Home রৌদ্রময় বালুচর রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৪৭

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৪৭

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৪৭
সোহানা ইসলাম

বিকেল চারটা।রোহানের দীর্ঘ ঘুম হঠাৎ ভেঙে যায়। ঘরে হালকা অন্ধকার নেমেছে, জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া সূর্যের রঙটাও যেন কিছুটা ভারী হয়ে এসেছে। পাশেই বসে ছিল আরমান। রোহানের দিকে তাকিয়ে সে ভাবছিলো—বন্ধুটাকে এতটা ক্লান্ত কখনো দেখেনি সে। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
রোহান চোখ মেলে উঠতেই যেন এক ঝড় তার ভেতর থেকে বের হয়ে এলো।

___“আমি ওদের ছাড়বো না… আমি কাউকে ছাড়বো না!”হঠাৎ করেই এমন চিৎকার করে উঠলো রোহান।
আরমান আঁতকে উঠল।
__“কাদের কথা বলছিস?”—আরমান ভয়ে ভয়ে
প্রশ্ন করল।
রোহান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
___“যারা আমার চাঁদ সুন্দরীর সাথে এমনটা করেছে… যারা তার চোখে জল এনেছে, যারা তাকে অপমান করেছে… ওরা কেউ রেহাই পাবে না। আমি শেষ করে দেব তাদের।”
রোহানের চোখে তখন রক্তের নেশা। শরীর কাঁপছে, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। যেন আগুনের ভিতর দাঁড়িয়ে আছে সে।
আরমান হাত বাড়িয়ে তার কাঁধে রাখল, শান্ত করার চেষ্টা করল।

__“দোস্ত, শান্ত হ। তোর মাথা গরম করে লাভ নাই। আমি আছি। আমি সব জানার পর লোক লাগিয়েছি ওই জানোয়ারদের খুঁজে বের করার জন্য ।”
কিন্তু রোহান যেন শুনতেই পাচ্ছে না। মাথার ভেতর শুধু প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। হঠাৎই উঠে দাঁড়াল সে।
__“না, ওরা পাবে না। আমি এখনই যাব। এখনই। ময়মনসিংহে গিয়ে ওদের খুঁজে বের করব।”
আরমান রোহানের হাত চেপে ধরল।
___“এইভাবে পাগলামি করিস না। একা একা গেলে তুই ওদের কোথায় খুঁজবি না। প্লিজ, শান্ত হ।”
কিন্তু ততক্ষণে রোহান দরজার দিকে ছুটতে শুরু করেছে। আরমান বাধা দিয়েও কিছু করতে পারল না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে তার পিছু নিল।
বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। রোহান যেন ঝড়ের বেগে গাড়িতে উঠে পড়ল। আরমানও বাধ্য হয়ে পাশে বসল। হঠাৎ বলল,

___“একটা কাজ কর। একবার জিনিয়ার সঙ্গে দেখা করে যা। ও তোকে দেখে শান্ত হবে। কাল থেকে কান্না করেই যাচ্ছে।”
রোহানের চোখ লালচে হয়ে উঠল।
___“না আরমান। ওই জানোয়ারদের শাস্তি না দিয়ে আমি জিনিয়ার মুখ দেখাতে পারব না। আমি চাই না ও জানুক আমি কাপুরুষ হয়ে পালিয়ে যাচ্ছি।”
আরমান নিঃশ্বাস ফেলল। সে বুঝতে পারছিলো—বন্ধুকে এখন থামানো অসম্ভব। তবুও চেষ্টা ছাড়ল না।
এরই মধ্যে সে ফোন বের করে রাশেদ আর জাহেদকে কল দিল।
“শোন, আমি আর রোহান ময়মনসিংহে যাচ্ছি। তোরা জিনিয়ার দিকে খেয়াল রেখবি। ও একা যেন না থাকে। তাড়াতাড়ি ফিরে আয়। ”
ওপাশ থেকে জাহেদ জিজ্ঞেস করল,

