Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৬

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৬

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৬
Muntaha jahan

“রাস্তায় বসে আছে ফাহাদ শরীলে আঘাতে চিহ্ন,হাত থেকে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে,সেদিকে তার ভ্রূক্ষেপ নেই সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা পার্কের সেই ছেলেটার পানে! ছেলেটার দেহে প্রাণ নেই অনেক আগেই মারা গেছে সে! ছেলেটাকে প্রাণে মেরে ও তার শান্তি হচ্ছে না,ইচ্ছে করছে আরো মারতে,এই ছেলেটার কারনেই আরাবি আঘাত পেয়েছে আজ! ফাহাদ এবার নিজের হাতের দিকে তাকালো হাতে আঘাত সে নিজেই করেছে,,এই হাত দিয়েই আরাবিকে ধাক্কা দিয়েছে তারজন্য আরাবি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে তারজন্য!
ফাহাদ উঠে এগিয়ে গেলো ছেলেটার নিকট, ছেলেটার বুকের উপর পাড়া দিয়ে দাঁড়ালো,বিড়বিড় করে বললো

-” আবরার ফাহাদের কোনো কিছুর দিকে চোখ তুলে তাকানো কোনো ব্যাক্তিকেই আবরার ফাহাদ মাফ করে না,সেখানে তো তুই আমার প্রাণ ভমরার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিস তোকে ছাড়ি কি করে? বল!!
ফাহাদ বুকের উপর থেকে পা নামিয়ে দাঁড়ালো শার্টটা ঝাড়া দিয়ে ঠিককরে পড়তে পড়তে এগিয়ে গেলো সামনের দিকে,হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো,রাস্তায় অবহেলায় পড়ে রইলো ছেলেটি!!
তখন আরাবির দিকে তাকিয়ে থাকা কালিনই ফাহাদ খেয়াল করেছে ছেলেটা ইচ্ছে করেই আরাবিকে ধাক্কা দিয়েছে,আরাবির কোমড় স্পর্শ করেছে,আরাবির দিকে খারাপ নজরে তাকিয়েছে,,কোনোকিছুই তার চোখের আড়াল হয়নি!!
ফাহাদ নিজের জিনিসের দিকে কারো খারাপ দৃষ্টি সহ্য করে না,যেই তার জিনিসে খারাপ দৃষ্টি দেয় তার একটাই শাস্তি!! আর সেটা “মৃ\ত্যু”

রাত ৮ টা
স্টুডেন্টকে পড়ানো শেষ করে ঝালমুড়ি খেতে খেতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে তাহা,বাড়ি ফেরার কোনো তাড়া নেই আর না আছে রিষ্কা নেওয়ার আগ্রহ,আপাতত সব আগ্রহ তার ঝালমুড়ি খাওয়ার দিকে মনের সুখে আপাতত ঝালমুড়ি খেতেই ব্যাস্ত সে!
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই কিছুতে ধাক্কা খেতেই দাঁড়িয়ে যায় তাহা,মাথা ঠলতে ঠলতে বিরক্ত স্বরে বলে
-“উফফ! এই রাস্তায় মাঝখানে কে পিলার দিলো?
মাথা তুলে উপরে তাকাতেই দেখা মিললো গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আরাভের,বুকের উপর দুইহাত আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে তার দিকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে!
তাহা মাথা থেকে হাত নামিয়ে ঝালমুড়ি আরেক চামচ মুখে দিয়ে আরাভকে পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে বললো

-“পিলার হওয়ার সখ জাগলে সাইডে গিয়ে দাঁড়ান,এই রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষকে বাড়ি খাইয়ে তার কপালে আলু তুলার মানে কি?
তাহার হাত ধরে তাহাকে আটকালো আরাভ,ওকে তার সামনে এনে দাঁড় করালো,তাহার পা থেকে মাথা অব্দি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখলো,তাহা অপ্রস্তুত হলো আরাভের এমন চাহনীতে,গায়ের জামা টেনেটুনে ঠিক করে বললো
-“ক..কিহ? এভাবে লুচু লুচু চোখে আমাকে দেখছেন কেনো? সমস্যা কি?
-“তোমার মধ্যে কি এমন আছে যারজন্য আমাকে তোমার পাশে বেমানান লাগবে?
-“মানে?
আরাভ এবার তাহার দুই হাতের বাহু শক্ত করে ধরলো,তাহার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
-“বিয়ে করবে আমায়?
-“ক..কি সব বলছেন? পাগল হয়ে গেছেন নাকি?
তাহার বাহু ছেড়ে দিলো আরাভ,দুই হাত পকেটে গুজে দাঁড়ালো,মুখটা গম্ভীর করে কিছুক্ষণ কিছু একটা ভাবলো রাস্তায় দিকে তাকিয়ে,তারপর হঠাৎ চোখ তুলে তাকালো তাহার দিকে,একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো

