Home শুকনো পাতার নূপুর পায়ে শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ১৮

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ১৮

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ১৮
আয়েশা শেখ

‘বউকে চ’’ড় মারার অপরাধে শিশু নির্যা**তনের মা*মলা খেতে হলো প্রফেসর ফাইজান বারিশের! ওয়াও বন্ধু, তুই তো একদম ফাটিয়ে দিয়েছিস!’
ফোনের ওপাশ থেকে নীল গলা ফেটে হাসতে হাসতে বলছিল। বারিশ দাঁতে দাঁত চে’পে শুনছে আর ড্রাইভ করছে। চোখে-মুখে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে কোনো মতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে সে। চুলগুলো বিশৃঙ্খলভাবে কপালে এসে পড়েছে, শার্টের কলারটা এলোমেলো।
—‘ কথা কম বলে দ্রুত থানায় আয়।’
​— ‘সাথে মেহরাজকেও নিয়ে আসি? কী বলিস?’ বলতে বলতে আবারও হেসে উঠলো নীল।
​বারিশ এবার বিশ্রী একটা গা*লি দিতেই ওপাশ থেকে কলটা কেটে গেল। ফোনটা পাশের খালি সিটের ওপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে চোয়াল শক্ত রেখেই রাস্তার মোড় ঘুরল সে। গন্তব্য থানা। এখনও তার মাথায় ঢুকছে না, সতেরো বছরের এই মেয়ে এমন দুঃসাহসিক কাজ কীভাবে করতে পারে!
​থানার সামনে গাড়ি থামিয়ে নামতেই দেখল নীল বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে খিলখিল হাসি লেগে ছিল, কিন্তু বারিশের মূর্তি দেখে তা মুহূর্তে মিলিয়ে গেল।
​— ‘নেশা করে বাসায় ঢুকলি, ভাবলাম রোমান্স-টোমান্স করবি। তা না করে এসব কী ভাই?’

নীলের উসকানিমূলক কথায় বারিশ ধমকে উঠল,
— ‘নীল, তুই যদি এই মুহূর্তে চুপ না করিস, এই থানাতেই তোর দা’’ফন কা’’ফন সেরে দেব আমি!’
​নীল আর মুখ খোলার সাহস পেল না। চুপচাপ বারিশের পেছন পেছন থানার ভেতর হাঁটতে লাগল।

​কাল রাত থেকে পেটে এক দানা দানাপানিও পড়েনি ঝিলমিলের। ওই দুটো থা”প্পড় ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। প্রচন্ড খিদে পেয়েছিল তার। অফিসার ইমন যখন সৌজন্য খাতিরে খাবারের কথা শুধালে ঝিলমিল আর মানা করেনি। রাজি হওয়া মাত্রই ইমন পাশের রেস্টুরেন্ট থেকে স্যান্ডউইচ আনিয়ে দিয়েছিল। টেবিল চেপে বসে বেশ আয়েস করেই সেগুলো গিলছিল সে। কিন্তু হুট করেই থানার দরজায় এমন একজনের আবির্ভাব ঘটল যে, ঝিলমিলের কেবল খাওয়াই বন্ধ হলো না, বুকের ভেতর নিঃশ্বাসটাও আটকে গেল যেন!
​ঝড়ের গতিতে হাত থেকে স্যান্ডউইচ রেখে সে লাফিয়ে উঠে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা পুলিশের পেছনে গিয়ে সেঁটে দাঁড়াল। সেখান থেকে মাথাটা সামান্য কাত করে ভীতি চোখে দেখতে লাগল দৃশ্যটা।
​কালো শার্টের সাথে চোখে কালো রোদ চশমা আাঁটা। শার্টের ওপরের তিনটে বোতাম খোলা, চুলগুলো কপালে এলোমেলো হয়ে আছে। ভাবটা এমন যেন সে কোনো আসামী নয়, বরং এই থানার আসল হুকুমদার!

