শেহেজাদার আদর পর্ব ৮০ (২)
সুমাইয়া ইসলাম নূর
সাদা গাউন পরে ইনায়া যখন ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল, ইউভির মনে হলো চারপাশের সবকিছু যেন হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।এতগুলো মানুষ, এতগুলো মুখ চারিপাশে , এত শব্দ.কিছুই যেন আর স্পষ্টভাবে তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তার দৃষ্টি আটকে আছে শুধু সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ইনায়ার দিকে।ইনায়া ধীর পায়ে একেকটি ধাপ পেরিয়ে নিচে নামছে। তার পেছন পেছন রিটাও আসছে। ইনায়ার মুখে এক অদ্ভুত মায়াময় প্রশান্তি, অথচ চোখের কোণে জমে আছে অশ্রু।
ইউভি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।বুকের ভেতরটা কেমন অজানা আশঙ্কা আর আশায় একসঙ্গে কেঁপে উঠছে। এত বছর ধরে যে কথাটা শুধু স্বপ্ন হয়ে তার মনের এক কোণে লুকিয়ে ছিল, আজ কি সত্যিই সেই স্বপ্ন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে?শেষ সিঁড়িটায় পা রাখতেই ইনায়া আর নিজেকে সামলাতে পারল না। আবারও চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।এই কান্না দুঃখের নয়।এ কান্না যেন বহু প্রতীক্ষার শেষে পাওয়া এক অসম্ভব সুখের।
ইনায়ার চোখ ইউভির চোখের সঙ্গে মিলতেই ইউভি কাঁপা হাতে খুব ছোট্ট একটা ইশারা করল সত্যি?ইনায়া অশ্রুসিক্ত চোখে মাথা নাড়ল।সত্যি।এই ছোট্ট সম্মতিটুকুই যেন ইউভির পুরো পৃথিবীটাকে থমকে দিল।
কয়েক মুহূর্ত ইউভি শুধু চুপচাপ দারিয়ে রইলো । শুধু অবিশ্বাস আর বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল তার আদরের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে পা বাড়াল।
শেষ পর্যন্ত ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়াল সে।
কাঁপা কাঁপা হাতে ইনায়ার দুটো হাত নিজের হাতে তুলে নিল। কিছুক্ষণ সেই হাত দুটির দিকে তাকিয়ে থেকে গভীর আবেগে তার আঙুলগুলোয় ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।ইউভির কণ্ঠটা কাঁপছিল।আদর… আমি বাবা হব?ওই আদর, সত্যি বলো না আমি বাবা হব? সত্যি? কথাগুলো পুরো ঘরজুড়ে দারিয়ে থাকা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়তেই উপস্থিত প্রতিটি মানুষের হৃদয় যেন একসঙ্গে কেঁপে উঠল।ইনায়া আর নিজেকে সামলাতে পারল না। ইউভির বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
তারপর কান্নার মাঝেই কাঁপা কণ্ঠে প্রায় চিৎকার করে বলে উঠল,হ্যাঁ, বর… তুমি বাবা হবে! কথাটা শুনেই ইউভির চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে এলো।যে মানুষটা এত কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে শক্ত রাখতে পারে, আজ সে যেন একেবারেই ভেঙে পড়েছে আনন্দে।সে বারবার ইনায়ার কপালে, গালে, মাথায় ভালোবাসার চুমু এঁকে দিতে লাগল। তারপর দুহাতে তার মুখটা আলতো করে তুলে কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে কাঁপা কণ্ঠে বলল আল্লাহ… তোমাকে অনেক অনেক শুকরিয়া। এত বড় সুখ তুমি আমাদের দিলেচোখ বন্ধ রেখেই আবার ফিসফিস করে বলল,বাবা হওয়ার অনুভূতিটা যে এতটা সুন্দর হতে পারে… আমি কখনো ভাবিনি, আদর।
ইনায়া অশ্রুসিক্ত মুখে তার বুকেই মুখ লুকিয়ে রইল।
