Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ১০ (২)

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১০ (২)

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১০ (২)
সাঞ্জেনা শাজ

শুভ্রতা ছোট ছোট রুটির টুকরো মুখে পুড়ছে আর আড়ে আড়ে তাকাচ্ছে মেহরাদের দিকে। লোকটার মুখে বিরক্তিতার ছাপ স্পষ্ট। এই বিরক্তিতা কি শুধু তাকে নিয়েই নাকি বড় বাবার কথা নিয়েই সে ঠিক বুঝলো না। তবে তার বুঝার অবুঝার বাইরেই সোহানা না বুঝে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে উঠলো,,
“ভাইয়া, মিস আয়রাকে ভাবি হিসেবে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তুমি বিষয় টা কনসিডার করলেই পারো।”
শীতল চোখে সোহানার দিকে তাকালো মেহরাদ। এদিকে শান্তা কপাল চাপড়ে বোনকে চিমটি কাটলো। মেয়েটা কি আক্কল জ্ঞান সত্যি সত্যিই বিক্রি করে দিয়ে এসেছে নাকি যে জানে! বড় ভাইয়াকে এসব ও বলতে পারে? মানায় এটা? তার উপর জানেনা মানেনা কিছু।

“তোর ক্লাসমেট হই? সাজেশন দিচ্ছিস যে! আমি চেয়েছি? নাকি তুই খুব বড় হয়ে গিয়েছিস? কোনটা?”
মেহরাদের শীতল কন্ঠঃ, ধারালো ঠান্ডা চাহনির তোরে নিভে গেল সোহানা। তাদের ভাই’টাও না! একদম যা তা! নয়তো এতো সুন্দর মেয়েকে আবার ভালো না লাগে?কোথাকার কোন রাজকন্যা পছন্দ করে সে দেখে নিবে। চৌধুরীর মেয়েটাকে তার বেশ পছন্দ হয়েছিল। ধুর! ভালো লাগেনা।
তারপর মাথা নিচু করে বোনের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালো। তাকে চিমটি কাটা? এর শোধ সে তুলবে। খুব ভালো করেই তুলবে।
তাদের বাক্যালাপের মাঝেই আবার রিমা বেগম এসে বললেন,
“তোমায় ডাক্তারের কাছে যেতে হবে? সবাই তো অফিস চলে যাবে একটু পর আজ না-হয় কলেজ যেওনা। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। ”

মা’য়ের কথায় শুভ্রতা হালকা মাথা দুলালো। তবে কোন বাক্য বিনিময় করলো না। মেহরাদে’ও আর তাকালো না কারো দিকে নাস্তার প্লেটে নজর দিল।
“দুপুরে রোজা আর জাবির আসবে। মেয়েটা এসে দুটো দিন ভালো করে থাকতেও পারেনি। এবার আসলে রেখে দিবো কয়েকদিন। জাবির কে বলিসতো বাবা ও যেনো যাওয়ার জন্য তাড়া না দেয়। ” ছেলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন জাহানারা বেগম।
মাথা নাড়াল মেহরাদ। এর মধ্যেই আবার তিনি বলে উঠলেন,
“ও বাবা, সমস্যাটা কোথায়?আয়রা কে ভালো না লাগলে অন্য কোন মেয়ে দেখি? রোজাদের তো সময় কম। ও থাকতে থাকতে বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো না? মেয়েটা আবার গিয়ে কবে না কবে আসে! ”
তার সাথে সুর তুলে রিমা বেগম বললেন,

