লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫২
লিজা মনি
দুপুরের সময়। তখন প্রায় দুইটার কাছাকাছি। এনি মাত্র শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়। ওয়াশরুমে বসে কতক্ষণ মন খুলে কেঁদেছে। ওইদিন এতগুলো চাবুক মারার পর নিকের পুরো শরীরে কালসিটে দাগ পড়ে যায়। ফর্সা শরীরে এই দাগগুলো বড্ড বেমানান। কিছু কিছু ক্ষত এখনও কাচা। হাতের ক্ষতটা অতিরিক্ত গভীর। মাংস খন্ড কেমন আলাদা হয়ে আছে। এনি একবার তাকিয়ে আর পরের বার তাকানোর সাহস করতে পারে নি। চাবুকের আঘাত গুলো করে একটুও অপরাধবোধ কাজ করছে না। বরং এই শাস্তিটাও খুব নগণ্য ছিলো। সেদিন চাইলে নিককে জেডের মত মেরে ফেলতে পারত। প্রথম যখন সে রক্ষিতা হিসেবে এই অন্ধকার মিনারে প্রবেশ করেছিলো তখন নিকের উপস্থিতি বিষাক্ত অনুভব করত। ইচ্ছে করত জানোয়ারটাকে মেরে খন্ড- বিখন্ড করে ফেলি। সেদিন তো সুবর্ণ সুযোগ ছিলো মারার। তাহলে হাত কেনো থেমে গেলো? সামান্য চাবুকের আঘাত দিয়ে কিভাবে হাঁপিয়ে উঠলে এনি? একজন গ্যাংস্টারের উপর দুর্বল হয়ে পড়া বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। তুমি হয়ত এক মুহূর্তের জন্য ভুলে গিয়েছো সে একজন গ্যাংস্টার আর তুমি খুব সাধারন একটা মেয়ে। তাদেরকে নিয়ে কখনো সংসার করার সপ্ন দেখা যায় না। ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছো তুমি। দুর্বল হওয়ার মত বোকামি করলে জীবনে বিনাশ নিশ্চিত।
এনি ভেজা চুল নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে গলার নিচে হাত রাখে। শরীরে প্রচুর দাগ ছিলো কিন্তু কিভাবে সব মুছে গেলো এনির জানা নেই। সব মুছে গেলেও ফর্সা ত্বকে এখনও দাগ দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এনি নিশ্বাস টেনে বলে,
” সেদিন নিলাম কেন্দ্র থেকে আমাকে বাঁচিয়েছেন। হাজারটা নোংরা স্পর্শ লাগার আগেই আপনার ছায়াতলে আমাকে স্থান দিয়েছেন। ভয়ানক কীটপতঙ্গের গর্ত থেকে তুলে এনে আমাকে জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দিয়েছেন। আমাকে বাঁচানোর ইচ্ছে থাকলে আমাকে কেনো সেই প্রথম থেকে নির্মমভাবে অত্যাচার করলেন? শারীরিক, মানসিক কোন কষ্টটা দেন নি আপনি আমাকে? জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন দিয়েও আমার ত্বককে ঝলসে দিয়েছেন। এইটা কেমন ছায়াতল? বার বার বলেন আমি আপনার স্ত্রী! মাঝে মাঝে এই শব্দটা শুনলে ভ্রম মনে হয় নিজের। কিছু মাস আগে আপনি আমাকে নিজের রক্ষিতা বলে ডাক দিতেন। বিশ্বাস করেন, তখন কষ্টে কলিজা ছিঁড়ে যেত আমার। নিজের জেদ থেকে বিয়ে করলেন। তাও আমাকে জ্বলন্ত কয়লার উপরে হাটতে বাধ্য করলেন। সেই পুড়ে যাওয়া দাগ এখনও পায়ে ঝলঝল করছে। বিয়ে করতে চাই নি আপনাকে। আমার নোংরা, নগ্ন ছবি দেশে ছড়িয়ে দিবেন বলে হুমকি দিলেন। অতীত ভুলব কিভাব মি, নিক জেভরান? বর্তমান আমার এতটাও সুন্দর নয় যে অতীত ভুলে যাব। আপনি আমার স্বামী নন। ক্ষমতার দাপটে জোর করে স্বামী হয়ে যাওয়া এক আসামী আপনি। সাত মাস ধরে,আমি পৃথিবী দেখি না। সূর্যের আলো কেমন হয় সেটা উপভোগ করি না। প্রকৃতির মিষ্টি বাতাস শরীরকে ছুঁয়ে দেয় না। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিশ্বাস নেওয়া হয় না। জীবনটা এমন কারানিবাস কিভাবে হয়ে গেলো। চার দেয়ালের ভেতরে যে এখন দম বন্ধ হয়ে আসছে! আচ্ছা এই জীবনে কি কোনোদিন বাহিরের আলো দেখতে পারব? দিনের আলো কেমন হয় সেটা তো ভুলেই গিয়েছি। জানা নেই কবে সেদিন আসবে যেদিন আমি মুক্ত আকাশে উড়তে পারব। এনি কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই চোখের পানি মুছে। দরজা খুলার শব্দে বড় করে নিশ্বাস নেয়। মেইড খাবারের ট্রলি নিয়ে এসেছে। মেইডের চোখ-মুখ কেমন শুকিয়ে আছে।
” ম্যাম খাবারটুকু খেয়ে নিন। সকালে তো কিছু খান নি।
এনি সম্মতি জানিয়ে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসলো। সুস্বাদু খাবারের গন্ধ নাকে আসতেই ক্ষুধার তাড়না হুরহুর করে বেড়ে যায়। এনি খাবারগুলোর দিকে এক পলক তাকিয়ে মেইডের উদ্দেশ্যে বলে,
” উনি কি আজ রাতে এই মিনারে এসেছিলো? খেয়েছিলেন কিছু সকালে?
মেইড অন্য কিছু ভাবনায় মগ্ন। না বুঝে বলে,
” উনি কে ম্যাম?
এনি ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” আপনাদের বসের কথা বলছি।
মেইড চিন্তিত ভঙ্গিতে বলে,
” আমি কখনো বসের যায় না ম্যাম। আমার কাজ শুধু আপনাকে খাবার দেওয়া আর প্রয়োজনী সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করা। কারন এখানে পুরুষ আসা নিষিদ্ধ।
এনি কিছুক্ষণ মহিলাটির দিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনাকে আজ অন্য রকম লাগছে আন্টি। কি হয়েছে বলবেন প্লিজ?
মেইড থমথমে মুখে তাকায় এনির দিকে। বুঝতে পারে এনি কিছু জানে না। মেইড কিছুটা মৌন গলায় বলে,
” আপনি কিছু জানেন না ম্যাম?
” কি জানব আমি? কি জানার কথা বলছেন?