— ‘কোথায় আমার শিশু?’
​অফিসার ইমন এতক্ষণ কাজে মনোযোগি ছিল। পরিচিত কর্কশ কণ্ঠটা কানে যেতেই চোখ তুলে তাকাল। ইমন উঠে দাঁড়াতেই বারিশ খুব শান্ত ভাবেই ইমনের সামনের চেয়ারে বসে পড়ল। ​ইমন নিজেও চেয়ারে বসে বারিশের দিকে সামান্য ঝুঁকে নিচু স্বরে বলল,
— ‘বারিশ! এটা পুলিশ স্টেশন, দয়া করে ভদ্রতা বজায় রাখ।’
​— ‘শাট আপ! শিশু কোথায় আমার?’ এদিক-ওদিক চোখ বোলাল বারিশ। রোদ চশমাটা এক টানে খুলে শার্টের কলারের ফাঁকে আটকে দিয়ে ডাকল,
— ‘কোথায় তুমি খুকি? সামনে আসো…’
​থানার সমস্ত কনস্টেবল আর ডিউটি অফিসাররা কাজ থামিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে প্রফেসর ফাইজান বারিশের দিকে। ওদিকে ঝিলমিল মহিলা পুলিশের ইউনিফর্মটা দুই হাতে খামচে ধরে অদৃশ্য হতে চাইছে। মহিলা পুলিশটি একটু চওড়া হওয়ায় তার বিশাল চওড়া পিঠের আড়ালে শুকনা-পটকা ঝিলমিলকে প্রায় দেখাই যাচ্ছিল না। ​বারিশ মহিলা পুলিশের দিকে না তাকিয়েই ওনার ব্যাজ দেখে নাম ধরে বলে উঠল,

— ‘কনস্টেবল শিরিন, আপনি একটু হাঁটাহাঁটি করুন তো। ওজন বড্ড বেড়ে গেছে আপনার।’
​মহিলা পুলিশটি এক মুহূর্তে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন। সরকারি চাকুরিজীবীর বডি নিয়ে এমন প্রকাশ্য অপমান! কত বড় আস্পর্ধা এই প্রফেসরের! ​তিনি তেড়ে এগিয়ে এসে রেগেমেগে কিছু একটা বলতে যাবেন, কিন্তু তার আগেই বারিশ বিদ্যুৎ বেগে নিজের লম্বা হাতটা মহিলা পুলিশের আড়াল ঠেলে বাড়িয়ে দিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝিলমিলের হাত চেপে ধরে এক হেঁচকা টানে তাকে টেনে আনল নিজের একদম কাছে! ঝিলমিল ছিটকে এসে সোজা বারিশের চওড়া বুকের ওপর আছড়ে পড়ল।
​বারিশ ওর ডান হাতটা শক্ত মুঠোয় পেঁচিয়ে ধরে ঠাণ্ডা গলায় ফিসফিস করে বলল,
— ফাইনালি… ব্যাক টু হোয়ার ইউ বিলং, মাই লিটল চাইল্ড।
— ‘প-পা-পাগলু!’
​ঝিলমিল আতঙ্কে চোখ গোল গোল করে বারিশের দিকে চাইল। শরীর কাঁপছে তার।
বারিশ তার ভয়ার্ত মুখের দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বলল,

—‘ সারারাত আমার রুমে ঘুমিয়ে, সকালে উঠে আমার কিনে দেওয়া ড্রেস পড়ে আমার নামেই মা’’মলা করতে এসেছো?’
ঝিলমিল বারিশের চাউনি সহ্য করতে না পেরে আকুল হয়ে আড়চোখে চাইল ইমনের দিকে,
— ‘অফিসার ইমন! দেখুন, কীভাবে ভয় দেখাচ্ছে! তাকে এখনই লকআপে ঢোকান, প্লিজ!’
​— ‘স্টুপিড!’ গর্জে উঠল বারিশ।
​ইমন চেয়ার ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
— ‘বারিশ, ছেড়ে দে ওকে! তুই যা করেছিস, তা স্পষ্ট অ*পরাধ। আপাতত তোকে হাজতবাসই করতে হবে।’
​বারিশ চোখ দুটো সরু করে ইমনের দিকে তাকাল,
— ‘তোর পুলিশগিরি বের করব আমি, ইমন!’
ইমন কিছু একটা বলবে তার আগেই থানার দরজা থেকে ভেসে এলো মেহরাজের উঁচু গলা,
—‘ কে? কে আমার বন্ধুর নামে শি**শু নি*র্যা*ত*নের মা*ম*লা দিয়েছে? কার এত বড় কলিজা হয়ে গেছে?’
বারিশ ঝিলমিল নীল ইমনসহ থানার সকলেই মেহরাজের দিকে তাকাল। যে শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে এদিকেই আসছে। বারিশ ঝিলমিলের হাত ছেড়ে দিয়ে, অগ্মি দৃষ্টিতে নীলের দিকে তাকাল। সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিলো নীল।