“কিন্তু তোমরা কেন যাচ্ছো? কী হয়েছে?”
আরমান নিরব হয়ে গেল। কোনো উত্তর দিল না। শুধু ফোন কেটে দিল।
গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার মুহূর্তে একটা অদ্ভুত দৃশ্য ঘটল।জিনিয়া নিজের রুম থেকে বের হয়ে এল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখল—রোহান মাত্র গাড়িতে উঠে যাচ্ছে। তার চেহারায় দমবন্ধ করা যন্ত্রণা।
জিনিয়ার বুকটা হাহাকার করে উঠল।
সে জানে—রোহান তাকে কী তাহলে তাকে ছেড়প চলে যাচ্ছে?রোহান কী আর ফিরবে না?
চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল জিনিয়ার। সে ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইল, একটাও শব্দ করতে পারল না। তার বুকের ভেতর যেন ভেঙে টুকরো হয়ে গেল।
গাড়ির জানালা দিয়ে রোহান তাকালও না। তার চোখে কেবল আগুন। প্রতিশোধের অন্ধকার পথেই পা বাড়াল সে।
আরমান গাড়ি স্টার্ট করল। ইঞ্জিনের শব্দে ভেসে গেল চারপাশের নিস্তব্ধতা। গাড়ি ধীরে ধীরে দূরে সরে গেল। জিনিয়া দাঁড়িয়ে রইল অশ্রুসিক্ত চোখে—একটা অদৃশ্য দেয়াল যেন তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। চারপাশে অন্ধকার নেমে আসছে ধীরে ধীরে। ঘড়ির কাঁটা যেনো অস্বাভাবিক গতিতে ঘুরছে। এতক্ষণ ধরে আরমান তার প্রিয় মানুষটাকে কল দিয়ে যাচ্ছে। একবার নয়, দু’বার নয়—পুরো ২১৯টা কল। অথচ কোনো সাড়া নেই। রাগ, কষ্ট আর অভিমানের ঝড় বইছে তার ভেতরে।
মনের ভেতরে গুমরে উঠে আরমান বিড়বিড় করে বলল,— “এই হাফ ইঞ্চির বাচ্চা, আর একটা কলও দিব না তোকে।”
আসলে কল করার কারণ ছিলো খুব জরুরি। আরমান কিছুক্ষণের আগেই ময়মনসিংহের পথে রওনা দিয়েছে। এটা না জানালে তো তার লক্ষী বউ আবার কান্না কাটি করে চিন্তায় অস্থির হয়ে যাবে।
ওদিকে জারা ছিলো মায়ের ঘরে। বড় ভাই ফোন করেছিলো, সেই কথাতেই ব্যস্ত ছিলো এতোক্ষণ। হঠাৎ আলতো করে মায়ের ঘর থেকে বের হয়ে নিজের রুমে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে এক অদ্ভুত সংখ্যা—আরমান তাকে ২১৯টা মিসড কল করেছে।
আঁতকে উঠে জারা ফিসফিস করে বলল,

— “হায় আল্লাহ! এতগুলো কল… এখন আমি কী করি?”
মুহূর্তেই তার বুক কেঁপে উঠল। আরমানের স্বভাব সে ভালো করেই জানে। রাগ উঠলে আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। এখন কী হবে ভেবে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল তার।
কোনো কিছু না ভেবেই কাঁপা হাতে ডায়াল দিলো আরমানের নাম্বারে। রিং বেজে চললো… কিন্তু ওপাশে কোনো সাড়া নেই। আবারও কল দিলো। আবারও রিসিভ হলো না।
জারা একটানা কল দিতে থাকল। প্রতি রিংয়ের সাথে তার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছে।
অবশেষে, যেনো বহু যুগ পরে, কলটা রিসিভ হলো। ওপাশ থেকে নীরবতা ভেসে আসছে। জারা কাঁপা গলায় মিষ্টি সুরে বলল,

— “স্বামীজান… আপনি কী রাগ করেছেন?”
কথাগুলো শুনেই আরমানের শরীর অবশ হয়ে এলো। মুহূর্তের মধ্যে তার রাগ, অভিমান সব গলে গেল। বুকের ভেতরটা ভরে উঠল অদ্ভুত এক অনুভূতিতে। এতক্ষণ যাকে গালাগাল করতে চাইছিলো, তাকে এভাবে মিষ্টি কণ্ঠে ডাক শুনে যেনো পুরো পৃথিবী থমকে দাঁড়াল।
হঠাৎ সে পাশে বসা রোহানকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— “ওই রোহান, কানে হাত দে! আমার লক্ষ্মী বউ কল করেছে।”
রোহান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। বিস্ময় মাখা দৃষ্টিতে সে ভেবেই পাচ্ছে না, একটু আগেই যে আরমান রাগে ফুঁসছিলো, সে হঠাৎ এমনভাবে কথা বলছে কেন!
রোহান কিছু না করে বসে থাকায় আরমান আবার গম্ভীর সুরে বলল,

