রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৬
মহাসিন
শাপলা ধীরে ধীরে কাঁপা হাতে সদর দরজাটা খুলে দিল। এক মুহূর্তে সব ভয় যেন উড়ে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিরব।
নিরব ভ্রু কুঁচকে শাপলার দিকে শুধালো,,
“কিরে, এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে? আর বাকিরা কোথায়?”
শাপলা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। বুকের ওপর থেকে ভারী পাথরটা সরে গেল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“সবাই শপিং করতে গেছে।”
নিরব এক পা ভেতরে রেখে শুধালো,
“তুই ওদের সাথে গেলি না কেন?”
শাপলা মাথা নিচু করে বলল,
“এমনি যাইনি।”
একটু থেমে সে আবার করে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি তো এই সময়ে বাড়িতে আসেন না। তাহলে আজকে কেন এলেন?”
নিরব ক্লান্ত গলায় বলল,
“আর বলিস না। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ একটা ফাইল বাড়িতে রেখে গেছি। ওটা নিতেই এলাম।
তুই যা তো, আমার জন্য ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আয়। গলাটা একদম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।”
শাপলা মাথা নাড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে ছুটল।
আর নিরবও দ্রুত নিজের ঘরে চলে গেল ফাইলটা খুঁজতে।
কিছুক্ষণ পর নিরব ফিরে এল। চারদিকে চোখ বুলিয়ে বলল,
“কিরে শাপলা? কোথায় হারিয়ে গেলি?”
“এই তো আসছি!”
দ্রুত পায়ে হেঁটে শাপলা এসে হাতে পানির গ্লাসটা ধরিয়ে দিল।
নিরব এক নিশ্বাসে গ্লাসের সব পানি শেষ করে ফেলল।
তারপর খালি গ্লাসটা শাপলার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“কোথাও যাবি না। বাড়িতেই থাক। আমি এবার যাই।”
কথাটা বলে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ফাইলটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেল নিরব।
শাপলা ধীরে ধীরে সদর দরজাটা আটকে দিল।
সে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে গিয়ে সোফার ওপর ধপ করে বসে পড়ল।
শাপলা নিজের সঙ্গে কথা বলতে লাগলো,
“আমি যে বিয়ে করে ফেলেছি… মা বাবা যখন জানবে, তখন হয়তো খুব কষ্ট পাবে। আমার কি আদৌ এই বিয়েটা করা ঠিক হলো? সবাই তো আমাকে ভুল বুঝবে।”
একটু থেমে তার চোখের সামনে ভেসে উঠল অসহায় একটা মুখ। ধীরে ধীরে বলল,
“কিন্তু এই বিয়ে করা ছাড়া আর তো কোনো উপায় ছিল না। আমি যদি সিয়াম ভাইয়াকে না বিয়ে করতাম, তাহলে সে যদি জেরিনের হয়ে যেত… তাহলে আমি বেঁচে থেকেও ম*রে যেতাম।”
হঠাৎ কলিং বেলের তীক্ষ্ণ শব্দে বাড়ির নিস্তব্ধতা চিরে গেল।
শাপলা বিরক্ত মুখে বিড়বিড় করল, “এখন আবার কে এল?”
ধীরে ধীরে হেঁটে সে সদর দরজার কাছে গেল। দরজা খুলতেই এক ঝড়ের মতো ঘরে ঢুকে পড়ল সিরাজ।
এক মুহূর্ত নষ্ট না করে পেছন থেকে দরজা ঠেলে দিল সে, শব্দ করে আটকে গেল ছিটকিনি।
শাপলার বুক ধ্বক করে উঠল। গলা শুকিয়ে গেল । কাঁপা স্বরে বলল,
“একি! আপনি দরজা আটকে দিলেন কেন?”
