রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৯
মহাসিন
সিয়াম নিঃশব্দে শাপলার পেছনে এসে দাঁড়াল। তারপর আচমকাই শাপলাকে জড়িয়ে ধরল ।
শাপলার পুরো শরীরটা কেঁপে উঠল। চমকে পেছনে তাকাতেই সিয়ামের ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি।
“কিরে, ভয় পেলি নাকি?” ফিসফিস করে বলল সিয়াম, চোখে দুষ্টুমি।
শাপলা অপ্রস্তুত হয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল। “উফ্! ছাড়ুন তো। চুলোর খাবারটা পুড়ে যাচ্ছে, নাড়তে হবে।”
সিয়াম আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। শাপলার কানের কাছে মুখ নিয়ে নরম গলায় বলল,
“ছাড়ব না। তুই কী করবি?”
“উফ্, এমন করেন কেন, হ্যাঁ? ছাড়ুন বলছি!” বিরক্তিতে শাপলার কপাল কুঁচকে গেল। কথা শেষ করেই সিয়ামের পায়ে জোরে একটা পাড়া দিল।
“আহ্!” ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে সিয়াম সঙ্গে সঙ্গে হাত আলগা করল। “উফ্! এটা কিন্তু ঠিক করলি না।”
শাপলা চোখ পাকিয়ে বলল, “যা করেছি বেশ করেছি। খাবারটা পুড়ে যাচ্ছে, আর আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরে আছেন। তাহলে নাড়াব কীভাবে, শুনি?”
সিয়াম এবার একটু সরে দাঁড়িয়ে শাপলাকে আপাদমস্তক দেখল। তারপর বাঁকা হেসে বলল, “এখন তোকে দেখে কেমন যেন আমার বউ বউ লাগছে।”
“কচু লাগছে আপনার,” মুখ ভেংচে জবাব দিল শাপলা।
সিয়াম আবার এগিয়ে এল। শাপলার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, “শোন, তুই যখন আমার বউ হবি, আমি রোজ অফিস থেকে ফিরে, তুই যদি তখন রান্নাঘরে থাকিস। আমি পেছন থেকে এসে এভাবেই জড়িয়ে ধরব। তখন কিন্তু আমাকে আটকাতে পারবি না। তোর সাথে তখন অনেক রো*মা*ন্স করব, বুঝলি?”
শাপলা চোখ সরিয়ে নিল। গলায় জোর এনে বলল, “আপনি সেই আশা নিয়ে বসে থাকেন। আগে আমি রাজি হই, তারপর বিয়ে। তারপর না হয় এসব বইলেন। আমি আপনার সাথে প্রেম করব কি না, সেটাই তো এখনও ভালো করে ভাবিনি। আগে প্রেমে রাজি হই, তারপর বাকি কথা।”
সিয়াম একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল শাপলার দিকে। ঠোঁটে সেই বাঁকা হাসিটা আরও চওড়া হলো। “তুই আমার সাথে প্রেম করতে রাজি হস বা না হস, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি তোকে সুযোগ দিয়েছি। সুযোগ না দিয়ে যদি তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করি, তখন তো বলবি—আমাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তাই সুযোগ দিলাম। এবার বাকিটা তুই এই এক মাসের মধ্যে ডিসাইড কর।”
একটু থেমে চোখে চোখ রেখে বলল, “আর যদি না করিস, তাহলে জো*র করেই বিয়ে করব। আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না। তোকে সারাজীবনের জন্য আমার করে নিবো! একান্তই আমার!”
কথা শেষ করেই সিয়াম ঝুঁকে শাপলার ঠোঁটে হালকা করে একটা চু*মু এঁকে দিল।
শাপলা চমকে দু’পা পিছিয়ে গেল। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
সিয়াম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঘড়ি দেখল। “এবার অফিসে গেলাম,” বলেই ঘুরে হাঁটা দিল।
শাপলা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সিয়ামের চলে যাওয়ার পথের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল সে, চোখে বিস্ময়, আর অজানা এক শিহরণ।
শাপলা চুলার আঁচ কমিয়ে খাবারটা সাবধানে নামিয়ে রাখল। তারপর রান্নাঘরের জানালাটা খুলে দিতেই একরাশ দখিনা বাতাস এসে আছড়ে পড়ল শাপলার মুখে। চোখ বুজে সেই বাতাসের স্পর্শটা অনুভব করল কিছুক্ষণ।
একটা চেয়ার টেনে জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল সে। মনে মনে নিজের সাথেই কথা বলতে শুরু করল শাপলা।
‘সিয়াম ভাইয়া, আপনাকে কেন এত ভালো লাগে? চোখ বন্ধ করলেই কেন আপনার মুখটা বারবার ভেসে ওঠে? আপনার একটুখানি স্পর্শে কেন আমার হার্টবিট বেড়ে যায়? সারা শরীর কেন শিরশির করে ওঠে?’
