বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৮
ইশরাত জাহান
খাওয়া শেষে দর্শন নিচে নামে।দর্শনের ফোন থাকে টেবিলের উপর। ফোনে একটার পর একটা ম্যাসেজ আসার কারণে শোভা ভাবুক হয়ে তাকালো ফোনের দিকে।দর্শনের ফোনে এত ম্যাসেজ কেউই দেয়না।তাই ফোন হাতে নিয়ে ম্যাসেজ পড়তে শুরু করে।প্রতিটি ম্যাসেজ ও ম্যাসেজের সাথে দেওয়া ছবি দেখে শোভার মাথা গরম হয়ে আসছে।সিনথিয়া একেকটা অর্ধ উলংগ ছবি দিয়ে দর্শনকে জিজ্ঞাসা করছে কোনটা বেস্ট!সিনথিয়ার পরনে আছে বাথরাব।হাঁটুর নিচ পুরোটাই ফাঁকা।এমনকি বাম হাতের কাধ ইচ্ছাকৃত ফাঁকা।সিনথিয়া আবারও ম্যাসেজ দিলো, “কাম অন!দ্রুত জানাও কোনটা বেস্ট?এম আই ফিট ফর দিস?”
শোভা দাঁতে দাঁত চেপে ম্যাসেজ দেখে।ইচ্ছা করছে হাতের ফোনটা ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলতে।এই প্রথম সে দর্শনের উপর অধিকার জমালো।সিনথিয়ার পাঠানো প্রতিটি ছবি ডিলিট করে দিচ্ছে।অথচ ওদিক থেকে বেয়াদপ মেয়েটার থামবার নামই নেই।সে যত পারছে ম্যাসেজ দিয়েই যাচ্ছে।তার তো ধারণা দর্শন এগুলো দেখে আকর্ষিত হবে।কিন্তু সে জানেই না এগুলো শোভার নজরে আছে বলেই এখনও জীবিত আছে।দর্শনের নজরে পড়লে আজ তার শেষ দিন হতো।সিনথিয়া উত্তর না পেয়ে কল দিলো।শোভা রিসিভ করে।সিনথিয়া ব্যাস্ত ভাব নিয়ে বলে, “বললে না তো কোন আউটফিট বেস্ট?নাকি আমার হট লুক দেখে তোমার মাউথ স্টপ হয়ে গেছে?”
শোভা হাসফাঁস করতে করতে বলে,“বেয়াদপ,উলংগ নারী।দিনে দিনে এতই পতন হয়েছে যে অন্যের স্বামীর কাছে নোংরা ছবি দিতে হয়?লজ্জা করে না এসব ছবি পাঠাতে আমার স্বামীর কাছে?”
সিনথিয়া পাল্টা ধমক দিয়ে বলে, “শাট আপ ইউ চিপ গার্ল।তোমার মতো ছোটলোক এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো।”
“আমি ছোটলোক!আমার মতো ছোটলোকের স্বামীর কাছে কি তোর মতো বড়লোকের?সেই তো আমার মতো ছোটলোকের স্বামীর সাথে নষ্টামি করতে এসেছিস।আজকে তোকে সামনে পাই।এই ছোটলোক তোর ছোট ড্রেসের সৌন্দর্য হারে হারে টের পাইয়ে দিবে।”
“কি করবে তুমি?”
“একটাবার আয় বাড়িতে।আমার স্বামীর দিকে নজর তাই না?তোর নজর আমি উপরে দিবো।বেহায়া,নির্লজ্জ নারী।”
“লিসেন আমি আমার প্রফেশনের আন্ডারে কাজ করছি।দর্শন এই কোম্পানির চেয়ারম্যান আমি এই কোম্পানিতে এসেছি প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন করতে।কোম্পানি যেনো আরও ভালোভাবে এগিয়ে যায় সেই কাজে আছি।সুতরাং আমাকে এসব ছবি তুলে তো চেয়ারম্যান থেকে পরামর্শ নিতেই হবে।”
“থাপড়ে তোর গাল এমন লাল করে দিবো যে আমার স্বামীর কোম্পানির বিজ্ঞাপন তো দূরে থাক অন্য কোনো পরপুরুষের কোম্পানির বিজ্ঞাপন করতে পারবি না তুই।”
“ইউ বি*!”
“ইটস স্যুট ওনলি অন ইওরসেলফ।কজ ইউ আর ইন্টারেস্টেড অন ম্যারিড ম্যান এন্ড ওলসো ট্রাই সিডিউস দেম।”
সিনথিয়ার রাগ বাড়ল।তাকে তার গালী ফিরিয়ে দিলো।আরো কিছু বলতে নিবে শোভা মুখের উপর কল কেটে দেয়।ফোন টেবিলের উপর রেখে বলে,“আজকের দিনটাই কুফা আমার জন্য।সকালে একবার আমার সাথে বাদালো এই মেয়ে এখন আবার আর মাঝখানে তো দি…
বলতে না বলতেই পিছন ঘুরে দর্শনকে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থমকে যায়।ভুলেও মুখ থেকে এখন দিজার নাম বের করা যাবে না।দর্শন ভ্রু নাচিয়ে বলে, “আর ইউ জেলাস ওয়াইফি?”