— “শুনছিস? কানে হাত দে বলেছি।”
রোহান এবার বাধ্য ছাত্রের মতো কানে হাত দিয়ে বসল। মুখে চাপা হাসি লুকোনো গেল না। তার মনে বার বার জিনিয়ার কথা ভাবছে। কবে জিনিয়া কে ঘরের বউ করে নিবে আর তাদেও এমন সুন্দর মূহুর্ত আসবে?
আরমানের রাগ যেনো একনিমিশে পরে যায়।
__” বউ তুমি হঠাৎ অন্য সুরে গান গাইছো যে?”
__” কারণ আমি যানি আপনি রেগে আছে তাই!”
আরমান হাসো বোধহয়। গলা খাকিয়ে বলে
__” তাহলে এটা শুধু আমার রাগ ভাঙ্গানোর জন্য ছিলো?”
___” হুমমম! ”
___” টেকনিক টা পছন্দ হয়েছে আমার লক্ষী বউ। ”
জারা লজ্জা পেলো বেশ।উওর দিলো না।
আরমান ফোনের ওপাশে নরম স্বরে বলল,

— “তুমি কি জানো।ল, তোমাকে ফোনে না পেয়ে আমি কেমন অস্থির হয়ে গেছিলাম? ২১৯ বার কল করেছি আমি… তাও ধরো নাই কেন? কই ছিলে এতো ক্ষন।”
জারা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। মাথা নিচু করে মৃদু হেসে বলল,
— “আমি তো রুমে ছিলাম না। মা’র ঘরে ছিলাম, ভাইয়ার ফোন দিয়েছে..কথা বলছিলাম আমি। এজন্যই ধরতে পারি নাই।”
— “আচ্ছা, তাই নাকি? আমি তো ভেবেছিলাম আমাকে ইচ্ছে করে এড়িয়ে যাচ্ছো তুমি ।”
জারার গলা কেঁপে উঠল,
— “কখনো এমনটা ভাববেন না। আমার দুনিয়ার সবকিছু তো শুধু আপনিই।”
এই কথাগুলো শুনে আরমানের বুকটা ভরে গেল। চোখের কোণে পানির কণা জমে উঠল। রোহান তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসল, আর মনে মনে ভাবল— “এই পাগলা টা একদম অন্য মানুষ হয়ে যায় জারা ফোন করলে।”
আরমান আবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে

__” শোনো হাফ ইঞ্চি মেয়ে আমি কল করলে সাথে সাথে রিসিভ করবে মনে থাকবে?”
__” আমাকে একদম হাফ ইঞ্চি মেয়ে বলবেন না।”
আরমান ঠাট্টা করে বলল,
— “তুমি তো আসলেই হাফ ইঞ্চি একটা বাচ্চা। কিন্তু এই বাচ্চাই আমার পুরো দুনিয়া। তোমাকে ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না সোনা ।”
জারা লজ্জায় মুখ লুকাতে চাইলেও ফোনের ওপাশ থেকে শুধু নরম হাসির শব্দ ভেসে এলো।
— “এমন কথা বলবেন না… লজ্জা লাগে।”
— “আচ্ছা, লজ্জা লাগুক। লাল নীল হয়ে যাও। তোমাকে লজ্জায় লাল হতে দেখলেই আমার পৃথিবীর সবকিছু সুন্দর লাগে।”
জারার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। সে ফিসফিস করে বলল,
— “আমি তো আপনার জন্যই বেঁচে আছি।”
আরমান গভীর ভালোবাসায় বলল,

— “আর আমি তোমাকে ছাড়া শ্বাস নিতে চাই না।তোমাকে যে কবে সবাইকে জানিয়ে আমার ঘরের বউ করে নিয়ে যাবো? আই লাভ ইউ লক্ষী বউ।”
ফোনের ওপাশে মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এলো। শুধু তাদের দুজনের নিশ্বাসের শব্দই ভেসে আসছিলো।
রোহান তখনো বসে আছে, কিন্তু শুনে শুনে মুখ কালো হয়ে যাচ্ছে। এত রোমান্টিক কথা তার সহ্য হচ্ছে না। তারও তাড়াতাড় বিয়ে করতে হবে। একবার ওই জানোয়ারদের খুঁজে পাক তারপর তাদের একটা বব্যস্থা করে জিনিয়াকে বউ করে নিজের ঘরে তুলবে। কিন্তু এখন বন্ধুর প্রেমালাপ তার সহ্য হচ্ছে না। সে বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরে রইল।
কিছুক্ষণ পর আরমান ধীরে স্বরে বলল,