এদিকে রেশমা চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরী আর নিজেদের ধরে রাখতে পারলেন না। দুজনেই দ্রুত ইনায়ার কাছে এগিয়ে এলেন।রেশমা চৌধুরী কাঁপা কণ্ঠে বললেন,এই নূর… কী বলছিস মা? সত্যি?ইনায়া তখনও কাঁদছে। কোনো উত্তর দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।পেছন থেকে রিটা মৃদু হেসে অশ্রুসিক্ত চোখে বলে উঠল হ্যাঁ, ম্যাম। প্রেগন্যান্ট। এইমাত্র নিশ্চিত হলাম। তবে গত এক মাস ধরেই ম্যামের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না।।ইউভি সঙ্গে সঙ্গে রিতার দিকে তাকাল।চোখে এবার আনন্দের পাশাপাশি সামান্য অভিমানও ফুটে উঠল।আগে বলোনি কেন, রিটা? এটা আমি তোমার কাছ থেকে আশা করিনি। রিটা একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নিচু করল।
সরি স্যার ইউভি আর কিছু বলল না। তার চোখ আবার ফিরে গেল ইনায়ার দিকে।ঠিক তখনই সোফা থেকে উঠে এলেন লিখন চৌধুরী।ইনায়ার কাছে এসে এক মুহূর্তও দেরি না করে তাকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলেন। কপালে একের পর এক চুমু এঁকে আবেগভেজা কণ্ঠে বললেন,নূর তোকে যে কী বলে ধন্যবাদ দেব, মা! তুই যে আমাদের কত বড় সখবর দিলি! তার কণ্ঠও কেঁপে উঠল।দেখ মা, আমার ছেলেটা আজ কতটা খুশি! তোর জন্যই তো ওর মুখে আজ এত বড় হাসি ফুটেছে। বাবা হয়ে সন্তান এর এই সুখময় দিন টা দেখা যে বড্ড সুখের
রাতিব চৌধুরী এগিয়ে এসে ইনায়া কে সান্ত করার জন্য বললো আমার মা আমার নূর… আর কান্না করিস না। ধৈর্যের ফল সবসময় মিষ্টি হয় বুঝলি? দেখ, এতদিনের অপেক্ষার পর আজ তোকে কত বড় নিয়ামত দিলেন! নুসরাত চৌধুরীও চোখের পানি মুছতে মুছতে ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
—আমার মেয়েটা এতদিন নিজের কষ্টটা একা একা সহ্য করেছিস। আজ থেকে আর কোনো কষ্টের কথা ভাববি না। আল্লাহ তোকে সবসময় ভালো রাখুন।
আয়াত আর আতিকা অবাক হয়ে বড়দের দিকে তাকিয়ে আছে। কী হয়েছে পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও বাড়ির আনন্দটা তারা ঠিকই বুঝে ফেলেছে।রিমঝিম চৌধুরী এগিয়ে এসে ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে মিষ্টি হেসে বললেন,এর থেকে বেস্ট গিফট আর কী হতে পারে বলো ভাইয়া-ভাবির জন্য এর চেয়ে সুন্দর উপহার আর কিছুই হতে পারে না। রাশেদ মির্জা মৃদু হেসে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিমঝিমের দিকে তাকালেন।আজকের দিনটা সত্যিই মনে রাখার মতো হয়ে গেল না?
পিয়াসা আর তুবা দুজনেই একই সঙ্গে এগিয়ে এসে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরল। দুজনের চোখেমুখেই আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠলো পিয়াসা হেসে বলল,
বেবি, তুইও পুঁচকের বাচ্চার মা হবি! আমাদের নতুন পুচকে আসবে রে কথাটা শেষ হতে না হতেই ইউভির গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,দ্রুত কেক কাটো মা। আদরকে নিয়ে এখনই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। রাজ্জো, ডাক্তার রাজিয়া সুলতানাকে কল দে। আমরা এখুনি বের হব। রাজ্জো ভ্রু তুলে ইউভির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,ফুপাতো ব্রো, তোর সামনে আমি আর আমার বউ দুজনেই ডাক্তার দাঁড়িয়ে আছি, দেখেছিস না?
তুবা সঙ্গে সঙ্গে ইউভিকে শান্ত করার জম্য বলল,
চিন্তা করো না, জিজু। কাল ওর সব ধরনের চেকআপ করা হবে। আজকে অন্তত ওকে বিশ্রাম নিতে দাও। ইউভি কিছুক্ষণ ভেবে মাথা নাড়ল।
ঠিক আছে, তাই হবে। তবে দ্রুত করো। আমি আদরকে নিয়ে উপরে যাবো।রাজ্জো পাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে মুখ টিপে হেসে বলল,কেন ব্রো? আদর করে মন ভরেনি বুঝি? আরে বুঝি, বুঝি! এক বাচ্চার বাপ হয়ে গেছি আর এসব বুঝব না?
