লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৩
লিজা মনি
নিশ্চুপ অরণ্যের বুকে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সহস্রাব্দের অব্যক্ত ইতিহাস। দুপুরের আলোতে প্রতিটি বৃক্ষ তার বাকলে সময়কে স্তরে স্তরে সংরক্ষণ করে রেখেছে।
পাতার ঘনত্বে আলো ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। আর সেই বিচ্ছুরিত আলোকরেণু মাটির গায়ে রচনা করে এক অলক্ষ্য জ্যামিতি যা কেবল মননশীল দৃষ্টিতেই পাঠযোগ্য।
অনেক সময় শেকড়ের জটিলতায় ভূমি কেবল ভূমি থাকে না তা হয়ে ওঠে স্মৃতির স্তম্ভ।
নিস্তব্ধতার ভার এতটাই ঘন যে শব্দও এখানে উচ্চারিত হওয়ার পূর্বে অর্থের অনুমতি চায়, আর প্রতিধ্বনি জন্ম নেয় গভীরতার গর্ভ থেকে।
এই অরণ্য এক বহুমাত্রিক চেতনা।যেখানে প্রতিটি ছায়া এক একটি অনুচ্ছেদ। প্রতিটি আলো একটি উপপাদ্য। সমগ্র বন এক অনবদ্য। যতটা মুগ্ধকর ততটাই ভয়ানক।
নাজলি আর আরিশ মুখোমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গভীর অরণ্যের ভেতরে তারা কখন ডুকে পড়েছে হয়ত তাদের নিজের ও খেয়াল নেই। আরিশ প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নাজলীর দিকে তাকিয়ে আছে। নাজলীর চোখে-মুখে আতঙ্ক। গলা শুকিয়ে আসছে তার ভয়ে। ওর পিছনে দুইটা কুচকুচে কালো সাপ পেঁচিয়ে বসে আছে। সামান্য শব্দ পেলে যে কোনো সময় ফনা তুলে উঠবে। আর সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিশ। হিংস্র লাল হয়ে যাওয়া দুইটা চোখ দিয়ে যেন নাজলীকে কাচা চিবিয়ে খাবে। নাজলী মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে। মনে হচ্ছে এই বুঝি সাপটা আক্রমন করে বসলো। এইটা অরণ্য হলেও কোনো ভয়ানক জীব-জন্তু নেই। কিছুটা পর্যটন এলাকার মত। গাছপালা আছে প্রচুর তবে সব কিছু দেখাশুনা করার জন্য লোক আছে। তাই ভয়ানক জীব -জন্তু নেই। কিছু বিষাক্ত প্রজাতি আছে। তবে সংখ্যায় বিবেচনা করলে খুব কম। নাজলী হতভম্ভ হয়ে আছে। পিছনে সবটা ঝোঁপ। দৌড় দিলে যদি ভয়ানক কোনো প্রানীর সম্মুখীন হয়, এই ভয়ে তার শরীর শিরশির করে উঠে। কিন্তু পালিয়ে না গেলে এই ক্রিমিনালের বাচ্চার আক্রমনের স্বীকার হতে হবে।কোন দিকে যাব? গন্তব্য কোথায় আমার!নাজলী চোখ তুলে তাকায় আরিশের দিকে। আরিশের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে রাগে। অথচ ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” দাঁড়িয়ে গেলো কেনো? দৌঁড়াও। আমিও দেখি কতটুকু দৌঁড়াতে পারো। ধরতে পারলে শেষ।
আরিশের গভীর গলার আওয়াজ নাজলীর বুকের ধুকধুকানো আরও বাড়িয়ে দেয়।
সে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
‘ আমার পিছনে আসছেন কেনো?
আরিশ দাঁত পিষে বলে,
” ট্রাস্ট মি, বনের জন্তু -জানোয়ার যদি তকে ছিঁড়ে না খায় তবুও আমি তকে কাচা চিবিয়ে খাব।
নাজলী কঠিন গলায় বলে,
” মি, আরিশ ভাষা ঠিক করেন। আপনার কোনো রাইট নেই আমাকে তুই -তুইকারী করে অসম্মান জনিত কথা বলার। অবশ্য আপনার কাছ থেকে ভালো কিছু আশাও করি না।
আরিশ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” এখনও যে অক্ষত এইটার শুক্রিয়া করো।ভয়ে পুরো মুখ ঘেমে উঠেছে। শরীর কাঁপছে অস্বাভাবিকভাবে। তবুও গলার তেজ কমে নি, তাই না? বিয়াদব!