দূরের কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল ও।
‘আপনি যখন কি*স করেন, কেন এত ভালো লাগে? কেন ইচ্ছে হয় নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিই, সারাজীবনের জন্য? কেন আপনার সামনে এলেই মাতাল মাতাল লাগে নিজেকে?’
নিজের প্রশ্নেই নিজে থমকে গেল শাপলা। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
‘তাহলে কি আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি? এটা কি সত্যিই ভালোবাসা, নাকি শুধু বয়ঃসন্ধির একটা আবেগ? যদি এখন আপনার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি, এই সম্পর্ক কি আদৌ পূর্ণতা পাবে? এই পরিবার কি মেনে নেবে আমাদের?’
চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠল তার।
‘আমি তো শুধু এই বাড়ির মানুষের দয়ায় এখানে পড়ে আছি। যদি আপনাকে পেয়েও হারিয়ে ফেলি, তাহলে বেঁচে থেকেও প্রতিদিন একটু একটু করে ম*রে যাব আমি।’
সত্যিটা আর অস্বীকার করতে পারল না শাপলা। হ্যাঁ, সে সিয়ামকে ভালোবেসে ফেলেছে। মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবেসে ফেলেছে।
কিন্তু তারপর? এবার যদি সিয়ামকে বলে দেয় মনের কথা, সিয়াম পাগলের মতো ভালোবাসে । কিন্তু সিয়ামের পরিবার? তারা কি কখনো মেনে নেবে শাপলাকে?
শাপলার একটা বড় বোন ছিল। হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল একটা মেয়ে। কেউ নরপিশাচের মতো তাকে ধ*র্ষ*ণ করে, খু*ন করে, নৃশংসভাবে টু*করো টু*করো করে প্যাকেটে ভরে গিফট আইটেমের মতো পাঠিয়ে দিয়েছিল তাদের বাড়িতে। কী বিভৎস ছিল সেই মৃ*ত্যু!
শাপলার বাবা-মা এখন বিদেশে কাজ করেন। অভাবের সংসার তাদের। তার উপর শাপলার ফুপু কোমায় হাসপাতালে ভর্তি। বাবা-মায়ের কষ্টের রোজগারের বেশিরভাগ টাকাই চলে যায় ফুপুর চিকিৎসার পেছনে।
তাই শাপলার মা মেয়েকে নিজের বোন মহুয়ার কাছে রেখে গেছেন। যাতে মেয়েটা অন্তত পড়াশোনাটা করতে পারে, ভালো একটা থাকার জায়গা পায়। মহুয়া করুণা করেই আশ্রয় দিয়েছে শাপলাকে।
এখন তারা যদি জানতে পারে সিয়াম আর শাপলা প্রেম করে, তাহলে এই বাড়িতে শাপলার আর এক মুহূর্তও থাকা হবে না। মাথার উপর ছাদটা, দু’বেলা খাবারটুকু—সব হারিয়ে ফেলবে সে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। ছাদের কোণে রাখা বেঞ্চটায় একা বসে আছে আরিফ। আকাশে কমলা আভা, অথচ তার ভেতরটা অন্ধকার। পকেট থেকে ফোন বের করে নীলাঞ্জনার বোনের নম্বরে ডায়াল করল।
রিং হচ্ছে… হচ্ছে… কেউ ধরছে না।
আরিফ হাল ছাড়ল না। একবার, দু’বার, তিনবার—কয়েকবার চেষ্টা করার পর অবশেষে ওপাশ থেকে কণ্ঠ ভেসে এল,
_ “হ্যালো, কেমন আছেন ভাইয়া?”
