বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
“ মিথি, তুই এবরশন করাবি যত দ্রুত পারিস।আমি এই বাচ্চা চাই না। বিয়ের দুই মাস পার হলো না তুই কনসিভ করলি কোন সাহসে? আন্সার মি, কোন সাহসে তুই কনসিভ করলি? নিষেধ করেছিলাম না আমি? এখন যত দ্রুত পারিস এই বাচ্চার কাহিনী তুই ফিনিশ করবি। নয়তো আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না মিথি, কেউ না! মেরে ফেলব জাস্ট তোকে এবং তোর বাচ্চাকে! ”
মিথির চুলগুলো তখনও আদ্রর হাতের মুঠোয়। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠল মেয়েটা। চোখ ইতোমধ্যেই ভিজে এসেছে কাতরতায়। মিথি যন্ত্রনায় ছটফট করে উঠল। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে আদ্রর হাত থেকে চুল ছাড়ানোর চেষ্টা করে কোনভাবে শুধাল কেবল,
“ ব্যাথা পাচ্ছি, ছাড়ুন। চুল ছাড়ুন আদ্র ভাই।”
আদ্র ছাড়ল না। বরং চুলের মুঠি আরো শক্তপোক্ত ভাবে টেনে ধরে মুখটা কাছাকাছি আনল। হিসহিসিয়ে রাগ দেখিয়ে বলল,
“ কনসিভ করার আগে মনে ছিল না? মনে ছিল না আমার নিষেধাজ্ঞা। তোকে বিয়ে করেছি বলে নিজেকে অনেককিছু ভেবে ফেলেছিস তুই? আমার বাচ্চার মা হবি? এত সাহস হয় কি করে তোর? তোকে যেভাবে এনেছি, ওভাবেই এক ধাক্কায় বাড়ি থেকে বের করতে আমার দুই সেকেন্ডও সময় লাগবে না মিথি।মাইন্ড ইট!”
মিথি কেঁদে উঠল।মাস দুয়েক আগেই তার ফুফাত ভাই অর্থ্যাৎ আদ্রর সাথে বিয়ে হয়েছিল। তাও তার বড়ভাই-ভাবীদের ইচ্ছাতেই। কে জানত এরপরের জীবনটা এমন হবে? কে জানত আদ্র এমন পিশাচ? মিথির চোখ দিয়ে নোনা পানিরা নেমে এল গাল বেয়ে। আদ্রর দিকে চেয়ে বলল,
“ আমার ব্যাথা লাগছে। ছাড়ুন না আদ্র ভাই৷”
আদ্র দ্বিগুণ ক্ষ্রিপ্ততা নিয়ে চিৎকার করে বলল,
“ লাগুক।এতোটা কেয়ারল্যাস কিভাবে হোস তুই? কিভাবে? তোকে বলে রেখেছিলাম না আমি বাচ্চা চাই না? বলেছিলাম কিনা? তুই, তুই তারপরও আমার উপর চালাকি করেছিস মিথি। তুই ইচ্ছে করেই এই বাড়িতে নিজের পাকাপোক্ত জায়গা গড়তে কনসিভ করেছিস। আমি জানি মিথি! সবটা জানি। ”
এবারের চুলের টানটা আরো কয়েকগুণ বাড়ল। যেন ছিড়ে চামড়া সহ ছুটে আসবে মাথার খুলি থেকে। মিথি কানের দিকটায় চুল চেপে রেখেই আহাজারি করে কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতেই শুধাল,
“ আমি কিচ্ছু করিনি। আমার কনসিভ করার পেছনে আপনার ভূমিকা ও আছে আদ্র ভাই। আপনি, আপনিই তো যখন তখন নেশা করে আমার উপর নিজের পৈশাচিক আক্রমন চালাতেন আদ্র ভাই। ”
কথাগুলো বলা শেষ করতে দেরি হলো বোধহয়, তবে গালে চামড়া জ্বালানো একটা থাপ্পড় পড়তে দেরি হলো না। জুঁই এর গালটা জ্বলে উঠল। হাতটা এবার গিয়ে থামল গালে। শক্তপোক্ত হাতের চড় খেয়ে কি আচরণ করা উচিত তা যেন ভুলে বসল মিথি।কেবল হতবিহ্বল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল। সে দৃষ্টিকে একটুও পরোয়া না করে আদ্র আঙ্গুল উঁচিয়ে তখন শুধাল,
