Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪
মহাসিন

“ওই পিচ্চি বউ, ঘুম থেকে ওঠো। আর কত ঘুমাবে? এবার তো ওঠো।”
সিয়াম শাপলাকে ঘুম থেকে ওঠানোর চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করার পর চোখ দুটো ডলতে ডলতে শাপলা ঘুম থেকে উঠল।
“ওই পিচ্চি বউ, কখন সকাল হয়েছে তার খেয়াল আছে?”
সিয়ামের মুখে ‘পিচ্চি বউ’ ডাক শুনে শাপলা চমকে উঠে বলল, “কীহ্? পিচ্চি বউ! ভাইয়া, আপনার মাথা ঠিক আছে তো? আমি আপনার কোন কালের বউ লাগি, হ্যাঁ?”
সিয়াম মৃদু হেসে বলল, “কোন কালের বউ লাগো, তা তো জানি না। তবে কিছুদিন পর তোমাকে বিয়ে করে আমার পিচ্চি বউ বানাব। ”
শাপলা খাট থেকে নেমে শুধাল, “আমি যদি রাজি না হই, তাহলে কীভাবে বিয়ে করবেন?”
সিয়াম শাপলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি যদি রাজি না হও, তাহলে তু*লে নিয়ে গিয়ে জো*র করে বিয়ে করব।”
শাপলা মৃদু হেসে বলল, “বিয়ের সময় যদি কবুল না বলি, তাহলে জো*র করে কীভাবে বিয়ে করবেন? আমাকে যদি জো*র করে তুলে নিয়ে যান । তাহলে আমি কবুল বলবো না।”
সিয়াম শাপলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তুমি যদি কবুল না বলো, তাহলে বিয়ে না করেই তোমার সাথে বা*স*র করব। কী, বিয়ে ছাড়া খালাতো ভাইয়ের সাথে রা*ত কা*টা*তে পারবে তো?”

সিয়ামের মুখে এমন কথা শুনে শাপলার শরীর শিরশির করে উঠল, লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেল। লজ্জায় শাপলা মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলল, “ভাইয়া, সবসময় এসব কথাবার্তা ভালো লাগে না। আপনার মুখে কোনো লাগাম নেই।”
সিয়াম বুঝতে পারছে শাপলা বেশ লজ্জা পাচ্ছে, তাই কথা ঘুরিয়ে দিয়ে বলল, “এখন কয়টা বাজে তার খেয়াল আছে? তোর স্কুলে যাওয়ার সময় তো চলে গেছে।”
শাপলা সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলল, “ভাবী কোথায়? আমাকে ডেকে দিল না কেন? প্রতিদিন তো ডেকে দেয়।”
সিয়াম স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে বলল, “ভাবী তো আলোকে নিয়ে স্কুলে গেছে। গার্ডিয়ানদের কী নাকি মিটিং হবে, তাই তাড়াতাড়ি চলে গেছে। আমাকে বলে গিয়েছিল তোকে যেন ঘুম থেকে তুলে দিই। কিন্তু তুই তো ম*রার মতো পড়ে ঘুমোচ্ছিলি। কতবার ‘বউ বউ’ বলে ডাকার পর ঘুম থেকে উঠলি।”
শাপলা বিরক্ত হয়ে বলল, “ধ্যাত, ভাল্লাগে না। আগে বিয়ে হোক, তারপর এসব বলবেন।”
সিয়াম মুচকি হেসে বলল, “তোর এই রাগ আমাকে আরও তোর প্রতি আ*কৃষ্ট করে। আচ্ছা এটা বল, তুই কেন আমার সাথে ঘুরতে যেতে চাইলি না?”
শাপলা মুচকি হেসে বলল, “আমি নিরব ভাইয়ার সাথে ঘুরতে যাব। তার সাথে কখনো কোথাও যাওয়া হয়নি। সে তো আপনার মতো না। আপনি তো সারাক্ষণ রো*মা*ন্টিক কথাবার্তা বলেন। আমার অস্বস্তি লাগে।”
সিয়াম অল্প হেসে বলল, “শাপলা, তুই বড্ড বোকা। তুই যদি ভাইয়াকে কিছু কিনে দিতে বলিস, তাহলে কিছুই কিনে দেবে না। ভাইয়া অনেক কিপটা।”

