Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩৮

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩৮

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩৮
ছায়া

রাস্তার পাশে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছে। কেউ চিৎকার করছে “আরে অ্যাম্বুলেন্স ডাকো ছেলেটা নিশ্বাসই নিচ্ছে না” আর আরিয়ান রক্তে ভেজা অবস্থায় একদম স্থির শরীরটা বেঁকে আছে। দুজন এসে তাড়াতাড়ি তাকে তুলে অ্যাম্বুলেন্সে তুলল।চোখে বন্ধ আছে শুধু বুকে ক্ষীণ ওঠানামা বুঝা যাচ্ছে মৃত মানুষের মতো নিস্তব্ধ হয়ে আছে।
একজন আরিয়ানের বাড়িতে খবর জানার জন্য তার পরিচয় জানার জন্য মানিব্যাগ খুজতে লাগলো পার্স খুলে আইডি দেখে চমকে ওঠে।
“স্যার তো আর্মি অফিসার ক্যান্টরমেন্টে খবর দিতে হবে।
লোকটি ক্যান্টরমেন্টে ফোন দিয়ে জানানো একটু পরেই হাসপাতাল পৌছে যায়। আরিয়ানাকে বেডে শিফট করার কিছুক্ষণ পরেই দুইজন আর্মির অফিসার এসে হাজির হয় কয়েক মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত হলো
আরিয়ানকে সাধারণ হাসপাতালে রাখা যাবে না,তাকে আর্মি মেডিকেল সেন্টারে শিফট করতে হবে। আবার দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে আর্মির মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলো।
এদিকে হালিমা ইলাকে দুইজন বসে আছে ইলার চুপচাপ আছে কিছু বলছে না হঠাৎ ফোন কাঁপতে লাগলো। স্ক্রিনে অজানা নম্বর ইলার বুক হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে গেল।

ইলাঃ- হ্যালো
ওপাশ থেকে তাড়াহুড়া আর ভয়মিশ্রিত কণ্ঠ
“আপনি কি আরিয়ান স্যার এর কিছু হন উনার কল লিস্টে লাস্ট নাম্বার আপনার ছিলো ” লিটিলহার্ট” নামে সেভ করা।
ইলাঃ- জি… বলুন প্লিজ।
“ম্যাম আরিয়ান স্যার অ্যাক্সিডেন্ট করেছে অবস্থা খুবই গুরুতর।
এক মুহূর্তে ইলার চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল।ফোন হাত থেকে পড়ে যেতে যেতে সে কোনোরকমে ধরল।
ইলাঃ- ক-কোন হসপিটাল আমি আসছি
” ঢাকা মেডিকেল এ আছে আপনি তাড়াতাড়ি চলে আসুন
ইলা দাঁড়াতেই পারল না হঠাৎ দৌড়ে বেরিয়ে গেল দরজা ঠেলে। ইলার কান্না মনের অজান্তে কান্না করছে সে জানে না কেনো একটা কষ্ট হচ্ছে আরিয়ানের জন্য ইলাকে পাগল পাগল লাগছে। দৌড়ে দৌড়ে ইলা হাসপাতালে পৌঁছে হাসপাতালে ঢুকেই ইলা চিৎকার করতে লাগল
ইলাঃ- কোথায় আমার স্বামী প্লিজ বলুন কোথায়?

