Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৪
লিজা মনি

নাজলী মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। মুখে তার ওড়না চেপে ধরা। সামনে চেয়ারে নাভিদ বসে আছে। নাভিদকে দেখে সে আশ্চর্য হয়ে যায়। কি অবস্থা হয়ে গিয়েছে এই কয়েকদিনে। চোখের নিচে কালি পড়ে গিয়েছে। দাড়ি গুলো তুলনামুলকভাবে বড় হয়ে গিয়েছে। চুলগুলো ঘাড় ছাড়িয়ে এলোমেলো হয়ে আছে। এই নাভিদকে নাজলী চিনে না। সব সময় পরিপাটি থাকা পুরুষটার এই কেমন দশা! নাজলী আশ্চর্য হয়ে বলে,
” নাভিদ, কি অবস্থা হয়েছে তোমার? কি হাল করেছো নিজের?
নাভিদ তুচ্ছ হেসে বলে,
” অতিরিক্ত বাজে দেখতে হয়ে গেছি?
নাজলী মাথা নাড়িয়ে বলে,
” প্রচুর অগুছালো হয়ে পড়েছো? চুল কাটো নি কতদিন?
নাভিদ সামান্য হেসে বলে,
” নিজেকে পরিপাটি রেখে লাভ কি? এই সৌন্দর্য কাকে দেখাব আমি? যাকে দেখাব ভেবেছিলাম সে তো নেই।
নাজলী শূন্য দৃষ্টিতে তাকায়,

” তাই বলে নিজেকে এইভাবে ধ্বংস করে দিবে?
” মস্তিষ্ক যখন বেইমানী করে তখন সে এমনিতেও ধ্বংস হয়ে যায় নাজলী। আমার মস্তিষ্কে এনি নামক পোকার বসবাস। হৃদয়ে এনি নামক রানীর সিংহাসন।
সিংহাসনটা খালি পড়ে আছে। মাথায় পোকাগুলো কিলবিল করছে প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে। সুস্থ আর স্বাভাবিক থাকি কিভাবে বলো?
নাজলীর চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে অঝোরে,
” নিকের কাছ থেকে এনিকে নিয়ে আসা সম্ভব নয় নাভিদ?
নাভিদ চোখ তুলে তাকায়। মৌনতা নিয়ে বলে,
” অতীতের দুর্বলতা না থাকলে আমি নাভিদ মৃত্যুর শেষ অব্দি লড়াই করে যেতাম নাজলী। কিন্তু আমার অতীত এতটাই ভয়ানক যেটা সহ্য করার ক্ষমতা তোমাদের কারোর নেই। তীব্র ধ্বংসাত্নক আমার অতীত নাজলী। ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠলে আমার অতীতের প্রতিটা পৃষ্ঠা পুনরায় ঝলমল করে উঠবে।
নাভিদ থেমে যায়। চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিয়ে বলে,

” আমি তাকে ভালোবাসব আজীবন। আমৃত্যু ভালোবেসে যাব। তাকে কাছে না পেয়ে বাঁচতে পারব কিন্ত তার ঘৃনা নিয়ে বাচার ক্ষমতা এই নাভিদের নেই।
নাজলী চোখের পানি মুছে বলে,
” তোমার অতীত কি নাভিদ? কেমন অতীত?
নাভিদ হেসে বলে,
” অন্ধকার। এতটাই অন্ধকার যেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসে না কেউ।
” আমি কি জানতে পারি?
” মনে করতে চাই না। পিছনে ফেলে পায়ের নিচে পিষে দিয়েছি। শুনলে সহ্য করতে পারবে না।
” কি এমন অতীত যা সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই।
নাভিদ চেয়ার থেকে উঠে বলে,
” বিষাক্ত সূচের আঘাত কেউ এই সহ্য করতে পারে না। আমার অতীত বিষাক্ত সূচের থেকেও ধারালো আর বিষধর। যা গ্রহন করার ক্ষমতা দুনিয়ার কারোর নেই।
নাজলী হতভাগ হয়ে তাকায় নাভিদের দিকে। তার বুঝে আসছে না কি এমন অতীত ছিলো। কপাল কুচকে বলে,
” তুমি কি আগে কোনো মাফিয়া দলের সদস্য ছিলে?
নাভিদ হেসে বলে,

” মাফিয়া তো সামান্য নাজলী। আমি যা ছিলাম সেগুলো তোমাদের ধরা -ছোঁয়া কল্পনার বাহিরে।
নাজলী ঠোঁট চেপে ধরে নিশ্বাস টানে,
” তুমি আমার ফ্রেন্ড নাভিদ। যদি কখনো বলার প্রয়োজন মনে করো তাহলে বলো। আমি জোর করব না। তবে সবার এই একটা অতীত থাকে। কারোরটা কম আবার কারোরটা তীব্র বিষাক্ত। কিন্তু বর্তমানটা অনেক সুন্দর তোমার নাভিদ। তুমি অতীতে কে ছিলে এইটা গুরুত্বপূর্ন নয়। তুমি বর্তমানে কেমন এইটাই গুরুত্বপূর্ন।
” এই অতীত এইতো আজ আমার সব থেকে বড় দুর্বলতা হয়ে দাড়িয়েছে নাজলী। যতটা পিছনে ফেলতে চেয়েছি ততটাই নিকটে চলে এসেছে। সামান্য অতীতের জন্য ভালোবাসার যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি।
নাজলী ভাঙ্গা গলায় বলে,

