Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৩

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৩

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৩
লিজা মনি

শত্রু দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বা কোনো সীমান্তে নাম নেই। কোনো ছায়ায়ও চিহ্ন নেই। পুরো জায়গায় মাফিয়া টিম লেগে আছে। আফ্রিকার কোনো জায়গায় ইগরের চিহ্ন মিলছে না এই অনিশ্চয়তার ভারে রুমটা যেন সংকুচিত হয়ে এসেছে। আর তার মাঝখানে আরিশ বসে আছে এক অস্থির আগ্নেয়গিরির মতো। চোখ দুটো লালচে হয়ে আছে। টানা জাগরণের ক্লান্তি আর দমন করা ক্রোধে পাতা কাঁপছে। হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। ক্রোধে চেহারা কেমন ভিবৎস হয়ে উঠেছে।

মাউস, ফোন, মানচিত্র যেটাই ধরে সেটাই মুহূর্তে ফেলে দিচ্ছে। কারণ সেটাই সরাসরি সংযোগের অস্ত্র ইনফরমার, সীমান্তের লোক, আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক।
একের পর এক কল, মেসেজ, আসছে। কিন্তু প্রতিটা কথোপকথন শেষ হচ্ছে একই শূন্যতায়।সঠিক খবর না পাওয়ায় বিরক্তিতে ফোনটাকে ছুড়ে ফেলে দেয়।
কাউচের উপর একটা মানচিত্র। আরিশ সেই মান চিত্রে নজর রাখে। নিক দিয়ে গিয়েছে এইটা। মানচিত্রটা সে ধরছে রুট বুঝতে পালানোর পথ, সীমান্তের ফাঁক, বিকল্প রাস্তা, লুকানোর সম্ভাব্য জায়গা।

স্ক্রিনের আলোতে তার মুখ কখনো পাথরের মতো কঠিন হয়ে আচগে। বার বার ইগরের
লোকেশন বদলাচ্ছে, সিগন্যাল ভাঙছে, ট্র্যাকিং ডেড এই শব্দগুলো তার মাথার ভেতর পেরেকের মতো ঠুকে যাচ্ছে। ম্যাপ অনুযায়ী বর্তমানে ইগরের কোনো চিহ্ন আফ্রিকায় নেয়। সময়ের ব্যবধানে জানোয়ারটা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আরিশ দাঁত কটমট করে ম্যাপের দিকে তাকায়। রাগে মাথার রগ গুলো যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। নিজেকে সামলাতে না পেরে সামনে কাউচটাকে ফেলে দেয়। বিকট শব্দে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় সেটা। কাচ ভাঙ্গার শব্দে আতঙ্কে জমে যায় এক রমণী। নাজলী মেঝের দিকে এক পলক তাকিয়ে আরিশের দিকে তাকায়। আরিশ চুলগুলো টেনে বসে আছে। নাজলী নিশ্বাস ছেড়ে সামনে এগিয়ে যায়। হাতে তার খাবারের প্লেট। এই মুহূর্তে নাজলী নিজের সব সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই রাগটাকে নাজলী প্রচন্ড ভয় পায়। কেমন হিংস্র হায়েনার মত হয়ে উঠে চেহারা। অন্য সময় হলে সব সাহস ঢেলে দিয়ে তর্ক করে। ইচ্ছে করে ভুলভাল কথা বলে রাগিয়ে দেয়। কিন্তু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কথা বলতেও কলিজা কাঁপছে। তবুও সাহসটাকে সঞ্চয় করে শান্ত গলায় বলে,

” কাল রাত থেকে কিছু খান নি। কিছু খেয়ে নিন নাহলে শত্রুর সাথে মোকাবেলা করতে অক্ষম হয়ে যাবেন।
আরিশের কানে যেন কথাটা ডুকলো না। এমনভাবে থ মরে বসে আছে যেন সে এই দুনিয়ায় নেই। নাজলী কপাল কুচকায়। সামনে ভিবিন্ন ইলেক্ট্রিক জিনিস পত্র। খাবারটা বেড সাইটে রেখে গলা কেশে বলে,
” আমি আপনাকে কিছু বলেছি মি, আরিশ। খাবারটা খেয়ে নিন।
আরিশ আচমকা নাজলীর দিকে তাকালো। নাজলী ভয়ে শিউরে উঠে। এমন অদ্ভুত ভয়াংকর দেখাচ্ছে কেনো লোকটাকে? কোথায় ছিলো এতদিন এই পৈশাচিক রুপ! চোখ গুলো থেকে যেন রক্ত পড়ছে। নাজলী শুকনো ঢোক গিলে কাঁপা গলায় বলে,

” খ… খেয়ে নিন।
আরিশের চিবুক শক্ত হয়ে আসে,
” তোমার এত ক্ষুদা লাগলে খেয়ে নাও। আমাকে ডিস্ট্রাব না করে বের হও রুম থেকে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু সি এনিওয়ান হিয়ার রাইট নাউ।
নাজলীর মনটা বিষিয়ে উঠে। প্লেট হাতে তুলে বলে,
” ডাইরেক্ট বলে দিন, তোমাকে চোখের সামনে দেখতে চাচ্ছি না।
আরিশের বাজ পাখির মত বজ্র কন্ঠ,
” বের হতে বলেছি আমি। কাজের সময় ডিস্ট্রাব আমি পছন্দ করি না।
নাজলী জেদী গলায় বলে,
” কাজ তো পরে ও করতে পারবেন। খাবারটা খেয়ে নিন।
আরিশ বসা থেকে উঠে নাজলীর হাত ধরে। চোখে চোখ রেখে বলে,

