ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১০
ছায়া
রুমের ভেতর এমন নীরবতা যেন বাতাসও হাঁটতে ভয় পাচ্ছে।পরি এক সেকেন্ডে মাথা কাজ করাতে চেষ্টা করে তারপর চট করে হাসিমুখে বলে ওঠে,
পরিঃ- ওও না ছোট মা আসলে ইলা একটা উপন্যাস পড়েছে, মন খারাপ হয়ে গেছে তাই ওকে বুঝাচ্ছিলাম এইসব উপন্যাসের গল্প ভুলে যেতে।
সাবিহা ভ্রু কুঁচকে ইলার দিকে তাকালেন পরির অবস্থা খারাপ না জানি এখন কি থেকে কি হয়ে যায়। ইলার মা অবিশ্বাসের সুরে বলল
সাবিহাঃ- তাই নাকি কী সেই উপন্যাসের নাম শুনি?
পরিঃ- “লাভ ইন দ্য আর্মি” ছোট মা উপন্যাসের নাম একদম টা যেমন বাজে গল্পটাও তেমন বাজে।
ইলা তখন মাথা নিচু করে বসে আছে চোখে অশ্রুর দাগ, চুপচাপ যেন পৃথিবীর কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছে না। সাবিহা ধীরে ধীরে ইলার কাছে আসে ইলার মাথায় হাত রাখে নরম গলায় বলল
সাবিহাঃ- ইলা, মা, আমি জানি তুই কিছু লুকাচ্ছিস। কিন্তু মনে রাখ যে মানুষ চোখের পানি ফেলায় সে ভালোবাসার যোগ্য না।
ইলার মায়ের কথা শুনে ইলার চোখে আবার পানি চলে আসে পরি সেটা টের পেয়ে নিঃশব্দে ইলাকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে,
পরিঃ সব ঠিক হয়ে যাবে রে শুধু কাঁদিস না এখন ছোট মা কিছু টের পেলে ঝামেলা হয়ে যাবে।
সাবিহা আর কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে যান। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দের সাথে সাথে ইলা আর পরি দুজনেই হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। পরি ফিসফিস করে ইলা কে বলল
পরিঃ- বাঁচলাম রে আমার বুদ্ধিটা না থাকলে আজ তো আমরা ধরা খেতাম।
ইলাঃ- তোর মাথায় বুদ্ধি কম না। তাই তো তুই এখনো কোনো কষ্ট না পেয়ে আছিস।
দুজনেই একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে। সেই হাসিতে চাপা দুঃখ, অদ্ভুত এক মায়া, আর বন্ধুত্বের উষ্ণতা মিশে যায়। রুমের জানালা দিয়ে হালকা বাতাস ঢোকে, পর্দাগুলো দুলে ওঠে, আর বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক অনুচ্চারিত কষ্টের গন্ধ।
সারাদিনটা ইলার এভাবেই কেটে গেলো চুপচাপ মন খারাপ করে সন্ধার পরে পরি ইলার রুমে আসলো পরি এসে দেখে ইলার চোখ তখনো ভিজা কান্না করেছে পরি কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইলার দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর নিচু গলায় বলে
পরিঃ- তুই কি কখনো শাওনকে দেখেছিস ও কি তোকে ছবি দিয়েছে নিজের?
ইলা একদম নিঃশব্দে মাথা নাড়ে।
ইলাঃ- না।
পরি ইলার কথায় থমকে যায় চোখ কুঁচকে ইলাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলে
পরিঃ- একটা মানুষকে না দেখে না জেনে কিভাবে ভালোবাসতে পারিস তুই ইলা?
ইলা কিছুক্ষণ পরির দিকে তাকিয়ে থাকলো চুপ করে। তারপর মৃদু হেসে পরিকে বলল
ইলাঃ জানি না…!!
এই তিনটা শব্দ যেন পুরো ঘরটা ভরে ফেলে একটা নিঃশব্দ কষ্ট নেমে আসে দুজনের মাঝখানে। পরির মুখে এবার একটু বিরক্তি ফুটে ওঠে পরি রাগ করে ইলাকে বলতে শুরু করলো
পরিঃ- কি এমন আছে তোর ঐ শাওনের মধ্যে যার জন্য তুই এত পাগল হয়েছিস?
