রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬১
মহাসিন
সকালের চেনা ব্যস্ততা মেখে সিয়াম অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে শার্টের বোতামগুলো আটকাচ্ছে, শাপলা আলতো পায়ে ঘরে ঢুকল। সিয়ামের কিছুটা উদাসীন চেহারার দিকে তাকিয়ে সে আলতো হাসল, তারপর এগিয়ে এসে সিয়ামের গলায় টাইটা সুন্দর করে বেঁধে দিলো। শাপলার হাতের স্পর্শে একটা চিরচেনা নির্ভরতা আছে, অন্তত সিয়ামের কাছে মুহূর্তটাকে এমনই মনে হচ্ছে।
টাই বাঁধা শেষ হতেই সিয়ামের মনে পড়ে গেল একটা জরুরি কথা। ঘড়ির কাঁটা তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে। সে দ্রুত পায়ে ঘরের কোণে থাকা লকারটির কাছে এলো। চাবি ঘুরিয়ে লকটা খুলতেই সিয়ামের সারা শরীর যেন এক নিমেষে জমে বরফ হয়ে গেল। চোখের পলক না ফেলে সে লকারের ভেতরের শূন্যতাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। ঠিক তিন দিন আগে অফিসের টাকা সে নিজের দায়িত্বে এনে এই লকারে রেখেছিল। কিন্তু এখন লকারটি ফাঁকা! না, ঠিক ফাঁকা বলা চলে না। এখানে শাপলার গহনার বাক্সগুলো ঠিকঠাক সাজানো আছে, পাশে সিয়ামের নিজের জমানো ৩০ লক্ষ টাকাও অক্ষত পড়ে আছে। শুধু নেই অফিসের সেই টাকাটা।
সিয়াম মরিয়া হয়ে লকারের প্রতিটি কোণ, প্রতিটি তাক হাতড়াতে লাগল। হন্যে হয়ে খুঁজল সে, কিন্তু অফিসের সেই নির্দিষ্ট টাকাটার কোনো চিহ্নই মিলল না। তীব্র এক অজানা আশঙ্কায় আর আতঙ্কে সিয়ামের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠল। মাত্র কয়েক মিনিটে তার চেনা পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।
সিয়ামের এই আকস্মিক অস্থিরতা দেখে শাপলা যেন ভয়ে আঁতকে উঠল। তার চোখ দুটো চড়কগাছ। তবে পরক্ষণেই সে নিজেকে কিছুটা সামলে নিল। অত্যন্ত ধীর পায়ে, বেশ সাবধানে সে সিয়ামের কাছে এগিয়ে এলো। শুকনো ঢোক গিলে, গলার আওয়াজটা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে আমতা আমতা করে বলল,
_“আপনি… আপনি কী খুঁজছেন?”
সিয়াম এখনো লকারের ভেতরে অবিন্যস্তভাবে হাতড়াচ্ছে। সে ফিসফিস করে, চেরা গলায় বলল,
_ “আমি এই লকারে অফিসের ৫০ হাজার টাকার দুটো বান্ডিল রেখেছিলাম, শাপলা। কিন্তু এখন তো দেখতে পাচ্ছি না!”
শাপলার মুখে একটা কৃত্রিম উদ্বেগের ছায়া নেমে এলো। সে নরম সুরে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো করে বলল,
_“আপনি যখন নিজে হাতে রেখেছেন, তখন তো সেটা এখানেই থাকার কথা। আরেকটু ভালো করে খুঁজে দেখুন না, হয়তো অন্য কোনো কাগজের নিচে চাপা পড়ে আছে।”
_“সব দেখা শেষ! প্রতিটি কোণ খুঁটিয়ে দেখেছি। কোথাও নেই, কিচ্ছু নেই!”
