বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৭
ইসরাত জাহান দ্যুতি
ফোনটা বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলল আশফি। মুখটা অসম্ভব কঠিন হয়ে উঠেছে ওর। মারিশার দিকে আর ফিরে চাইলো না। স্থির মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে কতক্ষণ চুপ করে রইল সে৷ ওর নীরবতায় মারিশাকে খুব অস্বস্তির মাঝে ফেলল। জড়তা নিয়ে কয়েক মুহূর্ত ওর দিকে চেয়ে থাকার পর হঠাৎ মৃদুস্বরে ডেকে উঠল‚ “আশফি…”
কথা বলতে দিল না তাকে আশফি। ধীর স্বরে বলল তার আগেই‚ “তোমার বয়সটা আর বিশে আটকে নেই‚ মাহি। আগের মতো বাচ্চামি‚ চঞ্চলতা‚ হঠকারী কাজ তোমার সঙ্গে আর যায় না। বড়ো হয়েছ। তোমার বাবার অনেক দায়িত্বসম্পন্ন একজন মেয়ে তুমি এখন। একজন বিজনেস উইমেন তুমি। এরকম একজন মানুষের থেকে পাগলামি বা বাচ্চামিটা আমি আর আগের মতো এনজয় করছি না। বিরক্ত হচ্ছি… স্ট্রেস ফিল করছি৷ কারণ‚ না চাইলেও ফুপু আর মিরানের জন্য তোমার প্রতি আমার লক্ষ রাখতে হচ্ছে। অথচ তুমি এখন আমার কাছে সম্পূর্ণ অযাচিত।”
একটু থামল এরপর৷ তাকাল মাহির দিকে। এবার তার চোখে চোখ রেখে সে প্রশ্ন রাখল‚ “দিশানকে কেন ব্যবহার করছ তুমি? দিশান কি আমার তোমার সম্পর্কের সিঁড়ি ছিল? তাহলে এখন কেন আমার কাছে পৌঁছানোর জন্য ওকে সিঁড়ির মতো ব্যবহার করছ? তোমার কি মনে হচ্ছে না‚ তুমি গত দুদিন এবং এই ঘটনা দ্বারা নিজের শ্যালো পার্সোনালিটি প্রকাশ করছ?”
ম্লান হয়ে গেল মারিশার মুখটা। বিষণ্ন স্বরে বলল‚ “নিজের মানুষের কাছে ফিরে আসার জন্য কাউকে সিঁড়ির মতো ব্যবহার করলে‚ নিজের মানুষকে বারবার সিডিউস করলে যদি আমার পার্সোনালিটি হালকা হয়ে যায়‚ আমার তাতে আপত্তি নেই‚ আশফি।”
“তাহলে তো আর কিছু বলারই নেই”‚ তাচ্ছিল্য ভরে হাসল আশফি।
সেই হাসি মুছে মারিশাকে গভীরভাবে দেখতে দেখতে বলল সে‚ “তুমি আরও সুন্দর হয়েছ‚ মাহি। ভীষণ যত্নে রেখেছিল তোমাকে‚ বোঝা যায়। কিন্তু আমার তা নিয়ে বিন্দু পরিমাণ আক্ষেপ নেই৷ কারণটা তুমি বুঝতে পারো? মনে হয় বোঝে। তাও বলি৷ তুমি আর এখন আমার জীবনে গুরুত্ব বহন করো না। তুমি পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর নারীটা হলেও আমি আর তোমাকে চাইব না। কারণ‚ আমি পেছনে ফেলে আসা সময় আর মানুষগুলোকে আমার বর্তমানে টানতে চাই না। আমার বর্তমান ভীষণ সুন্দর৷ তাছাড়া আমি আমার জীবনে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি। তাই তুমি যে প্রত্যাশা নিয়ে তুমি ফিরে