Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩২

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩২

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩২
নুসাইবা আরা নুরি

তোহা নিজের বাবার ফাইল টার ছবি তুলে নিয়ে ফাইল গুলো আবার রাখতে যাবে গুছিয়ে তখনই ভুল ক্রমে হাতের ধাক্কায় হুড়মাড় করে কয়েকটা ফাইল আলমারি থেকে নিচে পড়ে যায় শব্দ করে।তোহা ভয় পেয়ে যায়।কলিজার পানি শুকিয়ে গেছে।বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকেও যখন দেখে কারোর নড়চড় নেয় তখন তোহা সস্তি পায়।যাক ঘুমের ওষুধ টা খারাপ না ভালোয় কাজের।
তোহা ফাইল গুলো ঠিক করে রেখে লকার লক করে নিচে বসে নিচের ফাইলের ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া কাগজ গুলো তুলতে যেতেই দেখতে পায় কয়েক টা নতুন চেক সাথে আরো কয়েকটা খাম।তোহা প্রথমে পাত্তা না দিলেও পরে দেখে সেখানে আনাম মিয়া নামের কারোর স্বাক্ষর করা।নামটা মাথায় আসতেই সবার প্রথম এমপির চেহারাটা চোখে ভেসে উটগে তোহার।

তোহা চেক গুলো ভালো করে দেখে এখোনো ক্যাশআউট হয়নি।সন্দেহ যাগে তার শশুরের আনাম মিয়ার সাথে কি কাজ।তোহা চেক গুলোর ও ছবি তুলে নেয়।তারপর একটা খাম খুলে পড়তেই অবাক হয়ে যায়।অবাকের চরম সিমায় পৌঁছে যায়। একের পর এক মানুষের নামের লিস্ট সাথে বেশ কয়েকজনের ছবি।তার ভিতরে দুজন পুলিশের নাম ও ছবি ও আছে।যারা কিছুদিন আগে নিখোজ হয়েছিলো।
তোহার পায়ের নিচের মাটি সরে যায়।আর কিছু বুজে উঠার আগেই কারোর এদিকে আসার পায়ের শব্দ পায়।তোহা তাড়াতাড়ি করে আলমারি অফ করে দিয়ে আলমারির পিছনে লুকিয়ে পড়ে।বেশ কিছুক্ষন পর ঘরে শ্রেয়সী প্রবেশ করে লাইট জালিয়ে চারিপাশ দেখে আবার বেরিয়ে যায়।তোহার হাত কাপছে।শ্রেয়সী জেগে গেলো কিভাবে তাহলে তার শশুর শাশুড়ী ও যেগে যাবে।শ্রেয়সী বের হতেই তোহা বের হয়ে এলো।নামের লিস্ট আর ছবি গুলোর ছবি তুলে নিলো বেশ কয়েকটা তারপর যা যেভাভে ছিলো সেভাবে রেখে পা টিপে টিপে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
ঘর থেকে বেরিয়ে সস্তির নিশ্বাস ফেলে প্রথম সিড়ির ধাপে পা ফেলতেই পেছন থেকে শ্রেয়সী ডেকে উঠে,

-ভাবি তুমি এখানে??
শ্রেয়সীর ডাকে তোহা প্রায় জমে যায়।এই বুঝি ধরা খেয়ে গেলো।গলা শুকিয়ে আসছে।তোহা ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়।শ্রেয়সী অবাক হওয়া চাহনী নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।তখনই একটা বিড়াল মেও মেও করতে করতে রান্নাঘর এর জানলা দিয়ে বেরিয়ে গেলো।তোহা আর শ্রেয়সী সেদিকে তাকালো।তারপর শ্রেয়সী কাপা কাপা কন্ঠে বলল,
-তো তোমার ভাই তো বাড়িতে নেই।আ আমি পানি খেতে উঠেছি দেখি পানি নেই বোতল এ।তাই দরজা খুলে সিড়ি বেয়ে নিচে আসতেই কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ পায়।আর ভয় পেয়ে যায়।তুমি তো জানো আমার ভুত এ কি পরিমান ভয়।
শ্রেয়সী তোহার মুখের দিকে তাকালো এখোনো ভয় পেয়ে রয়েছে মিনে হচ্ছে।শ্রেয়সী এবার শান্ত কন্ঠে বলল,
-আমারো একই ভাবি।আমি শব্দ শুনে খুজছি কিসে শব্দ হলো।যাই হোক ভয় পেও না বিড়াল ছিলো।তুমি কি পানি খেয়েছো।

