Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৫

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৫

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৫
রুহানিয়া ইমরোজ

কুয়াশাজড়ানো সকাল। নরম রোদের ঝিলিক চোখে পড়ায় ঘুমটা আলগা হয়ে আসে প্রিমার। খানিকটা সময় নিয়ে চোখ মেলে তাকাতেই নজরে আসে এক রাজকীয় সিলিং। নিজেকে অজানা জায়গায় দেখে আতংকে লাফিয়ে উঠে বসে বেচারি।
দ্বিধান্বিত চোখে এদিক-ওদিক তাকাতেই গতকাল রাতের সমস্ত কথা স্মরণে আসে। কয়েকটা ফাঁকা ঢোক গিলে নিজের অবস্থা অবলোকন করে প্রিমা। খানিক সময় পর বুঝতে পারে গতকাল রাতে কিছুই হয়নি তাদের মাঝে। হাঁপ ছেড়ে বাঁচে সে। ধাতস্থ হয়ে বেডসাইড টেবিলের উপর রাখা পানির গ্লাসটা নিতে গিয়ে দেখে সেখানে একটা চিরকুট রাখা আছে ।

শিরোনামে নিজের নামটা দেখে কৌতূহল বশত চিঠিটা হাতে নেয় প্রিমা এবং ভাঁজ খুলে পড়তে শুরু করে। তাতে লেখা ছিলো..
ডিয়ার ওয়াইফি,
ঘাবড়ানোর কিছু নেই। গতকাল রাতে কিছুই হয়নি আমাদের মাঝে। জানি আপনি আগেই বুঝেছেন সেটা। তবে আপনাকে আশ্বস্ত করতে পুনরায় সত্যিটা জানালাম।
এবার আসি মূল কথায়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছি আমি। বিধায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ অফ থাকবে। এ সময়টাই আমার ম্যানেজার আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে। কোনোকিছু প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় তাকে জানাবেন।

পয়েন্ট টু বি নোটেড :-
গত রাতে কিছু না হলেও ইন ফিউচার অনেক কিছুই হবে। সেটার প্রিপারেশনের জন্য আপনাকে সপ্তাহ খানেক সময় দেওয়া হলো। এরপর কোনোরকমের কোনো নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।
শুভেচ্ছান্তে,
আপনার ব্যক্তিগত পুরুষ!
ব্যক্তিগত পুরুষ সম্বোধনটা দেখে মিইয়ে যায় প্রিমা। গত রাতের দমবন্ধকর মুহূর্তের কথাগুলো মনে পড়ে যায় অনায়াসে। ওসব ভেবে অল্প সময়ের জন্য নিজ দুনিয়ায় হারিয়ে গিয়েছিল প্রিমা। তার ধ্যান ভাঙে ম্যাসেজের টোনে। ফোনটা হাতে নিতেই দেখে মেহুর পাঠানো একগাদা ম্যাসেজ জমে আছে। লাস্ট ম্যাসেজে লেখা,
–” অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে আপা।
বার্তাটুকু পেয়ে প্রশান্তিতে ছেয়ে যায় প্রিমার মন। চোখের কোণে জমে সুখের অশ্রু। তার আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। সুখবরটা পেয়ে আর একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে ছুটে যায় ফারজানার কাছে।

সময় প্রবাহমান। নিজ তাগিদে বয়ে চলা তার ধর্ম। আরশিয়ান এবং প্রিমার বিয়ের সপ্তাহখানেক সময় পেরিয়েছে। প্রিমা ইতিমধ্যে নিজেকে যথেষ্ট সামলে নিয়েছে। বিয়ের ধাক্কাটা হজম করে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। মেহরিমাও নিজের মতো ব্যস্ত সময় পার করছে। সামনে তার মিড টার্ম পরীক্ষা তাই নাওয়াখাওয়া বাদ দিয়ে পড়াশোনায় ডুবে আছে সে।
রান্নাঘরের খুঁটিনাটি কাজ সেরে হসপিটালে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলো প্রিমা। মেহরিমা শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে প্রিমার কাছে এসে বলল,