মেইড অবাক নয়নে তাকায় এনির দিকে। বসের নিষেধ ছিলো যাতে উনার স্ত্রীর দিকে তাকানো না হয়। তাই ভয়ে কখনো এনিকে তেমনভাবে দেখি নি। কিন্ত এই মুহূর্তে যেন চোখ ঝলসে যাচ্ছে। এত সুন্দর কেনো এই নারী! নীল চোখের গভীরতা, সোনালি কেশ যেন অন্ধকারেও চিকচিক করে। এই বিষাক্ত সৌন্দর্যের কারনেই বুঝি এত লুকায়িত জীবন। এত এত শত্রুদের কবলে পড়ে আসে। মেইডের আফসোস হয় এনির জন্য। যেখানে সে একজন নারী হয়ে এই সৌন্দর্যে ঝলসে যাচ্ছে সেখানে একটা পুরুষ অচিরেই ঘায়েল হবে। মেইড অস্ফুর্তভাবে বলে,
” আপনি অনেক সুন্দর ম্যাম। একদম চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মত আপনার রুপ।
হুট করে মেইডের এমন কথায় এনি থতমত খায়। এক কথার মধ্যে আরেক কথা এনির ভালো লাগলো না। কি হয়েছে সেটা জানার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে আছে।
” প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ। কিন্ত আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছি। কি হয়েছে? কি জানার কথা বলব আমি? আর সত্যিটা বলবেন।
এনির শক্ত কন্ঠস্বরে মেইড নিজের জ্ঞানে ফিরে আসে। অধৈর্য হয়ে বলে,
” আরিশ স্যারের বোনের মৃত লাশ পাওয়া গিয়েছে।
আজ সকালে এক জঙ্গলের ভেতরে। মেয়েটাকে খুব বাজেভাবে টর্চার করেছে। ওদের শত্রুরা নিজের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মেরে ফেলেছে বাচ্চা মেয়েটা। কি মিষ্টি আর ফুটফুটে ছিলো মেয়েটা। প্রচুর কষ্ট হচ্ছে। দুই মাস ওকে দেখাশুনা করেছিলাম তাদের বাড়িতে। ভাবতেও কষ্ট লাগছে সে আর দুনিয়ায় নেই। কি সুন্দর আমাকে আন্টি বলে ডাকত। খুব হাসিখুশি ছিলো। জানা নেই সৃষ্টিকর্তা কিসের শাস্তি দিলেন। একটু পর যাব শেষ দেখা দেখে আসতে।
প্রতিটা কথা যেন এনির মস্তিষ্কর ভিতরে তীরের ফলার মত ভেঁদ করে যাচ্ছে। শরীর নাড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না সে। ভয়ে আর যন্ত্রনায় পুরো শরীর ঘেমে উঠে। শরীর দুলিয়ে পড়ে যেতে নেয়। এরপরও নিজেকে আটকে রাখে। মেইডির দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলে,
” ক… কি বলছেন এইসব? মেহেরকে কেউ খুন করেছেন?
মেইড শার্টের কিছু অংশ দিয়ে চোখের পানি মুছলেন। নাক টেনে বলে,
” আপনি চিনেন মেহের ম্যামকে? প্রচুর ভালো একটা মেয়ে ছিলো। কুত্তার বাচ্চারা বাচ্চাটাকে ছিঁড়ে ফেলেছে একদম।
এনির পুরো শরীর শিরশির করে উঠে। শ্বাস নিতেও যেন কষ্ট হচ্ছে। পুরো পৃথিবীটা যেন ঘুরছে তার চারপাশে। কান্না আটকে রাখার চেষ্টায় চোখ দুইটা লাল হয়ে উঠেছে। ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” ওকে কি রে**প করেছে আন্টি?
” এইটা আমি সিউর বলতে পারব না মা। তবে জানামতে এমনটা করার চেষ্টা করেছিলো। তাই নিজেই নিজের গলায় ছুঁড়ি চালিয়েছিলো। আর কিছু বলতে পারব না।
এনির চোখ দুইটা যেন বন্ধ হয়ে আসছে। দুর্বল গলায় বলে,
” আপনি এখন আসতে পারেন আন্টি। আমি একটু একা থাকতে চাই। খাবার গুলো নিয়ে যান।
” খাবেন না?
” এই মুহূর্তে গলা দিয়ে কিছু নামবে না।
” কিন্ত আপনি সকালে ও কিছু খান নি। দুর্বল হয়ে পড়বেন।
” কোনো ব্যাপার না। দুই দিন না খেয়ে থাকার রেকর্ড ও আছে আমার। আপনি এগুলো নিয়ে যান।
মেইড এনির কথা অনুযায়ী ট্রলি নিয়ে বের হয়ে যায়। এনি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। অস্থির হয়ে চুল খামছে ধরে। মেয়েটার একদিনের বাচ্চামোতে এনি আলাদা এক আকর্ষণ অনুভব করেছিলো। মেয়েটা অনেক মিষ্টি আর ভালো। নাহলে সামান্য একটু বুঝ দিয়েছিলো মাত্র যে সে জীবন রক্ষার্থে নিক জেভরানের শয়ন কক্ষে এসে থাকছে। মেয়েটা আর পালটা প্রশ্ন করেনি। উনার কক্ষেই কেনো থাকতে হবে আপনাকে? আরও তো অনেক রুম আছে। আর এই আইল্যান্ডে সহজে কেউ আসতে পারে না। আপনি যে রুমে থাকবেন সেই রুমেই সেইফ। অথচ মেয়েটা এক কথায় বিশ্বাস করে নিয়েছে। রিপিট কোনো প্রশ্ন করেনি। নিককে যে পাগলের মত ভালোবাসত। এক আত্নবিশ্বাস ছিলো তার ভালোবাসা তাকে ঠকাবে না। আচ্ছা সে কি কোনোভাবে বিয়ের ব্যাপারটা জেনে গিয়েছে? আমাকে নিশ্চই অনেক ঘৃনা করেছে?
এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। চোখ থেকে পানি পড়ছে অনবরত। মেয়েটার জন্য কষ্ট হচ্ছে কেনো তার? ইতিহাসের আমিই হয়ত প্রথম নারী , যে নারী আমার স্বামীকে ভালোবাসত। মন -প্রান দিয়ে সংসার করার সপ্ন দেখেছে। সেই নারীর মৃত্যুতে আমি কাঁদছি । কষ্ট হচ্ছে আমার। যন্ত্রনা হচ্ছে ভেতরে।
এনি ঘন্টাখানিক দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্যাংস্টার বসের আগমন ঘটে। এনি ভেজা চোখে তাকায় নিকের দিকে। নিক এক একবারের জন্য ও তাকায় নি। ড্রয়ার খুলে বিরক্তি নিয়ে একটা কাগজ খুঁজে চলছে। দেখতে বুঝায় যাচ্ছে প্রচুর রেগে আছে। মানুষ রাগ চেপে রাখলে তার চোখ-মুখ অনেকটা হিংস্র হয়ে উঠে। কেমন একটা উন্মাদ মনে হয় তাকে। নিকের এলোমেলো চুল- পরিপাটিহীন শার্ট সব মিলিয়ে কেমন উন্মাদ মনে হচ্ছে।
নিক ড্রয়ার খুলে একটা কাগজ বের করে। এনির দিকেও
এখনও তাকায় নি আজ। যেভাবে এসেছিলো সেভাবে বের হয়ে যেতে চায়। দরজার কাছে যাবে তার আগেই এনি পিছন থেকে হাত চেপে ধরে। নিক কপাল কুচকে তাকায়। এনি ছটফট গলায় বলে,
” প্লিজ একটিবার দেখার সুযোগ করে দিন। আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব আপনার কাছে।
এনির ভেজা চোখ-মুখ দেখে নিক দাঁত পিষে নিজের।।রেগে গেলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে। কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,
” কিভাবে জেনেছো? কে জানিয়েছে?
