প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১৭
Sadiya Jahan Simi
বুকের উপর ভর দিয়ে ঘুমিয়ে আছে উদ্যান। জানালার ফাঁক গলে খালি গায়ে বিকালের নরম আলো পড়ে তার কাঁধ আর পিঠের ওপর। নিঃশ্বাসের ওঠানামায় বুকটা ধীরে ধীরে নড়ছে।ঘুমের ছন্দে যেন সময় থেমে আছে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপাল ছুঁয়ে নেমে এসেছে, ঘাড়ের কাছে কয়েকটা রেখা ছায়া এঁকে দিয়েছে।
চাদরটা কোমরের কাছে এসে থেমেছে, ত্বকের উষ্ণতা ঘরের হালকা বাতাসে মিশে আছে। ঘুমের ভেতরেও মুখে একরকম শান্ত ভাব—দিনের ক্লান্তি ধুয়ে গেছে, শুধু নিঃশব্দ আর নির্ভার এক মুহূর্ত। পাশের জানালা দিয়ে ঢোকা আলো-ছায়া তার গায়ে নরম ঢেউ তুলে দেয়, যেন ঘুম নিজেই তাকে আগলে রেখেছে। ফোনের হঠাৎ কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো। ঘুম হালকা হয়ে এলো। বিরক্তিতে চিবুক হাল্কাভাবে ফুলে উঠেছে। এলোমেলো হাতে হাতরে ফোনটা ঘুমের ঘোরে রিসিভ করে, “হ্যালো কে!”
ওপাশ থেকে রোহানের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, “হ্যালো কে মানে! আমি রে আমি। বাই দ্যা রাস্তা তুই ঘুমাচ্ছিস? ফুফু বলল, সকালেই রাফসাকে নিয়ে আসতে। এখন বিকেল হয়ে গেছে, আসার নাম গন্ধও নেই,সমস্যাটা কি তোর?”
উদ্যান পিঠ মাড়িয়ে শুলো। বিকেলের আলো জানালার ফাঁক গলে স্পষ্ট উদ্যানের চোখে মুখে পড়ছে।বা হাত দিয়ে এলোমেলো কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো ঠেলে সরিয়ে দেয়। রাফসাকে দশ মিনিটের মধ্যে রেডি হতে বলে তখন চলে গিয়েছিল। দশ মিনিটের জায়গায় বিশ মিনিট পর গিয়ে দেখে, রাফসা ধুম ধরে বসে আছে। ভালোভাবে জিজ্ঞেস করলেও ত্যাড়া কথায় উত্তর দিয়েছে। যাবে না মানে যাবে না। ধমকালেও কাজ হয়নি; উল্টো উদ্যান কে চোখ রাঙিয়েছে। রাফসার চোখ রাঙানো দেখে, উদ্যান খানিকটা ভয় পেয়েছিল বোধ হয়। শান্তশিষ্ট মেয়ের হঠাৎ করে এমন রূপ দেখলে মনে ভয় জন্মানোর কথায়।
যা চওড়া গলা ছিল; ভাগ্যিস নিচে বাড়ির গিন্নিরা রান্না ঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল। রাফসাকে ধমকাতে গিয়ে নিজেই তার ধমক খেয়ে চুপসে গিয়েছিল। আর জোর করেনি দেখা গেল পরে উদ্যানকে মাথায় তুলে আছাড় মারবে। যদিও বা ওর মত চুনোপুটির ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। আশি কেজি ওজনের সপুরুষকে কি করে পঁয়তাল্লিশ কেজির চুনোপুঁটি মাছ মাথায় তুলবে! রাফসার উরনচন্ডী রূপ মনে করতেই শুকনো ঢুক গিলে উদ্যান। হতাশার স্বরে বলল, “তোর বোন যা বেয়াদব হচ্ছে না দিন দিন! আজ উল্টো আমাকে ধমকে দিয়েছে। চোখ রাঙিয়েছে! মনটা চাইছিল তখন ঠাস ঠাস করে গালে দুটো দেই। পরে আবার নিজেকে কন্ট্রোল করে নিলাম। তিন বছর আগের দুইটা থাপ্পরের জন্য নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে, উঠতে বসতে অপমান করে, ঘাড়ত্যাড়ামি করে।যা হয়েছে আজ, যদিও বাই এনি চান্স থাপ্পর একটা পড়তো, আমার রক্ষে ছিল না বোধ হয়।”
ওপাশ থেকে রোহানের খিল খিল খাসির শব্দ ভেসে আসে। উদ্যানের কথায় ভারী মজা নিচ্ছে।উদ্যান বিরক্ত হলো রোহানের হাসিতে। আড়মোড়া হয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। রোহান ওপাশ থেকে ঠাট্টার স্বরে বলে, ছিঃ ছিঃ ছিঃ রে ননি ছিঃ, ছিঃ ছিঃ ছিঃ রে ননি,ছিঃ রে ছিঃ রে, ছিঃ। লজ্জা করে না তোর আটাশ বছরের এক বুড়া ব্যাটা হয়ে, আঠারো বছরের এক মেয়ের কাছে ধমক খেয়ে আসিস! তোর দুঃখে আমার বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।”