” এনি কি কখনো ভালোবাসত তোমাকে নাভিদ?
” তুমি নিজেই তো জানো।
” হ্যা জানি। এনি তোমাকে সব থেকে বেশি ভরসা করত, পছন্দ করত। আমি সেই পছন্দের কথা বলি নি।
নাভি ভ্রুঁ ভাঁজ করে বলে,
” ভালোবাসার সময়টা পেলো কোথায়? তার আগেই তো আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
” তুমি নিককে পূর্ব থেকে চিনতে নাভিদ? কি সম্পর্ক তোমাদের?
নাভিদ পুনরায় চেয়ারে বসে,
” কোনো সম্পর্ক নেই।
” তাহলে আরিশ কিভাবে চিনে তোমাকে?
নাভিদ চট করে তাকায়। নাজলীর কপাল কুচকানো। নাভিদ কথা এড়িয়ে বলে,
” এতদিন কার কাছে ছিলে?
” আমি প্রশ্ন করেছি একটা।
” সেসবের উত্তর পরে দিব। আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
নাজলী মৌন গলায় বলে,
” আরিশের।
নাভিদের কপালে ভাঁজ পরে। অধৈর্য গলায় বলে,

” ধীরে ধীরে সব খুলে বলো।
” এখন জানতে চাও?
” হুম। এখন বলো।
নাজলী বিশ মিনিট ব্যয় করে সব কাহিনী খুলে বলে। নাভিদ অবাক হয়ে বলে,
” ডিভোর্স না দিয়ে চলে আসলে কেনো?
নাজলীর বুকটা ছেৎ করে উঠে। শক্ত গলায় বলে,
” ডিভোর্স একটা স্বাক্ষর মাত্র। ছিড়ে ফেলে দিলে শেষ। স্বাক্ষর করলেই কি আর না করলেই কি। খুব শিঘ্রই আমরা ইরান ব্যাক করব।
— ইরান চলে যাবে? আর এনি?
নাজলী হেসে বলে,
” তোমার কি মনে হয়? আমি আমার বোনকে একা রেখে চলে যাব? কাল যাব নিক জেভরানের কাছে।
নাভিদ নিশ্বাস টেনে বলে,
” লাভ নেই নাজলী।।গিয়ে শুধু শুধু বিপদ ডেকে আনবে। তোমার উপর শত্রুদের চোখ পড়েছে।
” হাত গুটিয়ে বসে থাকব? কত দিন হলো আমি আমার বোনটাকে দেখি না। একটা নজর শুধু দেখতে চাই। কেমন আছে সে। প্রয়োজনে নিক জেভরানের পায়ে পড়ব। একটা নজর শুধু দেখতে চাই।
নাভিদ কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। নাজলীর ঠোঁটের উপর থেকে উড়নাটা সামান্য সরে গিয়েছে। নাভিদ কপাল কুচকে বলে,
” ঠোঁটে আঘাত পেয়েছো কিভাবে?
নাভিদের প্রশ্নের সাথে সাথে নাজলী থমথমে খেয়ে যায়। হাত ফঁসকে উড়নাট পড়ে যায়। দৃশ্যমান হয়ে উঠে দন্তের দাগ। কেউ সম্পূর্ন রাগ নিয়ে কামড়েছে দেখেই বুঝা যাচ্ছে। নাজলী প্রায় কান্না করে দিবে এমন অবস্থা। দ্রুত মুখ ঢেকে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে।
নাভিদ সামান্য হেসে বলে,

” বাহহ, স্বামীর সিলমোহর নিয়ে ঘুরছো।
নাজলীর কেনো জানি স্বামী শব্দটা সহ্য হলো না। সেদিন রাতের দৃশ্যগুলো এখনও তাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে এই বুঝি মেয়েটার কান্না তার কানে বাজছে। কি পৈশাচিক দেখাচ্ছিলো সব গুলো পিশাচের মুখ। নাজলী রাগ দেখিয়ে বলে,
” স্বামী শব্দ উচ্চারন করে সম্পর্কটাকে অপমান করো না নাভিদ। এইটা খুব পবিত্র একটা সম্পর্ক।
নাভিদ বক্র হাসলো। নাজলী শান্ত গলায় বলে,
” নাভিদ।
” বলো।
” একটা কথা বলি?
” বলো।
” রেগে যাবে না তো?
” বলতো পারো।
” একটা বিয়ে করে জীবনটাকে সাজিয়ে নাও। এইভাবে চলতে থাকলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। মেয়ে আমার পছন্দ করা আছে। যদি তুমি অনু…..
নাজলী আর কিছু বলতে পারে নি। নাভিদের চোখ দেখে থেমে যায়। নাভিদের চোখ-মুখ কেমন হিংস্র হয়ে উঠে। নাভিদ নাজলীর দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বলে,

