ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৮
শানজানা আলম
এহসান অফিস থেকে বের হয়ে একটা কফিশপে অপেক্ষা করছিল। বেশ কয়েকদিন ধরে সে নিকিতার সাথে টুকটাক কথা বলেছে। মেয়েটাকে ভালোই মনে হলো। কফিশপে ডেকেছে তাই৷ এহসান নিজের সম্পর্কে কিছুই বলেনি, আর বিয়ের ছবি রিলেশনশিপ আগেই সরিয়ে ফেলেছিল। নিকিতাও অবশ্য নিজের সম্পর্কে কিছুই বলে নি তেমন, একটা ভার্সিটিতে ফোর্থ সেমিস্টারে পড়ছে, ব্যস এটুকুই।
নিকিতা এলো বেশ কিছুক্ষণ পরে। সামনাসামনি মেয়েটা সুন্দর। টপস আর জিন্স পরে এসেছে, ভালো লাগছে দেখতে। বয়সের চাইতে ছোট মনে হয়, দেখতে কলেজে পরা বাচ্চা মেয়ে মনে হচ্ছে।
আমুদে, বিভিন্ন এঙ্গেলে সেলফি তুলছে।
এহসান কফির অর্ডার করে দিলো।
তারপর, কেমন আছে?
নিকিতা জানতে চাইলো
হুম, ঠিকঠাক, আপনি?
হুম, ভালো।
এহসান জানতে চাইলো, আনইজি লাগছে না তো?
না একদম না, আমার নিউ পিপল এক্সপ্লোর করতে খুব ভালো লাগে।
আচ্ছা! – এহসান মনে মনে হাসল যা বোঝার বুঝে নিয়ে।
নিকিতা বলল, ফেসবুকের বাইরে আমরা তো ভালো ফ্রেন্ড হতে পারি, তাই না?
এহসান বলল,হুম, পারি!
কফি চলে এসেছে। এহসান বলল, নিন, কফি নিন।
ওহ, তুমি করে বলো তো, ফ্রেন্ডকে কেউ আপনি বলে!
এহসান বলল, আপনি থেকে তুমি তে আসতে একটু সময় নেওয়া উচিৎ না?
নিকিতা ভুরু নাচিয়ে বলল হুউম, একটু সময় নিতে চাচ্ছেন, নিন!
এহসান উঠল। এর সাথে খুব বেশি হলে কফি খাওয়া যেতে পারে। তার বেশি কিছু হবে না।
এহসানের মন ছুটে গেছে, মেয়েদের ভালো লাগছে না, সবাই ঐশির মত, উচ্চাভিলাষী, এরকম অচেনা কারো সাথে আহ্লাদী করে এক্সপ্লোর করতে চলতে আসবে, হয়তো ঐশিও এমন করেছে! কে জানে আরো বেশি কিছু!
টাকার সমস্যাটা দূর হলে এহসান একটু ব্রেক নিতো, কোথাও থেকে দশদিন ঘুরে আসতো, সেটা করতেও সময় লাগবে। কলিগের কাছ থেকে লোন করে টাকা পরিশোধ করলেও ঘুরতে গেলে বিষয়টা খারাপ দেখায়। সামাজিকতা পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখতে হয়। এমনকি বাসাটাও বদল করতে পারছে না। একটা বাসা বদল মানে মিনিমাম লাখ টাকার ঝক্কি।
দম বন্ধ লাগছে এহসানের।
অথৈ রুম গোছাতে গিয়ে ঐশির রেখে যাওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে একটা জুয়েলার্সের রিসিট পেলো। রাজলেখা জুয়েলার্স। গয়না বদল পরিমান টাকা ছবি সব দেওয়া আছে। সবগুলো গয়না দিয়ে আপু এই হারটা নিয়েছে। তার মানে এহসান ভাই ঠিকই বলেছে।
গয়না চুরির নাটকটা আপুর সাজানো।
তবে আপু তো এমন ছিল না। আপু সাজতে পছন্দ করে, ভালো জামাকাপড় পছন্দ করে, সংসারের কাজ অপছন্দ করে কিন্তু এরকম ক্রিমিনাল মাইন্ড তো ছিল না। এমন বদলে গেল কেন!!