“ জাস্ট শাট আপ, তুই বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি আম্মু আব্বু সবাইকেই জানাব যে বাচ্চাটা আমার না। অন্য কারো। তখন ভালো হবে? তুই খুশি হবি? তোকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে মিথি। এখন তো তাও আশ্রয়টুকু ঝুটছে, তখন তাও জুটবে না।হয় এবরশন করাবি, নয়তো বের হয়ে যাবি বাড়ি থেকে। আমি তোর জন্য মুহুকে লাইফ থেকে হারাতে পারব না। কখনোই না। ”
মিথি মুহু নামটা আগেও শুনেছে। বহুবার আদ্র মুহুর নাম বলেছে। অথচ এই মুহুটা কে মিথি এখনও জানে না।তাই তো এবারও দ্রুতই জানার জন্য শুধাল,
“ মুহু কে? ”
উত্তর এল না। বরং আদ্র নিজেই আলমারি থেকে মিথির জামাকাপড় বের করে দিয়ে মিথির হাত চেপে ধরে শুধাল,
“ তৈরি হয়ে নে, আমরা হসপিটাল যাব। এক্ষুনিই যাব। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে। ”
মিথি এতোটা সময় কেঁদেছিল, ব্যাথায় কুঁকড়ে ছিল।কিন্তু এতোটা সময় পর তার হুশ এল যে আদ্র বলেছে মানে এই বাচ্চাটা আদ্র অবশ্য অবশ্যই এবরশন করাবে।আদ্র যা বলে তাই করে।ভীষণ রাগী আর জেদী আদ্র। কি করবে মিথি এবার? প্রথম মা-মা অনুভূতি তার। প্রথম সন্তান তার! এই আঠারো বছর বয়সে তার প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ! মিথি থমকাল। আদ্র আসলেই কি পিশাচ নয়? একটা ভ্রূণর প্রতি তার এত বিতৃষ্ণা? এত রাগ? এত জেদ? যে ঐ ভ্রুণটাকে শেষ করতে সে এক মুহুর্তও অপেক্ষা করতে চাইছে না? অথচ তারই অংশ! আদ্ররই অংশ, আদ্ররই সন্তান, আদ্ররই রক্ত। কোন বাবা তার সন্তানকে এভাবে অবহেলায় রেখে মেরে ফেলতে চায়? কই মিথির তো এমন অনুভূতি হলো না। মাত্র আঠারো বছর বয়স তার। কলেজের গন্ডি পার হতে না হতেই বিয়ে হয়েছে। তবুও তো যখন জানল সে কনসিভ করেছে তখনই খুশিতে উৎফুল্ল হলো।আদ্রর থেকে বয়সে অনেক কম হয়েও প্রথম সন্তানের অনুভূতি কেমন সে তা জানল, বুঝল, আবেগে কাঁদল। অথচ আদ্র বুঝল না? প্রথম বাবা হওয়ার অনুভূতি তাকে একটুও ছুঁতে পারল না? মিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিজের ভেতরের ভয় ধামাচাপা দিয়ে, এবার সাহস সঞ্চয় করল। ধীর কন্ঠে জানাল,
“ আমি এবরশন করাব না আদ্র ভাই। ও আমার সন্তান, প্রথম সন্তানুভূতি। কিছুতেই এবরশন করাব না আমি। হাত ছাড়ুন। ”
আদ্রর রাগ বোধহয় মাথায় উঠল। টগবগ করে উঠল যেন। রাগে দিশেহারা ষাঁড়ের মতো সে মিথির মুখ চেপে ধরল দুই হাতে। এতোটা শক্ত ভাবেই চেপে ধরল যে মিথি কুঁকড়ে উঠল। যেন মুখটা ভেঙ্গে ফেলবে।আদ্র ওভাবেই মুখ চেপে ধরে বলে উঠল,