—‘ কিরে ইমন! তুই জানিস না আমাদের বারিশ কেমন? একজন এসে রিপোর্ট করল, আর ওমনি থানায় নিয়ে এলি?’ তারপর নিজের ভাতিজি ঝিলমিলের মলিন মুখটার দিকে তাকাল। মেয়েটার মুখটা ফ্যাকাসে, চোখ দুটো ফোলা। আহারে! নিশ্চিত স্বামীর এই বিপদে দুশ্চিন্তায় মেয়েটার চেহারা এমন শুকিয়ে গেছে! মেহরাজ এক হাত দিয়ে পরম স্নেহে ঝিলমিলকে নিজের বুকের সাথে আগলে ধরল।
— ‘একদম ভয় পাবি না মামুনি। তোর চাচ্চু চলে এসেছে তো, ওর কিচ্ছু হতে দেব না। যে এমন ভুলভাল রিপোর্ট করেছে, তাকে একবার ধরে নিই। ওর চৌদ্দ গোষ্টিকে জেলের শুকনো রুটি খাওয়াব।’
নীল হেসে দিতে চেয়েও দিলো না। ঝিলমিলের চোখ আরও বড় বড় হয়ে উঠলো। এখন ঝিলমিল কীভাবে বলবে, এই রিপোর্ট সে করেছে? চাচ্চু সেটা কীভাবে নেবে তার?
ইমন হালকা গলায় খাঁকারি দিয়ে পরিস্থিতিটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করল,
—‘ রিপোর্ট তো উনিই করেছে, বারিশের ওয়াইফ। বারিশ তার স্ত্রী*কে নি*র্যা*তন করে। বাই দ্য ওয়ে, তুই বারিশের বউকে আগে থেকেই চিনিস নাকি?’

মেহরাজের মাথায় যেন একলগে সাতটা বাজ পড়ল!
— ‘হোয়াট?! কী আজেবাজে বকছিস তুই? আর আমি ওর বউকে চিনব না মানে? ও তো আমার বড় ভাইয়ের একমাত্র মেয়ে, আমার নিজের ভাতিজি!’
​ইমন ওদের দীর্ঘদিনের বন্ধু হলেও পুরো ব্যাপারটা তার একদম অজানা ছিল। সে রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে গেল,
— ‘বলিস কী ! এসব কখন ঘটল?’
​মেহরাজ ইমনের প্রশ্নের তোয়াক্কা না করে সরাসরি ঝিলমিলের দিকে ঘুরল। থমথমে গলায় শুধাল,
— ‘জাহান, সত্যি করে বল তো! তুই অভিযোগ নিয়ে এসেছিস? বারিশ কি তোকে কষ্ট দিয়েছে?’
​ঝিলমিল মেঝের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে ইতিবাচকভাবে মাথা নাড়ল।

— ‘কী করেছে ও তোর সাথে?’
​— ‘মে-মেরেছে…’ ঝিলমিলের কণ্ঠস্বর একদম নিচু।
​— ‘কবে?’
​— ‘গতকাল রাতে।’
​শব্দটা শোনামাত্রই মেহরাজের মাথার রক্ত চড়ে গেল। কোনো রকম চিন্তাভাবনা না করে ঘুরে সোজা বারিশের চিবুক লক্ষ্য করে এক ভ’’য়ংকর কড়া ঘু’’ষি বসিয়ে দিল সে!
​— ‘কত বড় স্পর্ধা তোর! আমার চোখের মণির গায়ে হাত তুলিস তুই?!’
​ঝিলমিল ভয়ে দু’চোখ বুজে ফেলল। বারিশ ঘু’’ষির ধা’’ক্কায় সামান্য পিছিয়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজের দুই হাতের মুঠো শক্ত করে সামলে নিল নিজেকে। মেহরাজ রাগে অন্ধ হয়ে দ্বিতীয়বার আ’’ঘাত করতে উদ্যত হওয়ার আগেই বারিশ বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে গিয়ে মেহরাজের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরে পাল্টা ধা’’ক্কা মারল!