সিয়ামের কণ্ঠস্বরে এবার স্পষ্ট অসহায়ত্ব ফুটে উঠল।
শাপলা একটু সময় নিল। তারপর সিয়ামের চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর সন্দেহের সুরে বলল,
_ “আচ্ছা, আপনি আগেও তো অনেকবার অফিসের টাকা এনে আমার সামনেই রেখেছেন। কিন্তু এবার তো আমি আপনাকে টাকা রাখতে দেখিনি। আপনি কি সত্যি নিশ্চিত? আরেকবার ভালো করে ভেবে দেখুন তো, অফিস থেকে আদৌ টাকাটা এনেছিলেন কি না? নাকি কোথাও ভুল হচ্ছে আপনার?”
শাপলার এই যৌক্তিক প্রশ্নের মুখে সিয়াম ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের স্মৃতির ওপর ভরসা রেখে দৃঢ় গলায় বলল,
_ “না, আমার একদম পরিষ্কার মনে আছে। আমি নিজেই টাকাটা এনে এই লকারেই রেখেছিলাম। এতে কোনো ভুল নেই।”
সময় আর হাত ধরা দিচ্ছিল না। অফিসে পৌঁছানোর তাড়া, তার ওপর এই রহস্যময় অন্তর্ধান সব মিলিয়ে সিয়াম আর কথা বাড়াল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে লকারে রাখা নিজের ৩০ লক্ষ টাকা থেকে তড়িঘড়ি করে ৫০ হাজার টাকা বের করে নিল। অফিসের ঘাটতিটা আপাতত তাকে নিজের পকেট থেকেই মেটাতে হবে। টাকাটা ব্যাগে পুরে, থমথমে মুখে লকারটা আটকে সে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
সিয়াম চলে যেতেই ঘরের ভেতরের চেনা বাতাসটা যেন হঠাৎ বদলে গেল। দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেতেই শাপলা বুক ভরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল যেন এক মস্ত বড় ফাঁড়া কেটে গেল তার ওপর থেকে। তার চেহারার এতক্ষণের সরল, ভীতু ভাবটা কর্পূরের মতো উবে গেল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক শীতল, ভয়ঙ্কর ও রহস্যময় হাসি।
লকারটার দিকে তাকিয়ে সে নিজের মনেই বিড়বিড় করে উঠল,
_“উফ, বেঁচে গেলাম! তবে এবার থেকে আরও সাবধানে থাকতে হবে। একটু ওলটপালট হলেই সব শেষ।”
সময় নষ্ট করার মতো অবস্থা এখন আর শাপলারও ছিল না। ব্যাগটা নিয়ে নিজের ফোনটি বের করে সাইলেন্ট মোডে রাখল, যাতে কোনো আকস্মিক কল তার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে না পারে। ফোনটা ব্যাগে পুরে জিপারটা টেনে দিল সে।
এরপর বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে, চুপিচুপি সে ড্রয়িং রুমে চলে এলো। ঘরের চারদিকে তীক্ষ্ণ নজর বুলাল সে। আশেপাশে কেউ কোথাও নেই। চারদিক সম্পূর্ণ নিঝুম। সুযোগ হাতছাড়া না করে সে অত্যন্ত সাবধানে, কোনো শব্দ না করে সদর দরজাটা খুলল এবং এক পা এক পা করে বাইরে বেরিয়ে এলো।
বাড়ির গেটের সামনে এসে শাপলা একটু দাঁড়াল। চারপাশের পরিবেশটা আরও একবার পরখ করে নিল সে। দূর থেকে একটা অটো রিকশা আসছিল। শাপলা হাত দেখিয়ে অটোটা থামাল এবং চটজলদি সেটায় উঠে বসল। মুহূর্তের মধ্যেই অটোটি তাকে নিয়ে চেনা রাস্তা ধরে এক অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলল।
নীলাঞ্জনা এখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে অলস ভঙ্গিতে ফোনের স্ক্রিনে আঙুল বোলাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেনা দুনিয়াটায় ঘুরতে ঘুরতে সময়টা যে কীভাবে কেটে গেল, সে টেরই পায়নি। হঠাৎ দেয়ালঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই চটকা ভাঙল তার। ইস্, অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে! এবার যে রান্নার তোড়জোড় করতে হবে। ফোনটা একপাশে রেখে সে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পিঠের ওপর ছড়িয়ে থাকা অবিন্যস্ত চুলগুলো হাত দিয়ে গুছিয়ে নিয়ে একটা আলতো খোঁপা বেঁধে নিল সে।
রুম থেকে বের হয়ে দীর্ঘ করিডোর ধরে হাঁটতে হাঁটতে নীলাঞ্জনা শাপলার ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। ভাবল, শাপলাকে সাথে নিয়েই রান্নাঘরে যাবে, গল্প করতে করতে কাজটা সহজ হবে। কিন্তু শাপলার ঘরের দরজাটা খোলাই আছে, ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল বিছানাটা পরিপাটি গোছানো, ঘরটা একদম নিঝুম। শাপলা কোথাও নেই।
খানিকটা অবাক হয়ে নীলাঞ্জনা ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে এলো। এখানে দেখল চেনা পরিচিত দৃশ্য কবিতা আর কলি সোফায় বেশ আরাম করে বসে মনোযোগ দিয়ে টিভির পর্দায় মগ্ন হয়ে আছে।
নীলাঞ্জনা নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
_ “তোমরা ড্রয়িং রুমে কখন এলে ?”