“ টিপিক্যাল বাঙ্গালি মেয়েদের মতো কথা বলবি না মিথি।আমি তোকে বিয়ে করেই ভুল করেছি। কতবার বলেছি আম্মুকে এই ক্ষ্যাত, গেঁয়ো মেয়েকে আমি বিয়ে করব না। তবুও, তবুও আম্মু তোর সাথেই বিয়েটা দিল। আমার লাইফটা হ্যাল করে দিল জাস্ট। তৈরি হয়ে নে মিথি, ভালোই ভালো বলছি তৈরি হয়ে নে। মাথা খারাপ করাবি না।”
মিথি এবারে আকুতি করল। আদ্রর হাতটা জড়িয়ে ধরে অসহায়ের মতো করে কেঁদে উঠল। বলল,
“আমি এবরশন করাব না আদ্র।আমি সত্যিই এবরশন করাতে চাই না। ও থাকুক না, থাকুক না ও আদ্র ভাই। ও তো বৈধ। তবুও ওকে মানতে আপনার এত অসুবিধা কেন আদ্র ভাই? বলুন না। বাচ্চাটা, বাচ্চাটা আমি রাখব আদ্র ভাই। প্লিজ!”
এই পর্যায়ে মিথির গালে আরেকটা শক্তপোক্ত হাতের চড় পড়ল। এতোটাই শক্তোপোক্ত যে মিথির ঠোঁটের কোণটা কেঁটে রক্ত বের হয়ে এল সঙ্গে সঙ্গেই। চড়ের দরুন ছিটকে গিয়ে পড়ল বিছানার কোণটায়।আদ্র আবারও ফের এগিয়ে এসে ওর চুল টেনে ধরল। রাগে কাঁপতে কাঁপতে হিসহিসিয়ে বলে উঠল,
“ কবার বলব? কবার বলেছি আমি যে বাচ্চাটা আমি চাই না? আমার অনুমতি ছাড়া তুই কনসিভ করলি কেন? কেন? আমার অনুমতি ছাড়া তুই বাচ্চা নেওয়ার প্ল্যান করেছিস না? তোর প্ল্যান আমি দেখে নিব মিথি। ছাড় পাবি না, একটু ও ছাড় পাবি না তুই। ”
এটুকুু বলেই মিথিকে ছেড়ে দিয়ে যেতে যেতে বলল,
“আজ ছাড় দিচ্ছি, কাল যাবি। অবশ্যই যাবি। এবরশন করাবি ভালো মেয়ের মতো আবার বাসায় চলে আসবি। ব্যাস!এই কাহিনী এখানেই ক্লোজড করবি মিথি।এর অন্যথা হলে তোকে আমি এই বাসায় রাখব না। লা’থি মেরে বের করে দিব। ”
মিথি আবারও বলল,
“ সম্ভব না। আমি এবরশন করতে পারব না আদ্র ভাই।”
আদ্র রাগে বেহাল। হিংস্র চাহনিতে চাইল কেমন ঘাড় ঘুরিয়ে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ পারবি, তোর বাপও পারবে। ”
এটুকু হুংকার দিয়ে বলেই আদ্র বের হয়ে গেল। মিথি শুধু কাঁদল। আহাজারি করে কাঁদল। আর বিড়বিড় করল,
“কক্ষোনো না! কক্ষোনো না, কক্ষনো এবরশন করাব না আমি।”
ভার্সিটির হলটা আজকাল বিদ্ঘুটে লাগে মুহিবের। কোথাও যেন ভেতর থেকে তার দমবন্ধ লেগে আসে। মাঝেমাঝেই খুব করে ইচ্ছে করে গ্রামে ছুটে যেতে, তার ফুলের কাছে ছুটে যেতে, একটাবার ফুলকে দেখে আসতে, ফুলের পাগলামো গুলো অনুভব করতে। অথচ কতদিন হলো ফুল আর যোগাযোগ করেনি। মুহিবও আর বাড়ি ফিরেনি। কতগুলো দিন! মুহিব ঠোঁটে সিগারেট গুঁজল। বেশ আয়েশের সঙ্গে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে সে পকেট থেকে তার ফুলের পাঠানো শেষ চিঠিটা মেলে ধরল। মেয়েটার হাতের লেখা চমৎকার। সত্যিই চমৎকার। যখন চিঠি লিখে কি সুন্দর দেখায়। মুহিব চোখ বুলাল। গুঁটিগুঁটি অক্ষরে লেখা,
মুহিব ভাই,