​— ‘শি ইজ মাই ওয়াইফ! সে ভুল করলে হাজার বার মা’’রব, আবার নিজেই শাসন শেষে আদর করব! আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারের মাঝখানে গাল বাড়াতে আসার তুই কে?!’
মেহরাজকে নীল কল করে বলেছিল বারিশের নামে শি’’শু নি’’র্যা’’ত’’নের রিপোর্ট করা হয়েছে। সে তখন অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। খবর শুনেই দ্রুত চলে আসে। নীল তো জানিয়েছিল ব্যাপারটা সমাধানের জন্য, কিন্তু এখন তো পুরো গোলমাল হয়ে গেল!
মেহরাজ গিয়ে বন্ধুর কলার চেপে ধরে বলল,
—‘ না! ভুল করলেও ওর গায়ে হাত তোলার অধিকার তোকে কেউ দেয়নি! ওকে আমরা এভাবে বড় করিনি। যাকে আমরা সামান্য ধমক পর্যন্ত দেইনি, তার গায়ে হাত তুলিস কোন সাহসে?’
বারিশ এক ঝটকায় মেহরাজের হাতটা নিজের কলার থেকে সরিয়ে দিয়ে চিৎ*কার দিয়ে উঠল,
— ‘তাহলে নিয়ে যা ওকে! যে স্ত্রীর ওপর আমার নিজের কোনো অধিকার থাকবে না, তেমন স্ত্রীকে আমারও কোনো প্রয়োজন নেই। তোরাই তো জোর করে এই মেয়েকে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিলি! নাহলে এই অপ্রাপ্তবয়স্ক, ইমম্যাচিউর শিশু-বাচ্চাকে কোন দুঃখে আমি বিয়ে করতে যাব?’
​বারিশের কথা শুনতেই ঝিলমিল চোখ মেলে তাকাল। বুকের ভেতরটা ছাঁৎ করে উঠল তার। আবার সেই ফিরে যাওয়া? না! সে কিছুতেই ওই বাড়িতে ফেরত যাবে না। অন্তত আর কিছুদিন—যতক্ষণ না তার নিজের পরিকল্পনা সফল হচ্ছে, সে যাবে না!
​মেহরাজ চোয়াল শক্ত করে বলল,

— ‘অবশ্যই নিয়ে যাব! তোর কি ধারণা, এত বড় কাণ্ডের পরও আমি ওকে তোর বাড়িতে ফেরত পাঠাব? তোর সাথে আমার বন্ধুত্ব তো আজ এখানেই শেষ হলোই, এই সম্পর্কটাও আমি শেষ করব। দাঁড়া, আমি এখনই ভাইয়া আর আম্মাকে ফোন করছি।’
​মেহরাজ পকেট থেকে ফোন বের করতেই ঝিলমিল আঁতকে উঠে সামনে এগিয়ে এল,
— ‘না, না! চাচ্চু, তুমি প্লিজ কাওকে ফোন কোরো না! তোমরা যতটা ভাবছ, আসলে তেমন কিছুই হয়নি।’
​মেহরাজ চোখ কুঁচকে নিজের ভাতিজির দিকে তাকাল,
— ‘কিছু হয়নি মানে? কতটুকু অ*ত্যা*চার সহ্য করতে পারলে একটা মেয়ে নিজে থানায় এসে জামাইয়ের নামে মা*মলা ঠুকে দেয়! তুই একদম ভয় পাবি না জাহান, আমি আছি তো।’
​ঝিলমিল আমতা আমতা করে, তোতলাতে তোতলাতে বলল,
— ‘আসলে… তেমন গুরুতর কিছু না চাচ্চু। তুমি প্লিজ আব্বুকে বোলো না। আমি… আমি উনার সাথেই ফিরতে চাই। উনার সাথেই থাকতে চাই।’
​মেহরাজের হাতটা ফোনের ওপর থেমে গেল। সে হতভম্ব হয়ে চাইল ঝিলমিলের দিকে,

— ‘থাকতে চাস মানে? তাহলে এত নাটক করে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করালি কেন?’
​ঝিলমিল চোখ নিচু করে খুব সাধারণ গলায় বলল,
— ‘একটু যেন শাস্তি পায়, তাই! আমাকে দুটো চ*ড় মেরেছে তো, তাই ভেবেছিলাম পুলিশ উনাকে দুই ঘণ্টা লকআপে আটকে রাখবে। ব্যাস, এর বেশি তো কিছু না!’
​কথাটা শুনে বারিশ এক মুহূর্তের জন্য যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না! মেয়েটার দুঃসাহস আর নির্বুদ্ধিতার মাত্রা দেখে সে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেল।
—‘ তার মানে আপনি অভিযোগ তুলছেন না?’ ইমন বলল।
—‘ না। শুধু কিছুক্ষণ লকআপে রাখুন, তাহলেই হবে।’
বারিশের ইচ্ছে করছে এখনই এই ফাজিল মেয়েটার দু’গালে কষে আরও দুটো চড় বসিয়ে দিতে! এটা কোনো লজিক হলো?
​ডিউটিরত একজন অফিসার এতক্ষণ চুপচাপ সব দেখছিলেন, মেয়েটার এমন অদ্ভুত যুক্তি শুনে এসে গম্ভীর গলায় বললেন,

