Home মেজর কারদার মেজর কারদার পর্ব ৮ (২)

মেজর কারদার পর্ব ৮ (২)

মেজর কারদার পর্ব ৮ (২)
ফিনারা ঝুমুর

আজকের সকালটা গত কয়েকদিনের মতো মুখরিত ও কোলাহলপূর্ণ হয়ে ডানা মেলেনি। কারদার বাড়ির বড় বড় ঘরের দেয়ালগুলো আজ কেমন জানি নিঝুম হয়ে আছে। হাতে গোনা কয়েকজন চেনা মানুষ ছাড়া আর কারও গলার আওয়াজই পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ গতকাল পর্যন্তও এই বড় বাড়িটায় একঝাঁক চঞ্চল পাখির মতো দিনভর কিচিরমিচির শোনা যেত। মেঘেদের বিদায়ের সাথে সাথেই সেই চঞ্চলতা যেন এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে।

​সকাল সকাল নিজের পার্সোনাল জিমন্যাশিয়ামে গিয়ে কঠোর জিপোর্টসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শীর্ষ। সে ডন-বৈঠক দিচ্ছে, যাকে খাঁটি ইংরেজিতে বলে পুশ-আপ। শীর্ষর পরনে কেবল একটা ধূসর রঙের আরামদায়ক ট্রাউজার, দেহের উপরিভাগ সম্পূর্ণ অনাবৃত। একটানা কঠিন ব্যায়ামের ফলে তার সুঠাম, চওড়া দেহের পেশিগুলোতে ঘামের নোনাজল বিন্দু বিন্দু হয়ে সকালের আলোয় চকচক করছে।
​শীর্ষ পুশ-আপ করছে ঠিকই, তবে তার কানে গোঁজা রয়েছে ব্লুটুথ এয়ারবাডস। হাই-ভলিউমে গান চলায় বাইরের দুনিয়া থেকে সে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন। সে যখন নিজের পুরো মনোযোগ জিমের ওপর নিবদ্ধ করেছে, ঠিক তখনই বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে সেই ঘরে আগমন ঘটল সূচির। তার গায়ে অত্যন্ত আঁটসাঁট একটা মডার্ন টি-শার্ট আর ট্রাউজার, আর সেই টি-শার্টের বুকের ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘কিস মি’।
​শীর্ষর অবশ্য এই সস্তা ফ্যাশন বা সূচির আগমনের দিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল ছিল না, সে নিজের কাউন্টিংয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সূচির লোলুপ নজর গিয়ে আটকাল শীর্ষর সেই ঘামে ভেজা, চকচকে ফর্সা উন্মুক্ত পিঠের ওপর। মেজরের শরীরের নিখুঁত মাসল আর হাতের স্পষ্ট হয়ে ওঠা ভেইনগুলো দেখে সূচি নিজের অবাধ্য লালসায় এক মস্ত বড় ঢোক গিলল।​সে আর লোভ সামলাতে পারল না। ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে শীর্ষর নগ্ন, চওড়া পিঠের ওপর নিজের ফর্সা হাতের তালুটা রাখল। তারপর অত্যন্ত আবেদনময়ী ও চড়া গলায় বলল,
​“আপনাকে আমি ভালোবাসি অঙ্কন ভাইয়া! খুউউব ভালোবাসি!”

​এয়ারবাডসের কারণে সূচির মুখের ওই আদিখ্যেতা মাখানো কথাগুলো শীর্ষর কান অবধি না পৌঁছালেও, নিজের পবিত্র দেহে এক পরনারীর আকস্মিক ও অনধিকার স্পর্শ পেতেই তড়িৎ গতিতে পুশ-আপ ছেড়ে স্প্রিংয়ের মতো সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল শীর্ষ। কানের এয়ারবাডস দুটো টেনে এক ঝটকায় ফ্লোরে ছুড়ে মারল সে। সামনে কামনার চোখে তাকিয়ে থাকা সূচিকে দেখামাত্রই শীর্ষর ধারালো চোয়াল রাগে পাথর খণ্ডের মতো শক্ত হয়ে গেল। কোনো বাছবিচার বা নারী-পুরুষের বাউন্ডারির পরোয়া না করেই, শীর্ষ নিজের সেই লোহার মতো শক্ত পাঁচ আঙুলের এক জবরদস্ত থাপ্পড় বসিয়ে দিল রূপের অহমিকায় অন্ধ সূচির তুলতুলে ফর্সা গালে!
-​ঠাস-করে ওঠা সেই শব্দে পুরো জিম ঘরটা কেঁপে উঠল। আর্মির সেই দাবাং হাতের চড়ের বেগ সামলাতে না পেরে সূচি ছিটকে গিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। তার ফর্সা গালে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচ আঙুলের রক্তাভ দাগ খোদাই হয়ে গেল।