শাপলা বলল, “আচ্ছা, দেখা যাবে কিছু কিনে দেয় কি না।”
সিয়াম শাপলার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধাল, “কিছু কি ভাবলি?”
শাপলা অবাক হয়ে বলল, “কী ভাবব?”
“কেন, তোকে না বলেছিলাম তুই আমার হবি কি না? তুই তো বলেছিলি ভালো করে ভেবে বলবি।”
“এক মাস হোক আগে, তারপর বলব।”
সিয়াম বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে। আমি এখন অফিসে যাচ্ছি। কোথাও যাবি না। ঘরে থাকবি।”
এই বলে সিয়াম চলে গেল।

বেশ কিছু সময় চলে গেল। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল। শাপলা নিজের রুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িং রুমের সদর দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। কলিং বেল বেজেই যাচ্ছে। শাপলা তাড়াতাড়ি সদর দরজা খুলে দিল।
সাথে সাথে ঘরে প্রবেশ করল নীলাঞ্জনা ও তার ছোট মেয়ে আলো। নীলাঞ্জনা শাপলাকে বাসায় দেখে বেশ অবাক হয়ে শুধাল, “তুমি আজকে স্কুলে যাওনি? সিয়াম তোমাকে ডেকে দেয়নি? সিয়াম এখন কোথায়?”
শাপলা বলল, “সিয়াম ভাইয়া অফিসে চলে গেছে। আমাকে ডেকে দিয়েছিল, তবে অনেক দেরিতে। তাই আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।”
নীলাঞ্জনা আলোকে নিয়ে সোফার উপর ধপ করে বসে পড়ল। শাপলা দরজা আটকে দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গেল। “ভাবী, পানি খাবেন? দেব কি?”
“হ্যাঁ, দাও। গলাটা একদম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।”
শাপলা পাশের টেবিলের উপর থাকা জগ থেকে একগ্লাস পানি ঢেলে নীলাঞ্জনার দিকে এগিয়ে দিল। নীলাঞ্জনা পানির গ্লাস হাতে নিয়ে ঢকঢক করে এক নিঃশ্বাসে পানি পান করল।
শাপলা নীলাঞ্জনার ছোট মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে শুধাল, “তুমি পানি খাবে?”
আলো বলল, “না, আমি পানি খাব না।” এরপর নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলল, “মা, আমি ঘরে যাই।”
নীলাঞ্জনা হেসে বলল, “হ্যাঁ, যাও। তবে রুমে গিয়ে দুষ্টুমি করো না।”

এরপর আলো দৌড়ে রুমে চলে গেল। শাপলা নীলাঞ্জনার পাশে সোফার উপর ধপ করে বসে পড়ল। শাপলা নীলাঞ্জনার একটা হাত নিজের হাতে নিয়ে বলল, “ভাবী, একটা কথা বলব। কাউকে বলবেন না তো?”
নীলাঞ্জনা বলল, “হ্যাঁ, বলব না। তুমি যদি কিছু শেয়ার করতে চাও, তাহলে করতে পারো।”
শাপলা দ্রুত বলল, “আমার না একজনকে ভালো লাগে।”
“কে সে?”
“আপনি চিনেন তাকে।”
“আমি চিনি? আচ্ছা, তুমি নাম বলো।”
“তার নাম সিয়াম।”
সিয়ামের নাম শুনে নীলাঞ্জনা হতবাক হয়ে গেল। বলল, “কীহ্? সিয়ামকে ভালো লাগে? ওকে ভালোবাসো কি?”
শাপলা বলল, “আমি সিয়াম ভাইয়াকে ভালোবাসি না। তবে কেন জানি তাকে অনেক ভালো লাগে। তাকে দেখলে আমার মধ্যে লজ্জা, ভয়, ভালো লাগা—সব কাজ করে। তাকে দেখলে আমার হার্টবিট বেড়ে যায়। মনে হয় এই বুঝি বুক চি*রে বেরিয়ে আসবে।”

