Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৫

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৫

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৫
তাসনিয়া নুর

আহির তরিগরিতে বাসায় ফিরে সোজা মাহিরের রুমে ঢুকে পরে দুই হাত কোমরে রেখে ফুসতে থাকে। মাহির আহিরের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সন্দিহান চোখে প্রশ্ন করে
— এতো তারাতারি চলে আস্‌লি? আর এইখানে কি?
মাহিরের প্রশ্নের কোনো জবাব দিলো না আহির। গটগট পায়ে মাহিরের পাশ কাটিয়ে গিয়ে মাহিরের বিছানার চাদর তুলে নিচে ফেলে দিয়ে যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবে চলে গেলো আহির। আহিরের কান্ড দেখে মাহির আহাম্মক বনে গেলো আর মনে মনে ভাবলো উত্তেজনায় কি পাগল হয়ে গেলো নাকি এই ছেলে??
মেহু ছাদে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির বাতাস উপভোগ করছিলো পড়নে তার সাদা গুলজামা সাদা ওরনা। বাতাসের দাপটে তার ওরনা আর খুলে রাখা চুল গুলি উড়ছে ঠিক সেই সময় ছাদে আগমন ঘটল আবইয়াজের । আবইয়াজ তার সামনে থাকা মেহুকে পরখ করে এগিয়ে গেলো

— এই তপ্ত রোদে ছাদে কি করছিস? তুই না গরম সহ্য করতে পারিস না।
— এখন পারি।
খুব ছোট প্রতুত্তর মেহুর। আর কিছু না বলে সামনে তাকিয়ে রয় সে । আবইয়াজের কেনো যেনো এখন চিত্রার কথা সত্যি মনে হচ্ছে কেননা যেই মেয়ে তার এটেন্সেন পাওয়ার জন্য নিজ থেকে সারাদিন বকবক করত আর আজকে নিজ থেকে কিছুই বলছেনা? আবইয়াজ আনমনে মেহুর দিকে তাকিয়ে রইলো আজকে মেহুকে অন্য রকম লাগছে যেন আকাশে তুলোর ন্যায় ভাসমান মেঘ। আবইয়াজের মুখ থেকে আপনাআপনি বেরিয়ে আসলো
— মেঘবতী ।
— জি কিছু বললেন?
মেহুর প্রশ্নে হুশ ফিরে আবইয়াজের এতক্ষণ কি ভাবছিল সে? ভাবতেই নিজের মাথা ফাটাতে ইচ্ছে করছে। মেহু তার বোনের মত সে কিভাবে নাহ আর কিছু ভাবতে পারেনা সে দ্রুতগতিতে স্থান ত্যাগ করে। আবইয়াজের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মেহু স্বস্তির শ্বাস ফেলে । আবইয়াজের এইভাবে তাকিয়ে থাকা তার একদম ভালো লাগেনি কেমন একটা দমবন্ধকর অনুভূতি হচ্ছিল ।

রাত দুইটা মির্জা বাড়ি অন্ধকারাচ্ছন্ন, বাড়ির কর্তা গিন্নিরা গভীর ঘুমে নিমগ্ন । শুধু জেগে আছে মির্জা বাড়ির পাচঁ পাগল চিত্রা, আহির, মাহির, আবইয়াজ ও মাইরা। প্রত্যেকের হাতে মোমবাতি করিডোর দিয়ে হেটে চলেছে সামনের দিকে উদ্দেশ্যে মেহুর রুম। সবার সামনে আবইয়াজ হাটার সময় হঠাৎ থেমে যায় পিছনে আহির থাকায় আবইয়াজের পিঠে বারি খায়, আবইয়াজ ফিসফিস কন্ঠে বলে
— দেখে চলতে পারিসনা? চোখ কি পকেট এ রেখে দিয়েছিস?
— তোর মতো খাম্বা যদি সামনে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে দেখব কিভাবে?? তোর ঠেং দিয়ে?
এদের তর্কের মাঝে চিত্রা এগিয়ে এসে
ফিসফিসিয়ে বলে উঠে
— করছো কি তোমরা কেউ শুনে ফেললে আমরা শেষ তাড়াতাড়ি চলো।
আবারো সবায় হাঁটা ধরলো । মেহুর দরজার সামনে দাঁড়াতেই দেখলো দরজা খোলা আর ভিতরে ঘুট্‌ঘুটে অন্ধকার, মাহির কিছু বলতে যাবে ঠিক সে সময় কানে ভেসে আসে সুরেলা গান আর নূপুরের শব্দ। মাহির ফিসফিস করে বলে