সিরাজের ঠোঁটে খেলে গেল বাঁকা হাসি। চোখ দুটোতে অন্ধকারের চকচকে ছায়া।
“কী বল তো শাপলা, আজ তো বাড়ি পুরোপুরি ফাঁকা। কেউ নেই। তাই ভাবলাম, তোর সাথে একটু গল্প করি। তাই চলে এলাম।”
“আপনি কীভাবে জানলেন বাড়িতে কেউ নেই?” শাপলার কণ্ঠে সন্দেহের কাঁটা।
সিরাজ এক পা এগিয়ে এল। তার ছায়া শাপলার মুখের ওপর পড়ল।
“অত সব জেনে তোর কী কাজ? চল, দুজনে গল্প করি।”
শাপলা পিছিয়ে গেল। কণ্ঠে কাঠিন্য আনার চেষ্টা করল,
“আপনি চলে যান। আমি আপনার সাথে কোনো কথা বলতে চাই না। প্লিজ, চলে যান।”
সিরাজ ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।
“কিন্তু আমি তো তোর সাথে অনেক কথা বলতে চাই, শাপলা। অনেক দিনের জমানো কথা।”
“একি! আপনি আমার কা*ছে আসছেন কেন? চলে যান এখান থেকে!” শাপলার গলা কেঁপে উঠল।
মুহূর্তে সিরাজের হাত শাপলার কব্জি আঁকড়ে ধরল। লোহার মতো শক্ত সেই বন্ধন।
“কী বল তো শাপলা, যেদিন তোকে প্রথম এই বাড়িতে দেখলাম, সেদিনই তোর ওপর আমার চোখের নোং*রা নজর পড়ে যায়। অনেক দিন ধরে সুযোগ খুঁজছি। আজ সেই দিন। আজ তোকে পুরোপুরি ভো*গ করব।”
শাপলার শরীর বরফ হয়ে গেল। হাত ছাড়ানোর জন্য সে প্রাণপণ চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।
ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল তার। শুধু বলতে পারল,
“আপনি এসব কী বলছেন? প্লিজ, চলে যান। চলে যান এখান থেকে।”
সিরাজ এক টানে তাকে নিজের বু*কের কাছে টেনে নিল।
“এবার কোথায় পা*লাবি? পা*লানোর পথ নেই, শাপলা।
শোন, তোকে একটা সুযোগ দিচ্ছি। নিজেকে আমার কাছে স*ম*র্পণ কর। তাহলে তোর লাভই হবে। তোকে অনেক সু*খ দেব। এমন ভাবে তোর সাথে রো*মা*ন্স করবো যে তুই আমাকে সব সময় কা*ছে পা*ওয়ার জন্য পা*গলের মত ছ*টফট করবি।
আর যদি না করিস… তাহলে জো*র করে তোকে ভো*গ ক*রবো। তখন তোর অবস্থা এমন হবে যে কাউকে মু*খ দে*খাতে পারবি না। তোর শ*রীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খু*ল*বে খু*ল*বে খা*বো।
অনেক দিনের জমানো উ*ত্তে*জনা, বুঝিস তো? আমি শুরু করলে থামতে পারব না।”
শাপলার চোখে মুহূর্তের জন্য মৃ*ত্যু*ভয় নেমে এল। কিন্তু পরক্ষণেই সেই ভয় রূপ নিল ঘৃণায়।
প্রাণপণ শক্তিতে সে সিরাজের বুকে কা*মড় বসিয়ে দিল।
য*ন্ত্রণায় হাত আলগা হতেই সে ছিটকে সরে গেল।
“আমি ম*রে যাব,” তার গলা থেকে বেরিয়ে এল ভাঙা, কিন্তু দৃঢ় স্বর।
“তবুও তোর মতো জ*ঘন্য, নোং*রা মানুষের কাছে নিজেকে তু*লে দেব না।”
বলেই সে পেছনে না ফিরে সিঁড়ির দিকে ছুটল। পায়ের শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ফাঁকা বাড়ির দেয়ালে।
সিরাজ হেসে উঠল। সে হাসিতে ছিল না আনন্দ, ছিল শুধু হিং*স্রতা।
“শাপলা, তুই আজ আমার হাত থেকে বাঁ*চতে পা*রবি না। আজ আমার শ*রীরের আ*গুন তোকে দিয়েই নে*ভাব।”
বলেই সে শাপলার পিছু ছুটল।
বাড়ির প্রতিটি কোণ এখন যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেখছে, অন্ধকার আর আলোর এই লড়াই।
শাপলা প্রাণপণে দৌড়ে নীলাঞ্জনার ঘরে ঢুকে পড়ল। দরজার ছিটকিনি টানার সময়টুকুও পেল না। কাঁপা হাতে ড্রেসিং টেবিলের পেছনে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে পড়ল।
শরীরের প্রতিটি শিরা কাঁপছে। কপালে, গলায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেছে। বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা এমনভাবে ধুকপুক করছে, মনে হচ্ছে এই বুঝি পাঁজর ভেঙে বেরিয়ে আসবে। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ, গলায় আটকে গেছে বাতাস। শুধু প্রাণপণে নিঃশ্বাস চেপে ধরে আছে সে।
বাইরে থেকে ভেসে এল সিরাজের গর্জন।
“শাপলা! তাড়াতাড়ি বের হ বলছি। আমার মাথায় রাগ উঠাবি না। বের হ! তোর শরী*রের প্রতিটি অঙ্গ খা*ও*য়ার জন্য আমার হার্টবিট লাফাচ্ছে।”
কথাগুলো শুনে শাপলার শরীরের র*ক্ত যেন জমে বরফ হয়ে গেল। মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—_এবার কী হবে? কীভাবে নিজেকে বাঁচাবো? কেন যে বাড়িতে একা থেকে গেলাম!_
“এই বে**শ্যা! বের হ বলছি!” সিরাজের গলা এবার উন্মাদের মতো শোনাচ্ছে।
“তোকে যদি খুঁজে বের করতে হয়, তাহলে এমনভাবে ভো*গ করব—বাঁ*চার জন্য তুই আমার পা*য়ে পড়বি। আর রাগাস না আমাকে। আমি এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনব। এর মধ্যে বের না হলে তোর জী*বন আজ শে*ষ।”
এক… দুই… তিন… চার… পাঁচ…
“বের হ তাড়াতাড়ি! এই মা**গি, বের হ!”