আরিফ এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। গলাটা ধরে আসছে। নিজেকে সামলে নিচু স্বরে বলল,
_ “ভালোই আছি। তুমি কেমন আছো?”
“ভালো আছি। আপনি তো মনে হয় আমাকে ভুলেই গেছেন। কোনো কল-টল দেন না। আপুও দেয় না।” একটু অভিমান ঝরে পড়ল মেয়েটার গলায়। তারপরই উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“আচ্ছা, আপু, আলো… ওরা ভালো আছে তো?”
প্রশ্নটা শুনে আরিফের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। অপ্রস্তুত হয়ে গেল সে। কী জবাব দেবে? সত্যিটা বলার সাহস নেই, উপায়ও নেই। মিথ্যে ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই এখন।
আমতা আমতা করে বলল, “হ্যাঁ… হ্যাঁ, ভালো আছে।”
ওপাশ থেকে নীলাঞ্জনার বোন একটু থেমে শুধাল, “তা হঠাৎ কী মনে করে কল দিলেন?”
আরিফ আগে থেকেই গল্প সাজিয়ে রেখেছিল। গলাটা স্বাভাবিক রেখে বলল, “নীলাঞ্জনা ওর বান্ধবীর সাথে কথা বলতে চায়। ওর ফোন থেকে নাম্বারটা ডিলিট হয়ে গেছে। ও নিজেই কল দিত, কিন্তু একটু বিজি আছে। তাই আমাকে বলল তোর কাছ থেকে যেন ওর বান্ধবীর নাম্বারটা নিয়ে রাখি।”
“ও আচ্ছা,” মেয়েটা সহজভাবেই নিল কথাটা। “আমি নাম্বার বলছি, আপনি তুলুন— 01********3।”
নাম্বার নেওয়া শেষ হলো।
“আচ্ছা, অন্য কোনো দিন কথা হবে। বাই,” বলেই আরিফ তাড়াহুড়ো করে কল কেটে দিল। আর এক মুহূর্ত কথা বললে হয়তো ধরা পড়ে যেত।
ফোনটা হাতে শক্ত করে চেপে ধরল আরিফ। মিথ্যে বলেছে সে। নীলাঞ্জনার বোনের কাছ থেকে কৌশলে নাম্বারটা নিয়েছে শুধু একটা কারণে—নীলাঞ্জনা সত্যিই তার বান্ধবীর কাছে গেছে কি না, সেটা জানার জন্য। তাহলে সে নীলাঞ্জনার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে যদি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে এবার সেই নাম্বারে ডায়াল করল।
রিং হচ্ছে… কিন্তু কেউ ধরছে না।
একবার, দু’বার, পাঁচবার… দশবার… আরিফ নাছোড়বান্দা। আঠারো বারের মাথায় অবশেষে কলটা রিসিভ হলো।
ওপাশ থেকে একটা শান্ত, মেয়েলি কণ্ঠস্বর ভেসে এল, “হ্যালো, কে বলছেন?”
আরিফ এক নিঃশ্বাসে বলল, “আমি নীলাঞ্জনার স্বামী।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর মেয়েটি স্বাভাবিক গলায় বলল, “ও আচ্ছা, কেমন আছেন? আর আমার নীলাঞ্জনা কেমন আছে?”
আরিফের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “নাটক কম করুন। নীলাঞ্জনা আপনার পাশেই আছে। ওর কাছে ফোনটা দিন।”
“মানে?” ওপাশের কণ্ঠে বিস্ময়। “আপনার মাথা ঠিক আছে তো? কী আবোলতাবোল বলছেন?”
আরিফ বলল,
“আমি কোনো আবোলতাবোল বলছি না।আপনি নীলাঞ্জনার কাছে ফোনটা দিন। ওর সাথে আমার কথা আছে। যা বলছি তাই করুন।”
ওপাশ থেকে এবার বিরক্তি ঝরে পড়ল, “আজব! আমার কাছে নীলাঞ্জনা কীভাবে আসবে, হ্যাঁ? নীলাঞ্জনা কি আপনার সাথে নেই? ওর কী হয়েছে? কোথায় ও?”