কি ভয়ানক ছিলো সেই প্রশ্নগুলো। আচ্ছা এই লোকটাকে আজ এত হিংস্র দেখাচ্ছে কেনো? এই রুপটাকে এনি প্রচুর ভয় পায়। নিজের সাহসটাকে বজায় রেখে বলে,
” মিনতি করছি আজকে অন্তত রাগ দেখাবেন না। একটু দেখব শুধু। এইটা আবদার নয় আপনার কাছে অনুরোধ আমার ।
নিক শুনলো না। এনির হাত ছাড়িয়ে বলে,
” কতটুকু চিনো তুমি তাকে?
” অল্প চিনি। তাতে কি?
” যাকে চিনো না তার কাছে যাওয়ার জন্য এত আগ্রহ দেখাচ্ছো কেনো?
” কে বললো চিনি না।
” তোমার জন্য মেহের অপরিচিত। যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
” ভুল! মেহের আমার জন্য সম্পর্ণ পরিচিত। কাউকে ভালোবাসতে ৩৬৫ দিনের সময় লাগে না। ব্যক্তি যদি ভালো হয়, অন্তরের মিল হয় , তবে এক ঘন্টার ভেতরে চরমভাবে ভালোবাসা যায়।
নিক কপাল কুচকালো। বিরক্তি ভাব প্রকাশ করে বলে,
” যেতে হবে না। যত্তসব আজাইরা কাজ।
এনি অবাক হয়ে তাকায় নিকের দিকে।।সত্যি কি এই লোকের হার্ট বলতে কিছু নেই। মেয়েটাকে কুত্তার বাচ্চাগুলো মেরে ফেলেছে আর এইটাকে এই লোক আজাইরা জিনিসের সাথে তুলছে করছে! এনি ক্ষেপা গলায় বলে,
” মায়া -ভালোবাসা বলতে কি সামান্য কিছু অবশিষ্ট নেই? সব কথা এই তো মেনে চলছি আপনার।পালিয়ে যাওয়ার কোনো নকশা বানাচ্ছি না। সব নিয়তির উপর ছেড়ে দিয়ে বসে আছি। মরন সমতুল্য হলে চার দেয়ালের ভেতরে নিজেকে বন্ধী বানিয়ে ফেলেছি। আজ সামান্য অনুরোধ রাখতে পারছেন না? একটু নিয়ে জান না প্লিজ!
নিক এনির দিকে তাকিয়ে শ্বাস টানে। এরপর কাবার্ড খুলে একটা প্যাকাটে হাতে নেয়। প্যাকেটটা হাতে নিয়ে এনির হাতে ধরিয়ে দেয়,
” পাঁচ মিনিটের ভেতরে এইটা পড়ে আসো। চোখ দুইটাও যাতে না দেখা যায়। ফার্স্ট!
এনি প্যাকেটের উপরে তাকিয়ে বলে,
” কি এইটা?
” মেয়েদের আবৃত করার বস্ত্র।
এনি অবাক হয়ে বলে,
” আপনি আমার জন্য বোরকা এনেছিলেন?
” বহু আগে।
এনি কাধ নাড়িয়ে বলে,
” শয়তান যখন ভালো কাজ করে তখন ইচ্ছে করে পুরো শহরে মাইক লাগিয়ে হাসি। মদখোরের বউ এখন থেকে পর্দা করে চলবে। ইন্টারেস্টিং! অপেক্ষা করুন রেডি হয়ে আসছি।
এনি কথাটা বলে আর দাড়ালো না। নিকের দিকে তাকাতেও সাহস করলো না। দৌঁড়ে চলে যায় ট্রায়াল রুমে। নিক এনির যাওয়ার দিকে কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে। এনি পাঁচ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে আসে। পুরো শরীর কালো বস্ত্রে ঢেকে গিয়েছে। মাথার কাছে একটা হুডির মত। যেটা দেওয়ার ফলে চোখ বেশি একটা ভেসে উঠছে না। এনির এই ভিন্ন রুপে নিক ঠোঁট কামড়ে ধরলো নিজের। এনি গলা কেঁশে সামনে এগিয়ে এসে বলে,
” এইবার ঠিক আছে?
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” এই চেহারার সৌন্দর্য আমি ছাড়া আর কারোর উপভোগ করার ক্ষমতা নেই। পুরো সর্বাঙ্গে আমার নজর থাকবে আর কারোর নয়। চোখ -নাক সব আমার। আমার জিনিস শুধুমাত্র আমার এই। একটা চুল স্পর্শ করার ক্ষমতাও কাউকে দেয় নি।
এনি নিকের এই সাইকো দিকগুলো মাঝে মাঝে উপভোগ করে বেশ। লোকটা প্রচুর হিংসুটে বাট কোনোদিন স্বীকার করে না। মাথার হুডিটা নামিয়ে বলে,
” আমার দিকে কেউ থাকালে হিংসে হয় আপনার? ডু ইউ ফিল ভেরি জেলাস?
নিক নিজের কপাল ঘেষলো। এনির চোখে চোখ রেখে বলে,
” এইসব ফা*কিং জেলাসি আমার মধ্যে নেই।
এনি নিজের ঠোঁট উল্টালো। গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
” ওকে, যেহেতু জেলাস ফিল করেন না তখন এইসব ফাকিং জিনিস পড়ার কি মানে বলুন? এক কাজ করি। এইটা খুলে শর্ট টপ পড়ি। যেগুলো হাটু অব্দি থাকে। আর পেট অর্ধেক বের হয়ে থাকবে। হাতা থাকবে বিকিনি স্টাইলের। ঠোঁটে ডার্ক লিপস্টিক, চোখে গাঢ় কাজল, চুলগুলো ছেড়ে রেডি হয়ে আসি।নিজেকে সুন্দর কারে সাজিয়ে নিয়ে আসি অপেক্ষা করুন।
নিকের চোখ দুইটা ক্রোধে লাল হয়ে আসে। এনির প্রতিটা কথায় যেন এর রগে গিয়ে আঘাত করেছে। কেমন নীলচে হয়ে ফুলে উঠেছে। নিক আচমকা এনির চিবুক ধরে বলে,
” বান্দির বাচ্চা মেরে ফেলব তকে আমি। এমন ড্রেস পড়ে কারোর সামনে যাওয়ার আগেই পুরো শরীর এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ফেলব। যে শরীর সেচ্ছায় অন্য পুরুষকে আকৃষ্ট করে সেই শরীরের চিহ্ন এই পৃথিবী থেকে মুছে ফেলব। দিস ইজ ইওর লাস্ট ওয়ার্নিং ডোন্ট রিপিট দ্যাট।
নিক আর দাড়ালো না। এনিকে ছেড়ে বড় করে নিশ্বাস টানে। এনি নিজের দুই গালে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলে। লোহার মত এক হাত দিয়ে প্রতিবার চেপে ধরে। আর মনে হয় মাংস খুলে চলে আসছে।নিক বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বের হয়ে যায়। নিকের যাওয়া দেখে এনিও পিছন পিছন যায়।
মেহেরের লাশ নিয়ে আসা হয়েছে বাড়িতে। পুরো বাড়ির আঙ্গিনায় বিশালদেহী গার্ড দিয়ে মোতায়ন করা।
সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা ছোট দেহটা নিঃশব্দে শুয়ে আছে—অদ্ভুত এক পবিত্র স্থিরতায়।
কিছুক্ষণ আগেই গোসল করানো হয়েছে। শরীরজুড়ে যেন এখনো ঠান্ডা পানির স্মৃতি লেগে আছে।
ভেজা চুলের গন্ধে মিশে আছে সাবানের মৃদু সুবাস। যা বাতাসে ভাসতে ভাসতে বুকের ভেতরটা ভারী করে তোলে। মুখখানা শান্ত হয়ে আছে একদম। এমন শান্ত যেন দুঃখের সব শব্দ হার মানিয়ে দিয়েছে।
চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে নিস্তব্ধতার ছাপ। এই নীরবতাই তো সবচেয়ে ভয়ংকর।
এক পাক্ষিক ভালোবাসায় হেরে গিয়ে সে চলে গেছে কোনো অভিযোগ ছাড়াই। কোনো বিদায়ের শব্দ ছাড়াই। কাউকে অভিযোগ করে নি। নিকের সামনে গিয়ে একবারের জন্য বলে নি, কেনো ঠকালে আমায়? আমার ভালোবাসাটাকে কেনো অবহেলায় দুরে ঠেলে দিকে। নিশ্বেস করে কেনো পায়ের নিচে পিষ্ট করলে নিক!
