লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫৩
নুসাইবা আরা নুরি
মেহেরাজ ধীর পায়ে এগিয়ে আসে বিছানার কাছে।বিছানার কাছে এসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে একবার বিছানার দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে শ্রেয়সীর আতঙ্কিত চোখ জোড়ার দিকে তাকায়।তারপর ফুলে সাজানো বিছানায় সুইয়ে দেয় শ্রেয়সীকে।
শ্রেয়সী চোখ বুজে শুকনো ঢোক গিলে আবারো তাকায় মেহেরাজের দিকে।গলা শুকিয়ে আসছে।মেহেরাজে ঘরের এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিয়ে আবারো বিছানায় কাছে ফিরে এলো।শ্রেয়সীর চোখ জোড়ায় নিজের চোখ নিবদ্ধ রেখেই একটানে নিজের গায়ে থাকা টিশার্ট টা খুলে ফেললো মেহেরাজ।
দৃশ্যমান হলো উন্মুক্ত ফর্সা বক্ষদয়।মেহেরাজ কে খালি গায়ে দেখে আরো ভীত হয়ে পড়ে শ্রেয়সী।মেহেরাজ শ্রেয়সীর মুখের দিকে এবার ধীরে এগিয়ে এলো।শ্রেয়সীর ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাপছে।মনের কোনে আলাদা এক আতঙ্ক বাসা বেধেছে।শ্রেয়সী তাকায় মেহেরাজের নেশাভরা চোখের দিকে।নিজের সর্বনাশ দেখতে পেয়েও চোখ সরাতে পারে না সেখান থেকে।
মেহেরাজ শ্রেয়সীর খুব কাছে এসে যায় ক্ষনিকেই।হাতে থাকা টি-শার্ট টা ছুড়ে মারে মেঝেতে।তা দেখে কেপে উঠে শ্রেয়সী।কিছু বুজে উঠার আগেই মেহেরাজ নিজের সম্পুর্ন ভর ছেড়ে দেয় শ্রেয়সীর উপর।শ্রেয়সী ভয় পেয়ে যায়।কাপা কাপা গলায় বলে উঠে,
-ক কি করছেন।
শ্রেয়সী কাপতে থাকা কন্ঠ মেহেরাজের কর্নহ্বরে পৌছায় না।শ্রেয়সী কিছু বুজে উঠার আগেই মেহেরাজ শ্রেয়সীর কাপতে থাকা অধর জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেয়।নিজের তৃষ্ণার্থ ঠোঁট জোড়া ডুবিয়ে দেয় শ্রেয়সী রক্তজবার ন্যায় নরম তুলতুলে ঠোঁট জোড়া।
শ্রেয়সী ভয় পেয়ে যায়।মেহেরাজকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে তবে পারেনা।নিশ্বাস বন্ধ আসে ওর।বেশ কিছুক্ষন পর মেহেরাজ ঠোঁট ছেড়ে দিতেই জোরে জোরে শ্বাস নিতে শুরু করে শ্রেয়সী।চোখের কোন বেয়ে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে ওর।
মেহেরাজ ঠোঁট ছেড়ে শ্রেয়সী কাধে ঠোঁট ছোয়াতে লাগলো।অসংখ্য ছোট ছোট চুম্বনে ভরিয়ে দিতে থাকলো নিজের প্রেয়সীকে।প্রতিটা চুম্বনে অজানা শিহরনে কেপে উঠলো শ্রেয়সী।মেহেরাজ শ্রেয়সীর কাধ থেকে শাড়ি সরাতেই অজানা ভয়ে কেদে ফেললো শ্রেয়সী।তবে শ্রেয়সী কান্না এবার আর মেহেরাজের কর্নহ্বারে পৌছালো না।সে এখন শ্রেয়সীকে নিজের করে পাওয়ার নেশায় মগ্ন।
মেহেরাজ বিচরন করতে শুরু করলো শ্রেয়সীর সমস্ত শরীরে।চুম্বনে ভরিয়ে দেয় প্রতিটা অঙ্গ।মেহেরাজের প্রতিটা চুম্বনে কম্পিত হয় শ্রেয়সীর নারীসত্ত্বা।রাত বাড়ার সাথে সাথে মেহেরাজ আরো উন্মাদ হয়ে উঠে।ঝাপিয়ে পড়ে নিজের রাজত্ব স্থাপনে নিজের ব্যাক্তিগত হৃদয়হরনীর উপর।
শ্রেয়সীর চোখ বেয়ে পড়তে থাকে উত্তপ্ত নোনাজল।সাথে বুক চিরে বেরিয়ে আসছে ব্যাথাতুর আর্তনাদ।
এই কষ্টের কোনো নাম নেই অজানা শুন্য এক অনুভুতি।ঘড়ির কাটার সাথে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে আরো উন্মাদ হয়ে উঠে মেহেরাজ।নিজের সম্পুর্ন ভালোবাসা উজাড় করে দেয় নিজের প্রেয়সীর উপর। শ্রেয়সী এক সময় মেহেরাজের দেওয়া ভালোবাসা নামক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে নিজের চেতনা হারায়।