উদ্যান ভারী বিরক্ত হলো এমনিতেই মাথা একশো হয়ে আছে। মন চাইছে সামনে যেটা পায় সেটাই তুলে আছাড় মারতে। উদ্যান ইহজগতে ভাবতে পারেনি; রাফসা এত চেঞ্জ হয়ে যাবে। দেশে ফিরে রাফসার এত পরিবর্তন দেখে রীতিমতো হুঁশ হারানোর মতো অবস্থা হয়েছিল। উদ্যানের প্রথম দিনের কথা মনে পড়লে; আজও ভারি অবাক লাগে। সব সময় যাকে ডিসগাস্টিং গার্ল বলতো, সেই মেয়ে ঐদিন ওকে দেখে ডিসগাস্টিং বয় বলেছিল! সেদিন তো মনে হয়েছিল স্বপ্ন দেখছে; যেন এক্ষুনি ঘুম ভেঙে স্বপ্ন ফুড়ুৎ করে উড়ে যাবে। তথাপি উদ্যানের রাগ স্বাভাবিকের চেয়েও অধিক মাত্রায় বেশি। নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না সহজে। বিশেষ করে মুখে মুখে কথা বলাটা একদম টলারেট করতেই পারে না; রাফসার ইদানিং ব্যবহার দেখে নিজেকে প্রচুর কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করে। বলা যায় না, কখন রাগের মাথায় ধুপধাপ চড় মেরে বসে। দশ বছরের ছোট মেয়েটাও ওর সাথে পায়ে পা লাগিয়ে তর্কাতর্কি করে!
“ওই কিরে আমায় ফোনে রেখে আবার ঘুমিয়ে গেলি নাকি?
উদ্যানের ভাবনার মাঝে এক বালতি জল ঢেলে দেয় রোহান। লম্বা কয়েকটা শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করে শাণিত গলায় বলে, “ঘুমাবো কেন, জেগে জেগে কি ঘুমানো যায় নাকি! কেন আমার ঘুমটা নষ্ট করেছিস সেটা বল আগে।”
“লে হালুয়া তোর তো দেখছি মাথায় স্কূ ঢিলা। আচ্ছা সত্যি করে বল, রাফসা যেই কথাটা বলে সেটা কি সত্যি! না মানে আমি কখনো বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আজ তোর কথায় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে।”
উদ্যান ভ্রু কুঁচকালো, রাফসা আবার কি বলল ওকে নিয়ে!বিশ্বাস নেই উল্টাপাল্টা বলতে পারে। “কি বলেছে, তোর বোন আমার নামে?”
“বলেছে তুই নাকি ঘুষ দিয়ে ডাক্তারি পাস করেছিস। তোর দ্বারা কখনো ডক্টর হওয়া সম্ভব ছিল না। আবার কি বলেছে জানিস, তোর নাকি হার্ট নেই, তুই আবার হয়েছিস হার্ট সার্জন। তুই যদি মানুষের হাত সার্জারি করিস, তাহলে সাথে সাথে নাকি সেখানে পড়ে মরে থাকবে।”
উদ্যান হতভম্ব হয়ে গেল, এই মেয়ে আর কত কি বানাবে! কত অপবাদ যে দিয়ে আসছে ছোটবেলা থেকে তারই ইয়াত্মা নেই। উদ্যানের এখনো মনে আছে রাফসার যখন সাত বছর বয়স ছিল সেদিন কি কান্ডটাই না ঘটালো। উদ্যান সবে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারে উঠেছিল। ওদের পাশেই উদ্যানের এক মেয়ে বান্ধবীদের বাসা। নবীন বরণ অনুষ্ঠান ছিল সেদিন। দুজনের বাসা পাশাপাশি এবং ছোটবেলা থেকেই একসাথে পড়াশোনা করে এসেছে। ওদের ফ্রেন্ডশিপ খুব ভালো একদম বেস্ট ফ্রেন্ড। জিহাদ, উদ্যান,আনিতা, তিনজনের মধ্যে খুব ভালো বন্ডিং ছিল। তো নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দিন আনিতা এসেছিল উদ্যানকে ডাকতে। উদ্যান সাদা পাঞ্জাবি পরে নিচে নেমে আসে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কোথা থেকে যেন ছোট রাফসা ঝড়ের বেগে এসে উদ্যানের একটা হাত আঁকড়ে ধরে। বাধা পেয়ে উদ্যান তাকাতেই দেখে রাফসা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। চোখ ছলছল করছে; এক্ষুনি যেন গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়বে! উদ্যান হতভাগ হয়ে শুধায়, “কি হয়েছে পাখি! তুমি কাঁদছো কেন? কেউ মেরেছে তোমায়?”
