বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ২৬
ইসরাত জাহান দ্যুতি
নাকখু | ললিতপুর | কাঠমান্ডু
পাহাড়ঘেরা আভিজাত্যমণ্ডিত মেডিসিটি হসপিটালের দোতলার এক নির্জন কেবিনে ভোরের নরম রোদেলা আলো এসে পড়েছে। ঘড়িতে সকাল আটটা। সাত দিন আগের সেই বিপদ মুহূর্তগুলোর পর আজ এক স্নিগ্ধ সকাল।
কেবিনের ভেতরটা শান্ত। তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবটা কাটতেই মারিশা কপালে এক পরিচিত শীতল স্পর্শ টের পেল। জ্ঞান ফেরার পর সে প্রথম দেখেছিল আশফিকে। কথা বলার শক্তি ছিল না তখন, শুধু মনে হচ্ছিল কত কাল পরে মানুষটাকে দেখছে! কিন্তু আশফির অগোছালো চুল, না কামানো দাড়ি, চোখের নিচের গাঢ় কালি, ফ্যাকাসে শুকনো মুখ, চেহারায় রাতজাগা ক্লান্তি আর কেমন একটা দুশ্চিন্তা, কাতরতা দেখে ওর মনটা মুহূর্তেই উতলা হয়ে উঠেছিল।
মারিশার চোখের সেই ব্যাকুলতা বোধহয় আশফি মুহূর্তেই পড়ে ফেলেছিল। ভীষণ আদুরে কোমল গলায় ও বলে উঠেছিল, “আমি একদম ঠিক আছি, সোনা। আমাকে নিয়ে ভেবো না একটুও।”
আশফি কেন এমন বলেছিল, সেদিন মারিশা বুঝতে পারেনি। সাত দিন আগের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কোনো স্মৃতিই তখন ওর মস্তিষ্কে ছিল না। কিন্তু আশফির কণ্ঠের সেই আশ্বাসে এক অদ্ভুত শান্তি পেয়েছিল সে। তারপর দ্বিতীয়বারের মতো চোখ খুলে দেখতে পেয়েছিল ভাইকে। জানতে পেরেছিল, আজ পাঁচদিন যাবৎ সে কাঠমান্ডুতে উপস্থিত।
আসলে কী হয়েছিল ওর, এই প্রশ্নে মিরান শুধু ওর কাঁধ আর পায়ের ক্ষতের কথা জানায়। জঙ্গলের সেই হাড়হিম করা বিপদের কথা সুকৌশলে এড়িয়ে যায়। তবে সেসব সত্য আড়াল থাকলেও তার পূর্বের ঘটনাগুলো বেশিক্ষণ আড়ালে থাকল না। কিছুক্ষণ পর কেবিনে যখন আশফি, দিব্য আর হৃদয়ের পেছন পেছন দিলিশাও প্রবেশ করল, অমনিই মারিশার স্মৃতিতে সব ওলটপালট হয়ে গেল। দিলিশাকে দেখা মাত্রই ওর মস্তিষ্কে প্রথম সংকেত এল, এই মেয়েটার সঙ্গে ওর বড়ো কোনো সংঘাত হয়েছিল। সেই সঙ্গে স্মৃতিতে ফিরে এল আশফির প্রতি জমে থাকা তীব্র উষ্মা আর অভিমানও। ভ্রু কুঁচকে ওদেরকে দেখতে দেখতেই ঝাপসা স্মৃতিগুলো একে একে স্বচ্ছ হয়ে ধরা দিতে শুরু করল ওর কাছে। আর তারপরই আশফির সঙ্গে নীরব এক যুদ্ধ শুরু হয় ওর। শ্বাসনালীতে অক্সিজেনের টিউব থাকায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়েছিল ওর, শরীরের হরমোন ব্যালেন্স ঠিক ছিল না তখনো। তবু সে চোখ-মুখের অদ্ভুত প্রতিক্রিয়ায় বারবার বলছিল ভাইকে, “তোমার মামার ছেলেকে এক্ষুনি বের হতে বলো এখান থেকে।”
দিলিশার দিকেও কয়েক নজর ঘৃণা নিয়ে তাকিয়েছিল সে। যে চাউনি দেখেই আশফি ঠিক বুঝতে পেরেছিল, ওদের দুজনকেই একদম সহ্য করতে পারছে না। তাই ওই রাতে আর কেবিনে থাকেনি সে। থেকেছিল মিরান।
স্নেহ আর মমতায় বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মিরান। চোখ খোলার পর তাকে দেখেই খুব ক্ষীণ স্বরে মাতৃভাষায় ডাকল মারিশা, “আবি…”
উত্তর নিল মিরান, “হুঁ? জেগে গেছিস?”
