ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৯
ছায়া
জানলার ভারী পর্দা ভেদ করে সকালের এক চিলতে সোনালী রোদ ইলার চোখের ওপর এসে পড়ল। ইলার ঘুমটা ভাঙলেও সে চোখ খুলল না।কাল রাতের প্রতিটা মুহূর্ত, আরিয়ানের প্রতিটা স্পর্শ আর ডায়ালগগুলো তার মস্তিষ্কে ভিড় করছে। তার শরীরের প্রতিটি কোণ এখনো আরিয়ানের অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ইলা আলতো করে নড়াচড়া করতেই কোমরে একটা শক্ত হাতের টান অনুভব করল।
আরিয়ান তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আছে। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস ইলার ঘাড়ের ওপর পড়ছে। আরিয়ান ঘুমন্ত অবস্থাতেই যেন তাকে ছাড়তে চাইছে না।ইলা আস্তে করে আরিয়ানের হাতের বাঁধন আলগা করে তার দিকে ঘুরে তাকাল। ঘুমের ঘোরে আরিয়ানকে ঠিক ছোট বাচ্চার মতো নিষ্পাপ লাগছে। ইলা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল তার ‘ভয়েজ কিং’-এর দিকে। কাল রাতের সেই আগ্রাসী পুরুষটা এখন কতটা শান্ত!
ইলা সাহস করে আরিয়ানের কপালে একটা আলতো চুমু খেল। ঠিক তখনই আরিয়ান মুচকি হাসল। তার চোখ এখনো বন্ধ।
আরিয়ানঃ- চোরের মতো চুমু খাওয়াটা কি ঠিক ইলাফুল?রাতে তো বেশ বীরত্ব দেখাচ্ছিলে।
ইলা চমকে উঠে পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু আরিয়ান এক ঝটকায় তাকে নিজের বুকের ওপর টেনে নিল।ইলা লজ্জায় লাল হয়ে আরিয়ানের বুকে মুখ লুকাল।
ইলাঃ- আপনি জেগে ছিলেন? ছিঃ কি সব করে ফেললাম আমি
আরিয়ান হাসতে হাসতে ইলার চিবুক ধরে মুখটা তুলল। ইলার গলায় আর কলারবোনে কালকের লালচে দাগগুলো দেখে আরিয়ানের চোখ জোড়া আবার একটু গভীর হলো।
আরিয়ানঃ- আমার বাগানে যখন এত সুন্দর গোলাপ ফুটে আছে,তখন কি আর ঘুম আসে? খুব ব্যথা করছে কি এগুলো তিলবতী?
ইলা মাথা নিচু করে বলল,
ইলাঃ- পেইন কিলার খেয়েছি তো, এখন ঠিক আছি। কিন্তু আমি আম্মুর সামনে যাবো কীভাবে?তারা যদি বুঝে ফেলে?
আরিয়ান হো হো করে হেসে উঠল।
আরিয়ানঃ- বুঝলে বুঝবে আমরা তো আর চুরি করিনি। তুমি আমার স্ত্রী এতে ভয়ের কি আছে। তবে হ্যাঁ, তোমার এই লজ্জা পাওয়া মুখটা দেখলে যে কেউ বুঝে যাবে কাল রাতে আরিয়ান খান শাওন কতটা ‘ভয়ংকর’ ছিল।
ইলা আরিয়ানকে একটা কিল মেরে বিছানা থেকে নামতে চাইল। কিন্তু আরিয়ান তার হাত ধরে আবার কাছে টানল।
আরিয়ানঃ- লিটিলহার্ট আজ সারাদিন আমরা এই রুমেই বন্দি থাকব।আমাদের তো নিজেদের একটা মায়াজাল আছে, তাই না?