ছয়… সাত…
শাপলার বুক ধুকপুক করছে। এই ন*র*খা*দকের হাত থেকে কীভাবে বাঁ*চবে সে?
আট… নয়… দশ।
“এবার তুই শে*ষ, শাপলা।”
কথাটা শেষ হতেই সিরাজ ঢুকে পড়ল নীলাঞ্জনার ঘরে। চোখ বুলাল চারদিকে, হিং*স্র শি*কারির মতো।
হঠাৎ ড্রেসিং টেবিলের পাশে ওড়নার একটা কোণ চোখে পড়ল তার।
সিরাজ বি*কৃত হেসে উঠল।
“উফ্ শাপলা, তুই আসলেই বোকা।”
এক ঝটকায় সে টেনে বের করল শাপলাকে।
শাপলা চিৎকার করে উঠল,
“আমাকে ছে*ড়ে দিন! প্লি*জ, ছে*ড়ে দিন! আমার সাথে খা*রাপ কিছু ক*রবেন না। দো”হাই আপনার, আমার জী*বনটা ন*ষ্ট কর*বেন না!”
সিরাজ এক টানে তার গা থেকে ও*ড়না খু*লে ছুঁড়ে ফেলে দিল দূরে।
শাপলা তাড়াতাড়ি দু’হাতে নিজেকে ঢা*কার চেষ্টা করল।
সিরাজের চোখে নেমে এল নোং*রা তৃপ্তি।
“উ*ফ্… তুই তো পু*রোই একটা মা*ল। তোকে খে**তে তো অনেক ম*জা হবে।”
তার কণ্ঠে নেমে এল অন্ধকার, ভারী লা*ল*সা।
“যদি কাবাব হতিস, ম*দের সাথে খে*তাম। আফসোস… এখনো তোর গা”য়ে ম*দ ঢেলে খা*ওয়া যেত। কিন্তু ম*দ তো আনি নাই। থাক, ম*দ ছাড়াই খা*ব।”
বলেই সে এক পা এগোল।
শাপলা পিছিয়ে গেল আরেক পা।
ঘরের বাতাস এখন ভারী, শ্বাসরোধী। আর দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে শুধু একটা মেয়ের নিঃশব্দ আ*র্ত*নাদ।
সিরাজ এক ঝটকায় শাপলাকে লা*থি মে*রে মেঝেতে আ*ছড়ে ফে*লে দিলো।
শাপলার বুক থেকে বেরিয়ে এল আ*র্ত*নাদ—
“আমার সা*থে এ*মন ক*রবেন না! প্লি*জ, আমাকে ছে*ড়ে দিন। আমার জী*বন*টা ন*ষ্ট কর*বেন না।”
সিরাজ বিকট হেসে উঠল। সেই হাসিতে ছিল না মানুষের ছায়া, ছিল শুধু ন*র*খা*দকের উল্লাস।
“তুই যতই ন্যাকাকান্না করিস, আমি ছা*ড়ব না। উফ্, কতদিন ধরে উ*ত্তে*জি*ত হয়ে আছি। তোকে কখন খা*বো—আর তুই বলছিস ছে*ড়ে দি*তে?”
বলেই সে শাপলার ও*পর ঝাঁ*পিয়ে পড়ল।
পা*গলের মতো তার গ*লায় কি*স বসাতে লাগল, ন*খ ব*সাতে লাগল চামড়ায়।
শাপলা ছ*টফট করছে, নিজেকে ছা*ড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। কিন্তু সিরাজের পশুশক্তির সামনে সে নিঃসহায়।
“এত নড়িস না,” সিরাজ হিসহিস করে বলল।
“আমাকে শান্তিতে খে*তে দে।”
শাপলার চোখে জ্বলে উঠল ঘৃ*ণার আ*গুন। সে চিৎকার করে উঠল,
“এই কু*ত্তা, আমাকে ছে*ড়ে দে!”