— ‘মিসেস বারিশ, আপনি কি আইনি প্রসেসটাকে কোনো বাচ্চাদের খেলা মনে করেছেন? শুনুন, আইনের চোখে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এক নম্বর, আপনার দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী এটি একটি নন-বেলেবল অফেন্স। অর্থাৎ, একবার অফিশিয়ালি কেস এন্ট্রি বা এরেস্ট হলে লকআপের মেয়াদ ২ ঘণ্টা হয় না, কোর্টে চালান হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকে। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি এখন অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন, তবে পুলিশ কাউকেই এক মিনিটের জন্য লকআপে আটকে রাখার এখতিয়ার রাখে না। আর তিন নম্বর, বিনা কারণে পুলিশ প্রশাসনকে এভাবে বিভ্রান্ত করা এবং মিথ্যা বা হালকা অভিযোগে থানার সময় নষ্ট করা কিন্তু নিজেই একটা অপরাধ। তাই সিদ্ধান্ত নিন—আপনি মামলা চালাবেন, নাকি লিখিত পেপার উইথড্র করে হাজবেন্ডের সাথে ঘরে ফিরবেন?’

আইনি বাস্তবতার কঠিন ধাক্কা খেয়ে ঝিলমিলের মাথাটা ভনভন করে উঠল। সে ভেবেছিল আইন হয়তো তার সুরক্ষাকবচ হবে, অন্তত এই কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও লোকটাকে একটু শিক্ষা দেওয়া যাবে। কিন্তু আইন যে এমন রুক্ষ, বাস্তবসম্মত আর মারপ্যাঁচে ভরা সেটা তার অপরিপক্ক মস্তিষ্ক ধারণই করতে পারেনি।
​ঝিলমিল আড়চোখে বারিশের দিকে তাকাল। লোকটার মুখটা সম্পূর্ণ নির্বিকার, এক ফোঁটা প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত নেই। নিথর, থমথমে ভাব। এই বরফশীতল নিস্তব্ধতাই যেন আরও বেশি চেপে ধরল তাকে। বারিশের এই থমথমে নীরবতার অর্থ স্পষ্ট ‘পাগলামি শেষ? এবার আমার মোড়কে ফেরার পালা।’ ভয়ে হিম হয়ে এল ঝিলমিলের ভেতরটা। তবু সে যাবে। কারণ এই লোকটাকে বিয়ে করার যে উদ্দেশ্য সেটা সে এত দ্রুত নষ্ট করতে চায় না।
​মেহরাজ ডিউটি অফিসারের কথা শুনে ঝিলমিলের কাঁধে হাত রেখে থমথমে গলায় বলল,
— ‘হয়েছে জাহান, আর কোনো নাটক করার দরকার নেই। এই ঝামেলা এখানেই শেষ। কিন্তু তুই ওর সাথে আর এক মুহূর্তও থাকবি না। চল আমার সাথে, সোজা বাড়ি চল।’
—‘ না চাচ্চু, যাবো না।’

মেহরাজ ঝিলমিলের হাত ধরে টান দিতেই বারিশ সোজা হয়ে দাঁড়াল। চট করে এগিয়ে এসে ঝিলমিলের অন্য হাতটা আবার শক্ত করে চেপে ধরল।
​— ‘হাত ছাড় মেহরাজ! আমার বউ আমার সাথে যাবে। তুই ওর চাচ্চু হতে পারিস, কিন্তু ওর অভিভাবক এখন আমি। আইনিভাবেও, মানসিকভাবেও। ছাড়!’ ঝটকা মেয়ে সরিয়ে নিলো ঝিলমিলকে।
মেহরাজ এসে বারিশকে আবারও আ*ঘাত করবে ওমনি ঝিলমিল সামনে দাড়িয়ে বলল,
—‘ মে’’রোনা চাচ্চু প্লিজ। বাড়ি ফিরে যাও। আর আব্বুকে কিছু জানিও না। উনি যদি আবারও আমার গায়ে হাত তোলেন… আমি কথা দিচ্ছি, তোমাদের জানাব।’
ভাতিজির কথায় মেহরাজ আর বাড়াবাড়ি করল না। চলে গেল থানা থেকে। বারিশও ঝিলমিলের হাত ছেড়ে চলে গেল। গিয়ে নিজের গাড়িতে বসল। নীলও কাধ ঝাকিয়ে নিজের বাইক নিয়ে বের হয়ে গেল। ঝিলমিল ওভাবেই দাড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ।
ইমন বলল,

