রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২১
মহাসিন
কবিতা জেরিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ রে, আমি শাপলার ঘরে গিয়ে সোজা থ্রেট দিয়ে এসেছি। আর একটা কথা—আমার তো মনেই হয় না, শাপলা সিয়ামকে ভালোবাসে।”
জেরিন ভ্রু কুঁচকে বলল, “কিন্তু আমার তো মনে হয়, শাপলা সিয়ামকেই ভালোবাসে। সেদিন ঘুরতে গিয়ে দেখলাম, গাড়িতে সিয়ামের পাশে বসার জন্য আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।”
কবিতা নাক সিঁটকাল,
“এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তোর জন্যই তো আমি সেদিন শাপলাকে থাপ্পড় মেরেছিলাম। হয়তো সেই রাগেই এমন করছে।”
জেরিন মাথা নাড়ল। গলায় দৃঢ়তা,
“না ভাবি, তুমি বুঝতে পারছো না। আমি যদি সিয়ামের সাথে কথা বলি, ওর গা ঘেঁষে বসি—শাপলা সেটা সহ্যই করতে পারে না। দেখে মনে হয়, যেন জেলাসিতে জ্বলে যাচ্ছে।”
কবিতার চোখ চিকচিক করে উঠল।
“তাহলে আগে আমাদের জানতে হবে, শাপলা আসলেই সিয়ামকে পছন্দ করে কিনা।”
জেরিন উত্তেজিত হয়ে বলল,
“চলো, দুজনে গিয়ে শাপলাকেই জিজ্ঞেস করি।”
কবিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।
“জেরিন, তুমি কি পাগল হলে নাকি? আমার গিয়ে শাপলাকে জিজ্ঞেস করব, আর ও সব উগড়ে দেবে—এটা ভাবলে কী করে? ও কি বোকা?”
জেরিন হতাশ গলায় বলল, “তাহলে কীভাবে জানব?”
কবিতা একটু ভেবে বলল,
“জানতে হলে এমন কারও কাছে যেতে হবে, যার কাছে শাপলা মনের কথা খুলে বলে। কিন্তু সেই মানুষটা কে?”
জেরিনের চোখে হঠাৎ চমক খেলে গেল।
“আমি জানি।”
কবিতা চমকে উঠল, “কী! তুমি আবার কীভাবে জানলে?”
“আমার মনে হয়, নিরব ভাইয়ার কাছেই শেয়ার করে।”
কবিতা সন্দিগ্ধ গলায় বলল, “তুমি বুঝলে কী করে?”
জেরিন ফিসফিস করে বলল,
“আমি নিজে দেখেছি। শাপলা প্রায়ই নিরব ভাইয়ার সাথে কথা বলে। আজ সন্ধ্যায়ও দেখেছি কথা বলতে। আমি যেই নিরব ভাইয়ার ঘরে গেলাম, অমনি শাপলা বেরিয়ে গেল।”
কবিতা ধীরে মাথা নাড়ল। ঠোঁটে একটা শয়তানি হাসি খেলে গেল।
“ঠিক আছে। কাল যেভাবেই হোক, ভাইয়ের কাছ থেকে সব বের করে আনব।”
একটু থেমে বলল,
“অনেক রাত হয়েছে। এবার ঘুমাতে হবে। তুমি আমার সাথে ঘুমাবে, নাকি নিজের রুমে যাবে?”
জেরিন উঠে দাঁড়াল। গলায় ছোট্ট উত্তর,
“তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। আমি আমার ঘরে যাচ্ছি।”
এই বলে সে বেরিয়ে গেল।
কবিতা বিছানায় গা এলিয়ে দিল। অন্ধকারে তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে—যেন মাথার ভেতর নতুন কোনো ফন্দি আঁটছে।
শাপলা চুপচাপ জানালার পাশে চেয়ারে বসে আছে। বাইরের আকাশে চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ছে নরম রূপালি আভায়। তার চোখ দুটি সেই চাঁদের দিকে নিবদ্ধ, কিন্তু মন ছিল অন্য কোথাও। সিয়াম। তার সেই গভীর চোখ, সেই মুখের রেখা, ঠোঁটের হাসি, ফিসফিস করে বলা কথাগুলো আর সেই উষ্ণ নিঃশ্বাস—সবকিছু একে একে ভেসে উঠছিল চোখের সামনে।
ভাবতে ভাবতে শাপলার গাল দুটো লজ্জায় কাঠগোলাপের মতো টকটকে লাল হয়ে উঠল। বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল, নিঃশ্বাস ঘন হয়ে এলো। শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল।
হঠাৎ দরজায় মৃদু ঠকঠক আওয়াজ হলো।
শাপলা চমকে উঠে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াল। এত রাতে তার ঘরে সিয়াম ছাড়া আর কেউ আসবে না—এটা সে ভালো করেই জানে । কাঁপা হাতে দরজা খুলতেই সিয়াম ঘরে প্রবেশ করল। তার উপস্থিতিতে ঘরের বাতাস যেন আরও উষ্ণ হয়ে গেল।
শাপলা দরজা বন্ধ করে দিল। সিয়াম তার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে হালকা হেসে বলল, “কিরে, এত রাতেও জেগে আছিস কেন?”