​শীর্ষ এক খাঁচামুক্ত ক্ষুধার্ত বাঘের মতো হুঙ্কার দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল,
“ফারদার আমার অনুমতি ছাড়া আমায় টাচ করলে, তোর দেহ থেকে মাথা টাই আলাদা করে রাস্তার নেড়ি কুকুরকে দিয়ে খাওয়াবো। মাইন্ড ইট!”
একে তো শীর্ষর ওই পাথরের মতো হাতের দাবাং মার্কা চড় খেয়ে সূচির ঠোঁটের কোণ ফেটে রক্ত আসার জোগাড়, তার ওপর মেজরের এমন পশুতুল্য হুমকি! অপমানে আর তীব্র রাগে সূচির মাথার তালু অবধি দপ দপ করে জ্বলে উঠল। সে মেঝেতে বসেই গাল চেপে ধরে চিৎকার করে বলল,
​“এতো কিসের অহংকার তোমার অঙ্কন ভাই? দেখতে সুদর্শন আর শ্বেত ত্বকের অধিকারী হয়েছ বলেই তোমার এত দেমাগ? এই আমি সূচি আমার রূপের দেমাগ তুমি দেখাওনি? আরেহ, আমার একটা মাত্র চোখের ইশারায় ঢাকার হাজারটা বড়লোকের ছেলেরা আমায় এক নজর পাওয়ার জন্য পেছনে কুকুরের মতো ছুটে আসবে! সেই সূচিকে কিনা তুমি আজ এভাবে অবজ্ঞা করছ একটা কালীনির জন্য?”
​সূচির মুখে মেঘের প্রতি সেই অবজ্ঞা আর নিজের রূপের অহংকার শুনে শীর্ষ ট্রাউজারের পকেটে দুই হাত গুজে এক চরম ব্যঙ্গাত্মক ও তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। সে সূচির দিকে কুৎসিত নজরে তাকিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা, বিষাক্ত গলায় বলল,

​“ভুল ভাবছিস সূচি! যারা তোর একটা ইশারায় তোর পেছনে কুকুরের মতো ছুটে আসবে, তারা তোকে ভালোবাসতে আসবে না; আসবে তোকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়ার জন্য! তোর এই তুলতুলে শরীরটাকে এক রাতের জন্য ভোগ করার জন্য লালা ঝরিয়ে লেলিয়ে আছে ব্যাটাছেলেরা। আর তুইও মনে মনে ঠিক সেটাই চাস। তা আসল কথাটা বল তো পতি/তার খাতায় নিজের নামটা আসলে কবে লেখিয়েছিস তুই? দুদিন আগে নাকি পরে?”
ঘৃণ্য কোনো নর্দমার কীটকে বর্জন করার মতো করে কথাগুলো ছুড়ে দিয়ে সূচির পাশ কাটিয়ে জিম ঘর থেকে বেরিয়ে গেল শীর্ষ। রাগে, ক্ষোভে আর চরম অপমানে তার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছিল। ভেতরের পুঞ্জীভূত আগুনটা এতটাই তীব্র ছিল যে, মন চাচ্ছিল হাতের কাছে যা পায় সব ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে। নিজের রাগটা বেশিক্ষণ সংবরণ করে রাখাও তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মস্তিষ্কের কোষে কোষে বারবার সূচির সেই দুঃসাহসিকতা আর অনধিকার স্পর্শের দৃশ্যটা ভেসে উঠতেই শীর্ষর হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেল। নিজের রুমে এসেই সে এক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে দিল। একে একে হাতের কাছে থাকা দামি শোপিস, ফুলদানি, ল্যাম্পশেড দেওয়ালের সাথে ছুড়ে মেরে ভাঙতে লাগল। কোনো কিছুই যেন আস্ত অবশিষ্ট রাখতে চাইল না সে।

