Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১৪

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১৪

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১৪
নুসাইবা আরা নুরি

-সমস্যা কি আপনার হাসছেন কেন???
হটাৎ শ্রেয়সীর রাগী কন্ঠ শুনে হাসি থেমে যায় সকলের।মেহেরাজ কিছু বুজে উঠতে পারে না।তাই ভ্রু কুচকে শ্রেয়সীর দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকাতেই শ্রেয়সী আবারো বলে,
-হাসবেন ই বা না কেন রাস্তায় মেয়ে দেখলেই তো ইভটিজিং করতে মন চায় কারেক্টারলেস।
শ্রেয়সীর কথা শুনে ইরু অবাকের চরম সিমায় পৌছে যায়।এদিকে ফাহিম নিজেও হা হয়ে গেছে।শ্রেয়সীর রাগী কন্ঠ আর নিজেকে কেরেক্টারলেস বলা দেখে মেহেরাজ ও রেগে যায়।শান্ত পরিবেশ হটাৎ গুমোট হয়ে আসে।মেহেরাজ গম্ভীর রাগী কন্ঠেই বলে,

-মাইন্ড ইয়োর ল্যাংগুয়েজ।কে কেরেক্টারলেস??
-কে আবার আপনি??
-হোয়াট??
শ্রেয়সীর কথায় মেহেরাজ নিজের রাগ সংযত রাখতে না পেরে জোরেই বলে কথাটা।আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের দিকে ঠিক মতো তাকায়নি তাকে কেরেক্টারলেস বলছে ইফটিজার খেতাব দিচ্ছি।সাহস কত।মেহেরাজ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেই।এদিকে ফাহিম বুজতে পারে সে যে মিশনে নেমেছিলো তা সম্পুর্ন ভিন্ন রাস্তায় প্রবেশ করছে এখন ঝামেলা আরো বাড়বে।তাই যা করার এখন করতে হবে ওদের থামাতে হবে
মেহেরাজের কথার পিঠে শ্রেয়সী আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইরু শ্রেয়সীর মুখ চেপে ধরে একটু রাগী কন্ঠে বলে,
-শ্রেয়সী সিন ক্রিয়েট করা ঠিক হচ্ছে না।মানুষ জন দেখছে আর সে তো তোকে ড্রেন এ পড়া থেকে বাচালো।
ইরুর কথায় শ্রেয়সী রেগে যায়।নিজের মুখ থেকে ইরুর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে অস্পষ্ট কন্ঠে বলে,
-আমাকে ছাড় ইরু।রাগাস না।ছাড়।
তবে ইরু ছাড়ে না।আজ আর কোচিং এ যাওয়া হবে না।রাস্তার লোকজানা ন দেখছে কি একটা খারাপ অবস্থা।এদিকে ফাহিম ও এক দৃষ্টিতে শ্রেয়সীর দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে থাকা মেহেরাজের কানের কাছে গিয়ে বলে,

-এখানে সিন ক্রিয়েট করিস না দোস্ত এটা পাবলিক প্লেস।আর ভুলে যাস না শ্রেয়সী এখোনো কিছুই হয়তো জানে না তাই রেগে গেছে সেই ভুলের জন্য শান্ত হ।
ফাহিমের কথায় মেহেরাজ ফোস ফোস করে কয়েকটা শ্বাস ছেড়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।ভিষন রাগ হচ্ছে তার।তার চরিত্র নিয়ে কথা বলার কে সে।পর মুহুর্তেই মনে পড়ে ওটা ওরই বউ।মেহেরাজ গাড়ির সিটে বসে ফোস ফোস করে শ্বাস নিতে থাকে।বোতল থেকে ঢক ঢক করে পানি খেয়ে শান্ত হয়।এদিকে ফাহিমের ইশারায় ইরু শ্রেয়সী কে নিয়ে আবার বাড়ির রাস্তায় হাটা শুরু করে।আজ মুলত আগে থেকে ইরু ফাহিমের কথা মতো প্লানিং করেই শ্রেয়সী আর মেহেরাজ এর দেখা করিয়েছিলো।
তারা চেয়েছিলো আজকে ওদের মাঝে থাকা ভুল বোঝাবুঝিটার ইতি টানতে।তবে শ্রেয়সীর একটা কথাতেই সব উলাট পালাট হয়ে গেছে।ফাহিম ইরুকে চলে যেতে বলে নিজেও গাড়ি তে এসে বসে।তারপর গাড়ি স্টার্ট দেই।পাশে তাকিয়ে দেখে মেহেরাজ চোখ বুজে জোরে শ্বাস ফেলছে।
ফাহিমদের গাড়ি চলে যেতেই ইরু শ্রেয়সীর মুখ ছেড়ে দেয়।সাথে সাথে শ্রেয়সী ইরুকে ধাক্কা দিয়ে বলে,