নীলাঞ্জনা শাপলার দিকে তাকিয়ে শুধাল, “আচ্ছা শাপলা, তোমার এখন বয়স কত?”
শাপলা স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে বলল, “এই তো, আমার এখন ১৬ বছর।”
নীলাঞ্জনা বুঝতে পারে, এই বয়সে মেয়েরা পুরুষদের প্রতি আ*কৃষ্ট হবেই। কারণ সেও তো শাপলার মতো বয়স পার করে এসেছে। যৌ*বনে*র প্রথম পর্যায়ে ছেলেদের ভালো তো লাগবেই , এসব স্বাভাবিক ব্যাপার।
নীলাঞ্জনা বলল, সিয়াম কি জানে তুমি ওকে পছন্দ করো?”
শাপলা বলল, “আমার যে তাকে একটু একটু ভালো লাগে তা বলি নাই। কিন্তু সিয়াম ভাইয়া আমাকে ভালোবাসে।”
শাপলার মুখে এমন কথা শুনে নীলাঞ্জনার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। নীলাঞ্জনা বলল,
“তার মানে তোমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসো?”
শাপলা দ্রুত বলল, “আরে না। সিয়াম ভাইয়া আমাকে ভালোবাসে। আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আমি তার সাথে প্রেম করব কি না।”
নীলাঞ্জনা প্রশ্ন করল, “তুমি কী বলেছ তখন?”
“আমার এক মাস সময় লাগবে। ভেবে দেখব প্রেম করব কি না।”
নীলাঞ্জনা বলল, “তুমি এখনো অনেক ছোট। আমিও তোমার মতো এমন বয়স পার করে এসেছি। তাই আবে*গে আপ্লুত হয়ে এমন কোনো কাজ করো না, যাতে পরে পস্তাতে হয়।” নীলাঞ্জনা একটু থেমে আবার বলতে লাগল, “আচ্ছা, সত্যি কথা বলো, তুমি কি সিয়ামকে ভালোবাসো?”
শাপলা বলল, “আরে না। ভালোবাসি না। বললাম তো, তাকে আমার ভালো লাগে।”
নীলাঞ্জনা বলল, “ভেবে-চিন্তে ভালো সিদ্ধান্ত নিও। জীবনটা তোমার, তাই আমি আর কিছু বললাম না। ভালো-মন্দ বোঝার জ্ঞান তোমার মাথায় আছে।”

একটু চুপ থেকে নীলাঞ্জনা বলে উঠল, “আচ্ছা, টিভিটা ছাড়ো তো। নিউজ দেখব। শুনলাম কী এক সা*ই*কো না কি যেন বের হয়েছে। মেয়েদের ধ*র্ষ*ণ করে মে*রে রাস্তার ডাস্ট*বিনে ফে*লে দেয়।”
শাপলা সোফা থেকে উঠে টিভির কাছে গিয়ে রিমোটটা হাতে নিল, তারপর আবার সোফায় ফিরে বসে পড়ল। রিমোট দিয়ে টিভি অন করে নিউজের চ্যানেলে দিল। এরপর নীলাঞ্জনা ও শাপলা দুজনেই মনোযোগ সহকারে নিউজ দেখতে লাগল।
[টিভি স্ক্রিনে ব্রেকিং নিউজের লাল ব্যানার ভেসে উঠল। সংবাদ পাঠিকা রুনা লায়লার গম্ভীর মুখ।]
রুনা লায়লা: “ব্রেকিং নিউজ। কী হচ্ছে আমাদের চারপাশে এসব?
গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীরা রহস্যজনকভাবে নি*খোঁ*জ হয়ে যাচ্ছে। এর কয়েকদিন পর রাস্তার পাশের ডাস্টবিন থেকে উ*দ্ধার হচ্ছে তাদের খ*ণ্ড-বিখ*ণ্ড লা*শ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একজন সা*ইকো*প্যা*থ কি*লার পরিকল্পিতভাবে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের টা*র্গেট করছে। তাদের তু*লে নিয়ে গিয়ে ধ*র্ষ*ণের পর নৃশং*সভাবে হ*ত্যা করে লা*শ টুক*রো টু*করো করে ডাস্টবিনে ফে*লে দিচ্ছে।
পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো মূল অপ*রাধীকে শনাক্ত করা যায়নি।
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা—আপনাদের কিশোরী মেয়েদের প্রতি কড়া নজর রাখুন। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে একা ছাড়বেন না। কখন, কার যে সর্ব*না*শ হয়ে যাবে, তা কেউ বলতে পারবে না।
আরও চাঞ্চল্যকর আপডেট জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। আপনাদের সাথে এতক্ষণ ছিলাম আমি রুনা লায়লা।”
[ব্রেকিং নিউজ শেষ হলো। স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন চলতে লাগল।]
এমন ভয়া*বহ খবর শুনে নীলাঞ্জনা আর শাপলা দুজনেই ভয়ে আঁতকে উঠল। ঘরের বাতাসটা হঠাৎ যেন ভারী হয়ে গেল। শাপলার গলা শুকিয়ে এলো।

