Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৫

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৫

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৫
ছায়া

সকালের হালকা রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকছে। বাইরে পাখির ডাক ভেতরে সাজসজ্জার ব্যস্ততা। তালুকদার বাড়িতে আজ বিকেল থেকে হলুদ প্রোগ্রাম সবাই ব্যস্ত, কেউ হাসছে কেউ গল্প করছে।ইলা আয়নার সামনে বসে চুলে রাবার বেঁধে নিচ্ছে। হালকা পীচ রঙের কুর্তি, সাদা প্যান্ট সাধারণ সাজ কিন্তু তাতে ওর এক অন্যরকম সৌন্দর্য আছে। নিচে নামতেই রাশেদ তালুকদার কফির কাপ হাতে বসে ছিলেন। রাশেদ তালুকদার চোখ তুলে তাকিয়ে বললেন,

রাশেদঃ- ইলা মা কোথায় যাচ্ছো?
ইলা মিষ্টি হেসে উত্তর দেয়,
ইলাঃ- আব্বু একটু মার্কেটে যাচ্ছি বিকেলের অনুষ্ঠানের জন্য কিছু কিনা কাটা আছে।
রাশেদ চশমার ওপরে তাকিয়ে বললেন,
রাশেদঃ- একা যাচ্ছো না সাথে কেউ যাচ্ছে?
ইলাঃ- একা যাচ্ছি আব্বু হালিমা আর পরি পার্লারে যাবে।তাই আমি একা যাচ্ছি বেশিক্ষণ লাগবে না আমি একা যেতে পারবো।
রাশেদঃ- ঠিক আছে কিন্তু একা যেও না আরিয়ানও বেরোচ্ছে ওকে নিয়ে যাও।
ইলা মুখ ভার করে বললো,
ইলাঃ- কেনো আব্বু আমি তো বড় হয়েছি একা যেতে পারতাম, আমার সাথে কাউকে যেতে হবে না।
রাশেদঃ- তা তো ভালো তুমি নিজের মুখে শিকার করলে তুমি বড় হয়েছো কিন্তু এখন দেশের অবস্থা ভালো না মেয়েদের জন্য শহর এখন নিরাপদ তাই আরিয়ানের সাথে যাও। আমরা সবাই অন্য কোথাও যাবো তাই তোমাকে নিয়ে যেতে পারলাম না।

তখনই পাশের দরজা থেকে আরিয়ান বের হয়ে এলো জিন্স প্যান্ট, কালো টি-শার্ট, চোখে সানগ্লাস, এক হাতে বেসলেট অন্য হাতে ঘড়ি, চুল হালকা ভেজা, মনে হয় সদ্য গোসল সেরে বেরিয়েছে রাশেদ তালুকদার বললেন,
রাশেদঃ- বাবা আরিয়ান তুমি তো বাইরে যাচ্ছো তোমার সাথে ইলাকে নিয়ে যাও ওর মার্কেটে কিছু কাজ আছে।
আরিয়ান শুধু মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বললো ইলা আর কিছুই বলতে পারলো না চুপ করে আরিয়ানের পিছু পিছু যেতে লাগলো। ইলা গাড়িতে বসে আছে চুপচাপ কোনো কথা বলছে না। আরিয়ান ড্রাইভার এর সাথে সামনের সিটে বসলো। রাস্তায় ট্রাফিকের শব্দ রোদে ভ্যাপসা গরম অতিক্রম করে ইলারা মার্কেটে পৌছালো। ইলা একটা দোকানে ঢোকে শাড়ি দেখছে, পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান। মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলছে আবার চুপচাপ ইলার দিকে তাকাচ্ছে।