“হ্যাঁ ভাবি সেটাই ভালো হবে। তাছাড়া, শুভ্রতার বাবা’ও ছুটি পাবে কিছু দিনের মধ্যে। উনি আসলে রায়হান আর শুভ্রতার বিষয়টাও দেখা যাবে। দেখা গেলো, দুটো অনুষ্ঠানি না-হয় বাড়িতে ধুমধাম করে করে ফেলা যাবে।”
শুভ্রতা কাঠ হয়ে গেল মুখের খাবার নাড়াচাড়া বন্ধ করে। বাবা আসলেই বিয়ের কথা শুরু হবে, তখন সে কিভাবে এড়াবে এ বিয়ের বিষয়টা? আচ্ছা এখন যেমন আছে, সব কি সবসময় তেমন থাকতে পারেনা?কেন এতো ঝড় ধেয়ে আসে জীবনে?
শান্তার মনটাও ব্যাথিত হলো। তার ভাই আর বোনটার যে কি হবে? সে সিউর, চাচ্চু বাড়িতে আসলেই সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। ভাইয়া কিভাবে সামলাবে সব? তবে, তার মেহরাদ ভাইয়ের উপর সম্পূর্ণ ভরসা আছে। কিন্তু শুভ্রতা?শুভ্রতাটা না আবার মা বাবার কথায় পিছিয়ে যায়? ও তো বাবার মা’য়ের আদরের কাঙাল। দেখা যাবে দু ফোটা চোখের পানি ফেললেই ও সব ত্যাগ করে বসে আছে। মেয়েটার মনটা বড্ড নরম।
মেহরাদ চুপচাপ সামনের খাবার টুকু শেষ করে উঠে দাড়ালো। কোন দিক তাকালো না, কারো কোন কথার প্রতিউত্তর ‘ও করলো না। শুধু বাবাকে বললো,
“আজ একটু লেট হবে অফিস যেতে। একটু সামলে নিও। ” তারপর হন হন করে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।
জাহানারা বেগম মুখ বেজার করলেন। ছেলেটা তার কথা পছন্দ করেনি। সে গলার স্বর শুনেই বুঝেছে। কিন্তু সে এটা বুঝলো না, ছেলেটা বিয়ের কথা বললেই এতো এড়িয়ে যায় কেন? তার মা’য়ের মন দুশ্চিন্তায় কু ডেকে উঠলো।

শুভ্রতা হাটি হাটি পা পা করে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলো। কড়িডরে দাড়িয়ে কি মনে করে, মেহরাদ ভাইয়ের রুমের দিকে তাকালো। দরজাটা হালকা ভেজানো। শুভ্রতার মম টানলো একটু রুমটায় উঁকি দিয়ে তার মেহরাদ ভাই কে দেখে আসতে। কিন্তু সে তার মনের কথা শুনলো না। কারণ, মনের এ কথা শুনলে সে-ই বিপদে পড়বে। নির্ঘাত তাকে দেখলে, দু হাতে পিষে ফেলবে একদম তাকে।
শুভ্রতার শরীর ভাবতেই ঝাকি দিয়ে উঠলো। সে না না বলতে বলতে রুমে গিয়ে দরজা লক করে দিল। গা’য়ের ওড়নাটা বিছানার দিকে না তাকিয়েই ছুড়ে ফেলে জামার পিছনের চেইন খুলতে খুলতে কাবার্ড থেকে কলেজ ড্রেস বের করে নিল। কলেজে যাবে সে। তা না হলে বাড়িতে তার দম বন্ধ লাগবে একা একা। যদি সোহানা’ও চলে যায়। পা তো ভালোই। গেলে সমস্যা হবেনা৷
কাবার্ড টা বন্ধ করে,হাতে কলেজ ড্রেস নিয়ে জামার কাধের অংশটা নিচে নামাতে নামাতে বিছানার দিকে তাকাতেই আৎকে উঠলো শুভ্রতা। চোখ বড় বড় করে শক্ত কাঠ হয়ে তাকিয়ে রইলো বিছানায় পিছনে হাতের তালু ঠেকিয়ে বসে থাকা মেহরাদ ভাইয়ের দিকে। হাতে থাকা কলেজ ড্রেসটা দু হাতে চেপে বক্ষভিবাজনের সামনে রেখে বক্ষভিবাজ আড়াল করলো শুভ্রতা। পিছনে চেইন খোলা, কাধ কিছুটা উন্মুক্ত,সেই সাথে মেহরাদ ভইয়ের সমুদ্রের অতল গভীরের ন্যায় গভীর চাহনি তার সমস্ত কায়া হিম করে দিয়ে গেল।
সে তোতলাতে তোতলাতে বললো,