বিকেল গড়িয়ে এসেছে। সোনালি রোদ নরম হয়ে আসছে জানালার পর্দায়। নিরব ড্রয়িং রুমে পায়চারি করছে। শাপলাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে বলে বাড়িতে এসেছে সে।
অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে ডাকল, “কিরে শাপলা, তোর গোছাতে কত সময় লাগে? তাড়াতাড়ি আয়।”
ভেতর থেকে শাপলা চেঁচিয়ে উঠল, “এই তো, হয়ে গেছে। আসছি।”
কিছুক্ষণ পরেই শাপলা বেরিয়ে এলো, একদম তৈরি হয়ে। গায়ে টকটকে লাল রঙের টু-পিস, খোলা চুল পিঠ ছাপিয়ে নেমেছে। চোখে গাঢ় কাজল, ঠোঁটে গাঢ় করে লিপস্টিক দেওয়া। কানে ছোট্ট ঝুমকো দুল। অপূর্ব লাগছে তাকে—যেন বিকেলের আলোয় ফুটে ওঠা রক্তজবা।
শাপলাকে দেখে নিরব থমকে গেল। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, চোখ ফেরাতে পারছে না।
শাপলা ভ্রু নাচিয়ে বলল, “ওই ভাইয়া, কী হলো? কোথায় হারিয়ে গেলেন?”
নিরব আমতা আমতা করে নিজেকে সামলে নিল। “কোথায় আর হারিয়ে যাব। তাড়াতাড়ি চল।”
নীলাঞ্জনা শাপলার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, “শোন, ফেরার সময় কিছু খাবার নিয়ে আসিস। অনেক দিন হলো বাইরের খাবার খাই না।”
দরজার দিকে যেতে যেতে শাপলা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে, আনব।
নিরব আগেই গাড়িতে উঠে বসেছে। শাপলা গিয়ে পেছনের দরজা খুলতে যাবে, নিরব বাধা দিল। “পেছনে বসতে হবে না। আমার সাথে সামনের সিটে বস।”

শাপলা আর কথা না বাড়িয়ে সামনে এসে বসল। নিরব স্টিয়ারিং-এ হাত রেখে বলল, “সিটবেল্ট লাগিয়ে নে।”
শাপলা কয়েকবার চেষ্টা করল, কিন্তু বেল্টটা কিছুতেই আটকাতে পারল না।
নিরব সেটা খেয়াল করে বলল, “দাঁড়া, আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।” এই বলে সে শাপলার দিকে ঝুঁকে এলো।
নিরব প্রায় অনেকটা ঝুঁকে পড়েছে শাপলার গায়ের উপর। তার গায়ের পুরু*ষালি ঘ্রাণ, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা শাপলার মুখে এসে লাগছে। শাপলার কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগছে, আবার এক অদ্ভুত ভালো লাগাও কাজ করছে বুকের ভেতর। নিঃশ্বাস আটকে আসছে।
সিটবেল্ট ক্লিক করে লাগিয়ে দিয়ে নিরব সরে গেল। তারপর স্বাভাবিক গলায় বলল, “এবার বল, কোথায় যাবি?”
শাপলা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “পার্কে যাব। এরপর রেস্টুরেন্টে যাব।”
নিরব মাথা নাড়ল। “ঠিক আছে।” এই বলে গাড়ি স্টার্ট দিল। ইঞ্জিনের গর্জনের সাথে সাথে গাড়ি এগিয়ে চলল পার্কের উদ্দেশে।