কথাটা শুনে ইউভি দাঁতে দাঁত চেপে রাজ্জোর দিকে তাকাল।মামাতো ব্রো, এখন আমার মুড ভালো আছে, তাই বেঁচে গেলি, শালা! ঠিক তখনই প্রণয় ইউভির শার্ট ধরে টানতে লাগল। হাতের ইশারায় তাকে নিচু হতে বলল।ইউভি নিচু হতেই প্রণয় ফিসফিস করে বলল বাবাই… মিমি তি ব্যতা পেয়েতে।? মিমি কাঁদতে তেন? ইউভি সঙ্গে সঙ্গে প্রণয়কে কোলে তুলে নিল। তার ছোট্ট মাথায় হাত বুলিয়ে নরম কণ্ঠে বলল,ব্যথা পায়নি, বাবা। সব কান্না কষ্টের হয় না। কিছু কান্না সুখেরও হয়।”
প্রণয় অবাক চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
থুক কী, বাবাই? ইউভির ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।তোমার একটা ছোট্ট বোন আসবে। আর কিছুদিন পর একদম পুতুলের মতো একটা ছোট্ট বোন।প্রণয় সঙ্গে সঙ্গে ইউভির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,আমাল পুতুল?”
ইউভি মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।হ্যাঁ। তবে ওর নাম ইচ্ছে। প্রণয় সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— “উত্তে! ইউভি হেসে ফেলল।হ্যাঁ, উত্তে।
প্রণয় ইউভির কোল থেকে নেমে আবার ছুটে গেল অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে। আর বড়রাও ফিরে গেল নিজেদের কাজে কিছুক্ষণ পর লিখন চৌধুরী আর রেশমা চৌধুরী মিলে কেক কাটলেন। একে একে বাড়ির সদস্যদের কেক খাইয়ে দিল রেশমা চৌধুরী । হাসি-আনন্দে আবার জমে উঠল পুরো পার্টি।সবাই যখন উৎসবে মেতে উঠেছে, ইউভির চোখ এক মুহূর্তের জন্যও ইনায়ার ওপর থেকে সরছে না।হঠাৎ ইনায়ার চোখও এসে থামল ইউভির চোখে।
দুজনের দৃষ্টি মিলতেই কোনো শব্দের প্রয়োজন হলো না।ইউভির চোখে স্পষ্ট হয়ে উঠল একটিই কথ উপরে যাব?একটু থেমে চোখের ইশারায় আরও বুঝিয়ে দিল একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরব।”ইনায়ার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল সে।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইনায়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
আমার একটু উপরে যেতে ইচ্ছে করছে। জার্নি করে শরীরটা বেশ খারাপ লাগছে। বড় মা, তোমরা যদি পারমিশন দাও, আমি একটু উপরে গিয়ে বিশ্রাম নিই?রেশমা চৌধুরী আর লিখন চৌধুরী প্রায় একসঙ্গেই বলে উঠলেন”যা নূর, বিশ্রাম নে। একটু পর আমরাও উপরে আসছি।
রিটা সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে বলল চলুন ম্যাম, আমি নিয়ে যাচ্ছি। রিটা ইনায়ার দিকে এগিয়ে আসতেই ইউভি দ্রুত তার হাত আলতো করে সরিয়ে দিল। আরে রিটা , তুমি পার্টি এনজয় করো। আমি নিয়ে যাচ্ছি আমার বউকে। কথাটা বলেই ইউভি ইনায়াকে কোলে তুলে নিল।ইনায়া আচমকা এমন কাণ্ডে লজ্জায় ইউভির বুকের কাছে মুখ লুকিয়ে ফেলল।চারপাশ থেকে সবার হাসির শব্দ ভেসে এলো।ইউভি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে গম্ভীর গলায় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,তোমরা কেউ এখন আমার বউকে বিরক্ত করতে উপরে আসবে না। তারপর একটু থেমে ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে পিছন ফিরে বললো আমি কী বলতে চেয়েছি, আশা করি সবাই বুঝেছ!