শোভা ফুঁসে উঠে বলে,“আপনার বউ থাকতে অন্য নারী আপনাকে উলংগ ছবি পাঠায় কোন সাহসে?”
কথাটা শুনে দর্শনের রাগ বাড়ল সিনথিয়ার উপর।মন তো চাইছে ওই মেয়েকে খুন করে গভীর পানিতে ভাসিয়ে দিতে কিন্তু নাহ।এটা করবে না দর্শন।এর একমাত্র কারণ শোভাকে একটু টাইট দেওয়া। শোভার ধারণা তার স্বামী সবসময় অতিরিক্ত করে।মানুষের সাথে দর্শনের করা ব্যবহার অন্যায়ের কাতারে গিয়ে থেকে।শুধু শোভা না এটা তো ফরাজি বাড়ির সবার ধারণা।তাই দর্শন এবার শোভার পক্ষে থেকেই শোভাকে বুঝিয়ে দিবে সে কতটা ভুল।দর্শন এগিয়ে এসে শোভার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “কাম অন।ফোন তার,ফোনের ব্যালেন্সটাও তার,অ্যাকাউন্ট সেটাও তার।পিকচারটাও নিজস্ব তার।সুতরাং এগুলো সেন্ড করার জন্য সাহসটাও তার।এখন সাহসটা কোন জায়গা থেকে এসেছে এটা তো আমি জানি না ওয়াইফি।”
শোভা রেগে গেলো।ভীষণ রেগে গেলো।সরাসরি জানায়,“আমার স্বামী আমি ব্যতীত অন্য নারীর বাজে বাজে ছবি দেখবে এটা আমি মেনে নিবো না।শুধু তাই না আমার স্বামী অন্য নারীর সাথে ঢলাঢলি করবে এগুলো আমি মেনে নিবো না।”
“কি করবে তুমি?”
“খুন করে ফেলব।”
বলেই শোভা অবাক নিজের কথার উপর।সামনে থাকা দর্শনের দিকে চেয়ে দেখে দর্শন মৃদু হাসে।দর্শন চোখ টিপে বলে,“তাহলে আমাদের সম্পর্কে শুধু আমি একা জেলাস না আমার ওয়াইফিও জেলাস আছে।তারও মন চায় আমাদের সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তিকে খুন করে দিতে।”
শোভা এই প্রথম অনুভব করলো সেও উন্মাদ হয়ে উঠছে।দ্রুত সরে গেলো দর্শনের সামনে থেকে।দর্শন ফোন নিয়ে শার্টের উপর ব্লেজার পরে নিলো।শোভা দেখামাত্রই দ্রুত বলে উঠল,“আজকে আপনি অফিসে যাবেন না।”
দর্শন ভ্রু কুঁচকে বলে,“কেন?”
শোভা কারণ বলতে গিয়েও বলল না।সিনথিয়া যে অর্ধ উলংগ এটা বললে দর্শনের মস্তিষ্কে ধারণা চলে আসবে এখন সিনথিয়াকে দেখতে কেমন লাগছে।যেটা চায়না শোভা। আমতা আমতা করে বলে,“কারণ আজকে অফিসে গেলে আমাদের সংসারে অমঙ্গল ঘটবে।”
দর্শন কথার অর্থ না বুঝে শোভার দিকে তাকালো।ওদিকে অফিসে ইমারজেন্সি কাজ আছে বলে চলে যেতে হবে দর্শনকে।তাই বলে,“এসব ফাও কথা।দিন ক্ষণ ঠিক করে কখনও সংসারের মঙ্গল অমঙ্গল আসেনা।ওসব পুরোনো দাদি নানীদের কথা।এই লেইম কথাবার্তা বাদ দেও।”
বলেই চলে গেলো দর্শন।শোভা রাগতে রাগতে বলে,“আমি লেইম কথাবার্তা বলি!”