আলো নিজের রুমে ঘুমিয়ে আছে। ড্রয়িং রুমের নিস্তব্ধতায় টিভির মৃদু আলো কাঁপছে নীলাঞ্জনার মুখে। সে সোফায় গা এলিয়ে বসে আছে, চোখ টিভিতে।
হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠল। নীলাঞ্জনা চমকে উঠে তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগোল। দরজা খুলতেই একটা বিকট, ঝাঁঝালো ম*দের গন্ধ ধাক্কা দিল তার নাকে।
আরিফ আহমেদ টলতে টলতে ঘরে ঢুকল। চোখ দুটো লাল, চুল উসকো-খুসকো, শার্টের বোতাম খোলা। পুরো শরীর থেকে ভকভক করে বেরোচ্ছে ম*দের উৎকট গন্ধ।
নীলাঞ্জনা ঘৃণায় মুখ কুঁচকে ফেলল। শাড়ির আঁচলটা টেনে নাক-মুখ চেপে ধরল। গা গুলিয়ে উঠছে তার।
আরিফ লাল চোখে নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে একটা নোংরা, মা*তাল হাসি। জড়ানো গলায় বলে উঠল, “ওই… বউ… বউ! তোকে আ*দর করব। কাছে আয়। কত দিন হলো তোর সাথে রো*মা*ন্স করি না। আজকে নিজের তৃ*ষ্ণা মেটাব।”
নীলাঞ্জনার চোখ দুটো আ*গুনের মতো জ্ব*লে উঠল। ঘৃণা আর অপমানে গলা কেঁপে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “নোং*রা কথা বলা বন্ধ করুন।”
কথাটা ছুড়ে দিয়েই সে ঘুরে দাঁড়াল। দ্রুত দরজাটা বন্ধ করে সোফার দিকে এগিয়ে গেল, যেন ওই ন*রক থেকে পালাতে চাইছে।
কিন্তু পারল না।
আরিফ টলতে টলতে, শিকারি জন্তুর মতো এগিয়ে এলো। নীলাঞ্জনা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে ঝাঁ*পিয়ে পড়ল তার উ*পর। দুই লোহার মতো হাত দিয়ে পি*ষে ধরল তাকে, জড়িয়ে ধরল শক্ত করে।

নীলাঞ্জনার সারা শরীর শিরশির করে উঠল—ঘৃণায়, আতঙ্কে। আরিফের মুখ থেকে বেরোনো ম*দের বিচ্ছিরি গন্ধে পেটের ভেতরটা গুলিয়ে উঠল। ব*মি পেয়ে যাচ্ছে তার।
সর্বশক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল সে। এক ঝটকায় আরিফকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। ঘৃণাভরে থুতু ফেলার মতো করে বলল, “আমার সাথে রো*মা*ন্স করতে হবে না। আপনি আপনার প্রেমিকার কাছে যান। তার সাথেই রো*মা*ন্স করুন।”
আরিফ টাল সামলাতে না পেরে হাসতে লাগল—একটা বিকৃত, কর্কশ হাসি। সেই হাসি ঘরের বাতাসকে আরও বিষাক্ত করে তুলল।
“তুমি আমার বউ!” গর্জে উঠল আরিফ। “তোমাকে তো আ*দর করতেই হবে। অনেক দিন ধরে উ*ত্তে*জিত হয়ে আছি। আজ সব তৃ*ষ্ণা মেটাব। আমার কাছে আসো… তোমাকে আ*দর করে ভরিয়ে দিই। আমার বউ বলে কথা। স্বামীর সু*খ তো পেতেই হবে, তাই না?”
আরিফ আবার এগিয়ে আসছে। তার চোখে লা*লসা, মুখে ম*দের গন্ধ, আর শরীরে একটা হিং*স্র অধিকারের আ*গুন।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩

নীলাঞ্জনা পিছিয়ে গেল। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তার। চোখে জল, বুকে ঘৃণা, আর সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠছে। এই মুহূর্তে লোকটাকে তার স্বামী মনে হচ্ছে না—মনে হচ্ছে একটা নর*কের কী*ট, যে তার শরী*র*টাকে খু*বলে খে*তে চায়।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here