” সাপের ভয় পাচ্ছি। আপনার না। নিজেকে বড় ভাবার প্রয়োজন নেই।
আরিশ কুটিল হেসে সামান্য এগিয়ে আসে। নাজলী দ্রুত এক পাশে চলে যায়। জুতার ভেতর দিয়েই মনে হচ্ছে কিছু একটা কামড়ে ধরেছে। তীব্র যন্ত্রনায় নাজলী নাক -মুখ খিঁচে ফেলে। জুতা খুলে পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে জায়গাটা লাল হয়ে আছে।অথচ কোনো পোকা দেখতে পায় নি। যন্ত্রনায় চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে। পাশেই দেখে একটা কালো মাঝারি সাইজের পোকা মরে পড়ে আছে। তার মানে এইটার পর সে পা রেখেছিলো। তাই কামড়ে দিয়েছে। নাজলী রেগে কিড়মিড় করে বলে,
‘ বাল বিছিয়ে চ্যাপ্টা হয়ে শুয়ে থাকলে পা তো দিবই। তাই বলে শুয়রের বাচ্চা আমাকে এইভাবে কামড় দিবি।
নাজলীর মুখের ভাষা শুনে আরিশ ভ্রুঁ ভাঁজ করে ফেলে। একটা মেয়ের মুখের ভাষা এত জঘন্য হয় কিভাবে! চোয়াল শক্ত করে বলে,
” কামড় নয় চুমু দিয়ে টেস্ট করছিলো তোমার রক্ত কেমন।
নাজলী বিরক্তি নিয়ে বলে,
” ঠিক আপনার মত, রক্তচোষা পিশাচ। চুমু দিতে গিয়েও রক্তাক্ত করে ফেলে। গলাগলি করে বন্ধুত্ব করেন দুজন।
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
“সিন্স মর্নিং ইউ’ভ বিন বিহেভিং ডিসরেসপেক্টফুলি।
আই উইল সেটল অ্যাকাউন্টস ফর এভরি বিট অব ইট। নট জাস্ট কিসেস। আই উইল ডু মেনি আদার থিংস অ্যাজ ওয়েল মাই ফাকিং লেডি।
নাজলীর হতভম্ভ হয়ে তাকায় আরিশের দিকে। সাপ -পোকামাকড় দিয়ে পুরো জঙ্গল যেন সাজিয়ে রেখেছে। ইচ্ছে করছিলো কান্না করতে। সে দুইটা মানুষকে খুন করে চলে আসতে পারবে। কিন্তু পোকামাকড়ে ওর অতিরিক্ত ফোবিয়া। হোক সেটা বড় বা ছোট। নিজের উপরে রাগ হচ্ছে এখন। কেনো এত সকালে হাটার জন্য বেরিয়েছিলাম। বের হওয়াটাই ছিলো আমার সব থেকে বড় ভুল। যদি বের না হতাম তবে এই সাইকোটার নজরে পড়তে হত না। আর কিরকম দিশেহারা হলে পালাতে গিয়ে বনে ডুকে পড়লাম। এখন কোন দিকে যাব? লোকটা যদি সাথে নিয়ে যায়! আগেরবার তো মারে নি। এইবার জানে মারবে নিশ্চিত।
নাজলী বুকে সাহস নিয়ে আরিশের দিকে তাকায়। ভয়টাকে দুরে ঠেলে দিয়ে শান্ত গলায় বলে,
” কি চাই আপনার? আমার কাছ থেকে কি চান?
” আপাযত তোমার গলাটা সেলাই করতে চাই। যাতে পরেরবার আমার সামনে উচ্চ বাক্যে কথা বলতে না পারো।
নাজলী চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টানে,
” অযথা লাইন খরচ করবেন না। কি করতে চান? জানে মারতে চান? এইটা বাকি ছিলো। ইচ্ছে করলে তো মারতেই পারেন। এত সময় নষ্ট কেনো করছেন? পুলিশ,আইন তো টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন। আমার মত একটা মেয়েকে মেরে ফেললে কিছু বলবে না। যদি এইটা হয় তাহলে মেরে ফেলুন। সত্যি আটকাব না। তবুও রেহাই দিন আমাকে। মৃত্যু অথবা জীবিত কোনো এক মাধ্যমে। বাঁচতে হলে সহজভাবে বাঁচব।কোনো ক্রিমিনালের ত্রিসীমানায় আতঙ্ক নিয়ে নয়।
আরিশ নিজের ঘাড়ের রগ চেপে ধরে আঙ্গুলের সাহায্যে। নাজলীর চোখে চোখ রেখে দুই পা এগিয়ে আসে। আরিশকে এগিয়ে আসতে দেখে চোখের পাতা ঝাপ্টাচ্ছে। আরিশ এক পা এক পা করে এগিয়ে আসছে। নাজলী আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে সামান্য পিছিয়ে বলে,
” স… সামনে এগিয়ে আসছেন কেনো? খ…খবরদার কাছে আসবেন না। দেখতে পাচ্ছেন না পিছনে সাপ পেচিয়ে বসে আছে।
আরিশ নিশ্চুপ। ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে রাগটাকে কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাজলী দিশেহারা হয়ে এদিক -সেদিক তাকায়। কোথায় যাবে সে, যেদিকে তাকাচ্ছে সেদিকেই ঘন জঙ্গল মনে হচ্ছে। তার ধারনাও নেই এই জঙ্গল সম্পর্কে। আরিশ প্রায় নাজলীর কাছা-কাছি। নাজলী প্রায় কেঁদে দিবে ভাব,
” প্লিজ আসবেন না। ওরা বিষাক্ত সাপ। আক্রমন করলে বাঁচা অসম্ভব। আরিশ না, প্লিজ দুরে থাকুন।