–” আপাআআআ এট্টু দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দাও। এক্সামে যেনো ফেইল না হইইইইইইইই..
প্রিমা তার মাথায় ঠাস করে একটা বাড়ি দিয়ে বলল,
–” পড়াশোনার নামগন্ধ নাই এখন দোয়া চাইতে আসছিস কেনো ?
মহরিমা দাঁত বার করে হেসে দিয়ে বলল,
–” আমি পার্ট টাইম স্টুডেন্ট এন্ড ফুল টাইম ভন্ড। এজন্যই আরকি…
প্রিমা চোখ পাকিয়ে বলল,
–” রিটেক খাইলে এ মাসের হাত খরচা কাট।
মেহরিমা চোখমুখ কুঁচকে বলল,
–” কিছু হইলেই আমার হাত খরচা কেনো আটক হয়ে যায় আপা? এই অন্যায় তো মানা যাচ্ছে না..
মেহরিমার কিউট রিয়েকশন দেখে প্রিমা হাসতে হাসতে বলল,
–” শাহাবাগে দৌড় দে..
মেহরিমা অপমানিত বোধ করলো সামান্য। মিছে রাগ দেখিয়ে বলল,

–” শাহাবাগের দিন শেষ। দুলাভাইয়ের বাংলাদেশ।তুমি একটা বিয়াশাদী করে ফেললেই তো সব সমস্যা সমাধান হয়ে যায় আমার।
আচমকা বিয়ের কথা শুনে থমকে যায় প্রিমা। চুপ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য। পরপরই কথা কাটিয়ে বলে উঠে,
–” দেরি হয়ে যাচ্ছে মেহু। জলদি রেডি হ। নয়তো এক্সাম শুরু হয়ে যাবে।
মেহরিমা তাড়ায় ছিলো বিধায় প্রিমার আকস্মিক চমকে ওঠাটা খেয়াল করলো না। চটজলদিই হেয়ার ড্রায়ারে চুলগুলো হালকা করে শুকিয়ে নিয়ে অল্প একটু সাজল। এরপর বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।
প্রিমাও আর দেরি করলো না।অফিসের সমস্ত ফাইল তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে পড়ল হসপিটালের উদ্দেশ্যে। তার মাথায় ঘুরছে ভিন্ন টেনশন। সার্জারির প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় পার হয়েছে কিন্তু এখনো ফারজানার অবস্থা স্টেবল নয়।
তার প্রশ্ন হলো ফারজানা হুট করে কেনো এত বড় স্টেপ নিলো? কী হয়েছিল তার সাথে? ডক্টরসরা তো উল্টাপাল্টা কিছু খুঁজে পায়নি তাহলে?

ভাবনার মাঝেই হসপিটালে পৌঁছে যায় প্রিমা। গাড়ি থেকে নেমে ভাড়া মেটায় অতঃপর নির্দিষ্ট কেবিনের দিকে এগোতে থাকে। ফারজানার কেবিনের বাইরে আসতেই দেখে গেইট বন্ধ এবং ভেতরে ডাক্তারেরা রয়েছেন।
দৃশ্যটা দেখে।বুক কেঁপে উঠে প্রিমার। দরজার বাহিরে দাঁড়ান গার্ডসদের জিজ্ঞেস করে,
–” কী হয়েছে আমার বোনের? হুট করে এত…
প্রিমা আতংকিত হয়ে পড়েছিল। গার্ডসরা তাকে মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে বলে,
–” ফারজানা ম্যামের রিপোর্ট এসেছে আজকে। এক্স্যাক্ট সমস্যা জানা নেই তবে খুব সম্ভবত হার্ট রিলেটেড কোনো ইস্যু ধরা পড়েছে। এজন্যই বিশিষ্ট হার্ট স্পেশালিষ্ট শওকাতুল ইশতিরাজ চৌধুরী স্যার এসেছেন উনার চেকআপের জন্য।
প্রিমা শান্ত হয় কিছুটা। ফারজানার হার্টের সমস্যা সম্পর্কে আগে থেকেই জানা আছে তার। তবে রিপোর্টে কী এসেছে সেটা জানার জন্য মন আনচান করতে থাকে প্রিমার। সে চিন্তিত চোখে কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
আচমকা তার চোখ যায় ইশতিরাজের দিকে। সার্জিক্যাল গাউন পরে থাকায় শরীরের কাঠামো বোঝা যাচ্ছে না তবে লোকটা সুপুরুষ বটে। লম্বায় প্রায় ছ’ফুটের কাছাকাছি তো হবেই। গায়ের রংটাও বিদেশি ধাঁচের। কেমন যেনো টকটকে ফর্সা। তাকে দেখে প্রিমার আচমকা আরশিয়ানের কথা মনে পড়ে গেলো।