নিজের দিকে নিজে আঙুল তাক করে শোভা ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,“আমি ছোটলোক!আমি লেইম কথা বলি!আমি বি*!আমি এতকিছু যখন হয়েছি আজকে একটা হেস্তনেস্ত হবেই।”
সন্ধ্যার দিকে শোভা নামাজ শেষ করে বই নিয়ে বসলো।বইয়ের পাতা মেলে একেকটা শব্দের দিকে শুধু তাকিয়েই আছে কিন্তু কিজে লেখা তা আর পড়ছে না।কারণ সেদিকে তো তার মন নেই।তার মন তো আছে কীভাবে সিনথিয়াকে একটা শিক্ষা দেওয়া যায় এটা নিয়েই।মাথায় কিলবিল করছে নেগেটিভ ধারণা।ভাবছে সিনথিয়াকে বাজে পোশাকে সজ্জিত অবস্থায় দেখছে দর্শন।অতঃপর নিজেকে দেখে শোভা কান্না করে দিবে প্রায়।নিজেকে দেখে বলেই দিলো,“বাইরে ওসব নাচঙ্গি নারী থাকলে স্বামী কি আর ঘরের বউয়ের সাধারণ ভাবে থাকাকে মেনে নেয়?কখনোই না।এইজন্যই হয়তো ভাবী যখনই দেখতো ভাই আসার সময় হয়েছে তখনই চোখে কাজল ঠোঁটে ঘোষেঘোষে লিপস্টিক দেয়।শুধু কি তাই?যে ভাবী আমার কোমরে অচল গুঁজে কাজ করে সেই ভাবী ভাই আসার আগেই আঁচল ছেড়ে দিয়ে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে।আসার আগে আম্মাও বলেছিলো স্বামীর সামনে বেশি বেশি পরিপাটি থাকতে। আমিই তো থাকি না।অবশ্য সে যেমন আমাকে দোটানায় রাখতো আমি কিভাবে বুঝবো আমাকে কিভাবে চলতে হবে?এখন কি করবো আমি?”
ভাবতে ভাবতেই শোভার মনে হলো মিতু ভাবীকে আবারও কল দিবে।যেই ভাবা সেই কাজ।মিতু ভাবীকে কল দিলো শোভা।ওপাশ থেকে ফোন ধরেই মিতু ভাবী প্রশ্ন ছুড়লো,“অবশেষে বরের খাঁচা থেকে মুক্ত হলো আমার ননদ?”
শোভা মুখ ভার করে বলে,“বরের খাঁচা কি?”
“ও মা তুমি জানো না বরের খাঁচা কি?”
“না।”
“সম্পর্ক আগাওনাই?”
“কিছুটা।”
“আমি তো ভেবেছিলাম সম্পুর্ণটা এগিয়েগেছো।তাই হয়তো আমাদের কথা ভুলে গেছো।এখন তুমি তোমার স্বামীর খাঁচায় বন্দি আর তোমার আঁচলে বন্দি তোমার স্বামী।”
শোভা চুপ করে থাকল।শোভার কথা শুনতে না পেয়ে মিতু ভাবী আবারও বলে,“কি হলো তোমার?চুপ কেন?”
শোভা মিনমিন করে বলে,“আমি ওনার খাঁচায় বন্দি আছি ঠিক কিন্তু কেমনভাবে বন্দি আছি বুঝতে পারছি না।তাছাড়া আমি নিজেও তাকে আমার আঁচলে বন্দি করতে পারছি না ভাবী।”
“কেন পারছো না?তুমি কি তাকে বুঝতে পারোনি এতদিনে?”
“সত্যি বলতে তাকে বোঝা অনেক কঠিন।কিন্তু যত দিন যাচ্ছে আমি শুধু এটুকুই বুঝতে পারছি সে খুব জেদি,তার কথাটাই হলো শেষ কথা এবং সে খুব সহজেই মানুষকে সন্দেহ করতে পারে।সেই সন্দেহ কাটানো খুব কঠিন।যদি একবার কোনোকিছু নিয়ে সন্দেহ করে তাহলে সেই জিনিস নিয়ে অনেক খারাপ অবস্থা করে ছাড়ে।যেমন…
বলতে গিয়ে থেমে গেলো শোভা।মিতু ভাবী বলে,“যেমন কুদ্দুস?”
“দেখলেই তো নিজের চোখের সামনে।”
“এক হাতে তালি বাজে না শোভা।”
“মানে?”
“তোমার ভাই জানালো আমাকে।এলাকার দোকানদার নাকি তোমার স্বামীকে একবার বলেছিলো ছোটবেলা থেকে তোমার আর কুদ্দুসের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।তুমি তোমার স্বামীকে তালাক দিলেই কুদ্দুসকে বিয়ে করবে।তোমাদের দুজনের মধ্যে ছোটবেলায় খুব ভাব।কুদ্দুসের মা অত পেতে আছে তোমাকে তার বৌমা বানানোর জন্য তাই ওরা আমাদের বাড়িতে আসে প্রতিদিন।”
শোভা বিরক্ত হয়ে বলে,“দোকানদার কোন দুঃখে ওনাকে এসব বলতে গেলো?”
“দোকানদার যে তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল মনে আছে?তার কুদৃষ্টি থেকে তোমাকে কতবার বাঁচিয়েছি এর ঠিক আছে আদৌ?”
“ভাইজান কিভাবে জানলো?”
“তোমার ভাইজানের কাছে গোপনে কথাটা বলে মফিজ চাচা। ওই যে ভ্যান চালায়।উনি তখন দোকানে যায় যখন তোমার স্বামী ওই দোকানে ছিল।উনি নাকি এসব বিষয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি কিন্তু কুদ্দুস হাসপাতালে যাওয়ার কারণে এলাকা জানাজানি হয়।এর কারণে চাচা নিজে তোমার ভাইজানকে বলে দেয়।”
“আমাকে জানালে না কেন এতদিনে?”