ইলাঃ- তার ভয়েজ,তার কথা বলার ধরণ,তার ভদ্রতা, তার সুন্দর করে সালাম দেওয়া,তার হাত, তার রাগ সব কিছু বাধ্য করেছে আমাকে তাকে ভালোবাসতে।
পরি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ইলার দিকে” এই মেয়ে কি সত্যি পাগল নাকি” তারপর মৃদু হেসে মাথা নাড়ে বলে
পরিঃ- সত্যি রে ইলা তুই অন্যরকম তোর ভালোবাসাটা আমি বুঝি না। ভয়েজের মায়াজালে পড়া মানে কষ্ট নিশ্চিত আমি চাই না কেউ এমন ভয়েজের মায়াজাল এ পড়ুক।
ইলা হাসে কিন্তু সেই হাসিতে একটুও আনন্দ নেই চোখে পানি ঠোঁটে শুকনো হাসি নিয়ে ইলা বলল
ইলাঃ- তার হাসি শুনলেই আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে যায় রে। যখন মন খারাপ থাকে আমি তার ভয়েজ ভিডিও দেখি। শাওনের হাসি শুনলেই মনে হয় আমার সব ক্লান্তি মুছে যায়।
পরিঃ- কিন্তু তুই কি জানিস ভয়েজের পেছনে যে মানুষটা থাকে সে হয়তো তোর কল্পনার মতো না?
ইলাঃ- জানি কিন্তু আমার ভালোবাসা কোনো মুখের উপর নির্ভর না পরি আমি ওর ভেতরের মানুষটাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
পরি এবার একদম চুপ জানালার বাইরে চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে। ইলার মুখে সেই আলো পড়ে আরও শান্ত, আরও বিষণ্ন লাগে পরি তাকিয়ে থাকে। তার মনে হয় ইলা যেন এই পৃথিবীর কেউ না সে অন্য এক জগতে বাস করে যেখানে ভালোবাসা অদৃশ্য কিন্তু অনুভবটা গভীর।
পরিঃ- তুই পাগল রে ইলা।
ইলাঃ- ভালোবাসা মানেই একটু পাগলামি তাই না বল?
দুজনের চোখে চোখ পড়ে কিছুক্ষণ পরে ইলার এই কষ্ট দেখে পরির চোখেও পানি চলে আসে পরি ধীরে ধীরে ইলাকে বলে
পরিঃ- তোর ভয়েজের মায়াজাল একদিন তোকে কাঁদাবে রে।
ইলাঃ- তবুও আমি এই মায়ায় ডুবতে চাই কারণ শাওনের ভয়েজ শুনলেই মনে হয় পৃথিবীটা এখনো অনেক সুন্দর।
পরি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানায় শুয়ে পড়ে, কারণ পরি জানে ইলার সাথে সে কথায় পারবে না ইলা সব কিছুতেই পটু ( সেটা না হয় অন্য একদিন শুনাবো) তাই পরি ক্লান্ত হয়ে ইলাকে বুঝানো বাদ দিলো।
পরিঃ- আমি চাই না তুই কষ্ট পাইস ইলা।
ইলাঃ- আমি চাই শাওন যেন কষ্ট না পায়।
এই একটা বাক্যেই ইলার ভালোবাসার গভীরতা ধরা পড়ে রাত গভীর হয়।পরি ঘুমিয়ে যায় কিন্তু ইলার চোখে ঘুম আসে না। সে মোবাইলটা হাতে নিয়ে শাওনের ভয়েজগুলো শোনে বারবার। শাওনের সেই পরিচিত কণ্ঠ ইলার চোখ ভিজে যায়। ঠোঁট কাঁপে ফিসফিস করে বলে “তুমি কি আমার হবে না ভয়েজ কিং আমি কি অনেক বেশি কিছু চেয়ে ফেলেছি”