একবারের জন্য ও অভিযোগ করে নি।
ভেতরে জমে থাকা কথাগুলো আর বেরোতে পারেনি নীরবতাই হয়ে উঠেছিল তার শেষ ভাষা।
হাসির আড়ালে যে ক্ষত লুকানো ছিল তা ধীরে ধীরে শ্বাস কেড়ে নিয়েছিল স্বপ্নগুলোকে। প্রতীক্ষার দিনগুলো ভারী হয়ে নামত রাতে আর ভোরে জেগে থাকত শুধু শূন্যতা। কারও কাছে হাত বাড়াতে না পারার বেদনা তাকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করেছিল।
এই নীরব আর্তনাদে কোনো চিৎকার নেই তবু তা কানে বাজে অসহ্য জোরে। কাঁদতে কাঁদতে একটা সময় চোখের জল ফুরিয়ে এসেছে। তবু বুক ভরে আছে ভাঙা প্রতিশ্রুতির ভারে। এত কান্না আর নীরব আর্তনাদ, চিৎকারের পরও ভালোবাসা যে ফেরত এলো না। সেই অপ্রাপ্তিই হয়ে উঠেছিল শেষ পরিণতি। ভালোবাসা চেয়েছিল সে, বিনিময়ে পেয়েছিল অনুপস্থিতি। এই ফাঁকটাই তাকে নিঃশেষ করেছিল। কারও দোষ খুঁজে না নিয়ে সে নিজেকেই দায়ী করেছিল, এটাই ছিল সবচেয়ে নিষ্ঠুর। কেন সে এতটা উন্মাদ হতে গেলো এই নিষ্ঠুর পুরুষটার জন্য!
আজ তার চারপাশে নিস্তব্ধতা। যেখানে প্রতিটি কোণ তার না-বলা কথার সাক্ষী। নীরব আর্তনাদে কোনো চিৎকার নেই আজ। তবু হৃদয়ের দেয়াল কাঁপিয়ে দেয়। ঘর জুড়ে এখনো তার নিঃশ্বাসের স্মৃতি ঘোরে অথচ সে নেই এইটাই সবচেয়ে নির্মম সত্য।
নীরবতার ভেতর চাপা পড়ে থাকা এই আর্তনাদই বলে দেয় হারানো ভালোবাসা কতটা গভীর ক্ষত রেখে যায়।
কিছুক্ষণ পর জানাজা শুরু হবে। দাদামশাই নিজের নাতনির অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারে নি। এখনও লাইফ সাপোর্টে নিজের মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। তানভী এতক্ষন হসপিটালে ছিলো। মেহেরকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর ছুটে চলে আসে। এই মেয়ের প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী সে। কতটা ভালোবাসত সে। মেহেরকে নিজের ছোট বোনের স্থান দিয়েছিলো। কিভাবে ভুলবে সে এই যন্ত্রনা। তানভী কাঁদছে। ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে। তাকে রেখে কিভাবে চলে যেতে পারলো! এই সাদা কাপড়ে মুড়ানো নিথর দেহটা আমাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে মেহের। প্লিজ ফিরে আয় বোন আমার। দাদামশাই মৃত্যুর লড়াই করছে। এতটা পাষাণ হয়ে যাস না।
কে শুনে কার আর্তনাদ। মরে গেলে সে কি আর কিছু শুনতে পাই? তার রুহটা তো বের হয়ে যায়। পড়ে থাকে শুধু নিথর দেহটা। মৃত মানুষ যদি ফিরে আসতে পারত তাহলে কত লাশ জীবিত হয়ে উঠত নিজের আপনজনদের আর্তনাদ সহ্য করতে না পেরে।
তানভী চোখের পানি মুছে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত কান্নার ফলে মাথা ব্যাথা করছে। মেহেরকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর আরিশ, নিক আর অধিরাজ কারোর দেখা মেলে নি। নিশ্চই কুত্তার বাচ্চাটার জীবন জাহান্নাম বানাতে গিয়েছে!
হুট করেই তানভীর চোখ যায় গাড়ি থেকে মাত্র নেমে আসা রমণীর দিকে। শরীরে কালো ঝরঝেট গাউন। মাথায় উড়না পেঁচিয়ে রাখা। রমণী আরও এগিয়ে আসতেই তানভীর কপালের ভাঁজ সোজা হয়। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” নাজলী ম্যাম!
নাজলী দ্রুত এগিয়ে আসে বাড়ির ভেতরে। তানভী, মেহেরের ফোনে নাজলীর ছবি দেখেছে অনেক বার। অনেক প্রশংসা শুনেছে তার লাল চুলের। এই মেয়েটাকে তানভী ভালোভাবে চিনে। আরিশ স্যারের বউ!