“ফোন কাছে রাখো তোমার?কতবার কল দিবো?তোমার যে জল্লাদ স্বামী।একটুতেই এমন ভাব করে যেনো তার থেকে আমরা তোমাকে ছিনিয়ে নিচ্ছি।”
“তুমিই তো বললে এক হাতে তালি বাজে না।”
“বাব্বাহ!এখনই স্বামীর প্রশংসা।”
“প্রশংসা কোথায় করলাম?আমি তো তোমার কথাটাই বলে দিলাম।”
“আচ্ছা,এবার বলো কি হয়েছে তোমার?”
“সংসারে কাল নাগিন ঢুকেছে।সাপের মত আমার স্বামীর সাথে সবসময় পেঁচিয়ে থাকে।যদিও উনি সাপকে নিজের থেকে ছিটকে সরিয়ে দেয় কিন্তু ওই সাপ যেনো নাছোড়বান্দা।এখন আমাকে একটা উপায় বলো যে উপায়ে আমি ওই নাগিনের হাত থেকে আমার স্বামীকে পার্মানেন্ট ছাড়িয়ে নিজের কাছে রাখতে পারি।”
“এই ব্যাপার?এটার তো খুব সহজ উপায় আছে।”
“কি উপায়?”
“নাগিনের থেকে তোমার স্বামীকে উদ্ধার করতে হলে আগে তোমাকে নিজেকে সাপুড়ে হতে হবে।পারবে কি হতে?”
“কিঃ!”
“হুমমম,এটাই তো গিন্নিদের কৌশল।”
“কৌশল?”
“আরে হ্যাঁ।ঘরের গিন্নিদের কাজ হলো কৌশল অবলম্বন করা।নাহলে স্বামীকে নিজের করতে পারবে না তো।”
“কি করতে হবে আমার স্বামীকে নিজের করতে হলে?”
“তার সমস্ত জিনিস তুমি গুছিয়ে রাখবে।”
“সে নিজেই তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে।আমার সেসবে হাত দেওয়া লাগে না।”
“তার পোশাক এবং ব্যবহারের জিনিসপত্র তুমি সবসময় ভালোভাবে ধুয়ে আয়রন করে রাখবে।”
“সে ওগুলো ধোপার কাছে দেয় তারপর লন্ড্রিতে দিয়ে আসে সাথে আমার পোশাকগুলোও।”
“তার জন্য ভালো ভালো খাবার রান্না করবে।”
“আমাকে রান্নাঘরে যেতে দেখলেই সে দ্রুত এগিয়ে আসে।আমাকে রান্না করতে না দিয়ে বরং নিজে রান্না করে।”
“ঘর গুছিয়ে রাখবে।”
“কাজের মহিলা আছে।”
“তার যত্ন নিবে।”
“সেই তো উল্টো আমার যত্ন নেয়।”
এবার মিতু ভাবী কপালে হাত দিয়ে বলে,“ভাগ্য তোমার এমনিই খুলে আছে।আর কি চাই জীবনে?যে স্বামী তার বউয়ের পোশাক ও নিজের পোশাক ধোপা দিয়ে ধোয়ায় ও লন্ড্রিতে দিয়ে আয়রন করায় এমনকি বাড়ির কাজগুলো করার জন্য কাজের মহিলা রাখে শুধু তাই না রান্নাটাও পর্যন্ত বউকে দিয়ে করতে না দিয়ে নিজে করে।বউকে শিক্ষিত করতে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দেয়।বউয়ের যত্ন করে দিনরাত।সেই স্বামী তো হাজার মেয়ের স্বপ্নের পুরুষ।তুমি তো স্বপ্ন না দেখেই পেয়ে গেলে।”
শোভা হতাশ হয়ে ক্লান্ত সুরে বলে,“তারপরও কোনো একটা কমতি আছে এই সংসারে।কোনো এক কারণ তো আছে যার জন্য এখনও সংসারে অশান্তি লেগে থাকে।”
“সংসারে সবসময় শান্তি থাকে না।প্রত্যেকটা সংসারে শান্তি পেতে হলে তাকে খুঁজতে হয়।তুমি কি মনে করো আমি খুব শান্তিতে আছি?রাগ করো না আমার কথা শুনে যেহেতু আমি তোমার ভাইয়ের সাথে সংসার করি।আসলে আমারও তো মন চায় এই চার দেয়ালের সংসারের মাঝে বন্দি না থেকে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এই দুনিয়াটা নিজ চোখে দেখি।মন তো ছটফট করে এটা দেখার জন্য যে পৃথিবীটা আসলে কেমন।আমি যে অংশে আছি তার বাইরের অংশগুলো ঠিক কেমন সৌন্দর্যে ভরে আছে।এগুলো দেখার খুব ইচ্ছা আমার।কিন্তু পারছি না তো ছুটে গিয়ে সেই সৌন্দর্য দেখতে।পারছি না নিজের স্বামী ও সন্তান রেখে নিজের মায়ের কোলে গিয়ে মাথা রাখতে।পারছি না নিজেকে দিনে এক মুহূর্তের জন্য সময় দিতে।এই কাজ ওই কাজ লেগেই থাকে।সব কাজ সেরে আমি যখন একটু স্বস্তির নিশ্বাস নেই তখনই মেয়ের আবদারগুলো হাজির হয়।আমি বলছি না আমি এইসবে বিরক্ত।একদমই না।