Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৬

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৬

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৬
নুসাইবা আরা নুরি

মেহেরাজ ফোন রিসিভ করে কানে ধরে সালাম দিতেই ফোনের ওপাশে থাকা ক্যাপ্টেন সালামের প্রতিউত্তর করে বলে,
-কংগ্রাচুলেশন মিঃ মির্জা।সরি তোমার বিয়েতে এটেন্ড না করতে পারার জন্য।
ক্যাপ্টেন এর কথায় মেহেরাজ একটু সস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে।তারপর বলে,
-ইটস ওকে ক্যাপ্টেন।বাট আপ্নি আসলে খুশি হতাম।
-সমস্যা নেই আসবো একদিন।আচ্ছা রাখি তোমার উপহার তোলা রইলো।আশার পর দিয়ে দিবো।
-ওকে ক্যাপ্টেন।ফি আমানিল্লাহ।
-ফি আমানিল্লাহ।

মেহেরাজের সাথে ক্যাপ্টেন এর খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক।আছে।বাবা ছেলের মতোই আবার বন্ধুর মতোই।মেহেরাজ ক্যাপ্টেন কে সম্মান করে সর্বদা আর ক্যাপ্টেন ও মেহেরাজ কে ছেলের মতোই ভালোবাসে।মেহেরাজ বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিলো তবে ক্যাপ্টেন দাওয়াত গ্রহন করলেও বলে দিয়েছিলো যাওয়ার সময় হয়ে উঠবে না।তাও আজ আবার কল করে খোজ নিয়েছে।মেহেরাজের বেশ ভালো লাগে।
মেহেরাজ কল কেটে ফোন পকেটে রাখতে যাবে ঠিক তখনই মেহেরাজের ফোন আবারো বেজে উঠে।মেহেরাজ ইভানের দিকে তাকিয়ে বলে,
-তুই একটু এখানে বস আমি একটু বাইরে থেকে কথা বলে আসি আর্জেন্ট।
ইভান মেহেরাজের কথার প্রতিউত্তরে বলে,
-আচ্ছা যা।
মেহেরাজ আর একটু সময় নষ্ট না করে মাথার টোপর টা ইভানের হাতে দিয়ে কল রিসিভ করে ফোনটা কানে ধরে বাইরে বেরিয়ে যায় দ্রুত পায়ে কোনোদিকে না তাকিয়ে।

সিয়াম শ্রেয়সী আর তোহাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছে।ড্রাইভার ওর চেনা সোজা ওদের ঢাকার বাড়িতেই নিয়ে যাবে তোহা আর শ্রেয়সীকে।শ্রেয়সী একটা কথা বলেও নি সিয়ামের সাথে।তোহা ও চুপ।আসার আগে তোহার হাতের মোবাইল টাও কেড়ে নিয়েছে সিয়াম।যাতে কোনো মতেই কেও জানতে না পারে তারা কোথায়।
তবে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর ফোন পেয়ে যাবে।সিয়াম রাস্তা দিয়ে তখন যাওয়ার সময় ও খেয়াল করেছে অচেনা কিছু লোক তাদের ফলো করছে আবার আসার সময় ও দেখেছে।সিয়ামের মনে সন্দেহ জাগে তাই একটু চোখের আড়াল হয়ে খুজতেই আনাম মিয়ার দলের একজনকে দেখতে পায়।তবে সিয়াম বুজতে পারে না আনাম মিয়া তাদের পিছু নিলো কেন নাকি মনের ভুল ধারনা।

সিয়াম সেসবে পাত্তা দেয় না বাড়িতে গিয়ে এখন একটা ঝামেলা বাধাবে।ঠিক যেভাবে মেহেরাজ বাড়িতে অপমান হয়েছিলো তারা ঠিক সেভাবেই অপমানিত করবে আজ তাদের।সেবার বিয়ে করে রেখে মেহেরাজ চলে গেছিলো।সেজন্যই সিয়াম বুজিয়ে শ্রেয়সীকেও বিয়ে করিয়েই বাড়ি থেকে বের করেছে।যাতে একই ভাবে অপমান করতে পারে ছেলের চরিত্র খারাপ বলে।
তারপর আবার ইরুদের বাড়িতে যেতে হবে মেয়ে দুটোকে ডেলিভারি করতে অনেক কাজ।সিয়াম দ্রুত পায়ে হেটে বাড়িতে চলে আসে।বিয়ে বাড়িতে এতক্ষন সবার খাওয়া শেষ। তবে বর কনের কারোর খোজ নেই।সবাই বসে আসে।নিলয় মির্জা ইভান কে মেহেরাজ কে ডাকতে বলে আলতাফ শেখ কে বলে শ্রেয়সীকে ডাকতে ঠিক তখনই বাড়িতে প্রবেশ করে সিয়াম।আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে এসেছে।সবার সামনে এসে রাগি গলায় চিৎকার করে বলে,