ফারজানার রিপোর্টস গুলো ভীষণ মনোযোগ দিয়ে দেখছিল ইশতিরাজ। একেই শরীরে শ’খানেক জখম অপরদিকে আবার হার্টের কন্ডিশন বেগতিক। ধারণা করা হচ্ছে হার্টের ইস্যুটা নতুন নয়।
বেশ কয়েক বছর পূর্বেই লক্ষ্মণ দেখা দিয়েছে তবে বিনাচিকিৎসায় থাকার কারণে সমস্যাটা বেড়েছে বহুগুণ। নিজের প্রতি এত উদাসীন থাকার কারণটা বুঝলো না ইশতিরাজ।
কৌতূহল বশত রিপোর্ট থেকে চোখ সরিয়ে জানার শুকনো মুখশ্রীর পানে চাইল। মেয়েটা ভীষণ মায়াবী দেখতে। গায়ের রঙটা উজ্জ্বল ফর্সা। উচ্চতার দিক দিয়ে একদম বাচ্চা।
ইশতিরাজের অবজারভেশনের মাঝেই জ্ঞান ফিরে ফারজানার। একদম নিভু নিভু চোখে তকায় সে। জ্ঞান ফেরার মিনিট পাঁচেকের মাঝেই হার্টবিট দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। অন্য ডক্টরসরা ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ইশতিরাজ শান্ত থাকে।
ফারজানার হাতের উপর হাত রেখে নরম গলায় বলে,

–” কিচ্ছু হয়নি। সব ঠিকাছে। সপ্নের মধ্যে আছেন আপনি। চোখ মেলে তাকান একবার। আপনি কী আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?
শেষের কথাটা সামান্য জোরে বলে ইশতিরাজ। ফারজানা চমকে উঠে চোখ মেলে তাকায়। বড় বড় চোখে লক্ষ্য করতে থাকে আশেপাশের পরিস্থিতি। অন্য ডক্টরসরা তার চেক-আপ করতে শুরু করে।
খানিকটা সময়ের মাঝে সামলে উঠে ফারজানা। এত দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে মেরুদণ্ডে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে। শরীরের আঘাতের যন্ত্রণা তো ছিলই। ফারজানা কে ব্যথায় গুঙিয়ে উঠতে দেখে ইশতিরাজ বলে,
–” রিল্যাক্স। একটু পেইন ফিল হবে। এতটুকু সহ্য করতে হবে আপনাকে।
ফারজানার হাতের মুঠোয় ইশতিরাজের হাত ছিলো। এবসেন্ট মাইন্ডে থাকা ফারজানা সেটা লক্ষ্য করেনি তাই ইশতিরাজের আঙ্গুল চেপে ধরে ব্যথাতুর কন্ঠে বলে,

–” অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। মরে যাচ্ছি আমি..
ইশতিরাজ বুঝল সবটাই কিন্তু সে-তো নিরুপায়। এখুনি ফারজানা কে পেইন কিলার দেওয়া যাবে না। তাই অন্যদিকে কথা ঘুরাতে আচমকা ইশতিরাজ বলল,
–” এটার জন্য কিন্তু আপনি দায়ী মিস ক্যাঙ্গারু।
ইশতিরাজের উদ্ভট সম্বোধন শুনে দুর্বল দৃষ্টিতে তাকায় ফারজানা। অস্ফুটস্বরে বলে,
–” কী বললেন আপনি? ”
ইশতিরাজ বুঝলো কাজ হয়েছে তার কথায় তাই কথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল,
–” হাউ আর ইয়্যু ফিলিং মিস ক্যাঙ্গারু?
বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে মরার চেষ্টা করায় তাকে ক্যাঙ্গারু ডাকা হচ্ছে। সেটা খুব ভালো মতো বুঝেছে ফারজানা। তবে তিরস্কারপূর্ণ কথাটা শুনে যন্ত্রণার মধ্যেও ভীষণ মেজাজ খারাপ হয় তার। কোনো মতে শুকনো ঢোক গিলে ধীর কন্ঠে বলে,