—‘ আপনি চাইলে স্যান্ডউইচটা শেষ করে যেতে পারেন, মিসেস বারিশ।’
চোখ তুলে তাকাল ঝিলমিল। লোকটা নিশ্চিত তাকে খোঁচা মারছে! কোনো জবাব না দিয়ে চলে এলো। বাহিরে আসতেই পা জোড়া থেমে গেল আবারও। বারিশ ড্রাইভিং সিটে বসে আছে। দৃষ্টি সামনের দিকে। অপেক্ষায় আছে ঝিলমিলেরই।
ঝিলমিল এক পা এগোচ্ছে তো দু’পা পিছিয়ে আসছে। কোনোমতেই সামনে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। আজ রাতে তার ভাগ্যে কী শনি নাচছে, কে জানে! ​তবুও সাহস কুড়িয়ে সে গাড়ির পেছনের দরজা খুলে চুপচাপ গিয়ে বসল।
​বারিশ তখনও একইভাবে সামনে তাকিয়ে। নিখাদ এক নীরবতা পুরো গাড়িতে ছেয়ে আছে। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার কোনো লক্ষণও নেই। ঝিলমিল বেশ কিছুক্ষণ দম বন্ধ করে বসে থাকার পর নিজেকে সামলে লোকটাকে ডাকার জন্য ইতস্তত কণ্ঠে প্রস্তুতি নিল,

— ‘শুনুন…’
​বারিশ বিদ্যুৎ বেগে নিজের দুটো হাত একদম বা’’ঘের থাবার মতো ঝিলমিলের গলার দিকে বাড়িয়ে দিল! ঝিলমিল নিশ্চিত ধরেই নিল, আজকে সে আর বেঁচে ফিরছে না। বারিশের হাতের আঙুলগুলো ঝিলমিলের নরম গলার ঠিক এক ইঞ্চি দূরত্বে এসে হঠাৎ থমকে গেল! থরথর করে কাঁপতে থাকা ঝিলমিল ভয়ে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলেছে ইতমধ্যে। ​বারিশের বুকের উত্তপ্ত আর দ্রুত নিঃশ্বাস এসে ঝিলমিলের গালে লাগছিল। দাঁতে দাঁত চেপে, থমথমে আর নিচু স্বরে সে ফিসফিস করে উঠল,
— ‘একদম চিবিয়ে খেতে মন চাচ্ছে!’
​ঝিলমিল কাঁপতে কাাঁপতে চোখ বন্ধ রেখেই উচ্চারণ করল,

— ‘বা-বাসায় গিয়ে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে দেব, তখন খাইয়েন… মা*রবেন না প্লিজ!’
বারিশ নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে। মুখটা দেখলে বোঝার উপায় আছে মেয়েটা এত বড় একটা কাণ্ড ঘটিয়ে বসতে পারে? একেবারে সোজা শিশু নি*র্যা*ত*নের মামলা ঠুকে দিয়েছে! ভাবা যায়? বারিশের তো সত্যি সত্যি চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে মন চাচ্ছে! অন্তত থরথর করে কাঁপতে থাকা এই গোলাপি ঠোঁট দুটো!
​সে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। আর এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকলে নিজের আত্মসংবরণ হারিয়ে কী করে বসবে, তার ঠিক নেই। স্টিয়ারিং হুইলটা শক্ত করে চেপে ধরে এক টানে গাড়ি স্টার্ট দিল বারিশ। এক্সিলারেটরে চাপ পড়তেই গাড়িটা উন্মুক্ত সড়কের বুক চিরে ক্ষি*প্র গতিতে ছুটতে লাগল। ভেতরের জমাট বাঁধা যত আক্রোশ যেন সে এই গাড়ির গতিতেই মেটাতে চাইছে। ​ঝিলমিল আতঙ্কে সিট চেপে ধরে বলে উঠল,

— ‘এভাবে চালালে তো দুজনেই মা’’রা যাব!’
​— ‘ম’’রলে ম রব।’ বারিশের গলায় বরফশীতল জবাব।
​— ‘আচ্ছা স্যরি… আপনি আর আমার গায়ে হাত তুলবেন না, আমিও আর এমন করব না।’
​বারিশ আর কোনো উত্তর দিল না। একইভাবে ঝড়ের গতিতে গাড়ি চালিয়ে একসময় এসে পৌঁছাল বাড়ির গ্যারেজে। বাসা তখন ফাঁকা। ঝিলমিল সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই বারিশ ওকে কিচেনের দিকে পাঠিয়ে দিল,
— ‘ফ্রেঞ্চ টোস্ট, স্ক্র্যাম্বলড এগস উইথ মাশরুম, আর সাথে এক কাপ স্ট্রং ব্ল্যাক কফি। দ্রুত।’
​ঝিলমিল হা করে তাকাল,
— ‘এতগুলো? আপনি তো এক সাথে এত খাবার খান না!’
​— ‘আজ খাবো।’

