Home প্রফেসর জিয়ান কায়সার প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪ (২)

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪ (২)

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪ (২)
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না

​পাইপ বেয়ে বেশ কায়দা করেই জিয়ান রিত্তিকার দুই তলার বেলকনিতে উঠে এলো। কপাল ভালো, বেলকনির স্লাইডিং কাঁচের দরজাটা ভেজানো ছিল, লক করা ছিল না। তাই ঘরের ভেতরে ঢুকতে তার বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হলো না।
​দরজার হালকা সিল্কের পর্দাটা সরাতেই ঘরের আবছা অন্ধকারে জিয়ানের নজর গিয়ে পড়লো বিছানায় ঘুমে আচ্ছন্ন রিত্তিকার ওপর। স্নিগ্ধ হাসি ফুটে উঠলো জিয়ানের ঠোঁটে। ধীর ও শব্দহীন পায়ে সে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল। কাছে গিয়ে ঝুঁকে পড়ে আলতো স্বরে বিড়বিড় করে বললো,

​— “কী সুন্দর বিড়াল ছানার মতো গুটিয়ে শুয়ে আছে!”
​সে আর এক মুহূর্তও কথা না বাড়িয়ে রিত্তিকার পাশে শুয়ে পড়লো। অত্যন্ত সাবধানে রিত্তিকাকে নিজের বুকের একদম কাছে টেনে নিলো, যাতে মেয়েটার কাঁচা ঘুমটা কোনোভাবেই ভেঙে না যায়। রিত্তিকার মুখের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকা কয়েকটা অবাধ্য চুল আঙুলের ছোঁয়ায় সরিয়ে কানের পেছনে গুঁজে দিলো। তারপর রিত্তিকার মসৃণ কপালে দীর্ঘ ও গভীর এক ঠোঁটের ছোঁয়া এঁকে দিলো।
​— “কী মায়াবী লাগছে তোমায় ঘুমন্ত অবস্থায়! একদম সদ্য ফোঁটা রক্তগোলাপের মতো…”
​জিয়ান অপলক দৃষ্টিতে রিত্তিকার শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। তাকে নিজের এত কাছে পেয়ে মনটা চেয়েছিল নিশ্চিন্তে শান্তির একটা ঘুম দিতে। কিন্তু জিয়ান পারলো না। ঘুমন্ত রিত্তিকার এই নিষ্পাপ, মায়াবী মুখটা থেকে সে এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের চোখ সরাতে পারছে না।
​হঠাৎই রিত্তিকার মনে হলো, সে তীব্র কোনো উষ্ণতায় কারোর বলিষ্ঠ বাহুডোরে শক্ত করে আবদ্ধ হয়ে আছে। নাকে এসে ধাক্কা দিচ্ছে খুব পরিচিত আর তীব্র এক পুরুষালি পারফিউমের সুবাস। খটকা লাগতেই টিপটপ করে চোখ খুলতেই নিজের চোখের সামনে জিয়ানকে দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে গেল! কিন্তু রিত্তিকাকে জাগতে দেখে জিয়ান তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিলো।
​রিত্তিকা চমকে উঠে জিয়ানের বাহুডোর থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট আর মোচড়ামুচড়ি শুরু করলো। কিন্তু জিয়ান সেদিকে পাত্তা না দিয়ে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তাকে।

​— “আহ্ রিশা! এমন করছো কেন? একটু ঘুমাতে দাও না…”
​জিয়ানের মুখে ‘রিশা’ নামটা শুনে রিত্তিকা চোখ দুটো গোল গোল করে তাকালো। রাগে ও অভিমানে তার কণ্ঠ চড়ে গেল,
— “এই! কে রিশা, হ্যাঁ? আপনার ওই গার্লফ্রেন্ডের নাম, তাই না?”
​জিয়ান চোখ খুলে একটু হেসে বললো,
— “আরে, ও হতে যাবে কেন? তুমিই তো আমার রিশা!”
— “আমার নাম রিত্তিকা, রিশা না!” রিত্তিকা জেদ ধরে বললো।
— “তুমি রিত্তিকা হও বা অন্য কিছু, আমার কাছে আর আমার এই হৃদয়ে তুমি শুধুই আমার রিশা।” জিয়ান শান্ত গলায় উত্তর দিলো।
​— “ছাড়ুন আমাকে! যাকে তখন জড়িয়ে ধরেছিলেন, তার কাছে যান! অন্যকে ভালোবাসেন, আর এখন আমার সাথে পিরিত করতে এসেছেন? আর আমি তো ঘরের দরজা ভালো করে লক করে দিয়ে এসেছি, আপনি কোন দিক দিয়ে ঢুকলেন?”
​জিয়ান রিত্তিকার চিবুকটা ছুঁয়ে বললো,