-হু হুম।
-আচ্ছা চলো।আমি কি থাকবো ভাবি তোমার সাথে। তোমার তো ভয় করছে।
শ্রেয়সীর কথায় তোহা কি বলবে বুজতে পারেনা।তাও শান্ত কন্ঠে বলে,
-সমস্যা নে নেই ননদিনী।আমি এক্ষুনি ঘুমিয়ে পড়লে আর ভয় করবেনা তুমি ঘরে যাও।
-আচ্ছা।ভয় করলে ফোন দিও।
-আচ্ছা।
শ্রেয়সীর দু চোখে ঘুম তাই আর কথা না বাড়িয়ে তোহার সাথে দোতলায় আসে।তোহা শ্রেয়সীকে নিজের ঘরে দিয়ে সে নিজের ঘরে চলে গিয়ে দরজা আটকে দিয়ে হাফ ছেড়ে বাচে।কি বাচা বেচে গিয়েছে যদি ধরা পড়ে যেতো।কত বার মনে করেছে কারেন্ট এর মেন সুইচ অফ করবে সেই দরকারের সময় ভুলে গেছে।তোহা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে এমন বাচিয়ে দেওয়ার জন্য।
তোহা সব ছবি গুলো ল্যাপটপে নিজের ইমেইল ফাইল এ সেভ করে রেখে সুয়ে পড়ে।নয়তো সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যাবে।তবে তোহা এখন শিওর এই সকল মানুষ গুলোর নিখোজ সংবাদ এর সাথে শতভাগ জড়িত আছে এরা।তোহা শুধু শাস্তি দিতে চেয়েছিলো নিজের পরিবারের খুনিদের।কিন্তু এবার তার মিশন কত শত মানুষের জীবন বাচানোর।তোহা কাল্কেই খোজ লাগানো শুরু করবে।এই ৭ দিনে অনেক কিছুই পেয়ে যাবে সে।তোহা আর ভাবতে পারেনা।রাজ্যের ঘুম ধরা দেয় চোখ জোড়ায়।

সকাল সকাল মির্জা বাড়িতে এসে হাহির হয়েছে আছিয়া রহমান,,নাবিলা আর ওর ছোট ভাই নাইম।নাহিদা খাতুন বোনের আগমনে খুশি হলেও শারমিন খাতুনের মুখ গম্ভীর।আগের বার যে কিচ্ছা টা হয়েছে বাড়িতে তারপর আর তাদের আসা কি মেনে নেওয়া যায়।মেহেরাজ জানার পর যদি ঝামেলা করে।সেই চিন্তায় শারমিন খাতুনের মাথায় হাত।
নাতিটা তার রেগে গেলে বিপদ।যদি বাড়ি থেকে আবার চলে যায়।তখন কি হবে।মেহেরাজ এখোনো ঘুমিয়ে আছে।কাল অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছে কোথায় গিয়েছিলো আর কেনই বা গিয়েছিলো তা বলেনি।শুধু বলে গিয়েছে যতই প্রয়োজন হোক কেও সকাল দশটার আগে ডাকবে না।নাহিদা খাতুন ও সে কথা মাথায় রেখে ছেলেকে আর ঘুম থেকে ডেকে তুলেন নি যদিও আছিয়া রহমান অনেকবার খুজেছেন নাবিলা কেও পাঠাতে চেয়েছে তবে নাহিদা খাতুন প্রতিবারই বাধা দিয়েছেন।
সকাল এগারোটায় ঘুম ভাঙে মেহেরাজের।চোখ মেলে আড়ামোড়া খেয়ে বিছানা থেকে উঠে বসে।চুল গুলো এলোমেলো।গায়ে কিছু নেই।লোমহীন বক্ষ দৃশ্যমান।শুধু মাত্র ট্রাওজার পরা।মেহেরাজ উঠে দরজা খুলে করিডোরে দাড়িয়ে রান্নাঘরে থাকা নাহিদা খাতুনের উদ্দেশ্যে বলে,