উদ্যানের আহ্লাদী কথা শুনে রাফসা সঙ্গে সঙ্গে চোখের পানি ছেড়ে দিল। ফুপাতে ফুপাতে বলে, “উটান বাই তুমি এই পচাঁ আপুটার সাথে কোথায় যাচ্ছ, আমাকে রেখে? তুমি শুধু আমার সাথে ঘুরবে আর কারো সাথে যাবে না!”
উদ্যান হাটু ভেঙে বসে রাফসার সামনে , ওর পানে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল মুছে দেয়, মৃদু হেসে বলে, “আমি কলেজে যাচ্ছি পাখি। কলেজ থেকে এসে তোমায় ঘুরতে নিয়ে যাব। ঠিক আছে ,এখন আর কান্না করে না।”
রাফসা জেদি গলায় বলল, “না তুমি যাবে না, তুমি আমার না? আমি শুনেছি একটা ছেলে যদি দুইটা নাইলে তিনটা মেয়ের সাথে কথা বলে, ঘুরে পেম করে, তাইলে ওই ছেলেটারে ভালোবাতার বলে। তুমি কি ভালোবাতার উটান বাই?”
রাফসার কথায় চক্ষু চড়কগাছ উদ্যানের। রাফসা কি বুঝাতে চেয়েছে ও খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছে। পাশ থেকে আনিতা মৃদু হেসে বলে, “পাখি তোমার উদ্যান ভাই তো আমার বন্ধু। আমরা একসাথে গেলে কিছু হবে না। তুমি রুমে যাও , আমরা অনুষ্ঠানে যাব তো। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
রাফসা কটমট করে তাকালো আনিতার পানে। ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে চোখ ঢললো। তর্জনী আঙ্গুল উঁচিয়ে শাসিয়ে বলল, “তুমি চুপ বুটকি আপু,এটা আমার উঠান বাই। তুমি আর আসবে না বাড়িতে। তুমি এসে নিয়ে চলে যাও আমার উঠান বাইকে!”
রাফসার কথায় আনিতা বিষম খেয়ে গেল। আনিতা একটু হেলদি গোলুমোলু টাইপের। উদ্যান বিব্রত বোধ করল রাফসার কথায়। এত জেদ এ ছোট মেয়েটার; উদ্যান আনিতার পানে তাকিয়ে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হেসে বলল, “তুই কিছু মনে করিস না। ও তো ছোট। দাঁড়া একটু, আমি ওকে রুমে দিয়ে আসছি। তারপর যাবো নে।”
উদ্যান হাত বাড়িয়ে রাফসা কে কোলে নিতে চাইলে রাসফসা দূরে সরে যায়। উল্টো ঘুরে ঘরে দিকে যেতে যেতে চেঁচিয়ে বলে, “উঠান ভাই ভালোবাতার, উঠান ভাই ভালোবাতার। আমি কতা বলবো না আর তোমার সাথে। তুমি ওই বুটকি আপুর সাথে চলে যাও ভালো ভাতার ছেলে।”
রাফসার কথা বুঝতে না পেরে আনিতা ভ্রু কুঁচকে বলে, “কি বলল পিচ্চিটা?ভালোবাতার আবার কি?”
উদ্যান রাফসার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মৃদু গলায় বলে, “কিছু না,চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
সাত বছরের মেয়ে সেদিনই কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দিয়েছিল। আর এখন তো পণ্য যুবতী; আবার পেশার পিছনেও পড়ে আছে। জালিয়াতি করে ঘুষ দিয়ে ডাক্তারি পাস করেছে;ও আল্লাহ।
“তুই আছিস নাকি গেছিস রাফসার বড় ভাই? কথা বলছিস না যে।আমার ফোনে অঢেল এমবি বা টাকা নেই। কিরে রাফসার বড় ভাই, কথা বলছিস না কেন?”