কথাটা শুনে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল। আর এদিকে ইউভি ইনায়াকে বুকে আগলে ধীরে ধীরে সিঁড়ি পেরিয়ে ওপরে উঠে গেল।রিমঝিম হাসতে হাসতে বললো এমনিতেই বউ-পাগলা, এখন বউকে ঠিক কোন সিন্দুকে যত্ন করে রাখবে, আল্লাহই ভালো জানেন!
এদিকে ইউভি ইনায়াকে নিয়ে ঘরে এসে আলতো করে বিছানার ওপর বসিয়ে দিল। এতটা যত্ন দেখে ইনায়া দুষ্টুমি মেশানো কণ্ঠে বলল,বাহ, মিস্টার চৌধুরী! এতদিন তো কোলে করে নিয়ে এসে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিতে। আজ এত যত্ন করে বসিয়ে দিলে? ইউভির ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। সে কোনো উত্তর না দিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল। তারপর ধীর পায়ে ইনায়ার কাছে এগিয়ে এলো।একটু ঝুঁকতেই ইনায়া স্বভাবতই চোখ বন্ধ করে ফেলল।ইউভি মুচকি হেসে বলল,সবসময় এত নেগেটিভ চিন্তাভাবনা করো কেন, আদর?
কথাটা বলেই সে আলমারি থেকে গোলাপি রঙের একটি সুন্দর থ্রি-পিস বের করে আনল।”আগে ড্রেসটা চেঞ্জ করে নাও, আদর। ইনায়া মৃদু হেসে পোশাকটা নিল। ইউভিও তাকে পোশাক পরিবর্তন করতে সাহায্য করল। কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে রইল ইউভি।তার চোখে তখন এমন এক মুগ্ধতা, যেন ইনায়াকে নতুন করে আবিষ্কার করছে।
নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,এখন কেমন লাগছে?”
ইনায়া মুচকি হেসে বলল তুমি এখন পাগল হয়ে যাবে, বর।”ইউভি হেসে ইনায়ার দুটো হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নিল। তারপর একে একে তার হাতের আঙুলে ভালোবাসার চুমু এঁকে হেসে বলল,
— “ফাইনালি, আদর… আমি বাবা হব!”
ইনায়া হাসতে হাসতে ইউভির চুলের মুঠো ধরে আলতো করে টেনে বলল,হ্যাঁ, পাখি।”ইউভি আবারও মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকিয়ে কাঁপা ঠোঁটে মৃদু হেসে বলল শুভেচ্ছা, আমার আদর… তুমি মা হতে চলেছ।
কথাটা বলেই তার কণ্ঠটা আবার ভারী হয়ে এলো। কপালে আলতো করে চুমু এঁকে ফিসফিস করে বলল এই সুখবরের জন্য তোমাকে অভিনন্দন দেব, নাকি নিজেকেই বুঝতে পারছি না ? তুমি আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর উপহারটা দিয়েছ আজ ।”
ইনায়া ইউভির বুকের কাছে আরও একটু সরে এসে মৃদু হেসে বলল আচ্ছা,বর যদি আমাদের ছেলে হয় তুমি তখন কি করবে সবসময় শুধু মেয়ের কথা বলো কেন।
জানি না, আদর আমার মাথায় সবসময় ইচ্ছেটার কথাই কেন আসে জানিনা ইনায়া কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে রইল।ইউভির ঠোঁটের হাসিটা ধীরে ধীরে আরও কোমল হয়ে উঠল।জানো আমি রোজ ইচ্ছেটাকে কল্পনা করি। ছোট্ট একটা পুতুলের মতো বাচ্চা মেয়ে… আমার পাশে এসে বসেছে। আমার মাথায় ছোট্ট ছোট্ট হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, তারপর আমার কপালে চুমু দিয়ে দিচ্ছে কথাগুলো বলতে বলতে ইউভির চোখের দৃষ্টি যেন কোথাও হারিয়ে গেল। সে সত্যিই যেন নিজের কল্পনার সেই ছোট্ট মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছে।ইনায়া মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করবেন, বর। ইউভি এবার ইনায়ার হাতটা নিজের বুকের ওপর রেখে শান্ত গলায় বলল কিন্তু আদর, মেয়ে হোক কিংবা ছেলে শুধু সুস্থ হয়ে আমাদের কাছে আসুক। আমি আর কিছু চাই না।