বাইরে বৃষ্টি শুরু হয় হালকা জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ পড়ে। ইলা জানালার ধারে গিয়ে বসে বৃষ্টির গন্ধ আর ভয়েজের স্মৃতি সব মিলিয়ে চারদিকটা এক অদ্ভুত বিষণ্নতায় ভরে ওঠে। ইলা আর কোনো কিছু না ভেবে ছাদে চলে গেলো সবাই ঘুমিয়ে আর ইলা বৃষ্টিতে ভিজছে একা একা আর কান্না করছে। ইলার জীবনের প্রথম ভালো লাগা ভালোবাসা শাওন ছিলো। কিন্তু আজ ইলা জানতে পারলো শাওন এর লাইফে অন্য কেউ সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে শাওন ও হয়তো এই মুহূর্তে জেগে আছে, হয়তো সেও কারো কথা ভাবছে কিন্তু সেই কেউটা ইলা নয় তার মায়াবতী। ইলা নিজের বুকের ওপর হাত রেখে ফিসফিস করে বলে
ইলাঃ- তুমি সুখে থেকো ভয়েজ কিং আমার ভালোবাসা তোমার ওপর কোনো দাবি রাখবে না। শুধু তোমার হাসিটা যেন না মুছে যায়।
সেই রাতে ইলা প্রথমবার বুঝলো ভয়েজের মায়াজাল শুধু কষ্টের না এটা এমন এক অনুভব, যা মানুষের আত্মাকে নাড়া দেয়। তারপরে নিজের রুমে চলে আসলো, ইলা দেখে তার মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।
সাবিহাঃ- তারাতাড়ি চেঞ্জ করে ঘুমিয়ে যা অনেক রাত হয়েছে।
ইলা মাথা নেড়ে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হয়ে এসে তারপর জানালা বন্ধ করে, চোখ মুছে,ঘুমিয়ে পড়ে।
পরের দিন সকালে মাত্র সাত দিন পর কুরবানির ঈদ তালুকদার বাড়িতে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি, শোরগোল, বাজারের তালিকা, হাসি-আড্ডা আর সাজসজ্জার তোড়জোড় সকালে রাশেদ তালুকদার বললেন,
রাশেদঃ- আজ সবাই মিলে শপিংয়ে যাই আর দেরি নয়। মেয়েদের জামাকাপড় বেছে নিতে তো একদিনই কম পড়ে।
সবার মুখে হাসি সাবিহা ব্যস্ত তার পছন্দের দোকানের নাম ঠিক করতে, পরি খুশিতে লাফাচ্ছে কারণ নতুন জামা মানেই সেলফি, ভিডিও, স্টোরি আর ইলা সে নিঃশব্দ। মুখে হালকা হাসি, কিন্তু চোখে একরাশ দূরত্ব। বিকেলবেলা সবাই রওনা দেয় শহরের সবচেয়ে বড় শপিং মলে “রয়েল স্কয়ার” লাইটে ঝলমলে মলটা উৎসবের আমেজে ভরে আছে। ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত ট্রায়ালরুমে,শিশুরা আইসক্রিম হাতে দৌড়াচ্ছে, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজছে।
সাবিহা প্রথমেই গেলেন লেডিস কর্নারে হালকা গোলাপি রঙের জামা হাতে তুলে নিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখলেন,
সাবিহাঃ- এটা আমার সাথে মানাবে তাই না ইলার আব্বু?
রাশেদঃ- তোমার সাথে না মানালে কার সাথে মানাবে বলো দেখি?