ইলা দুষ্টুমি করে বলল,
ইলাঃ- একদম না আব্বু সন্ধ্যায় দোয়ার অনুষ্ঠান রেখেছে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলুন।অনেক বেলা হয়েছে।
আধঘণ্টা পর ইলা নিচে নেমে এল।পরনে একটা গাঢ় মেরুন রঙের সালোয়ার কামিজ, ওড়নাটা খুব কায়দা করে গলার চারপাশ দিয়ে জড়িয়ে রেখেছে যাতে রাতের চিহ্নগুলো ঢাকা পড়ে।ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আছে। নাফিযা বেগম ইলাকে দেখেই হাসিমুখে এগিয়ে এলেন।
নাফিযাঃ- কি রে মা খুব দেরি করে ঘুম থেকে উঠলি? শরীর ঠিক আছে তো? কাল অনেক ধকল গেছে তোদের ওপর দিয়ে।
ইলা আমতা আমতা করে বলল,
ইলাঃ- হ্যাঁ আম্মু একটু ক্লান্তি লাগছিল তাই…
ঠিক তখনই আরিয়ান সিড়ি দিয়ে নামল। তার পরনে কালো টি-শার্ট আর জিন্স। মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি। আরিয়ান এসে ইলার ঠিক পাশের চেয়ারে বসল।
নোহা পাশ থেকে মুখ টিপে হেসে বলল,
নোহাঃ- ভাইয়া রাতের বেলায় চিল্লানির আওয়াজ পেলাম যেন?কোনো ইনভেস্টিগেশন চলছিল নাকি?
নেহা ফিসফিস করে বলল,
নেহাঃ- আরে ভাইয়া তো সবসময়ই একটু বেশিই ডেডিকেটেড। ইনভেস্টিগেশন হয়তো গভীরে গেছে!
আরিয়ান গম্ভীর হওয়ার অভিনয় করে বলল,
আরিয়ানঃ- তোরা বেশি পাকনা হয়ে গেছিস। খাওয়ার দিকে মন দে।ইলাফুল,তুমি কিছু খাচ্ছো না কেন?
ইলা বিষম খেল আরিয়ানের কথা শুনে। সে আরিয়ানের পায়ের ওপর টেবিলের নিচ দিয়ে এক লাথি মারল। আরিয়ান ব্যথার ভান করে ‘উফ’ করে উঠল।
আরিয়ান পরোটার কিছু অংশ ছিড়ে প্রথমে ইলাকে খাইয়ে দেয়ার জন্য হাত বাড়ালো। এতে ইলা আরো বেশি লজ্জা পেলো। কিন্তু মেহেরাব খান ও নাফিযা এই মূহুর্ত দেখে মূগ্ধ হয়ে গেলো। ইলা একটু লজ্জা পেয়ে আরিয়ানের হাতে খেয়ে নিলো। ইলা আরিয়ানের এই ভালোবাসা দেখে আরিয়ানের বাবা মেহেরাব খান হাসিমুখে বললেন,
মেহেরাবঃ- তোদের এই খুনসুটি দেখলে এখন মনে হয় সব ঝড় মুছে গেছে। সন্ধ্যার অনুষ্ঠানের জন্য সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
খাওয়া শেষ করে আরিয়ান ইলার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- রাতে তেলাপোকা আসবে কিনা জানি না, কিন্তু আজ হয়তো তোমার কাপড়ের ভিতরে বড় কোনো তেলাপোকা ডুকতে পারে।
ইলা বড় বড় চোখ করে তাকাল।
ইলাঃ- কেন?
আরিয়ানঃ- কারণ মায়াজালের রাজা তার রানীর কাছে যখন খুশি তখন ট্যাক্স নিতে আসতে পারেআর সেই বড় তেলাপোকা টা আমি রেডি থেকো ইলাফুল।
ইলা মুচকি হেসে আরিয়ানের থেকে দূরে সরে গেল।দিনের আলোয় আজ সবকিছুই খুব রঙিন মনে হচ্ছে। কষ্টের দিনগুলো হয়তো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আরিয়ানের মায়াজাল যেন তাকে সারাজীবনের জন্য ঘিরে ধরছে।
Time Skip……
সন্ধ্যার মায়াবী আলোয় সারা বাড়িটা ঝলমল করছে। বাড়ির ড্রয়িংরুমটা তাজা ফুলের গন্ধে ম ম করছে।আরিয়ানের বাবর উদ্যোগে এই ছোট দোয়া ও খাওয়ার আয়োজন। ইলা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। পরনে একটি বাসন্তী রঙের জামদানি শাড়ি, চোখে গাঢ় কাজল। ঠিক তখনই আরিয়ান পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।
আরিয়ানঃ- আজ তোমাকে ঠিক কোনো রূপকথার রানীর মতো লাগছে না, বরং বাস্তবের এক মায়াবী পরি মনে হচ্ছে।
ইলা লাজুক হেসে বলল,
ইলাঃ- হয়েছে এবার নিচে চলুন। গেস্টরা আসা শুরু করেছে।
নিচে নামতেই ইলার চোখ ছানাবড়া সামনেই দাঁড়িয়ে আছে পরি আর আদিব। ইলা খুশিতে চিৎকার করে উঠল।
ইলাঃ- পরি! আদিব ভাইয়া! তোমরা কখন এলে?