কবিতা টিভির স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই চটজলদি উত্তর দিল,
_”এই তো, মাত্রই এলাম। ঘরে বসে বোর হচ্ছিলাম, তাই দুজনে মিলে টিভিটা ছাড়লাম।”
_”আচ্ছা, শাপলা কোথায় ওকে দেখেছো?”
নীলাঞ্জনা একটু চারপাশটা খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে জানতে চাইল।
কলি সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে রিমোটটা হাতে নিতে নিতে বলল,
_”কোথায় আর থাকবে! হয়তো নিজের রুমেই আছে, কোনো বই পড়ছে বা গান শুনছে।”
নীলাঞ্জনা মাথা নেড়ে মৃদু স্বরে বলল,
_ “না , ওর রুমে তো দেখেই এলাম, সেখানে ও নেই।”
_”তাহলে হয়তো ব্যালকনিতে বসে আছে…… আচ্ছা, আমি গিয়ে একটু দেখে আসছি।”
এই বলে কলি সোফা ছেড়ে উঠে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর কলি ধীরপায়ে ড্রয়িং রুমে ফিরে এলো। তবে এবার তার চেনা চঞ্চলতা উধাও, চোখেমুখে কিছুটা বিস্ময় আর চিন্তার ছাপ। সে বলল,
_”না , ব্যালকনিতেও তো নেই। সব জায়গায় খুঁজলাম, বাথরুমের দরজাও বন্ধ না। মেয়েটা গেল কোথায়?”
নীলাঞ্জনা এবার সত্যি কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ল। কপালে সামান্য ভাঁজ ফেলে বলল,
_”তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়? কাউকে কিছু না বলে এভাবে হুট করে…”
কবিতা অবশ্য এত কিছুতে মাথা ঘামাতে চাইল না। সে কিছুটা উদাসীন এবং ক্ষুব্ধ গলায় বলল,
_”এত চিন্তা করার কী আছে ? যেখানে খুশি যাক না। ইদানীং ও কেমন যেন একটু বেশি নিজের খেয়ালখুশিমতো চলে। কারো সাথে ঠিকমতো কথাই বলে না, কোথাও যাওয়ার আগে কাউকে একটা শব্দও জানানোর প্রয়োজন মনে করে না।”
নীলাঞ্জনা কবিতার কথায় সায় দিলেও মনকে শান্ত করতে পারল না। সে কলির দিকে তাকিয়ে মোবাইলটা দেখিয়ে বলল,
_” শাপলার নম্বরে একটা ফোন করে দেখ তো ও ঠিক কোথায় আছে।”
কলি সঙ্গে সঙ্গে শাপলার নম্বরে ডায়াল করল। ফোনের রিংটোন ওপাশ থেকে বেজেই চলল, কিন্তু কেউ ধরল না। কলি কেটে আবার চেষ্টা করল। পর পর কয়েকবার রিং হওয়ার পর অবশেষে ওপাশ থেকে শাপলার শান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
_”হ্যালো কলি, বল।”
শাপলার গলা শুনতেই কলি আর নিজের রাগ চেপে রাখতে পারল না। কিছুটা অভিমান আর ঝাঁঝালো সুরে বলল,
_”তোর কি একটুও আক্কেল জ্ঞান নেই শাপলা? এভাবে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলি? অন্তত আমাদের কাউকে একটা কথা তো বলে যেতে পারতিস! আমরা এখানে কতটা চিন্তা করছি!”