আরিশ একদম নাজলীর কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। সামান্য দুরত্ব তাদের মধ্যে। আরিশ সেই দুরত্বটাকেও মুছে ফেলে। নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে একে -অপরের।নাজলীর শরীর কাটা দিয়ে উঠে আরিশের উপস্থিতিতে। ঘৃনায় গা গুলিয়ে আসছে তার। ভুলবে না সেদিন রাতের ঘটনাটা। কখনো ভুলতে পারবে না দৃশ্যগুলো। একটা মেয়েকে কি নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। নাজলীর চোখে পানি টিপটিপ করে উঠে।
বাস্তবতা হলো অজান্তে সে আরিশের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো। স্বামী-স্ত্রীর খেলা খেলতে গিয়ে ভালোবেসে ফেলেছে এই ক্রিমিনাল পুরুষটাকে। জানে পুরুষটা খারাপ। অত্যন্ত জঘন্ত। তারা প্রস্টিউট ক্লাবে মেয়ে নিয়ে বাজার বসায়। ছোট -ছোট নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে মায়ের বুক থেকে ছিনিয়ে এনে পন্য হিসেবে বিক্রি করে দেয়। ফুলের মত মেয়ে গুলোকে পাচার নিবাস নামক অন্ধ কুঠুরিতে মাসের পর মাস ফেলে রেখে একসময় পন্য হিসেবে বিক্রি করে। এরা ঘৃনিত। এরা সব থেকে বিক্রিত মস্তিষ্কের মানুষ। সব জানার পর ও সেদিনের রাতের ঘটনা কেনো এত পুড়াচ্ছে আমাকে। এদের জন্য তো এইগুলো নিত্য দিনের কাজ। আমি কেনো আগুনে পুড়ছি এইসিব ভেবে। নাজলী নিতে পারছে না আরিশের স্পর্শ। এই অস্তিত্ব তার শরীরে ঘৃনার কাটা ফুটাচ্ছে। সাপের আঘাতে ধ্বংস হোক। জীব-জন্তু ছিঁড়ে খাক শরীর। তবুও এই লোকের সান্নিধ্যে আমি নাজলী কখনোই যাব না। আরিশ নাজলীর বাহুতে চেপে ধরতে যাবে তার আগেই নাজলী বসে যায়।
আরিশ চোখ ছোট ছোট করে ফেলে।নাজলী বসা থেকে পালাতে চাচ্ছিলো। আরিশ হাত দিয়ে শক্তভাবে পেট আকড়ে ধরে। এমনভাবে খামছে দিয়ে ধরে আছে যেন মাংসের ভেতরে আঙ্গুল গেঁথে যাবে। নাজলী ছটফট শুরু করে দেয়। আরিশ এক ঝটকায় গাছের সাথে চেপে ধরে। এক হাতে পেট অন্য হাত দিয়ে গলায় চেপে ধরে। গাছের সাথে ধ্বাক্কা খেয়ে নাজলীর মাথা ঘুরে আসার উপক্রম। সে অনুভব করতে পারছে পেটের ব্যাথ্যা। গলায় চেপে ধরে রাখার ব্যাথায়। হুট করে আবারও ছটফটিয়ে উঠলো। ঠোঁট দুইটা কেউ শক্তভাবে চেপে ধরেছে। এতটা হিংস্রতা নিয়ে চেপে ধরেছে যে ব্যাথায় মনে হচ্ছিলো কলিজা ছিঁড়ে যাবে। রিতীমত কামড়াচ্ছে নরম ঠোঁট দুইটাকে। আরিশের হাত চলে যায় জামার ভেতর দিয়ে। অবাধ্য হাতের বিচরন গভীর করে তুলতে থাকে। নাজলী এক হাত দিয়ে আরিশের হাত চেপে ধরে। শক্তি নেই তার। তবুও শক্তপোক্ত দেহের ব্যক্তির সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। নাজলীর শ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে। এমন সময় আরিশ ছেড়ে দেয়। পাঁচ সেকেন্ড নাজলীর মুখের দিকে তাকায়। রক্তাক্ত যখম হয়ে যাওয়া ঠোঁটের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার ও ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে। নাজলী অস্ফূর্ত সুরে বলে,
” রেহায় দিন প্লিজ, সহ্য করতে পারছি না।
আরিশ শান্ত হয় না। ঠোঁট ছেড়ে গলায় নেমে আসে। এক হাত দিয়ে নাজলীর দুইটা হাত চেপে ধরে আছে। আর দুই পা দিয়ে নাজলীর পা দুইটাকে আটকে রেখেছে আর ঠোঁট দিয়ে রাজত্য চালাচ্ছে গলায় আর ঠোঁটে। আরিশের এত হিংস্র রুপ নাজলী আগে কখনো দেখে নি। আরিশ অনেকবার রাগে তার ঠোঁটে চুমু খেয়েছে। কিন্তু এতটা ধ্বংসলীলা চালায় নি। মনে হচ্ছে দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। ধীরে ধীরে কামড়ের গতি কমে আসে। রক্তাক্ত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চুম্বন দিতে থাকে। অবাধ্য হাত পিছনে জামার চেইনে চলে যায়। এক টানে খুলে ফেলে চেইনটা। সাথে সাথে নাজলী আতকে উঠে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কি করতে চাইছে লোকটা! জামাতে কেনো হাত দিচ্ছে? নাজলীর শরীর শিরশির করে উঠে। আরিশ শক্ত ভাবে নাজলীর উন্মুক্ত পিঠ ছুঁয়ে দেয়। নখের আচঁরে দাগ কেটে যাচ্ছে ফর্সা ঝলঝলে ত্বক। আরিশ একটানে জামাটা খুলে মাটিতে ছুড়ে ফেলে। নাজলী এই প্রথম নিজেকে এতটা অসহায় মনে করছে। শরীরে শক্তি নেই যে পালাবে, অনুরোধ করবে। মাথা ঘুরাচ্ছে।