না পেয়েও কি হারানোর যন্ত্রনার অনুভব করা যায় মুহিব ভাই? জানেন? আমি যাকেই এই জীবনে ভালোবেসেছি তাকেই হারিয়েছি কোন না কোন ভাবে। প্রথমে আব্বু, তারপর আম্মু, তারপর সম্ভবত আপনাকে…
আপনাকে তো আমি পাই-ইনি কখনো মুহিব ভাই। এত করে চাইলাম আপনাকে সৃষ্টিকর্তার কাছে, অথচ পেলাম না। আপনি জেনে খুশি হবেন যে,আপনি আর কখনোই আমার হবেন না। কখনোই না। মুহিব ভাই, আমার কষ্ট হচ্ছে, দমবন্ধ হয়ে কান্না পাচ্ছে তবুও আমাকে অন্য একজনের হতে হবে। আপনি ব্যাতীত অন্য একজনের সংসার করতে হবে। অথচ আমার কতশত পাগলামো ছিল শুধু আপনার সাথে সংসার করার জন্য। আপনি খুশি,খুব খুশি হবেন এই খবর পেয়ে আমি জানি। কিন্তু আমি, আমি কেন পারছি না খুশি হতে মুহিব ভাই? আপনি কেন কখনো আমায় ভালোবাসলেন না মুহিব ভাই? কেন?
আপনি জানেন?আপনি খুব নিষ্ঠুর। অনেক খানি। আপনার কখনো মনে হয়নি ছোট্ট মিথি এর মন বলতে কিছু আছে। আপনি কখনো মিথিকে এইটুকুও গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ঠিকই কষ্ট দিয়েছেন। বোকা মিথি ও অনুভূতি সামলে উঠতে না পেরে বারবার আপনার কাছে বেহায়া হয়েছে, কষ্ট পেয়েছে,অপেক্ষায় থেকেছে। আপনি ভালো থাকুন, খু্ব ভালো থাকুন মুহিব ভাই। আমি আপনাকে আর ভালোবাসব না, আর তাকাব না আপনার দিকে। আর কখনো আপনাকে আমি আমার করে চাইব না মুহিব ভাই। মিথির থেকে আপনি মুক্ত,সম্পূর্ণ মুক্ত। মিথি আর বেহায়ার মতো ঘুরফির করবে না আপনার আশপাশে, অপেক্ষায় থাকবে না।দোয়া করি, ভালো থাকুন।
ইতি,
মিথি
মুহিবের বোধহয় আবারও দমবন্ধ লাগল। আবারও, আবারও ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হলো। একটা মিথি! সেই ছোট্ট আদুরে মিথি! তার জীবনে একটা আস্ত ফুল ছিল যে কিনা ছোট থেকেই তার ভক্ত ছিল। ছোট থেকেই মুহিবের কথায় উঠত, বসত। অথচ বড় হওয়ার পর সেই ছোট্ট মিথির কি সাংঘাতিক পাগলামো, কি অসম্ভব দুর্বলতা। মুহিব পাত্তা দিল না। এইটুকুও পাত্তা দিল না সে মিথির অনুভূতিকে। বরং বারবার অবহেলা আর জ্ঞান দিয়ে বুঝিয়েছে ও ভুল পথে এগোচ্ছে। ওর অনুভূতি, অনুভূতি নয়। বরং আবেগ। অথচ আজকাল মুহিবের মনে হয় সে সেসময়টায় মিথিকে যদি গুরুত্ব দিত আজ বোধহয় তার মাঝেমাঝেই দমবন্ধ হয়ে আসত না। মিথি কি সত্যিই অন্যের হয়েছে? সত্যিই? তাকে ভুলতে পেরেছে? ভুলে গেছে? মুহিব ভেবে পায় না। তবে এইটুকু জানে, তার ফুল আর হয়তোবা তার ফুল নেই। সে হয়তো অন্যের হয়ে গিয়েছে। নয়তো এতগুলো দিনে একটা চিঠি আসত না? একটা সিঙ্গেল ম্যাসেজ আসত না তাকে জ্বালানোর জন্য? মিথি তো তার জন্য বেহায়া ছিল।পুরোপুরি বেহায়া। সে বেহায়া মিথি একটাবারও তার খোঁজ নিত না? মুহিবের সাহস হয় না কারোর থেকে এই বিষয়ে নিশ্চিত খবর জানতে। থাক না, অনিশ্চায়তা নিয়ে। নিশ্চিত হয়ে গেলে যদি দুঃখরা আরো ঝেঁকে বসে তার হৃদয়ে!