একজন নার্স এগিয়ে এসে বলল,
“ম্যাম আপনি কাকে খুজছে একটু বলবেন প্লিজ।
ইলাঃ- আমার স্বামী আরিয়ান খান একটু আগে এক্সিডেন করে এডমিট হয়েছে।
নার্স এক সেকেন্ড চুপ করে গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,
“আরিয়ান স্যারকে আর্মি মেডিকেল হেডকোয়ার্টারে শিফট করা হয়েছে ম্যাম।
ইলাঃ- আমাকে তো বলা হলো তাকে এখানে আনা হয়েছে।
নার্স নরম গলায় বলল,
“ম্যাম উনি আর্মির স্পেশাল ইউনিটের একজন সিভিল হাসপাতালে রাখা নিরাপদ না আর অবস্থা খুব ক্রিটিক্যাল…”
ইলার পা কাঁপতে লাগল হালিমা তাড়াতাড়ি তাকে ধরল বলল,
হালিমাঃ- চল আমরা এখনই ওখানে যাবো।
ইলাঃ- কিভাবে এক্সিডেন করলো কিভাবে হলো এই সব?
পাশে থাকা এক ভদ্রলোক যে ঘটনা দেখে পুলিশকে জানিয়েছিল আর আরিয়ানকে হসপিটালে নিয়ে এসেছে সে এগিয়ে এসে বলল,

“ম্যাডাম একটা সাদা গাড়ি ইচ্ছে করেই বাইকটা ধাক্কা দেয় তারপর পালায়।
ইলার শরীর জমে গেল চোখে অন্ধকার হয়ে গেল। উঠে দাঁড়িয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
ইলাঃ- উনার কে এমন শত্রু থাকতে পারে।
Time skip
রিকশা থামতেই সামনের উঁচু গেটটা যেন অচেনা অজানা কোনো পৃথিবীর দরজা ARMY MEDICAL CENTER RESTRICTED AREA ইলা দারিয়ে আছে গেট বন্ধ।দুই জন আর্মি অফিসার দাঁড়িয়ে মেডিকেল সেন্টারের গেট কড়া পাহারায় ইলা দৌড়ে গেটের সামনে গিয়ে চিৎকার করল
ইলাঃ- আমার স্বামী ভেতরে আমাকে ঢুকতে দিন
দয়া করে আমাকে ঢুকতে দিন।
সেনা গার্ড ঠান্ডা গলায় বলল

“ম্যাম আইডি ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয়।”
ইলা থতমত খেয়ে ব্যাগ থেকে NID বের করে দিল।
হাত এতটাই কাঁপছে যে কার্ডটা দুবার পড়ে যাচ্ছিল।সেনা সদস্য কড়া চোখে সামনে পেছনে তাকাল।
“এটা সাধারণ হাসপাতাল নয় এটা মিলিটারি সেকশন যেখানে যে কেউ ঢুকতে পারে না।
সে আরেকজনকে ডাকল সে এসে বলল
“ম্যাডাম এটা CMH নয় এখানে প্রবেশ করতে হলে অনুমোদন লাগে।যার কাছে আসছেন তিনি আপনাকে গেট পাস দিয়েছেন?
ইলা মাথা নাড়ল “না”তার চোখের নিচ দিয়ে পানি ঝরছে।সে বুঝে গেছে আরিয়ান এখানে আছে কিন্তু তার কাছে যেতে পারবে না।
ইলা হতাশা ভরা কণ্ঠে

ইলাঃ- আমি….আমি তার খুব কাছের মানুষ…উনি এক্সিডেন করেছে আমাকে যেতে দিন প্লিজ।
সেনা সদস্য মুখে কড়া ভঙ্গি রাখলেও ইলার কান্নায় একটু নরম হয়ে গেল।সে ওয়াকি টকিতে ভেতরের ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলল।
ডিউটি অফিসারের উত্তর ওয়াকিটকিতে
“আরিয়ানের কেস সেনসিটিভ সিভিলিয়ান এন্ট্রি অ্যালাউ নয়। যদি কোনো আর্মি সদস্য অনুমতি দেগ তাহলে গেট খোলা যাবে না।
ইলা যেন জায়গাতেই স্থির হয়ে গেল ঘাড় নিচু করে হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরে চোখ দিয়ে পানি পড়া থামছে না।
সেনা সদস্য নরম গলায় বলল