আরিফ হাতের মুঠো শক্ত করল। “আপনি এত কথা না বলে নীলাঞ্জনার কাছে ফোনটা দিলেই তো হয়।”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই টুট… টুট… টুট… লাইন কেটে গেল।
ফোনটা কানে ধরে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল আরিফ। তারপর ফোনটা নামিয়ে নিজের সাথেই বিড়বিড় করল, “আমি খুব ভালো করে বুঝতে পারছি নীলাঞ্জনা, তুমি কোথায় আছো। আমি আসছি। আমি তোমাকে আমার জীবনে আবার ফিরিয়ে আনব। শুধু অপেক্ষা করো… আমি আসছি।”
কথাটা শেষ করেই আরিফ ঘুরে দাঁড়াল। সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নেমে গেল ছাদ থেকে।
ড্রয়িং রুমে চুপচাপ বসে আছে শাপলা। সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নেমে এল আরিফ। শাপলার দিকে এক পলক তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলল,
“শাপলা, বাসার সবাইকে বলে দিস আমি নীলাঞ্জনাকে আনতে যাচ্ছি। ওকে না নিয়ে বাড়ি ফিরব না।”
শাপলা চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল, “ভাবী এখন কোথায়?”
“ওর বান্ধবীর বাসায় আছে,” ছোট করে জবাব দিল আরিফ। “আমি গেলাম।”
কথাটা বলেই আর কোনো দিকে না তাকিয়ে বেরিয়ে গেল সে।
সময় গড়াতে লাগল। দেখতে দেখতে রাত দশটা বেজে গেল।
শাপলা ধীর পায়ে তার আন্টির রুমের দরজায় টোকা দিল। মহুয়া দরজা খুলে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কিরে শাপলা, কিছু বলবি?”
শাপলা মাথা নিচু করে নরম গলায় বলল, “বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। একটু কথা বলিয়ে দেবে?”
মহুয়া একটু থেমে বললেন, “একটু দাঁড়া।”
এই বলে বিছানার পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে দরজার কাছে এলেন। শাপলার মায়ের নম্বরে ডায়াল করে ফোনটা শাপলার হাতে দিলেন।
শাপলা ফোনটা নিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেল। কানে ফোন ঠেকিয়ে ডাকল, “মা, কেমন আছো?”
ওপাশ থেকে মায়ের আদুরে কণ্ঠ ভেসে এল, “ভালো আছি রে মা। তুই কেমন আছিস?”
“ভালো আছি,” শাপলা ছোট করে উত্তর দিল। “বাবা কোথায়? বাবা কেমন আছে?”
শাপলার মা বললেন, “তোর বাবাও ভালো আছে। পড়াশোনা ঠিকমতো করছিস তো?”
“হুম, খুব ভালো করে করছি।”(শাপলা)
“খাওয়া দাওয়ায় কোনো কষ্ট হয় না তো?” মায়ের গলায় উদ্বেগ।
শাপলা দ্রুত বলল, “না মা, কোনো কষ্ট হয় না।”
“তোর চাচা-চাচির সাথে কথা বলিস?”
“ফোনে কথা হয় না। তবে মাঝে মধ্যে স্কুল থেকে ছুটির পর দেখা করে আসি।”
মা একটু চুপ থেকে বললেন, “আচ্ছা, তাহলে ভালো করে পড়াশোনা করিস। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করিস। তোর বাবা একটু ব্যস্ত আছে, তার সাথে অন্য কোনো দিন কথা বলিস। ভালো থাকিস, রাখি এখন।”
শাপলা চোখের কোণে জমা পানিটা লুকিয়ে বলল, “আচ্ছা মা, তুমিও ভালো থেকো।”
কল কেটে দিয়ে কিছুক্ষণ ব্যালকনির গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে রইল শাপলা। তারপর ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে মহুয়ার হাতে ফোনটা ফিরিয়ে দিল। নিঃশব্দে নিজের রুমে চলে গেল সে।
রাত বারোটা। শাপলা ম*রার মতো ঘুমোচ্ছে। হঠাৎ একটা অজানা অস্বস্তিতে ঘুমটা ভেঙে গেল। চোখ মেলতেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
সিয়াম বিছানার পাশে বসে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে শাপলার দিকে। ঘরের আবছা আলোয় সিয়ামের চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে।
শাপলা ধড়মড় করে উঠে বসল। “একি! আপনি এখন আমার রুমে কী করছেন?” এই বলে রুমের লাইট ওয়ান করে দিল।
সিয়াম ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, “তোকে দেখছিলাম।”
“কখন এলেন?” শাপলার গলায় বিস্ময়।
“অনেকক্ষণ হলো এসেছি,” সিয়াম আলতো করে বলল। “আমার পিচ্চি বউটাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল, তাই চলে এলাম।” একটু থেমে আবার বলল, “শোন, তোর জন্য একটা স্মার্টফোন কিনব। কী ফোন চাস, বল?”