— ” আপনার আজাইরা কথায় আমি বিরক্ত বোধ করছি মিস্টার চ্যাপ্টা চৌধুরী।
অতি কষ্টে টেনেটুনে কথাটা বলার পরপরই আবার জ্ঞান হারায় ফারজানা। সেদিকে ইশতিরাজের ধ্যান নেই।”চ্যাপ্টা চৌধুরী?” হতভম্ব হয়ে কথাটা আওড়াতে থাকে ইশতিরাজ। সিরিয়াসলি? এত বড় দুর্নাম?
তার পরনে থাকা ফ্লাফি সার্জিক্যাল গাউন পরার জন্যই যে এই কথা বলেছে ফারজানা সেটা খুব ভালোমতো বুঝেছে ইশতিরাজ। সব থেকে বেশি হতভম্ব হয়েছে এই ভেবে, তার মতো হ্যান্ডসাম হাঙ্ককে কোনো সুন্দরী রমণী এমনভাবে অপমান করতে পেরেছে।

পরীক্ষার হলে বসে ঝড়ের গতিতে লেখে যাচ্ছে মেহরিমা। আর মাত্র বিশ মিনিট বাকি। তার লেখা যদিওবা শেষের দিকে তবে পুরো খাতাটা একবার রিভাইস দিতে হবে। ভীষণ ছোটোখাটো ভুল হয় তার। এজন্যই মার্ক কাটা পড়ে বেশি।
ভন্ডামিতে সেরা হলেও পড়ালেখায় বেশ সিরিয়াস মেহরিমা। তার দিনদুনিয়া একদিকে অন্যদিকে তার পড়াশোনা। লাস্টের লাইনটা লেখে দাঁড়ি দিয়েছে এমন সময় একজন গার্ড এসে চিল্লিয়ে বললেন,
–” মারজান আইরিন মেহরিমা নামে কেউ আছেন?
মেহরিমাসহ হলের বাকি স্টুডেন্টও সেদিকে তাকায়। গার্ড পুনরায় সেইম কোয়েশ্চন করতেই মেহরিমা বলে,
–” জ্বী আমি।
গার্ড মুখ অন্ধকার করে বলে,

–” আপনাকে চ্যান্সেলর স্যার ডেকেছেন। এক্ষুনি আসুন…
মেহরিমাসহ সকলেই ভীষণ অবাক হয়। রুমের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা তার বাকি চারজন ফ্রেন্ড চিন্তিত চোখে তাকায়। মেহরিমা উৎকন্ঠা চেপে রেখে বলে,
–” এক্সাম তো শেষ প্রায়। ঘন্টা দিলে নাহয় যাই?
গার্ড কড়া গলায় বললেন,
–” আপনাকে পরে সময় দেওয়া হবে লেখার জন্য। আপাতত আপনি গিয়ে দেখা করে আসুন। ইট’স আর্জেন্ট…
ভয়ে বুক কেঁপে উঠে মেহরিমার। না চাইতেও খাতাটা উল্টো করে রেখে ধীর পায়ে বেড়িয়ে পরে পরীক্ষার হল থেকে। করিডর পেরিয়ে লিফটে উঠতে যাবে এমন সময় দু’জন ছেলে এসে দু-হাত ধরে ফেলে মেহরিমার।
মেহরিমা হতভম্ব হয়ে চেঁচাতে নিলে একজন ছেলে বলে,

–” একটা শব্দ মুখ দিয়ে বের হলে ভার্সিটি থেকে রাস্টিকেট করা হবে তোমাকে। চুপচাপ আমাদের সাথে চলো…
মেহরিমা বিস্মিত। কী হচ্ছে তার সাথে কিছুই বুঝতে পারছে না। হাজার চিল্লাপাল্লা করলেও ভারিক্কি ওজনের দু’টো ছেলের সাথে কোনোভাবেই পেরে উঠবেনা সে বিধায় শান্ত থাকলো।
মিনিট দশেকের মাঝে মেহরিমাকে ধরে মাঠের মাঝে আনা হলো। সেখানে আগে থেকেই সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো দ্যা গ্রেটেস্ট গ্যাংস্টার তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরী। প্রথমদিন তাজরিয়ানের দিকে সেভাবে না তাকালেও আজকে ভালো মতো তাকে অবলোকন করলো মেহরিমা।
তাজরিয়ান প্রায় ছ’ফুট এক ইঞ্চি মতো লম্বা। বডি স্ট্রাকচার একদম স্পর্টসম্যানদের মতো। গায়ের বরণ উজ্জ্বল শ্যামলা। মুখটা লম্বাটে, চোখগুলো আকর্ষণীয়, ঠোঁট জোড়া পোড়খাওয়া। তবে সব চাইতে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে তাজরিয়ানের চাপ দাঁড়ি। এটা তার ম্যানলি লুকটাকে কমপ্লিমেন্ট করে।
রাগের মাথায় এক দৃষ্টিতে তাজরিয়ানের পানে চেয়ে এসবই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল মেহরিমা। তবে তাকে ওমন ভাবে তাকাতে দেখে তাজরিয়ান ভ্রু নাড়িয়ে শুধায়,