শাপলা লজ্জা সামলে উল্টো প্রশ্ন করল, “আপনি কেন এত রাতে জেগে আছেন? আর এই ঘরে এলেনই বা কেন?”
সিয়াম ধীরে ধীরে শাপলার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে, চোখে এক অদ্ভুত আকর্ষণ নিয়ে বলল, “আমি তো আমার বউকে দেখতে এসেছি।”
শাপলার হৃদয় লাফিয়ে উঠল। তবু সে ফিসফিস করে বলল, “শুধু দেখতেই এসেছেন?”
সিয়াম হাঁটা থামিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়াল। চোখে চোখ রেখে বলল, “কেন, তুই কি চাস তোর সাথে রো*মা*ন্স করি?”
শাপলা কিছু বলতে যাবেই, কিন্তু সিয়াম তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজেই বলে চলল, “যদি চাস, তাহলে এখুনি শুরু করব। জানিস তো, তোকে দেখলেই আমি হ*ট হয়ে যাই। শরীর-মন সব তোর জন্য অস্থির হয়ে পড়ে।”
শাপলা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল, “তাহলে আমাকে দেখবেন না, তাহলেই তো হয়।”
সিয়াম তার চিবুক স্পর্শ করে মুখটা তুলে ধরল। গভীর স্বরে বলল, “তোকে না দেখলে আমি ম*রে যাবো। তোকে যত দেখি, ততই তোর প্রেমে আরও গভীরভাবে ডুবে যাই। তোর প্রতি আমার আসক্তি যেন কোনো সীমা মানে না।”
এক টানে সে শাপলাকে নিজের বুকের সাথে জ*ড়িয়ে ধরল। শক্ত, উষ্ণ বুকে চেপে ধরতেই শাপলার শরীর কেঁপে উঠল। সিয়াম মুখ নামিয়ে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “তুই কবে বলবি আমাকে ভালোবাসিস? আমি আর নিজেকে ক*ন্ট্রো*ল করতে পারছি না। শুধু ইচ্ছে করে তোকে আ*দর করে, চু*মুতে চু*মুতে পাগল করে ফেলি।”
লজ্জায় শাপলা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।
সিয়াম মৃদু হেসে বলল, “আয়, দুজনে লি*প কি*স করি।”
শাপলা পিছিয়ে গিয়ে বলল, “লি*প কি*স করে কী লাভ?”
“ঠোঁটে ঠোঁ*ট লাগিয়ে কি*স করার মজাই আলাদা,” সিয়ামের চোখে আগুন জ্বলছে, “সেই মজা অনুভব না করলে বুঝবি না।”
“আমার এত মজার দরকার নেই।”
“তোর না-ই হয় না দরকার, কিন্তু আমার তো খুব দরকার,” বলতে বলতে সিয়াম ধীর পায়ে শাপলার দিকে এগোতে লাগল। শাপলা পিছু হটতে হটতে বিছানার কাছে চলে গেল।
“একি! আমার দিকে এগোচ্ছেন কেন?” কাঁপা গলায় বলল শাপলা।
“অনেক হ*ট হয়ে আছি। তোকে ছুঁ*য়ে, তোকে আ*দর করে নিজেকে ঠা*ন্ডা করব। আর তোকেও অসম্ভব সু*খ দেব,” সিয়ামের কণ্ঠস্বর গভীর ও লোভাতুর।
শাপলা শুকনো ঢোঁক গিলে বলল, “আমার সুখ লাগবে না। এত গরম হয়ে থাকলে গিয়ে গোসল করুন।”
সিয়াম বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, “আরে বউ, এটা সে গরম না।”
“তবে কী গরম?”