জবাবে সিরাজ শাপলার গালে সজোরে চ*ড় বসিয়ে দিল।
“হ্যাঁ, আমি কু*ত্তাই। আজ তোকে কু*ত্তার ম*তোই খা*বো।”
মৃত্যু*ভ*য়ের শেষ সীমায় পৌঁছে শাপলার শরীরে নেমে এল অদ্ভুত এক শক্তি।
সে দেরি না করে সিরাজের গ*লায় ব*সিয়ে দিল দাঁ*ত।
সিরাজ য*ন্ত্র*ণায় চিৎকার করে উঠল।
“শাপলা! ছা*ড় বলছি! ছাড়! নাহলে তোকে শে*ষ করে দেব!”
কিন্তু শাপলা ছাড়ল না। দাঁতের চা*প আরও বাড়িয়ে দিল।
এক টুকরো মাং*স ছিঁ*ড়ে এল তার মুখে।
যন্ত্র*ণার তীব্রতায় সিরাজের হাত শিথিল হয়ে গেল।
সেই মুহূর্তে শাপলা তাকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে ফেলে দিল।
তড়িৎ গতিতে সে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়াল। চোখে আ*গুন, গলায় ঘৃ*ণা।
“এই কু*ত্তার বা*চ্চা, তুই কি আদৌ মানুষ? তুই তো বি*ষাক্ত সা*পের চেয়েও খা*রাপ!”
সিরাজ গলা চেপে ধরে মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। গলা চিরে বেরিয়ে আসছে গরম র*ক্তের ধারা।
“শাপলা… তোকে আজ শে*ষ করে দেব। তুই আমার হাত থেকে বাঁ*চতে পারবি না।”
শাপলা এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। প্রাণপণে ছুটে বেরিয়ে গেল নীলাঞ্জনার ঘর থেকে।
পেছনে পড়ে রইল র*ক্তের ছিটে আর সিরাজের গোঙানি।
সিরাজও কোনোমতে উঠে দাঁড়াল। র*ক্তা*ক্ত গলা চে*পে ধরে সে শাপলার পিছু নিল।
শাপলা ছুটতে ছুটতে নিরবের ঘরে ঢুকে দরজায় আটকে দিল।
বুকের ভেতরটা এখনও ভূমিকম্পের মতো কাঁপছে।
বাইরে থেকে ভেসে এল সিরাজের হিং*স্র গর্জন—
“তাড়াতাড়ি দরজা খোল, শাপলা! দরজা খোল!”
দরজার বাইরে সিরাজ পা*গলের মতো চিৎকার করছে।
প্রতিটি চিৎকার যেন বজ্র হয়ে আছড়ে পড়ছে শাপলার বুকে।
শাপলা ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। শরীরের প্রতিটি শিরায় বয়ে যাচ্ছে ভয়ের হিমশীতল স্রোত।
_কীভাবে বাঁ*চব আমি? কীভাবে বাঁ*চব এই ন*র*খাদ*কের হাত থেকে?_
প্রাণপণে সে দৌড়ে গেল জানালার কাছে। কাঁপা হাতে খুলে দিল কপাট।
নিচে তাকাতেই বুক ধক করে উঠল।
এখান থেকে লা*ফ দিলে বাঁ*চা নয়, মৃ*ত্যুই নিশ্চিত।
তাহলে উপায়?
_এবার কী করব আমি? আমার ফোনটা কোথায়?_
মনে পড়তেই বুকটা হু হু করে উঠল।
ফোনটা তো পড়ে আছে ড্রয়িং রুমের সোফার ওপর।
যদি ফোনটা হাতে থাকত, অন্তত একটা কল করতে পারত।
কিন্তু এখন?
দরজা খুললেই সিরাজ ছিঁ*ড়ে খা*বে তাকে।
বাইরে থেকে আবার ভেসে এল সিরাজের গর্জন—
“এই হা*রা*ম*জাদি! দরজা খোল!”
বলেই সে অনবরত লা*থি মা*রতে লাগল দরজায়। প্রতিটি লা*থিতে কেঁপে উঠছে কাঠের পাল্লা, কেঁপে উঠছে শাপলার হৃদয়।
শাপলা শুকনো ঢোঁক গিলল। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
এলোমেলো চুল মুখের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। গায়ে ও*ড়না নেই, শুধু টুপিসে ঢা*কা শ*রীর।
পা দুটো থরথর করে কাঁপছে। দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও যেন ফুরিয়ে আসছে।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৫
সিরাজের লা*থির শব্দ বেড়েই চলেছে। প্রতিটি আ*ঘা*তের সঙ্গে দরজার ফাঁক বড় হচ্ছে, আর শাপলার শ্বাস আরও ভারী হচ্ছে।
ঘরের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু একটাই প্রশ্ন বাজছে—
_কীভাবে বাঁচ*বে শাপলা?_