–” হাউ আর ইয়্যু সুন্দরী?
এমন প্রশ্ন শুনে রাগে গা পিত্তি জ্বলে যায় মেহরিমার। তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে কর্কশ গলায় বলে,
–” আমায় এক্সাম হল থেকে তুলে আনার কারণ কী?
তাজরিয়ান নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়িয়ে বলে,
–” তোমার পাওনা মেটাতে ডেকেছি জানেমান৷ ”
আকস্মিক বলা কথাটা শুনে মেহরিমর সমস্ত সাহস উবে যায়। ভরা মাঠে চড় খাওয়ার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে বেচারি। মেহরিমাকে ওমন গুটিয়ে যেতে দেখে তাজরিয়ান পুনরায় শুধায়,
–” ভয় পেলে না-কি সু্ন্দরী?
মেহরিমা সত্যি ভয় পেয়েছে তবে সেটা প্রকাশ করতে চাইল না। উল্টো মিছে সাহসিকতা দেখিয়ে বলল,
–” আমি ভুল কিছু করিনি। ওই থাপ্পড়টা আপনি ডিজার্ভ করতেন তাই..
এতক্ষণ আনমনে মেহরিমার কথা শুনলেও এবার তীক্ষ্ণ চোখে তার দিকে তাকায় তাজরিয়ান। এক লাফে গাড়ি থেকে নেমে মেহরিমার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে বেচারি মেহরিমা একদম চুপসে যায়। মাথা নুইয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।

তবে এই আত্মসমর্পণে তাজরিয়ানের মন গলে না। উল্টো সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে মেহরিমার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ায় সে। আড় চোখে একবার বহু তলা ভবনটার দিকে তাকায়। এক্সাম শেষে পিঁপড়ার মতো সারিবদ্ধ ভাবে বেরিয়ে আসছে সবাই। দৃশ্যটা দেখে চমৎকার একটা শয়তানি বুদ্ধি চাপে তাজরিয়ানের মাথায়৷
সে ধীর পায়ে এগোতে থাকে মেহরিমার দিকে। তাকে এগোতে দেখে মেহরিমা সরে যেতে থাকে। এভাবে মাঠের মাঝ বরাবর আসতেই এক ঝটকায় মেহুকে নিজের পুরুষালি সৌষ্ঠব বক্ষপটের সাথে মিশিয়ে নেয় তাজরিয়ান।
মেহরিমাকে ছটফটানোর সুযোগটা পর্যন্ত দেয় না। তার আগেই বেচারির নরম ওষ্ঠের দখলদারিত্ব ছিনিয়ে নেয়। মুখের ভেতর জমে থাকা সিগারেটের ধোঁয়াটুকু ছেড়ে দিয়ে সরে আসে। আসার আগ মুহুর্তে মেহরিমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৪

–” টিট ফর ট্যাট বেবিগার্ল।
সিগারেটের ক্ষতিকর ধোঁয়া শ্বাসনালী তে প্রবেশ করায় সজোরে কেশে উঠে মেহু। এ্যাজমার রোগী হওয়ায় শ্বাস আঁটকে আসে তার৷ ভার্সিটির ভরা মাঠে এমনটা হওয়ায় অনেকেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কেউ আড়ালে মুখ টিপে হাসে আবার কেউ ভিডিও করতে শুরু করে। শাউট করার সাহস হয়নি কারোরই কারণ এখানে স্বয়ং তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরী উপস্থিত। যাকে দেশের প্রথম সারির সন্ত্রাস হিসেবে চেনে সবাই৷

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৬