সাবিহাঃ- তুমি এখনো বদলাওনি সেই আগের মতোই রয়েগেলে।
পরি ইলার বাবা মার কথা শুনে এদিকে এগিয়ে এসে হাসতে হাসতে বলে উঠল,
পরিঃ- ছোট মা চাচ্চু এখনো তোমার সাথে ফ্লার্ট করছে।
সাবিহা সাথে সাথে পরির দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙালেন, সবাই হেসে উঠল।পরি এই অবস্থা দেখে আবার নিজের জন্য জামা দেখতে গেলো। পরি নিজের জন্য উজ্জ্বল প্যাস্টেল ব্লু কামিজ বেছে নিল। সঙ্গে সিলভার ঝালরওয়ালা ওড়না দেখে বলল,
পরিঃ- এইটা পরলে ভিডিওতে দারুন লাগবে
রাশেদ তালুকদার বড় ভাইয়ের জন্য শার্ট দেখছে আর পাশেই ইলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।রাশেদ একসময় ইলার দিকে তাকিয়ে বললেন
রাশেদঃ- কি রে ইলা মা তুই কি পছন্দ করবি না কিছু?
ইলাঃ- আব্বু আমি একটু পরে দেখি।
রাশেদ কিছু না বলে পাশে দাঁড়ালেন তিনি জানেন ইলার চুপ করে থাকা মানে কিছু একটা হয়েছে।তারপরও মুখে হাসি রেখে বললেন
রাশেদঃ- তুই তো কালো আর সাদা পছন্দ করিস তাই না এদিকে আয় দেখি এ দোকানে কিছু সুন্দর কালেকশন আছে।
দোকানের ভেতরে ঢুকেই রাশেদ কয়েকটা কালো আর সাদা রঙের জামা পছন্দ করলেন। একটার পর একটা জামা হাতে নিয়ে বললেন,
রাশেদঃ- এইটা কেমন মা খুব সুন্দর সাদা এমব্রয়ডারি আছে।এই কালোটাও খারাপ না একটু মডার্ন ডিজাইন।
ইলা একটা জামা হাতে নিয়ে দেখে মৃদু হাসে, তারপর বলে
ইলাঃ-এইটাই নেব আব্বু।
রাশেদঃ- এই একটা তুই আর কিছু নিবি না?
ইলাঃ- না আব্বু একটাই লাগবে আর কিছু ভালো লাগছে না।
রাশেদ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন মেয়ের দিকে তার চোখে এখনো আগের দিনের ভয় সেই দিনের কান্না। তিনি ভাবলেন
সেদিন ওর উপর একটু বেশি রেগে গিয়েছিলো সাবিহা হয়তো তাই এখনো মন খারাপ করে আছে।রাশেদ ধীরে ধীরে ইলার কাঁধে হাত রাখলেন।
রাশেদঃ- ইলা মা মন খারাপ নাকি?
ইলাঃ- না তো আব্বু মন খারাপ কেনো হবে?
রাশেদঃ- সেদিন যা হয়েছিল তার জন্য মন খারাপ করে আছিস এখনো?
ইলা চুপ তার গলা কেঁপে উঠছে কিন্তু মুখে হাসি রাখল বুঝানোর চেষ্টা করলো তার কিছুই হয়নি
ইলাঃ- আব্বু আমি রাগ করিনি আম্মু যদি শাসন না করতো তাহলে আমি বুঝতাম না আমি কত বড় ভুল করেছি।
রাশেদ গভীরভাবে মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন তার মেয়েটা দিন দিন যেন বদলে যাচ্ছে চুপচাপ, অন্তর্মুখী, অথচ ভেতরে ভেতরে এক অদ্ভুত আগুন লুকিয়ে রাখে।
রাশেদঃ- তুই আমার মেয়ে ইলা তোর মন খারাপ আমি সহ্য করতে পারি না।তোর পছন্দের কিছু যদি কোথাও না পাস তবুও বলিস। আমি আমার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো সেটা এনে দেয়ার।
ইলাঃ- ঠিক আছে আব্বু।
রাশেদ মাথায় হাত রাখলেন “এই তো আমার মেয়েটা” সাবিহা দূর থেকে এতক্ষণ বাপ মেয়ে কথা বলা দেখছিলেন এখন এসে বললেন,
সাবিহাঃ- কি হলো ইলার জামা হয়ে গেল?
রাশেদঃ- হ্যাঁ ওর সাদা আর কালো ছাড়া কিছু ভালো লাগে না। একটা সাদা জামা নিয়েছে শুধু।
সাবিহা ইলার মুখের দিকে তাকালেন একটা নরম ক্লান্ত হাসি লেগে আছে মুখে। মনে মনে ভাবলেন “এই হাসিটা কি সত্যিই খুশির নাকি কিছু লুকানো দুঃখের?