ওপাশ থেকে শাপলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খুব নিচু গলায় মিথ্যা বলে দিল,
_”আমি বলতে চেয়েছিলাম রে কলি, সত্যি বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সবাই যার যার মতো ব্যস্ত ছিলো। ভাবলাম ডাকলে হয়তো বিরক্ত হবে সবাই, ডিস্টার্ব ফিল করবে। তাই আর কিছু না বলে বের হয়ে এলাম।”
_”তা এখন আছিস কোথায় তুই?” কলির গলার সুর এবার কিছুটা নরম হলো।
_”আমি দীপার কাছে এসেছি। হঠাৎ করে আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছিল, ভীষণ দেখা করতে ইচ্ছে করছিল, তাই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। একদম চিন্তা করিস না, আমি খুব তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরে আসব।”
এই বলে শাপলা নিজেই ফোনটা কেটে দিল।
হাতে থাকা ফোনটার দিকে তাকিয়ে কলি একটা দীর্ঘ নীরবতা ভাঙল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীলাঞ্জনা আর কবিতার দিকে তাকিয়ে বলল,
_”শাপলা আসলেই কেমন যেন বদলে গেছে । আগের মতো আর সেই চঞ্চলতা, সবার সাথে জড়িয়ে থাকার স্বভাবটা ওর মাঝে আর নেই। কেমন যেন একলা হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।”
ড্রয়িং রুমের আবহে এখন এক চিলতে মন খারাপের মেঘ জমেছে। নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল পরিবেশটা এভাবে ভারী করে রাখা ঠিক হবে না। সে মুখে একটা মিষ্টি হাসি টেনে কবিতা আর কলির হাত ধরে টানল। একটু আদুরে গলায় বলল,
_”ধুর পাগলী, বড় হওয়ার সাথে সাথে মানুষ একটু আধটু বদলায়। ও ফিরে আসুক, তারপর সবাই মিলে গল্প করবো। এখন চলো চলো, অনেক বেলা হলো। এবার রান্নাটা সেরে ফেলতে হবে। তোমরা কিন্তু রান্নাঘরে গিয়ে আমাকে একটু আধটু সাহায্য করবে, একা একা আমি পারব না কিন্তু!”
নীলাঞ্জনার এই মিষ্টি আর আন্তরিক কথায় ড্রয়িং রুমের গুমোট ভাবটা নিমেষেই কেটে গেল। কবিতা আর কলিও হেসে উঠল। এরপর তারা তিনজন মিলে একরাশ গল্প আর হাসিমুখ নিয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল।
নিরব চুমকির দেওয়া লোকেশনে পৌঁছে একটা সুন্দর, ছোট কফি শপে প্রবেশ করল। উজ্জ্বল রোদে চারপাশটা ঝলমল করছে। কফি শপের জানালা দিয়ে আসা নরম আলোয় সবকিছু যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
চুমকি অনেকক্ষণ ধরে একা বসে ছিল। নিরবকে দেখেই সে চেয়ার ছেড়ে উঠে কফি শপ থেকে বেরিয়ে গেল। নিরব দ্রুত তার পিছু নিলো।
_“চুমকি, কী হলো? এভাবে হঠাৎ চলে যাচ্ছ কেন?”
নিরবের গলায় উদ্বেগ আর মায়া মিশে আছে।
চুমকি মুখ ফুলিয়ে, একটু অভিমানের সুরে বলল, _“আমি পুরো এক ঘণ্টা ধরে এখানে একা বসে আছি। আপনার কি কোনো খেয়ালই নেই?”