“ম্যাডাম আমরা আপনাকে ঢুকতে দিতে চাই,কিন্তু নিয়ম খুব কড়া ভেতর থেকে যদি অনুমতি আসে তখনই আপনি ঢুকতে পারবেন। আপনার কি আর কোনো পরিচিত কেউ আছে।
ইলাঃ আমি কাউকে চিনি না
এই কথা বলে ইলার হাঁটু ভেঙে মাটিতে বসে গেল।
সে হাত জোড় করে ফেলল
ইলাঃ- স্যার… প্লিজ…আমাকে যেতে দিন আমি একটা বার শুধু তাকে দেখবো।
গার্ড মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইল ইলা ভেঙে পড়ল মাটিতে বসেই কান্নায় চিৎকার করে উঠল
ইলাঃ- আল্লাহ প্লিজ সব ঠিক করে দাও আল্লাহ
অন্যদিকে হাসপাতালের ভেতরে তখন সার্জারি রুমের লাল লাইট জ্বলছে ডাক্তারদের আতঙ্কিত দৌড়াদৌড়ি। আরিয়ান নিথর দেহ পুরো শরীর ব্যান্ডেজে মনিটরে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ডাক্তার চিৎকার করছে
সেনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে
“আরিয়ান স্যার এর অবস্থা খুব খারাপ বাঁচবে কি না বলা যাচ্ছে না।
কথাটা ইলার কানে যেতেই তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।ইলা মাটিতে বসে অসহায়ভাবে ফিসফিস করে
ইলাঃ- আল্লাহ প্লিজ আপনি ওকে নিয়ে যাবেন না আমি কিছুই বুঝতে পারিনি বুঝে ওঠার আগেই কেন সব শেষ হয়ে যাচ্ছে?

হালিমাঃ- ইলা কাঁদিস না কিছু হবে না চলো
বাসায় ফোন করি।
গেটের সামনে এখনো ইলা কাঁদছে চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। হালিমা বারবার পানি দিচ্ছে ইলা পানিও খেতে পারছে না।।সেই সময়ে ইলা হঠাৎই ফোনটা শক্ত করে ধরে শান্ত কণ্ঠে বলল “আরিয়ানের বাড়িতে ফোন দিতে হবে ”
হাত এতটাই কাঁপছিল যে নাম্বার ডায়াল করতেও পারছিল না।হালিমা ফোনটা ইলার হাতে ধরে দিল।ফোন বারবার রিং হচ্ছে মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে।অবশেষে অপাশে কারও ঘুম ঘুম উদ্বিগ্ন গলা নাফিযা খান
নাফিযাঃ- হ্যালো… কে?
ইলা গলা খুলতেই পারছিল না কণ্ঠ আটকে গেছে
অবশেষে কোনোমতে বলল
ইলাঃ- আ…আম্মা… আমি… ইলা…
নাফিযা সঙ্গে সঙ্গে সজাগ হয়ে উঠলেন
নাফিযাঃ- এত রাতে ফোন কি হয়েছে মা?তুমি ঠিক আছো তো?
ইলা আর কান্না ধরে রাখতে পারল না তার কণ্ঠ ভেঙে গেল
ইলাঃ- আম্মা… আরিয়ান… আরিয়ান এক্সিডেন্ট করেছে… অবস্থা খুব খারাপ…লও… ওকে আর্মি মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে… আমাকে ঢুকতেও দিচ্ছে না।
লাইন ওপাশে নিস্তব্ধতা তারপর হঠাৎ একটা দম বন্ধ করা কান্নার শব্দ। নাফিযা খান চিৎকার করে তার স্বামীকে ডাকছে