-সমস্যা কি তোর ওই চরিত্রহীনকে আমি চরিত্রহীন ইভটিজার বলবো তো তোর কি??
-শ্রেয়সী চুপ কর আগে আমার কথা শোন।
-কি শুনবো তোর কথা??যে কিনা খালাতো বোনের সাথে রুম শেয়ার অব্দি করেছে বিয়ের আগে।এমনকি ওই মেয়ের জন্য আমার মুখ না দেখেই আমাকে ওই বাড়িতে রেখে চলে গেছিলো এমনকি ডিভোর্স পর্যন্ত দিয়েছে আমাকে।কলঙ্ক বুজিস ওই কলঙ্কে আমার সুন্দর জীবন টাকে নষ্ট করে দিয়েছে ওই লোক।তাহলে তার চরিত্র কিভাবে ভালো হয়।চরিত্রহীন কাপুরষ একটা।
-শ্রেয়সী ভুল ভাবছিস।তুই যে কলঙ্ক মেখেছিস এতে মেহেরাজ ভাইয়ার কোনো দোষ নেই।আগে সব কথা শোন আমার।
ইরুর কথায় শ্রেয়সী এবার ইরুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের হাত থেকে ইরুর হাত ছাড়িয়ে।রাগী কন্ঠে বলে,
-কি শুনবো তোর কথা।কলঙ্ক মেখেছিস কখোনো।তখন বুজবি কেমন লাগে।ওই চরিত্রহীন কাপুরুষ এর বন্ধুর প্রেমে অন্ধ হয়ে গেছিস তো তাই আমাকে ঠিক ভুল শেখাতে এসেছিস।এখন ওই চরিত্রহীন টা তোর ভাইয়া হয়ে গেছে ছিহ।

-শ্রেয়সী??
-খবরদার আর ডাকবি না আমায়।আজ থেকে তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেইযা ছিলো সব সম্পর্ক এখানেই শেষ। আমার থেকে তোর কাছে ওরা বেশি আপন হয়ে গেলো তো ওদের নিয়েই থাকিস।
কথাটা বলে শ্রেয়সী এবার হাটা ধরলো।ইরু পিছন থেকে ডেকে বলল,
-শ্রেয়সী একটা বার আমার কথা শোন??
-তোর কথা আর শোনার প্রয়োজন নেই।তোকে আর দেখতেও চাই না আমি।
শ্রেয়সী হাটার গতি বাড়িয়ে দেই।কি থেকে কি হয়ে গেলো।রাস্তার পাশের ফুটপতের কংক্রিটের উচু রাস্তায় বসে পড়লো ইরু।চোখ শ্রেয়সীর দিকে।যদি একটা বার ফিরে তাকায়।না শ্রেয়সী আর তাকায় নি।রিকশা ডেকে তাতে করেই চলে গিয়েছে।সমস্ত আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে।কিছুক্ষনের মাঝেই টিপ টিপ বৃষ্টি পড়া শুরু হলো তবে ইরুর হেলদোল নেই।ইরু জানে শ্রেয়সী প্রচন্ড রাগী।রাগ হওয়াটা সাভাবিক।তবে তার কথাটা শোনা উচিত ছিলো তার।একবার তো বলতে দিতো তাকে।ভুল বুঝলো কেন।
ইরুর বার বার কানে বাঝছে শ্রেয়সীর বলা কথাটা কলঙ্ক মেখেছিস কখোনো।চরিত্রহীনের বন্ধুর প্রেমে পড়ে অন্ধ হয়ে গেছিস।ইরুর বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে।তাকে এতো বছরেও শ্রেয়সী চিনতে পারেনি।আজ ইরু বুজতে পারছে বন্ধুত্ব বিচ্ছেদ এ কেমন কষ্ট। শ্রেয়সী কিভাবে বললো আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ ওর কি এক্টুও কষ্ট লাগলো না।ইরুর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে এক ফোটা নোনাজল।আজ ইরুর মন খারাপে হয়তো আকাশের ও মন খারাপ হয়েছে তাই।ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি নামলো মুহুর্তেই।ভিজে চাপ হয়ে গেলো ইরু।তবে এক চুল ও নড়লো না সেখান থেকে।সে জানে শ্রেয়সীর রাগ কমে যাবে তবে শ্রেয়সী যে বললো তার সাথে আর কথা বলবে না।যদি সত্যি আর না বলে।সৎ মায়ের মার খেয়ে আর কার কাছে মনের কথা শেয়ার করবে ইরু।আর তো কেও নেই ওর।ফুফিয়ে উঠে মেয়েটা।