” সেকেন্ডবার এই রকম বাক্য ভুলেও উচ্চারন করো না নাজলী। সব কিছু এতটা সহজ নয়। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না এনির প্রতি আমার ভালোবাসাটা কোন পর্যায়ে। এই মেয়ের জন্য এক জীবন থেকে অন্য জীবনে চলে এসেছি। যা প্রতিটা মানুষের কাছে সপ্নের মত। আমি যে জীবনে ছিলাম সেই জীবনের কেউ সুস্থভাবে বাঁচে না নাজলী। কখনো সেই জীবন ত্যাগ করতে পারে না। কিন্তু আমি এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। আমার ভালোবাসা বুঝার ক্ষমতা পৃথিবীর কারোর নেই। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত হৃদয়ের সিংহাসনে এনির জায়গায় কেউ বসতে পারবে না। এড়া অসম্ভব কাজ। সেকেন্ড টাইম এমন কথা বলো না। মাথা ঠিক থাকে না আমার।
কথাগুলো বলে নাভিদ রুম থেকে বের হয়ে যায়। নাজলী মাথায় হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে।

দুইটা সুন্দরী মেয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছে। সামনেই জেড সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছে। এক হাত নেই। অন্য হাত দিয়ে চুল্লির আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জ্বলন্ত আগুনের উপরে মাঝারি সাইজের কড়াই বসিয়ে দেয়। কড়াই এর মধ্যে তেল ছেড়ে দেয়। আগুনের তাপে তেল উত্তপ্ত হয়ে ফুটতে থাকে। জেড পৈশাচিকভাবে হেসে মেয়েগুলোর দিকে তাকায়। মেয়েগুলো আধমরা হয়ে পড়ে আছে। তাদের চোখে আতঙ্ক। পালিয়ে যাওয়ার তীব্র বাসনা। গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করতে থাকে তারা। জেডের কন্ঠ ও মুখ একদম শান্ত। একজন সাইল্যান্ট সাইকোপ্যাথের মত নিরবে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। এক হাতের সাহায্যে টেনে -হিচড়ে একটা মেয়েকে স্টিলের উপর শুইয়ে দেয়। মেয়েটা ছটফট করা শুরু করে ছুঁটার জন্য। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকে। জেড যেন পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে। মেয়েটা দুর্বল শরীর নিয়ে জীবন বাঁচাতে স্টিল থেকে উঠে পড়ে। জেডের মাথায় আগুন ধরে যায়। মেয়েটাকে জানোয়ারের মত স্টিলের সাথে চেপে ধরে। চোখ দিয়ে যেন চিবিয়ে খাবে। মেয়েটার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। আর্তনাদ করে উঠে,

” ছ… ছেড়ে দাও আমাকে। আমি তোমার বোনের মত। আমাকে মুক্তি দাও।
জেড কেমন কুটিল হাসলো। মেয়েটার দিকে কামনার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। কুকুরের মত জিহ্বা বের করে মেয়েটার পুরো শরীরের গন্ধ নিতে থাকে। মেয়েটা একের পর এক মিনতি করতে থাকে। জেড এক হাত দিয়ে স্ট্যান থেকে জিপ টাই টেনে নামায়। লোহার শিকল দিয়ে বেধে ফেলে মেয়েটার হাত-পা। মুখের মধ্যে কস্টিপ লাগিয়ে দেয়। শেষ মেয়েটার আর্তনাদ থেমে যায়। চোখ দুইটা দিয়ে যেন কষ্টের রক্ত বইছে। জেড খুবলে ধরে মেয়েটার কাপড়। এক টানে ছিঁড়ে ফেলে উপরের জামাটা। মেয়েটা লজ্জায় নীরবে চিৎকার দিয়ে উঠে। জেড কুকুরের মত জিহ্বা বের করে মেয়েটার নাভি থেকে গলা পর্যন্ত ***। মাটিতে লুটিয়ে থাকা মেয়েটা সহ্য করতে না পেরে মুখ চেপে নীরবে কাঁদতে থাকে। জেড ভালোভাবে আরও শক্ত করে শিকল বেঁধে ফেলে। মনে হচ্ছে মাংস ভেদ করে শিকল ডুকা যাচ্ছে। জেডের এক একটা থাবায় মনে হচ্ছে জীবন বের হয়ে আসছে। বুকের মাংস দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। রক্তে ভেসে যেতে থাকে স্টিল। জেডের মুখে লেগে আছে এক নারীর তাজা রক্ত। মেয়েটা নীরবে কাঁদতে থাকে। চিৎকার করছে গলা ফাটিয়ে। কিন্তু সেই চিৎকারের কোনো শব্দ নেই। এক নরখাদক তার শরীরের কাচা মাংস চিবিয়ে খাচ্ছে। তার সম্মান ছিনিয়ে নিচ্ছে। অথচ সে নিরুপায়। কিছু করার নেই। চোখ থেকে যেন পানি নয় রক্ত বের হচ্ছে। জেড মেয়েটার গলা থেকে নেমে প্যান্টের জিপে হাত রাখে। এক মুহূর্তের জন্য মেয়েটার শেষ বস্ত্রটুকু কেড়ে নেয়। নরপিশাচটার ঠোঁটে লেগে আছে পৈশাচিক হাসি। এক দৃষ্টিতে লালসার দৃষ্টি রাখে। সেকেন্ডের ব্যবধানে ঝাঁপিয়ে পড়ে অমানুষের মত। মেয়েটার চোখ উল্টে আসতে চাইছে। ছটফটের কারনে মনে হচ্ছে হাত পা গুলো শিকলের শক্ত বাঁধনে ভেঙ্গে যাবে। তীব্র যন্ত্রনায় রুহটা বেরিয়ে আসে। নিস্তেজ হয়ে পড়ে পুরো শরীর। চোখ দুইটা উল্টে এসেছে। জেড থেমে যায় নি। মৃত লাশের সাথেই নিজের পৈশাচিক আনন্দ মিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সে নিজেও হাঁপিয়ে উঠে। মেয়েটার গলার কাছে এসে মুখ থেকে এক টানে কস্টিপটা খুলে ফেলে।