নাজলী কিছুক্ষন এগিয়ে এসে থমকে যায়। চোখ যায় সাদা কাপড়ে মুড়ানো এক নিথর দেহটার দিকে। সাথে সাথে নাজলী চোখ বন্ধ করে ফেলে। বার বার মনে হতে থাকে তার দেওয়া সেই অভিশাপ,
” যেদিন আপনার বোনকে কেউ কুত্তার মত ছিঁড়ে খাবে সেদিন হাজার ও মেয়ের মুল্য বুঝবেন। তার আগে আপনজন হারানোর কষ্ট আপনি অনুভব করবেন না মি, আরিশ ইলহাম।
নাজলী কান্না আটকাতে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। সে তো অভিশাপ দিয়েছিলো রাগের কারনে। এই ফুলটার উপর কেনো এত নির্মম অত্যাচার হলো। নাজলী আর তাকাতে পারলো না সেদিকে। ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে। চিৎকার বের হয়ে আসছে গলা দিয়ে। ছটফটে চোখ দুইটা আরিশের খোঁজে মরিয়ে হয়ে উঠে। এই লোকটা তো বোনের জন্য পাগল ছিলো। কি অবস্থায় আছে সে? এখনও কি সেই কঠোর ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেছে। নাকি একজন ভাই হিসেবে ভেঙ্গে পড়েছে? কোথায় সে? নাজলীর চোখ দুইটা অধৈর্য হয়ে খুঁজে চলছে। কিন্ত কাঙ্খিত ব্যক্তির সন্ধান মিলে না। গার্ড ছাড়া আর কোনো পরিচিত মুখ নেই তার কাছে। কিছুক্ষনের মধ্যে কয়েকটা গাড়ির শব্দে জায়গাটা অস্থির হয়ে উঠে। নাজলী বিরক্তিতে কান চেপে ধরে। সেদিকে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করলো না। গাড়ির আওয়াজ থেমে যায়। আবারও সেই ভয়াভহ নিরবতা। নাজলী সেসবে পাত্তা না দিয়ে আরিশকে খুঁজে চলছে। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই থমকে যায়। প্রথমে চোখ যায় গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের দিকে। কাঁপা শরীর নিয়ে তাকায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর দিকে। যার পুরো শরীর কালো কাপড়ে ঢেকে আছে। নীল চোখ দুইটা এখনও কিছুটা দৃশ্যমান হয়ে আছে। নাজলীর মুখ থেকে কাপড় সরে যায়। কতদিন পর নিজের বোনের অস্তিত্ব দেখতে পেয়ে কেমন স্তব্দ হয়ে যায়। নিজের ভ্রম ভেবে একই দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেক। এনির দুই চোখ পানিতে ভরে উঠে। তৃষ্ণার্ত কাকের মত হাহাকার করে উঠে তার বুক। কত দিন পর এই মানুষটাকে সে দেখতে পেয়েছে। একে ছাড়া তো একদিন ও সে ঘুমাতে পারত না। এখন দিব্বি ঘুমিয়ে যাচ্ছে। এনি আর অপেক্ষা করলো না। নিকের হাত ছাড়িয়ে এক দৌঁড় দেয় নাজলীর উদ্দেশ্যে। নিক নিজের হাতের দিকে তাকায়। রাগে পুরো শরীর কেঁপে উঠে। হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত পিষে। নিজের রাগটাকে কমানোর বৃথা চেষ্টা চালায়। তার ভাষ্যমতে ভালোবাসার নাটক দেখতে সামনে তাকায়। এনি নাজলীকে জড়িয়ে ধরে আছে। কাঁদছে, ফুঁপাচ্ছে। কান্না আর অস্থিরতার জন্য কথা বলতে পারছে না। কোনোরকম উচ্চারন করে,
” আ… আপা!
নাজলী এনির মাথায় এলোপাথারি চুমু খায়। ভাঙ্গা গলায় বলে,
” বোন আমার।
এনি বুক থেকে মাথা তুলে বলে,
” খুব মিস করেছি তোমায়। প্রতিটা মিনিট তোমার কথা মনে পড়েছে।
নাজলী এনির চোখের পানি মুছে বলে,
” আমাকে তৃষ্ণা মিটাতে দে। বহু দিন ধরে আমি এই পাখিটাকে দেখি না। তার খিলখিল হাসির শব্দ শুনি না। কেমন আছিস তুই?
এনির চেহারায় বিষন্নতা নেমে আসে। হাসি ফুটিয়ে বলে,
” আছি আমি। তুমি কেমন আছো?
নাজলী কথাটা এড়িয়ে গেলো। এনি আবারও প্রশ্ন করে,
” তুমি কি আরিশ ভাইয়ের সাথে আছো?
নাজলী তাকায় এনির দিকে। এনি আবারও বলে
” বলো আপা।
” আছি। তবে তর মতই না পেরে।
এনির মুখ মলিনতায় বিষিয়ে উঠে। নাজলীর হাত ধরে ফিসফিস করে উঠে,
” নাভিদ ভাই কেমন আছে আপা? উনি সুস্থ আছেন ত? উনার কোনো ক্ষতি হয় নি তো?
নাজলী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
” এখনের খবর আমি জানি না। তবে নাভিদ ভালো নেই এনি। কেমন পাগলের মত হয়ে যাচ্ছে। তকে হারানোর কষ্ট ও সহ্য করতে পারছে না। প্রতি রাতে মদ খেয়ে পড়ে থাকে। ড্রাগস হয়ে উঠেছে এখন নিত্যদিনের খাবার।
এনির বুকটা কেঁপে উঠে। মাথা নাড়িয়ে বলে,
” এইভাবে চলতে থাকলে উনি মরে যাবেন। উনাকে আটকাও আপা প্লিজ।
নাজলী আর ও কিছু বলবে তার আগেই নিকের উপস্থিতিতে থেমে যায়। নিক একদম এনির পাশে এসে দাঁড়ায়। এনি নিকের দিকে তাকিয়ে ভয়ে নাজলীর হাত চেপে ধরে। নিক সেই হাতের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো নিজের। জোরপূর্বক হেসে এনির হাতটা নিজের হাতের মুঠোতে নিয়ে আসে। এনি নিকাবের নিচেই ঠোঁট ভেজায়। নাভিদ ভাইয়ের ব্যাপারে লোকটা কিছু শুনে নি তো আবার! নিশ্চই শুনে নি। শুনলে এতক্ষণে ঘূর্নিঝড় চালিয়ে দিত।
নাজলী নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কেমন আছেন গ্যাংস্টার বস?
নিক চোখ ছোট করে বলে,
” মৃত বাড়িতে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করছেন কেমন আছি? কমনসেন্সের বড্ড অভাব আপনার।
নাজলী হালকা হেসে বলে,
” কারোর মৃত্যুর খবর তাহলে গ্যাংস্টার বসের হৃদয়কে নাড়িয়ে তুলতে পারে। শুধু পারে না আমার বোনের চাপা কান্নাগুলো।
নিক ঠোঁট চেপে হেসে বলে,
” আপনার বোনের কান্নাতে শুধু মন নয় আরও অনেক কিছুই নাড়িয়ে তুলে। যতবার ই ** হয় ততবার কান্না করে। এমনকি জ্ঞান ও হারিয়ে ফেলে। প্রতিবার এই আমার মন নাড়িয়ে তুলে।।বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞাসা করুন আপনার বোনকে। নিজ হাতে পেইন কিলার সহ আরও অনেক মেডিসিন খাইয়ে দেয়। এরপরও কিভাবে বলেন আমার মন নড়ে উঠে না?
এনির কান দিয়ে যেন গরম বাতাস বের হচ্ছে। নাজলী অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। নিককে যত নিজের শত্রু মনে করুক। কিন্তু এনি তো তার ছোট বোন। নিজের বোনের পার্সোনাল মোমেন্টের কাহিনী শুনার মত লজ্জাকর জিনিস বোধ হয় আর কিছু নেই। এনি চোখ বন্ধ করে শক্ত গলায় বলে,
” লাগাম টানুন মুখের। অসভ্য লোক!
নিক এনির হাতটা শক্তভাবে চেপে ধরে। এনি ব্যাথায় শব্দ করতে গিয়েও করলো না। নাজলীকে এই মুহূর্তে উস্কে দিতে চাচ্ছে না সে। নাজলী শক্ত গলায় বলে,
” আমি আপনাকে সহজ ভাবে প্রশ্ন করেছি। এতটা গভীরে গিয়েছেন কেনো?