-“দেখো আমি এতো গুড়িয়ে পেছিয়ে কথা বলতে পারি না,যা বলার সরাসরিই বলছি,কালকে আমার ফ্লাইট আমাকে আবার আমেরিকা ফিরে যেতে হবে!
-“তো যাননা আমি না করেছি নাকি? আশ্চর্য!
তাহার দিকে রেগে তাকালো আরাভ কথার মধ্যে কথা বলা একদম পছন্দ না তার!
-“এক থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব!!আমাকে কথাটা শেষ করতে তো দিবে?
তো,,আগামীকাল আমার ফ্লাইট আমি আমেরিকার ফিরছি,আর কবে আসবো জানি না,যাওয়ার আগে আমি বিয়ে করে যেতে চাই,এখন চলো আমার সাথে!!
খুবই মনোযোগ দৃষ্টিতে আরাভের দিকে তাকিয়ে আরাভের কথা শুনছিলো তাহা,আরাভ বিয়ে করবে এটা তো খুশির খবর,গুন্ডামী তাহলে কমাবে বউয়ের কবলে পড়ে!
তাহা ঝালমুড়ির কাগজটা রাস্তায় ফেলে নিজের মুখটা হাত দিয়ে মুছে বললো

-“বিয়ে করবেন ভালো কথা,আমাকে কোথায় নিবেন? ওহহ! সাক্ষী দিতে হবে বুঝি? আচ্ছা তাহলে চলুন!
তাহা নিজেই গাড়ির দরজা খুলো গিয়ে গাড়িতে বসলো,আরাভ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে,সে কি বললো আর এ কি বুঝলো,মেয়েটা কি বুঝেছে যে আরাভ তাকে বিয়ে করার কথা বলেছে?
না না বুঝে নি,বুঝলে জীবনে ও নিজে গিয়ে গাড়িতে বসতো না,আরাভ ও আর বুঝাতে গেলো না,কাজী অফিসে গেলে এমনিতেই বুঝে যাবে,আপাতত একে নিয়ে সেখানে যাওয়া যাক!

গালে হাত দিয়ে ফুপাচ্ছে তাহা,আর তার মাথার কাছেই দাঁড়িয়ে তাকে বাতাস করছে নিল,মুখটা তার দুঃখী দুঃখী ভাব করে রাখা,তাহার পাশের চেয়ালে আরাভ বসা চোখ বন্ধ করে রেখেছে সে,তার অপর পাশে আয়ান বসা আর কেনায়া সাইডে দাঁড়িয়ে আছে,ফাহাদ নেই এখানে,আয়ান কপালে হাত দিয়ে বসে আছে,আরাভ যে তারই ভার্সিটির ছাএীর প্রেমে পড়েছে এটা সে আগে বুঝতে পারে নি,আগে জানলে সে এখানে কিছুতেই আসতো না,শেষ পর্যন্ত কিনা তারই ছাএীকে তার বন্ধুর সাথে জোড় করে বিয়ে দিতে হলো?
তাহা গাল থেকে হাত নামিয়ে আায়ানের দিকে তাকালো,আায়ান টেবিলের উপর রাখা কাগজের দিকে তাকিয়ে আছে,তাহা চোখের পানি মুছে নাক টেনে বললো

-“আপনার নামে আমি মামলা করবো স্যার,জোর করে বিয়ে দেওয়ায় মামলা! তা না করলে আপনি তো বাকিসব ছাএীদের ও আপনার বন্ধুূদের সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবেন!
আয়ান অসহায় মুখে তাকালো তাহার দিকে,নিল পাকা দিয়ে জোরে জোরে বাতাস দিতে দিতে বললো
-“হ্যাঁ হ্যাঁ একেবারে মামলা ঢুকে দিবে তাহা,এর তো জেল হওয়া উচিত,কতোবড় সাহস নিজের ছাএীকে নিজেরই বন্ধুর সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছ!
তাহা নিলের দিকে তাকিয়ে নিলের হাতের পাকাটা কেড়ে নিলো,সেটা দিয়ে নিলের মাথায় বাড়ি দিয়ে বললো
-“তাকে শাসাচ্ছেন কেনো আপনি? দু’জন তো একি গোয়ালের গরু!!
নিল নিজের মাথা ঢলতে ঢলতে ইনোসেন্ট ফেইস নিয়ে তাকালো তাহার দিকে,যার অর্থ সে নিরুপায়,আরাভের ভয়েই সব করেছে আরাভের সব দোষ!
নিল তাহার তর্ক বির্তকের মধ্যে মুখ খুললো আরাভ,রাশভারি গম্ভীর স্বরে বললো