উদ্যান বিরক্ত হয়ে চিবুক শক্ত করে শক্ত কণ্ঠে জবাব দিল, “চুপ কর, মাথা ধরে আছে। ফাউল কথা বলবি না আর, রাখছি।”
“আরে আমার কথাটা তো শোন। রাফসাকে নিয়ে আসবি কখন? ফুফু বারবার করে বলছে ওর কথা।”
“ফুফুকে বল, তার ভাতিজিকে কল দিয়ে অনুরোধ করে নিয়ে যেতে। আমি এখন গিয়ে বললে তো আবার ত্যাড়ামি করবে। রাগ সামলাতে না পেরে, দিব আবার চড় মেরে। পরে হবে আরেক জ্বালা।”
“আচ্ছা আমি ফুফুকে বলছি, রাফসা কে কল দিয়ে বলে দিবে। আর তুই হাতটা একটু কন্ট্রোলে রাখ। তোর কপালে দুঃখ আছে, এভাবে মেয়েদের গায়ে হাত তুললে, নারী নির্যাতন মামলা ঠুকে দিবে দেখিস।”
ফোন কেটে উদ্যান হতাশার শ্বাস ফেলে। কি কি যে দেখতে হবে সামনে। আর কত অপবাদ পেতে হবে তার এই ইয়াত্মা বা কুল কিনারা নেই। ছোট মরিচের ঝাল বেশি আসলেই , এখন হাড়ে হাড়ে তা টের পাচ্ছে উদ্যান।
বারান্দায় দোলনায় বসে আছে রাফসা। পড়ন্ত বিকেলের হলদে আলো এসে রাফসার মুখটাকে আরো মায়াবী করে তুলেছে যেন। লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া। চুঁইয়ে চুঁইয়ে পানি ঝরছে। সবেই গোসল করে বেরিয়েছে,আজ শাওয়ার নিতে দেরি হয়ে গেছে।রাফসা সচারচর কখনোই এত দেরি করে শাওয়ার নেয় না। সকালে উদ্যানের উপর হম্বিতম্বি করে রাগের মাথায় আর পড়তে বসেনি। গা এলিয়ে দিতেই রাজ্যের ঘুম এসে ভীড় করে। ছয় সাত ঘণ্টা ঘুমানোর ফলে চোখ মুখ ফুলে আছে। শুষ্ক ঠোঁটে মৃদু কম্পন অনুভব হচ্ছে। বোধহয় জ্বর আসবে।রাফসার পায়ের কাছেই অ্যাশ বসে আছে। রাফসার পানে চেয়ে ডাকছে। রাফসা তাকালো সেদিকে। অ্যাশকে কোলে তুলতেই নিবে,ওমনি সে ছুটে বেরিয়ে গেল রুম থেকে। রাফসা হতভম্ভ হয়ে চেয়ে রইলো।
পিছু পিছু রাফসাও ছোটে। রাফসার ঘর থেকে বেরিয়ে ডানেই উদ্যানের রুম। আর সেই রুমেই টুকুশ করে ঢুকে পড়েছে অ্যাশ। উদ্যান সচরাচর বাড়িতে থাকাকালীন সারাক্ষণ রুমের দরজা বন্ধ থাকে। আজ বোধহয় কপাল খারাপ। কে বলেছিল দরজা খোলা রাখতে? পর মূহূর্তেই রাফসার মাথায় এলো উদ্যান বেশিরভাগ সময় বিকেলে বাড়ি থাকে না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে যায় বিকেলে। হয়তো উদ্যান বাড়িতে নেই তাই দরজা এমন চিটিং ফাঁক হয়ে খুলে আছে। রাফসা সেটা ভেবে উদ্যানের ঘরের সামনে এসে গুটি গুটি পায়ে দাঁড়ালো। হাত দিয়ে পুরোটা দরজা ঠেলে খুলে দিল। ভেতরে একবার চোখ বুলিয়ে নিল চারপাশে। না উদ্যান ভেতরে নেই। নিশ্চিন্ত হয়ে রাফসা ঘরে ঢুকে। ঘরের ভেতর ঢুকে রাফসা এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়ায়।বহু বছর পরে পা ফেলেছে এই ঘরে।উদ্যান বিদেশ যাওয়ার আগে এসেছিল, আর আজ ।রাগে অভিমানে রাফসা কখনো উদ্যানের ঘরের সামনে আসতো না। পুরো রুম চোখ বুলিয়েও অ্যাশের দেখা নেই। রাফসা ঠোঁট কামড়ে ধরে রাগ কমানোর চেষ্টা করে। বিড়বিড় করে বলল, “পাজি অ্যাশ,তোর জন্য আজ এই জল্লাদের রুমে আসতে হয়েছে। মনে হচ্ছে এই যেন, খচ্চরটা এসে ধমকে দিল। তাড়াতাড়ি করে অ্যাশকে খুঁজে বেরিয়ে যেতে হবে।”
আশপাশ তাকিয়ে রাফসা চোখ বুলায় আর গলা ছেড়ে ডাকে, “অ্যাশ বেরিয়ে এসো, কোথায় তুমি? মাম্মা চলে এসেছে, দ্রুত বের হয়ে আসো। মাম্মা মারব না প্রমিস।” না পাজিটার দেখা নেই। কোথায় গেল? এ রুমেই তো ঢুকেছিল তাহলে গেল কোথায়।
“অ্যাশ আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি। জলদি বেরিয়ে আসো।”
“Where are you, Ash? Come to Mom quickly, okay? I’m getting upset.”