মারিশা উত্তর দেওয়ার আগেই মিরান আলতো স্বরে বলল আবার, “শরীরটা এখন কেমন লাগছে রে? ব্যথা আছে কোথাও?”
খুব ধীরে মাথা নাড়ল মারিশা। গলার স্বর এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। অস্ফুট স্বরে বলল, “না, ব্যথা নেই। শুধু খুব ক্লান্তি লাগছে।”
তারপরই জিজ্ঞেস করল, “ওরা… ওরা কি আছে এখনো?”
‘ওরা’ বলতে মারিশা কাদের বোঝাচ্ছে তা বুঝতে পারল মিরান। বলল, “তুই রিস্কের বাইরে শোনার পরই পরাগ আর সৌভিক ফিরে গেছে বাংলাদেশ। ওদের পাঁচজনের রিসোর্টের বিজনেস আছে তো। কী যেন প্রবলেম হয়েছে, তাই আশফি ওদেরকে পাঠিয়ে দিয়েছে। আছে দিব্য, হৃদয়, দিলিশা। আর আশফি… ও তো কাল রাতে তুই ওকে বের করে দেওয়ার পরও সারা রাত করিডোরের ওই শক্ত বেঞ্চেই বসে ছিল। ঠেলেও হোটেলে পাঠাতে পারিনি। ভোর হলে এই অজুহাতে পাঠিয়েছি, হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে তারপর আবার আয়। এতক্ষণে ফেরার সময়ও হয়ে গেছে। দেখিস হাজির হয়ে যাবে একটু পরই।”
ক্ষুব্ধতা থেকে কপাল কুঁচকে ফেলল মারিশা, “কে থাকতে বলছে তাকে? দিলিশাকে নিয়ে বিদায় হয় না কেন? আবি, তুমি ওকে আমি একদম অ্যালাওড করবে না।”
কঠিন অভিমানটা বুঝিয়ে দিল মারিশা, “ওকে ওর মতো মুভ অন করতে দাও। সেটা দিলিশার সঙ্গে হোক আর যার সঙ্গেই হোক। আমিও আমার পুরনো লাইফে ব্যাক করব।”
মিরান একটু বিভ্রান্ত হলো, “পুরনো লাইফ মানে… ইংল্যান্ড ব্যাক করতে চাচ্ছিস? না-কি বিজনেসে?”