আব্বা আম্মা চাচ্ছেন অথৈয়ের বিয়েটা তাড়াতাড়ি দিতে। ঐশির ঘটনাটা সমাধান হলেই অথৈয়ের বিয়েটা দিয়ে দিবে। এই পাত্রকে ধরে রাখার জন্য অনেক রকম চেষ্টা চলছে। সকাল বিকেল ফোন করা হচ্ছে, গিফট পাঠানো হচ্ছে৷ আব্বা আম্মার ধারনা এই বিয়ে ভেঙে গেলে অথৈয়ের বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। বড় বোনের ডিভোর্স, ছোট বোনের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে, পারিবারিক বিপর্যয় যাকে বলে, আপু কি এসব বুঝতে পারছে মোটেও!
এই শহরে এহসানের মামার বাসা, সেই মামাতো বোনের বিয়েতেই আপুকে দেখে পছন্দ করেছিল এহসানের মা। বিয়েটা হতে সময় নেয় নি একদম।
হয়তো আরো সময় নেওয়া প্রয়োজন ছিল, অথৈয়ের ক্ষেত্রেও একই কাজ হচ্ছে। অথৈ বুঝতে পারছে না কি করা উচিৎ।
ঐশির পাসপোর্ট করা ছিল, নাসির বলল, ব্যংকক যাবে ঐশিকে নিয়ে। তাই ভিসা করাতে হবে।
ঐশি চেয়েছিল তিন মাস কাটুক আগে। নাসির শুনতে চাইছে না। সে ঐশির সাথে একান্তে কিছুটা সময় কাটাতে চায়।
নাসির টাকা পাঠিয়েছে আবার, সুবহানাকে নিয়ে ঐশি অনেক শপিং করল। মনটা ফুরফুরে হয়ে গেল, এরকম কবে হয়েছে, মনে করতে পারে না, যা পছন্দ হচ্ছে সবটা নিয়ে নিচ্ছে। ওদের ব্যবহার করার জন্য একটা গাড়িও দিয়েছে নাসির।
শপিং শেষে ডিনারে ঐশির সাথে সুবহানাও এসেছে।
নাসির এসেছে। ঐশি বাসায় বলবে, সুবহানা যাচ্ছে। ঐশি সুবহানা একসাথে গেলে কোনো প্রশ্ন উঠবে না ঐশির বাসায়। এখনো বাবা মাকে এত আপডেট দিতে হচ্ছে বলে, সুবহানা কিছুটা বিরক্ত।
-ঐশি, তুই যথেষ্ট ম্যাচিউর, এখন তুই কি করবি না করবি, এত কথা ফ্যামিলিতে বলার দরকার কি!
নাসির বলল, তুমিও চলো, সমস্যা কি, ঐশির ভালো লাগবে!
-আর বলবেন না নাসির ভাই, মেয়েটা এত বোকা, এজন্য ওর হাজবেন্ড ওকে ঠকাতে পেরেছে! আপনার সাথে ওর একটা যোগাযোগ হয়েছে, থ্যাংকস গড, আমি সারাক্ষণ ওকে নিয়ে ভয়ে থাকি!
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৭
-ভেরি গুড ফ্রেন্ডস!!- নাসির হাসলো।
-ঐশি কি আজ ফিরবি?
নাসির বলল, সুবহানা তোমাকে আমার ড্রাইভার ড্রপ করে দেবে।
সুবহানা বুঝতে পারল, ঐশি আজও থাকছে নাসিরের সাথে। সেই মতো, ডিনার শেষে নাসির ঐশিকে নিয়ে রুমে চলে গেল। ঐশির দ্বিধা ভেঙে গেছে, নাসিরের সাথে সে সময় কাটাতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক।
তাই নাসিরের সাথে বিছানায় যেতে ঐশির কোনো অসুবিধা হলো না।