এসেছ‚ সেটা আমি পূর্ণ করতে পারব না। আর আমার মতে এটুকু বাস্তববোধ তোমারও থাকা উচিত। আমি তোমাকে ছাড়া ভালো আছি। এই ভালো থাকাটা নষ্ট না করে বরং আমার ভালো থাকাতে খুশি হও৷ যেমনটা আমি খুশি তুমি ভালো ছিলে দেখে। আমি এখনো বিয়ে করিনি দেখে তুমি যদি ভাবো‚ তোমাকে নিয়ে ভাবার আগ্রহ আমি পাবো এখনো‚ এটা খুব বোকামি ভাবনা হবে‚ মাহি৷ আর তুমি কঠিন জেদি‚ অস্বাভাবিক রাগী আর চঞ্চল হতে পারো৷ কিন্তু বোকা নও বলেই বিশ্বাস করি।”
এত ভারী ভারী কথাগুলো মস্ত একেক পাথরের মতো বুকের ওপর এসে চাপল যেন মারিশার৷ কথাগুলোর পেছনে আশফির দীর্ঘদিনের রাগ‚ ক্ষোভ আর অভিমানের সাথে তার প্রতি স্পষ্ট অনাগ্রহও উপলব্ধি করল সে৷ এতেই বোঝা যায়‚ সত্যিই আশফি এগিয়ে গেছে তাকে ছাড়াই। আর সে যে বোকার মতোই অতীত সম্পর্কের সময়গুলোতে আটকে আছে দীর্ঘ চারটা বছর ধরে। অবশ্য আটকেই তো ছিল একরকম।
“তোমার কিছু বলার নেই?” নিশ্চুপতা দেখে জিজ্ঞেস করে উঠল আশফি।
“চার বছরে না ফেরার ব্যাপারে তোমার কোনো প্রশ্ন নেই আমার কাছে?” ভগ্নস্বরে পালটা প্রশ্ন করল মারিশা।
আশফি হাসল একটু‚ “আমি যা বোঝালাম‚ তা তুমি বোঝোনি তাহলে? যে আমার জীবনে প্রায়োরিটি লিস্টেই আর নেই‚ কোনো গুরুত্ব নেই যার থাকা বা না থাকায়। সে চার বছরে কেন ফিরল না‚ তা নিয়ে আমার প্রশ্ন কি আর থাকার কথা? কখনোই যে ছিল না‚ তা না৷ দু বছর আগে তার জবাব তুমি দিয়ে দিয়েছ নানাভাবে। তা বোধ হয় ভুলে গেছ?”
জলে সিক্ত মারিশার রক্তিম চোখদুটোতে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল আশফি৷ সে কখনো চায়নি মারিশা কোনোদিন সামনে এলে এভাবে তাকে আঘাত করতে৷ আজও করত না। যদি না অনাহূত হয়ে এভাবে ওর পিছে পড়ত সে। কিন্তু আর কত রূঢ়ভাষী হওয়া যায়? তাও একজন মেয়ের প্রতি!
কোমল স্বরে বলল সে‚ “আমি তোমাকে হার্ট করতে চাইনি‚ মাহি৷ গত দুদিনে যে আচরণ দিয়ে ফেলেছি‚ তার রিজন ছিল তুমি যেন আমার পিছু ছাড়ো। হয়তো অতীতের পাওয়া কষ্টটা আজও মনের কোথাও জীবিত ছিল৷ সেই থেকেই বেশি রুড হয়েছিলাম কিনা জানি না। কিন্তু আমার সেটা ভুল হয়েছে৷ আই’ম সরি। বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল৷ এ কথাগুলো বলার জন্যই এসেছিলাম। দিশানের সাথে আর কোনো যোগাযোগ কোরো না প্লিজ৷ ও তো পাগল স্বভাবের৷ তা তো জানোই৷ আমি তোমাকে শেষবারের মতো বলছি‚ আমাকে নিয়ে আর কোনো প্রত্যাশা রেখো না। নিজেই দুঃখ পাবে তাতে৷ যদি চাও তো‚ আমি তোমাকে ইস্তাম্বুলের ফ্লাইটে তুলে দিই কাল?”