নাফিযাঃ- ওঠো আমাদের ছেলে… আমাদের ছেলে…
মেহেরাবঃ- কি হয়েছে
নাফিযাঃ- আমাদের ছেলে এক্সিডেন করেছে। ইলা ভেঙে পড়েছে অকে ভিতরে ডুকতে দিচ্ছে না।
পাশ থেকে মেহেরাব খান ফোন ধরলেন
মেহেরাবঃ- শান্ত হও মা ডাক্তার কি বলেছে? ও শ্বাস নিচ্ছে তো?
ইলাঃ- কিছুই জানি না ওরা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না…
ওপাশে মেহেরাব খানের গম্ভীর দম বন্ধ করা দীর্ঘশ্বাস
মেহেরাবঃ- এতো রাতে রওনা দিলে সকাল ছাড়া পৌঁছাতে পারব না মা তুমি গেটের সামনে থাকো… ভেবো না ওর কিচ্ছু হবে না আমাদের ছেলে খুব শক্ত।
কিন্তু কথার মাঝেই নাফিযা খানের কান্নার শব্দ
নাফিযাঃ- আমার ছেলেটা… ওর কি হয়েছে আল্লাহ…”
ইলা ফোনটা বুকে চেপে ধরল সে আর কথা বলতে পারল না। হালিমা পুরো কাঁপা হাতে পরির নাম্বার ডায়াল করল ফোন ধরতেই পরির ঘুম ঘুম বিরক্ত গলা
পরিঃ- হালিমা এই রাতে কল কেন?

হালিমাঃ- পরি… আরিয়ান ভাই… এক্সিডেন্ট করেছে…অবস্থা খুব খারাপ…
পরিঃ- কি তোরা কোথায় ইলা ঠিক আছে তো?
হালিমাঃ- আমরা আর্মি মেডিকেলের গেটে কিন্তু ঢুকতে দিচ্ছে না…
পরিঃ- আমাদের আরিয়ান ভাইয়াকে… আল্লাহ ওকে বাঁচিয়ে দাও…
অন্যদিকে ইলা ফোন দিল তার বাবাকে হৃদস্পন্দন থেমে থেমে চলছে।হাসপাতালের গেটের আলোয় ইলার মুখ ফ্যাকাশে।সে কাঁপতে কাঁপতে বাবার নাম্বার চাপল দুইবার রিং হতেই গভীর ভারী গলা
রাশেদঃ- ইলা মা? এত রাতে কল কি হয়েছে?
রাশেদ তালুকদার ফোন ধরার সাথে সাথে ইলা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো
ইলাঃ- আব্বু… আরিয়ান…আরিয়ান এক্সিডেন্ট করেছে…আব্বু…আমি ঢুকতে পারছি না।
রাশেদ তালুকদার প্রথমে স্তব্ধ তারপর তিনি গম্ভীর, ভারী কণ্ঠে বললেন
রাশেদঃ- ইলা কান্না থামাও আমি ক্যান্টরমেন্টে ফোন দিচ্ছ। আর আমি এখনই বের হবো।সকালের আলো ফুটলেই পৌঁছে যাবো।তুমি গেটের সামনে থাকো এক পাও নড়বে না।তুমি একা না আমি আছি। আমি আসছি মা
এবার ইলা একদম শিশুর মতো কেঁদে ফেলল

ইলাঃ- আব্বু… আমি খুব ভয় পাচ্ছি।
রাশেদ তালুকদারের গলা ভারী হয়ে গেল
রাশেদঃ- আরিয়ান তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না আল্লাহর উপর ভরসা রাখো। ভয় পাইও না ইলা মা তুমি না আমার সাহসী মেয়ে।
ইলা আর কিছু বলল না ফোন কেটে গেল ইলা গেটের সামনে বসে।রাত ৩ টা ইলা শুধু দোয়া করছে
ইলাঃ- প্লিজ… আরিয়ান… ফিরে এসো…
হালিমা মাথায় হাত বুলিয়ে বলল
হালিমাঃ- সকাল হলে সবাই চলে আসবে তুই একা না।
ইলা ধীরে মাথা নেড়ে ভাঙা কণ্ঠে বলল
ইলাঃ- আমি এক মুহূর্তও ওকে ছাড়া থাকতে পারছি না হালিমা খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
লিয়ান দূরে গাড়ির ভেতর থেকে হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা হাসি দিল
লিয়ানঃ- আরিয়ান গুড বায় এখন ইলা শুধু আমার।
গেটের সামনে ইলা তখনো হাঁটু গেড়ে বসে রাত কেটে ভোরের আলো উঠতে শুরু করেছে। গার্ড পরিবর্তন হলো কিন্তু ইলা নোড়েনি একবারও।চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে গেছে।