একজন মেয়ে হয়ে কি আরেকটা মেয়ের রে** দেখা সম্ভব? কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ কি দেখতে পারবে, এমন পৈশাচিক নির্যাতন? মাটিয়ে লুটিয়ে পড়া মেয়েটা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে জানে তার সাথেও এমন হবে। যেমনটা ওর বান্ধুবীর সাথে হয়েছে। তাকেও এমন ইজ্জত হারিয়ে নির্মম মৃত্যুর স্বীকার হতে হবে।
জেড একটা ছুঁরি নিয়ে মেয়েটার গলায় বসিয়ে দেয়। এতটা শক্তি দিয়ে বসিয়েছে যে মাথাটা আলাদা হয়ে পড়েছে। কাটা মাথাটা আলাদা করে রাখে। দুইটা হাত কুপিয়ে কেটে ফেলে। রক্ত গিয়ে ছিটকে পড়ছে তার চোখে-মুখে। এতে যেন তার তৃপ্তি আসছে। তাজা রক্তের গন্ধে আরও উন্মাদ হয়ে উঠেছে। হাতের কিছু নরম মাংস পিছ পিছ করে কেটে বেসিনের কাছে নিয়ে যায়। বেসিন থেকে আবারও লাশটার কাছে ফিরে আসে। পেটের উপরে ছুঁড়ি ঘুরায়। উপর থেকে চামড়া খুলে ফেলে। চামড়ার নিচে যে মাংস খন্ড সেখান থেকে তুলে নেয় কিছু অংস। এইগুলো আবার ও বেসিনের কাছে যায়। মাংসগুলো ধুয়ে ফুটন্ত গরম তেলে ছেড়ে দেয়। আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফুটন্ত গরম তেল। টগবগ করে ফুটছে মাংসের টুকরো গুলো।
আগুনের লেলিহান শিখায় লাল হয়ে আছে পুরো রুম। এক পাশে পড়ে আছে আরও একজন বিশ বছরের মেয়ে। স্টিলের উপরে পড়ে আছে রক্তাক্ত, খন্ড -বিখন্ড হওয়া আরেকটা মেয়ের লাশ। যে কিছুক্ষণ আগে পৈশ্চিক মৃত্যুর স্বীকার হয়েছে। এখন তার শরীরের মাংস এক জানোয়ারের পেটে যাবে।

এনি প্রচুর কষ্টে ফেইসবুক একাউন্ট খুলতে সক্ষম হয়েছে। তার প্রথম টার্গেট নিজের আপা। নাজলীর একাউন্ট খুলাটা বর্তমানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এক ঘন্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না। এনি দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে নাভিদের একাউন্ট খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।।হুট করেই রমণীর হাত থেমে যায়। ভেসে উঠে একজন পুরুষের ভয়ানক রাগান্বিত চোখ। এনি শুকনো ঢোক গিলে। নাভিদের একাউন্ট খুঁজেছে এইটা জানতে গ্যাংস্টার বসের কোন আঘাতের সম্মুখীন সেটা এনির জানা নেই। এতে নাভিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এটাই এনির ধারনা। এনি খুঁজা থামিয়ে দেয়। কোনো ধ্বংসলীলা চাচ্ছে না সে এই মুহূর্তে। কিছুক্ষণ ঘুর ঘুর করে সোশ্যাল মিডিয়া। চেক করতে থাকে তাকে নিয়ে যেসব জঘন্য নিউজ তৈরা করা হয়েছিলো। সে একজন রক্ষিতা! গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের রক্ষিতা! এনি ছন্নছাড়া হয়ে খুঁজে যাচ্ছে।কিন্তু কোনো নিউজ এই সে দেখতে পাচ্ছে না। আকস্মিক এক নিউজ চোখের সামনে ভেসে উঠে। অষ্টদশী দিশেহারা হয়ে যায়। কাঁপতে থাকে তার পুরো শরীর। মনে হচ্ছে এই বুঝি বুকের ব্যাথায় চিৎকার করে উঠবে। নিউজের প্রতিটা শব্দ এনির কানে যেন বিষাক্ত সূচ ডুকিয়ে দিচ্ছে। এক বছর আগের কাহিনী আবারও যেন তাজা হয়ে উঠেছে। এনি কান্না আটকাতে না পেরে ফুঁপিয়ে উঠে। চোখ থেকে বিরতহীনভাবে পড়তে থাকে অজস্র জলকণা। কোনো রকম কাঁপা আঙ্গুল নিয়ে ফোনের স্ক্রিনে হাত ছুঁয়ায়। ভাঙ্গা গলায় উচ্চারন করে,