ছোটো করে একটা শ্বাস ফেলল মারিশা। ভাঙা ভাঙা স্বরে বলল তারপর, “আপাতত বিজনেসের ধারেকাছেও আর যেতে চাচ্ছি না। এমএসসিটা কমপ্লিট করব।”
বোনের দিকে চেয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল মিরান। তারপর বলল নরম গলায়, “এত রাগ করতে নেই, আপু। আশফির কাছে তোকে ফিরতে দেওয়া হয়েছে অনেক কিছু ভেবেচিন্তেই। একা একা তোকে তো আর ছাড়ছি না আমি। এই পৃথিবীতে আমি আর বাবা ছাড়াও সারাটা জীবন তোকে আমাদের থেকেও বেশি যে প্রোটেক্ট করতে পারবে, তোকে খেয়াল রাখবে সব সময় — সে একমাত্র আশফিই। সেটা তোকে বিশ্বাস করতে হবে। আর আশফির রাগ–ক্ষোভ, অভিমান সবই কিন্তু জায়েজ। অথচ এখনো ওকে ধোঁয়াশাতেই রেখেছি আমরা। যা আগামীতেও কখনো প্রকাশ করতে পারব না। কারণ, প্রচণ্ড অন্যায় হয়েছে ওর সঙ্গে। সেটা একবার ভেবে দেখছিস না? কোনোদিন সেসব জানলে চার বছর ধরে যতটা না কষ্ট পেয়েছে, তার চেয়েও বেশি ভেঙে যাবে ও। ওর জায়গায় তুই হলে ওর মুখটাও কিন্তু দেখতি না।”
কথাগুলো শুনতে শুনতে মারিশার কঠিন চোয়াল জড়ো ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে এল। সেই সাথে চোখদুটো ভিজে উঠল। সেখানে ফুটে উঠল অফুরান এক অপরাধবোধ আর লজ্জা।
কেবিনের মধ্যে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা কাটল তারপর। মিরানের চোখেও অপরাধবোধ ফুটে উঠেছে। নিজের নির্বুদ্ধিতা, আর বাবার প্রতি কঠিন আক্রোশের কারণে ওর এই ছোট্ট বোনটাকে একা কত কিছু সহ্য করতে হয়েছে! এই লজ্জা আর অনুতাপ কোনোদিনও মুছবে না ওর মন থেকে।
মৌনতা ভাঙল মারিশা। ফ্যাসফেসে গলায় বলল, “এজন্যই ওর সামনে আমার আর দাঁড়ানো উচিত হয়নি, আবি। আমি ওকে একদমই ডিজার্ভ করি না। আর ও দেশে ফিরে দিলিশার সাথে এঙ্গেজড হবে। তাহলে কেন ওকে এসবের মধ্যে টেনে রাখতে চাইছ?”
ঠিক কী কী কারণে মারিশা আশফির থেকে এত বেশি কষ্ট পেয়েছে, তা মিরান জানতে চাইল না। ওর মাথাতে আবার হাত বুলাতে লাগল সে আর বলে চলল, “তোর প্রতি যার আমাদের থেকেও জোর-দাবি বেশি, তাকে টেনে রাখার প্রয়োজন নেই। আজ অবধি জীবন ঝুঁকি নিয়ে ও অনেক মানুষকেই বাঁচিয়েছে, অনেক বিপর্যস্ত বন্ধুদের পাশেও দাঁড়িয়েছে। তাই তোকে প্রাণে বাঁচাতে গিয়ে ওর প্রাণ ঝুঁকিতে ফেলার ব্যাপারে কিছু বলব না। আমি বলব তোকে নিয়ে ও ঠিক কতটা ডেস্পারেট ছিল, সেটা নিয়ে। চব্বিশ ঘণ্টা পার করে হলেও ওইদিন যদি তোকে ও দ্রুত এখানে শিফট না করত, তাহলে তোকে আর ফিরে পেতাম না হয়তো। একটা কথা ভাব, মাত্র চার মাসের একটা সম্পর্ক ছিল তোদের। আর বিচ্ছেদটা চার বছরের। চার মাসের মাঝে ও গোটা মারিশাকে এত নিখুঁতভাবে জেনে নিয়েছিল যে, তোর ব্যাপারে সামান্যতম একটা তথ্যও ওর অজানা ছিল না। অত্যধিক ব্লিডিঙে তোর কী হাল হতে পারে, তা এত বেশি ঠিক ঠিক আন্দাজ ও কী করে করল বল তো?”
মারিশা নিশ্চুপ রইল। মিরান তাই নিজেই জবাব দিল, “ওর সঙ্গে তোর প্রথম দেখা হলো যেদিন, সেদিন তুই মারাত্মক চোট পেয়েছিলি, মনে আছে? হয়তো নেই। লেক ডিস্ট্রিক্ট থেকে তোকে রেস্কিউ করেছিল ও। তারপর তোর অতিরিক্ত ব্লিডিং দেখে ওই দুর্গম ট্রেইল বেয়ে তোকে কোলে নিয়ে নেমে এসে হসপিটাল অ্যাডমিট করেছিল যখন, তখনই জানতে পেরেছিল আরও বেশি দেরি হলো তোকে এই যে আজকের মতোই বিপদটা ফেইস করতে হত। এখন ভাব তো, ভালোবাসার কমতি থাকলে কি এত কিছু খেয়াল থাকত ওর? একবার নয়, দ্বিতীয়বারের মতো তোকে প্রোটেক্ট করেছে ও। এরপরও কী করে আমি তোর দায়িত্ব ওকে না দিয়ে থাকব?”