-“তরা সবাই বাইরে যা আমার তাহার সাথে কথা আছে!
নিল ভ্রু কুঁচকে আরাভের দিকে তাকিয়ে বললো
-“এটা কাজি অফিস এখানে বাসর করে ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করবি না,তোরজন্য আমরা সুন্দর করে বাসর ঘর সাজিয়ে দিবো আমেরিকায়!!
আরাভ নিলের দিকে চোখ গরম করে তাকাতেই মুখে আঙুল দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে,সাথে বাকিরা ও বের হলো!
তাহা চেয়ারের উপর পা তুলে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে বসলো,আরাভ চেয়ারটা নিজের দিকে টেনে ফিরিয়ে নিলো,তাহার মুখটা দুই আঙুলের সাহায্যে ধরে তাকালো ওর মুখের দিকে!
পুরো মুখটা ঘেমে আছে,চোখ দুটো ফোলা পানি এখনো চিকচিক করছে,বাম গালটা লাল হয়ে আছে,আরাভ সেখানে দুই আঙুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বললো
-“ভালো মানুষের মতো কবুলটা বলে দিলে আর সাইনটা করে দিলে থাপ্পড় খেতে হতো না,ইশশ গালটা কেমন লাল হয়ে গেছে! ব্যাথা লেগেছে বেশি?
তাহা আরাভের থেকে নিজের গালটা ছাড়িয়ে নিয়ে নিজের শরীলের সবশক্তি দিয়ে আরাভের গালে চড় বসিয়ে দিলো,তারপর আরাভের মতো করেই আরাভকে বললো

-“ব্যাথা লেগেছে বেশি?
আরাভ তাহার দিকে গিলে ফেলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো,কিন্তু তাহার এরকম করে কথা বলাতে হেসে দিলো ফিক করে,তাহা আরাভের হাসি মুগ্ধ হলো,কি সুন্দর হাসি,গালে টোল ও পড়ে,লোকটা এতো সুন্দর করে ও হাসতে পারে?
পরক্ষণে আরাভের দেওয়া থাপ্পড় মনে পড়তেই মুখটা গুড়িয়ে নিলো,আরাভ ও হাসি থামিয়ে দিয়েছে,তাহার দিকে সিরিয়াস মুখে তাকিয়ে বললো
-“থাপ্পড়ের প্রতিশোধটা বাসর ঘরে গিয়ে নিবো,, আপাতত তুলা রইলো,,এখন শুনো আমাদের এই বিয়ের বিষয়টা গোপন রাখবে কাউকে বলবে না ঠিক আছে?

-“কেনো? জোর করে বিয়ে করে এখন সেটা গোপন কেনো রাখবেন? আমাকে ঠকানোর পায়তারা?
-“এখনই এই বিষয়টা প্রকাশ করাটা ঠিক হবে না,এটা গোপনই থাক আপাতত বুঝলে?
কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ালো আরাভ,তাহার বাম গালে টুক করে একটা চুমু দিয়ে ঝুকে কোলে তুলে নিলো তাকে!
দরজার সামনে মোবাইলের ক্যামেরা অন করে দাঁড়িয়ে ছিলো নিল,তাহাকে চুমু খেয়ে কোলে তুলে নিতে দেখেই বিড়বিড় করে বললো

-“জানতাম এমন কিছুই করবে দেশে এসে চরীএ নষ্ট করে ফেলেছে সেটা নাচের দিনই বুঝতে পেরেছি,এখন থেকে এর সব কার্যকলাপ ভিডিও করে রাখবো,খুব তো বলতো “আশতিয়াক এ্যাশ কোনো মেয়ের দিকে তাকায় না,জীবনে বিয়ে করবে না” এখন হলো তো?
আরাভকে বের হতে দেখেই লুকিয়ে পড়লো নিল,নিচে গাড়ির কাছে ঈশান দাঁড়িয়ে ছিলো,সবাই গাড়িতে এসে বসতেই রওনা দিলো “খান বাড়ির উদ্দেশ্যে”

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৫

-“তাহা আমার বাবা,আমি যখন তাহাকে চেয়েছি তখন তাহাকে আমিই পাবো,এতে যদি আমার পরিবারের কেউ ও বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমি তাকে শেষ করে দিতেও দুইবার ভাববো নাহ!!

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৭