-শ্রেয়সী কোথাও নেই। পালিয়েছে ও এই বিয়ে থেকে।
সিয়ামের কথা জেনো সকলে অবাকের চরম সিমায় পৌছে যায়।নিলয় মির্জা অবাক হওয়া গলায় বলে,
-মানে বুজলাম না পালিয়েছে মানে কি??
-পালিয়েছে মানে পালিয়েছে পালানোর আগে কাগজে লিখে রেখে গেছে আপনার ছেলে একটা চরিত্রহীন।ওর সাথে আমার বোন জীবনেও সংসার করবে না তাই চলে গেছে।
বলেই একটা খাতার পৃষ্ঠা তুলে ধরে সবার সামনে সিয়াম।তারপর রাগি ভাবে নিলয় মির্জার দিকে এগিয়ে তারপর নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
-আমি আগেই বলেছিলাম আব্বু ওই ছেলের চরিত্রে সমস্যা আছে।তুমি মানলে না।এখন আমার বোনকে কোথায় খুজবো ওর‍ যদি বিপদ হয় এই চরিত্রহীন ছেলের জন্য।যার কিনা খালাতো বোনের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো।
সিয়ামের কথায় নিলয় মির্জা রেগে গিয়ে বলে,

-আর একটা বাজে কথা বললে আমার ছেলের নামে ভালো হবে না বলে দিচ্ছি।
নিলয় মির্জার কথায় আলতাফ শেখ এগিয়ে এসে নিলয় মির্জা পাঞ্জাবির কলার চেপে ধরে রাগী গলায় বলে,
-তোর কারনে আমি বিয়েতে রাজি হয়ছি।তোর ছেলে চরিত্রহীন মেনে নিতে পারিস না।খারাপ অসভ্য ছেলে।তোর ছেলের কারনে আমার মেয়ে পালিয়েছে খুজে এনে দে নয়তো পুলিশে কেচ করবো।থানায় গিয়ে তোদের নামে।
ইভান এসে নিজের বাবার কলার থেকে হাত ছাড়িয়ে দেয় আলতাফ শেখ এর। তারপর রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই এতক্ষন সিয়ামের হাতের কাগজ পড়তে থাকা মিলি সিয়ামের উদ্দেশ্য বলে উঠে,

-থামেন এটা শ্রেয়সীর হাতের লেখা না এটা তোহার হাতের লেখা।আপনি আমাদের ভুল বুঝালে হবে না।আমি শ্রেয়সী আর তোহার হাতের লেখা স্পষ্ট চিনি।
মিলির কথায় যেনো উপস্থিত সবার মাঝে বোমা বিস্ফোরণ হয়।কানা ঘুষো শুরু হয়।কেও কেও বলতে শুরু করে এটা পরিকল্পিত প্লান।আবার কেও বলতে শুরু করে মেয়ের বাপ ভাইয়ের দোষ নয়তো মেয়ের ভাবির হাতের লেখা আসবে কি করে।মিলির কথা সিয়াম রেগে তেড়ে এসে রাগি গলায় বলে,
-কে আপনি আর আন্দাজে বললেই হবে এটা তোহার হাতের লেখা।এটা শ্রেয়সীর হাতের লেখা।আমি তো ওর ভাই আমার চেয়ে আপনি বেশি জানেন।
-অবশ্যই জানি মিঃ সিয়াম শেখ।আমি আর্মির একজন মেডিকেল অফিসার আমি সবার হাতের লেখার ধরন ও চিনি।কে কিভাবে লিখে সেটাও আমি বুজি।এমনকি কাল গায়ে হলুদে লিস্ট এ তোহার হাতের লেখা দেখেছি।আর শ্রেয়সী হাতের লেখা তো ফাহিমের বউ ও চিনে জিজ্ঞাসা করেন ওকে।শ্রেয়সীর হাতের লেখা ছোট। আর এখানে যেভাবে লেখা সেটা কিছুটা বড় আর ভিন্ন ভাবে দেখলে বোজায় যাচ্ছে আপনি আমাদের সাথে চিটারি করছেন।
মিলির কথায় সিয়াম কিছুটা দমে যায়।আসলেই চিঠিটা তোহার হাতের লেখা।তাই বলে এতো সহজে সাজানো গোছানো প্লানিং টা শেষ হয়ে যাবে।এটা তো হতে পারে না।সিয়াম রেগে আরো কিছু বলতে যাবে তখনই মিলি আবার বলে,