অভিমান, অভিযোগে বুজে আসা গলায় বলল মারিশা, “তুমি দিলেই হবে? আমার দায়িত্ব আমি তাকে দেব না। এতই যদি ভালোবাসা থাকে তবে দিলিশার সঙ্গে কেন রাতে…”
কথাটা শেষ করতে পারল না। ভাইয়ের সামনে অমন কথা মুখে আনা সম্ভবও নয়। আর তাছাড়া তখনই কেবিনে ঢুকে পড়েছে আশফি। তাই আর মিরানও কিছু জিজ্ঞাসা করল না মারিশাকে। শুধু বোনের চোখেমুখের অভিব্যক্তিগুলো পড়ে নিল। আশফিকে দেখা মাত্রই মুখটা আবার থমথমে করে ফেলেছে পাগলটা।
গতকালের চেয়ে আজ অনেকটাই ফ্রেশ লাগছে আশফিকে। দাড়ি কামিয়ে আসলেও গোসল শেষে ভেজা চুলটা শুকিয়ে নেওয়া অবধিও দেরি করেনি।
মারিশার চোখে চোখ পড়ল ওর। কিন্তু এমনভাবে চোখ ফিরিয়ে নিল মারিশা, যেন আশফি কে তা চেনেই না সে। তবে কোনো ভাবান্তর দেখাল না ওর মাঝে। হাতে মিরানের জন্য নাশতার পার্সেল। এগিয়ে এসে তা ওকে দিতে দিতে বলল, “ক্যাফেটেরিয়াতে বসে খেয়ে আয়, যা। আমি আছি।”
চকিতে মুখটা ওর দিকে ফেরাল মারিশা। মিরান জবাব দেওয়ার আগেই সে বলে উঠল, “তুমি কেন থাকবে? তোমার কী কাজ? কেন এসেছ তুমি?”
নির্বিকারভাবে সোফাতে বসল আশফি। কথাগুলো শুনলেও না শোনার মতো ভান ধরে মিরানকে ডাকল, “কিরে? তুই যা, খেয়ে আয়। তারপর রুমে ব্যাক করবি। ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দিয়ে তারপর আবার আসিস।”
“আরে…” চটে গেল মারিশা। গলায় জোর নেই, তবু সে মেজাজের সুরে বলল, “আমার কথা শুনতে পাচ্ছ না তুমি? আমি কি তোমাকে আমার কাছে থাকার পারমিশন দিয়েছি?”
ঠোঁট চেপে হাসিটা সামলে নিল মিরান। তাকাল এবার আশফির দিকে। আশফি তার সেই চাপা হাসি দেখে একটু বেশিই অপমানিত বোধ করল। চেহারাতেও অপ্রস্তুত অভিব্যক্তিটা ফুটে উঠল ওর। যদিও ওদের দুজনের মাঝে সম্পর্কটা ভাই কম বন্ধু বেশি। কিন্তু ভাই হোক আর সম্বন্ধী হোক, তার সামনে বউয়ের কাছে অপমান হওয়াটা বেশ লজ্জারই। প্রলম্বিত শ্বাসটা ফেলে তাই একটা চাঁচাছোলা জবাব দিতে বাধ্য হলো আশফি, “ওসমান বারিশের মেয়েই যেখানে আমার নামে লেখা, সেখানে তার কাছে থাকতে কার পারমিশন লাগবে আমার?”