পরি ইলাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
পরিঃ- তোদের এই ঝোড়ো হাওয়ার খবর শুনে কি আর দূরে থাকা যায়? রাতে কি হইলো সেটা জানার জন্য আমরা তো টেনশনে শেষ!
আদিব হেসে আরিয়ানের কাঁধে হাত রেখে বলল,
আদিবঃ- আরিয়ান ভাইয়ের কাজই তো সব সময় সারপ্রাইজ দেওয়া। তবে আজকের আসল সারপ্রাইজ কিন্তু এখনো বাকি আছে ইলা।
ইলা অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকাল।আরিয়ান রহস্যময় হাসি দিয়ে প্রধান দরজার দিকে ইশারা করল। ঠিক তখনই সেই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলেন একদল মানুষ। তাদের দেখামাত্রই ইলার হাতের চুড়িগুলো হালকা কেঁপে উঠল, চোখের পাতা যেন স্থির হয়ে গেল।
একে একে ভেতরে ঢুকলেন রাশেদ তালুকদার,সাবিহা বেগম ,তাসলিমা বেগম,করিম উদ্দিন তালুকদার এবং রায়েদ তালুকদার। ইলা এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। তার নিজের পরিবারের সবাইকে এই বাড়িতে একসাথে দেখবে, সেটা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। ইলার দুচোখ বেয়ে জলের ধারা নেমে এল। সে আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দৌড়ে গিয়ে তার বাবার বুকে আছড়ে পড়ল।
ইলাঃ- আব্বু! তুমি এসেছো?
রাশেদ তালুকদার মেয়ের মাথায় হাত রেখে আবেগী গলায় বললেন,
রাশেদঃ- তোর শশুর অনেক জর করলো আসার জন্য তাই আর না এসে থাকতে পারলাম না। জামাই ও সকালে ফোন করে অনেক রিকুয়েষ্ট করেছে তাই আমাদের আসা।
ইলা মুখ তুলে আরিয়ানের দিকে তাকাল। আরিয়ান একটু দূরে দাঁড়িয়ে তৃপ্তির হাসি হাসছে।আরিয়ান তাদের এখানে হাজির করেছে শুধুমাত্র ইলার মুখে এক চিলতে হাসি দেখার জন্য।
সাবিহা বেগম ইলার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললেন,
সাবিহাঃ- অনেক অভিমান করেছিলি আমাদের ওপর, তাই না? আজ সব ভুলে যা মা। তোকে সুখী দেখতেই আমরা এসেছি।
বড় বাবা করিম উদ্দিন তালুকদার আরিয়ানের পিঠ চাপড়ে বললেন,
করিমঃ- মেহেরাব ভাই আপনার ছেলেটা রত্ন ও যেভাবে এত তারাতাড়ি আমাদের মেয়েকে আপন করে নিয়েছে এতে আমরা কৃতজ্ঞ।
মেহেরাব খান হাসিমুখে বললেন,
মেহেরাবঃ- কৃতজ্ঞ হবেন কেনো ও তো আপনাদেরই ছেলে। চলুন, এবার সবাই মিলে দোয়ায় বসি।
পুরো ড্রয়িংরুমে এক অদ্ভুত শান্তির আমেজ তৈরি হলো। মাওলানা সাহেব দোয়া শুরু করলেন। ইলা তার বাবার হাত শক্ত করে ধরে আছে, আর পাশে বসে আছে আরিয়ান। দোয়ার মাঝেই আরিয়ান আলতো করে ইলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- বলেছিলাম না ইলাফুল, আজকের সূর্যটা আমাদের জন্য নতুন এক পৃথিবী নিয়ে আসবে? তোমার ওই দু চোখের জল আমি আর সইতে পারছিলাম না। এই যে তোমার পরিবার আজ তোমার পাশে এটাই আমার দেওয়া ছোট একটা গিফট।