” আপনি আপনার স্টাইলে প্রশ্ন করেছেন আমি আমার স্টাইলে উত্তর দিয়েছে। সব উত্তর যে আপনার মনের মত হবে তার তো কোনো উপাই নেই।
নাজলী তাকায় নিকের দিকে। লজ্জা ভুলে গিয়ে জেদটাকে বজায় রেখে বলে,
” অহহ, আচ্ছা।এইভাবে বুঝি নিজের একান্ত সময়ের কাহিনী সবাইকে শুনান? কি সুন্দর স্টাইল আপনার!
নিক একই ভঙ্গিতে বলে,
” আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন সেসব প্রশ্ন কেউ করার আগে তার গর্দান মাটিতে পড়ে যাবে। কেউ প্রশ্ন করার সাহস করে নি তাই শুনানোর প্রয়োজন পড়ে নি। তাছাড়া নিক জেভরানের একান্ত সময়ের কাহিনী শুনলে লোকে টিকতে পারবে না। আপনার বোনকে জিজ্ঞাসা করুন, সে নিজেও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আপনি জানতে চাইলে একদিন বর্ননা দিয়ে জানিয়ে দিব। সবার গলা আলাদা করলেও আপনার গলা অক্ষত থাকবে।
এনির ইচ্ছে করছিলো জায়গা ত্যাগ করতে। দুইটা এমনভাবে কথা বলে যেন আগের জন্মে সতীন ছিলো।
নাজলী কিছু বলবে তার আগেই এনি বলে,
” আপা তুমি একা এসেছো? কার সাথে এসেছো?
নাজলী বোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
” বেপোরোয়ার হওয়ার প্রয়োজন নেই। ঠিক আছি আমি। চল আমার সাথে।
এনি নিকের দিকে তাকালো। নিক শক্ত গলায় বলে,
” যাবে না সে।
নাজলী শান্ত চোখে তাকিয়ে বলে,
” মাত্র বিশ মিনিট চাচ্ছি। এই সামান্য সময়ে কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না।
নিক কপাল ঘেষে বলে,
” মিস নাজলী নারীদের সংসার ভাঙ্গার পিছনে মুল কারন কি জানেন? এক হচ্ছে বড় বোন, আরেক হচ্ছে মা। দুইজন ব্যাক্তির জন্য অধিকাংশ সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। আর আমি সেই ফাঁদে পা দিব না।
নাজলীর চোখ -মুখে ক্ষোভ ভেসে উঠে। এনি দাঁত পিষে বলে,
” উনি আমার বোন হয়। এইভাবে কেনো কথা বলছেন? ভদ্রভাবে বলতে না পারলে অন্তত অসম্মান করবেন না।
নিক এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” সম্মানিত সম্মোধন করে কথা বলার রুলস আমার কাছে নেই। তোমার বোন সে তাতে আমার কি? নিক জেভরানের কাছে এইসব ফা*কিং সম্পর্ক একটা তালবাহানা।
এনি চুপ হয়ে যায়। নাজলীর দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে বলে,
” তুমি আর কিছু বলো না আপা।
নাজলী মাথা নাড়ালো। জানাজার জন্য সবাই এক সাথে হচ্ছে। আহহহ, কি নির্মম দৃশ্য এইটা। এনি নিকের হাত ধরে বলে,
” জানাজায় শরিক হন।
নিক সেদিকে তাকিয়ে বলে,
” এইসবে যায় না আমি।
এনি বিরক্ত প্রকাশ করে বলে,
” আদ’ও মুসলিম তো আপনি? ইমান অনেক আগেই হারিয়েছেন সেটা জানি। তবে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করেন তো? পাপে ডুবে গিয়ে নাস্তিক হয়ে যান নি নিশ্চই!
নিক শক্ত চোখে তাকালো। এনি সেসবে পাত্তা দিলো না। নিকের হাতে ধরে ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,
” তিল পরিমান কালিমা যদি বুকে থেকে থাকে তবে জানাজায় শরিক হন।
নিক মানুষের ভীরে তাকালো। অস্থির হয়ে উঠলো মন। সেখানে যেতে কি গ্যাংস্টার বস ভয় পাচ্ছে!
নিক গভীর গলায় বলে,
” ভেতরে যাও। দুই তালার সিঁড়ি পার করে বামে একটা রুম আছে। এইটা আমার রুম। সেখানে গিয়ে বসো।কিছুক্ষনের মধ্যে আমি নিয়ে আসব। ভুলভাল কোথাও যাবে না। পরবর্তীতে আমি সিসিক্যামেরা চেক করব।
এনি মলিন হাসলো। নিক জানাজায় সত্যি যাবে কেনো জানি বিশ্বাস হচ্ছে না।নিক এনির হাত ছেড়ে দেয়। নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” দুরত্ব বজায় রাখবেন আমার বউয়ের থেকে।
নাজলী দাঁত পিষে। এরপর বড় বড় পা ফেলে সেদিকে চলে যায়। এনি শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। নাজলী বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
” বিয়াদব একটা।
এনি বোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আগের জন্মে শতীন ছিলে তোমরা? একই স্বভাবের দুজন।
নাজলী নাক ছিটকায়। পর পর এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” এইভাবে ঢেকেছিস কেনো নিজেকে?
এনি শান্ত চোখে তাকিয়ে বলে,
” উনার ইচ্ছে।
নাজলী এনির গালে হাত রেখে বলে,
” প্রচুর উন্মাদ তকে নিয়ে। সব শুনবো। আপাযত এইটা বলবি, তুই পাচার হয়েছিস কিভাবে? এরপর থেকে সব ঘটনা।
এনি মলিন গলায় বলে,
” এই সামান্য সময় তোমাকে সব বলব আপা। তবে জানো আমি অন্ধকারে থাকতেও শিখে গিয়েছি। বুকে কষ্ট চাপা দিয়ে হাসতে ও শিখে গিয়েছি। তোমার বোন আর ছোট নেই।
নাজলীর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে,
” মেহেরকে তুই চিনিস?
” দেখা হয়েছিলো একবার। প্রচুর মিশুক। নিককে উন্মাদের মত ভালোবাসত।
নাজলী যেন কারেন্টের শকড খেলো। আশ্চর্য হয়ে বলে,
” ভালোবাসা হেরে গিয়েছে তাই তো?
” হয়ত! আমি এই মেয়েটার কাছে অপরাধী আপা। নিশ্চই ভেবেছে আমি তার ভালোবাসা ছিনিয়ে নিয়েছি। কিন্তু সে যদি একবার প্রতিটা ঘটনা জানত তবে ওর রুহটা পর্যন্ত কেঁপে উঠত।
” সে জবাব জানতে চাই নি?