‘ আমার কলিজার টুকরোকে হারিয়েছি আমি।আমার বোনটাকে ওই কুত্তার বাচ্চা এত যন্ত্রনা দিয়েছে। এই বাইন*** না মারা অব্দি আমার গলা দিয়ে একটা দানা ও ডুকবে না। মাফিয়াদার আবেগী হতে নেই। তাদের হৃদয় থাকে পাথরের থেকেও শক্ত। ভাঙতে ভাঙতে তারা এমনভাবে গড়ে উঠে যে বাস্তবতার কোনো কাহিনী তাদের হৃদয়কে ছুঁতে পারে না। লাস্ট কেঁদেছি আট বছর বয়সে, নিজের মায়ের মৃত্যুতে। আর আজ সেই কঠিন মানবটা চোখের পানি ফেলেছে নিজের বোনের মৃত্যুতে। আইডিয়া করো এই মেয়েটা আমার জীবনের কোন অংশ ছিলো। তাই বাড়াবাড়ি না করে সামনে এসো না আর। কোথাকার রাগ কোথায় গিয়ে পড়বে জানা নেই। সাবধান করে দিচ্ছি।
নাজলী চোখের দৃষ্টি নামিয়ে ফেলে। তার নিজের হৃদয় ও হাহাকার করছে। মেয়েটাকে প্রচুর আপন মনে হত। মেহেরের ভাগ্য নিয়ে নাজলী অবাক হয়। কতটা ভাগ্যবতী হলে এমন ভাই পায়! আরিশ রাগের উত্তাপে নাজলীকে এক ঝটকায় ছেড়ে দেয়। নাজলী নিজেকে সামলাতে পারে নি। ভাঙ্গা কাচের উপর পা রাখে। সাথে সাথে কাচের কনা গেঁথে যায় নরম মাংসে। নাজলীর মনে হচ্ছিলো দুনিয়টা বুঝি ঘুরে আসছে। ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে পা ধরে সাথে সাথে বসে যায়। আরিশ সেদিকে তাকাতেই ভ্রুঁ সোজা হয়ে আসে। মেঝেতে রক্ত দেখতে পেয়ে সাথে সাথে পাজা কোলে তুলে নেয়। এনি এখনও কেঁদেই যাচ্ছে। আরিশ বিছানার উপর বসিয়ে দিয়ে ফাস্টেড বক্স নিয়ে আসে। নাজলীর পা খানা নিজের উড়ুর উপর রাখে। অনেক বড় একটা কাচের টুকরো ঢুকে গিয়েছে। আরিশ নাজলীর কান্নারত মুখের দিকে তাকায়। অবাক হয়ে বলে,

” কাঁদছো কেনো বাচ্চাদের মত?
ব্যাথার মধ্যে এমন বাক্য কানে যেতেই কান্না থেমে যায়। ব্যাথা পেয়েছে বলেই তো কাঁদছে। তাই বলে সরাসরি এই প্রশ্ন করবে? নাজলীকে চুপ থাকতে দেখে আরিশ গম্ভীর গলায় বলে,
” কাচটা বের করতে হবে।
নাজলীর চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ভয়ে লাফিয়ে উঠে। পা উড়ুর উপর থেকে উঠিয়ে নিতে চাইলে আরিশ শক্তভাবে চেপে ধরে। নাজলী মাথা নাড়িয়ে অস্থির গলায় বলে,
” না, না আমি কাচ বের করব না। প্লিজ আমার পা ছেড়ে দিন।
নাজলীর বাচ্চামো দেখে আরিশ কপাল কুচকে ফেলে। এইটুকু সাহস নিয়ে মেয়েটা এইভাবে তর্ক করে? আরিশ ভ্রু নাচিয়ে বলে,

” কাচ বের করব না এইটা?
নাজলী মাথা দিয়ে না করে বলে,
” দরকার নেই থাকুক।
” এইটাকে পেলে -পুষে বড় করবে?
” না, পা ছাড়ুন আমার।
আরিশ ছাড়লো না। নাজলীর পায়ে স্পর্শ করে বলে,
” এই ভাঙ্গা পা নিয়ে বাসর করবে কিভাবে আমার সাথে?
নাজলী ছটফট গলায় বলে,
” বাসর করতে পায়ের কাজ কি?
নিজে বলে নিজেই হতভম্ভ হয়ে যায়। আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। নাজলী ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” বাসরের কথা উঠেছে কোথা থেকে? এইসব কথা কেনো বলছেন?
আরিশের সোজা উত্তর,
” করব, তাই। কাল শত্রু পক্ষকে আদর যত্ন করার জন্য কানাডায় যাব। প্রতিবারের মত আমি, নিক আর অধিরাজ। শত্রুর সামনে গিয়ে দাড়াব এতে বোমা হামলায় মরেও যেতে পারি। তার আগে তোমার সাথে বাসরটা করে যেতে চাই।
নাজলীর বুকটা ধক করে উঠে,