“তোকে আ*দর করলে এই গরম চলে যাবে। শরীর-মন সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
কথা শেষ হওয়ার আগেই শাপলা পিছিয়ে বিছানায় পড়ে গেল। সিয়াম মুচকি হেসে তার উপর ঝুঁ*কে পড়ল। তার উ*ত্তে*জি*ত, গরম নিঃশ্বাস শাপলার মুখে আছড়ে পড়তেই তার হার্টবিট বেড়ে গেল, পুরো শরীর সিরসির করে উঠল।
শাপলা কিছু বলার চেষ্টা করতেই সিয়াম তার ঠোঁট দুটো দ*খল করে নিল। গভীর, আবেগময় এক চু*মু। শাপলা প্রথমে তাকে সরানোর চেষ্টা করল, কিন্তু সিয়ামের শক্ত আলিঙ্গন থেকে মুক্তি পাওয়া গেল না। একসময় সে তার গলায় নখ দিয়ে আঁ*চড় কেটে দিল। তবুও সিয়াম ছা*ড়ল না। কিছুক্ষণ পর, যখন সে শাপলাকে ছেড়ে দিল, শাপলা হাঁফাতে হাঁফাতে উঠে বসল।
সিয়াম তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তুই যদি আমার বি*য়ে করা বউ হইতি, তাহলে তোকে গোসল করিয়ে ছাড়তাম। কিন্তু চিন্তা করিস না। খুব তাড়াতাড়ি তোকে বিয়ে করব। তোকে আমার করে নেব চিরকালের জন্য।”
এইকথা বলে সিয়াম দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।
শাপলা তাড়াতাড়ি দরজা আটকে দিয়ে দরজায় গা এলিয়ে দাঁড়াল। তার ঠোঁটে এখনও সিয়ামের চু*মুর উষ্ণতা লেগে আছে। হৃদয়ের ভেতর এক অদ্ভুত মিষ্টি আবেগ আর অস্থিরতা মিশে যাচ্ছে। সিয়ামের শেষ কথাগুলো বারবার তার মনে বাজছে।
গভীর রাত। ঘরজুড়ে নিস্তব্ধতা। হঠাৎই শাপলার ফোনটা বেজে উঠল।
শাপলা চমকে উঠল। এত রাতে আবার কে ফোন করল?
গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে বালিশের নিচ থেকে ফোনটা বের করল। স্ক্রিনে ভাসছে অচেনা নম্বর।
একটু দ্বিধা নিয়ে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল সেই বিরক্তিকর কণ্ঠস্বর,
“হাই জা*ন, তুমি এখনো ঘুমাওনি?”
শাপলার বুঝতে বাকি রইল না, এটা আর কেউ নয় আনিক।
শাপলা রাগে গজগজ করতে করতে বলল, “এই কু*ত্তা, তোর মাথায় কি সমস্যা আছে? তোর কান কি পচে গেছে? একটা কথা কতবার বলব, তোর সাথে আমি প্রেম করব না। তবুও কেন বি*রক্ত করিস?”
ফোনের ওপাশ থেকে আনিক বলল, “উফ্ জা*ন, এমন ক*রো কেন? তোমাকে রো*মা*ন্টিক কথা বলে ঘুম পাড়িয়ে দেব, তাই কল দিয়েছি।”
শাপলা চোখ দুটো বড় বড় করে বলল, “তোর রো*মা*ন্টিক কথা ধুয়ে পানি খা কু*ত্তা।”
আনিক বলল, “তুমি কেন বোঝো না, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি? তোকে ছাড়া ছ*টফট করছি। শুধু মন চায় তোমাকে আ*দ*র করি।”
শাপলা রাগান্বিত কন্ঠস্বরে বলল, “তোকে আর নেওয়া যাচ্ছে না। দাঁড়া, তোর একটা ব্যবস্থা করতেই হবে, নাহলে তোর শিক্ষা হবে না। শুধু স্কুলটা একবার খুলুক, তারপর দেখ তোর কী অবস্থা করি।”
এই বলে সে কল কেটে দিয়ে নম্বর ব্লক করে দিল। এরপর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
সকাল হয়ে গেছে।
ডাইনিং টেবিলে বসে নিরব ধীরে ধীরে নাস্তা খাচ্ছে। পাশের চেয়ারে কবিতা চুপচাপ বসে আছে। আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে নীলাঞ্জনা।
কবিতা একবার নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল। তারপর শান্ত গলায় বলল,
“ভাবি, তুমি একটু এখান থেকে যাও। আমার ভাইয়ের সাথে জরুরি কিছু কথা আছে।”
নীলাঞ্জনা কিছু না বলে চুপচাপ সরে গেল।
খেতে খেতে নিরব কবিতার দিকে তাকাল। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কী হয়েছে?”