ইলা শাড়ি কিনে দোকান থেকে বের হয়ে অন্য একটা দোকানের দিকে যাচ্ছিলো ঠিক তখনই রাস্তার ওপাশ থেকে কয়েকটা ছেলে ইলাকে দেখে হাসাহাসি শুরু করল একজন বলে উঠল
“এই মেয়েটা তো সেই হট আর সে***
আরেকজন আরও বাজে কিছু বলে হাসা হাসি শুরু করলো। ইলার মুখ লাল হয়ে যায় রাগে আর ভয়। কিন্তু ইলা ঝামেলা না করার জন্য কিছু না বলে না শুনার ভান করে চলে যায়। কিন্তু আরিয়ান চুপ থাকে না ওর চোখ মুহূর্তেই বদলে যায় সেই স্থির, ঠান্ডা চোখ গুলো হয়ে উঠে ধীরে ধীরে আগুনের মত লাল। আরিয়ান এগিয়ে যায় তাদের দিকে কণ্ঠে ভারি সুর বলে
আরিয়ানঃ- তোমরা কি বললে একটু আগে শুনতে পাইনি?
ছেলেগুলো হাসে একজন আরেক জনের দিকে তাকিয়ে তার পরে আরিয়ানের চোখে চোখ রেখে বলে “তুই কে রে ভাই ও কি তোর বউ নাকি?

আরিয়ান শান্তভাবে সানগ্লাস খুলে চোখে তাকায় ছেলেগুলোর দিকে ঠান্ডা স্বরে বলে,
আরিয়ানঃ- মেয়েদের দিকে আর এক বার বাজে ভাবে তাকালে তোদের চোখ গুলো তুলে হাতে ধরিয়ে দেব।
কিন্তু ছেলেগুলো ভীত না হয়ে উল্টো আরো বাজে মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়। “বাহ সাহস তো কম না ভাই তোর আমার এলাকায় এসে আমাদের হুমকি দিস। মেয়েটা কি তোর রাতের স্পেশাল কেউ নাকি কত দিয়ে আনিয়েছিস আমাদের ও বল। ইলার চোখে পানি চলে আসে এমন কথা শুনে আরিয়ান তখন একদম স্থির কিন্তু হাতের ও ঘারের শিরা ফুলে উঠছে। হঠাৎ আরিয়ান এগিয়ে গিয়ে এক ছেলের কলার চেপে ধরে দেয়ালে ঘেঁষে দেয়।
আরিয়ানঃ- বাস্টার্ড বাজে কথা বন্ধ কর।
ছেলেটা চেঁচিয়ে বলে,

“তুই কে রে এত হিরো গিরি মারাচ্ছিস।
আরিয়ান আর অপেক্ষা করে না এক একটা নাখ বড়াবড় ঘুষি মাড়ে ছেলেটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অন্য দু’জন দৌড়াতে পালাতে যায়,কিন্তু আরিয়ান তাদের কলার ধরে টেনে আনে।একজনকে লাথি মেরে ফেলে দেয় রাস্তায় আরেকজনকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে।
ইলা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আশপাশের মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছে। সবাই ফোনে ভিডিও করায় ব্যস্ত কেউ ৯৯৯ এ ফোন করে।আরিয়ান তখন মাটিতে পড়ে থাকা ছেলেটার মুখে পা রাখে বলে
আরিয়ানঃ- আর একবার যদি তোদের ঐ নোংরা মুখ দিয়ে বাজে কথা শুনি
আরিয়ান ছেলেটার মুখের কাছে ঝুঁকে বলে,
আরিয়ানঃ- তাহলে তোদেরকে মাটিতে পুতে ফেলব বুঝেছিস?
রাস্তাটা নিস্তব্ধ হয়ে যায় কেউ একটা শব্দও করে না ইলা এগিয়ে এসে কাঁপা গলায় বলে,
ইলাঃ- আরিয়ান… প্লিজ… আর না চলুন আমি বাড়ি যাবো।
আরিয়ান তখন হঠাৎ যেন বাস্তবে ফিরে আসে পা সরিয়ে নেয়, গভীর শ্বাস ফেলে, চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড।তারপর ইলার দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলে,