আমি তো আমার স্বামী সন্তানের সাথে এগুলো নিয়ে সুখে আছি।নিজ মনকে শান্তনা দিয়ে সুখেই আছি।এই সুখের কথা চিন্তা করে কিছু স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়াই যায়।কারণ হাত বাড়ালেই এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করতে পারব না।তাই বলি কি বোন আমার,তুমি স্বপ্ন দেখো।স্বপ্ন দেখতে সমস্যা নেই কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তব করতে না পারলে আফসোস করো না।শুধু মনকে শান্তনা দেও।এই পৃথিবীতে তুমি ঠিক ততটাই পাবে,যতটা তোমার নসিবে লেখা আছে।কিন্তু কিছু সময় নসিবের লেখাটাও মিলবে অনেক চেষ্টার পর।তোমাকে চেষ্টা করে যেতে হবে।দেখা গেলো তোমার চাওয়া পাওয়া দেরিতে হলেও পূরণ হলো।কারণ সেটা তোমার নসিবে লেখা ছিল।চেষ্টা করবে হতাশ হবে না।হতাশ হলেই তুমি অশান্তিতে থাকবে।তোমার মধ্যে থাকা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে।”
শোভা মনোযোগ দিয়ে শুনছে সবকিছু।শুধু শোভা একা না।এই কথাগুলো শুনছে দরজার ওপারে থাকা দিজাও।মিতু ভাবীর বলা প্রত্যেকটা কথা দুজনের মস্তিষ্কে ভিন্ন ধারণা নিয়ে এলো।শোভা আনমনে বলে দেয়,“তুমি বেশিদূর লেখাপড়া না করেও আসল শিক্ষিত তো তুমি।যে কি না খুব সহজেই মানুষকে কঠিন মুহূর্তকে বুঝিয়ে দিতে পারে।”
“কঠিন মুহূর্ত মানুষের জীবনের সাথে মিশে থাকে।এটাকে সাবধানে নিজের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়।নিজেকে নেতিয়ে রাখবে তো ধ্বংস হয়ে যাবে।তাই তোমার সাথে বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা বজায় রাখা খুব জরুরি।”
কথাগুলো শোভা যেমন মন দিয়ে বুঝতে চাইছে ঠিক তেমন বুঝতে চাইছে দিজাও।মিতু ভাবী স্ক্রিনে থাকা শোভার মুখটা দেখছে।মেয়েটার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সে কোনোকিছু প্লান করছে।মিতু ভাবী মজার ছলে বলেন,“শোনো সবই যখন তোমার স্বামী করে দেয় এরমানে কিন্তু সে তোমাকে পরিপাটি দেখতে চায়।তার বউকে কিন্তু খাটিয়ে নিজের কাছে রাখবে এমন না তার বউকে সে পৃথিবীর সব সুখটুকু এনে দেবার চেষ্টায় আছে।তুমি যেহেতু তার মন জোগানোর রাস্তা এসব দিক থেকে পাচ্ছো না তাহলে অন্য রাস্তা দেখো।”
“অন্য রাস্তা?”
“হুমমম।এই যেমন তুমি নিজেকে পরিপাটি রাখলে।তার নজরে তোমাকে কিভাবে ফুটিয়ে রাখলে সে তোমার আঁচলে এমনি এমনি বেঁধে থাকবে সেই উপায়গুলো খুঁজে বের করো।আমাকে তো দেখেছো।বাড়ির সব কাজ শেষ করেও তোমার ভাইয়ের সামনে নিজেকে এমনভাবে গুছিয়ে রাখি যেনো তোমার ভাই আমাকে দেখে খুশি হয়।সারাদিন বাইরে থেকে খেটে এসে যখন দেখে তার বউ তার মনের মতো করে গুছিয়ে আছে তখনই কিন্তু স্বামীদের মধ্যে প্রাপ্তির হাসি ফুটে ওঠে।গিন্নীদের কাজ শুধু ঘর গুছিয়ে রাখা নয় নিজেদেরকেও গুছিয়ে রাখা।তোমার স্বামীর চেষ্টার সাথে তুমি নিজেও চেষ্টা রাখো।একটা উপায় না পেলে অন্য উপায় দেখো কিন্তু হতাশ হবে না মনে মনে ক্ষোভ রাখবে না।এগুলো তোমার মন মস্তিষ্ক সবকিছু নষ্ট করে দিবে।এর সবথেকে খারাপ দিক হলো শয়তানের কবলে পড়া।তাই বলছি তুমি যত নিজেকে সামলে নিয়ে সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে চলবে ততই সুখের রাস্তা খুঁজে পাবে।”
শোভা মৃদু হেসে বলে,“তোমার মতো ভাবী ঘরে ঘরে হওয়া চাই।তাহলেই ননদেরা নিজেদের ভাগ্যবতী মনে করবে।ভাবীর মতো বান্ধবী থাকলে মেয়েদের আর কিই বা লাগে?”