“এখানে… এখানে কি করছে…ন? রুমে যান।”
চোখ সড়ালো না মেহরাদ। শুভ্রতার চোখে চোখ রেখেই সোজা হয়ে বসে লম্বা হাতখানা দিয়ে একটানে শুভ্রতাকে নিজের কোলে চেপে বসালো। শুভ্রতা মৃদু চিৎকার করে চেচিয়ে উঠলো। শক্ত কাঠ হয়ে বসে রইলো মেহরাদের উরুর উপর,হাতের ড্রেস খানা ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে এখন। ।
শুভ্রতা জানে,এখন চাইলেই সে ছুটতে পাড়বেনা। সে শুধু উন্মুক্ত কাধ, আর পিঠ নিয়ে কুকড়ে বসে রইলো । সেই সাথে রাতের কথা মাথায় ঘুরঘুর করছে।
মেহরাদ শুভ্রতাকে এক হাতে চেপে ধরে আরেক হাতে বালিশের পাশ থেকে শুভ্রতার মোবাইলটা হাতে নিল। লক খুলে কল লিস্টে ঢুকে শুভ্রতার মুখের সামনে ধরলো।
“এখানে কতটা কল এসেছে?”
শুভ্রতা নিশ্চুপ। মাথা নুয়িয়ে রেখে হাত দুটো মুষ্টি বদ্ধ করে রেখে জামার কোনা চেপে। নিশ্বাস ফেলছে গুনে গুনে। এখন কি জবাব দিবে সে?

“আন্সার মি! ”
মেহরাদের শীতল কন্ঠে গলা শুকিয়ে কাঠ হলো শুভ্রতার। শুষ্ক গলা ভিজিয়ে মিনমিন করে বললো,,
“ঊন… ঊনপঞ্চাশ টা। ”
সাথে সাথেই হাতে থাকা মোবাইল খানা তীব্র বেগে ছুড়ে মারলো সামনের দেয়ালে। শুভ্রতা ভয়ে কেপে উঠে সিটিয়ে গেল আরও। তবে, মেহরাদ অবিচল। কোমর চেপে ধরা শুভ্রতার হাতের বাধনে কোন নড়চড় নেই। বহমান ঠান্ডা হীম শীতল স্বরে আওড়াল,,
“যাকে মোবাইলে কল দিলে পাওয়া যায় না, তার মোবাইল ইউজ করার কোন কারণ দেখছি না আমি। এখন ঠিক আছে। ”
শুভ্রতা মুখ ফুটে কিছু বললো না। সে বুঝতে পাড়ছে, রাতে তার এটা করা অন্যায় হয়েছে। কিন্তু এখন সেটা বললেও কানে নিবেনা মেহরাদ ভাই। বরং আরও রেগে যেতে পারে। একটা মানুষ কম টেনশনে তো আর এতোবার কল দেয়নি তাই-না! তবে মোবাইলটার জন্যও মনটা হাহাকার করে উঠলো। দ্বী-খন্ডিত হয়নি। তবে, গ্লাস টলাস ফেটেছে কি না কে জানে!
শুভ্রতার মনের ইশান কোনে মেঘ জমলো। সে বুঝতে পেড়েনি মেহরাদ ভাই এতটা দুশ্চিন্তা করবে সামান্য পা মচকানো নিয়ে। তার ভিতরটা সত্যিই কিঞ্চিৎ অপরাধ বোধে ছেয়ে গেল৷
“আমি বুঝতে পাড়িনি, আপনি এতো দুশ্চিন্তা করবেন। আ’ম সরিহ মেহরাদ ভাই। ”
“আমারটা বুঝবি কেন? তোর মামাতো ভাই রায়হানের টা বুঝলে কাজে দিবে তোর। ওকে বুঝিস ভালো করে। ”
“আমি সত্যিই বুঝতে পাড়িনি। ঔষধ খেয়ে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি তা-ও খেয়াল নেই। ” চোখে জল নিয়ে উঠলো শুভ্রতা।
“একদম ফেচফেচ করে কাদবি না শুভ্রা। একদম না। আমার মেজাজটা আরও বিগড়ে যাবে না-হয়। ”
“আপনি রেগে যাচ্ছেন কেনো? আর চালাবো না ফোন আপনি না চাইলে। দরজাও লক করবো না।প্লিজ রাগ করে থাকবেন না। ”