-আম্মু এক কাপ কফি দিও তো।
কথাটা বলে আর দাঁড়ায় না মেহেরাজ।ঘরে ঢুকে দরজা চাপিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে।এদিকে নাহিদা খাতুন ছেলের কন্ঠ শুনে হাতের কাজ রেখে ছেলের জন্য কফি বানাতে চলে যায় রান্না ঘরে।মেহেরাজ ঘুম থেকে উঠেছে দেখে নাবিলা আর আছিয়া রহমানের মুখে হাসি ফুটে উঠে।তা চোখ এড়ায় শারমিন খাতুনের।তবে কিছুই বলেনা কারন নাহিদা খাতুনের মতো তিনি আছিয়াকেও নিজের মেয়ের মতোই দেখে।তবে এবার কোনো কিচ্ছা ঘটলে ছেড়ে কথা বলবেন না।
কফি বানানো শেষে নাহিদা খাতুন মেহেরাজের ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই নাবিলা এগিয়ে এসে বলে,
-তুমাকে যেতে হবে না খালামনি।আমি যাচ্ছি দাও মেহেরাজ ভাইকে দিয়ে আসি।
নাবিলার কথায় মানা করে নাহিদা খাতুন বলেন,
-না মা তুই গিয়ে বস আমি দিয়ে আসি।সকাল সকাল আমি না নিয়ে গেলে আবার রাগ করে চিল্লিয়ে বাড়ি মাথায় তুলতে পারে।
নাহিদা খাতুনের কথায় টিটকিরি মেরে আছিয়া রহমান বলেন,

-কদিন পর বউ ছাড়া আর কাওকে চোখে দেখবে নারে ছোট। তখন মায়ের কথাও মনে পড়বে না।
-তুমি ভুল ভাবছো আপা।আমার বাবু এমন না।সব দিক এক হাতে সামলিয়ে নিতে পারে।
-এমন কত দেখলাম।
আছিয়া রহমানের কথায় নাহিদা খাতুন শাশুড়ীর দিকে তাকাতেই শারমিন খাতুন কিছু একটা ভেবে বলেন,
-বউমা।নাবিলার হাতে দাও।ও দিয়ে আসুক।তুমি এখানে এসে বসো।
-কিন্তু আম্মা।
-দাও।
বেগত্যা নাহিদা খাতুন শাশুড়ীর কথায় কফির কাপ্টা নাবিলার হাতে দিয়ে দেয়।তা দেখে আছিয়া রহমান শারমিন খাতুনের দিকে তাকিয়ে বলে,
-ঠিক বলেছেন মা।ও ছোট মানুষ ও দিয়ে আসুক।আমরা একটু গল্প করি এখন।
শারমিন খাতুন কথার কোনো প্রতিউত্তর করেন না। নাবিলা খুশিমনে নাচতে নাচতে কফির কাপ নিয়ে সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে যায়।মেহেরাজের ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে দরজা হালকা করে টোকা দিতেই মেহেরাজে কন্ঠ শোনা যায়,