আরিয়ানঃ- আপনার কিছু হয়নি তো?
ইলাঃ- না… কিন্তু আপনি….
আরিয়ান থামিয়ে দেয় ইলাকে
আরিয়ানঃ- আমি এমন ছেলেদের সহ্য করি না যারা কোনো মেয়েকে অপমান করে। আর আমি নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না অন্যায় দেখলে।
তারপর রোদে পুড়ে যাওয়া মুখটা ঘুরিয়ে নেয় বুকের কাছে রাখা সানগ্লাস টা চোখে দিয়ে ইলাকে বলে
আরিয়ানঃ- চলেন যাওয়া যাক।
ইলা নিঃশব্দে হাঁটে তার পিছু পিছু আরিয়ান যাচ্ছে কিন্তু ইলার মন ভরে আছে এক অদ্ভুত অনুভূতিতে ভয়, বিস্ময়, আর কোনো এক গভীর নিরাপত্তার ছোঁয়া। ইলা কিছু না বলে গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ে জানালার কাচ নামিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে আরিয়ানের চোখে এখনো রাগের আগুন জ্বলছে কিন্তু মুখে নিঃশব্দ এক শান্তি।
আরিয়ান গাড়ির দরজা খুলে উঠতে যাবে এমন সময় পেছন থেকে কয়েকজন আর্মি অফিসার এগিয়ে আসে। তাদের একজন জোরে বলে ওঠে

“আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে আপনি কয়েকজন সাধারণ ছেলেকে বিনাদোষে মেরেছেন।
ইলা চমকে উঠে গাড়ির ভেতর থেকে তাকায় ইলা ফিসফিস করে বলে,
ইলাঃ- কি বিনাদোষে…ওরা তো…!
আরিয়ান তখন ইলার দিকে তাকিয়ে বলে,
আরিয়ানঃ- আপনি গাড়ি থেকে নামবেন না বুঝলেন আমি একটু পরে আসছি।
ইলার অনেক ভয় লাগছে ইলা মাথা নাড়ে আর আরিয়ান আর্মিদের দিকে এগিয়ে যায়। তার পরে আর্মিদের সাথে ছেলেগুলোর কাছে যায় ছেলেগুলো তখন আবার নাটক শুরু করে একজন কাঁদো গলায় বলছে,
“স্যার আমরা তো কিছুই বলিনি উনি হঠাৎ এসে আমাদের মারা শুরু করেন।
আরেকজন হাত কাঁপিয়ে এগিয়ে এসে বলছে

“স্যার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আমরা কিছু করিনি।
একজন মোবাইল আর্মিদের দেখায় সত্যিই সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে শুধু দেখা যাচ্ছে আরিয়ান তাদের মারছে। শুধু সেই দৃশ্য যেন আরিয়ানই দোষী আর্মিদের এক জন রাগী গলায় বলে,
“আপনাকে থানায় যেতে হবে এই ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে।
আরিয়ান স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকে চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটে হালকা ব্যঙ্গভরা হাসি। ধীরে ধীরে মানিব্যাগ খুলে ভেতর থেকে একটা লেদার কভার বের করে আর্মিদের সামনে ধরে। কভার খুলতেই সবাই স্থির সেখানে লেখা
“Major Aryan Khan Shawon Bangladesh Army Intelligence Division”
আর্মিরা চোখ বড় করে তাকায় তারা সবাই স্যালুট দিয়ে বলে ওঠে একজন বলে উঠে
“স্যার আমরা চিনতে পারিনি স্যার ভুল হয়ে গেছে।
আরিয়ান ঠান্ডা গলায় বলে,
আরিয়ানঃ- কোনো সমস্যা নেই তবে পরের বার কাউকে জাজ করার আগে প্রমাণটা পুরো দেখবে। অর্ধেক সত্য অনেক সময় ভয়ানক মিথ্যা হয়ে যায়।
আরেকজন অফিসার মাথা নেড়ে বলে,