“কত বড়ো বেয়াদব দ্যাখ”‚ সঙ্গে সঙ্গে মারিশা বিচার দিল ভাইকে, “বাবাকে এমন ওসমান বারিশ ওসমান বারিশ করে ডাকে। আরও খারাপ কথা বলে, জানিস? ওসমান বারিশের মুখোমুখি তো কোনোদিন হয়নি। যেদিন হবে, সেদিন ও তো বুঝবেই ওর বাপ আর দাদাও বুঝবে ওসমান বারিশ সুলতান কী জিনিস!”
তাচ্ছিল্য আর বিদ্রূপে ঠোঁট বাঁকিয়ে ফেলল আশফি। সোফাতে গা এলিয়ে বসে তারপর জবাব দিল, “যেদিন সেদিন খুব বেশিদিন না। ওসমান বারিশের ছিটিয়াল মেয়েটাকে নিয়ে শুধু একবার বাড়ি ফিরি। তারপর মাহবুব চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই যাব আমার শ্বশুর বাড়ি। আমার ফুপুর জীবনটাকে শেষ করে ছাড় পেয়েছে বলে আমার কাছ থেকেও ছাড় পাবে, তা ভাববেন না কেউ। ফিরে যখন এসেছেনই, তখন আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের সমস্ত হিসাব আমি কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব।”
কথাটার পরই মারিশা এক মুহূর্তের জন্য চুপ করে গেল। মিরানের চোখ-মুখের ভঙ্গিমাও একটু বদলাল। ক্ষণিকের জন্য যেন দু ভাই-বোনই চিন্তায় পড়ে গেল। মিরান জিজ্ঞেসই করে ফেলল, “তুই সত্যিই যাবি ইস্তাম্বুল?”
“তো আমি কি ফাঁকা বুলি ছাড়ি?” জলদগম্ভীর স্বরে বলল আশফি, “আমাকে জবাবদিহি করতে হবে না তোর বাপকে? আমার বউ নিয়ে এত অন্যায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে সে? যে যে জড়িত সেই সবাইকেই আমি ছেঁকে ধরব, মিরান। নো ওয়ান উইল বি স্পেয়ারড। ইভেন তুইও না।”
“আমি এখন আর কারও বউ টউ নই”, জেদি সুরে আশফিকে বলল মারিশা, “সেখানে তোমার বাড়িতে ফেরার কথা আসছে কেন? সুস্থ হওয়ার পর আমার মতো এখানে কিছুদিন ঘুরেফিরে তারপর আমার বাড়ি আমি ফিরব। আর দেশে ফিরে দিলিশার সঙ্গে তোমার এঙ্গেজমেন্ট হওয়ার কথা। তাহলে আবার আমাকে তোমার বাড়িতে নেওয়ার কথা ভাবো কেন? আর ভাবলেইবা কী করে, আমিও ফিরব?”
এরপরই কেবিনে নার্স প্রবেশ করলেন। হাতে তার ফুড ট্রলি। মারিশার নাশতা নিয়ে এসেছেন। তা দেখে আশফি উঠে এসে ট্রলিটা তার থেকে নিয়ে নিল। নার্সকে বিদায় করে মিরানকেও বলল, “তুই আর পাগলের বকবক না শুনে যা তো। আর ক্যাফেটেরিয়াতে না গিয়ে সরাসরি হোটেল ব্যাক কর।”
“না”, একটু গম্ভীর মুখ করে বলল মিরান, “এখান থেকেই করে নিচ্ছি। ওকে ব্রেকফাস্ট করিয়ে তুই বাইরে আয়। কিছু কথা আছে তোর সাথে।”
ভারি বিরক্ত হয়ে বলল আশফি, “ঠিক আছে… এখন যা তো। বউয়ের সঙ্গে একটু স্পেস দে এবার। কিছুই তো বুঝিস না।”
বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ২৫
ক্ষীণ স্বরেই মারিশা তখনই চেঁচানোর চেষ্টা করল, “এই, কিসের স্পেস? তুমি নিজেও বিদায় হও। হোটেল ফিরে তোমার দিলিশার কাছে যাও। ওকে গিয়ে স্পেশাল ব্রেকফাস্ট করাও। আমি তো তোমার কাছে খাব না।”