” এলিসা, জান আমার। আমার নিষ্পাপ ফুল। নিজের কষ্ট নিয়ে এতটাই ব্যাথিত ছিলাম যে এক মুহূর্তের ভুলতে বসেছিলাম জঘন্য অতীত। তুই ক্ষমা করে দে বোন আমার। ভুলি নি কিছুই। শুধু সময়ের অপেক্ষা করছি। নিজেকে মুক্ত করার উপাই খুঁজে চলছি। খুঁজে বের করব আমি সেই পিশাচকে। সেই ঘাড়ে কাটা দাগ যুক্ত জানোয়ারকে। আর খুঁজে এমন মৃত্যু দিব যে আত্না পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। তর প্রতিটা চিৎকার, আর্তনাদ, কষ্ট সব আমি চারগুণ করে ফিরিয়ে দিব। এক বছর পূর্বেও তকে বুকে জড়িয়ে প্রমিস করেছিলাম। আজ পুনরায় আবার করলাম। মৃত্যুর শেষ অব্দি পর্যন্ত এই পিশাচকে আমি খুঁজে যাব। তর বোন, তর বেস্ট ফ্রেন্ড তকে কথা দিচ্ছে।
এনির আর সাহস হলো না মোবাইলটা হাতে তুলার। বার বার চোখে ভাসছে কিছু বিষাক্ত অতীত। হাত – পা শরীর সব কাঁপছে তার। এনি চোখের পানি মুছে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই পারছে না নিয়ন্ত্রন করতে। এক পর্যায়ে না পেরে উঠে দাঁড়ায়। বিছানা থেকে সরে এসে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়। প্রতিবিম্বে নিজেকে দেখে নিশ্বাস নিয়ে বলে,

” আমার সাথেই কেনো এমন হয়? যাকে ভালোবাসি তাদের এই কেনো হারিয়ে ফেলি বার বার। কেনো সব থেকে আপনজন গুলো এইভাবে দুরে চলে যায়। এই বিশাল পৃথিবীতে আমি কিভাবে একা বাঁচব কেউ একবারের জন্যও চিন্তা করে না। এই বয়সটা কি আমার লড়াই করার জন্য ছিলো? আঠারো বছর বয়সে একটা মেয়ে যুবতী হয়ে উঠে। বাবার আহ্লাদ আর মায়ের ভালোবাসার ছায়াতলে হয় তাদের স্থান। আমি কেনো বঞ্চিত এইসব থেকে।যেখানে আমার ফুলের সুগন্ধ নেওয়া উচিত ছিলো সেখানে আমি বার বার তলোয়ার তুলে নিচ্ছি। আসলেই কি আমার হাতে তলোয়ার মানায়? আমি তো রক্তে ভয় পায়। তাহলে খুন করি কিভাবে? কি হয় আমার তখন? তখন কেনো রক্ত দেখলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি না।
থেমে যায় এনি। কান্না গলায় আটকে আসছে। নিজেকে স্বাভাবিক করে চোখ কঠিন করে তুলে,
” এই বিশাল পৃথিবীতে কোথায় খুঁজব আমি? কোথা থেকে খুঁজে বের করব সেই নরপশুকে? আর কিভাবে ওর জীবন আমি নরকে পরিনিত করব? কিভাবে আমি নিজের প্রতিশ্রুতি পুরন করব? এই বদ্ধ রুমে নিজের এই তো অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান। তাহলে…. তাহলে…

এনি আর কিছু বলতে পারলো না। শ্বাস ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। ঘন ঘন নিশ্বাস নিয়ে আবার ও আয়নার দিকে তাকায়। সোনালি লম্বা কেশগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। নীল মণি দুইটা ঝলঝল করছে। চোখের নিচে দবদবে ফর্সা ত্বকে সামান্য কালচে দাগ পড়ে যাচ্ছে। নিজেকেই নিজের কাছে পাগল মনে হচ্ছে। অথচ এমন তুচ্ছ সৌন্দর্যের কারনে নাকি সে নিলামে উঠতে হয়েছে। তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে এনি আয়না থেকে সরে আসে। সেদিন রাতে দুইজন ব্যাক্তির অবয়ব ভেসে উঠে। একজনের হাতের মধ্যে সেলাইয়ের চিহ্ন আছে। আচমকা তাকালে চোখে পড়ার মত নয়। আর যে মেইন কালপ্রিট ছিলো তাকে সে কোনোদিন ও ভুলবে না। তার অশুভ দুইটা চোখ এখনও তার মনে আছে। সেদিন এলিসা যদি মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট না করত তাহলে নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও দুই নরপশুর সাথে যুদ্ধ করে যেত। কিন্তু আফসোস সেদিন রাতেই সব কিছুর অবসান ঘটে।