মেহেরাজ বাড়িতে এসেছে রাত আটটায়।সারাদিন ফাহিমের সাথে ছিলো।ফাহিম মেহেরাজ কে খুব করে বুজিয়েছে পরে মেহেরাজের রাগ কমেছে।সারাদিন অনেক ঘুরেছে।রাতে দুজন রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে যে যার বাড়িতে গেছে।মেহেরাজ ফাহিম কে আসতে বল্লেও ফাহিম আসেনি।বাড়িতে তার মা একা আছে সেই বাহানা দিয়ে চলে গেছে।
মির্জা বাড়ির ডাইনিং এ খাবার নিয়ে সবাই বসে আছে।মেহেরাজ আসতেই নাহিদা খাতুন মেহেরাজকেও বসতে বলে।তবে মেহেরাজ খেয়ে এসেছে বলে উপরে চলে যায় আর না দাঁড়িয়ে।সিড়ি বেয়ে উটগে চলে যেতেই নাহিদা খাতুন নিলয় মির্জার দিকে তাকিয়ে বলেন,
-ওই বাড়ি থেকে কিছু বলেছে কি??
নিলয় মির্জা সবে মাত্র গালে ভাত তুলেছিলেন।এতক্ষন মেহেরাজকে সাথে নিয়ে খেতে বসবে বলেই অপেক্ষা করছিলো।কিন্তু মেহেরাজ তো খেয়ে এসেছে।নাহিদা খাতুনের কথা শুনে নিলয় মির্জা মুখ তুলে তাকায় তারপর বলে,

-এখন আটটা বাজে দেখি কখন কল দেই।হ্যা অথবা না যেকোনো একটা উত্তর তো দিবে কল করে দেখি।
নিলয় মির্জার কথায় হাসান সাহেব বলেন,
-আমার মন বলছে ওরা রাজি হবে।কারন আগের বার মেহেরাজ মেয়ে দেখতে যায়নি।কিন্তু এবার মেহেরাজ স্বয়ং আছে আর কি।
-হুম বাবা সব ঠিক ভাবেই হলেই হয়।ছেলেটা এখোনো আপনার ছেলের সাথে কথা বলছে না রাগের জন্য।
-হবে বউমা চিন্তা করো না।আমি আলতাফ এর চোখ দেখে বুজেছি ওর সম্মতি আছে।
কেও আর কথা বাড়ায় না খাওয়াই মনযোগ দেই।এদিকে মেহেরাজ ঘরে এসে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।ভীষন ক্লান্ত সে।টেবিল ল্যাম্প টা জালিয়ে বেড সাইট টেবিলের ডয়ার থেকে একটা বক্স বের করে তারপর সেই বক্স থেকে সেদিনের শ্রেয়সীর হারিয়ে যাওয়া নুপুর টা হাতের মুঠোই নিয়ে মেহেরাজ বিড়বিড় করে বলে,
-আর কিছুদিন টুইংকেল ক্যাট।তারপর এই আমার সাথে তোমার সারা জীবন থাকা লাগবে।তোমার ভাষায় যদি বউয়ের সাথে কথা বলা ইভটিজিং হয় তাহলে সারাজীবন তোমাকে এই ইভটিজার এর সাথেই সংসার করা লাগবে।
মেহেরাজে নিজের হাতের মুঠোই একটা চুমু খায়।তারপর যেভাবে নুপুর টা ছিলো সেভাবে রেখেই আবারো সুয়ে পড়ে লাইট অফ করে।বৃষ্টি হওয়াতে বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা তাই কম্বল টেনে গায়ে দিয়েই ঘুমে তলিয়ে যায় মেহেরাজ।

বাড়িতে ফেরার পর থেকেই শ্রেয়সীর ভিষন মন খারাপ হয়।রাগের মাথায় কত কিছুই না বললো ইরুকে।মেয়েটা হয়তো অনেক কষ্ট পেয়েছে।কিন্তু শ্রেয়সী কি করবে।এতো ভুগে ভুগে ভিতরে ভিতরে নিজেই জলে পুড়ে যাচ্ছিলো কথা গুলোর জন্য আজকে বলতে পেরে শান্তি পাচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১৩

কোনো মেয়ে কি আদেও সয্য করতে পারবে যে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়ছে কারন ছেলের তার খালাতো বোন কে পছন্দ এমনকি শুনেছে এমনকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ছিলো।এই জন্য তাকে ডিভোর্স দিয়েছে তাহলে ভাই বিয়েটা কেন করলো শুধু মা বাবার মন রাখতে।তো বিয়ের পর যখন ডিভোর্স দিলো তখন মা বাবা কিছু বলেনি।শ্রেয়সীর মাথায় কথা গুলো ঘুরপাক খেলেই শ্রেয়সীর রাগ উঠে যায়।আর শ্রেয়সীর রাগ উঠলে তা কন্ট্রোল করতে পারে না।
বিছানায় বসে বসে শ্রেয়সী অনেক বার কল দেয় ইরুকে।তবে প্রত্যেক বার ফোন বন্ধ আসছে।রাত হয়ে গেছে এখন তো শ্রেয়সী যেতেও পারবে না ইরুদের বাড়ি।ইরু কি তার উপর রাগ করে আছে।শ্রেয়সীর ভিষন খারাপ লাগে নিজের বোকামির জন্য। শ্রেয়সীর ভাবনার মাঝেই খাদিজা খাতুন রান্না ঘর থেকে ডাক দেয় শ্রেয়সীকে।শ্রেয়সী আর দাঁড়ায় না মায়ের ডাকে ফোন ফেলে উঠে চলে যায়।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here