— “ওই তো, পাইপ বেয়ে বেলকনি দিয়ে। আর কে বলেছে আমি ওকে ভালোবাসি? আমি কি কখনো নিজের মুখে তোমাকে এমন কিছু বলেছি?”
— “বলেননি, তবে বলতে আর কতক্ষণ! আমি নিজে চোখে দেখেছি আপনি ওই মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন!” রিত্তিকার গলায় স্পষ্ট অভিমানের সুর।
​জিয়ান এবার গভীর চোখে রিত্তিকার দিকে তাকিয়ে সিরিয়াস কণ্ঠে বললো,
কসম বউ তোমার জামাই শুরু তোমারই। অন্য কাউকে ভালোবাসি না আমি।ওই মেয়েটা ইচ্ছা করে জড়িয়ে ধরেছিল। তোমার জামাইকে তুমি বিশ্বাস করো না।
​রিত্তিকা রাগ সামলাতে না পেরে জিয়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠলো,
— “তুই আমার বা’লের জামাই, শা’লা! যেদিক দিয়ে এসেছিস, সেদিক দিয়েই এক ধাক্কা মেরে ফেলে দেবো! ছাড় বলছি আমাকে!”
​জিয়ান চোখ বড় বড় করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,

— “আস্তাগফিরুল্লাহ! বউ, তুমি তোমার জামাইকে ‘তুই-তোকারি’ করছো? ছি ছি ছি!”
— “দেখুন, আমার একদম ভালো লাগছে না, চলে যান বলছি!”
— “কিন্তু আমার যে বড্ড ভালো লাগছে তোমাকে নিজের সাথে এভাবে মিশিয়ে নিতে…” বলেই জিয়ান রিত্তিকার নগ্ন গলায় মুখ গুঁজে দিলো।
​আর পারলো না রিত্তিকা। এতক্ষণ বুকে চেপে রাখা সমস্ত অভিমান আর রাগ বাঁধ ভাঙলো। সে নিজেকে আর সামলাতে পারলো না; জিয়ানের শক্ত বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে কেঁদে উঠলো।
​এতক্ষণ মেয়েটা রাগ দেখাচ্ছিল, ঝগড়া করছিল। কিন্তু হঠাৎ এভাবে রিত্তিকাকে ডুকরে কাঁদতে দেখে জিয়ানের বুকের ভেতরটা যেন ধক করে উঠলো! একটা অজানা ভীতি তাকে গ্রাস করলো। সে অস্থির হয়ে উঠে বসলো—

​— “কী হয়েছে রিশা? কাঁদছো কেন তুমি?”
​কোনো উত্তর না দিয়ে রিত্তিকা জিয়ানের টি-শার্ট আঁকড়ে ধরে কেঁদেই চললো। জিয়ান এবার বাধ্য হয়ে রিত্তিকার মুখটা দুই হাতের তালুতে তুলে ধরে আকুল গলায় জিজ্ঞেস করলো,
— “প্লিজ, স্পিক আপ রিশা! তুমি কান্না করছো কেন? কী হয়েছে আমাকে বলো, প্লিজ!”
​রিত্তিকা অশ্রুসজল চোখে জিয়ানের দিকে তাকিয়ে একরাশ হতাশা আর ভয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— “আপনি কি আমায় একটুও ভালোবাসেন না, প্রফেসর সাহেব? জানেন, তখন ওই মেয়েটা আমাকে কী বলেছে? ও বলেছে আপনি নাকি আমাকে ছেড়ে দেবেন! আপনার সাথে নাকি ওর খুব গভীর আর পুরোনো সম্পর্ক… সত্যিই কি ছেড়ে দেবেন আমায়?”
​জিয়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে রিত্তিকার কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। তারপর অত্যন্ত গম্ভীর অথচ গভীর ভালোবাসামাখা কণ্ঠে বললো,

— “হুশ! এসব ফালতু কথা বলে নিজের আর আমার হার্টের পেইন বাড়াবে না একদম। এই জিয়ানের জীবনে প্রথম এবং শেষ নারী তুমিই, রিশা। তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা আমি আমার মরণস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি না।”
​— “সত্যি? আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না তো?” রিত্তিকা ফোঁপাতে ফোঁপাতে জিজ্ঞেস করলো।
— “তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে যেন এই জিয়ানের আসল মরণ হয়।”
​কথাটা শুনতেই রিত্তিকা চট করে জিয়ানের মুখে নিজের নরম হাতটা চেপে ধরলো।
— “খবরদার! এসব কথা আর কখনো মুখেও আনবেন না! আপনাকে ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচবো বলুন তো?”
— “আচ্ছা, আর বলবো না। এবার লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমাও তো দেখি…”
​রিত্তিকা এবার সমস্ত সংশয় ভুলে জিয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার চওড়া বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে নিশ্চিন্তে চোখ বুজলো। জিয়ানও তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে এক শান্তির ঘুমে তলিয়ে গেল।