পানি পিপাসা পাচ্ছে অনেক। অথচ পানি নেই কোথাও। আরিশ ই*** হাত দিতে যাবে তার আগেই নাজলী ঢলে পড়ে। শরীর ছেড়ে দেয় নিজের। আরিশের উগ্রতা কমে আসে। গলা থেকে মুখ তুলে মুখের দিকে তাকায়। দুই হাত দিয়ে আগলে নেয় আলতোভাবে নরম দেহটাকে। দুই হাত দিয়ে পাজা কোলে তুলে নেয়। শরীরের কোর্ট খুলে অর্ধ উন্মুক্ত শরীরটা ঢেকে ফেলে। উল্টো ঘুরে বেরিয়ে আসে জঙ্গল থেকে। আগেই ফোন করে জানিয়ে রেখেছিলো রাস্তায় যাতে গাড়ি রেডি রাখে। আরিশকে দেখতে পেয়ে দুইজন গার্ড গাড়ি থেকে নেমে যায়। আরিশ চোখ দিয়ে ইশারা করে চলে যেতে। গার্ড চলে যেতেই গাড়ির গ্লাস তুলে দেয়। নাজলীর মুখে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে ঠোঁটের দিকে তাকায়। চিকন ঠোঁট দুইটা ফুলে মোটা হয়ে গেছে। রক্তাক্ত হয়ে যখন হয়ে আছে প্রতিটা দন্তের সংঘর্ষে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে কতটা হিংস্র ভাবে স্পর্শ করে গেছে। আরিশ রক্তাক্ত ঠোঁটে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে একটু চেপে ধরে। অজ্ঞান অবস্থায় যেন নাজলী ব্যাথায় শিউরে উঠছে। আরিশ গলার ক্ষতগুলোতে আলতো স্পর্শ করে বাঁকা হাসে। মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
” দেখি কতটুকু সহ্য করতে পারো তুমি। নিজ থেকে আত্নসমর্পন করবে আমার কাছে। আপাযত তোমাকে তোমার স্থানে রেখে যাচ্ছি। সময় হলে নিজেই আসবে। আরিশ ইলহাম না কোনোদিন নারী সান্নিধ্যে গিয়েছে আর না কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখেছে। তুমি হয়ত ফার্স্ট রমণী যার প্রতিটা রক্তকণা পর্যন্ত আমার হিসেব রাখা। তাকিয়েছি, দেখেছি, স্পর্শ করেছি, তীব্র বাসনা,কামনা জেগেছে, কন্ট্রোল করেছি। আফসোস রমণী তুমি জানতেই পারলে না। তবে ভালোবাসি ভেবে থাকলে ভুল। নিজের মা ছাড়া কোনো নারীকে ভালোবাসি না আমি। আর না কোনোদিন বাসব।
টর্চার সেলের এক কোণে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে মাফিয়া দলের এক সদস্যা ম্যাসিমো। সামনে বড় কড়াই রাখা। কড়াই এর মধ্যে ফুটন্ত তেল টগবগ করছে। যার শব্দ নিস্তব্দ টর্চার সেলের দেয়ালে বার বার ধ্বাক্কা খাচ্ছে। যে লোকটা এনির উপর আক্রমন করেছে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে চেয়ারে । আর দুই পাশ দিয়ে নিকের বিশ্বস্ত সহকারী হান্টার আর শ্যাডো ঘিরে ধরেছে। ছিঁড়ে খাচ্ছে শরীরের কাঁচা মাংস। রক্তে ভাসছে ভেজা মেঝে। কুকুর আর বাঘের চিবানোর শব্দ যেন নিকের কলিজা ঠান্ডা করছে। লোকটার শরীর থেকে মাংস খসে খসে পড়ছে। চামড়া, মাংস আলাদা হয়ে হাড্ডি পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। নিক সেদিকে এগিয়ে যায়। হান্টারের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
” টুডে, শেয়ার ওয়ান বিটুইন দ্য টু অব ইউ। ওকে আমি মারতাম। বাট আফসোস তার আগেই মরে গেলো। মরা মানুষ মেরে শান্তি নেই। জীবত হলে আর্তনাদেও প্রশান্তি।
হান্টার যেন মালিকের কথা শুনলো। শ্যাডো নিকের হাতে মুখ ঘেষে। নিক অদ্ভুতভাবে হাসে। এই নিককে দেখলে হয়ত এনি জ্ঞান হারাতো। এই যে অর্ধেক ছিন্ন-বিচ্ছন্ন হয়ে থাকা মানুষটা কি বিকৃত হয়ে আছে। শরীর থেকে কাঁচা মাংস ছিঁড়ে খাচ্ছে দুইটা জন্তু।
নিক দুই সহকারীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ম্যাসিমোর দিকে তাকায়। ছুড়ি নিয়ে এগিয়ে যায় সে। চেয়ারে বসে ছুঁড়ি দিয়ে ম্যাসিমোর হাতে স্লাইড করতে করতে শান্ত গলায় বলে,
” তুই জানিস ম্যাসিমো, যাকে শেষ করার জন্য তর সাহকারীকে পাঠিয়েছিলি, সে আমার প্রানভোমড়া। আচ্ছা তর মনে হয় নি প্রানভোমড়াতে আঘাত করলে গ্যাংস্টার বস ঠিক কতটা বিকৃত হতে পারে।
ম্যাসিমো চাপা ক্রোধে বলে,
” তর এই জংলী নরখাদক আমার গার্লফ্রেন্ডকে রে**প করেছে। একদম জানে মেরে ফেলেছে। অথচ তকে বলার পরও এড়িয়ে গেলি।
নিক শব্দ করে হেসে বলে,
” তর অপবিত্র আবর্জনা মরেছে বলে তুই আমার নিষ্পাপ ফুলের দিকে হাত বাড়িয়েছিলি। তর একটা গেলে দশটা আসবে। এমনিতেও দৈনিক তর জন্য দশ জন যায়। গার্লফ্রেন্ড তো শো-আফ। কিন্তু আমার জীবনে একজন নারী। যার শেষটাও আমি হব। আর শুরুটাও আমি হয়েছে। এক প্রস্টিটিউট ক্লাবের নর্তকী মরেছে বলে আমার ফুলের দিকে হাতটা বাড়ালি কোন সাহসে? কলিজাটা মাপতে না পারলে ঘুম হবে না।