“বিড়াল কি করে সন্তান হয়?” সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উদ্যানের।
উদ্যানের হঠাৎ শব্দ পেয়ে থতমত খেয়ে যায় রাফসা। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন তাকাতেই উদ্যানের সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল। উদ্যান কে রুমে দেখে ভারী অবাক হয় এই লোক তো রুমে ছিল না তাহলে কোথা থেকে উদয় হলো । উদ্যানের পেছনে বারান্দা চোখে পড়ে মুহূর্তেই বুঝে যায় এই খচ্চর বারান্দায় ছিল। আরো বেশি অবাক হয় উদ্যানের কোলে অ্যাশ কে দেখে। রাফসার পানে তাকিয়ে শব্দ করছে।
“কি হলো? বিয়ের আগেই মাম্মা হয়ে গেলি! তাও আবার বিড়ালের!”
উদ্যান খিল খিল করে হেসে উঠলো। যেন ভারী মজার জোকস্ বলেছে। রাফসা অপমানিত বোধ করল। রাগে নাকের পাঠা ফুলে উঠেছে। রাফসাকে কটমট করে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাসি মিলিয়ে যায়। নিজের ফর্মে ফিরে এসে গম্ভীর কন্ঠে শুধায়, “রুমে ঢুকেছিস কেন পারমিশন ছাড়া? কারো রুমে ঢুকতে,যে নক করতে হয় জানিস না?”
রাফসা ড্যাবড্যাব করে চেয়ে রইল। সেকেন্ডের মধ্যে লুক চেঞ্জ কিভাবে সম্ভব। এই তো এখন হাসছিল খিল খিল করে। আবার এখন গম্ভীর হয়ে কথা শোনাচ্ছে। কি আজব লোক ।একে দেখলে স্বয়ং শয়তানও দ্বিধায় পড়ে যাবে। শয়তান নিজেও বলবে ‘এই উদ্যান নামক লোক থাকতে,আমায় কেন ছেড়ে রাখলো। রাফসা বিড়বিড় করে শুধায়, “এই লোক দেখি, ইন্টারন্যাশনাল নোবেল প্রাপ্ত গিরগিটি। সেকেন্ডের মধ্যেই রুপ বদল!”
“কি বিড়বিড় করছিস? যা বলার জোরে বল।” ভ্রু কুঁচকে বলে উদ্যান।
রাফসা উদ্যানের কথায় পাওা দেয়না। অ্যাশের দিকে তাকিয়ে ডাকে, “অ্যাশ মাম্মার কোলে আসো। আমরা ঘুরতে যাবো। কাম ফাস্ট।”
অ্যাশ উদ্যানের কোল থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য অনবরত ছটফট করছে। আর শব্দ করে ডাকছে। ওর এক্ষুনি মাম্মার কোলে যেতে হবে। উদ্যানের দৃঢ় বন্ধন থেকে ছাড়া না পেয়ে অসহায় দৃষ্টিতে রাফসার পানে চেয়ে রইল। রাফসা তা বুঝতে পেরে কটমট করে বলে, “সমস্যা কি আপনার? এভাবে চেপে ধরে রেখেছেন কেন? ছাড়ুন আমার মেয়েকে।”
“মেয়ে মেয়ে করছিস কেন? কে দিল তোকে এই মেয়ে? মেডিকেল সাইন্সে এমন কিছু পড়েছি বলে মনে পড়ছে না।”
রাফসা হচকাঁলো উদ্যানের কথায়। কথার মানে বুঝতে পেরে নিষ্প্রভ স্বরে বলল, “মন চেয়েছে তাই করি। আপনার সমস্যা কি?”