“জি স্যার আপনি যান আমরা ওদের সামলাচ্ছি।
আরিয়ান ঘুরে ইলার গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে কিন্তু যাওয়ার আগে এক মুহূর্ত থামে। ছেলেগুলোর সামনে গিয়ে চোখে সানগ্লাস ঠিক করে আঙুল ঝাঁকিয়ে বলে
আরিয়ানঃ- নেক্সট টাইম আমার চোখের সামনে আসলে…..
ছেলেগুলো নিঃশব্দে মাথা নিচু করে আরিয়ান গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করে। ইলা একদম চুপচাপ মনে হচ্ছে কিছু বলতে চায় কিন্তু শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না। রাস্তায় গাড়ি চলছে জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকছে ইলা আস্তে বলে,
ইলাঃ- এমন রেগে গিয়েছিলে কেন?
আরিয়ান চোখ না ফিরিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলে,

আরিয়ানঃ- মেয়েদের সম্মান নিয়ে কেউ খেলা করলে আমি কন্ট্রোল করতে পারি না।
ইলা তাকিয়ে থাকে বুকের ভেতর কেমন জানি ধপধপ করে ওঠে ইলা ফিসফিস করে বলে,
ইলাঃ- সত্যি অন্যরকম…বুঝা মিশকিল
আরিয়ান হালকা হেসে তাকায়,
আরিয়ানঃ- অন্যরকম না আমি শুধু মানুষ হয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। আর অন্যায় দেখতে পারি না।
গাড়ির ভেতর নিঃশব্দ নীরবতা নেমে এসেছে বাইরে দুপুরের রোদ জানালার কাচে প্রতিফলিত হয়ে দুজনের মুখে পড়ছে।
রাস্তায় গাড়ির শব্দ, দূরে এক দুটা ওটো আর ভিতরে শুধু ইলার বুকের ধকধকানি।
ইলার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে আরিয়ানের দিকে। চোয়ালের ধার, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি কিন্তু চোখে যেন এক অদ্ভুত গভীরতা। অবশেষে সাহস করে ইলা মুখ খুললো,
ইলাঃ- আর্মিরা আপনাকে কিছু না বলে ছেড়ে দিলো কেনো?
আরিয়ান মুচকি হেসে পাশের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
আরিয়ানঃ- কখনও কখনও কিছু কথা না বললেও বোঝা যায় ওরা বুঝেছে আমি মিথ্যে বলিনি। তাই ছেড়ে দিয়েছে হয়তো বা।

তারপর আবার নীরবতা ইলা কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে তাকায় আরিয়ান তখন মোবাইলের স্ক্রিনে কিছু দেখছে। কিছুক্ষণ পর শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস আরিয়ান করল,
আরিয়ানঃ- আপনার আর কিছু নেওয়া বাকি আছে?
ইলা হালকা ভয় মেশানো কণ্ঠে বলল,
ইলাঃ- আমার… কিছু কাচাফুল লাগতো নেকলেস বানাবো।
আরিয়ান হালকা মাথা নেড়ে বলল,
আরিয়ানঃ- তাহলে চলুন ফুলের দোকানে যাওয়া যাক।

ফুলের দোকানে ঢুকতেই চারপাশে হালকা গন্ধ গোলাপ, রজনীগন্ধা, টিউলিপ আর জুঁই একসাথে মিশে গেছে বাতাসে।ইলা একেকটা ফুল হাতে নিচ্ছে আবার নামিয়ে রাখছে বেছে নিচ্ছে মনোযোগ দিয়ে।
ইলার কপালের কাছে ঝুলে পড়া চুল গুলো বাতাসে উড়ছে।আরিয়ান পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে চোখে হালকা হাসি। ইলা ফুল গুলো নিয়ে পেমেন্ট করতে চলে গেলো। ইলা যাওয়ার পরের মুহূর্তে আরিয়ান ফোনটা বের করে ভিডিও অন করে নিলো ফুল, ফুলের পাপড়ি, আলো সবকিছু যেন সিনেমার মতো ফ্রেমে বন্দী হচ্ছে।ইলা ফিরে এসে দেখে আরিয়ান এখনো ফুলের ভিডিও করছে ঠোঁটের কোণে একটু হাসি নিয়ে বলল,
ইলাঃ- আপনিও কি ভিডিও বানান?
ইলার ভয়েজ শুনে আরিয়ান ফোন অফ করে পকেটে রেখে দিলো একটাও কথা না বলে। ইলা কিছুটা বিব্রত হয়ে চোখ নামিয়ে ফেলে নিচের দিকে তাকায়। তার গাল হালকা লাল হয়ে গেছে বুঝতে পারছে না আরিয়ান কেনো চুপ রইলো।

