Home লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২২

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২২

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২২
অহনা রহমান

নাফির কথার প্রতিধ্বনি কানে পৌঁছাতে’ই রাজ আর রুহির যেন পায়ের তলার মাটি সরে গেল। দুজনের মুখপানে ভেসে উঠলো অবিশ্বাস ও বিস্ময়ের ছাপ। রুহি দুপা সরে গেল পেছনে। চোখমুখ মুহুর্তেই বিবর্ন আকার ধারণ করলো। বড়বড় চোখ করে তাকালো হিয়ার দিকে। চোখদুটো এতো বড় করেছে, মনে হচ্ছে এখনই কোঠর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে।

রাজের অবস্থা আরও খারাপ। ও একবার উপরে নাফির দিকে তাকালো, আরেকবার রুহির সামনে থাকা হিয়ার দিকে তাকালো। রাজ টের পেল তার বুক অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছে। চোখেমুখে ওর কৌতুহল৷
নাফি উপর থেকে পর্যবেক্ষণ করছে ওদের হাবভাব। মনে মনে খুব হাসছে সে। কেননা ওদের মুখ যা দেখার মতো হয়েছে না! নাফির বিরক্ত লাগছে হিয়াকে দেখে। হিয়া মাথা নিচু করে কেন দাঁড়িয়ে আছে? ওরই তো দেখার কথা। কিন্তু না ও মাথা নিচু করে আছে যেন অন্যায় ও নিজে করেছে। কিছুসময় কাটলো এভাবেই। নীরাবতা ভাঙলো রুহির গলার স্বরে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আমি যেটা শুনেছি তুমিও কি তাই শুনেছো?”
রাজের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলেও রুহির নজর হিয়ার দিকে। তার বিশ্বাস হচ্ছে না কিছুই। এটা তাদের কল্পনার অতীত ছিলো। কিভাবে কি হলো কিছুই তো বুঝতে পারছে না রুহি। তারা গেছে সব চারদিন। এই চারদিনে হিয়ার বিয়ে হয়ে গেল? তাও আবার তারই ভাসুরের সাথে? না না এসব অসম্ভব! হিয়ার বিয়ে হলেও নাফির সঙ্গে হওয়া কিছুতেই সম্ভব না। হিয়া এটা কিছুতেই করতে পারে না। কিছুতেই না! রুহির প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো অবস্থায় রাজ নেই। সেও অবিশ্বাস্য চাহনিতে তাকিয়ে আছে হিয়ার দিকে। রাজের নিরবতায় বলে দেয় রুহির প্রশ্নের জবাব। তার মানে তারা সত্যি শুনেছে। রুহি ক্ষিপ্ত হয়ে এগিয়ে যায় হিয়ার দিকে। আজ ওকে সে কিছুতেই ছাড়বে না!

“এই যে রোদ্দুরী উপরে আসো তো।”
রুহি এগিয়ে এসেছিলো ঠিকই কিন্তু নাফির কথাতে ও আবারও থমকে গেল৷ নাফির কথাটা এই মুহুর্তে আগুনে ঘি ঢালার মতোই মনে হলো। রুহি রাগে সাপের মতো ফোঁসফোঁস করতে লাগলো। পারে না তো সে হিয়াকে আস্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। কিন্তু সে পারছে না, কেননা এখানে নাফি আছে৷ রুহি সেই প্রথমদিন থেকেই এই নাফি নামক মানুষটার থেকে দু-হাত দুরে থাকে। এমনিই তো সম্পর্কে ভাসুর হয়। রাগে ওর পাগল পাগল লাগছে। এখানে থাকলে কোন না কোন অঘটন ঘটে যাবে। রুহি আর দাঁড়ালো না। হিয়ার দিকে একবার ঘৃনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে চলে গেল নিজের রুমে।

ওদিকে রাজ ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। হিয়া তার বড় ভাইয়ের বউ, এই কথাটা সে মোটে মানতেই পারছে না। তার নিষ্প্রাণ দৃষ্টি হিয়াতে আঁটকে। রাজ এই মুহুর্তে অনুভব করলো, তার অন্তরের তীব্র ব্যাথাটা। এ ব্যাথা কিসের রাজ তা জানে না। শুধু জানে, হিয়া তার ভাইয়ের বউ কিছুতেই হতে পারে না। এটা রাজ মেনে নিতে পারবে না কিছুতেই। হিয়া এবারে চোখ তুলে তাকালো। দৃষ্টি দিলো রাজের চোখের দিকে। তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো তিন বছরের কিছু সুন্দর দৃশ্য। কিন্তু এসব হিয়ার জন্য এখন পাপের। সে স্বামী থাকতেও পরপুরুষের কথা কিছুতেই ভাবতে চাই না৷ সে চোখ নামিয়ে নিলো। ঠিক তখনই নাফি দ্বিতীয়বার বলে উঠলো,

“কি হলো রোদ্দুরী? রাজ কিন্তু এখন তোমার দুলাভাই নেই। তোমার ছোট দেবর হ্যাঁ?”
এরপর রাজকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“অনেক দুর থেকে এসেছিস যা ফ্রেশ হয়ে নে। তোর ভাবির এখন কাজ আছে।”
নাফির কথাতে রাজের ভেতরে তেমন একটা পরিবর্তন দেখা গেল না। ও হিয়ার থেকে চোখও সরালো না। কিন্তু হিয়া আর দাঁড়ালো না৷ সে সিঁড়ি বেয়ে সোজা চলে গেল দোতলায় নাফির কাছে। হিয়ার নাফির কাছে পৌঁছাতেই, নাফি হিয়ার হাত ধরলো। দুজন কি সুন্দর ভাবে চলে গেল রাজের সামনে দিয়ে৷

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২১

রাজের কানে বারংবার বাজতে লাগলো নাফির বলা কথা৷ ‘ভাবি’ ‘ভাবি’ ‘ভাবি’! রাজ বুঝতে পারছে না তার এত্তো খারাপ কেন লাগছে। অন্তরটা জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে তার। কিন্তু কেন? হিয়ার তার ভাইয়ের বউ হয়েছে তাই? নাকি হিয়ার বিয়ে হয়েছে তাই?

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২২ (২)