” বোমা হামলা মানে?
আরিশ পায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
” মিসাইল ও ছুঁড়ে দিতে পারে। মরে গেলে আফসোস থাকবে একটা মেয়েকে ভার্জিন রেখে মরে গিয়েছি। এক বাসরে যদি তিন- চারটা বাচ্চা কাচ্চা হয়ে যায় তবে ওদের দেখে রেখো। তোমার কষ্ট করতে হবে না।
আচমকায় নাজলী চেঁচিয়ে উঠে। নিজের সব শক্তি দিয়ে খামছে ধরে আরিশের চুল। আরিশ মৃদু হাসলো। কাচের কিছু অংশ তার আঙ্গুলে সামান্য আচর কাটে। কাচটা বের করে আলাদা জায়গায় রাখে। নাজলী এখনও কেঁদে যাচ্ছে। আরিশের চুল এখন ও শক্ত করে ধরে আছে। আরিশ তুলো দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করতে করতে বলে,
” আমাকে টাক বানিয়ে প্রতিশোধ তুলতে চাইছো? চুল ছাড়ো আমার।
ছাড়ার আগে নাজলী আরও শক্তভাবে টেনে দেয়। আরিশ কোনো রিয়্যাকশন দেখালো না। তুলোর রক্তের দিকে তাকিয়ে বলে,
” রক্তগুলো কেমন ডায়নীর রক্তের মত দেখা যাচ্ছে। অবশ্য সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটা রক্ত চুষা ডায়নীর থেকে কম নয়।
নাজলী কটমট করে তাকায়,

” আপনার মত খারাপ লোক আমি দুটো দেখিনি।
” ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহাম এক পিছ হয়েই জন্মেছে। দুই পিছ পাবে কোথায় তুমি? এই বাড়িতে কি করছো তার উত্তর দাও। এইটা বলো বা পতিসেবা করার জন্য থেকে গেছি।
নাজলী এইটার ভয় এই পাচ্ছিলো। লোকটা এই সুযোগে আবার অপমান না করে দেয়। সত্যি কি পতিসেবা করার জন্য থেকেছে? হয়ত তাই। পুরো বাড়ি খালি একদম। বৃদ্ধ লোকটা এখনও জন্ম -মৃত্যুর লড়াই করছে। বাড়িতে কোনো মেইড নেই। যদি কিছুর প্রয়োজন পড়ে সেজন্য এইতো থেকে যাওয়া।
নাজলী চুল ঠিক করে বলে,

” রাস্তায় মরে পড়ে থাকলেও দেখতে যাব না। সেখানে সেবা করাটা অনেক দুর। আর এখানে থেকেছি এইটা আমার মর্জি। এইটা মেহেরের বাড়ি। ভাবলাম পুরো বাড়িটা দেখব তাই থেকে যাওয়া।
আরিশ নিশ্বাস টানে। নাজলী কথা বলছে আর ঠোঁটের পাশে ডিম্পল পড়ছে। গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট দুইটা নড়ছে বার বার। আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। নাজলীর দিকে ঝুঁকে গম্ভীর গলায় বলে,
” তোমার ঠোঁটে আমার রক্ত লেগে আছে। খবরদার রক্ত চুষা ডায়নীর মত রক্তটা চুষে নিবে না। এমনিতেই রক্ত কম আমার শরীরে। আমার রক্ত আমাকে দাও।
নাজলী সামান্য পিছিয়ে গিয়ে বলে,
” কিসব অদ্ভুত কথা বলছেন? পা কেটেছে আমার। আপনার রক্ত আসবে কোথা থেকে।
আরিশ নিজের আঙ্গুল দেখায়।নাজলী সেদিকে তাকিয়ে আরও অবাক হয়ে। এত বড় ক্ষত কখন হলো? নাজলী ঠোঁট নাড়াতেই আরিশ আঙ্গুল দিয়ে আটকে দেয়। চোখ চোখ রেখে বলে,

” নড়ো না।
নাজলী বোকার মত তাকিয়ে থাকে। আরিশ নাজলী ওষ্টের এক পাশে নিজের ওষ্ট ছুঁয়ায়। সাথে সাথে নাজলী চোখ বন্ধ করে ফেলে। আরিশ হাসলো সামান্য। আচমকা পুরো ঠোঁট নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে।দুইজন এই চোখ বন্ধ করে ফেলে। এক প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের স্পর্শে ঘায়েল হয়ে উঠে রমণী। শক্ত করে খামছে ধরে আরিশের শার্ট। আরিশ ঠোঁট ছেড়ে গলায় নেমে আসে। জামার ফিতে হাত রাখতেই নাজলী শিউরে উঠে। আরিশ নাজলীর মুখের দিকে তাকায়। ঠোঁট – চোখের পাতা কাঁপছে। আরিশ বাঁকা হেসে সরে আসে। দুই ঠোঁটের সাহায্যে শিষ বাজিয়ে বলে,
” এমনভাবে চোখ- মুখের রিয়্যাকশন দিচ্ছে যেন অন্য কিছু করেছি। নিজের শরীরের রক্ত টুকু শুষে নিয়েছি যাস্ট।
নাজলী আচমকায় চোখ খুলে ফেলে। আরিশের বক্র হাসিতে শরীরে আগুন ধরে যায়। বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে আরিশের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে ফেলার আগেই আরিশ ওয়াশরুমে চলে যায়। নাজলীর পুরো শরীর রাগে কাঁপছে।