নিকের শান্ত হুমকিতে ম্যাসিমোর কলিজা শুকিয়ে আসে। আতঙ্কিত গলায় বলে,
” আমাকে তুই মারতে পারিস না। একই গ্রুপের একজন মাফিয়া হয়ে অন্য মাফিয়ার উপর আঘাত করা যায় না।
নিক ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে,
” শুধু আঘাত নয় আরও অনেক কিছুই করব
নিক ছুড়িটা নিয়ে বসিয়ে দেয় ম্যাসিমোর উড়ুর নরম মাংসে। সাথে সাথে বিকট শব্দে ঝংকার তুলে পুরো টর্চার সেল। নিক পৈশাচিকভাবে হাসে সামান্য। উড়ুর নরম মাংসটা তুলে নিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দেয়।
ম্যাসিমো যন্ত্রনায় ছটফট করছে। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে। কিন্তু তার চিৎকার শুনার মত কেউ নেই। এই টর্চার সেল নরকের থেকেও জঘনন্য। গরম তেলে মাংস ভাজা হয়ে গেলে একটা স্টিলের উপর রাখে। মাংসের টুকরাটা নিয়ে যায় ম্যাসিমোর দিকে। নিজের শরীরের মাংসের এই অবস্থা দেখে মাথার নিউরন গুলো মনে হচ্ছে ছিঁড়ে যাচ্ছে। নিকের চোখ একদম শান্ত। মুখে কোনো রকম কাঠিন্যতা নেই। ম্যাসিমো কাতরাচ্ছে এই মানসিক যন্ত্রনায়। গ্যাংস্টার বস আরও একটা কোপ বসায় অন্য উড়ুর উপর। সাথে সাথে বড় এক টুকরো মাংস খুলে আসে। নিক সেটাকেও তেলে ছেড়ে দেয়। ভাজা হয়ে গেলে একইভাবে স্টিলের উপর রাখে। ম্যাসিমো এক পাশে হ্যালো পড়েছে যন্ত্রনায়। সে এক নিঃশব্দ আর্তনাদের ভেতরে ছটফট করছে। শব্দহীন বজ্রপাত বারবার তার অন্তঃকরণে আঘাত হেনে যাচ্ছে। চিন্তার ঘূর্ণাবর্তে তার চেতনা দিশাহারা হয়ে যাচ্ছে প্রত্যেক শ্বাসে জমে ওঠা ভারী অস্বস্তি বুকের প্রান্তে কাঁপন তোলছে । রক্তে ভেসে যাচ্ছে পুরো মেঝে। নিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ম্যাসিমোর দিকে তাকায়। জিহ্বা বের হয়ে এসেছে যন্ত্রনায়। নিক রহস্যময় হাসি দিলো। রক্তাক্ত ছুড়িটা দিয়ে এক আঘাতে জিহ্বা আলাদা করে ফেলে।ম্যাসিমো আবারও চিৎকার করে উঠে। পাগলের মত ছটফট করছে যন্ত্রনায়। গ্যাংস্টার বস এতে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করছে। জিহ্বা তেলে ভাজে নি। কাচা জিহ্বা ভাজা মাংসের মধ্যখানে রেখে শক্ত গলায় বলে,
” এইবার খা এইগুলো।
ম্যাসিমো নিভু নিভু চোখে তাকায়। এক নিজের শরীরের মাংস স্ব- চক্ষে তেলে ভাজতে দেখেছে। যন্ত্রনায় দিশেহারা হেসে।মস্তিষ্কের প্রতিটা রগ যেন ছিড়ে যাচ্ছে। নিজের শরীরের মাংস নিযে কিভাবে খাবে?
নিকের সহ্য হলো না নিরবতা। হিংস্রতা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। রক্তে তার হাত লাল হয়ে আছে। রক্তাক্ত হাত নিয়ে ম্যাসিমোর গাল চেপে ধরে। সামান্য হা হলে এরপর ছুঁড়ি দিয়ে মাংসের টুকরো গুলো মুখে নিয়ে ডুকাতে থাকে। ছুঁড়ির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় জিহ্বা। ছিঁড়ে যায় কন্ঠনালে। এরপরও নিক থামে নি। সব গুলো মাংস এক এক করে ডুকাতে থাকে। ম্যাসিমো গলা কাটা পশুর মত কাতরাতে কাতরাতে লুটিয়ে পরে। প্রান চলে যায় তার। নিজের শরীরের মাংস নিজে খেয়ে এরপর মরেছে। এরপরও যেন গ্যাংস্টার বসের হিংস্রতা কমে নি। ছুঁড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকে পুরো শরীরে। মাংসের টুকরো ছিঁড়ে পড়ছে দুরে কোথায়। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। নিক ঠোঁট দিয়ে সামান্য শব্দ করে। সাথে সাথে হান্টার আর শ্যাডো ম্যাসিমোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। খুবলে -আছড়ে খেতে থাকে শরীর থেকে খুলে কাচা মাংস। নিক তৃপ্তির হাসি দিয়ে বলে,
” কলিজাটা আমার জন্য রেখে দিস।
দুইটা দিন কেটে যায়।