“আমার সমস্যা হবে কেনো? হবে তো তোর। বিয়ের পর স্বামীর হাতে উওম মধ্যম খাবি।”
রাফসা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে, “কেন?” উদ্যান হাসলো খানিক ঠোঁট বাঁকিয়ে। কেন মার খাবে সেটাও বলে দিতে হবে।
“সারাক্ষণ যদি অ্যাশের পেছনে ঘুরিস। স্বামীকে সময় না দিস,তাহলে পিঠের উপর পড়বেই।”
“অ্যাই ফালতু কথা কম বলেন। অ্যাশকে দিন বলছি।”
“ওকে দিচ্ছি।” উদ্যান ছেড়ে দিল অ্যাশকে। ছাড়া পেয়েই অ্যাশ লাফিয়ে রাফসার কোলে চড়ে। রাফসা উদ্যানের পানে তাকিয়ে অ্যাশকে বকতে বকতে রুম ত্যাগ করে।
ফাহিজ ম্যান্ডেলা: অন্ধকারের ভিলা!
শহরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিজ ম্যান্ডেলা বাইরে থেকে একটিই বিলাসবহুল ভবন—উঁচু দেয়াল, কালো কাঁচ, আর নিঃশব্দ নিরাপত্তা। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বদলে যায় বাতাস। এখানে আলোও কথা বলে ফিসফিস করে, আর দেয়ালগুলো যেন গোপন গল্প গিলে রাখে।
প্রবেশপথ পেরোলেই মার্বেলের লম্বা করিডোর, মেঝেতে নরম আলো—পা ফেললেই শব্দ হারিয়ে যায়। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা আধুনিক ঝাড়বাতি ঝিলমিল করে, কিন্তু সেই আলো উষ্ণ নয়; ঠান্ডা, হিসেবি। দেয়ালের গাঢ় রঙের ফ্রেমে শিল্পকর্ম রুচির চেয়ে ক্ষমতার প্রদর্শন বেশি।
ভেতরের অংশটা ক্লাবের মতো।নিয়ন আলো, ভারী সাউন্ড, আর ধোঁয়াটে পরিবেশ। ভিআইপি লাউঞ্জে গভীর সোফা, কালো চামড়া, টেবিলে দামি পানীয়। এখানে হাসি আছে, কিন্তু চোখে নেই আনন্দ—আছে লেনদেনের হিসাব। কাঁচের আড়ালে আলাদা কক্ষ, যেখানে দরজা বন্ধ হলেই কথোপকথন বদলে যায়; শব্দ নেমে আসে ফিসফিসে।
ভিলার পেছনের দিকে আরও এক স্তর—নিরাপত্তা কঠোর, ক্যামেরা সর্বক্ষণ সচল। এখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। কথিত আছে, এই অংশেই কালো টাকার হিসাব বদলায় হাতে হাতে, আর মানুষের ভাগ্যও বদলে যায় নীরবে। সবকিছুই ঘটে আলো-ছায়ার খেলায়, যেন সত্য ঢেকে রাখাই নিয়ম।
রাত বাড়লে অতিথির ভিড় বাড়ে। বিভিন্ন দলের পরিচিত মুখ—পরিচয় লুকোনো নয়, কিন্তু উদ্দেশ্য আড়াল করা। কারও কণ্ঠে ক্ষমতার অহংকার, কারও চোখে লোভের তাড়না। বাইরে থেকে এটি এক বিলাসের ভিলা, ভেতরে এক অদৃশ্য জাল—যেখানে সঙ্গীত ঢেকে দেয় সত্যকে, আর আলো আড়াল করে অন্ধকারকে।
ফাহিজ ম্যান্ডেলা তাই শুধু একটি ভবন নয়—এটি এক আবরণ। দিনের আলোয় নিরীহ, রাতের অন্ধকারে ভয়ংকরভাবে জীবন্ত।
মানুষের ভিড় আর সঙ্গীতের ঢেউয়ের মাঝখানে হঠাৎই সে হাজির হয়—যেন শব্দ নিজেই এক মুহূর্ত থমকে গেল। তার হাঁটার ভঙ্গিতে দম্ভ, চোখে অহংকারের নির্ভীক ছায়া। প্রশস্ত কাঁধ, শক্ত বুক—শরীরটা এমনভাবে ভরাট যে জায়গাটাই যেন তাকে জায়গা করে দেয়। শার্টের ভাঁজে ভাঁজে আত্মবিশ্বাসের রেখা, প্রতিটি শ্বাসে উপস্থিতির ঘোষণা।
চোখের মণি গাঢ় কালো নয়, গভীর। সেখানে তাকালে মনে হয় সে মানুষ নয়, হিসাব দেখে। আলো পড়লে সেই মণিতে ঝিলিক ওঠে, কিন্তু উষ্ণ নয়; ধারালো। ভ্রুর নিচে স্থির দৃষ্টি ভিড়ের ভেতর থেকেও আলাদা করে চিনে নেওয়ার মতো।