তানভী একটা কেবিনের সামনে বসে আছে। আরিশ ছিলো কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত। দাদামশাই এখন বিপদ মুক্ত। তবে এখনও তার জ্ঞান ফিরে নি। কান্নার বেগে তানভীর চোখ ফুলে উঠেছে। নাক – মুখ কেমন লাল বর্ন ধারন করেছে। প্রেয়সীর বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে নিশ্বাস ফেলে। মেহেরকে প্রচুর ভালোবাসত মেয়েটা। মেহেরের বয়স যখন তেরো ঠিক তখন থেকে তানভী তাকে পড়ানো শুরু করে। একজন টিচার কম বড় বোন হয়ে উঠে। আর সব থেকে বিশ্বস্ত বন্ধু। অধিরাজ প্রেয়সীর পাশে বসে তার হাতটা ধরে। এরপর নরম গলায় বলে,
” কিছু খেয়ে নিবে চলো।
তানভী অধিরাজের দিকে তাকায়। চোখে পানি টলমল করছে। ঠোঁট ভেঙ্গে আসে আবারও। অধিরাজকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে,
” মেহের আমাকে ছেড়ে কিভাবে চলে যেতে পারলো রাজ। ও তো আমাকে প্রচুর ভালোবাসত। এই মেয়েটার স্মৃতি আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না। প্রচুর যন্ত্রনা হচ্ছে বুকে। আমার বুকের যন্ত্রনা সামান্য কমিয়ে দাও।
অধিরাজ তানভীর কপালে চুমু খায়। মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
‘ মেহেরের জন্য গর্ব হয় তানভী। আমাদের মেহের এত সাহসী জানতাম এই না। শত্রুদের কালো হাত থেকে বাঁচতে আগেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছে। মেহের যদি রে* প হত তখন সহ্য করতে পারতে?
” এইটা কল্পনা করতে গেলেই কলিজা ছিঁড়ে যায়। এই কুত্তার বাচ্চাগুলোকে কবে শাস্তি দিবে?
অধিরাজ নাজলীর চুল ঠিক করে দিয়ে বলে,

” কাল কানাডায় যাচ্ছি। গোপন সূত্র অনুযায়ী প্রাইভেট জেটের সাহায্য কানাডায় চলে গিয়েছে। আমরা কাল যাব সেখানে।
তানভী মাথা তুলে বলে,
” কে কে যাবে?
” আমি, বস আর আরিশ স্যার।
তানভী মলিন মুখে বলে,
” নিশ্চই প্রচুর সংঘর্ষ হবে?
অধিরাজ হালকা হেসে বলে,
” সেটা তো হবেই। সংঘর্ষ ছাড়া কি যুদ্ধ হয়?
তানভী অস্থির গলায় বলে,
” কথা দাও নিজের খেয়াল রাখবে। একদম সুস্থ – সবল হয়ে সামনে দাড়াবে?
অধিরাজ গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে। শত্রু শত্রু যখন সংঘর্ষ হয় তখন সেটা জীবন – মৃত্যুর খেলা। কত বার যে মৃত্যুর পথ থেকে ফিরেছে তার হিসেব নেই। এইবার অক্ষত ফিরতে পারবে কি না কিভাবে সিউর হবে সে! তবুও প্রেয়সীর মন রক্ষার্থে বলে,
” ঠিক আছে।
তানভী খুশি হলো। অধিরাজের বুকে মাথা রেখে বলে,
” এইবার এসে আমাকে বিয়ে করবে। বউ বানাবে তোমার। এই দুরত্ব মিটাতে চাই।

সমুদ্রের দীপের মাঝখানে সেই আইল্যান্ডটা দাঁড়িয়ে আছে একা ও বিচ্ছিন্ন। চারপাশে
ঢেউগুলো সেখানে আছড়ে পড়ছে। আইল্যান্ডের বুক চিরে উঠে দাঁড়িয়েছে কালো-লাল রঙের গ্লাস মিনারটি। কালোটা নিঃশ্বাসের মতো ঘন। আর লালটা জমাট রক্তের আভা নিয়ে ভেতর থেকে জ্বলে ওঠছে
এই কাচ মোটেও স্বচ্ছ কাচের মত নয়। এটা মুলত আলো গিলে খায়। তারপর বিকৃত করে ছায়া হয়ে ফিরিয়ে দেয়।রাত প্রায় তিনটার কাছাকাছি। এই সময়টায় অন্ধকার আর নীরবতা একসাথে ভার হয়ে নেমে আসে। ঘড়ির কাঁটা ধীরগতিতে এগোয়। প্রতিটা টিক শব্দ শূন্যতার বুকে লোহার খোঁচা বসায়।
শহর – আলো নিথর হয়ে পড়ে। চারপাশে গাছের, বডিগার্ডের ছায়াগুলো লম্বা ও বিকৃত হয়ে দেয়ালে লেপ্টে আছে। সেই মিনারের একটা কক্ষ থেকে ভেসে আসছে ঘন নিশ্বাসের শব্দ। ডিভানের উপর শুয়ে আছে এক অপরুপ সুন্দরী রমণী। যার উজ্জ্বলতা অন্ধকারেও চকচক করছে। এনি অস্বস্থিতে ঘুমের মধ্যেই নড়ে উঠে। মনে হচ্ছে কে যেন পুরো শরীরে পেঁচিয়ে ধরে আছে। এনি ঘুমের মধ্যেই ছটফট করে উঠে। ঘুমের মধ্যেই বুকে ভারী কিছু অনুভব করলো। কারোর গরম নিশ্বাস অনুভব করতেই চট করে চোখ মেলে তাকায়। আতঙ্কে শ্বাস ফেলতে পারছে না। ভয়ে কোনোরকম নিজের বুকের দিকে তাকায়। নিকের ঘুমন্ত চেহারা দেখে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। নিক তার বুকের মধ্যে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে ভাবতেই আরও ছটফট করে উঠে। এই লোকটা তাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছিলো। তাহলে এখানে কি করছে? এনি প্রচুর পরিমানে অবাক হয়ে যায়। নিকের মুখটা সে ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছে না। এনি কপালে হাত রেখে নিশ্বাস ফেলে। জ্বরের তীব্রতা এখন একটু কমেছে। এনির নড়াচড়ায় নিক ডিপ আওয়াজে বলে,