এনি শুধু অনুভব করছে কেউ একজন তাকে কোলে তুলে নিয়েছে। কিন্তু চোখ খুলার সাহস পাচ্ছে না সে। এই স্পর্শগুলো এখন ভয় করে। অজানা ভয়ে বাঁধা ফেলেছে তার বুকে। মনে হচ্ছে এই বুঝি কেউ তার উপর আক্রমন করতে চলে এসেছে। কেউ তার দিকে বাজে নজরে তাকিয়েছে। বুকটা টিপটিপ করে কেঁপে উঠে। শরীর শিরশির করতে থাকে। ঠান্ডা স্পর্শ শরীরে লাগতেই শিউরে উঠে। এই বাতাস সে সহজে পায় না। ভাগ্য যেদিন ভালো থাকে সেদিন কোনো এক গভীর রজণীতে বাতাসটা শরীরে লাগাতে পারে।আর না হলে তো চার দেয়ালের ভেতরে বন্ধীত্বের জীবন কেটে যায়। অনেক কষ্টে চোখ খুলে সে। বাতাসের সাথে খুব পরিচিত এক মাদকতা মিশ্রিত গন্ধ নাকে আসে। যে গন্ধে এনি ঘায়েল হয়ে যায়। ইচ্ছে করে সারাক্ষণ এই মিষ্টি গন্ধ টুকু শুষে নিতে। ঘুম ঘুম চোখে এনি মুখ গুঁজে দেয় কারোর শক্তপোক্ত বক্ষে। ভুলে যায় নিজের অবস্থান। ব্যক্তিটা কে! নিজের গালে কারোর সামান্য স্পর্শ পায়। যখন সেই স্পর্শ কামড়ে পরিনত হয় তখন ধরফরিয়ে উঠে। কাচা ঘুম ছুটে যায় তার। ছটফট করতে গিয়ে সেলাইয়ে সামান্য টান অনুভব হয়েছে তবে সেটা সহ্য করে নেওয়ার মত। আবছা আলোতে তাকায় লোকটার দিকে। ফর্সা মুখ খানায় ধূসর চোখ দুইটা ঝলঝল করছে। ঠোঁটের নিচে একটা তিল। শুষে নিতে ইচ্ছে করে পুরোটা তিলকে। কিন্তু সেই ক্ষমতা এনির নেই। মানুষটা তার নয়। লোকটা এত সুন্দর কিভাবে হয়েছে? সুন্দর্য তো নারীর প্রাপ্য। পুরুষ মানুষ এত সুন্দর হবে কিসের জন্য? ইতিহাস তো নারীর সৌন্দর্যে রচিত হয়। পুরুষদের জন্য নয়। কিন্তু নিশ্বন্দেহে এই পুরুষটা সুদর্শন। সুন্দর, চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মত। যার হাসিটা প্রেমে পড়ার মত। কিন্তু এই প্রেমে বারণ। এই প্রেম ধ্বংসাত্বক আর রক্তাক্ত। বাহ্যিক এত সুন্দর হয়ে কি লাভ হলো অভ্যন্তরীন পুরোটায় কালো চাঁদরে ঢেকে গিয়েছে।উপরে যতটা সুন্দর ভেতরটা তার থেকেও বেশি কুৎসিত। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” আপনার স্পর্শ মানেই কি কামড়? সাধারন ভাবে স্পর্শ করতে জানেন না?
নিক এনির নাকে নাক ঘেষে কানে ফিসফিস করে,
” লাভ মানেই পেইন বেইবি। শুধু কামড় নয় ইচ্ছে তো করে খেয়ে ফেলে।
এনি বিরবির করে উঠে,
” আস্তাগফিরুল্লাহ। অশ্লীল!
নিক শুনলো। এনির গলায় মুখ গুঁজে দেয়। এনি জানত এমন কিছুই ঘটবে। দুই দিন ধরে এখানে এনে বসিয়ে রাখে। কোনো কারন ছাড়ায় তাকে জ্বালাতন করে। কিছু করতেও পারে না সে। একটু নড়াচড়া করলে সেলাইয়ে ব্যাথা পাওয়া যায়। মনে হয় জীবনটা বুঝি বেরিয়ে আসবে। এনি দুর্বল গলায় বলে,
” ছাড়ুন আমাকে। কি অসভ্যতামি করছেন। দোলনা থেকে পড়ে যাব আমি।
নিক ডিপ গলায় বলে,
” কোলে বসে আছো তুমি বেবিগার্ল। তিল পরিমান আঘাত ও তোমার লাগবে না যতক্ষণ আমি সান্নিধ্যে থাকব।
এনি হাঁশ-ফাঁশ করে উঠে। ছুটার জন্য মরিয়া হয়ে বলে,
” সব থেকে বেশি ব্যাথা আপনার থেকেই পায়। যায় হোক, এখন অন্তত ছাড়ুন।
নিক এনিকে নিজের উড়ুর উপর ভালোভাবে বসিয়ে দেয়। হালকা ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” স্বামী আলিঙ্গন করলে কাছে আসতে হয় মাই ফা*কিং রোজ। নাহলে ফেরেশতারা অভিশাপ দেয়।
এনি চোখ ছোট ছোট করে ফেললো। এই যেন ভুতের মুখে কোরআনের বাণী। দাঁত পিষে বলে,
” জানোয়ারের মুখে ধর্মের জ্ঞান। যখন হিংস্রতা দেখান তখন মনে থাকে না।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এনির গলায় আঙ্গুল ছুঁয়ে দিতে দিতে বলে,
” মাই ফা*কিং রোজ। আমি হিংস্র আর উন্মাদ হয়ে উঠি দুইটা সময়। এক, যখন কাউকে খুন করি। আর দ্বিতীয় যখন তোমার সান্নিধ্যে আসি। যখন গভীরভাবে স্পর্শ করি।
নিক থামে। এনি শক্তভাবে নিকের শার্ট খামছে ধরে রেখেছে। নিক সেদিকে তাকিয়ে বাঁকে হেসে আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট ছুঁয়ে ভলে,
” খুন করলে, হাত রাঙ্গালে অন্তত হুশ থাকে। কিন্তু তোমাকে পাশে থাকলে তো নিজেকেই ভুলে যায়। তখন তোমার ব্যাথা, যন্ত্রনা কিভাবে দেখব। যতটা আগলে রাখার আমি ততটুকু রাখি। আমার ভালোবাসা মানেই পেইন। এতদিনে তো সহ্য হয়ে যাওয়ার কথা। একবার তো শুধু পাও নি। বহুবার পেয়েছো।
এনি ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” হাতটাকে সাবধানে রাখুন। মুখের সাথে হাতও লুচ্চা। প্লিজ আজকে না….