সে এগিয়ে এসে সোফায় বসে। বসার ভঙ্গিতেই বোঝা যায়—এটা তার জায়গা। শরীরটা একটু হেলানো, এক হাত সোফার আড়ালে ছড়িয়ে, আরেক হাত ঢিলেঢালা কোনো তাড়া নেই, কোনো ব্যস্ততা নেই। চারপাশের কোলাহল তার কাছে গৌণ; যেন সে বসেছে কেন্দ্রবিন্দুতে, আর বাকিরা শুধু পটভূমি।
কথা কম, উপস্থিতি বেশি। হাসি নেই ঠোঁটের কোণে শুধু একচিলতে আত্মবিশ্বাস। এই ভিড়ের মাঝেই তার নীরবতা সবচেয়ে জোরে কথা বলে। এক মেয়ে সার্ভেন্ট এগিয়ে আসে আনের দিকে। টাচ করতেই যাবে আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে বন্ধুকের নল থেকে একটা গুলি ভেদ করে মেয়েটির শরীর। বুক চিরে বেরিয়ে এলো গুলিটি। চোখ উল্টে সেখানেই প্রাণ হারায় মেয়েটি। আন মুচকি হাসে। সেই হাসি দেখেও সবাই কেঁপে উঠল। আজ নিশ্চিত এখানে বড়সড় কিছু ঘটবে।
“আমার নারী ছাড়া কার সাধ্যি আছে,আমায় ছোঁয়ার?”
সবার মাঝ থেকে এক ব্যক্তি এগিয়ে আসে। কপালে ঘামের রেখা চিকচিক করছে। চোখে মুখে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কপালের ঘাম টুকু মুছে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, “মিস্টার আন ব্যবসায় লস হচ্ছে। দুইশ মেয়ে দেওয়ার চুক্তি হলেও আমরা তা জোগাড় করতে পারিনি। পঁচাত্তরটা মেয়ে কম।”
আন কথাগুলো শুনলো মন দিয়ে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়া উড়ছে তার থেকে।চোখ মুখ বিকৃত হয়ে গেল মুহুর্তেই। রাগে কপালের চারপাশের রগ কর্তন টান টান হয়ে ফুলে উঠেছে। চিবুক শক্ত করে বলে, “এটার দায়িত্বে কে ছিল? নিয়ে এসো তাকে।”
লোকটা শুকনো ঢোক গিলে বলে, “ফরাজী বাড়ির সেই রহস্যময় মানব।”
আন হাসে। ওর ধারণা হয়েছিল কে হতে পারে এই ব্যক্তি। অনাবেগ কন্ঠে শুধায়, “কোথায় সে? আজ এখানে উপস্থিত নেই?”
“না স্যার। সে আজ আসেনি।”
চোখে রাগ আনের। চোখজোড়া লাল টকটকে। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে একের পর এক অ্যালকোহল শেষ করছে। আর তার সামনেই সুন্দরী রমনীদের মেলা। বিভিন্ন অশালীন ভঙ্গিতে নেচে চলছে। তার দৃষ্টি সেখানেই নিবদ্ধ।
ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে আছে রোহান। হাতে ফোন। রাজনৈতিক ভিডিও দেখছে আর হাসছে। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর খোঁচানো কথা শুনে পেট চিরে যেন এক্ষুনি সব উগলে আসবে। আপাতত রোহান ছাড়া কেউ ড্রইং রুমে নেই। সবাই রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত। মাহিন বাড়ির বাইরে। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠাতে বিরক্ততিতে কপাল কুঁচকে যায় রোহানের।গলা ছেড়ে ডাকে, “মাইশু,দেখ কে যেন এসেছে। দরজা খুলে দিয়ে যা।”
মাইশা রান্না ঘর থেকে চেঁচিয়ে বলল, “আমার হাতে কাজ মেঝো ভাইয়া। প্লিজ,একটু কষ্ট করে খুলে দাও তুমি।”
বাধ্য হয়ে উঠতে হয় রোহানকে। বকতে বকতে দরজা খুলে দিল। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা রমনিকে দেখে নিমিষেই কপালে ভাঁজ শিথিল হলো। লামিয়া কাঁচা মাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে।
“ওরে ললনা,এসেছো তুমি? তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে এই অধমের জান অলরেডি তিনবার দাফন হয়ে গেছে।”
লামিয়া অবাক হয়ে তাকালো। অবুঝের ন্যায় জিজ্ঞেস করে, “জান আবার তিনবার দাফন হয় কি করে?”