দোকান থেকে বেরিয়ে দুজন হাঁটছে পাশাপাশি রাস্তায় সূর্য নরম হচ্ছে ছায়া লম্বা হয়ে পড়ছে। দুজন অনেক দূরে দাড়ালেও ছায়াতে দেখাচ্ছে দুইজন অনেক কাছে আছে।ইলার হাতে ফুলের প্যাকেট হালকা বাতাসে চুল উড়ছে। হঠাৎ আরিয়ান ধীরে বলল
আরিয়ানঃ- আমার যে জিনিস গুলো ভালো লাগে সেগুলো আমি ক্যামেরায় বন্দী করে রাখি।
ইলা থেমে আরিয়ানের দিকে তাকায়
ইলাঃ- মানে????
আরিয়ান ইলার চোখে তাকিয়ে বলে,
আরিয়ানঃ- ওটা শুধু একটা মুহূর্ত ধরে রাখার জন্য…কারণ কিছু মুহূর্ত শব্দে বলা যায় না।
ইলার হৃদয় হঠাৎ কেমন জানি ছুঁয়ে গেলো সেই কথায়।সে চুপ করে হাঁটতে থাকে কিন্তু ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুখানি হাসি ফুটে ওঠে। গল্প করতে করতে গাড়ির কাছে চলে আসে আরিয়ান ইলাকে গেট খুলে দেয়। ইলা গাড়িতে উঠে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলে,
ইলাঃ- আপনি সবসময় এমন সিরিয়াস থাকেন?
আরিয়ান হেসে বলে,

আরিয়ানঃ- সবসময় না…তবে আমাকে চুপ থাকতেই ভালোলাগে।
ইলার বুকের ভেতর কেমন ধাক্কা লাগে সে কিছু বলতে চায় কিন্তু শব্দ খুঁজে পায় না। রাস্তায় বাতাস হালকা ঠান্ডা হয়ে গেছে গাড়ির ভেতর শুধু ফুলের গন্ধ, আর দুজনের নিঃশব্দ হৃদস্পন্দন।
গাড়িতে উঠার পর থেকে আরিয়ান খুব একটা কথা বলেনি।ইলাও চুপচাপ ছিল মনে হচ্ছিল তার মনের ভেতর অনেক প্রশ্ন জমে আছে কিন্তু উত্তর নেই। বাড়ির গেটে গাড়ি ঢুকতেই রাশেদ তালুকদারের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। বাইরে টেন্টের লোকজন সাজসজ্জায় ব্যস্ত ভিতরে গেস্ট রুমগুলো একে একে ভরে যাচ্ছে। ইলা গাড়ি থেকে নামতেই আরিয়ান বলল,
আরিয়ানঃ- আজকের জার্নিটা সুন্দর ছিলো
বলেই ভেতরে ঢুকে গেলো ইলাও চুপচাপ ধীর পায়ে ভিতরে গেলো আরিয়ান সিরি বেয়ে রায়েদের রুমে চলে গেলো।