কান্নাটুকু গিলে নিয়ে কাষ্ঠহাসিতে বলল মাহি‚ “তুমি বলেছ‚ এই অনেক৷ তুমি যে গ্রেসিয়াস অ্যান্ড জেন্টল ট্রিটমেন্ট দিচ্ছ আমাকে‚ হোটেলের সে রাতেও তুমি যে সেবাটুকু দিয়েছিলে আমার অসভ্যতার পরও‚ আই ডোন্ট ডিজার্ভ ইট। তুমি বলেই পারছ। থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ‚ আশফি। আমি আমার খেয়াল রাখতে পারব৷ একাই তো এসেছি৷ আর একা জার্নির অভ্যাস তো আমার নতুন নয়।”
স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে আশফি মাথা দুলাল। “থ্যাঙ্কস তোমাকেও‚ আমাকে বোঝার জন্য৷ তবে তোমার ফিরে যাওয়াটা আগামীকাল কনফার্ম না করা অবধি আমি চিন্তামুক্ত হতে পারব না।”
“বললাম তো‚ আমি আমার খেয়াল রাখতে পারব। আমাকে নিয়ে তুমি আর চাপ নিয়ো না প্লিজ। অনেক রাত হলো‚ যাও ঘুমিয়ে পড়ো।”
“হুঁ‚ তুমি খেয়ে নাও। আসছি তবে।”
দু পা বাড়িয়েও আবার হঠাৎ থামল আশফি‚ “ও হ্যাঁ‚ ককটেলটা দিতে পারছি না বলে সরি। তুমি যতই বলো তোমার নেশা হয় না‚ সেটা পুরোপুরি সত্য না। তুমি শুরুতে জ্ঞানে থাকলেও তারপর একদম ঘেঁটে যাও। আর ওই সময়টাই যা করো‚ তার আর কিছু মনে থাকে না তোমার। বাট সকালে তো মনে পড়ার কথা৷ তাহলে ভুলে গেছ বলেছিলে কেন?”
শেষ প্রশ্নের জবাবটা কয়েক মুহূর্ত আগে হলে দিত মারিশা। কিন্তু তার চার বছরের জীবনে যে গল্পটা ছিল তা শুনতেই আগ্রহী না যে‚ তাকে আর নিজের অভিশপ্ত অসুখের কথা কী করে বলবে! বলার আর প্রয়োজনই নেই।
মারিশার গম্ভীর নীরবতা দেখে আশফি দ্বিতীয়বার আর জানতে চাইলো না। চোখে হেসে শুভ রাত্রি বলে বিদায় নিল সে।
দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে মারিশা দুর্বল পায়ে হেঁটে এসে বিছানার কোণে বসল। একবার আশফির জায়গায় নিজেকে ভাবার চেষ্টা করল ও। সে যেভাবে একটা সম্পর্ককে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি করে‚ স্রেফ বাবার ডাকে ওই মানুষটাকে ফেলে চলে গিয়েছিল‚ এই একই কাজ যদি আশফি করত‚ তবে সে কি এতটা দায়িত্বশীল‚ যত্নশীল হতে পারত আশফির প্রতি? ও জানে‚ গতকাল সকালেই ওর খোঁজ নিতে আসবে মানুষটা। ও যতই না না করুক‚ ওকে নিজে উপস্থিত থেকে ফ্লাইটে তুলে না দেওয়া অবধি ছাড়বেই না৷ কিন্তু ও যে এখনই ঘরে ফিরতে চায় না৷ ফিরলেই দমবন্ধ হয়ে মারা পড়বে৷ নিজের দুঃসহ সময়ের স্মৃতি‚ বাবার অসহায় সময়ের স্মৃতি ওকে তাড়া করবে আর বলবে‚ “তোমাকে ছেলের মতো করে গড়েছিল যে‚ তোমার প্রতিই যার সমস্ত ভরসা ছিল‚ যার একমাত্র অবলম্বন ছিলে তুমি‚ তাকে তুমি রক্ষা করতে পারোনি‚ মারিশা…!”