হালিমা পুরো রাত ধরে ইলার পাশে ছিল হালিমার মাথায় ঘুরছে একটাই কথা ইলা এমন ভাবে কাঁদছে আরিয়ানের জন্য? ও তো নাকি ভাইয়াকে ভালোবাসে না তাহলে কিসের টানে এতটা ভেঙে পড়েছে? সে ইলাকে কখনো কাউকে নিয়ে এত দিশেহারা হতে দেখেনি।
হঠাৎ ভেতরের গেট থেকে গাড়ির শব্দ একটা কালো টয়োটা ক্রুজার গেটের সামনে থামল। দুইজন সশস্ত্র আর্মি অফিসার দরজা খুলে নামতেই গার্ডরা স্যালুট দিয়ে দাঁড়াল। গাড়ির পিছনের দরজা খুলতেই বেরিয়ে এল একজন লম্বা, রাগী চেহারার, অত্যন্ত হ্যান্ডসাম পুরুষ আরিয়ান এর ব্যাচ মেট ক্যাপ্টেন সাজু খান।
চোখে সানগ্লাস গায়ের ওপর ক্যামোফ্লেজ জ্যাকেট, মুখে রাগে জমাট হয়ে থাকা কড়া ভঙ্গি। সাজু গার্ডকে জিজ্ঞেস করল

“কোন মেয়েটা সিভিলিয়ান পাস ছাড়া ভেতরে ঢুকতে জোর করছিলো?”
গার্ড একটু সংকোচ নিয়ে ইলার দিকে ইশারা করল।ইলা ধীরে ধীরে মাথা তুলল সাজু তার দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড ইলার চোখ চোখ, কান্না, ভাঙা মুখ সবই দেখে নিল সে হঠাৎ কঠোর গলায় বলল
“আপনি আরিয়ানের কে হন?
ইলা শব্দ খুঁজে পেল না গলার ভেতর কাঁটা লেগে আছে যেন।
ইলাঃ- আ…আমি… আমি ওর… খুব কাছের মানুষ প্লিজ আমাকে ভেতরে যেতে দিন।
সাজু ঠান্ডা মুখে তাকিয়ে রইল এক মুহূর্ত যেন অনন্ত সময় হয়ে গেল।হঠাৎ সাজু গম্ভীর কণ্ঠে বলল
“গেট ওপেন করো তিনি ভেতরে যাবে।
একজন জিজ্ঞেস করল
“স্যার অনুমোদন লাগবে”
সাজু চোখ তুলে শুধু একবার তাকাল আর কোনো শব্দের দরকার হলো না। গেট ধীরে ধীরে খুলে গেল ভারী শব্দে ইলার বুক কেঁপে উঠল।

ইলা আর হালিমা ভেতরের দিকে হাঁটছে সাজু তাদের সামনে সোজা শক্ত ভঙ্গিতে হাঁটছে। আকাশে হালকা কুয়াশা সাজু ভবন গুলো সাদা সাদা চকচকে ক্লিন দূরে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ভোরের প্যারেড চলছে। সবকিছু খুব সাজানো খুব কঠোর এই পরিবেশে ইলা আরও ছোট আর অসহায় হয়ে যাচ্ছে। সাজু থেমে রাজ্যের মতো গম্ভীর গলায় বলল
“তাকে হয়তো দেখা যাবে না এখনো সার্জারি শেষ হয়নি কিন্তু আপনি ভিতরে বসে থাকতে পারেন।
ইলা মাথা নেড়ে স্যার শব্দটাও বলতে পারল না।রেড জোনে পৌঁছে ইলা দেখল সার্জারি রুমের লাল লাইট এখনো জ্বলছে।বাইরে দুজন ডাক্তার হতাশ মুখে কথা বলছে
“বডি খুব ড্যামেজড লো ব্লাড প্রেসার হাই স্পিড ইমপ্যাক্ট রিবস ফ্র্যাকচার…”
ইলা শুনতে শুনতেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়ল।হালিমা তাকিয়ে ভাবছে এই মেয়েটা আরিয়ানকে এত ভালোবাসে? কিন্তু ওরা তো মানে ইলা তো কিছুই বলে নি আগে এমন কিছু।
সাজু ধীরে দাঁড়িয়ে ইলাকে দেখল তার কঠিন চোখে প্রথমবার একটা নরম ভাব দেখা গেল। সামির নরম গলায় বলল
“আপনি ভয় পাবেন না আরিয়ান খুব স্ট্রং ছেলে। ওর কিছু হবে না।
ইলাঃ- আমি ওকে দেখতে চাই একবার শুধু একবার।
সাজু একটু থমকে গেল তারপর ধীরে বলল