কবিতা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।
“তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব। কিন্তু সত্যি বলবি ?”
নিরব একটু অবাক হলো। চামচটা নামিয়ে রেখে বলল,
“আমাকে আবার কী জিজ্ঞেস করবি? বল কী হয়েছে।”
“আগে বল, সত্যি বলবি?”
কবিতার গলায় জেদ।
নিরব হালকা হাসল।
“আচ্ছা ঠিক আছে। যা জিজ্ঞেস করার করে ফেল। আমি মিথ্যে বলব না।”
কবিতা একটু ঝুঁকে এল। ধীরে বলল,
“শাপলার বিষয়ে কিছু জানিস তুই?”
নিরব ভ্রু তুলল।
“মানে? বুঝলাম না। কী বলতে চাস?”
“বলছি, শাপলা কি তোকে কিছু শেয়ার করে? নিজের বিষয়ে কিছু বলে তোকে?”
নিরব হেসে ফেলল।
“শাপলা আবার আমাকে কী শেয়ার করবে? ও একটা মেয়ে মানুষ, আমার কাছে এসে কী বলবে? তুই আজব প্রশ্ন করিস না তো।”
কবিতা আর কিছু বলল না। মুখটা একটু গম্ভীর করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। কিছু না বলে চলে গেল ।
নিরব খাওয়া শেষ করে প্লেটটা সরিয়ে রাখল।
হঠাৎ করেই নিরবের ফোনটা বেজে উঠল।
ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাল সে। নম্বরটা দেখে ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।
আঙুল ছুঁইয়ে কলটা রিসিভ করলো ।
নিরব বলল,
“হ্যালো। হ্যাঁ, এই তো মাত্র নাস্তা শেষ করলাম। তুমি করেছো?”
নিরব ধীরে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ, এই তো এখন বের হবো।”
ওপাশ থেকে কী বলা হলো, শুধু নিরবই শুনছে। মাঝে মাঝে ছোট ছোট উত্তর দিচ্ছে—
“না, তেমন কিছু না।”
“ও আচ্ছা।”
“ঠিক আছে।”
“ওকে, তাই হবে।”
“হ্যাঁ সবাই ভালো আছে।”
“কিছুক্ষণ আগে এখানে ছিল।”
“না ঐসব কাজ বিরক্ত লাগে।”
“কিছুক্ষণ কথা বলে শেষে বলল,
“আচ্ছা, পরে কথা বলি।”
এই বলে কল কেটে দিলো।
এর পর নিরব ব্যস্ত পায়ে বেরিয়ে পড়ল অফিসের উদ্দেশ্যে।
জেরিনের হৃদয়টা যেন ঢেউয়ের মতো উথাল-পাথাল করছে। সে আস্তে আস্তে সিয়ামের রুমের দরজায় টোকা দিল। সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা খুলে গেল।
পা টিপে টিপে, নিঃশব্দে সে ঘরে প্রবেশ করল। ঘরের নরম আলোয় সিয়াম শুয়ে আছে বিছানায়। নীল টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজারে তার শরীরটা যেন এক অপূর্ব ভাস্কর্য। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালের উপর পড়ে আছে, ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে রয়েছে। ঘুমের মধ্যেও তার মুখে এক অদ্ভুত শান্তি আর আকর্ষণ।
জেরিন নিঃশব্দে তার কাছে এগিয়ে গেল। তারপর নিচু হয়ে ফুঁ দিয়ে সিয়ামের চোখের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। হৃদয়ের গভীর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।
‘ইস্… এই মানুষটাকে কবে নিজের করে পাবো আমি?’ মনে মনে বলল জেরিন। ‘কী অসম্ভব সুন্দর তুমি, সিয়াম। তোমার এই ঘুমন্ত চেহারাটা দেখলেই মন চায়, তোমার বুকের উপর মাথা রেখে পৃথিবীর সব ঝড়ঝাপটা ভুলে, শান্তির ঘুম ঘুমিয়ে পড়ি। যেভাবেই হোক… তোমাকে আমার করে নিতেই হবে।’