শোভা কথাটা বলেই যেনো নিজে নিজে থমকে গেলো।আজকে দিজার সাথে স্বার্থপরের মতো আচরণ করেছে।যদিও সেটা করার কারণ হলো তুহিনকে দর্শন কখনও মেনে নিবে না। আর এটা জেনেও শোভা কিছু করলেও বিপদ না করলেও বিপদ।স্বামীদের কাজ তো বউয়ের দোষ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ধরা।বলা তো যায়না এই জায়গায় এসেও দর্শন আর কাউকে না পেয়ে সোজা শোভাকে বকাবকি করে দিলো।কিন্তু শোভার মনে হচ্ছে সে একটু বেশিই শক্ত কথা বলেছিল।শোভার মাথা এখন ঠান্ডা আছে। মিতু ভাবীর সাথে কথা বলে মনে অনেক শান্তি পেলো।এখন শোভা অনুতপ্ত দিজার সাথে করা আচরণের জন্য।
দিজা চলে এলো ঘরে।শোভার কাছে গিয়েছিল নিজে অনুতপ্ত হয় তাই। দিজা মেয়েটাও সহজ সরল।সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে চায়।ভালোবাসার মানুষদের একত্রে রেখে হাসিখুশি থাকতে চাওয়ার মেয়ে দিজা।তাই তো সিনথিয়া নিজের ফুফাতো বোন বলে তাকেও কাছে রাখতে চাইছে।এটা ভাবছে না সিনথিয়া আসলে কেমন ধাঁচের মেয়ে।দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে দিজা তাকালো দরজার দিকে।শোভাকে দেখে প্রশ্ন করে,“কিছু বলবে?”
শোভা ঘরে প্রবেশ করে।শান্ত কণ্ঠে বলে,“তোমাকে মেরেছিলাম দুপুরে।”
কথাটুকু বলেই শোভা নরম চোখে তাকালো দিজার দিকে।আর এই মুহূর্তেই মেইন গেটের চাবি হাতে ঘোরাতে ঘোরাতে বাড়িতে প্রবেশ করে সিনথিয়া। সকালেই দিজাকে দেওয়া চাবিটা দিজা দিয়েছিল সিনথিয়ার কাছে।তাই তো আজ বাসায় আসার পর কলিং বেল চাপতে হয় দিজার।নীরবে বাসায় ফেরার কারণে ঘরের বাইরে থেকে শোভার কথা শুনতে পেলো সিনথিয়া।সাথে সাথে পা থেমে গেলো।ভাবছে ননদ ভাবীর এই দৃশ্য আড়াল থেকে দেখবে।যেনো কিছু গোপনতা থাকলে জানতে পারে।দ্রুত দরজার আড়ালে দাঁড়ালো সিনথিয়া।এদিকে শোভা অনুতপ্ত হয়েই বলে,“আমি সাধারণ ঘরের মেয়ে।আমাকে তো তুমি চেনোই।এসব প্রেম ভালোবাসা আমার জানাশোনার বাইরে।আমি ছিলাম মা ও ভাইকে নিয়ে।সংসারের কাজ অসুস্থ মা ও লেখাপড়া এগুলোই আমার মাঝে সীমাবদ্ধ।হঠাৎ করে তোমার ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে।বিয়েটা এমনভাবে হলো যে আমার সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই একেকটা ধাক্কা খেতে হলো।তুমি তো আমার কাছে থাকতে বেশি। জেনেছো কত খারাপ খারাপ পরিস্থিতি পাড় করেছি এই চার বছরে।তোমার ভাই এসেও তো আমাকে মেনে নিয়েছিল না।সে সময় নিয়েছিল সুযোগ দিয়েছিল। এখন তার মাঝে একটু একটু পরিবর্তন দেখি।আমার মতো সাধারণ মেয়ে তো একটা সংসার চায়।আমার ছোটবেলা থেকে যে শিক্ষাটা পাওয়া তার মধ্যে গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হয়েছে কীভাবে স্বামীর সেবা করতে হয়।মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত হয়।এই কথার থেকেও আমাকে শুনতে হয়েছে মেয়েদের নাকি স্বামীর পা ধরে সালাম করে চলতে হয়। তুমিই বলো এগুলো শুনে শুনে বড় হবার পর স্বামীর থেকেই যদি স্ত্রীর মর্যাদা না পাই আমাদের মতো মেয়েদের কেমন যায় দিনকাল?যতই স্বাভাবিক থাকি না কেন মনে মনে তো বসবাস করে আতঙ্ক।”