ইলা আরিয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেই আরিয়ান এখন এক পরম দয়ালু প্রেমিকের মতো লাগছে। ইলা মনে মনে বলল, “আপনি শুধু আমার ভয়েজ কিং নন, আপনি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ জাদুকর।”
দোয়া শেষ হতেই সারা বাড়িতে হাসাহাসি আর আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল। রায়েদ ইলাকে খ্যাপাতে শুরু করল আগের মতো, নোহা আর নেহা পরির সাথে মিলে আড্ডায় মেতে উঠল। কিন্তু আরিয়ানের নজর শুধু ইলার দিকে। সে যেন সুযোগ খুঁজছে কখন তার তিলবতীকে একটু একান্তে পাবে।
পুরো বাড়িটা এখন হাসিতে টইটম্বুর। ইলা তার মা-বাবার মাঝখানে বসে কত কথা বলছে! আরিয়ান একপাশে দাঁড়িয়ে তৃপ্তির সাথে দৃশ্যটা দেখছিল। হঠাৎ গেটের সামনে একটা লাল রঙের দামী গাড়ি এসে থামল। সেই গাড়ির হর্নের শব্দে সবার মনোযোগ সেদিকে চলে গেল।
গাড়ি থেকে নামলেন এক তরুণী। পরনে আধুনিক পোশাক, চোখে দামী সানগ্লাস। চুলে স্টাইলিশ কাট। তার হাঁটার ভঙ্গিতে এক অদ্ভুত আভিজাত্য আর অহংকার মিশে আছে। মেয়েটি ভেতরে আসতেই আরিয়ানের চোখমুখ মুহূর্তের মধ্যে গম্ভীর হয়ে গেল।
ইলা অবাক হয়ে তাকাল সে মেয়েটিকে চিনতে পারছে না, কিন্তু মেয়েটির নজর সরাসরি আরিয়ানের দিকে।মেয়েটি হাসিমুখে ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়ল।
মেয়েটিঃ- ওহ মাই গড আরিয়ান তুমি এত বড় আয়োজন করলে আর আমাকে একবার জানালও না? আই এম সো হার্ট।তুমি তো এলে না তাই আমি চলে আসলাম।
সবাই চুপ হয়ে গেল আরিয়ান ধীরপায়ে এগিয়ে এল।
আরিয়ানঃ- নওরিন তুমি এখানে? তোমাকে তো কেউ ইনভাইট করেনি।
নওরিন হাসল তার হাসিতে যেন বিষ মেশানো। সে ইলার দিকে একবার আপাদমস্তক তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে আবার আরিয়ানের দিকে ফিরল।
নওরিনঃ- ইনভাইটেশন লাগবে কেন আরিয়ান? আমাদের সম্পর্কের মাঝে কি কখনো ফর্মালিটি ছিল? আই জাস্ট হার্ড যে তুমি বিয়ে করেছ, তাই ভাবলাম তোমার ‘চয়েস’টা একবার দেখে যাই।
নওরিন ইলার সামনে এসে দাঁড়াল ইলা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে আছে।
নওরিনঃ- সো দিস ইজ ইলা? আরিয়ান সিরিয়াসলি? তোমার টেস্ট কি এতই নিচে নেমে গেছে? এই সাধারণ একটা মেয়েকে তুমি বিয়ে করেছো।
ইলার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল নওরিনের কথাগুলো তীরের মতো বিঁধছে। আরিয়ান আর চুপ থাকল না। সে এক পা এগিয়ে এসে ইলার কাঁধে হাত রাখল। আরিয়ানের হাতের চাপ ইলাকে সাহস দিল।