ফজরের আজান ভেসে আসছে ভোরের নরম শীতল বাতাসের সাথে।ভোর রাতে বৃষ্টি হয়েছিলো। যার দরুন বেশ ঠান্ডা পরিবেশ চারিপাশে।ঘরের শীতল পরিবেশ আর শরীরে*র তীক্ত ব্যাথায় ঘুম ছুটে যায় শ্রেয়সীর।পিট পিট করে চোখ মেলে তাকাতেই দেখতে পায় মেহেরাজের মাথা ঘন কালো কেশগুলো।শ্রেয়সী চোখ ডলে ভালোভাবে তাকায় মেহেরাজের দিকে।তার বুকে মাথা দিয়ে ঠোঁট উলটে বাচ্চাদের মতো পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে সে।শ্রেয়সীর বেশ অসস্তি হচ্ছে মেহেরাজকে নিজের বুকের উপর দেখে।তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে তাদের কাপড় চোপড় গুলো সব মেঝেতে পড়ে আছে।শ্রেয়সীর পরনে মেহেরাজের একটা ব্লাক টিশার্ট আর প্লাজু।আর মেহেরাজের পরনে শুধুমাত্র একটা ট্রাওজার।উন্মুক্ত খোলা বুক তার উদরের সাথে লেপ্টে আছে।মেহেরাজের গরম নিঃশ্বাস আচড়ে পড়ছে শ্রেয়সীর বুকে।একই কম্বলে আবদ্ধ দুজনে।ছোট ছোট করে কাটা খোচা খোচা চাপদাড়ি ফুটে যাচ্ছে টিশার্ট ভেদ করে শ্রেয়সীর বুকে।প্রতিবার ই কেপে উঠছে শ্রেয়সী।
শ্রেয়সী হাত বাড়িয়ে মেহেরাজের ঘন কালো চুলের মাঝে হাত গলিয়ে দেয়।মনে পড়ে যায় কাল রাতের ঘটনাগুলো।মুহুর্তেই গলা শুকিয়ে আসে শ্রেয়সীর।এখন যতটা নিশ্পাপ,শান্ত, মায়াবী চেহারার মেহেরাজ কে সে দেখতে পাচ্ছে কাল রাতে ঠিক তার দ্বিগুন বেপরোয়া, উন্মাদ, নেশালো মেহেরাজকে দেখেছিলো সে।বস্ত্রহীন মেহেরাজ কে কল্পনা করতেই বুক কেপে উঠে শ্রেয়সীর।গঅলা শুকিয়ে আসে।
মেহেরাজের সেই আকুলতা ভরা কন্ঠ আর ঘন ঘন নিঃশ্বাস এর শব্দ এখোনো বেজে চলেছে তার কানের ভিতরে।কাল রাতে এক পাগল মেহেরাজ কে আবিষ্কার করেছিলো সে। যার ভিতরে কোনো মায়া দরদ ছিলো না শুধু ছিলো তাকে সম্পুর্ন নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্খা।
শ্রেয়সী মএহেরাজ কে নিজের উপর থেকে সরাতে চাইলো তবে পারলো না।সমস্ত শরীর ব্যাথায় বিষিয়ে উঠলো সাথে সাথে।চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে নেয় শ্রেয়সী মুহুর্তেই।শ্রেয়সী দাতে দাত চেপে তাকায় মেহেরাজের ঘুমন্ত মুখের দিকে।কোনো সাড়াশব্দ নেই শুধু খানিক্ষন পর পর ভারি নিঃশ্বাস আচড়ে পড়ছে তার বক্ষদেশে।শ্রেয়সী বুক ভরে শ্বাস নেয় একবার।মেহেরাজকে সরাতে চেয়েও ব্যার্থ হয়ে আর চেষ্টা করে না।নিজের ক্লান্ত ব্যাথাতুর শরীর নিয়ে আর নড়াচড়া না করে মেহেরাজের চুলে হাত বুলাতে বুলাতে আবারো তলিয়ে যায় গভীর ঘুমে।
সকাল দশটা বেজে পঞ্চান্ন।সোফায় বসে আছে মেহেরাজ,তুহিন আর ইভান। মেহেরাজের সম্পুর্ন মনযোগ হাতে থাকা মোবাইল এ।কিছু একটা করছে সে তবে তা বোজার উপাই নেই।চোখ মুখ অসম্ভব শান্ত দেখে বোজার উপাই নেই তার মনে কি চলছে।মেহেরাজের অন্য পাশে সোফায় বসে টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছে তুহিন আর ইভান।ইভান মনযোগ দিয়ে খেলা দেখলেও তুহিন তা পারছে না।কোনোমতে স্থির হয়ে বসতে পারছে না সে।চোখ জোড়া বারবার মিলিকে খুজে খুজে যাচ্ছে।