​সকাল সাতটার দিকে জিয়ানের ঘুম ভাঙলো। হালকা আলো এসে পড়েছে রিত্তিকার মুখে। সে এখনো জিয়ানের বুকের ওপর গুটিসুটি মেরে একদম বাচ্চার মতো শুয়ে আছে। জিয়ান রিত্তিকার কপালে আলতো এক চু’ম্বন এঁকে দিয়ে ডেকে তুললো—
​— “রিশা, ওঠো… রিশা, ভার্সিটি যাবে না আজ?”
— “উঁহু… আরেকটু ঘুমাই না…” রিত্তিকা ঘুমজড়ানো কণ্ঠে আরও চেপে শুলো।
— “নাহ্, ওঠো ‘হার্ট’। ভার্সিটি যেতে কিন্তু লেইট হয়ে যাবে।
​রিত্তিকা উঠে বসে বলল,
— “ধুর, ভালো লাগে না! কিন্তু আপনি এখন যাবেন কীভাবে? মানে, বাড়ির কেউ তো জানে না আপনি রাতে এখানে এসেছেন!”

— “কী আর করবো, যেভাবে এসেছি, সেভাবেই ভেগে যেতে হবে!”
— “ঠিকই আছে, রাতে আসেন চোরের মতো! এখন যান চোরের মতোই পালান!” রিত্তিকা টিটকারি মারলো।
— “আচ্ছা ম্যাডাম, তুমি ফ্রেশ হও, আমি যাই। বাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে আবার ভার্সিটি পৌঁছাতে হবে।” জিয়ান রিত্তিকার গালে আরও একটা চু’মু এঁকে দিয়ে বেলকনি দিয়ে সাবধানে নিচে নেমে গেল।
​রিত্তিকা আর দেরি না করে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এলো। ডাইনিংয়ে নিজের ভাই ইফাতকে দেখতেই পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বললো,
— “ভাইয়া! তুমি তো একদম ভুলেই গেছো আমাকে, তাই না?”
​ইফাত হেসে ঘুরলো,

— “তোকে ভুলতে পারি আমি!”
— “হয়েছে, ঢং করতে হবে না! কত মনে আছে আমি ভালো করেই জানি।”
— “আমি ঢং করি? তুই ড্রামা করিস না তো!”
— “ওহ ভালো কথা, জানো ভাইয়া? আনু ভাইয়া এসেছে!”
— “কই, আমাকে তো ফোন করে কিছু জানায়নি?” ইফাত অবাক হলো।
— “ওহ, আনু ভাইয়ার তো আগের সিমটা হারিয়ে গেছে। আর জানো, আনু ভাইয়া কিন্তু এখন আমাদের ভার্সিটির নতুন প্রফেসর!”
— “কী বলিস! আমাকে তো কিছুই জানালো না ব্যাটা…”
— “কী জানি কেন জানায়নি! পরে জিজ্ঞেস করো।”
— “আচ্ছা, আর কথা না বাড়িয়ে খেতে বোস। নাহলে তোর ভার্সিটি যেতে দেরি হয়ে যাবে।”
​ডাইনিং টেবিলের একপাশ থেকে তাদের বাবা আরিশান ইসলাম পেপার থেকে চোখ সরিয়ে বললেন,
— “আজ আর ভার্সিটিতে না গেলে হয় না, রিত্তিকা?”
— “নাহ আব্বু, আজ না গেলেই নয়। ভার্সিটিতে খুব ইম্পর্টেন্ট একটা ক্লাস আছে, তাই যাওয়াটা খুবই জরুরি।”

— “আচ্ছা ঠিক আছে, যা ভালো বোঝো।”
​খাওয়া শেষ করে রিত্তিকা ইফাতের গাড়িতে করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। ভার্সিটি গেটের সামনে গাড়ি থামিয়ে ইফাত বললো,
— “সাবধানে যাস। ছুটি হলে বলিস, আমিই তোকে নিতে আসবো।”
— “নাহ, ভাইয়া। আমার ফ্রেন্ডদের সাথে কাজ আছে, আমি একাই চলে যেতে পারবোখন।”
— “আচ্ছা, সাবধানে বাসায় ফিরিস কিন্তু।”
— “আচ্ছা, টা টা!”
— “বাই!” ইফাত গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল।