এনি আর ভাবতে পারছে না। মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। তীব্র যন্ত্রনায় মনে হচ্ছে রগগুলো ছিঁড়ে যাবে। সেলাইয়ের জায়গাটা শুকিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। লাশটার সাথে পরবর্তীতে কি করেছে এনির জানা নেই। জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন বোধ করে নি। যেখানে সে নিজেই হত্যা করেছে সেখানে নতুন করা আর কি জিজ্ঞাসা করবে। তবুও মনটা খঁচখঁচ করছে। কি করা হয়েছে মৃত লাশটার সাথে। এনি পেটে ধরে পায়চারী করছে এদিক – সেদিক।হুট করেই কেনো জানি অস্থির লাগছে খুব। সামান্য হাটার কারনে ক্ষত জায়গাটা চিনচিন ব্যাথা করছে। এখন মনে হচ্ছে হাটা -চলা করাটাই ভুল হয়েছে। দরজা খুলার শব্দে চোখ বন্ধ করে ফেলে। গ্যাংস্টার বসের আগমনে চোখ তোলে তাকায়। নিক এসে ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দেয়। দরজা লাগানোর শব্দে কেঁপে উঠে এনি। এনি কোনো শব্দ করলো না। চুপ করে এক পাশে বসে যায়। নিক কাবার্ডের কাছে এগিয়ে যায়। গোপন ড্রয়ারটা খুলে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে। পকেট থেকে রিভলভার বের করে ড্রয়ারে রেখে দেয়। কাবার্ড লাগাতে যাবে এমন সময় বিরক্তিতে শব্দ করে উঠে। এনি সাথে সাথে চোখ তুলে তাকায়। মেঝের দিকে নজর যেতেই আৎকে উঠে।

তাজা রক্তের ফোটা মার্বেল মেঝেটায় চিকচিক করছে। এনি শুকনো ঢোক গিলে নিকের ডান হাতের দিকে তাকায়। সাদা কাপড় দিয়ে হাতটা বাঁধা। কাপড়ের উপর দিয়েই রক্ত ভেসে উঠছে। সম্পূর্ন সাদা কাপড়টা লাল হয়ে কেমন বিকৃত বুঝা যাচ্ছে। এনি আতঙ্কিত হয়ে নিকের দিকে তাকায়। লোকটার চোখে -মুখে বিরক্তি। এমন তাজা ক্ষত নিয়ে কিভাবে ঘুরঘুর করছে। আচ্ছা লোকটার কি একটুও অনুভব হয় না? এতটা হৃদয়হীন পাথর কিভাবে হয়? এনি তাকাচ্ছে বার বার ক্ষত চিহ্নটার দিকে। কেমন পেট গুলিয়ে আসছে তার। দৃষ্টি সরিয়ে অন্যদিকে তাকায়। নিক কিছু একটা খুঁজতে ব্যস্ত। কাবার্ড থেকে বিছানার বেড সাইট টেবিলের কাছে আসে। ড্রয়ার খুলে একটা কাগজ হাতে তুলে নিয়ে। সামনে এগিয়ে যাবে তার আগেই এক কোমল হাত তার শক্ত হাতটাকে আটকে দেয়। সামান্য স্পর্শে মনে হলো বিদ্যুতের ঝলকানি হয়েছে শরীর। স্পর্শ এতটা কোমল আর নেশালো কিভাবে হয়! নিক পিছন ঘুরে হাতটার দিকে এক পলক তাকিয়ে রমণীর দিকে তাকায়। নিকের তীক্ষ্ণ আর অবাক দৃষ্টি দেখে রমণী অপ্রস্তুত হয়ে যায়। তবুও সাহস সঞ্চয় করে আমতা আমতা করে বলে,

” আপনার হাত থেকে ব্লিডিং হচ্ছে। ড্রেসিং করে নিন।
এনি কথাটা বলে নিকের দিকে তাকায়। নিকের কন্ঠ থেকে কোনো আওয়াজ বের হয় না। কেমন অদ্ভুত নজরে তার দিকে তাকিয়ে আছে। নিকের এমন মৌনতা দেখে এনি বিরক্ত হয়। কন্ঠ সামান্য শক্ত করে বলে,
” ড্রেসিং করে নিন। ব্লিডিং হচ্ছে প্রচুর।
নিক হাত ছিটকে সরিয়ে দেয়। কাটকাট জবাবে বলে,
” এইসবের প্রয়োজন পড়ে না।
” আসলেই আপনি একটা জানোয়ার। হার্টছাড়া, অনুভুতিহীন প্রানী। তাজা রক্ত পড়ছে হাত থেকে। অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে সমস্যা হবে।
” মরব না।
নিকের গভীর অথচ শান্ত গলার স্বর। এনি কিছু সময়ের জন্য থমকে যায়। নিকের হাত পুনরায় ধরে বলে,
” শয়তানরা এত দ্রুত মরে না। বেঁচে থাকুন হাজার বছর। আপনারা মরে গেলে এত এত পাপ কাজ করবে কে বলোন তো?
কথাটা বলে এনি নিককে বিছানায় বসিয়ে দেয়। নিক ও কেমন বাধ্য স্বামীর মত বসে পড়ে। এনি হাত দিয়ে বেড সাইট থেকে ড্রেসিং সামগ্রী বের করে। সাদা কাপড়টা খুলে সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কাটা স্থান একদম ফাঁক হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে ছুঁড়ির আঘাত। নিকের দৃষ্টি এখনও এনির দিকে। ঈগল পাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তার। এনি নাক -মুখ কুচকে ফেলেছে। হাতের কাছে শুকনো কাপড় না পেয়ে নিজের গলায় ঝুলানো কাপড়টা দিয়ে রক্তগুলো মুছতে থাকে। কিছুক্ষণ আগেও অধিরাজ আর আরিশ এত জোর করলো ড্রেসিং করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু করার মত সৌভাগ্য তাদের হয় নি। গ্যাংস্টার বসের এত ধৈর্য নেই যে কাটা স্থান ড্রেসিং করবে। তাহলে এখন পারছে কিভাবে? এখন এত ধৈর্য কোথা থেকে আসলো? এনি সামান্য ফু দিয়ে হালকা মেডিসিন লাগায়। চোখে -মুখে ব্যাথা ফুটিয়ে বলে,