নিকের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যায় সাথে সাথে।কোথাও যেন একটা আঘাত লাগলো গ্যাংস্টার বসের। আচমকায় এনির দুই বাহু খুবলে ধরে। হঠাৎ নিকের পরিবর্তন দেখে আৎকে উঠে। এই মাত্রই তো একদম ঠান্ডা ছিলো। হঠাৎ কি হয়ে গেলো। নিক সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে দাঁত পিষে বলে,
” আজকে না মানে? হুয়াট ডু ইউ মিন? তোমাকে আমি কাছে টানতে চাইছি, এইটাই বুঝাতে চাচ্ছো?
এনি বাক্যহারা হয়ে পড়ে। কি উত্তর দিবে সে? ও তো এইটাই ভেবেছিলো। নিকের পাগলামো দেখে তো সে এটাই ভেবেছিলো। এনিকে চুপ থাকতে দেখে নিক গর্জন করে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা, আনসার মি। ইফ ইউ স্টে সাইলেন্ট, আই’ল স্ল্যাপ ইউ।”
এনি একমুহূর্তের জন্য নিশ্বাস আটকে রাখে। একটু ভালোভাবে কথা বলছিলো সেটাও শেষ। কি দিয়ে সৃষ্টি করেছে এই জল্লাদকে খোদা জানেন। ভালোভাবে কথা বলাটা যেন এলার্জি। এনির শরীর কাঁপছে রিতীমত। কাঁপা গলায় বলে,
” আ… আমি ভেবেছিলাম হয়ত কাছে আসতে চাইছেন। বাট আমি …..
নিক শান্ত চোখে তাকায় এনির দিকে। এনির কথা থেমে যায়। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে কিছুক্ষন নিজের মাথা ঘেষে আঙ্গুল দিয়ে। ঘন নিশ্বাস ফেলে বলে,
” আমাকে তোমার কি মনে হয়? জোর করেছি আই অ্যাডমিট দ্যাট বিকজ দ্যাটস হোয়াই ইউ ডিডন’ট ওয়ান্ট টু কাম ক্লোজার। বাট তোমাকে ডিডন’ট গিভ মি টাইম? পিরিয়ড চলাকালীন কোনোদিন জোর করেছি? কাছে এসেছি? আন্সার মি!
নিকের ধমকে এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে। ছোট করে উত্তর দিয়ে বলে,
” নাহ।
” তাহলে কেনো ভয় পাচ্ছিলে আমি কাছে আসব?
” আজ তো আমার মান্থলি প্রবলেম নেই। আসতেও পারেন। আপনাকে বুঝব কিভাবে?
” কখনো বুঝতে চেয়েছো?
” আপনাকে বুঝার মত ক্ষমতা আমার আছে? আপনি উন্মাদ, আপনি নিজেই বলেন, হারিয়ে ফেলেন নিজেকে আমার কাছে আসলে। আমি কিভাবে অনুভব করব আপনার মর্জি?
নিক এনির গাল দুইটা ধরে বলে,
” আমি জানোয়ার ঠিক আছে। কিন্তু সত্যি সত্যি জানোয়ার রুপী পশু ভেবে নিয়েছো নাকি? তোমার সেলাইয়ের কথা ভুলে যায় নি আমি। সুস্থ থাকলে যেখানে জ্ঞান হারিয়ে ফেলো। সেখানে এই ক্ষত -বিক্ষত অবস্থায় আমি কাছে আসলে টিকবে মনে করেছো? সব স্পর্শ মানেই কামনার স্পর্শ নয়। কিছু স্পর্শ বুঝে নিতে হয়।
নিকের এই শব্দগুলোর মধ্যে কি আছে এনির জানা নেই। তবে এতক্ষণে একটা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। কিছু একটা বলার জন্য মনটা উঁকি দিতে থাকে। এইটাই পর্যাপ্ত সময় বলার। এনি লম্বা করে শ্বাস টেনে বলে,
” আপনি তো বলেছেন রুমে বসে যা চাই তা এনে দিবেন।
নিক চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। এনি সেদিকে তাকাতে গিয়েও তাকালো না। কিছুটা মন খারাপ করে বলে,
” পুরো রুমে একা এক থাকতে অসহ্য লাগছে এখন। দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমাকে একট স্মার্টফোন দিলে কি ক্ষতি হয়?
কথাটা বলে এনি সাথে সাথে নিকের দিকে তাকায়। নিকের শক্ত মুখ দেখে ঠোঁট উল্টে বলে,
” বর্তমানে কঠিন কথা সহ্য করতে পারব না। বন্ধীত্ব জীবন নরকবাস মনে হচ্ছে। একটা ফোন দিলে তো সম্পদ কমে যাবে না।
এনির ঠোঁট উল্টানো দেখে নিক চোখ বন্ধ করে ফেলে। এমনভাবে রিয়্যাকশন করলে কিভাবে কন্ট্রোলে থাকবে সে।
” সারাজীবন বসে খেলেও আমার সম্পদের তিল পরিমান কমানোর সামর্থ নেই তোমার বেবিগার্ল। ফোন চাওয়াটা একটু বেশি সাহস দেখিয়ে ফেলেছো না?