” উমম.. ব্লাড রোজ নড়ো না।
এনি ভ্রুঁ নাচায়। লোকটার কি ঘুমের মধ্যে হাটার অভ্যাস আছে? যদি হাটার অভ্যাস না থাকত তবে এখানে কেনো এসেছে? এনির র স্পষ্ট মনে আছে কিভাবে রাগ দেখিয়ে বের করে দিয়েছে ঘর থেকে। তবে এখন এখানে কি? এনি শক্ত গলায় বলে,
” এখানে কি আপনার? উঠে নিজের রুমে যান।
নিক চোখ বন্ধ করেই উচ্চারণ করে,
“স্ত্রী হওয়ার প্রথম দায়িত্ব কী জানো? স্বামী অসুস্থ হলে তার মাথার পাশে বসে সেবা করা। এসব শিক্ষা অর্জন করো নি?”
শব্দগুলো এনির কানে ঢুকতেই সে মুহূর্তে হতভম্ভ হয়ে যায়। মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে। তারও তো একটা সীমা থাকা দরকার। তাদের মধ্যকার স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ককে এভাবে একপেশে আদেশে নামিয়ে আনা মানে শুধু এই সম্পর্ককেই নয়, হাজারটা মানবিক সম্পর্ককে অপমান করা।
এনি না মানলেও তবুও তো সেবা করতে গিয়েছিল। অথচ লোকটা হঠাৎ রাগে ফেটে পড়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দিল।

সেই রাতটা ছিল নিঃশব্দ লাঞ্ছনার রাত।
শতবার সে রুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। হাত উঠেছে, নামিয়ে এনেছে। জেদ আর আত্মসম্মান মিলিয়ে তার কণ্ঠটা পাথরের মতো ভারী হয়ে ছিল। ডাক দেওয়ার শক্তিটুকুও পায়নি।
কিছু সময়ের জন্য ডিভানে বসতেই চোখ লেগে আসে অজান্তেই। যে মানুষটার জন্য পুরো রাত জেগে কাটিয়েছে, আজ তাকেই শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে!
রাগে এনির চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। সে চায় নিকের মাথাটা নিজের দিক থেকে সরিয়ে দিতে।এই দমবন্ধ করা উপস্থিতি আর সহ্য হচ্ছে না। নিক হঠাৎ তার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। এনি আচমকা তাকায় তার দিকে। এই লোকটার চোখে কোনো স্বাভাবিকতা নেই। মর্জিটা কেমন অসুস্থ, দৃষ্টি উন্মাদ, আচরণ অনিয়ন্ত্রিত।বর্তমানে মানুষ নয় কেমন যেন বিকৃত এক অধিকারবোধ দাঁড়িয়ে আছে সামনে।
এনি ঠোঁট ভিজিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

” গ্যাংস্টার বসের তাহলে কারোর সেবার ও প্রয়োজন পড়ে? আমি তো ভেবেছিলাম শরীরে ক্ষত নিয়ে যে ব্যক্তি দিব্বি হাটাচলা করতে পারে তার শরীরে সামান্য চাবুকের আঘাত কিছুই না। কিন্তু সেটাকে ভুল প্রমান করে দিয়ে অসুস্থ বানিয়ে দিলো আপনাকে। আঘাত আমি করেছি, সেবাটা ও আমি করব। এমন প্রত্যাশা করেন কিভাবে?
নিক অদ্ভুতভাবে গা কাঁপিয়ে হাসলো। এনির ঠোঁট দুইটা আঙ্গুলের সাহায্যে চেপে ধরে বলে,
” আমি রেগে গেলে কি করি জানো? তাকে এমন শাস্তি দেয় যে অন্য কারোর রুহ পর্যন্ত কাঁপিয়ে তুলে। তোমাকে কি শাস্তি দেওয়া যায় বলোতো?
নিককে কেমন অস্বাভাবিক লাগছে। হাসতে হাসতে খুন করে ফেলা বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথের মত লাগছে। এনির ঠোঁট দুইটা চেপে ধরে আছে। ফলে সে কথাও বলতে পারছে না।
নিকের হাতের বাঁধন ধীরে ধীরে শক্ত হতে থাকে। বাম হাতটা চলে যায় এনির গলার মধ্যে। হুট করেই চেপে ধরে নিজের শক্তি দিয়ে। আচমকা এমন হওয়াতে এনি ছটফট করে উঠে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরলো নিজের। হিংস্র চোখ দুইটা দিয়ে এনির দিকে তাকায়। রাগে কাঁপছে তার শরীর। বদ্ধ রুমে গর্জন করে উঠে,

