ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৯
শানজানা আলম
নাসির বাসায় ফিরেছে দুপুরে। আভা স্নান করছিল, বের হয়ে দেখল নাসির রুমে ঢুকেছে।
আভার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বলল, কেমন আছ?
নাসির বলল, ভালো। তুমি?
হুম ভালো। তিনদিন পরে ফিরলে এবার। ব্যাংকক থেকে তো আগেই ফিরেছ।
হুম কাজ ছিল।
কাজ মানে কি, নতুন বান্ধবী?
নাসির উত্তর দিলো না।
আভা বলল, নাসির, আমার ছেলেটা বড় হচ্ছে। তোমার কি সংযত হওয়া প্রয়োজন নয়?
নাসির বলল, আমি তো অসংযত হই নি!
আভা বলল, আমি যেমন তোমার প্রতিটি মুভমেন্ট জানতে পারি, আমার ছেলেও জানবে, তোমাকে কি রেসপেক্ট করতে পারবে তখন?
নাসির উত্তর দিলো না। আভা ইদানিং অনেক বেশি কথা বলে।
নাসির একটু পরে বলল, দুবাইয়ে ফ্ল্যাট রেডি হয়ে গেছে, তুমি নাফিউকে নিয়ে শিফট করে যাও।
মানে? তুমি ঠিক হবে না, আমাদের সরিয়ে দিতে চাইছ?
নাসির বলল, আভা, বাসায় ফিরলে আমি শান্তি পাইনা, একটু শান্তি দিতে পারো আমাকে?
শান্তি কি ওই মেয়েটা দেয়? যাকে শপিং করে দিলেই বিছানায় নেওয়া যায়?
নাসির নিজের ব্লেজারটা নিয়ে বের হয়ে গেল। বের হতে হতে ঐশিকে ফোন করে বলল, ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে চলে এসো। একা আসবে।
ঐশি শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে কেবল, একাউন্টে টাকা ঢুকেছে, এহসান পাঠিয়েছে। মস্ত বড় ব্যালান্স এখন খরচ করার মতন, কেমন শান্তি শান্তি লাগছে।
নাসির ফোন করল তখনই, ঐশি, ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে চলে এসো। একা আসবে।
ঐশি তৈরি হতে শুরু করল। সুবহানা উঁকি দিলো।
-ঐশি কোথাও যাচ্ছিস?
-হুম।
-কোথায়?
-ধানমন্ডিতে, নাসির ডেকেছে।
সুবহানা বলল, ঐশি কিছু ব্যালান্স ট্রান্সফার করতে পারবি, একটু দরকার ছিল!
ঐশি বলল কত?
-ওয়ান লাখ? চাপ হবে? একটু নেপাল যাচ্ছিরে আজ। তুই সামলে নিস, কোনো বোকামি করিস না।
ঐশি বলল, নাহ, দিচ্ছি। সুবহানাকে টাকা দিয়ে ঐশি বের হয়ে গেল।
ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে নাসির অপেক্ষা করছিল। তাকে কেমন অস্থির দেখালো। ঐশি ঢোকার পরেই নাসির ঐশিকে চুমু খেতে শুরু করল।
নাসির, কি করছ, কি হয়েছে?
চুপ, কোনো কথা না, আমাকে একটু পিস দিতে পারবে ঐশি?
ঐশি নাসিরকে আঁকড়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।
কিছুক্ষণ পরে নাসির বলল, তোমার কস্টিউম রাখা আছে বেডরুমে, তৈরি হয়ে ওয়াশরুমে চলে এসো! আমি অপেক্ষা করছি।
ঐশি বেডের উপর একটা লাল বিকিনি গাউন পেলো, এই পোশাক! আগে কখনো পরে নি! নাসির তাকে এভাবে দেখতে চাইছে! নাসিরই তো, লজ্জা কিসের, ঐশি তৈরি হয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো, বিশাল একটা বাথটাবে গোলাপের পাপড়ি ভাসছে, রিলাক্সিং টেম্পারেচার, নাসির একটা ড্রিংক নিয়ে অপেক্ষা করছিল।
ঐশিকে দেখে একটা বিস্মিত হওয়ার লুক দিলো, ওয়াও, মাই প্রিটি প্রিন্সেস, তোমাকে সেইরকম হট লাগছে! এসো!
ঐশি জলে নেমে নাসিরকে আলিঙ্গন করে চুমু খেলো।
নাসির বলল, ব্যাংকক যাচ্ছি আমরা নেক্সট উইকে।
শুধু তুমি আর আমি কিছুটা সময় একান্তে কাটাতে চাই।
ঐশি নাসিরের বুকে মাথা রেখে বলল, ঠিক আছে, তুমি
যেমন চাও।
ভালো লাগছে এখানে?
হ্যা, ভীষণ সুন্দর, স্বপ্নের মতন!
তুমি অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করো, তোমার একটাই কাজ, আমাকে ভালো রাখা। এখানে এসে থাকবে তুমি, আমি মাঝে মাঝে আসব।
সুবহানাকে নিয়ে আসব?
ও আসতে চাইলে আসবে, আমি স্টাফ পাঠাব, তোমার সমস্যা হবে না৷
আচ্ছা।
ঐশির ভীষণ খুশি লাগল, সে তো এইরকম লাক্সারি একটা লাইফই চেয়েছিল, লাস্টলি সেটা পেলো। নাসির ঐশির কাছে সব কিছু এনে দিলো। নাসির যেভাবে চায়, ঐশি সেভাবেই ভালোবাসবে নাসিরকে।
নাসির এবারে ঐশির গাউনটা খুলে ফেলে দিলো, ইউ আর লুকিং সো সে★ক্সি বেবি!
ঐশির হাত ধরে কাছে টেনে নিলো নাসির। জলের উষ্ণতা ছাপিয়ে ঐশি উষ্ণ হলো কানের লতিতে নাসিরের অধরস্পর্শে।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৮
সাদিক আসবে, অথৈয়ের সাথে কিছুটা কথাবার্তা বলে নিজেদের বোঝাপড়া কিছুটা পাকাপোক্ত হবে।
আরাফাত সাহেবের স্ত্রীর আত্মীয় সাদিক। ওদের বাসায়ই অথৈকে যেতে বলল। অথৈ বলল, কারো বাসায় বসার চাইতে রেস্টুরেন্টে বসা ভালো হবে না?
সাদিক রাজী হচ্ছিল না। অথৈ বলল, আসলে আরাফাত আঙ্কেলের বাসায় আমি ইজি হতে পারব না।।
সাদিক তাই রাজী হলো। ক্যান্টনমেন্টের পাশে কিছু রেস্টুরেন্ট হয়েছে, অথৈ ওখানে আসতে বলল সাদিককে।