“আচ্ছা, মোবাইল ইউজ করবি না। দরজা লক করবি না, আর?আর মা বাবা বললে ডেং ডেং করে আমাদের বিয়ে অস্বীকার করে মামাতো ভাইয়ের সাথে বিয়েতে রাজি হয়ে যাবি? তাইতো? ”
“এটা কখন বললাম? ” নাক টেনে বললো শুভ্রতা।
“তোর বলতে হবে? একশ বার না করিস যে বাড়িতে জানাতে। এটা না হলে আর কি কারণে না করিস বল? বল আমায়? তুই ঠিক কি চাচ্ছিস? প্রতিদিন বিয়ে নিয়ে এসব শুনতে ভালো লাগে? বিবাহিত হয়েও? ”
শুভ্রতা চুপ করে নাক টানলো ক্ষনে ক্ষনে। তার ভয় করে। খুব ভয়ে করে। তাদের বিয়ের কথা সকলে জানলে যে ঝড় বয়ে যাবে তালুকদার বাড়িতে তার আগমনী বার্তায় সে খুব ভয় পায়। খুউউব ভয়।
ফুস করে শ্বাস ছাড়লো মেহরাদ। কিছু বললেই কেদে কেটে দুনিয়া ভাসেবে! মেয়ে মানুষ পারেও!
সে শুভ্রতার উন্মুক্ত পিঠের দিকে মুখ এগিয়ে নিয়ে কামড় বসালো একটা, সেই লাল তিল খানায়। শুভ্রতা সাথে সাথেই ‘উফফ’ করে উঠলো। মেহরাদ এতে আরও তীক্ষ্ণতা বাড়ালো। একটু পর ছেড়ে দেখলো দাতের ক্ষত হয়ে গিয়েছে শুভ্র পিঠ খানায়।
তারপর মুখ উচিয়ে উন্মুক্ত কাধের কালো রঙা স্ট্রিপটা সড়িয়ে ঠোঁট চেপে বললো,,

“ঠিক এভাবেই আমার ভিতরটা খামচে উঠে। কামড়ে ধরে এক অদৃশ্য ভয়। যে ভয়, আমাকে তোকে বার বার হারানোর ভয় দেখিয়ে উন্মাদ করে তুলে। হৃৎস্পন্দন থমকে দেয়। বেচেইন করে তুলে সমগ্র আত্না। ”
পিঠের জ্বলুই,উদরে শক্ত হাতের কঠিন বাধন সব মিলিয়ে চোখ বন্ধ করে মুখ কুচকে রেখেছে শুভ্রতা। তার মেহরাদ ভাই যে এখন সত্যি সত্যিই উন্মাদ হয়ে আছে সে বেশ বুঝতে পাড়ছে। তীব্র অস্বস্তি, জ্বালার মধ্যেও তার মনে এক পশলা নরম, কোমল আবেশ ছেয়ে গেল। তাকে, তার মেহরাদ কতটা পাগলের মতো ভালোবাসে সেটা উপলব্ধি করলেও দুনিয়ার সকল কিছু তার ফিকে মনে হয়। খুউব তুচ্ছ!
হটাৎ বাহির থেকে দরজায় করাঘাতের আওয়াজ ভেসে আসলো। সোহানা ডাকছে,,