​নিচ তলা থেকে শীর্ষর ঘরের এই ভয়ঙ্কর ভাঙচুরের আওয়াজ শুনে হন্তদন্ত হয়ে ওপরে ছুটে এলেন শিউলি বেগম আর পিংকি বেগম। মিথিলা আর কিঞ্জা নিজেদের ঘর থেকে ভাইয়ের এই রুদ্রমূর্তি টের পেলেও সামনে আসার সাহসটুকুও সঞ্চয় করতে পারল না। শিউলি বেগম ঘরের দরজায় পা রাখতেই ভেতরের অবস্থা দেখে স্তব্ধ হয়ে থমকে গেলেন। এ যেন সেই বহু বছর আগের পুরাতন, ভয়ঙ্কর শীর্ষকে দেখছেন তিনি!
​শীর্ষ তখন কাঁচের একটা টুকরোয় হাত কেটে ফেলেছে, সেখান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছে মেঝেতে। সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। সে গোঁ-গোঁ করে জানোয়ারের মতো ভারী শ্বাস ফেলছে, যেন কোনো অশরীরী আত্মা ভর করেছে তার ওপর। শিউলি বেগম মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাঁচের টুকরো মাড়িয়েই ছেলের কাছে ছুটে গেলেন এবং পেছন থেকে তাকে শক্ত করে জাপটে ধরলেন। অশ্রুসিক্ত চোখে ব্যাকুল হয়ে বললেন,
​“আব্বা! ও আব্বা! থামাও তোমার এই ধ্বংসযজ্ঞ। কী হয়েছে আমায় বলো? ও আব্বা!”
​শীর্ষ যেন কিছুতেই শান্ত হতে পারছিল না। সে তীব্র ক্রোধান্বিত হয়ে মায়ের বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল,

“সরে যাও মা! সরো বলছি আমার সামনে থেকে!”
​“আমারে বলো, কী হয়েছে তোমার? কেন এত রাগছ?”
শিউলি বেগমের গলা কান্নায় বুঁজে এল।​শীর্ষ বড় বড় শ্বাস ফেলতে ফেলতে নিজের রক্তমাখা হাতটার দিকে তাকিয়ে কোনোমতে বলল,
“কিছু হয়নি!”
​বলেই সে শিউলি বেগমের হাত আলগা করে দিয়ে গটগট পায়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল এবং ধড়াম করে দরজাটা আটকে দিল। শিউলি বেগম চরম আহত চোখে ছেলের প্রস্থান দেখলেন। মাতৃত্বের এক অজানা ভয় তার বুকে এসে বাসা বাঁধল। কে এমন করে রাগালো তার কলিজার টুকরো ছেলেকে? ও যে এক আহত সিংহ, যে শান্ত মুখোশের আড়ালে ঘুমিয়ে থাকে ওর ভেতর। সেই সিংহ যদি একবার রুখে দাঁড়ায়, তবে এক লহমায় ধ্বংস করে দেবে সব সব মানে সব!

​“শীর্ষ তো সচরাচর এমন করে রাগে না আপা। হঠাৎ ওর কী হলো?”
পিংকি বেগমের এই কথায় শিউলি বেগমের ধ্যান ফিরল। পিংকি হয়তো বড় জায়ের মনের ভেতরের সেই পুরনো আতঙ্কটা টের পেলেন।​ পিংকিবেগম চোখ মুছে ছাদের সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে ডাকলেন,
“আতিফ! এই আতিফ, ওপরে আয় তো বাবা!”
​বাড়ির দীর্ঘদিনের পুরনো ও বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার আতিফ। তাকে কর্মচারী বলা ভুল হবে, সে এই ঘরেরই একজন সদস্যের মতো হয়ে উঠেছে। আতিফ দ্রুত ওপরে এসে বলল,
“জি ছোট চাচি! ডাকছেন?”
​আতিফ আসতেই পিংকির পরিবর্তে শিউলি বেগম ভাঙা গলায় বললেন,
“আতিফ, শীর্ষর ঘরটা দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থা কর বাবা। কাঁচের টুকরোগুলো সব সরিয়ে ফেল।”
​শিউলি বেগম আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালেন না। এক বুক ভারাক্রান্ত মন নিয়ে শীর্ষর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