কথাটুকু বলেই দিজার হাত ধরে শোভা কান্নাভেজা চোখে বলে,“আমি খুব আতঙ্কে থাকি দিজা।আমি প্রেম ভালোবাসা নিয়ে না স্বামী নিয়ে সুখে সংসারের দিকে বেশি আগ্রহী।আমার স্বামী মানুষটাকে তো তুমি ভালই চেনো।তার মস্তিষ্ক কেমন এটা নিশ্চয়ই বলা লাগবে না।কোনো একটা ব্যাপারে সে রেগে গেলে যে হিংস্র রূপে আসে এটা নিয়ে তো তুমিও ভয়ে থাকো।যেখানে তুমি তোমার ভাইকে ভয় পাও সেখানে আমি তো তার সাথে চার দেয়ালের মাঝে থাকি।বুঝতেই তো পারছো আমার আতঙ্ক কোথায়?আমি না তখন অনেক উল্টো পাল্টা ধারণা মাথায় এনে তোমার গেলে থাপ্পড় দিয়েছিলাম।আমি তো এমন ছিলাম না।আমি হয়েগেছি।আমি কেমন যেনো বদলে যাচ্ছি।তোমার সাথে আমার সম্পর্ক কেমন যেনো একদিনে নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে।আমি এটাও মানতে পারছি না।তুমি যেভাবে আমার পাশে থেকেছো চারটা বছর এমনভাবে কোনো ননদ পারে না থাকতে।আমি মেয়েটা হতে পারি অভাগী কিন্তু আমার ভাগ্য তাও ভালো।একটা ভালো ভাই পেয়েছি,ভালো ভাবী পেয়েছি।তোমার মতো মিষ্টি একটা সপোর্টিভ ননদ পেয়েছি।ভালো শশুর শাশুড়ি।ভালো একটা দাদা শশুর।আর কীই বা লাগে আমার?আমি তো হতে পারছি না ভালো ভাবী,ভালো ননদ।আমি তো শুধু সবার থেকে পেয়েছি কিন্তু কাউকে কিছু দিতে পারছি না।এটা নিয়ে আমারও মনটা কাদে।বিবেকে নাড়া দেয়।সবকিছু নিয়ে আমি কেমন যেনো হয়েগেছি।”
শোভার চোখ বেয়ে পানি পড়তে দেখে দিজা নিজেই শোভাকে জড়িয়ে ধরে।শোভার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,“কে বলেছে তুমি আমার ভালো ভাবী না? তুমি যদি আমার ভালো ভাবী নাই হতে তাহলে আমার ভাইজান যে কি না এতদিন ভিতরে ভিতরে কষ্টে ভুগেছিল সে এখন কেন নিজেকে প্রাণবন্ত রাখতে পারে?তুমি আমার ভাইজানকে প্রাণবন্ত রাখতে পারো।আমি আমার ভাইজানকে এমনটা আগে কখনও দেখিনি।তুমি আছো বলেই এমন হয়েছে।তাহলে তুমি ভালো না কিভাবে?”
শোভা কথা পাল্টে বলে,“তুমি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নেই তো?”
“একটু একটু ছিলাম।এখন ঠিক হয়েগেছে।”
শোভা একটু ভেবে বলে,“তুমি কি তাকে খুব বেশিই ভালোবাসো?”
দিজা সংকোচ বোধ করে।তারপরও মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝিয়ে বলে,“নিজের অজান্তে মন যে কখন তার প্রতি দুর্বল হয়েগেলো বুঝতেই পারিনি।প্রথমে ভেবেছিলাম এগুলো আবেগ।ওই যেমন সিনেমার নায়ক দেখে ক্রাশ খেয়ে তার কয়েকটা সিনেমা দেখে দুদিন পর অন্য নায়কের প্রতি ক্রাশ খাই আমরা এটাও মনে হয় তেমন।সুদর্শন,গম্ভীর ও ভদ্র স্বভাব দেখেই হয়তো তাকে আমার ভালো লেগেছে। আসলে শুরুটা তো এমনই ছিল। আড়ালে তাকে দেখতাম খুব।কখনও সামনে এসে ধরা দেইনি।যশোরে যে কয়বার দাদাজান ও দিদার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যেতো আমি আড়াল থেকে দুচোখ জুড়ে শুধু তাকেই দেখতাম।এটা এক সময় নেশা হয়ে দাঁড়ালো।এরপর ধীরে ধীরে বুঝলাম আসলে এই পুরুষ আমার নেশা।দুচোখ জুড়ে দেখবার নেশা।তার সাথে কথা না বলি অন্তত তাকে দেখতে তো পারি।তার সাথে প্রেম না করেও আমি তার প্রেমে পড়েছি।ওই সময় মাথায় আসেনি সে পরপুরুষ।উনি ছাড়া যেকোনো পুরুষকেই আমি পরপুরুষ বলে দাবি করেছি।আমাকে তো তুমিও দেখেছো।কখনও কোনও ছেলে বন্ধু পেয়েছো আমার?পাওনি তো।আমি তো ছেলেদের থেকে দূরেই থাকি।তবুও কিভাবে যেনো মিস্টার মাহমুদকে ভালোবেসে নিজের সর্বনাশ ডেকেছি।”
শোভা দেখলো দিজার অসহায় মুখটা।শোভা জিজ্ঞাসা করে,“সে কি তোমাকে মেনে নিবে?”