কথাটা বলেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল সে।
তারপর আচমকাই ইউভির হাসিটা নরম হয়ে এলো। খুব সাবধানে ইনায়ার পেটের ওপর হাত রাখল সে। যেন স্পর্শ করতেও ভয় হচ্ছে।কয়েক মুহূর্ত নীরবে হাতটা রেখলো তারপর মাথা একটু নিচু করে ফিসফিস করে বললো।শোনো, ছোট্ট অতিথি
তুমি ছেলে হও কিংবা মেয়ে… বাবাই তোমাকে ভীষণ ভালোবাসে। তুমি এখনো আমাদের কাছে আসোনি, তোমাকে দেখিনি, তোমার মুখটাও জানি না অথচ তুমি এরই মধ্যে আমার হৃদয়ের এতটা জায়গা নিয়ে ফেলেছ।
ইউভির কণ্ঠটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে এল।
আর একটা কথা… তোমার আম্মুকে কিন্তু খুব বেশি কষ্ট দেবে না। তোমার আম্মুর কষ্ট যে আমি সহ্য করতে পারি না সে যে আমার বড্ড শখের। এরপরইউভি ইনায়াকে নিয়ে ধীরে ধীরে বারান্দায় চলে গেল। রাতের নরম বাতাসে চারপাশটা শান্ত হয়ে আছে। বারান্দার একপাশে রাখা দোলনাটায় বসে ইউভি খুব যত্ন করে ইনায়াকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল।ইনায়া একটু অবাক হয়ে তাকালেও কিছু বলল না। ইউভি দু’হাত দিয়ে তাকে আগলে রাখল। তারপর ইনায়ার ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে সেই পরিচিত মিষ্টি সুবাসটা গভীরভাবে নিতে লাগলো। মৃদু স্বরে বলল।কিছু খাবে, আদর? এই সময় তো নাকি নানান রকম ক্রেভিং হয়। তোমার হচ্ছে না? ইনায়া এবার বিরক্ত চোখে ইউভির দিকে তাকিয়ে বলল সময় এখনো বাকি, বর। একটু ধৈর্য ধরো না!
ইউভি যেন কথাটা শুনেও শুনল না। বরং ইনায়ার ঘাড়ে মুখটা আরও একটু শক্ত করে গুঁজে দিয়ে বিড়বিড় করে বলল।ধুর! ওকে বলো তাড়াতাড়ি বড় হতে। ইনায়া আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। খিলখিল করে হেসে উঠল। কাল থেকে তোমার কোনো কাজ নেই আদর । একদম কোনো কাজ না। শুধু খাবে, বিশ্রাম নেবে, নামাজ পড়বে আর…”
ইনায়া ভ্রু তুলে তাকাল।আর? ইউভি মৃদু হেসে বলল রোজ আমার সঙ্গে ঘুরতে বের হবে। সন্ধ্যার পর থেকে তোমার যেখানে যেতে মন চাইবে, আমি নিয়ে যাব। কোনো জায়গা ভালো লাগলে বলবে, কোনো কিছু খেতে ইচ্ছে করলে বলবে, রাত হলেও সমস্যা নেই বাকিটা আমি সামলে নিবো ইনায়া মুচকি হেসে ইউভির বুকের ওপর আরও একটু হেলান দিয়ে বলল এত আদর করলে তো আমি সত্যিই মাথায় উঠে বসব বর ইউভি সঙ্গে সঙ্গে বলল বসো। আজ থেকে তোমাকে মাথায় তুলে রাখাই আমার কাজ।”
শেহেজাদার আদর পর্ব ৮০
ইনায়া এবার পুরো শরীরের ভার ইউভির ওপর ছেড়ে দিয়ে তার বুকে মাথা রাখল। চোখ বন্ধ করে মৃদু হেসে বলল আজ তুমি সত্যিই পাগল হয়ে যাবে, বর। ইউভি তার কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে ফিসফিস করে বলল আজ না,
আদর যেদিন থেকে তোমাকে ভালোবেসেছি, সেদিন থেকেই তোমার জন্য পাগল হয়েছি আজ শুধু কারণটা একটু বেড়ে গেল।