তার চোখে রাগ আর ভালোবাসা একসাথে খেলা করছে।
নিরব লজ্জায় কান ধ/ রে ফেলল। মিষ্টি হেসে বলল,
_ “আচ্ছা, সরি । আমার খুব ভুল হয়ে গেছে। তুমি রাগ করো না, প্লিজ। আমি আর কখনো এমন করব না।”
চুমকি মুখ ভেংচিয়ে আবার হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু নিরব তার পাশে পাশে থেকে নরম গলায় গান ধরল,
“চুমকি চলেছে একা পথে,
সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে…
রাগ করো না সুন্দরী গো,
রাগলে তোমায় লাগে আরও ভালো…
চুমকি চলেছে একা পথে,
সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে…
হার মেনেছে দিনের আলো,
রাগলে তোমায় লাগে আরও ভালো…”
গানের মধুর সুরে চুমকির পা থেমে গেল। সে ধীরে ধীরে পেছন ফিরে তাকাল। তার গালে হালকা লাল আভা ছড়িয়ে পড়ছে।
“কী বলতে চেয়েছিলেন, বলেন”
চুমকি আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করল। তার কণ্ঠে কৌতূহল আর অপেক্ষা।
নিরব তার একদম কাছে এগিয়ে এল। উজ্জ্বল আলোয় তার চোখ দুটো আরও গভীর দেখাচ্ছে। সে ধীরে ধীরে হাঁটু গেড়ে বসল। চারপাশের মৃদু হাওয়া, পাখির ডাক আর দূরের শহরের হালকা শব্দ সব যেন থেমে গেছে।
“চোখ বন্ধ করো, চুমকি,” নিরব নরম স্বরে বলল।
চুমকি চোখ বন্ধ করল। তার হৃদয় এখন দ্রুত ছুটছে, হাতের তালু ঘামছে।
নিরব পকেট থেকে ছোট্ট মখমলের বাক্স বের করল। ভিতরে সুন্দর ডায়মন্ডের রিংটা দিনের আলোয় ঝলমল করে উঠল। আলতো করে বলল, _“এবার চোখ খোলো।”
চুমকি চোখ খুলতেই বিস্ময়ে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল।
নিরব তার দিকে রিংটা এগিয়ে ধরে, গলা কেঁপে গভীর আবেগে বলল,
_“আই লাভ ইউ, চুমকি।”
চুমকির ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে আবেগে ভরা কণ্ঠে বলল,
_ “আই লাভ ইউ টু। আমিও আপনাকে ভালোবাসি অনেক অনেক ভালোবাসি। দিনের পর দিন শুধু এই মুহূর্তটার অপেক্ষায় ছিলাম।”
নিরব তার চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, _“সারাজীবন আমার হয়ে থাকবে তো? আমার প্রতিটি সকাল আর সন্ধ্যায় আমার সাথে থাকবে?”
চুমকি লজ্জায় মাথা নিচু করে, কিন্তু দৃঢ় ও মধুর স্বরে বলল,
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬০
_“আমি সারাজীবন আপনার ভালোবাসার মানুষ হয়ে, আপনার জীবনে চিরকালের জন্য থাকতে চাই। আপনার সাথে হাসতে, কাঁদতে, স্বপ্ন দেখতে আর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।”
নিরব তার নরম হাতটি তুলে নিয়ে আলতো করে ডায়মন্ডের রিংটি পরিয়ে দিলো। রিংটা চুমকির আঙুলে মানিয়েছে।
এরপর নিরব উঠে দাঁড়াল। দুজনে দুজনকে গভীর আলিঙ্গনে জ/.ড়ি/.য়ে ধরল। চুমকির বুকের ভিতর হৃদয় দুকদুক করে উঠছে অপার আনন্দে আর ভালোবাসায়। উষ্ণ রোদ তাদের ওপর যেন আশীর্বাদের মতো ঝরে পড়ছে।
এই মুহূর্তে পৃথিবীটা যেন শুধু