​ঢাকার ব্যস্ত হাইওয়ে ধরে এবার ঝাঁ ঝাঁ করে ছুটে চলেছে শীর্ষর সেই কুচকুচে কালো বুগাডি বাইক। তার স্টিয়ারিং ধরা হাতের চামড়ার নিচে নীল ভেইনগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, যা রাগে ও উত্তেজনায় ফুলে ফুলে উঠছে। বাইকের স্পিড মিটারের কাঁটা শাঁ শাঁ করে বাড়লেও শীর্ষর ভেতরের আগুন কিছুতেই শান্ত হতে পারছিল না।
​বেশ কিছু সময় পাগলের মতো বাইক চালিয়ে এসে অবশেষে সে নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের সামনে এসে কষে ব্রেক চাপল। বাইক থেকে নেমে সে একটি সুদৃশ্য বাড়ির গেইট ঠেলে ভেতরে ঢুকল। গেইটের নেমপ্লেটের ফলকে খোদাই করে লেখা রয়েছে ‘বাগানবাড়ি’। এটা মূলত ঢাকার অদূরে শীর্ষর নিজের উপার্জনের টাকায় বানানো এক নির্জন, বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ।
​এই বাড়িতে সে সচরাচর বেশি সময় কাটায় না। তবে নিজের কিছু ব্যক্তিগত শখের জিনিস ও একান্ত কিছু মুহূর্ত কাটানোর জায়গা ছিল বিধায় মাঝে মাঝে এসে থাকত। কিন্তু আজ যেন এই বাগানবাড়িতে এক সম্পূর্ণ আলাদা শীর্ষর পদার্পণ ঘটল। এতদিনের চেনা সেই শান্ত, ভদ্র শীর্ষের মুখোশটা যেন এক লহমায় ছিঁড়ে ছিটকে গেছে।

​নিজের বিশাল বেডরুমে ঢুকে ধুপ করে বিছানার ওপর বসে পড়ল শীর্ষ। শরীরটা ক্লান্তিতে ভেঙে আসলেও মস্তিষ্ক তখন উত্তপ্ত। সে নিজের ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেটের পকেট থেকে ফোনটা বের করল। স্ক্রিনে আঙুল ছুঁইয়ে কল লাগাল সেই কাঙ্ক্ষিত ১১ ডিজিটের নম্বরে, যা গত কয়েকদিনে তার মগজে মুখস্থ হয়ে গেছে।
​ওপাশে একবার, দুবার করে রিং হয়ে কলটা কেটে গেল। কিন্তু শীর্ষ দমে যাওয়ার পাত্র নয়, সে আবারও ব্যাক-টু-ব্যাক কল করল। এবার কয়েকবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে কলটা রিসিভ হলো। লাইনটা কানেক্ট হতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল এক অপরূপ, ঘুম জড়ানো অত্যন্ত মিষ্টি ও চেনা কণ্ঠস্বর,
​“হ্যা–লো! কে বলছেন?”
​শীর্ষ ওপাশে একদম নিশ্চুপ রইল। তার নিজের বুকে তখন এক প্রলয়ঙ্কারী ঝড় বইছে। কিন্তু তার মনের রানীর সেই ঘুম-ঘুম মাখানো কণ্ঠস্বরটা কান দিয়ে সরাসরি বুকেও এসে আছড়ে পড়তেই, শীর্ষর ভেতরের সেই বিষাক্ত প্রলয়টা ধীরে ধীরে বরফের মতো শান্ত হতে শুরু করল। এক অদ্ভুত প্রশান্তি গ্রাস করল তার সর্বাঙ্গে।
​ওপাশ থেকে মেঘ কোনো উত্তর না পেয়েও ঘুমে অর্ধচেতন হয়ে আবারও প্রশ্ন করল,

মেজর কারদার পর্ব ৮

“কে বলছেন?উম্ম– কথা বলছেন না কেন?”
​শীর্ষ তখনও চুপ করে কেবল মেঘের নিশ্বাসের শব্দ শুনছিল। মেঘ ঘুমার্ত গলায় ফের প্রশ্ন করল,
“কে বলছেন আপনি?”
​শীর্ষ এবার নিজের ধারালো চোয়ালটা ফোনের স্পিকারের কাছে আনল। নিজের কণ্ঠস্বরটাকে যতটা সম্ভব গভীর, মাদকতাময় আর চাতুর্যপূর্ণ করে ফিসফিসিয়ে উত্তর দিল,
​“ইওর ড্রিম বয়, কুইন!”

মেজর কারদার পর্ব ৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here