” নাহহহ। মেয়েটা প্রচুর ভালো আর আদুরে। ওর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। যন্ত্রনা হচ্ছে খুব।
নাজলী চোখ ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়। আরিশকে দেখে তার চোখ আটকে যায়। একদিনে লোকটার কি অবস্থা হয়েছে! চুলগুলো এলোমেলো, শার্টের ঠিক নেই। নাজলী দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। সেদিকে তাকিয়ে বলে,
” আরিশের প্রচুর আদুরের ছিলো। বোনকে খুব ভালোবাসত।
” হ্যা। আমার জানামতে উনার যদি কোনো প্রান থেকে থাকে তবে সেটা মেহের ছিলো। কিভাবে সহ্য করছে কে জানে। আবার সন্দেও হয়। এদের কষ্ট হচ্ছে তো? যেমন কষ্ট আমাদের হচ্ছে। এর থেকেও বেশি হওয়ার কথা। কষ্ট না ও হতেও পারে। এদের তো আবার হার্ট বলতে কিছু নেই।
জানাজা পড়ানো শেষ হয়। আরিশ কাপড়ের উপর থেকেই মেহেরের কপালে সময় ধরে চুমু খায়। কানে ফিসফিস করে বলে,
” তুই বলেছিস না ভাইয়া একদম কাঁদবে না। একদম ভেঙ্গে পড়বে না। দেখ একটুও কাঁদছি না। পাথর হৃদয়টা কাঁপছে আমার। মিষ্টি করে ভাইয়া বলে কে ডাকবে আমায়? বোন আমার আই লাভ ইউ। প্রচুর ভালোবাসি তকে। গর্ব হচ্ছে তর সাহসিকতা নিয়ে। নিজেকে হেফাজত করতে যে বলি দিলি তাতে গর্ব হচ্ছে আমার। এখন তো সামান্য সহ্য করতে পারছি। ওই কুত্তাগুলো যদি তর পবিত্রতা নষ্ট করত তখন ধ্বংস হয়ে যেতাম। যন্ত্রনায় পিষে দিত আমাকে। খুব মিস করব তকে। তবে কলিজা, ভাইয়াকে ক্ষমা করে দিস। বাঁচাতে পারলাম না সেদিন। এই ইগরের মৃত্যু নরকের থেকেও কঠিন হবে। এর কলিজা আমি চিবিয়ে খাব!
আরিশ উঠে দাঁড়ায়। চোখ মুখ লাল হয়ে উঠেছে। এখানে আর দাঁড়ায় নি। এই মুহূর্তে দাড়িয়ে থাকার ক্ষমতা নেই। এই অন্ধকার কবরে রাখা হবে তার পাখিটাকে। কিভাবে সহ্য করবে সে এই দৃশ্য। আরিশ চলে আসে রুমের ভেতরে। ডিভানে বসে শরীর এলিয়ে দেয়। নিকও চলে আসে। পকেট থেকে ম্যাপ বের করে বলে,
” এই নকশা অনুযায়ী ইগরের সীমানা কানাডা পর্যন্ত। আর লাস্ট দৌঁড় হবে কানাডা।
আরিশ ম্যাপের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো,
” দুনিয়ার যে প্রান্তে লুকিয়ে থাকুক, সেই প্রান্ত থেকে খুঁজে বের করে আনব।
মাটি দেওয়া শেষ। লোকেদের পায়ের শব্দ বুঝা যাচ্ছে। নিক শরীর এলিয়ে দিয়ে বলে,
” তর বউ এসেছে।
আরিশ আচমকা তাকায়,
” কোথায়?
” এখানে।
” মানে?
” মানে তর বউ এসেছে। কেনো তুই জানিস না?
” রাত থেকে তো বাড়ি যায় নি। দেখা হয় নি ওর সাথে আমার।
নিক গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
” তর বউকে সাবধানে রাখিস, যাতে আমার বউয়ের কান না ভাঙ্গে। অনেক দিন পর বাঁকা হাড্ডি একটু শান্ত হয়েছে। কিছু একটা বলে আমার সংসারে আগুন লাগাতে না করে দিস।
আরিশ নিকের এমন কথায় আশ্চর্য হয়। এ নিক তো? এই রুপ তো সে আগে কোনোদিন দেখি নি। নিক ঘন ঘন নিশ্বাস টানছে। আরিশ নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” তুই অসুস্থ?
” নাথিং।
আরিশ উঠে কপাল ছুঁয়ে বলে,
” তর চোখ-মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। জ্বরে পুরো শরীর পুড়ে যাচ্ছে। এই ক্ষত গুলো থেকেই এত জ্বর! মিনারে ফিরে যা।
নিক ছটফট করে উঠে,
” পাগল হয়ে গিয়েছিস তুই? ইগরকে খুঁজা এখন সব থেকে জরুরি।
” অতিরিক্ত জ্বর হলে তুই নিজের মধ্যে থাকিস না। মনে হয় না এই মুহূর্তে কিছু করতে পারবি।
নিক কপালে চেপে ধরে বলে,
” বুকে বুলেট নিয়ে হাটতে পারি অথচ জ্বর হলে কাবু হয়ে যায়। কিসব শাওয়ার অসুখ। পারব আমি।
আরিশ এইবার শান্ত গলায় বলে,
” নিজের বোনকে হারিয়েছি আজ। আমি চাচ্ছিনা এই মুহূর্তে ভাইটাকে ও হারিয়ে ফেলি। গরম -গরম আ্যটাক আমি করতে পারি। কিন্তু তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যদি কেউ মাথায় আঘাত করে সেটা আমি সহ্য করব না।।সুস্থ হ আগে। শক্তি, সব নিয়ে ইগরের বিনাশ রচনা করব। এই দুইটা দিন আমি তাকে ছুঁটি দিলাম। ওকে খুঁজে পেলেই ওর শ্বাসটাও আমি হিসেবে রাখব।
নিক বিরক্ত হলো। ধমক দিয়ে বলে,
” ড্রামা শিখে গিয়েছি তুই আরিশ! এইসব সাধারন মানুষদের সাথে যায়। আমাদের সাথে নয়। এখন গাড়ি বের কর। ওর এক মিনিটের শ্বাস নেওয়া মানে অনেক কিছু।
আরিশ চোখ বন্ধ করে বলে,
” কসম লাগে নিক। প্লিজ এই অবস্থায় শত্রুর সামনে দাড়াতে চাই না । একবার হারাতে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার দয়ায় বাঁচিয়েছিলাম। এখন আবার ও সেই ভুল করতে পারব না। বউ নিয়ে বিদায় হ এখান থেকে। আজ রাতটা আমি এই বাড়িতে কাটাব। এই বাড়িটায় কত স্মৃতি আছে।
রাত তখন প্রায় একটার দিকে।
নিক এনির পেটে মুখ ডুবিয়ে দেয়। অজান্তেই থরথর করে কেঁপে উঠে রমণী। ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টায় তাকায় নিকের দিকে। নিক দুই হাত দিয়ে এনির কোমর শক্তভাবে ধরে। পেটে মুখ ডুবিয়েই কয়েকটা চুমু খায়। জ্বরের তীব্রতা এত ছিলো যে গরম নিশ্বাসে এনি ঘামতে শুরু করে দিয়েছে। নিক পেটে ঠোঁট ঘেষে বিরবির করে,
” আমার হৃদয় তুমি। আমার জীবন আর আত্না তুমি। এতটা আসক্ত কেনো করলে, কলিজা আমার!