আরিয়ানঃ- নওরিন লিমিট ক্রস করো না। ইলা আমার স্ত্রী, আমার সম্মান। আর আমার টেস্ট কী সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তুমি এখানে এসেছ গেস্ট হিসেবে, চুপচাপ খেয়ে চলে যাও। বেশি কথা বললে আমার বউকে অপমান করার আগে তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেব।
নওরিন একটু দমে গেল আরিয়ানের তেজ দেখে। কিন্তু সে হার মানার পাত্রী নয়। সে মেহেরাব খানের দিকে তাকিয়ে বলল,
নওরিনঃ- মামা আপনিও কি পাগল হয়ে গেলেন এসব কি হচ্ছে।
নাফিযা বেগম শক্ত গলায় বললেন,
নাফিযাঃ- নওরিন কি বলতে চাও তুমি ইলা যথেষ্ট ভদ্র একটা মেয়ে আর এখন ইলা আমাদের বাড়ির বড় বউ। তুমি বরং তোমার জায়গায় থাকো। আমাদের পরিবারের পার্সোনাল ব্যাপারে নাক গলিও না।
পরি আর নোহা একপাশে দাঁড়িয়ে কানাকানি করছিল। নোহা ফিসফিস করে ইলাকে বলল,
নোহাঃ- ভাবি, এই আপুটা খুব শয়তান ও ভাইয়ার পেছনে আগে থেকেই লেগে ছিল তুমি ভয় পেও না।
ইলা এতক্ষণ চুপ ছিল সে উঠে দাঁড়াল। নওরিনের চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
ইলাঃ- নওরিন আপু, আরিয়ান এর সাথে আপনার কি হয়েছে সেটা জানি না, তবে উনি আমাকে গ্রহণ করেছেন। আর ভালোবাসায় টেস্ট নয়, বিশ্বাস আর মনের মিল থাকতে হয়। আপনি অতিথি, মেহমান হয়েই থাকুন। আরিয়ানের জীবন থেকে আপনার অধ্যায় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
নওরিন রাগে জ্বলতে লাগল। ইলার এই শান্ত অথচ ধারালো কথাগুলো সে হজম করতে পারল না। সে আরিয়ানের দিকে একবার তাকাল, যেখানে আরিয়ান মুগ্ধ হয়ে ইলার সাহস দেখছে।
নওরিন চাপা গলায় বলল,
নওরিনঃ- মায়াজাল শুধু বুনলেই হয় না আরিয়ান, তা রক্ষা করতেও জানতে হয়। আমি এসেছি যখন, তখন কিছু একটা না করে তো ফিরছি না। অল দ্য বেস্ট তোমাদের এই সো-কলড হ্যাপি লাইফের জন্য!(মনে মনে বলল)
কথাটা বলে নওরিন গটগট করে ডাইনিং টেবিলের দিকে চলে গেল। আরিয়ান ইলার হাতটা শক্ত করে ধরল।
আরিয়ানঃ- ওকে পাত্তা দিও না তিলবতী। ও শুধু আমাদের অশান্তি দেখতে এসেছে।
ইলা আরিয়ানের চোখের দিকে তাকাল।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৮
ইলাঃ- ওর সাথে আপনার কী সম্পর্ক ছিল আরিয়ান?
আরিয়ান ইলার চিবুক ধরে হালকা করে নাড়া দিল।
আরিয়ানঃ- “ওটা কোনো সম্পর্কই ছিল না ইলাফুল। ওটা ছিল শুধু একতরফা একটা জেদ। আর আমার এই মনটা সেই কৃত্রিম অহংকারটা চিন্তে অনেক দেরি করে ফেলেছে।
ইলা হাসল ঠিকই কিন্তু মনের কোণে একটা অজানা ভয় জেগে রইল। নওরিনের আসার উদ্দেশ্য যে ভালো নয়, সেটা তার হাঁটাচলাতেই স্পষ্ট। আজকের রাতটা কি তবে শান্তিতে কাটবে না?