— “শোনো, একটা কথা বলব।”
— “কি কথা?”
— “আমি একটু আগেই ময়মনসিংহ জন্য বের হয়েছি।একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।”
এই খবর শুনেই জারার মন খারাপ হয়ে গেল। গলা কেঁপে উঠল কান্নায় ভিজে।
— “এখন যাচ্ছেন? এত রাতে? আমাকে একা রেখে?”
আরমান বুঝতে পারল, জারা কাঁদছে। তার বুকটা হাহাকার করে উঠল। তাড়াতাড়ি সান্ত্বনা দিতে লাগল,
— “এই যে, কাঁন্না করে না লক্ষী বউ । আমি তো তোমার কাছেই থাকব। দূরে গেলেও তুমিই তো আমার হৃদয়ের ভেতরেই আছো। তোমার একটা হাসি আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।”
জারা কেঁদে ফেলল,
— “আপনি না থাকলে আমার খুব ভয় লাগে।”
আরমান নরম স্বরে বলল,

— “ভয় পাবে না। আমি তোমার পাশে না থেকেও সবসময় তোমাকে ঘিরে রাখি। মনে করবে, আমি তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে আছি।”
এই কথায় জারার বুকের ভেতরটা কেমন যেনো উষ্ণ হয়ে উঠল। অশ্রু মুছে সে মৃদু হাসি দিলো।
__” আচ্ছা, তাহলে তো জিনিয়া আপু একা আছে? ”
___” হুমম ”
জারা চিন্তায় পরে গেলো। একা একটা মেয়ে ওখানে একা থাকবে?যদি কোনো বিপদ হয়। আবার রাগও হচ্ছে আরমানের উপর কেমন বেআক্কেলে মানুষ। জারা রাগী কন্ঠে বলে
___” আপনি আপুকে একা রেখে কী ভাবে যেতে পারেন পাগল লোক?যদি কোনো বিপদ হয়? আমি আম্মুকে নিয়ে যাচ্ছি জিনিয়া আপুকে আনতে। ”

___” তোমাকে যেতে হবে না। রাশেদ আর জাহেদ আছে জিনিয়া কাছে। ”
__” চুপ করুন আপনি! কথা বলবেন না। আপনি এক্ষুণি জাহেদ ভাইয়াকে বলবেন জিনিয়া আপু কে দিয়ে যেতে আমাদের বাড়িতে। ”
আরমান চমকালো জারা’র ধমকে। এই টুকু মেয়ে তাকে ধমকাচ্ছে। সাহস কতো বড় ভাবা যায়। আরমান মেকি রাগ দেখিয়ে বলে __” তুমি কী আমাকে ধমকাচ্ছো? ”
জারা ও জোর গলায় বলে
__” হ্যাঁ ধমকাচ্ছি! আপনি চাইলে আরও ধমকাবো। ”
আরমান আর কিছু বললো না। বউ তার রেগে যাচ্ছে এটা সে ভালো করেই বোঝতে পারছে। স্বামী যতই পাওয়ারফুল লোক হোক না কেন বউদের সামনে তারা বেজা বিড়াল সবসময়।
__” আচ্ছা.. আচ্ছা বলছি আমি। কিন্তু তোমার আম্মু যদি…!”
__” আম্মু কিচ্ছু বলবে না! আচ্ছা তাহলে সাবধানে যাবেন। আল্লাহ হাফেজ। ”
এই বলে কল টা কেটে দিতে যাবে জারা ঠিক তখনই আরমান মিহি কন্ঠে বলে ___” মানজারা শোনো!”
জারা’র বুক কেঁপে ওঠে। এই ডাক কী উপেক্ষা করা যায়?