​ঝিলমিল আর কথা বাড়াল না। কথা বাড়িয়ে যে লাভ নেই, তা তার ভালো করেই জানা। গত বিশ দিন তো এভাবেই কেটেছে। শুরুর দিকের সেই বিরক্তি আর কান্না এখন আর সেভাবে আসে না, একপ্রকার বাধ্য হয়েই অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে ব্যাপারটা। বেশ কয়েকটা আইটেম সে ইদানীং ভালোই শিখে নিয়েছে।
এই বিশদিনে ঝিলমিলের হাতের রান্না ছাড়া এই বাড়ির এক দানা খাবারও পেটে তোলেনি লোকটা। সাথে ঝিলমিলকেও খেতে দেয়নি।
এ নিয়ে প্রায়ই চঞ্চল সাহেবের সাথে বারিশের তর্ক হয়, কিন্তু তাতেও কোনো ফল মেলেনি। এত নিষেধের পরও ঝিলমিলকে কিচেনের কাজগুলো থেকে কেউ রেহাই দিতে পারেনি। আর এর সাথে তো আছে প্রতিদিন লোকটার পরিহিত কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করার এক অলিখিত নিয়ম তো আছেই!

—— রাইটার পেইজ: Ayesha sheikh Rin- আয়েশা শেখ রিন——
মাঝখানে কেটে গেছে আরও দু’দিন। সন্ধ্যায় জিহানকে কোলে নিয়ে লিভিংরুমে বসে টিভি দেখছিলেন আলতাফ চৌধুরী। নাজমা বেগম হয়তো নূরজাহান চৌধুরীর রুমে গিয়েছেন। ঝিলমিলের সাথে বারিশের বিয়ের আগে প্রায়ই শিউলি বেগমের কাছে যেতেন তিনি; শিউলি বেগমও এ বাড়িতে আসতেন। তবে ইদানীং আর আসা- যাওয়া হয় না। নূরজাহান চৌধুরী ইচ্ছে করেই ঝিলমিলকে এ বাড়িতে আনেন না। বিয়েটাই হয়েছে ঝামেলার মধ্য দিয়ে। এখন মেয়েটাকে এখানে নিয়ে এলে তার বড় ছেলে আলতাফ চৌধুরী যে নিশ্চিত নতুন কোনো ঝামেলা পাকাবেন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ওদিকে আবার বারিশেরও নিষেধ ঝিলমিল যেন এ বাড়ির দিকে পা না বাড়ায়। এভাবে চাইলেও আর মেয়েটার নিজের বাড়িতে আসা হয়ে ওঠে না।
​কত দিন হয়ে গেছে আলতাফ সাহেব তার একমাত্র কলিজার টুকরো মেয়েটাকে কাছ থেকে দেখেন না! পাশের বাড়িতেই থাকে, অথচ চোখের কত আড়ালে! ভাবতে ভাবতেই বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল তার। নিজের স্ত্রীকে মৃদু কণ্ঠে ডেকে বললেন,

— ‘নাজমা, একটু নিচে আসো তো। এক কাপ চা বানিয়ে দাও।’
কোলে থাকা ছোট্ট জিহানের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে তিনি নিচু স্বরে শেখাতে লাগলেন,
— ‘তোমার মা নিচে আসলেই তুমি কান্নাকাটি শুরু করবে, বুঝলে? বলবে বাবাকে নিয়ে আপুকে দেখতে যাব।’
জিহান সহজ সরল মুখে মাথা নেড়ে বলল,
— ‘আচ্ছা!’
​কিছুক্ষণ পর নাজমা বেগম নিচে নেমে এলেন, আর তার পেছন পেছন এলেন নূরজাহান বেগমও। বাবার শেখানো বুলি মনে রেখে জিহান সাথে সাথেই দাদীমার দিকে তাকিয়ে ঘ্যানঘ্যান করে উঠল,
— ‘দাদীমা, আমি আপুকে দেখতে যাব! কতদিন আপুকে দেখি না! আমি বাবাল সাতে এখনই আপুকে দেখতে যাব!’
​নূরজাহান চৌধুরী জিহানের মাথায় হাত রেখে শান্ত করার চেষ্টা করলেন,