” কি প্রত্যাশা করব? বোনের সাথে দেখা হলে কিভাবে পর পুরুষের খবর নিবি সেটা? তকে তো রুম থেকে বের করে দিয়েছিলাম।।শুক্রিয়া কর এখনও যে মাটির নিচে পুঁতে দিয়ে আসি নি। বান্দির বাচ্চা!
এনি তাকাতে পর্যন্ত পারছে না। সে ভেবে পাচ্ছে না লোকটা শুনলো কিভাবে? তার জানামতে তখন এই লোক সেখানে উপস্থিত ছিলো না। তাহলে নাভিদ ভাইয়ের খবরের ব্যাপারটা কিভাবে জেনেছে?
এনি অবিশ্বাস কন্ঠে বলে,

” রুমে তো আমি আর নাজলী আপা একা ছিলাম। আপনি জানলেন কিভাবে এত কিছু? সত্যি করে বলবেন কি লাগিয়ে রেখেছেন আমাকে কেন্দ্র করে।
নিক আবার ও শক্ত ভাবে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। রাগে উন্মাদ লাগছে নিজেকে।।বহু কষ্টে রাত থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখছে। কিন্তু এই মুহূর্তে রাগটাকে কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারছে না। নিকের ঘন ঘন নিশ্বাসের শব্দে দেয়ালগুলোও যেন কেঁপে উঠছে। গলায় রাখা হাতের বাঁধন ধীরে ধীরে আরও শক্ত হতে থাকে। এনির চোখ দুইটা যেন উল্টে আসছে। চোখ দুটো ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে আসে। আতঙ্ক জমে ওঠে দৃষ্টিতে। শরীর ছটফট করে ওঠে মুক্তির খোঁজে। সময়টা তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। এটা অসহায়তার নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি।
নিকের কপালের রগগুলো ফুলে ওঠে। মুখের প্রতিটা পেশি টানটান হয়ে আছে।
নিকের চোখ দুইটা এখন আর মানুষের দৃষ্টি নেই। আছে শুধু বিকৃত অধিকারবোধ আর নিয়ন্ত্রণের নেশা রাগে দাঁত পিষে বলে,

” ইউ নো বেবিগার্ল, সব সহ্য করতে পারি। কিন্তু তোমার মুখে পর পুরুষের জন্য চিন্তাশীল বাক্য কখনো সহ্য করব না। এই জবান দিয়ে যেহেতু নাভিদের জন্য চিন্তা প্রকাশ করে এত গুলো কথা বলোছো, তাই এই জবান বন্ধ হয়ে যাওয়াটা এই উচিত। কি বলছিলে, আমি তোমার প্রতি একটু নরম হয়ে এসেছি। এখন এই সুযোগটার ব্যবহার করে ইরান ব্যাক করবে। আর ইউর সিউর বেবিগার্ল, গ্যাংস্টার বস তোমাকে এত সহজে ছেড়ে দিবে?
এনির কপাল দিয়ে বিন্দু ঘাম জমে উঠে। পা দুইটা সঠিক জায়গায় নেয়। নিকের ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি। একজন সাইকো যখন উন্মাদ হয়ে উঠে তখন তা ধ্বংসের রুপ নেয়। এনি বহু কষ্টে উচ্চারন করে,
” ছ…. ছাড়ুন। যন্ত্রনা হচ্ছে খুব।
নিক এনির মুখের দিকে তাকায়। নাক-মুখ খিঁচে সাথে সাথে তার হাত সরে আসে। এনি যেন আবার জীবন ফিরে পায়। কাঁশতে কাঁশতে দম বন্ধ হয়ে আসছে।।গলার ব্যাথায় কেঁদে উঠে রমণী। রাতে এত ভালো আচরন করেছে যে এনি কল্পনাও করে নি এমন কিছুর সম্মুখীন হবে! পুরো রাতের তীব্র জ্বর, রাগে কেমন উন্মাদ দেখাচ্ছে। এনি গলায় ধরে উত্তেজিত আওয়াজে বলে,