এনি কথাগুলো শুনার চেষ্টা করলো। ফিসফিস বিরবির শব্দ এনির কান অব্দি স্পষ্টভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হলো না। নিকের অবাধ্য ঠোঁটের স্পর্শে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারছে না। গরম নিশ্বাসে যেন পেটের নরম মাংস পুড়ে যাচ্ছে। এনি নিকের মাথাটা সামান্য সরিয়ে দিয়ে বলে,
” আপনাকে ডাক্তারের কিছু নিয়ে যেতে হবে। জ্বর এইভাবে বাড়তে থাকলে সমস্যা হয়ে পড়বে।
নিকের মাথাটা নরম বালিশের উপর রেখে এনি তাড়াহুড়া করে উঠতে যায়। তার আগেই নিক হাত চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। এনি অবাক হয়ে তাকায়। নিকের চোখ দুইটা লাল হয়ে কেমন ভয়ানক দেখা যাচ্ছে। ফর্সা মুখ থেকে যেন রক্ত পড়ছে। গোলাপি ঠোঁট দুইটা একদম শুকিয়ে আছে। নিক গভীর দৃষ্টিপাত করলো এনির দিকে। এনির গালের কাছে ঠোঁট নিয়ে বলে,
” বাহিরে পা রাখার ভুল জীবনে ও করো না। একদম মেরে ফেলব।
এনির কপাল কুচকে আসে। একটু আগেই তো এই লোক হুঁশে ছিলো না। এত দ্রুত নিজের হুঁশে ফিরলো কিভাবে? আদ’ও বেহুশ হয়ে ছিলো নাকি নাটক করেছে এতক্ষণ! এনি চোখের পাতা ঝাপ্টায়,
” জ্বর আপনাকে অস্থির করে তুলছে। এই মুহূর্তে চিকিৎসা না নিলে বাজে কিছু ঘটে যাবে।
নিক শান্ত গলায় বলে,
” ঘটুক। সামান্য জ্বরে গ্যাংস্টার বসকে কাবু করতে পারে না বেবিগাের্ল।
” তার নমুনা তো দেখতেই পাচ্ছি। চোখ খুলে রাখতে পারছেন না। প্রতিটা ক্ষতের যন্ত্রনা আপনাকে অস্থির করে তুলছে।
নিক এনির দিকে শান্ত চোখে তাকায়। এনির অস্থিরতা সাথে সাথে কমে যায়। নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। ডিপ গলায় বলে,
” এতটা বেপোরোয়া কেনো হচ্ছো?
এনি থমকে যায় এই সামান্য কথাতে। ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” বেপোরোয়া হতে যাব কেনো?
” চোখে -মুখে এত অস্থিরতা কেনো তাহলে?
এনি নিজেকে শক্ত করে তাকালো। কন্ঠস্বরে কাঠিন্যতা এনে বলে,
“এক রুমে আছি যেহেতু চোখের সামনে অসুস্থ একজন ব্যক্তিকে তো ফেলে রাখতে পারি না। মনুষ্যত্ববোধ আপনার নেই বাট আমার আছে। এতটা হৃদয়হীনভাবে বানানো হয় নি আমাকে। আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলেও এইভাবে অস্থির হয়ে উঠতাম।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। কপালের রগ গুলো ফুলে ভেসে উঠে। জ্বরের কারনে চোখ-মুখ আগে থেকেই লাল হয়ে আছে। এই মুহূর্তে তার মুখের রিয়্যাকশন বুঝার উপাই নেই। নিস্তব্দ এই রুমে শুধু ঘন ঘন নিশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে। এনি সেদিকে মাথা ঘামালো না। একটা পাত্রে সামান্য পানি নিয়ে আসে। একটা নরম টাওয়েল ভিজিয়ে নিকের দিকে এগিয়ে যায়। নিকের মাথায় জল পট্টি দিবে তার আগেই নিক হাত থেকে পানির পাত্রটা ফেলে দেয়। কাচ ভাঙ্গার শব্দে এনি কেঁপে উঠে। এই ভাঙ্গা শব্দটা কেমন জানি অদ্ভুত শুনালো। এনি অবাক হয়ে তাকায় এনির দিকে। নিকের চোখ-মুখ শক্ত করে রাখা। রাগের কারনে নিশ্বাস পর্যন্তভালোভাবে ফেলতে পারছে না। এনি বুঝরে পারলো না এই মুহূর্ত সে কি অপরাধ করলো। জ্বর যাতে কাবু করতে না পারে তাই সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে যাচ্ছিলো। লোকটা যর খারাপ হোক, হৃদয়হীন মনস্টার হোক, দিনশেষে এক রুমে তো থাকছে সে। এই সামান্য সেবা তো সে করতেই পারে। এনির চোখ ভিজে আসে। কেনো জানি কষ্ট হচ্ছে খুব। তবুও চোখের পানি লুকিয়ে প্রশ্ন করে,
” পাত্রটা ফেলেছেন কেনো?
নিক দাঁত পিষে এক ঝটকায় এনির বাহু চেপে ধরে। এরপর রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” প্রয়োজন নেই এইসব শাওয়ার জলপট্টির। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এমন অস্থির হয়ে পড়তি? বল! শালী ধান্দাবাজ সত্যি করে বলবি। কেনো বললি এই কথা? কি মনে হয় আমাকে তর? নিক জেভরান তার স্ত্রীকে রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছে। যে যাকে তাকে দেখে মনুষ্যত্ব খাটাবে।
নিকের প্রতিটা ধমকে এনি কাঁপছে। নিক এমনভাবে ধরেছে যেন আঙ্গুল মাংসের ভেতরে গেঁথে যাচ্ছে। অসহ্য যন্ত্রনায় এনি আওয়াজ করে,
” আমার হাত ছাড়ুন। ব্যাথা পাচ্ছি আমি। আপনার প্রতি সামান্য মায়া দেখানোটা আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল ছিলো। হুটহাট এইভাবে চেপে ধরেন কেনো? ব্যাথা পায় না আমি? যেদিন মেহেরের মত এইভাবে চলে যাব সেদিন আপনি শান্তি পাবেন।
নিকের হাত থেমে যায়। এনির থেকে দুরে সরে আসে। দেয়ালে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে দাড়ায়। দাড়াতে পারছে না। শরীর ঢলে পড়ছে। এনি বুঝতে পেরে নিকের হাতে হাত রাখে। নিক সরিয়ে দিয়ে বলে,
” বের হ রুম থেকে।
এনি অবাক চোখে তাকায়,
” মানে?
নিক লাথি মেরে ডিভানের সামনে রাখা কাচটাকে ভেঙ্গে ফেলে। তীব্র রাগে গর্জে উঠে,
” এই মুহূর্তে রুম থেকে বের না হলে অঘটন ঘটে যাবে।
এনি কেঁপে উঠে। ভয়ে কান্না করে দেয়। কাঁপা গলায় বলে,
” এত রাতে কিভাবে যাব? ড্রয়িং রুম পুরোটা অন্ধকার।
নিক যেন আরও অস্থির হয়ে উঠছে। নিজের চুল খামছে ধরে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫১
” যে মেয়ে এখনও অনুমান করতে পারে না কোন কথাগুলো বললে আমি রেগে যায়। নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারি না। সেই মেয়ে আমার রুমে না থাকাটা’ই ভালো। কিছু করে ফেলার আগে দৃষ্টি সীমানার বাহিরে যাও।
এনি আর দাড়ালো না। রাগ,ক্ষোভ আর ভয় নিয়ে রুম ত্যাগ করে। যে রুম থেকে একবার অপমান করে বের করে দিয়েছে। সেই রুমে আর আসবে না সে।
এনি সিঁড়ির কাছে গিয়ে ও থেমে যায়। নিকের তীব্র জ্বরের কথা মনে হতেই অসহায় হয়ে পড়ে। বিরবির করে বলে,
” কোন সাইকোর কবলে ফেললে আমাকে? এত মর্জি আমি কিভাবে বুঝব?