“জানি না তো।আমি তো শুধু উপায় খুঁজছি তাকে নিজের করার।”
“নিয়তির বাইরের কোনকিছুই হাজার উপায়ে নিজের করা যায়না।যদি তাই হতো তাহলে পৃথিবীতে মানুষের চাওয়া পাওয়ার জন্য হাহাকার থাকতো না।”
দিজা মাথা নত করে।শোভা শান্তনা দিয়ে বলে,“আমি তোমার রাস্তায় বাধা হয়ে থাকবো না কিন্তু আমি বলব এমন কিছু করো না যেখানে তোমার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে।ভালোবাসা যদি নাও পাও আত্মসম্মান অন্তত ধরে রাখতে পারবে।আজকাল মানুষের এই জিনিসটাই আগে হারিয়ে যাচ্ছে।যেটা হারিয়ে গেলে ফেরত পাওয়া খুব কঠিন।”
একটু থেমে শোভা তুহিন ও দর্শনের বন্ধুত্বের সবকিছু খুলে বলল।যেটা শুনে দিজা বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ে।শোভা বলে,“তোমার জীবনের জন্য সিদ্ধান্ত দেওয়ার আমি কেউ না।কিন্তু তোমার ভালো চাওয়াটা আমার দায়িত্বে আছে।তোমার ভাবী হয়ে আমি চাই তুমি সুখে থাকো।স্বামীর ভালোবাসা নিয়ে সংসার করো।”
দিজা মাথা উপর নিচ করে।শোভা চলে যেতে নিলে দরজার আড়ালে থেকে আসা পায়ের ছায়া দেখে আতকে উঠে বলে,“কে ওখানে?”
সাথে সাথেই সিনথিয়া বের হয়ে এসে বলে,“আমি।”
শোভা সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকালে সিনথিয়া বলে,“ভিতরে আসার সময় তোমাদের পার্সোনাল কথা বলতে দেখে চলে যাচ্ছিলাম নিচে।”
দিজা মৃদু হেসে বলে,“তেমন কিছুই না।আসো ভিতরে।”
শোভা চাইলো সিনথিয়াকে কিছু কথা বলতে কিন্তু বলল না।তাকেই বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু করতে হবে। দিজা সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, “এত তাড়াতাড়ি এলে যে?”
সিনথিয়া পার্স টেবিলের উপর রেখে ক্লান্ত কণ্ঠে বলে, “আর বলো না।দর্শন তো আমাদের শুটিং স্পটে গেলই না।ওর নাকি কোন কাজে অফিসে থাকতে হয়েছে।তাই আমি বললাম শুটিং কালকে হবে।দর্শন সামনে থেকে সবকিছু দেখে বুঝেশুনে শোরুমের প্রোডাক্টের অ্যাড করবে।”
দিজা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করে,“কি প্রোডাক্ট?”
“বাথটাব এর।”
“বাথটাব?”
“হ্যাঁ।এটাই তো নতুন লঞ্চ করেছে।আমি বাথরব পড়ে অ্যাড করবো।কোন কস্টিউম আমাকে বেশি হট লুকে রাখতে পারবে এটা দর্শন ঠিক করে দিবে।”
“ভাইজান!”
একটু জোরেই বলে দিজা।সিনথিয়া কানে আঙুল দিয়ে বলে,“আস্তে বল।এমনভাবে বলছিস যেনো অলৌকিক কিছু শুনেছিস।”
“এমনটাই।”
শোভা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বলে, “কাল আবার আপনি ওই ছোট ছোট পোশাক পরে ওনার সামনে দাঁড়াবেন?”
“হ্যাঁ,তোমার কোনো সমস্যা?”
দিজা দুজনের কথা অবাক হয়ে শুনছে।শোভা রাগে হাঁসফাঁস করে বলে,“অবশ্যই সমস্যা।স্বামী আমার অথচ তার সামনে উলংগ হয়ে দাঁড়াবেন আপনি।এটা আমার সমস্যা না তো কি অন্য কারো সমস্যা?”
বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৭
“তোমার সমস্যা হলে সমস্যার সমাধান করো তবুও আমার সাথে ফালতু কথা বাড়াতে এসো না।ফল ভালো হবে না।”
“ফল তো এমনিতেই খারাপ দেখছি।সেই ফলকে কিভাবে খারাপের থেকে রেহাই রাখতে হয় সেই কাজ করব আমি।”
“কি করবে তুমি?”
“আপনাকে কেন বলব?শত্রুকে কি কেউ মনের কথা বলে?”
সিনথিয়া হাওয়ায় হাত নাড়িয়ে বলে,“দেখা যাক তোমার দম কতুটুকু।”
“কালকে দেখতে পাবেন।”