-আম্মু টি টেবিলের উপর রাখো।
মেহেরাজের কন্ঠ শুনে নাবিলা দরজা ধাক্কা দিতেই ভেজানো দরজা খুলে যায়।সাথে সাথে নাকে ভেসে আসে চন্দন এলাচির মিশ্রনের এক ঘ্রান।নাবিলা ঘরে ঢুকে দরজা ভেজিয়ে দেয়।চায়ের কাপ্টা বিছানার পাশে বেড সাইট টেবিলে রাখে।ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে মানে মেহেরাজ ওয়াশরুমে।কালকেই খবর পেয়েছে ওরা তাই আজ এসেছে মেহেরাজ এসেছে বলে।
নাবিলা বিছানায় বসে পড়ে।সফেদ সাদা বিছানার গদি অতিরিক্ত নরম।নাবিলা আয়েশ করে বসে ঘরের চারিদিকে তাকাতে থাকে।ঘর টা আগে থেকেই তার মনের মতো সাজানো আর ঘরে থাকা মানুষটা তো শুধু তার জন্যই তৈরী।পুরো ঘরের অধিকাংশ জিনিস সাদা। নাবিলা বুজতে পারে মেহেরাজের সাদা জিনিস এ একটু বেশি টান কাজ করে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই আজ একটা সাদা রঙের থ্রিপিস পরবে।তারপর মেহেরাজের সামনে ঘুরাফিরা করবে বার বার।
বেশ লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে কোমরে টাওয়েল পেচিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে মেহেরাজ।গায়ে যদিও কালো একটা টিশার্ট আছে।গোসলে যাওয়ার আগে নিয়ে গেছিলো সেটাই।মেহেরাজ হটাৎ বিছানার উপর একটা মেয়েকে বসে থাকতে দেখে ভ্রু জোটা কুচকে ফেলে।মেয়েটা তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে যেনো চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে থাকে।
মেহেরাজ এগিয়ে না আসে দূর থেকেই কন্ঠে গম্ভীরতা এনে বলল,

-হু আর ইউ??
নাবিলার হুস নেই।অবাক চোখে তাকিয়ে আছে মেহেরাজের দিকে।একটা মানুষ এতো সুন্দর ইশ।ঘন চাপ দাড়ির মাঝে এখোনো বিন্দু বিন্দু পানি দৃশ্যমান।মেহেরাজ কথার উত্তর না পেয়ে ধমক দিয়ে বলে উঠে,
-এই মেয়ে কে তুমি।আমার ঘরে আসার পারমিশন দিয়েছে কে তোমাকে??
মেহেরাজের ধমকে ধ্যান ভাঙে নাবিলার।চমকে উঠে দাঁড়ায়।তারপর বলে,
-আমাকে চিনতে পারছেন না মেহেরাজ ভাই।আমি নাবিলা আপনার নাবু।
-হোয়াট রাবিশ।আমার নাবু মানে??কে তুমি কোন নাবিলা??
কথাটা বলে নাবিলা কে কিছু বলতে না দিয়েই মেহেরাজ আম্মু আম্মু করে জোড়ে ডাকতে শুরু করে তা দেখে নাবিলা মেহেরাজের দিকে সরে এসে বলে,
-আরে আমি আপনার কাজিন নাবিলা।আপনার বড় খালার মেয়ে।আপনার সাথে কত কথা হতো আমার।আর আমিতো আপনাকে??
মেহেরাজ নাবিলার থেকে আরো কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বলে,

-ডিস্টেন্স মেইনটেইন করো।
কথাটা বলে মেহেরাজ কিছুটা ভাবে।তারপর মুখটা সাভাবিক করে ফেলে তা দেখে নাবিলা মনে মনে খুশি হতেই মেহেরাজ বলে,
-ও আই সি।তুমি সেই ছ্যাচড়া মেয়েটা।যে বরাবর আমার পিছে পিছে ঘুরতে পাত্তা পাওয়ার জন্য। আর আমার রিলেটিভ দের মাঝে তুমি আর তোমার মা তাহলে মিথ্যা ছড়িয়েছো যে আমি তোমাকে ভালোবাসি।সিরিয়াসলি হাও ফানি দিস জোক্স।
মেহেরাজের কথা শুনে নাবিলার মাথাড়া নিচু হয়ে যায়।দরজা খোলা থাকায় তখন মেহেরাজের ডাকাডাকি তে নাহিদা খাতুন আর আছিয়া রহমান উপরে এসে মেহেরাজের দরজার সামনে এসে সব শুনেছেন।মেহেরাজ এবার নিজের কাবার্ড এর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩১

-যেই না চেহারা নাম রাখছে তার পেয়ারা।সুন্দরী হলেয় হয়না আত্মসম্মান আর লজ্জাবোধ থাকতে হয়।নির্লজ্জের মতো আবার চলে এসেছো।যাই হোক গেট আউট।
-কি।
নাবিকার বোকা প্রশ্নে মেহেরাজ এবার একটু রেগেই বলে,
-আই সে গেট আউট।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here