“ও তুমি বুঝবে না ললনা। জানো, তোমার সাথে আমার পারফেক্ট ম্যাচ খেয়েছে।”
“কি ভাবে? ঠিক বুঝতে পারিনি ভাইয়া।” ভ্রু কুঁচকে বলে লামিয়া। রোহান ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। ভাইয়া ডাকছে কেন এই মেয়ে! মেরে ফেলবে নাকি? রোহান নাক মুখ কুঁচকে ধমকে বলে, “এ্যাই মেয়ে এ্যাই, কে তোমার ভাইয়া? আমার গুলুমুলু এক হালি বোন আছে। বোনের আর দরকার নেই। এখন একটা বউ লাগবে, ঠিক তোমার মতো ললনা।”
হঠাৎ ধমকে কেঁপে উঠলো লামিয়া। গা মৃদু দুলে উঠলো।
“আর ডাকবে ভাইয়া? বলো বলো বলোও ললনা।”
লামিয়া দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে না বলে। রোহান সন্তুষ্ট হয়।
“ললনা তোমাকে পেয়ে গেলে করবো না আর ছলনা।”
“কেন ভাইয়া?”
রোহান পুনরায় ধমকে উঠে, “এ্যাই শালি,আমাকে সিরিয়াস মোডে থাকতেই দিবে না। বাংলা বোঝো না শালি? বলেছি না ভাইয়া ডাকবে না।”
লামিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল, “আচ্ছা ভাইয়া।”
রোহান রাগে চুল খামচে ধরলো। এ্যাই মেয়ে কম বোঝে নাকি?
“এ্যাই যা শালি, সামনে থেকে। মোডের বারোটা বাজিয়ে দিল।” কথাটা বলেই ঠাশ করে লামিয়ার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয় রোহান। লামিয়া স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে কি হলো।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রেডি হচ্ছে রাফসা। রাগে শরীর জ্বলে উঠছে। উদ্যানের কথায় ধার না ধারলেও ফুফুর কথা আর ফেলতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়েই একপ্রকার জোরজবরদস্তিতে তৈরি হতে হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিনের তুলনায় আজ ভিন্ন ভাবে সেজেছে রাফসা।বোরকা গায়ে জরায়নি আজ। সিম্পল একটা নেভিব্লু কালার জর্জেটের থ্রি পিস পড়েছে। চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখা। ওড়না টা ভালো করে শরীরে জড়িয়ে নিল। পাস হাতে বেরিয়ে যায়।
উদ্যান আগে থেকেই গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।রাফসার অপেক্ষায় বারবার হাত উঁচিয়ে ঘড়ির কাঁটায় নজর বুলাচ্ছে। পাক্কা বাইশ মিনিট হয়েছে। তবুও আসার নাম গন্ধও নেই। বিরক্ত নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়াতেই চোখ আটকে গেল। গার্ডের সোডিয়াম হলদে আলো এসে পড়েছে রাফসার মুখ পানে। রাফসা এসে উদ্যানের থেকে খানিক দূরত্ব বজায় রেখেই দাঁড়ালো।রাফসাকে ভালোভাবে পরোখ করে অসন্তোষ গলায় আওড়ায়, “বোরকা ছাড়া এসেছিস কেন? তোকে আমি সাথে করে নিয়ে যাবো না। গিয়ে এক্ষুনি বোরকা পরে আয়। গো ফাস্ট।”
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১৬
“দেখেন বড় ভাই,এটা আমার ব্যাপার।আর এখন রাতের বেলা, তারউপর গাড়ি দিয়েই পুরো রাস্তা যাবো। সমস্যা কি তাহলে?”
উদ্যান কিছু ভাবল। তারপর নিঃশব্দে গাড়িতে উঠে বসে।রাফসা ফ্রন্ট সিটেই এসে বসলো। উদ্যান ওর পানে একপলক তাকিয়ে গাড়ির ধোঁয়া উড়িয়ে বেরিয়ে পড়ে।