” সামান্য জ্বালা করবে। কিছুক্ষণের ভেতরে ঠিক হয়ে যাবে।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” তুমি কি ব্যাথা পাচ্ছো বেবিগার্ল? ইউ আর হার্টিং?
এনির হাত থেমে যায়। থমথমে মুখে নিকের দিকে তাকায়। নিকের ঠোঁটে বক্র হাসি। এনির শরীর জ্বলে উঠে এই হাসিতে। এনি চোখে চোখ রেখে শক্ত গলায় বলে,
” একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষের জন্য করুনা হচ্ছে। আঘাত প্রাপ্ত তো তাই মনুষ্যত্ব দেখাচ্ছি।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির দিকে ঝুঁকে পড়ে,
” যাকে এত ঘৃনা করো তার জন্য মনুষ্যত্ব দেখানোটাও ঠিক নয়। দিস লুকস রিয়েলি ব্যাড, মাই ফাকিং ব্লাড রোজ।
এনি চোখের পাতা ঝাঁপ্টে নিকের হাত ছেড়ে দিতে যাবে তার পূর্বেই গ্যাংস্টার বসের আদেশ,
” উইল নেভার লেট গো। পুরোটা কাজ করো।
এনি হাত ছাড়লো না গম্ভীর আদেশে। হাত ধরে রেখেই বলে,
” পারব না আর। নিজের কাজ নিজে করে নিন।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে হেসে বাম হাত দিয়ে এনির কোমড়টা চেপে ধরে।হঠাৎ স্পর্শে এনি হতভম্ভ হয়ে যায়। নিকের হাত চেপে ধরে বলে,

” হাত সরান।
নিক সরালো না। হেচকা টানে ছোট্ট দেহটাকে নিজের উড়ুর উপর বসিয়ে দেয়। এনি ঠোঁট ভেজায়। নিক এনির শরীরটা নিজের বুকের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নেয়। এরপর কানে ডিপ কন্ঠে বলে,
” স্ত্রীর কাজ স্বামীকে সুস্থ করে তোলা। নিজের কাজ করো জান।
এনির শরীর শিরশির করে উঠে। নিকের শরীরের মাতাল করা গন্ধে রমণী দিশেহারা হয়ে পড়ে। তার উপর আবার নিকের হাতের অবাধ্য বিচারন। এনি নাক -মুখ খিঁচে বলে,
” হাতটাকে সাবধানে রাখুন। সরান।
নিক রহস্যময়ভাবে হেসে এনির উন্মুক্ত পিঠে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে,
” তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো বেবিগার্ল? এভরিথিং বিটুইন আস হ্যাজ অলরেডি বিন সিন। হোয়াট ইজ দেয়ার টু বি শাই অ্যাবাউট নাউ?
এনি নিশ্বাস ফেলে রাগ দেখিয়ে বলে,
” পুরো জীবন অসামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছেন। এত অনৈতিক কথা শিখেছেন কোথা থেকে?
নিক এনির গালে আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে বলে,

” মেয়ে মানুষ যখন শরীরের সাথে মিশে থাকে তখন শুধু অনৈতিক কথা নয় আরও অনেক কিছুই চলে।
এনির ইচ্ছে করছিলো নিকের ঠোঁট দুইটা সেলাই করতে। কিন্তু সেই ক্ষমতা তো তার নেই। এনি নিকের হাতে মেডিসিন লাগিয়ে দিতে দিতে বলে,
” লাশটাকে কি করেছেন?
” নেই।
” কি করেছেন?
” খেয়ে ফেলেছে।
এনির হাত থেমে যায়। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” ম… মানে?
” আমার দুই সঙ্গী কাচা চিবিয়ে খেয়েছে। তারা তো আর রান্না করতে পারে না। তাই শরীর থেকেই ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে। এতে ওদের ও কষ্ট কম হবে। তুমি চাইলে দেখতো পারো, এখনও কিছু অবশিষ্ট আছে।
এনি আচমকা চিৎকার দিয়ে উঠে,
” নাহহহ। যাব না আমি। সহ্য করতে পারি না।
নিক ভ্রুঁ কুচকালো। চোয়াল শক্ত করে গভীর গলায় উচ্চারন করে,