​ভার্সিটির করিডোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ রিত্তিকার সামনে এসে দাঁড়ালো নিহারিকা। নিহারিকার মুখে এক চিলতে দুষ্টুমির হাসি।
​— “কী রে রিত্তিকা! আজ তোকে এত ফ্রেশ আর উজ্জ্বল লাগছে কেন বল তো? রাতে নিশ্চয়ই খুব ভালো ঘুম হয়েছে?” নিহারিকা চোখ টিপে জিজ্ঞেস করলো।
— “আরে না রে নিহা! কিসের ঘুম! রাতে তো এক উপদ্রব এসে হাজির হয়েছিল,” রিত্তিকা জিয়ানের কথা ভেবে মনে মনে হেসে কিন্তু মুখে ভাব নিয়ে বললো।
— “উপদ্রব? নাকি তোর মন হরণকারী কেউ?” নিহারিকা হাসতে লাগলো।
— “আ’হ্ নিহা! চুপ করবি তুই? স্যার ক্লাসে চলে আসবেন এখন, চল!”
​ফার্স্ট লেকচার শেষ হতেই জিয়ান ক্লাসে ঢুকলো। গম্ভীর গম্ভীর ভাব নিয়ে পুরো লেকচার দিলো, যেন সে রিত্তিকাকে চেনেই না! কিন্তু পুরোটা সময় তার চোখ বারবার গিয়ে আটকে যাচ্ছিল ফার্স্ট বেঞ্চে বসে থাকা রিত্তিকার ওপর।
ক্লাস শেষ হতেই জিয়া রিত্তিকাকে জিজ্ঞেস করলো,

​— “বাসায় কবে যাবি?” তোকে ছাড়া একদম ভালো লাগছে না।
রিত্তিকা হেসে বললো,
— “দুই দিন থাকি বাবার বাসায়, তারপর চলে যাবো।”
আচ্ছা তাহলে আমি যাই গাড়ি চলে এসেছে।
ওকে বাই।
জিয়া চলে যেতেই ​ পিছন থেকে এসে দাঁড়ালো আহনাফ।
__আরে আনু ভাইয়া কেমন আছো।
একটু হেঁসে জবাব দিল, এইতো আছি, তুই কেমন আছিস।
__আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তা তুমি বিয়ে শাদি কি করবে
না।
__”কি ভাবে করবো বল,আমার ঘরের পাখি যে অন্য ঘরে বাসা বেধেছে।”
__”মানে তুমি যাকে পছন্দ করতে সে কি তোমায় ছেড়ে চলে গেছে..?”
__”হ্যাঁ সে এখন অন্যের ঘরের রানী ”
__”আমার আনু ভাইকে ধোকা দিয়ে চলে গেছে চিন্তা করো না তোমার জন্য ভালো কাউকে নিয়ে আসবো।ওমন মেয়ের কথা আর ভেবো না তুমি। ”
__”কিন্তু আমার যে তাকেই চাই..!”

​ঠিক সেই মুহূর্তে জিয়ানের চোখ গেল রিত্তিকা আর আহনাফের ওপর! আহনাফ রিত্তিকার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কথা বলছে দেখে জিয়ানের কপালের রগগুলো মুহূর্তের মধ্যে ফুলে উঠলো। তার চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে গেল। বুক চিরে বেরিয়ে এলো এক রাশ ঈর্ষা আর অধিকারবোধ।
​জিয়ান এক মুহূর্তও ভাবলো না। ভারী ও দ্রুত পায়ে সে এগিয়ে এলো ওদের দিকে। আহনাফ কিছু বুঝে ওঠার আগেই, জিয়ান ধপ করে গিয়ে আহনাফের একদম সামনে দাঁড়ালো।
​জিয়ান আহনাফের দিকে এক ঝলক মারাত্মক দৃষ্টিতে তাকালো, তারপর রিত্তিকার কোনো কথা বা অজুহাত না দেখিয়ে শক্ত করে রিত্তিকার হাত চেপে ধরলো।

​— “প্রফেসর সাহেব আপনি…?” রিত্তিকা কিছু বলার আগেই জিয়ান তাকে প্রায় টেনে-হিঁচড়ে নিজের সাথে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগলো।
​আহনাফ থমকে দাঁড়িয়ে রইলো। সে রিত্তিকার ওপর জিয়ানের এই চরম অধিকারবোধ দেখে ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট পেও কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না।
আহনাফ পকেটে হাত দুটো গুঁজে তাদের যাওয়ার পানে চেয়ে গুনগুন করে গেয়ে উঠলো—

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪

__”যখন লাল শাড়ি তুই পড়লি গায়…আমায় কি মনে নাই…!
কেমনে পারলি ভাঙতে আমার বুক…!
__’হায়রে এত কাছের মানুষ হায় কেমনে রে সব ভুইলা যায়… এক নিমিষেই হৃদয় ভাঙচুর…! ”

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৫