___” হুমমম! ”
__” আমাকে আর একবার স্বামীজান বলে ডাকবে? ”
শুনেই জারার বুক ধক করে উঠল। হঠাৎ শরীর কেমন কেঁপে গেল। মনে হলো চারপাশের হাওয়া থেমে গেছে, শুধু হৃদস্পন্দনের শব্দটা জোরে বাজছে। মুখটা লাল হয়ে উঠল লজ্জায়। ঠোঁট শুকিয়ে গেল, কিছু বলতে পারছিল না। চোখ নামিয়ে ফেলল মাটির দিকে। ভেতরে ভেতরে এক অদ্ভুত টান অনুভব করছিল—এ যেন একদিকে লজ্জা, অন্যদিকে অজানা সুখ।
মনের গভীরে কেমন একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে গেল। যেন ছোটবেলার স্বপ্নে দেখা কোনো মুহূর্ত হঠাৎ বাস্তবে এসে ধরা দিয়েছে।তবুও সহজে মুখ ফুটে শব্দ বের হলো না। জারার ভেতরকার টানাপোড়েন যেন তাকে অচল করে দিল। সে তো তখন এটা রাগ ভাঙ্গাতে বলেছে। এখন আবার কীভাবে বলে সে?
জারাকে চুপ থাকতে দেখে আরমান আবার বলে

__” কী হলো লক্ষী বউ বলবে না? ”
জারাও লজ্জায় লাল হয়ে বলেই ফেলে
__” স্বামীজান! আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি।
বলেই কলটা কেটে দিলো। এটা শুনার পর যেনো আরমানের শরীর হিম শীতল হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়
রোহান অবশেষে বিরক্ত হয়ে উঠে চলে গেল, কিন্তু আরমান কিছুই খেয়াল করল না। রোহানের বিরক্তির মাত্রা ভেরে যায়।আরমানের কান থেকে মোবাইল টা নিয়ে নেয়। তার খুব হিংসে হচ্ছে তাদের প্রেম করতে দেখে।

রাতের অন্ধকার আলো তখন ম্লান হয়ে আসছে। ঘরের ভেতর হালকা অন্ধকার নেমে এসেছে। জারা নিজের রুমে বসে ছিল অনেকক্ষণ ধরে, কিন্তু মনটা শান্ত হচ্ছে না। বারবার মনে হচ্ছে আম্মাুকে বিষয়টা বলা দরকার, কিন্তু কীভাবে বলবে সেটাই বুঝতে পারছে না। বারবার দরজা পর্যন্ত এসে ফিরে যাচ্ছে, আবার বসছে।
অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে দরজাটা ঠেলে বের হলো। করিডোর পেরিয়ে মায়ের ঘরের দিকে এগোতেই বুকের ভেতর কেমন অস্থির লাগতে শুরু করল। মায়ের ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ালো।
মারজিয়া বেগম বিছানায় বসে চুপচাপ কাপড় ভাঁজ করছিলেন। মেয়ের মুখের ভঙ্গি দেখেই তিনি আঁচ করলেন কিছু একটা সমস্যা আছে। গম্ভীর চোখে তাকিয়ে বললেন,

— “কি হলো জারা? তুই এমন করছিস কেনো?”
জারা দাঁড়িয়ে রইল। কথাটা মুখ থেকে বের করতে পারছে না। অনেক দোনামোনা করে অবশেষে বলল,
— “আসলে আম্মু… জিনিয়া আপু একা আছে মাঠের বাড়িটায়। শুনলাম উনার ভাইরা নাকি কাজের জন্য ময়মনসিংহে গেছে। আমি ভাবছিলাম… মানে তুমি যদি বলো তো…”
মেয়ের চোখে অস্থিরতা আর মুখের দোনামোনা দেখে মারজিয়া বেগম সবটা বুঝে গেলেন। তিনি হঠাৎ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
— “গাধা কোথাকার! এই কথা এখন এসে বলছিস? নিশ্চয়ই মেয়ে একা ভয় পাচ্ছে। চল, গিয়ে নিয়ে আসি।”
মায়ের উত্তেজিত কণ্ঠ শুনে পাশের রুমে থাকা জোহান লাফিয়ে বের হয়ে এল। জিনিয়া আসবে শুনেই তার মুখ ঝলমল করে উঠল। সে খুশিতে হাত-পা নাচাতে শুরু করল।
— “ওহ!কিউটি গার্ল আসবে !”
জারার বুক ধক করে উঠল। তাড়াতাড়ি বলল,

— “না না আম্মু, যেতে হবে না। জাহেদ ভাইয়া বলেছে উনারা জিনিয়া আপুকে দিয়ে যাবে।”
কিন্তু মারজিয়া বেগম যেন কিছুই শুনলেন না। মেয়ের কথা কানে নিলেন না। এই মুহূর্তে তার ভেতরে অস্থিরতা কাজ করছে। এক মেয়ের মতো আরেক মেয়ে—জিনিয়াকে তিনি প্রায় নিজের সন্তানের মতোই মনে করেন। তিনি রুম থেকে বের হয়ে সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
জোহান পড়াশোনা ছেড়ে মায়ের সাথে এসে বসে রইল। ছোট্ট বয়স হলেও ওর ভেতরে উত্তেজনার সীমা নেই। জারা দ্বিধায় ভুগছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারও আর উপায় রইল না। সেও গিয়ে মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