— ‘আরও কিছুদিন যাক দাদুভাই, তারপর যেও।’
—‘ না এখন।’
—‘ ভিডিও কল করে দেখে নিও। আর তোমার বাবা ওখানে যাবে না।’ নূজাহান চৌধুরী বললেন।
— ‘কেন যাবে না? বাবা-ই তো আমাকে বলল কান্নাকাটি করতে!’
​আলতাফ সাহেব চরম বিপদে পড়ে শুকনো গলায় কেশে উঠলেন। নূরজাহান চৌধুরী চট করে ছেলের দিকে ঘুরে এক জোড়া তীক্ষ্ণ চোখ রাঙালেন। ছেলেকে দুটো কড়া কথা শোনাতে যাবেন, ঠিক তখনই বাইরে থেকে এক অপরিচিত গলার আওয়াজ ভেসে এলো,
— ‘ভেতরে আসব?’
​লিভিংরুমের সবার নজর চলে গেল সদর দরজার দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে শ্যামবর্ণের, বেশ লম্বা চওরা এক যুবক। মার্জিত পোশাক, পরিপাটি আর বেশ ফিটফাট দেখতে। আলতাফ চৌধুরী এক মুহূর্ত নিবিড়ভাবে দেখলেন, তারপরই চিনে ফেলে চওড়া হেসে বলে উঠলেন,
— ‘ফাহিম না তুমি? কত দিন পর! আসো আসো, ভেতরে আসো।’
​ফাহিম মুখে বিনীত হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,

— ‘চিনতে পেরেছেন তাহলে, স্যার?’
​— ‘চিনব না আবার? তুমি যে আমার কত প্রিয় ছাত্র ছিলে, তাতো সবাই জানে!’
​— ‘জি স্যার। আশা করি এখনো প্রিয়ই আছি,’ ফাহিম বিনয়ের সাথে বলল।
​— ‘অবশ্যই, অবশ্যই!’ আলতাফ চৌধুরী ছেলেটাকে ওপর-নিচ ভালো করে পরখ করে নিয়ে বললেন,
—‘বেশ পরিবর্তন এসেছে তোমার মাঝে। তা হঠাৎ কী মনে করে এলে বল তো?’
​— ‘আসলে এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম স্যার। ভাবলাম আপনার সাথে একটু দেখা করে যাই, আর সাথে ঝিলমিলকেও দেখে যাই। কলেজে কয়েক দিন ধরে ওকে দেখছি না নিয়মিত। ও কোথায়?’
​নূরজাহান চৌধুরী আর নাজমা বেগম মুখ খুলে বলে উঠতেই যাচ্ছিলেন যে ঝিলমিল এখন তার শ্বশুরবাড়িতে আছে, কিন্তু তাদের সুযোগ না দিয়ে তার আগেই আলতাফ চৌধুরী তড়িঘড়ি করে বলে উঠলেন,

— ‘ও তো এখন ওর নানাবাড়িতে গেছে।’
​ফাহিম খানিকটা অবাক হয়ে বলল,
— ‘ওহ, তাই? তা ফিরবে কবে?’
​— ‘এই তো, কিছুদিন থাকবে সেখানে। খুব দ্রুতই চলে আসবে।’
​এরপর আরও কিছুক্ষণ ফাহিমের সাথে সাধারণ খবরাখবর নিয়ে কথা বললেন আলতাফ সাহেব। কিছুক্ষণ কুশল বিনিময় শেষে ফাহিম বিদায় নিয়ে চলে গেল। ফাহিম দৃষ্টিসীমার বাইরে যেতেই নূরজাহান চৌধুরী ছেলের দিকে রাগে ফোঁস করে উঠলেন,

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ১৭

— ‘তুমি ছেলেটার সাথে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বললে কেন আলতাফ? কী চাচ্ছটা কী তুমি?’
​আলতাফ চৌধুরী গম্ভীর মুখে মায়ের দিকে তাকালেন।
— ‘বুঝতে পারছ না আম্মা? বিয়ে দেব আমি এই ছেলের সাথে! দেখলে কত ভদ্র আর মার্জিত ছেলে? কথাবার্তা কেমন চমৎকার? আর ছেলেটাও নিশ্চয়ই আমার মেয়েকে পছন্দ করে, নয়তো হুট করে ঝিলমিলের খোঁজ নিতে আসবে কেন? তাই আমি যেভাবেই হোক আমার মেয়েকে ওই বে’’য়াদবটার কাছ থেকে ফিরিয়ে আনব, আর এই ফাহিমের সাথেই ওর আবার বিয়ে দেব!’

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ১৯