” কতটা অমানুষ আপনি।
নিক হাতের ছুঁড়িটায় নিজের আঙ্গুল ঘষে। এনি সেদিকে তাকিয়ে নিম্ন আওয়াজে বলে,
” একটা মানুষ মরে যাচ্ছে। তার ব্যাপারে জানাটা কি অন্যায়?
” মরে যাক। পঁচে যাক সেই ব্যাক্তি। তুই কেনো জিজ্ঞাসা করবি?
” উনার অবস্থার জন্য আমি দায়ী নিক জেভরান। আপনার কারনে উনি দুমড়ে- মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাগলের মত ভালোবাসত লোকটা আমাকে। আমার উপর উন্য পুরুষের ছায়া ব্যাপারটা উনি নিতে পারছেন না। আপনার ক্ষমতায় পিষ্ট হয়ে কিছু বলতেও পারছে না। তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে। ভালো মানুষের অবনতি খুব কষ্টদায়ক। উনি ভালো নেই। তাই জানতে চেয়েছি এত কিছু। এত কিসের জেলাসি আপনার?
নিক টেবিলে লাথি দিয়ে হুংকার ছাড়ে,

” জেলাসি মাই ফুট! এইসব ফাকিং অনুভুতি আমার ভেতরে নেই।
এনি গলায় ব্যাথায় কথা বলতে পারছে না। তবুও শক্ত গলায় বলে,
” থাকবে কিভাবে? জানোয়ারদের আবার অনুভুতি থাকে নাকি?মেরেই তো ফেলছিলেন, সামান্য আকুতিতে ছেড়ে দিলেন কেনো? রুহটা যখন বের হয়ে আসত তখন ছেড়ে দিতেন।
নিক নিশ্বাস টানে। এনির দিকে ঝুঁকে গালে হাত রেখে বলে,
” ট্রাস্ট মি ব্লাডরোজ তর এই জবানে অন্য পুরুষের নাম উচ্চারিত হলে ইচ্ছে হয় শহরটাকে জাহান্নাম বানিয়ে দেয়। এই গলার স্বর, ঠোঁট, জিহ্বা সব নিক জেভরানের একান্ত সম্পদ। তার নাম উচ্চারন হবে শতবার, সহস্রবার। এমন পুরুষের নাম কেনো বার বার উচ্চারিত হয় যে তকে নিজের বউ বানাতে চাই।
এই একটা জায়গায় নিক জেভরান প্রচুর দুর্বল। ধ্বঁংস করে দিতে ইচ্ছে করে সব। রাত থেকে কন্ট্রোলে আছি। চাপাতি হাতে তুলেছিলাম খুন করব বলে। দুইজন গার্ডকে আদেশ ও দিয়েছিলাম গর্ত খনন করে দেওয়ার জন্য। সব করা শেষ কিন্তু গ্যাংস্টার বস দুর্বল হয়ে পড়েছে। অপরাধীকে নিতে এসে বরং অপরাধীর বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। যত্তসব ফা*কিং অনুভুতি, ছেহহহ!
এনি অনুভুতিহীনভাবে তাকিয়ে আছে। এই সামান্য কথা নিয়ে এত কাহিনী হয়ে গেলো আর ও জানতেই পারে নি। এনির ভাঙ্গা গলা,

” আপনি আমাকে মেরে ফেলার জন্য এত নকশা তৈরি করে রেখেছেন? মাটির নিচে জ্যাঁন্ত কবর দিয়ে আসবেন? তাহলে চলুন।
এনি উঠে দাঁড়াতে চাই ডিভান থেকে। নিক এনির হাত ধরে আগের মত বসিয়ে দেয়। গরম নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে তার শরীরে। ঘন নিশ্বাস টেনে বলে,
” আমি প্রচুর খারাপ। বিশ্বাস কর জঘন্যতম পুরুষ আমি। নিজের জিনিসের এক অংশ ও যদি অন্যের কল্পনায় থাকে তবে তাকে মেরে দেয়। সহ্য করতে পারি না। আজ প্রথমবার তাই মুক্তি পেলে। লাস্ট ওয়ার্নিং পুনরায় এই জবানে নাভিদের জন্য হাহাকার থাকলে জিহ্বা আমি জ্বালিয়ে দিব।।আই রিপিট জালিয়ে দিব।
এনি চোখে চোখ রেখে অবাক গলায় বলে,
” আমি আপনার নিজের?
নিক উত্তর দিলো না। এনির জামার জিপ খুলতে খুলতে বলে,
” এইটা খুলে ফেলি ব্লাডরোজ? একদম বিশ্রি লাগছে তোমাকে। এই মুহূর্তে এইটা পড়ার প্রয়োজন নেই।
এনি হতভম্ভ হয়ে যায়। আবছা ডিম লাইটের আলোতে নিকের উজ্জ্বল মুখশ্রী ভেসে উঠছে। কেমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে এই চোখ-মুখ। এনি ছটফটিয়ে উঠে,
” জামা খুলে ফেললে আমি পড়ব কি?
নিক এনির ঘাড়ে ঠোঁট ছোঁয়ালো। চুমু খেতে খেতে ফিসফিস গলায় বলে,
” পড়তে হবে না। সব এই দেখা আমার। অদেখা কিছু নেই।
নিকের ঠোঁটের স্পর্শে এনি অস্থির হয়ে উঠছে।শুকনো ঢোক গিলে,