“শুভ্রতা! এই শুভ্রতা! দরজা আটকে রেখেছিস কেন? রেডি হচ্ছিস? কলেজে যাবি না-কি? আমি তো ভাবলাম তুই যাবি না, আমিও যাবোনা। কিরে বল যাবি না-কি না?”
সেকেন্ডে পাঁচ বার দরজায় থাবা মে’রে জিজ্ঞেস করছে সোহানা। আকস্মিক সোহানার আগমনে হকচকিয়ে উঠে দাড়ালো শুভ্রতা। মেহরাদও কিছুটা অন্যমনস্ক হওয়ায় উঠে যেতে পাড়ল।
সোহানা যে হারে চেচাচ্ছে আর দরজায় থাবা মারছে পুরো বাড়ির মানুষ একটু পর-ই তার রুমের সামনে চলে আসবে নিশ্চিত সে। তার কোন রকম গলা খাকাড়ি দিয়ে বললো,
“যাবো.. যাবো। রেডি হচ্ছি। তুই-ও রেডি হ গিয়ে। ”
“কি আশ্চর্য! দরজা আটকে রেখেছিস কেন?খুলে কথা বল! কেন যাবি কলেজে? তুই কি গাধি? সবে বন্ধ পাইনা। যাই তোর উছিলায় একটু বাড়িতে থাকবো তা না কলেজে যাবে নাকি বলে? দরজা খোল। ”
শুভ্রতা চোখ বড় বড় করে তাকালো মেহরাদের দিকে। সেই সাথে চোখ দিয়েই শাসালো। অর্থাৎ, তাকে কেমন মাইনকা চিপায় ফেললো লোকটা! এখন সে কিভাবে দরজা খুলবে? এই বদ লোকটাকে রুমে বন্ধরত অবস্থায় রার সাথে দেখলে উপায় আছে!!
সে কিছু বলবে তার আগেই শান্তার গলা শুনা গেল বাহিরে। ও সোহানাকে বলছে,,

“মেয়েটা বোধহয় ড্রেস চেঞ্জ করছে। কি শুরু করলি তুই! তোর মতো সবাই ফাকিবাজ। ছুতো পেলেই কলেজ যাবো না, কলেজ যাবো না করবে। আয় আ।আর সাথে।। ” বলে টেনে নিয়ে গেল শান্তা। মেয়েটা যা শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে রুম থেকে বের হয়ে এসেছে সে। পাছে না আবার সকলে চলে আসে এখানে!
দরজার পিছনে থেকে কদমের আওয়াজ মিলিয়ে যেতেই স্বস্থির নিশ্বাস ছাড়লো শুভ্রতা। জামার পিছনের চেইন লাগাতে লাগাতে মেহরাদের দিকে মুখ কটমট করে তাকিয়ে বললো,,
“আপনি এ হুট হাট রুমে চালে আসেন দেইখাই দরজা লক করে রাখি আমি,বুঝলেন?”
“কি বললি তুই?” বিছানা থেকে উঠে দাড়াতে দাড়াতে জিজ্ঞেস করলো মেহরাদ। চোখে শাসিয়ে।
ফ্লোর থেকে কলেজ ড্রেস নিয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা আটকে দিল শুভ্রতা। মেহরাদ দরজায় থাবা মে’রে বললো,

“বেয়াদব, কি বললি আবার বলে যাহ। ”
“একশো বার বলবো। ”
“বলে দেখ।”
“আপনি আমার মোবাইলটা ভেঙ্গেছেন। এটার কিছু হলে আমি আপনারটা নিয়ে আসবো। ”
“আচ্ছা আনতে গিয়ে দেখিস। এটার সাথে আরও অনেক কিছুই দিয়ে দিবো, লাইক বেবি । যাস তুই। ”
“ছিঃ, আপনি একটা অশ্লীল, নির্লজ্জ ।”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১০

“ঠিক আছে। সব আমি, তুই ভালো। তোর কথা রাখিস, মোবাইল আনতে যাস আমারটা। সময় গভীর রাত একটা। সাথে এটাও নিয়ে গেলাম। তুই ভালো মানুষি দেখাস, কথা রেখে। গেলাম। ”
বলেই দরজা খুলে কদম বাড়িয়ে নিজের রুমের দিকে হাটা দিল। হাতে মোবাইল দুটো। একটা তার, আরেকটা শুভ্রতার। সে ভালো না। না থাক! বউয়ের কাছে এ দুনিয়ার সবাই ভালো না,নির্লজ্জ। তাতে কি?

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১১