সময় যেন থেমে গেছে। মিনিটগুলো ভারী হতে লাগল। প্রায় বিশ মিনিট পর অবশেষে আঙিনার বাইরের গেট খোলা গেল। ভেতরে ঢুকল জাহেদ আর রাশেদ—আর তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জিনিয়া।
তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত ক্লান্তি। মনে হচ্ছিল কারো ইচ্ছে ছিল না এই আসায়। বিশেষ করে জিনিয়া আসতেই চাইছিল না। কিন্তু বড় ভাই যখন জোর করেছে, তখন তার আর উপায় ছিল না।
মারজিয়া বেগম দূর থেকেই দেখলেন, আর হৃদয়টা যেন ভরে গেল স্নেহে। তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে জিনিয়াকে নিজের বুকে টেনে নিলেন। চোখেমুখে হাত বুলিয়ে বললেন,
— “এত শুকনো লাগছ কেন রে? মুখটাও ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।”
জিনিয়া হালকা হাসল। ঠোঁটে টানলেও সেই হাসিতে কষ্ট লুকোনো ছিল স্পষ্ট। আসল সত্য গোপন করতে করতে বলল,

— “না আন্টি, কিছু হয়নি।”
জারাও এগিয়ে এসে জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরে।
মারজিয়া বেগম কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করলেন, কিন্তু মনের ভেতর জোর করে সন্দেহকে চেপে রাখলেন। অতিথিদের সামনে প্রশ্ন করা যায় না।
তিনি তখন জাহেদ আর রাশেদকে ভেতরে বসার অনুরোধ করলেন।
— “বসো বাবা, রাতের খাবার খেয়েই যেও।”
কিন্তু তারা যেন তাড়াহুড়োয় ছিল। একটু অস্বস্তি নিয়ে উত্তর দিল,
— “না আন্টি, আমাদের এখন যেতে হবে। কাজ আছে।”
তারা আর বসলো না।এই দুইটার মনে তখন অন্য কিছু গোর পাখ খাচ্ছিলো।তারা কেবল সৌজন্য বিদায় জানিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
তাদের চলে যাওয়া মাত্র ঘরে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। শুধু জোহানের উচ্ছ্বাস ভরাট করছিল পরিবেশটা। সে বারবার জিনিয়ার হাত টানছে,

— “চলো আপু, খেলি! আমি তোমাকে নতুন খেলা শিখাব।”
জিনিয়া ক্লান্ত মুখে হেসে উঠল।
— “আচ্ছা, আগে বসি তো।”
মারজিয়া বেগম মেয়েটাকে সোফায় বসালেন। তার চোখেমুখে স্পষ্ট অস্থিরতা। বারবার তাকাচ্ছেন জিনিয়ার দিকে। কত কষ্ট জমে আছে সেই মুখের ভেতর!
জারা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল একপাশে। তার বুকের ভেতর অজানা ভয় কাজ করছে। সে জানে, জিনিয়ার জীবনে কিছু না কিছু অঘটন ঘটছে, কিন্তু সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছে না।

রাত ১১টা। ময়মনসিংহের রাস্তাগুলো নিঃশব্দ। চাঁদের হালকা আলো পাকা রাস্তার ওপর ছড়িয়ে আছে। একটি কালো মার্সিডিজ সাই-সাই করে আস্তে আস্তে এগোচ্ছে। গাড়ির ভিতরে বসে আছে দুজন: রোহান আর আরমান। গাড়ির ভিতর চাপা নিস্তব্ধতা, দূরে দূরে শূন্য রাস্তার ওপর বাতাসের হালকা ফিসফিস, আর গাড়ির চাকার শব্দ এক অদ্ভুত সঙ্গীতের মতো।
কিছুক্ষণ আগে আরমানের মোবাইলে কল এসেছে। কল রিসিভ করে সে বলল—
— “ওই কুওর বাচ্চাদের গোডাউনে বেধে রাখো। আমরা আসছি।”
রোহান চুপচাপ, মুখ কঠিন করে বসে আছে। তার চোখ যেন রাস্তায় আটকে আছে, অথচ ভেতরে রাগের ঢেউ খেলছে। সে নিজের মোবাইল বের করল। নিঃশ্বাস নিয়ে কল দিলো সাইফুল আকবরকে।
সাইফুল আকবর তখন ঘুমে ছিলেন। কল রিসিভ করার পর চোখ ঘষলেন, গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—

