Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫২

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫২

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫২
মহাসিন

কিছুটা সময় চলে গেল। শিখা কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বসার ঘরে এসে দাড়ালো। শাপলা সোফায় পা গুটিয়ে বসে ফোন টিপছে।
শিখা আড়চোখে তাকিয়ে শুধালো,
“আজ স্কুলে যাবি না?”
শাপলা মুখ না তুলেই বলল, ” যাবো না।”
“তাহলে আমার সাথে চল।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকাল। “তুই তো কলেজে যাচ্ছিস, তোর সাথে কিভাবে যাবো?”
শিখা ঠোঁট উল্টাল। “একা একা যেতে ভালো লাগে না। আমাকে একটু এগিয়ে দিবি।”
“আমি যাব না।”

“চল না। এমন কেন করিস? তুই তো স্কুলে যাবিই না, তাহলে গেলে কি হবে?”
শাপলা একটু ভেবে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা কর।”
এই বলে শাপলা রুমে গিয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে এলো।
শিখা শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুই দাড়া। আমি গিয়ে ফুপ্পিকে বলে আসি।”
শিখা সোজা রিদি বেগমের ঘরে এলো। তিনি খাটের এক কোণে বসে কাঁথা সেলাই করছেন। সুঁই সুতায় মনোযোগ।
শিখা গলা খাঁকারি দিল। “ফুপ্পি, আমি কলেজে গেলাম। শাপলাকেও নিয়ে যাচ্ছি।”
রিদি বেগম মাথা তুলে হাসলেন। “ঠিক আছে। কলেজ থেকে কোথাও যাবি না। সোজা বাড়িতে আসবি।”
“আচ্ছা, তাই হবে।”

শিখা ফিরে এসে শাপলার হাত ধরল। দুই বোন বেরিয়ে পড়ল।
বাড়ির গলি পেরিয়ে কিছুদূর হাঁটতেই মেইন রোড। দুজনে গল্প করতে করতে হাঁটছে। ধীরে ধীরে একটা পুরোনো বটগাছের নিচে এসে পড়ল। জায়গাটা একটু নির্জন।
গাছের নিচে তিনটা ছেলে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। ওরা আসতেই ছেলেগুলো সোজা হয়ে দাঁড়াল। তাদের মধ্যে লম্বা, চোখে সানগ্লাস পরা ছেলেটা বির এগিয়ে এলো।
বির ঠোঁট বাঁকা করে বলল, “দাঁ_ড়া_ও সুন্দরীরা। কোথায় যাচ্ছো?”
শাপলা মুখ ভেংচে বলল, “সেই কৈফিয়ত কি আপনাকে দিতে হবে?”
বির এক পা এগিয়ে এলো। গলায় দুষ্টু সুর। “হ্যাঁ সোনামণি। কাউকে না দিলেও আমাকে দিতে হবে।”
শিখা শাপলার হাত শক্ত করে ধরল। দুই বোন পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল।
কিন্তু ছেলে তিনটা সামনে এসে দাঁড়াল। রাস্তা আটকে।
বির বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,

“উঁহু, এত সহজে তো যে_তে দি_ব না।”
শিখার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল।
“এই, আপনাদের স_মস্যা কি হ্যাঁ? রাস্তা থে_কে স_রু_ন বলছি।”
বির এক পা এগিয়ে এলো।
“না সরব না। এখান থেকে যেতে হলে আমাদের স_ম_য় দিতে হবে। আর না হলে যেতে দিব না।”
এই বলেই বির শিখার ক_ব্জি চে_পে ধ_র_ল।
শিখা হাত ছাড়ানোর চে_ষ্টা করল।
“এই, আপনি আমার হাত ধ_র_ছেন কেন? ছা_ড়ু_ন বলছি।”
বিরের চোখে দুষ্টু ঝিলিক।
“হাত তো ছা_ড়া_র জন্য ধ_রি নাই। এই হাত যখন একবার ধ_রেছি, এত সহজে তো ছা_ড়_ব না।”
তিনটা ছেলে একসাথে হেসে উঠল।
রাগে শাপলার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। এক মুহূর্ত দেরি না করে শাপলা বিরের গালে কষে একটা চ__ড় ব_সি_য়ে দি_ল। ঠাস!

বির শিখার হাত ছে_ড়ে দিল। দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “তোর এত বড় সাহস! আমাকে চ__ড় মা_র_লি?”
হাত তুলল শাপলার দিকে। শিখা বিদ্যুতের গতিতে বিরের হাত চেপে ধরল।
“হাত ভে_ঙে দিব বে_য়া_দ_ব ছেলে। পরিবার থেকে কোনো শি_ক্ষা দীক্ষা দেয় নায়?”
বির দাঁত বের করে হাসল। “না, কোনো শিক্ষা দেয় নায়। তার জন্যই তো এ_ম_ন করি।”
শিখা আর স_হ্য করল না। বিরের অন্য গালে ঠাস করে চ_ড় মা_রল_।
“তোদের মতো ছেলেদের ওষুধই হলো চ__ড়। তাহলে যদি শিক্ষা হয়।”
বির গাল ডলতে ডলতে হাসছে। “না, শিক্ষা হবে না।”
একটু থেমে হঠাৎ গলার স্বর পাল্টে ফেলল। চোখ নামিয়ে বলল, “আচ্ছা স_রি আপু। এতক্ষণ আপনাদের সাথে মজা করছিলাম।”
শিখা অবাক। “আপনার মাথায় কি সমস্যা আছে হ্যাঁ?”
বির হাত জোড় করল। “সত্যি বলছি। মজা করছিলাম। আমি আসলে একটা বিপদে পড়েছি। প্লি_জ সাহায্য করবেন?”

শিখা ভ্রু কুঁচকাল। “আমি কেন আপনাকে সাহায্য করতে যাব হ্যাঁ?”
“প্লি_জ। অনেক বড় বিপদে পড়েছি। প্লি_জ সাহায্য করুন।”
শাপলা বুকের উপর হাত ভাঁজ করল।
“আপনাকে সাহায্য করে আমাদের কি লাভ হবে হ্যাঁ?”
বির একগাল হাসল।
“অবশ্যই লাভ হবে।”
শিখা সন্দেহের চোখে তাকাল।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫১

“কি লাভ?”
বির চোখ টিপ দিল।
“টাকা দিব।”
বটগাছের পাতা নড়ে উঠল। দুই বোন একে অপরের দিকে তাকাল। এই ছেলের মতলবটা কি? সাহায্য, নাকি নতুন ফাঁ__দ?

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here