আলতো করে সে তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। নরম, রেশমের মতো চুল। তারপর সাহস করে হাতটা নামিয়ে রাখল সিয়ামের বুকের উপর। উষ্ণতা, হৃদস্পন্দন, আর তার শরীরের মাদকতাময় গন্ধ—সব মিলিয়ে জেরিনের শরীরটা এক মুহূর্তে সিরসির করে উঠল। একটা তীব্র শিহরণ ছড়িয়ে পড়ল তার স্নায়ুতে। তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নিল সে, কিন্তু তার চোখ দুটো আটকে গেল সিয়ামের গোলাপি, নরম ঠোঁটের উপর।
‘উফ্…’ জেরিন ঢোক গিলল। ‘এখনই এই ঠোঁট দুটো চু*মু খেতে ইচ্ছে করছে। শুধু একবার… একটু স্বা*দ নিতে…’
সে আর নিজেকে সা*মলা*তে পারল না। ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ল সিয়ামের মুখের কাছে। তার নিঃশ্বাস সিয়ামের ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে। চু*মু খাওয়ার জন্য ঠোঁট দুটো আরও কাছে নিয়ে গেল… কিন্তু শেষ মুহূর্তে থেমে গেল।
‘যদি উঠে যায়?’ হৃদয়ের ভিতর একটা ভয় আর উ*ত্তে*জ*না মিশে গেল। চোখ বন্ধ করে সে নিজেকে সামলাল। কিন্তু তার হৃদয় তো আর থামছে না। প্রতিটি সেকেন্ডে সিয়ামের প্রতি তার ভালোবাসা যেন আরও গভীর, আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
ঘুমন্ত সিয়ামের মুখের দিকে তাকিয়ে জেরিন মনে মনে ফিসফিস করে বলল,
“তুমি জানো না সিয়াম… আমি তোমাকে কতটা চাই। একদিন… খুব শীঘ্রই… এই ঠোঁট, এই বুক, এই পুরো মানুষটা… শুধু আ*মার হবে।”
সিয়ামের ঘর থেকে বেরিয়ে জেরিন সোজা নিজের রুমে চলে গেল।
মনের ভেতর অদ্ভুত একটা উ*ত্তে*জনা। ফোনটা হাতে নিয়ে হিন্দি গান ছেড়ে দিল সে।
গানের তালে তালে জেরিন নাচতে শুরু করল। মুখে হাসি, চোখে একরাশ স্বপ্ন।
আজ ফির তুমপে প্যায়ার আয়া হ্যায়
আজ ফির তুমপে প্যায়ার আয়া হ্যায়
বেহদ ঔর বেশুমার আয়া হ্যায়
আজ ফির তুমপে প্যায়ার আয়া হ্যায়…
টুটে তো টুটে তেরি বাহো মে এয়েসে
জ্যায়সে শাখো সে পাত্তে বেহায়া
বিখরে তুঝি সে ঔর সিমটে তুঝি মে
তু হি মেরা সব লে গয়া
না ফিকর, না শরম, না লিহাজ, এক বার আয়া
ফির জাররে জাররে মে দীদার আয়া হ্যায়
ফির জাররে জাররে মে দীদার আয়া হ্যায়
আজ ফির তুমপে প্যায়ার আয়া হ্যায়…
হঠাৎ কবিতা ঘরে ঢুকে গানটা বন্ধ করে দিল।
জেরিন থমকে গিয়ে বলল,
“একি! গানটা বন্ধ করলে কেন?”
কবিতা গম্ভীর গলায় বলল,
“এখন নাচার সময় না জেরিন। আগে আমাদের জানতে হবে শাপলা সিয়ামকে ভালোবাসে কি না।”
জেরিন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কেন? নিরব ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করোনি?”
“করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। শাপলা নিরবকে কিছুই বলেনি।”
কবিতার গলায় দৃঢ়তা,
“ও নিশ্চয়ই অন্য কাউকে বলেছে।”
জেরিন একটু ভেবে বলল,
“অন্য কেউ মানে? নীলাঞ্জনা ভাবি?”
কবিতার চোখ চকচক করে উঠল।
“হ্যাঁ, নীলাঞ্জনা ভাবি। তাছাড়া আর কেউ নেই। আগে কেন মাথায় এলো না কথাটা!”
জেরিন একটু দ্বিধায় পড়ল।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২০
“কিন্তু ভাবি কি আমাদের সাথে শেয়ার করবে?”
কবিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“সেটাই তো কথা। যদি না বলে, তখন কী করব?”
জেরিন হালকা হেসে বলল,
“চলো আগে জিজ্ঞেস করেই দেখি। না বললে তখন অন্য পথ দেখা যাবে।”
এই বলে দুজনে নিঃশব্দে নীলাঞ্জনার ঘরের দিকে পা বাড়াল।