ফোনটা হাতে নিয়ে বাবার সঙ্গে তোলা শেষ সুখী ছবিটা বের করল সে। ছবিটা তুরস্কের তর্টালু পর্বতের চূড়াতে দাঁড়িয়ে তোলা৷ সেবার পাহাড়ে ওরা এক সঙ্গে আরোহন করেছিল দুজন৷ বাবা খুব খুশি ছিলেন সেদিন। পাহাড়ে চড়ার নেশা তো বাবার থেকেই পেয়েছিল সে।
রাত প্রায় দুটোর ঘরে৷ বরাবরের মতোই আলাদা ঘর বুকিং করতে হয়েছে আশফিকে। দিব্যদের সঙ্গে সারাদিন কাটানো গেলেও রাতে কখনো ঘুমানো সম্ভব নয় ওর পক্ষে৷ কারণ এত বড়ো হয়েও হৃদয় আর দিব্যর নানান ছেলেমানুষি চলে সারা রাত। একবার ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে ওরা সবাই এক তাবুর নিচে ঘুমিয়েছিল। সেদিন হঠাৎ ঘুমের মাঝে সৌভিক শরীরের ওপর ভার অনুভব করে ঘুম ভেঙে যায় ওর৷ ঘুম ভাঙতেই একটা কালো নেকড়েকে বুকের ওপর হাত-পা তুলে বসে থাকতে দেখে সে। তারপরই গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কালেমা পড়তে শুরু করে৷ সেই চিৎকারে সবাই চমকে উঠে দেখে‚ হৃদয় সৌভিকের বুকের ওপর চড়ে বসে হা হা করে হাসছে। মুখে ওর নেকড়ের মুখোশটা। সেদিন সৌভিক বেচারা ভয়ে মরতে মরতে বেঁচে ফিরেছিল। এমন উদ্ভট উদ্ভট দুষ্টুমি দিব্যও কম করে না। এ কারণেই আশফি কখনোই এক ঘরে রাত কাটায় না ওদের সাথে।
কিন্তু একা ঘরে শুয়েও ঘুমটা আজ ধরা দিতে চাইলো না ওর৷ দেবেই বা কীভবে? দেয়ালের ওপাশে থাকা নারীটার কাছে বারবার ছুটে যাচ্ছে অস্থির মনটা। যার সঙ্গে কখনো দৈহিক অন্তরঙ্গতা না ঘটলেও গভীর এক মনের সংযোগ হয়ে গিয়েছিল একটা সময়। খু্ব সহজেই সেই নারীর ভেতর‚ বাহির‚ সবটাই খোলা বইয়ের মতো পড়তে পারত সে৷ অদ্ভুতভাবে আজ এতগুলো দিন পরও সে বুঝতে পারছিল ওর প্রতিটি চাউনিকে‚ পড়তে পারছিল ওর অন্তরকে৷ অনেক কিছুই বলতে চেয়েছিল তাকে মেয়েটা৷ কিন্তু যখন সে চাতক পাখির মতো অপেক্ষাতে ছিল ওর একটা বাক্য শোনার জন্য‚ তখন মেয়েটাকে দেখেছিল সে অন্য কারও আপন হয়ে যেতে। এরপর আর কী শোনার থাকতে পারে? যদি থাকেও‚ এ তো মিথ্যা হয়ে যাবে না‚ ওই মেয়েটা আজ আর কেউ নয় ওর। এও কোনোদিন ভুলতে পারবে না সে‚ এতগুলো দিন ধরে মেয়েটা অন্য কারও হয়ে ছিল।
কিন্তু তবুও অস্থির মনটা আজও কী করে ওই মেয়ের মনের নাগাল পেতে পারে? মেয়েটা ঠিক নেই‚ খুব গাঢ়ভাবেই এ সঙ্কেতটা পাচ্ছে সে৷ মন বলছে‚ তা মিথ্যাও হবে না। যার সঙ্গে আর কোনো কিছুই বাদ নেই শেষ হতে‚ তার সঙ্গে মনের সংযোগ কেন থাকবে এখনো? ভালো লাগছে না ওর এ কারণেও৷ সে সত্যিই আর চায় না‚ একটা মুহূর্তের জন্যও আর মারিশার প্রতি দুর্বল হতে৷ নয়তো যে দ্বিতীয়বার ভালোবেসে ফেলবে! মেয়েটার ওই সৌন্দর্য বাদেও এক অদ্ভুত শক্তি আছে। যে শক্তি চুম্বকের মতোই তাকে প্রতিনিয়ত টেনে নেয় ওর দিকে। চাইলেও তখন অবহেলা করা যায় না… কষ্ট দেওয়া যায় না। সে কষ্ট দিতেও চায় না৷ তাকে ফেলে গিয়ে ওর দ্বিতীয় কাউকে গ্রহণ করাটা এক সময় অপরাধ মনে হলেও আজ সে মনে করে‚ ভালোর থেকেও ভালো পেলে যে-কোনো মানুষই বেশি ভালোটাই গ্রহণ করবে৷ মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্যই যে স্বার্থপরতা। এ জগত সংসারের প্রতিটি মানুষই নিজ নিজ স্বার্থের কাছে দুর্বল।
ঘণ্টা দুইটা পার করেও ঘুমের হদিস আর পেল না দেখে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল আশফি৷ ফোনটা ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে ঘর থেকে বের হলো সে৷ মারিশার ঘরের সামনে এসে কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই দরজায় ঠকঠক করল। মেয়েটা ঘুমায়নি‚ তা সে শতভাগ বিশ্বাসী। কিন্তু খুলল না দেখে শেষে ডাকল ওকে‚ “মাহি? আমি বলছি। দরজাটা খোলো।”
কোনো সাড়া এল না বলে খটকা লাগল আশফির। স্বগতোক্তির মতো বিড়বিড় করল‚ “আবারও মদ টদ অর্ডার করেছে না-কি?”