— “হ্যালো?”
রোহানের কণ্ঠ স্থির, কিন্তু ভিতরে উত্তেজনা—
— “বাবা, আমি… আমি বিয়ে করতে চাই।”
আরমান পাশে বসে রোহানের দিকে তাকাল। মনে মনে বলল—“রাত ১১টায় বাবাকে কল করে বিয়ের কথা বলছে? এই ছেলে কী পাগল হয়ে গেছে নাকি!” সে ঠোঁট কামড়ে হাসি ধরে রাখল।
সাইফুল আকবর চমকে উঠলেন। ঘুম ভেঙে, চোখ মুছতে মুছতে বললেন—
— “কাল তো বলেছিলে বিয়ে করবে না। আর এখন রাত ১১টায় কল দিয়ে বিয়ে করতে চাও?”
রোহান চুপ। মাথা নীচু করল। ভেতরে উত্তেজনা আর আবেগের ঢেউ।রোহান দৃঢ় কন্ঠে বলে
— “ না… না আমি কোনো কথ শুনতে চাই না। আমি… আমি জিনিয়া কে বিয়ে করতে চাই।”
সাইফুল আকবর হতবাক। রাগ আর বিস্ময় একসাথে।
— “কি বলছো তুমি? ওর সাথে বিয়ে ঠিক করলাম বলে কাল বিয়ে ভেঙে দিয়েছো। আর এখন বলছো তাকেই বিয়ে করবে?”
রোহানের কথাগুলো যেন তাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেল। সে চমকে বলল—

— “কী বললে তুমি, বাবা!”
— “তুমি যা শুনেছ, আমি তাই বলেছি। তোমাকে তো ছবি পাঠিয়েছি। কেন দেখোনি?” সাইফুল আকবর কণ্ঠে রাগ, হতাশা ও বিস্ময় মিলিয়ে বললেন।
রোহান চোখ নামিয়ে ফেলল। আফসোসে কেঁদে গেল।— “আসলে যদি একবার দেখতাম… তাহলে তো এতো কিছু হতো না।”
রোহান কান্না করতে করতে বলল,
__”বিয়ে আবার ঠিক করার ব্যবস্থ করো বাবা প্লিজ। ওর জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে।আমি ওকে অনেক ভালোবাসি।”
কিন্তু সাইফুল আকবর এবার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালেন না, শুধু চুপ।কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন
__” এখন আমি আবার কোন মুখে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবো বলো? ”
রোহান নাক টানতে টানতে বলে
__” যে মুখ আছে সেটা নিয়েই যাও। এখন প্লাস্টিক সার্জারি করাতে সময় লাগবে। ”
এই দৃশ্য দেখে আরমান ঠোঁট কামড়ে হাসি ধরে রাখল। যদি পারতে সে এখন মাটিতে গড়াগড়ি খেতো।
সাইফুল আকবর বলেন

__” আমি পারব না। এতো বিয়ে করার শখ থাকতে নিজেরটা নিজে ঠিক করে নাও।
এই বলে কল কেটে দিলপন তিনি। রোহান এখন আরমানের মুখের দিকে অসহায় ফেইস নিয়ে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ রোহান আরমানের পা ধরে বসে রইল, সে যেনো কিছু করার চেষ্টা করে।
— “ আরমান ! ভাই আমার বিয়েটা ঠিক করে দে।” রোহান চিৎকার করল।
— “ছাড় আমাকে রোহান! আমি গাড়ি চালাচ্ছি,” আরমান শান্ত কণ্ঠে বলল।
রোহান ছাড়ল না। গাড়ি আরও ধীরে এগোচ্ছে। রাস্তার পাশের লাইটের ঝলক আর চাঁদের আলো মিশে এক রহস্যময় আবহ তৈরি করছে। রোহান বারবার নিজের কণ্ঠে বলে—
— “আমি চাই, আমার বিয়ে ঠিক হোক। আমি আর অপেক্ষা করতে পারব না। আমি তোর মতো বউ নিয়ে প্রেক করতে চাই। ”