-স্টপ যদি বিশ্বাস না হয় শ্রেয়সী একটা খাতা নিয়ে আসুন প্রুভড করে দিচ্ছি। এখন আসল। কাহিনী খুকে বলুন।
মিলি যে এতো দ্রুত সব বুজে যাবে কেও বুজতে পারেনি।সিয়াম ও আর কথা বাড়ায় না কারন সত্যি টা সেও বুজতে পারছে ওখন খাতা আনলে প্রমানিত হয়ে যাবে।দূরে দাঁড়িয়ে থাকা খাদিজা খাতুন ঘামতে শুরু করেন।এবার ফাহিম বলে উঠে,
-আসলে ভাই আপনি চরিত্রহীন তাই আপনার বউ আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।এখানে স্পষ্ট করে লেখা নেই যে।মেহেরাজ খারাপ তাই শ্রেয়সী চলে গিয়েছি সো আপনার বউ লিখেছে মানে আপনি চরিত্রহীন আওনাকে ছেড়ে গিয়েছে।
বেশ বড় একটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়ে গেলো মুহুর্তেই।আলতাফ শেখ দিনে দিনে যে প্লানিং টা করলো তা মাত্র একটা ভুলের কারনেই ধরা পড়ে গেলো।নিলয় মির্জা আর রাগ সহ্য করতে না পেরে ঠাশ করে সিয়ামের গালে একটা চড় মেরে বসে।সিয়াম কিছু বুজে উঠার আগেই নিলয় মির্জা আলতাফ শেখ এর পাঞ্জাবির কলার চেপে ধরে রাগী গলায় চিতকার করে বলে,

-তুই আমার বন্ধু বলে তোকে বরাবর ভালোবেসে এসেছি।তাই বলে তুই এমন নোংরা একটা খেলা খেললি।থু। তোর সাথে কথা বলতেও আমার এখন ঘৃনা লাগছে।তুই আমার ছেলেকে চরিত্রহোন প্রমান করতে চাইলি কিসের জন্য। কিসের এতো রাগ ওর প্রতি তোর।যে কারনে এমন বিশ্রি একটা খেলা সাজালি।এখন তো প্রমানিত যে তোর ছেলে চরিত্রহীন তাই তোর বউমা পালিয়েছে শ্রেয়সী মা পালায়নি।
কথাটা বলার পর।আলতাফ শেখকে নিলয় মির্জা ছেড়ে দিতেই আলতাফ শেখ রাগে সহ্য করতে না পেরে বলে উঠে,

-হ্যা আমি করিয়েছি সব।তোর ছেলের জন্য সেবার আমার আর আমার পরিবার কে সবার কাছে ছোট হতে হয়েছিলো।আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে চরিত্রহীন বলে গালি দিয়েছিলো গোপনে সকলে আমার খারাপ লাগেনি।আমার মেয়েটা ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলো।
সিয়াম দ্রুত তার বাবাকে চুপ করতে বললে নিলয় মির্জা রাগী গলায় বলে,
-কি চুপ করবে।উপস্থিত সবাই শুনেছে।বিকাল চার টার মাঝে আমার বউমাকে এখানে হাজির না করলে তোদের নামে পুলিশে মানহানির মামলা দিবো।
নিলয় মির্জার কথা শেষ হতে না হতেই তুহিন বলে উঠে,
-এতোক্ষন চুপ ছিলাম কিন্তু আমার বোনের যদি কিছু হয়।তাহলে কিডন্যাপিং এর মামলা দিবো আপনাদের নামে মনে রাখবেন।

পুরো কেচ টা যে তাদের দিকে ঘুরে যাবে সিয়াম বা আলতাফ শেখ বুজতে পারে নি।উপস্থিত সকল মেহমানরা ছিহ ছিহ করা শুরু করে দেয়।এদিকে সিয়াম পড়ে যায় বিপাকে শ্রেয়সীদের বাড়িতে না আনলে বিপদে পড়বে।যদি পুলিশ কেচ হয় তাহলে এখন ঝামেলা।এদিকে আলতাফ শেখ এর প্রেশার বেড়ে গেছে।কি করতে চেয়েছিলো আর কি হয়ে গেলো।তার সমস্ত মান সম্মান ধুলোয় মিশে গেলো এবার।লোক সমাজে মুখ দেখাবে কি করে এবার।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৫

এদিকে চারটার দিকে সিয়ামের ইরুদের বাড়িতে যেতে হবে নয়তো আনাম মিয়া রেগে যাবে।কি করবে সে এখন।মাথায় হাত দিয়ে সেও বসে পড়ে তখন ইভান বলে উঠে,
-চারটে বাজ তে আর সাত চল্লিশ মিনিট বাকি আছে।মাথা রাখবেন।এই অপমানের পরে আপনাদের কে ছেড়ে দিবো না।যথা সময়ে আমাদের ভাবি আমাদের সামনে চায়।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৭