— উপরের তিন তলা থেকে গান আর নূপুরের আওয়াজ ভেসে আসছেনা?
— হুম তাইতো শুনতে পাচ্ছি , চল গিয়ে দেখে আসি।
সামনের দিকে পা বাড়ায় আবইয়াজ । তৎক্ষণাৎ চিত্রা হালকা চিৎকার দিয়ে বলে
— না না তোমরা যাও আমি যাবোনা।
আহির এতক্ষণ ভয় পেলেও চিত্রার অসম্মতিতে বেঙ্গ স্বরে বলে উঠে
— যে দিলো রাতবিরেতে এইসব উল্টাপাল্টা বুদ্ধি এখন নিজেই বলছে যাবেনা। যাবেনা হু কেন রে সব সময় আমাকে ভিতু বলিস আজকে নিজে কেনো ভয় পাচ্ছিস?

— আসছে আমার সাহসী বীর রানা সিং। সাহস থাকলে নিজে উপরে গিয়ে দেখানা।
রাগে ফুসতে ফুসতে উত্তর দেয় চিত্রা। কথাটা আহিরের ইগোতে লাগে তাই সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলে সে উপরে যাবেই। আর এই চৈত্রের আগুনকে দেখিয়ে দিবে আহনাফ মির্জা আহির কি জিনিস। আহির দ্রুত পায়ে তিনতলায় উঠতে থাকে যতো কাছে এগিয়ে যাচ্ছে গানের সাউন্ড ঘন হয়ে আসছে, আহিরের বুক ঢিপঢিপ করছে । আহিরের পিছন পিছন বাকি চারজন যেতে লাগলো।
শেষে কাঙ্ক্ষিত দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সবাই ভিতর থেকে খুব জুড়ে নূপুরের ঝুনঝুন শব্দ ভেসে আসছে ।
— দরজাটা খুলবে কে?
প্রশ্ন করে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকায় মাইরা । এতক্ষণে বীরত্ব নিয়ে আসলে ও এখন আর আহিরের সাহস হচ্ছেনা, আহির সামনে তাকিয়ে দেখে সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। সকলের দৃষ্টি দেখে ভরকে যায় আহির হাতের মোমবাতিটা সামনে নিয়ে বলে
— আমার দিকে কেনো এইভাবে তাকিয়ে আছিস আমি খুলতে পারবোনা। যে এই হালুয়ার বুদ্ধি দিয়েছে তাকে বল খুলতে।
এইবার সকলের দৃষ্টি গিয়ে থামে চিত্রার উপর । চিত্রা দু হাত সামনে নাড়িয়ে বলে উঠে

— এইভাবে তাকাচ্ছ কেনো? আমি বুদ্ধি দিয়েছি ঠিক আছে কিন্তু তোমরা ও তো নেচেকুদে নিজ ইচ্ছেতে এসেছো ।
— পল্টি বাজ একটা । মুখ বাঁকিয়ে কথাটা বলে আহির ।
কিছুক্ষন রেসারেসির পর সিদ্ধান্ত হলো আহির আগে যাবে। আহির ধীর গতিতে এগিয়ে গিয়ে দরজায় হাত রাখে, আস্তে আস্তে দরজা খুলার সময় ক্রেচ শব্দ হলে মাইরা এক হাতে চিত্রার হাত জরিয়ে ধরে ফেলে। দরজা খুলে আহির সামনে এগতেই দেখে এক নারী মূর্তি ছায়া গানের তালে তালে নেচে যাচ্ছে, আহির ঠকঠক করতে কাঁপতে থাকে । সেই মুহূর্তে চিত্রা ও মাগো বলে চিৎকার দিয়ে দেয় উল্টো দিকে এক দৌড় তার পিছন পিছন সবায় দৌড় লাগায় শুধু রয়ে যায় বেচারা আহির। এতো শুরগন্ডগলে নাচ থামিয়ে দেয় সামনে থাকা রমণী । পিছন ঘুরে তির্যক্‌ দৃষ্টিতে তাকায় আহিরের দিকে আহির পাশে থাকা টেবিলে মোমবাতিটা রেখে ক্যাবলাকান্তের হেসে এক হাত কোমরে এক হাত কপালে ঠেকিয়ে কমর দোলাতে শুরু করে আর গেয়ে উঠে

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৪

Aaj bijli bhi girwani hai
Fire bhi lagwani hai
Jo tu aa ke baby hamre saath ma
Aa.. aa.. aa ke
Kamariya
Hila de.. Hila de.. Hila de..
Nazariya.

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৬