” খুলবেন না প্লিজ।
নিক চুমুর মধ্যেই শক্ত করে কামড় বসায়। এনি ব্যাথায় সামান্য আর্তনাদ করে উঠে। জামা খুলতে খুলতে বলে,
” জামাটায় খুব বিশ্রি দেখাচ্ছে তোমাকে। বিশ্রি জিনিস পড়া উচিত নয়।
এনি কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়। লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে রমণী। শক্ত করে খামছে ধরে বিছানার চাদর। নিক গালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলে,
” এটাতে খুব বাজে দেখাচ্ছে। খুলে ফেলি ব্লাড রোজ?
এনির রাগ হলো প্রচুর। যখন নিজেই সব করবে তখন জিজ্ঞাসা করছে কেনো? এনি কঠিন গলায় বলে,
” যদি না বলি শুনবেন?
নিক ডিপ ভয়েসে বলে,
” না বলবে কেনো তুমি? বুঝতে পারছো না কি চাইছি আমি?
” যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে মতের বিরুদ্ধে গিয়ে দেহ নিয়ে কি করবেন?
” ভালোবাসা দিয়ে আমি কোন বা*ল ছিঁড়ব?
এনির বুক দুমড়ে-মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিককে উপরে যতটা শান্ত দেখা যাচ্ছে সে কিন্তু ততটা শান্ত নয়। ভেতরে রাগ আর প্রতিহিংসায় ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কাছে আসাটা পুরোটা হিংস্রতা থেকে। নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করার মাধ্যম হিসেবে। এতটা হিংস্র স্পর্শ এনি সহ্য করতে পারে না। এনি নিকের পিঠ খামছে ধরে। মেয়েলী হাতের লম্বা নখ গেঁথে যায় পিঠে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের।নিকের দুই হাতের পেশি ফুলে উঠেছে। ড্রাগনের ট্যাটুগুলো চকচক করছে। এনি ভয়ে কান্না করে উঠে। নিকের কানে ফুঁপানোর শব্দ যেতেই ধমকে উঠে,

” হুয়াট হ্যাপেন্ড? কাঁদছো কেনো? ভালো লাগে না আমাকে ?
এনি চুপ থাকলো না। কাঁপা গলায় বলে,
” রাগ মিটাতে এইসব করছেন তাই না?
নিক ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হাসলো। এনির গলায় মুখ ডুবিয়ে কঠিন গলায় বলে,
” পর পুরুষের স্পর্শ লেগেছিলো বলে নিজের রক্ত দিয়ে পুরো শরীর রাঙ্গিয়েছি। আরও একবার নাভিদ নামক জানোয়ারের নাম এই মুখে আসলে ওর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব।
এনি অস্থির গলায় বলে,
” নাভি……
এনি চুপ হয়ে যায়। গ্যাংস্টার বস ঠোঁট কামড়ে ধরে রাগ ঢেলে দিয়ে বলে,
” বান্দির বাচ্চা, বলতে নিষেধ করেছি।
এনি চুপ হয়ে যায়। কাঁপা গলায় বলে,
” ভালোবাসি না আপনাকে।
নিক হিংস্র থাবায় কোমরে হাত রাখে,
” তর শাওয়ার ভালোবাসার প্রয়োজন নেই আমার।

এনি দুরে সরিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। নিক রহস্যময়ভাবে হাসে। মুহূর্তের ব্যবধানে গ্যাংস্টার বসের রুপ বদলে যায়। হাত দুইটা ব্যাল্ট দিয়ে বেঁধে ফেলে। শান্ত ব্যবহার ত্যাগ করে এনির ভাষায় উন্মাদ নেকড়ে পরিনত হয়। শক্ত হাতের স্পর্শে পিষ্ট হতে থাকে এনির নরম শরীর। নিক এনির ঠোঁট দুইটা আকড়ে ধরে। চুমু কম কামড়ে পরিনত করে প্রতিটা স্পর্শ। এনি আগে থেকেই জানে এমন কিছুই হবে। এই স্পর্শ কাছে আসার জন্য নয়। নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য ছিলো। রাতে ১২০ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে কথা বলতে পারছিলো না। আর এখন এত শক্তি পাচ্ছে কোথা থেকে? নিজের কথায় এনি ঠোঁট বাঁকায়।উপহাস করে বললে ও ১২০ডিগ্রি জ্বর হলে হলে ভালো ছিলো। এখন অন্তত মিসাইল যেত না তার উপরে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫২

নিকের পাগলাটে স্পর্শে এনি সহ্য করতে না পেরে নিজের মুখ চেপে ধরে। কিন্ত সেটা সম্ভব হলো না। তার দুইটা হাতের আঙ্গুলগুলো চলে গেলো গ্যাংস্টার বসের আঙ্গুলের ফাঁকে। হাতের বাঁধন এতটা শক্ত যে মনে হচ্ছে হাড্ডি ভেঙ্গে যাবে। এনি সহ্য করতে পারছে না। শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। সময় গড়িয়ে পড়ছে। সেকেন্ড যাচ্ছে, মিনিট যাচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে গ্যাংস্টার বস আরও উন্মাদ হয়ে উঠে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এনির ধৈর্যক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। । নিক ঘন নিশ্বাস টেনে এনির চোখের পাতায় চুমু খেলো। এনির ভেজা পাপড়ির নোনতা গিয়ে নিকের জিহ্বায় লাগে। নিক পৈশাচিকভাবে হাসে। এনির উন্মুক্ত কোমড়ে হাত রেখে বলে,
” ওয়েলকাম টু মাই হার্ট টাচ মাই ফা*কিং ব্লাড রোজ !

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৪