তুহিনের অস্থিরতা মেহেরাজের চোখ এড়াই না তবে মেহেরাজ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না।নিজের কাজে মনযোগ দেয়।বেশ কিছুক্ষন পর রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে তোহা।হাতে একটা খাবারের প্লেট।পরোটা আর মুরগির মাংস আর ভাজি।তোহা সোজা সোফার কাছে এসে দাঁড়ায়।তারপর মেহেরাজের দিকে প্লেট টা বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
-মেহু এই নে ধর।
মেহেরাজ মোবাইল টা পকেটে পুরে তোহার মুখের দিকে একবার তাকায়। তারপর তোহার হাত থেকে প্লেট টা নিয়ে সোফা থেকে উঠে নিজের ঘরে চলে যায় সোজা।ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে এগিয়ে আসে বিছানার দিকে।মেহেরাজের চোখ নিবদ্ধ বিছানায় কম্বল জড়িয়ে সুয়ে থাকা শ্রেয়সীর দিকে।মেহেরাজ ধীর পায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে খাবারের প্লেট টা বেড সাইড টেবিলের উপর রাখে।তারপর বিছানায় শ্রেয়সী মাথার কাছে এক পা তুলে বসে পড়ে।
বেশ কিছুক্ষন শ্রেয়সীর মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর শ্রেয়সীকে টেনে উঠা বসায়।তারপর নিজের কোলের মাঝে নিয়ে ভালো কম্বল জড়িয়ে বসায়।শ্রেয়সীর মাথা মেহেরাজের বুকের সাথে লেগে আছে।মেহেরাজের হৃদস্পন্দন এর গতি বেড়ে যায়।বুকের ভেতর কেপে উঠে তার অপরাধবোধে।
সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শ্রেয়সীকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়েছিলো দুজন।তারপর এক সাথে গোসল করে তাই জামাকাপড় চেঞ্জ করে তাই ঘরে এসেছিলো মেহেরাজ।কাল রাতেই মেহেরাজ বুজতে পেরেছিলো শ্রেয়সীর অবস্থা।তাই গোসল করিয়ে আনার পর দেরি না করে তখনি ব্যাথার ওষুধ আর পিল খাইয়ে দিয়ে সুইয়ে দিয়েছিলো শ্রেয়সীকে।
তবে মেহেরাজ যে ভয়টা পেয়েছিলো সেটাই হলো গোসল করে আসার পরেই হাড় কাপিয়ে জ্বর চলে আসে শ্রেয়সীর।।মেহেরাজ বুজতে অসুবিধা হয়না এই জ্বরের কারন কি।নিজের উপরে নিজেরি রাগ হয় মেহেরাজের।তার অবাধ্যতার জন্য আজ সুস্থ মেয়েটা জ্বরে নেতিয়ে পড়েছে।
মেহেরাজ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।তারপর শ্রেয়সী মুখে হাত দিয়ে আলতো করে চাপড় মেরে ডাকে,
-বউ।এই লিটল বার্ড।শুনতে পাচ্ছো।এই।
মেহেরাজ ডাকতে থাকে শ্রেয়সীকে।কিছুক্ষন ডাকার পর শ্রেয়সী শান্ত গলায় উত্তর নেয়,
-হু।
-উঠো তাকাও আমার দিকে জান।খেয়ে নাও ওষুধ খেতে হবে।
-উহু।
মেহেরাজ বুজতে পারে।জ্বরের ঘোরে আছে শ্রেয়সী তবে ওষুধ না খাওয়ালে তো জ্বর কমবে না।যেভাবেই হোক অল্প একটু খাইয়ে ওষুধ খাওয়াতে হবে।শ্রেয়সীর জন্যই তো মেহেরাজ পরোটা বানাতে বলল।জ্বরের ঘোরে ভাত খেতে পারবে না বলে।মেহেরাজ শ্রেয়সী কে আবার ডাকে।পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায় শ্রেয়সী।দৃষ্টি ঘোলা।মেহেরাজ আবার ডাক দেয়,
লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫২
-বউ??
-হু।
মেহেরাজ বেড সাইড টেবিল থেকে হাত বাড়িয়ে প্লেট টা নিয়ে বিছানায় রাখে।তারপর পরোটা ছিড়ে ভাজি মিশিয়ে শ্রেয়সী হা করতে বলে।শ্রেয়সী আলতো করে হা করার পর মেহেরাজ শ্রেয়সীর গালে পুরে দেয় খাবার।শ্রেয়সী চোখ মুখ কুচকে চিবাতে থাকে।মুখ দেখে মনে হচ্ছে বিশ্বাদভরা কোনো খাবার গিলছে সে।