” এই গল্পে যতটা শান্ত শিষ্ট হয়ে তুমি প্রবেশ করেছিলে ততটা শান্ত শিষ্ট তুমি নও প্রিয়তমা।
এনির শরীর থরথর করে কেঁপে উঠে,
” ম… মানে?
নিক বক্র হাসলো। এনির পেট চেপে ধরে ঘুরিয়ে বসায়। এনির মুখটা নিজের মুখের কাছাকাছি নিয়ে আসে। এনির দৃষ্টি নিকের ধূসর রাঙ্গা দৃষ্টির উপর। নিক এনির চোখে চোখ রেখে বলে,
” তুমি জানো, তুমি ঠিক কতটা ধ্বংসাত্বক। ধ্বংসের তালিকা নির্বাচন করলে সর্বপ্রথম আমি ধ্বংস হয়েছি। এখন ও হচ্ছি তিলে তিলে। আমি গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান যার ইশারায় পুরো সম্রাজ্য থমকে যায় সে থমকে যাচ্ছে একটা মেয়ের হাসিতে। গন্তব্য হারাচ্ছে এক তীক্ষ্ণ নীলচে মনিতে। একটা চুমু খাও ব্লাড রোজ।
এনি চমকায়। এতক্ষণ স্তব্দ হয়ে শুনছিলো সব। চুমুর কথা শুনতেই নাক -মুখ কুচকে ফেলে। এনির না ছিটকানো দেখে নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” গড প্রমিস আজ সামান্য ওয়াইন ছুঁয়েও দেখি নি। একটা সিগারেটও খায় নি। তবে সামান্য ড্রাগস নিয়েছি। ড্রাগসে তোমার চুমু খেতে সমস্যা হবে না।
এনি কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করে উঠে। নিক এনির ক্ষত জায়গায় চাপ দিয়ে ধরে। এনি ব্যাথায় গোঁঙ্গিয়ে উঠে। আওয়াজ করে বলে,

” লাগছে, ছাড়ুন।
নিক আরও শক্তভাবে খামছে দিয়ে বলে,
” আমি উঠতে বলেছি তোমাকে?
” প্লিজ ছাড়ুন। লাগছে।
” আমার প্রশ্নের উত্তর দাও আগে। আমি উঠতে বলেছি তোমাকে?
ইয়ানা তীব্র ব্যাথায় অস্ফুর্ত আওয়াযে বলে,
” নাহহ।
নিকের কন্ঠ আরও শক্ত হলো,
” তাহলে উঠতে চাইলে কেনো? আমি যখন বলি নি তখন উঠতে চাইছো কার পারমিশনে? আমার থেকে পালাতে চাইছো তুমি ব্লাড রোজ।
এনি ব্যাথায় ফুঁপিয়ে উঠে,

” একজন জঘন্য মানুষ আপনি। আমাকে এইভাবে আঘাত করেন আমার ব্যাথা লাগে না। মায়া জন্ম নিতে চাই কিন্তু সেটাও মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।
নিক এনিকে ছেড়ে দেয়। মাথা নুইয়ে ক্ষত জায়গায় অজস্র চুমু খায়। এনি হতভাগ হয়ে যায়। এই লোক কি আসলেই পাগল? মাথায় নিশ্চই কোনো সমস্যা আছে। নাহলে এতটা সাইকোপ্যাথ কিভাবে হয়?
নিক এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমাকে চুমু খাও রোজ, ফার্স্ট।
এনি খেলো না।।ঘাপটি মেরে মাথা নিচু করে বসে থাকে। নিক বাঁকা হাসলো। এনির চিবুকটা উপরে তুলে শান্ত গলায় বলে,
” তুমি যদি সেচ্ছায় আজ আমাকে চুমু খাও তবে গড প্রমিস কষ্ট অনুভব করবে না। আর যদি আমি এগিয়ে যায় তবে……
নিকের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি। এনি শুকনো ঢোক গিলে।।চোখে পানি টিপটিপ করছে। ঠোঁট কাপছে তার,
” আপনি……
নিক আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে। শান্ত গলায় বলে,
” তিন সেকেন্ড সময় তোমার কাছে।
“বলছিতো পা….

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৩

“দুই সেকেন্ড। সেচ্ছায় না আসলে এরপর তোমাকে আমি চিৎকার করাব।
এনি চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টানে। চোখ খুলে নিকের দিকে তাকায়। নিকের চোখে এক রহস্য। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে আলতোভাবে নিকের ঠোঁটে হালকা চুমু খায়। সরে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু আসতে পারে নি। নিক বাম হাত দিয়ে পিছন দিয়ে এনির মাথাটা চেপে ধরে। এনি নিকের বুকে খামছি কাটে। নিক স্মিত হাসে। ঠোঁট ছেঁড়ে কানের কাছে হিসহিসিয়ে বলে,
” খামছি দিয়ে লাভ নেই বেবিগার্ল। তোমার নখের আচর আমার পিঠে মুক্তার মত ঝলমল করছে। এইসবে নিক জেভরান প্রথম দিনেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৫