__” বা*ল ছাড় আমাকে। এক্সিডেন্ট হলে বিয়ে করিস ভালো করে। ”
__” আমি বিয়ে করব। দোস্ত তোর ছোট আব্বুকে কল করে বল না ওনার মেয়েটা আমাকে দিতে। ”
আরমান রোহানকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে
__” আমি পারব না! তুই বিয়ে করবি, তুই বল! ”
রোহান লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলে
__” যা… দুষ্টু! আমার কী লজ্জা করে না।”
রোহানের কান্ড দেখে আরমানের অবস্থা কাহিল। এই ছেলে হঠাৎ বিয়ের জন্য এতো পাগলো হলো কীভাবে? আরমান বাধ্য হয়ে নিজের ছোট আব্বুকে কল করল।

রাত গভীর। জিনিয়া মন খারাপ করে বসে আছে জারার পাশে। জোহান জিনিয়াকে অনেক বিরক্ত করছে বলে জারা জিনিয়াকে নিজের রুমে দিয়ে আসে। জিনিয়া মন ভালো করতে মিম আর ফিহা কে ভিডিও কল করল।তারা কল রিসিভ করতেই জারা বলে জিনিয়া আপু এসেছে। ফোন রিসিভ করে হাসি মুখে বলল—
— “জিনিয়া আপু এসেছে।”
মিম আর ফিহার চোখে এক সঙ্গে হালকা হতাশা দেখা দিল। তারা দুজনেই মনে মনে বলল, “ আগে বললে আমরাও আসতাম। তখন হয়তো আরও মজা হতো।” তাদের মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল।
ভিডিও কলের মধ্যে জিনিয়া হাসি মুখে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “কি খবর? কেমন আছো দুজন?”
মিম আর ফিহা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হালকা করে হেসে উঠল।
— “আমরা ভালো আছি, আপু… তুমি কেমন আছো?” ফিহা বলল।
জিনিয়া কিছুক্ষণ তাদের সাথে আড্ডা দিয়ে গল্প করল। তাদের শেয়ার করা ছোট ছোট হাস্যকর ঘটনা শুনে মিম আর ফিহার মনটা ধীরে ধীরে হালকা হতে শুরু করল। একটুখানি মন খারাপ দূর হয়ে গিয়ে হাসি মুখে তারা কথোপকথনে যুক্ত হলো।জিনিয়ার মনও ভালো হয়ে যায় তাদের সাথে কথা বলে।

রাতের অন্ধকারে গোডাউনে ঢুকতেই আরমান আর রোহান চোখে পড়ে লোকগুলো বাঁধা। রোহানের বুকের মধ্যে ক্রোধের আগুন জ্বলে। তার প্রিয় মানুষকে যারা নোংরা ভাবে ছুঁয়েছে, তাদের জন্য ধৈর্য আর সহ্য করার জায়গা নেই।আজ এই জানোয়ারদের কেটে কুটরো কুটরো করে কুওা দিয়ে খওয়াবে।
আরমান প্রথমে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। তার চোখে অগ্নি ঝলমল করছে। মুখে কঠিন ভঙ্গি, কণ্ঠে নীরব শক্তি। একজনের চুলের মুঠোয় শক্ত করে ধরে বলে
— “তুই কি ভেবেছিলি, কেউ যানবে না তোর নোংরামির কথা?”
রোহান পাশে দাঁড়িয়ে, তার চোখে রাগের আগুন।
— “তুই কি চরম ভণ্ড? আমার প্রিয় মানুষকে নোংরা ভাবে স্পর্শ করেছিস। আফসোস আজ সেই হাতটা থাকবে না?”
লোকগুলো ভীত হয়ে আকুতি করতে শুরু করল।

— “দয়া করে, রেহাই দিন… আমরা আর কখনো এমন করব না। ক্ষমা চাচ্ছি।”
আরমান কণ্ঠ শক্ত করে বলল—
— “ক্ষমা? তোর মতো নোংরা মনুষ্যকে কখনো ক্ষমা দেওয়া হবে না!”
রোহান কণ্ঠে রাগ ও ঘৃণার মিশ্রণ—

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৪৬

— “সোনা ছেলেটা, তুমি কি পাগল নাকি? আজকে তোমার মৃত্যু হবে এটা ফাইনাল !”
আরমান হঠাৎ বজ্র কন্ঠে তার একজন গার্ডকে ডাক দেয়
___” সাহিল যে গুলো দার দিতে বলে ছিলাম,সেগুলো কোথায়? ”

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৪৭ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here