সবাই কেনাকাটা শেষ করে নিচে নামছে পরি হাসছে, ব্যাগ হাতে ঘুরছে, সবাই গাড়িতে এসে বসলো কিন্তু ইলা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে আকাশে মেঘ জমেছে, হয়তো বৃষ্টি আসবে। মেঘের মধ্যে হঠাৎই ইলার মনে পড়লো শাওনের ও দুইদিন পরে বাড়ি যাবে ছুটিতে ইলার বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। রাশেদ তালুকদার পাশে এসে বসে বলল
রাশেদঃ- ইলা মা তোর বাবা চায় তুই সব সময় হাসি খুশি থাকিস যে কোনো অসিলায়।
ইলাঃ- চেষ্টা করব আব্বু…!!
বাইরে বৃষ্টি শুরু হয় ইলার চোখের কোনায় জমে থাকা জলকণাও হয়তো সেই বৃষ্টির মতোই নিঃশব্দে ঝরে পড়ে কেউ দেখে না কেউ জানে না। গাড়ি চলা শুরু হলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। ১ ঘন্টা পড়ে বাড়ি পৌছালো বাড়ি এসে রাতের ডিনার শেষ করে সবাই ঘুমাতে শুরু করলো
রাত গভীর তালুকদার বাড়ির সব লাইট নিভে গেছে, শুধু ইলার রুমের জানালা দিয়ে হালকা চাঁদের আলো ঢুকছে। সেই আলোয় ইলার মুখটা এক অদ্ভুত নীরবতায় ঢাকা পড়ে আছে। আজ সারাদিন তার মনটা ঠিক শান্ত ছিল না। শপিং থেকে ফিরে সবাই হাসি-আনন্দে ব্যস্ত, কিন্তু ইলার হাসিটা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে সে মাথার মধ্যে ঘুরছে শুধু একটাই নাম… শাওন।
শাওনের ভয়েজ, কথা বলার ভঙ্গি, সেই নরম কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠ সব কিছু যেন ইলার মনে গেঁথে আছে। কিন্তু আজ সেই ভালো লাগা সেই ভালোবাসার জায়গাটায় এক অদ্ভুত ভয় কাজ করছে। হঠাৎ তার মনে একটা প্রশ্ন জেগে উঠলো “শাওনের মায়াবতী কে?”
এমন নাম কেন তার আইডিতে এমন একটা নামের পেছনে গল্প না থাকলে তো এমন করে কেউ লিখে না। ইলা ফোনটা হাতে তুলে নিলো স্ক্রিনে শাওনে নামটা জ্বলজ্বল করছে প্রোফাইলে ডুকে এক মুহূর্তের জন্য ইলার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠলো। সে ধীরে ধীরে স্ক্রল করতে শুরু করলো একটা, দুইটা, তিনটা বহু পুরনো পোস্ট, অসংখ্য ক্যাপশন, হাসিমুখের ইমোজি। শাওনের জীবনের এক সময়ের টুকরো স্মৃতিগুলো যেন চোখের সামনে সিনেমার মতো ভেসে উঠছে।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৯
যেখানে ফুলের ছবি দেয়া ক্যাপশনে লিখা এটা আমার মায়াবতীর জন্য। আবার কোথায় তার মায়াবতীর এর পছন্দের কিছু ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখা তোমার জন্য জান। তারপর হঠাৎ ইলার চোখে পড়লো একটা পোস্ট তারিখটা দুই বছর আগের “Sometimes I talk to flowers because they don’t ask why I’m sad.”
এই লাইনটা ইলার খুব চেনা যা শাওন এখনো মাঝে মাঝে ভিডিও তে বলে “আমার ফুলের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে।”এখন বুঝতে পারছে কথাটা শুধু সুন্দর লাগার জন্য না তার ভেতরে ছিল গভীর কষ্টের ছোঁয়া।