( কালরাতে আরিয়ান রায়েদ এর রুমে শিফট হয়েছে অনেক গেস্ট আসার কারণে)
ইলা ভেতরে ঢুকেই সরাসরি চলে গেলো উপরে তার ঘরে। গিয়ে দেখে তাসলিমা বেগম আর সাবিহা তখন সাজগোজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তাসলিমা বেগম আয়নার সামনে থেকে ঘুরে তাকিয়ে বললেন,
তাসলিমাঃ- এই ইলা এত দেরি করলি কেন মা?
ইলা হালকা নিঃশ্বাস ফেলে বিছানায় বসলো তারপর বললো,
ইলাঃ- বড় মা… আজ একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে।
সাবিহাঃ- ঘটনা মানে কী হয়েছে?
ইলা ধীরে ধীরে সবটা বলে ফেললো বাজারে সেই ছেলেদের বাজে কথা,আরিয়ানের রাগ,তারপর হঠাৎ আর্মিদের আসা,আর শেষে আরিয়ান কে একটাও কথা না বলে চলে যাওয়া।সব শুনে তাসলিমা বেগম বিস্মিত হয়ে বললেন,
তাসলিমাঃ- কী বললি আর্মিরা তাকে কিছু না বলেই ছেড়ে দিলো?
ইলা মাথা নেড়ে বলল,

ইলাঃ- হ্যাঁ বড় মা আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ছেলে গুলোকে তো মেরে আলু ভর্তা বানিয়ে দিয়েছিলো তবুও ছেড়ে দিলো কেনো বুঝলাম না।
সাবিহা অবাক চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো,
সাবিহাঃ- তোর মুখে যা শুনছি তা বিশ্বাস করতে পারছি না। তবে আমার মনে হয় আরিয়ানের বন্ধু বান্ধব কেউ ছিলো তাই কিছু না বলে ছেড়ে দিয়েছে।
ইলা চুপ করে রইলো কপালের কাছে চুল গুলো সরিয়ে নিচ্ছে ধীরে ধীরে। মনে কেমন একটা ভয় আবার অদ্ভুত প্রশান্তিও আছে তাসলিমা বেগম বললেন,

তাসলিমাঃ- বাদ দে আজ থেকে বাইরে তুই একা কোথাও যাবি না এমন ঘটনা আবার হলে বিপদ হবে।
সাবিহা গম্ভীর মুখে যোগ করল,
সাবিহাঃ- এরপর থেকে বাইরে যাওয়া লাগলে তোর আব্বুকে সাথে নিয়ে যাবি বুঝলি?
ইলা মৃদু মাথা নেড়ে বলল,
ইলাঃ- ঠিক আছে আম্মু, তবে আজকের দিনটা কেন জানি মনে থেকে যাচ্ছে না…।
সাবিহাঃ- তোর এসব ভাবনার সময় এখন না সবাই পার্লারে চলে গেছে তুই কখন যাবি?
ইলাঃ- আমি কোথাও যাবো না বাড়িতেই সাজবো সিম্পিল।
তাসলিমাঃ- ঠিক আছে মা তোর যেটা ভালো মনে হয় সেটা কর।
তাসলিমা আর সাবিহা চলে গেলো ইলা ঘরে একা রয়ে গেলো জানালার পাশে রাখা ফুলের প্যাকেট খুলে টেবিলে রাখল।হালকা বাতাসে ফুলের গন্ধ ভেসে এল আর তার সঙ্গে ভেসে এল একটা দৃশ্য আরিয়ান এর রাগি লুকটা কিভাবে মারছিলো ছেলেগুলোকে। ইলার চোখে একটুখানি ঝিলিক ফুটে উঠলো ইলা মনে মনে আস্তে বলল,
ইলাঃ- তুমি আসলে কে আরিয়ান খান???

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৪

জানালার বাইরে সূর্য তখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আর ভেতরে ইলার মনে জমে উঠছে এক অনির্বচনীয় কৌতূহল,যা তাকে টেনে নিচ্ছে এক অজানা গল্পের দিকে। ইলা ভাবনা শেষ করে কাচা ফুল দিয়ে নেকলেস বানানো শুরু করলো।
আর আরিয়ান রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লো, আর চলে গেলো এক অজানা স্বপ্নের দেশে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৬