“লাগবে না,” শাপলা মুখ ঘুরিয়ে নিল। “ফোন দিয়ে আর কী হবে? আমার প্রয়োজন নেই।”
“আমার সাথে কথা বলবি,” সিয়ামের গলায় আবদার।
“আপনার সাথে ফোনে কেন কথা বলব, হ্যাঁ?” ভ্রু কুঁচকে তাকাল শাপলা।
সিয়াম এবার আরও কাছে ঝুঁকে এল। “আমি তোর ভবিষ্যৎ হাসবেন্ড। আমার সাথে কথা বলবি।”
শাপলা বিরক্তিকর কন্ঠস্বরে শুধাল, “কী কথা বলব?”
“রো*মা*ন্টিক কথা বলবি,” সিয়ামের চোখে দুষ্টুমি।
“আমি রো*মা*ন্টিক কথা বলতে জানি না,” শাপলা সাফ জানিয়ে দিল।
“ঠিক আছে, তোকে বলতে হবে না। আমি বলব, তুই শুধু শুনবি,” সিয়াম হাসল।
শাপলা এবার ধৈর্য হারাল। “আপনার আজাইরা কথা বলা শেষ হলে আমার রুম থেকে যান তো।”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই সিয়াম আচমকা শাপলাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। শাপলা চমকে উঠল। সিয়াম ওর উপর ঝুঁকে এল। সিয়ামের গরম নিঃশ্বাস শাপলার মুখে আছড়ে পড়ছে।
“কী… কী করছেন? ছাড়ুন তো!” শাপলা কাঁপা গলায় বলল।
সিয়াম শাপলার ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ করিয়ে দিল। “চুপ, কোনো কথা বলবি না। একটু আ*দর করতে দে।”
এই বলে শাপলার কপালে আলতো করে একটা চু*মু এঁকে দিল। শাপলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। ভালো লাগার সাথে সাথে এক অজানা ভয়ও গ্রাস করল তাকে। পরমুহূর্তেই সিয়াম শাপলার ঠোঁ*ট দুটো নিজের দখলে নিয়ে নিল। শাপলার হার্টবিট বেড়ে গেল কয়েকগুণ। পুরো শরীর শিরশির করে উঠল। কেমন একটা মাতাল, মাতাল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল শিরায় শিরায়।
ঠোঁট ছেড়ে সিয়াম যখন গলায় মুখ ডোবাল, শাপলা উ*ত্তে*জ*নায় ঠোঁট কামড়ে ধরল। মনে হলো সে যেন সুখের সাগরে ভাসছে, তলিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই সম্বিৎ ফিরল শাপলার। নিজের মধ্যে ফিরে এল সে। সমস্ত শক্তি দিয়ে সিয়ামকে ধাক্কা দিল। তাল সামলাতে না পেরে সিয়াম খাট থেকে মেঝেতে পড়ে গেল। শাপলা দ্রুত উঠে বসল।
সিয়াম চাপা স্বরে ব্য*থায় কঁকিয়ে উঠল,
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৮
“উফ্! এটা কী করলি?”
এই বলে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়াল সে।
শাপলার চোখ গেল সিয়ামের ঠোঁটের কোণে। হালকা ফেটে গিয়ে র*ক্ত বের হচ্ছে। দৃশ্যটা দেখেই শাপলা ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ছুটে গেল সিয়ামের কাছে।
“ভাইয়া, বেশি ব্য*থা পেলেন? কই দেখি?” উদ্বিগ্ন গলায় বলল শাপলা।
সিয়াম ঠোঁট চেপে ধরে বলল, “হ্যাঁ, অনেক ব্য*থা পেয়েছি। খুব ক*ষ্ট হচ্ছে।”
শাপলা ভয়ে আঁতকে উঠল। নিজের হাতের ধাক্কাতেই সিয়ামের ঠোঁট কে*টে গেছে—ভাবতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তার।