এনি হালকা হেসে বলে,
” সাহস তো আমি প্রথম থেকেই দেখাচ্ছি। আজ একটু বেশি অতিক্রম করলাম। জীবনের প্রথম কিছু একটা চেয়েছি। আশা করি দিবেন।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে। প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে এনির হাতে দেয়। এনি অবাক হয়ে বলে,
” এইটা তো আপনার ফোন!
” আজ থেকে তোমার।
” আমি আপনার ফোন নিব না।
” ফোন নিলে তোমাকে এইটাই নিতে হবে। এই ফোনের সাথে আমার সব কিছু কানেক্ট করা। তোমার কি মনে হয় নতুন মোবাইল দিব যাতে পালিয়ে যাওয়ার নকশা তৈরি করতে পারো।
” ভয় পাচ্ছেন?
নিক কিঞ্চিত হেসে বলে,
” গ্যাংস্টার বস কিছুতে ভয় পায় না।
” অথচ আমাকে ভয় পান। আমি পালিয়ে যাব সেই ভয়।
নিকের হাত চলে আসে এনির পেটে। উন্মুক্ত পেটে আঙ্গুল ছুঁইয়ে বলে,
” তোমাকে নিস্তেজ করে ফেলা আমার দুই সেকেন্ডের কাজ।ভয় পাব ভাবলে কোন যুক্তিতে?
এনি নিকের হাতটাকে শক্ত করে ধরে। নিক তাকায় এনির দিকে। এনি চোখে চোখ রেখে বলে,
“আর আপনাকে ঘায়েল করা আমার ন্যানো সেকেন্ডের কাজ।
নিক ভ্রুঁ কুচকালো। এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে হেসে ইশারা করে। নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” তোমার এই সম্পদ। তোমার জন্যই তৈরি করা হয়েছে এইটাকে। যা কিছু করতে পারো। শুধু নষ্ট না করলেই হবে। নাহলে পরে…..
আচমকা এনি নিকের মুখ চেপে ধরে। চোখ বন্ধ করে বলে,
” চুপ থাকুন। নির্লজ্জ! আমাকে রুমে নিয়ে চলুন। পেট ব্যাথা করছে।
এনি বলার সাথে সাথে নিক একই ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ায়। বড় বড় পা ফেলে বারান্দা থেকে রুমে চলে যায়। এনিকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে কাবার্ডের কাছে যায়। এনি মোবাইল হাতে নিয়ে নিকের উদ্দেশ্যে বলে,
” দুইটা ছবি তুলে দিন সুন্দরভাবে।
নিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। কপাল কুচকে বলে,
” কেনো?
এনি হেসে বলে,
” ফেইসবুক খুলব। প্রোফাইল পিকচার প্রয়োজন।
” তো?
খুশিতে আত্নহারা এনি ভুলে যায় কার সামনে কথা বলছে। সে ফোন স্ক্রল করতে করতে বলে,
” তো মানে? প্রোফাইলে ছবি দিব তাই ছবি তুলতে হবে। আমার তো ছবি নেই।
এনি কথাটা বলে সামনে তাকায়। দেখে নিকের হাতে চাবুক। নিক চাবুকটা হাতে পেঁচাতে পেঁচাতে এনির দিকে এগিয়ে আসে আর বলে,
” কি করতে হবে আবার উচ্চারন কর। কোথায় ছবি দিবি সেটাও বল।
নিকের মুখ দেখে এনি শুকনো ঢোক গিলে। ভয়ে ভয়ে বলে,
” ফেইসবুকের প্রোফাইলে তো নিজের ছবি দেয়। সেজন্য বলেছি আমি।
নিকের গভীর আওয়াজ,
” প্রোফাইলে ছবি দিয়ে কাকে দেখাবি? আমার জিনিস কাকে দেখানোর ধান্দা করছিস? আর সাহস কিভাবে করলি ফেইসবুকে ছবি দেওয়ার? পুরুষ মানুষ নজর দিবে বলে, রুম থেকে কোনোদিন বের হতে দেয় না। ইচ্ছে করে কোথাও লুকিয়ে রাখতে। আর তুই শালী বাহিরে ছবি প্রচার করতে চাইছিস। কি শুনার জন্য? পর পুরুষ হাই -হ্যালো, বিউটিফুল, সেক্সি, এক রাত যদি টেস্ট করতে পারতাম, উফফফ সেই বডি, এইসব শুনার জন্য?
” কি বলছেন এইসব?
নিক চাবুকটা এনির গলায় পেঁচিয়ে ধরে বলে,
” এই মুখটার দিকে কুনজর দিয়েছে বলে শত জনের রক্ত দিয়ে আমি গোসল করেছি। কলিজা টেনে কুকুরকে খাইয়েছি। নিজের শরীরের কাচা মাংস নিজেকে খেতে বাধ্য করেছি। ভাবলে কিভাবে এই মুখের ছবি বাহিরে প্রচার করতে দিব। ওদের খবর তো পরে করব। এই চাবুকটা দেখতে পাচ্ছো? প্রথমেএই চাবুক দিয়ে মেরে শরীরের চামড়া আলাদা করব তোমার। ফর দ্য ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট টাইম, আই’ম গিভিং আ ওয়ার্নিং।
এনি শ্বাস টেনে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২ (২)
” প্রচুর উন্মাদ আপনি গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান।
নিক এনির গলা থেকে চাবুকটা খুলে ফেলে। চিবুক ধরে এনির মুখটা উপরে তুলে। চোখে চোখ রেখে তীক্ষ্ণ গলায় বলে,
” এই চোখ আমাকে উন্মাদ করেছে। এই হাসি আমাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অথচ ধ্বংসের সাগরে ডুব দিয়ে আমি তাকেই চাচ্ছি বার বার।
তোমার আগমন আমার তাগদীরের সুন্দরতম অধ্যায়।