আদ্র বাসায় ফিরল প্রায় রাত এগারোটায়। বাসায় মিথি ব্যাতীত কেউ নেই। আদ্রর আম্মু, আব্বু, বোন এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছে আজ দুদিন হলো। আদ্র মাথায় হিসেব কষে। বাবা মা ফেরার আগেই মিথিকে নিয়ে গিয়ে এবরশন করাতে হবে। রিস্ক নিতে চায় না সে বাচ্চা নিয়ে। আদ্র বাসায় ফিরেই ফ্রেশ হলো। চোখে পড়ল মুখচোখ ফুলে যাওয়া মিথির দিকে। ঠোঁটের এককোণে কাঁটা দাগ। গালে পাঁচ আঙ্গুলের দাগগুলোও স্পষ্ট। কান্না করার ফলে বোধহয় চোখ ও ফুলে উঠেছে। আদ্র তীক্ষ্ণ চাহনিতে তাকায়। খাবার খেতে নিয়ে শক্ত গলায় বলল,
“ তুই কনসিভ করেছিস এই খবরটা যেন ভুলেও আম্মু আব্বুর কানে না পৌঁছায় মিথি। ভুলেও যেন না। মনে থাকবে? ”
কথাটা মিথিকে শাসাতে বললেও মিথি যেন কথাটা শুনে নতুন কিছুই খুঁজে পেল। সন্ধ্যা থেকে, সন্ধ্যা থেকেই সে ভেবে গিয়েছে কিভাবে বাঁচবে সে? কিভাবে তার সদ্য মাতৃত্বের অনুভূতি দেওয়া বাচ্চাটাকে বাঁচাবে? কিন্তু এতক্ষনে মনে হলে আদ্রর আম্মু, অর্থাৎ তার ফুফি এই খরবটা পেয়ে আদ্রর মতো অখুশি হবেন না। তাকে নিশ্চয় সাহায্য করবে এই বিষয়ে ফুফি? সে তো তার কাছ থেকেই সাহায্য নিতে পারে। এমনটা ভেবেই রাতে আদ্র ঘুমিয়ে যাওয়ার পরই ভয়ে ভয়ে সে আদ্রর ফোনটা নিল। কাঁপা হাতে ফুপির নাম্বারটা খুঁজে নিয়েই কল লাগাল। অথচ কেউ তুলল না এতরাতে। মিথি আবারও কল দিলল। ঘুমঘুম স্বরে কেউ ওপাশ থেকে কথা বলতেই মিথি কাঁপা গলায় বলতে লাগল,
“ ফু্ ফুপি…”
বাকিটা বলতে পারল না মিথি। তার আগেই পুরুষালি অবয়ব এসে দাঁড়িয়েছি তারই পেছনে। মিথি হতবিহ্বল দৃষ্টিতে পিছন ঘুরে চাইতে চাইতেই ফোনটা তার হাত থেকে ফ্লোরে পড়ে গেল।