সন্দেহটা নিয়ে কতক্ষণ ডাকাডাকি করল মারিশাকে আবারও৷ দরজাটা খুললই না মারিশা। তারপর আর দাঁড়াল না আশফি। নিজের ঘরে ফিরেই বারান্দায় এসে এক লাফে মারিশার ঘরের বারান্দাতে চলে এল। কাচের দরজার এপাশে দাঁড়িয়ে দেখল‚ ঘরটা অন্ধকার৷ তাহলে কি ঘুমিয়েছে? কেন যেন বিশ্বাস হলো না চিন্তাটা। দরজায় টোকা দিতে দিতে ডাকল মারিশাকে‚ “অ্যাই‚ মাহি? ঘুমাচ্ছ?”
এবার জবাব পেল সে৷ খিটমিট করে উঠে ভাঙা ভাঙা স্বরে মারিশা বক্রোক্তি করল‚ “না গো… আমি তো ঝুলে আছি ফ্যানের পাখায়। বাদুড় কি রাতে ঘুমায়?”
আশফি ধমক মেরে বসল সঙ্গে সঙ্গেই‚ “বেয়াদব! নিষেধ করেছিলাম না ড্রিঙ্ক করতে? ছিটিয়াল‚ মাতাল! দরজা খোলো।”
“দরজা? দরজাতে তো কোনো বডিগার্ড নেই‚ ডার্লিং আনজার। তোমার জন্য সব খোলা৷ এমনকি আমি নিজেও। ফুড়ুৎ করে ঢুকে পড়ো প্লিজ! আমি তোমাকে ওয়েলকাম করতে পারছি না। উঠলেই আমি উড়ে ফুড়ে আরেকখানে গিয়ে পড়ব।”
দরজাটা টান দিতেই খুলে গেল সত্যি। এতক্ষণ ধরে শুধু শুধু তাহলে গলা ফাটাচ্ছিল! বোকামির জন্য নিজেকে মনে মনে ভর্ৎসনা করে ঘরের ভেতর এল আশফি। বাইরের আলোয় আবছা দেখতে পেল সে মারিশাকে—চাদর জড়িয়ে শুয়ে পাগলের মতো প্রলাপ গাইছে গুনগুন করে। বিছানার কাছে এসে দাঁড়াতেই শুনতে পেল‚ তাকে নিয়েই বলছে কিছু। কী বলছে তা শোনার আগ্রহ হলো না৷ তার নিষেধ সত্বেও কেন মদ খেল‚ তা নিয়েই এখন বকতে ইচ্ছে করছে পাগলটাকে। আবার নেশা না কাটালে কাল বেরও হতে পারবে না হোটেল ছেড়ে—এ চিন্তাও হতে লাগল আশফির।
বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৬
“মাহি‚ উঠে বসো এক্ষুনি”‚ গম্ভীরস্বরে ধমক গলায় আদেশটা করেই ওকে টেনে তুলল সে। আর তারপরই চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড় তার।
“মাই গুডনেস”‚ ক’মুহূর্ত স্তম্ভিত চোখে ওকে দেখার পর বিস্ময় স্বরে ফিসফিসয়ে উঠল আশফি‚ “হোয়াই আর ইউ আনক্লোথড?”