“সার্জারি শেষ হলে আমি নিজে আপনাকে নিয়ে যাব।
১ ঘণ্টা পরে সার্জারি রুমের লাইট নিভে গেল। দরজা খুলতেই কয়েকজন ডাক্তার বেরিয়ে এল সবার চেহারায় গুরুতর ক্লান্তি সামির এগিয়ে গেল
“হাউ ইজ হি?
ডাক্তার গভীর শ্বাস নিয়ে বলল
“ক্রিটিক্যাল কিন্তু আমরা স্টেবল করেছি আগামী ২৪ ঘণ্টা সবচেয়ে রিস্কি।
ইলার মাথা ঘুরে গেল সে সাজুর কাছে গিয়ে বলল
ইলাঃ- প্লিজ আমাকে নিয়ে যান আমি দেখতে চাই।
সাজু প্রথমে একটু চমকে গেল একটা সিভিলিয়ান মেয়ে আরিয়ানের জন্য এত কান্না করছে কে সে সাজু নরম গলায় বলল “চলুন”
ইলা যাওয়া শুরু করলো হঠাৎ ইলাকে থামিয়ে দিয়ে সাজু বলল

“আপনি ভিতরে যেতে পারবেন কিন্তু মাত্র এক মিনিট এর জন্য।
ICU এর কাছে আসতেই ইলার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল গলার ভেতর কাঁটা লেগে আছে এমন একটা অবস্থা ইল দরজা খুলল ভেতরে ঢুকেই ইলা স্থির হয়ে গেল।
আরিয়ান তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরা আহত সৈনিক।মুখ ফ্যাকাশে মাথায় ব্যান্ডেজ, শরীর নীল কালশিটে, নাকের পাশে অক্সিজেন মাস্ক, বুকে মেশিনের তার।
হার্ট মনিটরের টিক টিক শব্দ ইলার বুক ভেঙে যাচ্ছে প্রতিটা শব্দে। ইলা কাছে গিয়ে ধীরে বলল
ইলাঃ- আপনি শোনেন আমি এখানে আছি প্লিজ ফিরে আসুন আপনার সব কথা শুনবো আমি।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আরিয়ান শুনতে পাচ্ছে কি না সেটাও জানা নেই। ইলা হাত বাড়িয়ে আরিয়ানের আঙুল ছুঁতেই মৃদু একটু নড়ল আরিয়ানের আঙুল।ইলা চমকে গেল মুখে কান্না-হাসির মিশ্র আলো

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩৭ (২)

ইলাঃ- আপনি শুনতে পারছেন আরিয়ান আমি এখানে আছি।
মনিটরের বীপ একটু বেড়ে গেল যেন আরিয়ানের বুকের ভিতর থেকে চাপা প্রতিক্রিয়া।সে চোখ না খুললেও হাতের নড়ানোই প্রমাণ সে ইলার কথা শুনছে। সাজু বাইরে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্য দেখল।তার চোখ কঠোর থেকে ধীরে ধীরে বদলে গেল।
সে ভাবল এই মেয়েটা সত্যিই আমার আরিয়ানের জন্য অনেক কিছু খুব গভীর কিছু অনুভব করে এই মেয়ের জন্য।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩৯