এসে দেখে অন্য কাহিনি।নাভান হেরার উদেশ্য হিস হিস করে বলে।

“তুমি আমার টাইপ নও,তোমার সাথে আমাকে মিলাতে যেও না মেয়ে,পা পিছলে পরে যাবে প্রেমে।
হেরা বোঝতে পারে তার গলায় নাভান কিছু একটা দিয়েছে ।সে চুপ করে আছে কিছু বলে নি।যাক তার চুপ থাকাটা কাজে দিয়েছিলো,অহংকার সাইডে রেখে নাভান এসেছে, হেরা মুচকি হাসে ।নাভান কে কটাক্ষ করে বলে-
” প্রেম কোথা থেকে আসলো শেহতাজ খান নাভান..?তাও আপনার মতো অহংকারী মানুষ কে।
“উফফ মিস হেরা তুমি জানো না,এর আগেও অনেকে আমার সাথে টক্কর নিতে এসে, আমার প্রেমে পরে সব ছেড়ে চলে গেছে।
হেরার মুহুর্তে রাগ মাথায় চাপে,ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয় নাভান কে।

” আমি কোনো প্লেবয় দের প্রতি আকৃষ্ট হই না, শেহতাজ খান নাভান।এটা নিয়ে নিশ্চিত থাকুন।
নাভান হাসে জবাব দেয়।
“প্লেবয় না “বলো হিরো,আমি হিরো সেটা তুমি মানো বা না মানো তোমার মন জানে এই কথা।
” হুম আমার মন জানে ও বলে আপনি জিরো,হিরো থেকে জিরো হয়ে জাবেন অতি শিগ্রই ।সবাই আপনাকে জিরো বলবে যখন আপনার কাছে কিছুই থাকবে না।
নাভান পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে স্টাইল করে দাঁড়িয়ে হেরার দিকে দৃষ্টি রেখে বলে।
“তা এখন নিজেকে কিভাবে বাচাবেন মিস হেরা..?
হেরা দাতে নক কাটে, কি করবে ভেবে পায় না।হটাৎ পুলিশের দৌড় দেখে দুজনি তাকায় পেট মোটা পুলিশ এর দিকে।বেচারার পেন্ট অর্ধেক খুলে গেছে।চিপায় গিয়েছে দুই নাম্বার সারতে কিন্তু হটাৎ কি এমন দেখে দেয় দৌড় ,তার গুল্টে কুকুর ।বেচারা পেন্টের চেইন লাগাতেও পারে নি,ওমনি টান লাগে,ঘুরতে ঘুরতে মাঠের মধ্যে এসে পরে ।বেচারা পেট মোটা পুলিশ ফুলমিয়া, এদিকে স্টুডেনরা হেসে গরাগরি খাচ্ছে আর বেচারা ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করছে তার কুকুর।

” থাম গুল্টে থাম,আমার বউ এর ইজ্জত শেষ করিস না,গুল্টে থাম।
কুকুরের নাম গুল্টে,এটা তার প্রিয় কুকুর সন্দেহ কাওকে দেখলেই হইছে পিছন ছুটে কাপড় কামড় দিয়ে ধরে রাখে।তারপর তার মালিক আসলে ছাড়ে।এখন রোজ আর রুশা হটাৎ দৌড়েছে পুলিশ দেখে মূলত এটা ইচ্ছে করেই করেছে রোজ আর রুশা।তাদের বান্ধবীকে অপমান করেছে নাভান অই বেটার কুকুরের জন্য, তাই একটু শাস্তি পাইয়ে দিলো।
“বেচারা পুলিশ,ফুলমিয়ার পেন্ট খুলে হলুদ জার্সি দেখা যাচ্ছে,মনে হয় ব্রাজিল দল সাপোর্ট করে।তার জন্য মনে হয় বেটা আর বেটার কুকুর ফাজিল এক নাম্বারে ,এদিকে হেরা হাসে কুটিকুটি।
” তোর মান সম্মান নাই দেখে কি আমার নাই রে বেটা ..?আমার বউ এর সম্বল আর নষ্ট করিস না,পরে ভাত দিবে না আমায়।(পুলিশ)

একদিকে গুল্টে ফুল স্পিডে দৌড়াচ্ছে,
আরেকদিকে পুলিশ ফুলমিয়ার প্যান্ট ধীরে ধীরে স্বাধীনতা চাইতেছে।
দুই কদম দৌড়, এক কদম প্যান্ট ধরা
এই অবস্থায় লোকটা না পুলিশ,
না মডেল,
একেবারে লাইভ কার্টুন ক্যারেক্টার!
অবস্থা দেখে তো মানুষ হাসতে হাসতে এমন অবস্থা,
কেউ পেটে হাত দিয়ে বসে পড়ছে।এতোক্ষনে ফ্রেন্ড সার্কেল হাজির,সাথে রুশা ও রোজ,অধীর আর সৃজন দুইটাকে ধরে নিয়ে এসেছে।
অধীর পুলিশ এর দিকে তাকিয়ে বললো-
“ভাই, এইটা নাটক না, রিয়েল লাইফ কমেডি..?
বেচারা পুলিশ ইজ্জত হারানোর ভয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে চিৎকার করে
“এই যে ভাইরা, হাসবেন না!
আমি চাকরি করি, সার্কাস না!”
সৃজন বলে-

“চাকরি বোঝলাম ভাই,
কিন্তু প্যান্টের সাথে চুক্তি করেন নাই নাকি?
অধীর আবার বলে-
“আজ বোঝলাম কেন দৌড়ের সময় সিটবেল্ট লাগে!”
এই ফাঁকে গুল্টে থেমে একবার পিছনে তাকায়,
চোখে এমন ভাব
‘আমি তো কামড়াই নাই,
মানুষ নিজেই নিজের ইজ্জত দৌড়াইয়া ফেলতেছে!
শেষে পুলিশ সাহেব দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে
কোনোমতে প্যান্ট টেনে ঠিক করে।
লজ্জায় মুখ লাল।
কপাল দিয়ে ঘাম পড়তেছে,
আর মুখে বলে

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৮

“ভাই, আজকে কুকুর না,
আমার ভাগ্যই আমাকে দৌড়াইছে।”
অধীর তখনো হাসে, বলে-
“এই ঘটনার পর থেকে আর দৌড়ায়েন না,
হাঁটাই আইন প্রয়োগ করেন!
কুকুর নিজের সাথে রাখবেন ঠিক আছে, কিন্তু অন্যজনের ক্ষতি যাতে না হয় এমন ভাবে ট্রেনিং দিবেন নয়তো, আজকে হাফ খুলছে পরের বার ফুল খুলে যাবে। তখন বেল্টেও কাজ হবে না,ফুলমিয়া চাচা।(হেরা)
ফট করে হেরা বলে উঠে কথাটা।

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১০